২৩ জুন ১৭৫৭ সাল
যেদিন অর্বাচীন বিশ্বাস ঘাতক আর
হন্তারক হয়ে উঠেছিল বাংলা মুলুকের ভাগ্যাকাশে
ছোঁপ ছোঁপ কালমেঘ।
যে মেঘের অন্তরালে সেদিনের খলনায়কেরা
মেতে উঠেছিল ঘৃন্য ষড়যন্ত্রে।
ঐ ষড়যন্ত্রের কোপানলে পরাধীনতার
অগ্নিমাল্য বরণ করেছিল
ভাগিরথীর তীর ঘেষা এক খন্ড স্বাধীন জমিন।
রোষানলে পড়ে প্রাণ হারাতে হয়েছিল
শ্বেতশুভ্র মুক্তার মত সাদাসিধে দিলের
এক সাহসী পুরুষকে।
যার কন্ঠ থেকে বজ্র নির্ঘোষে নি:সৃত হয়েছিল
বেনিয়া আর সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পতন,
যার নির্ভীক নিশঙ্ক জবানীতে বারবার
ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হত একটি শব্দ চাই স্বাধীনতা।
তৃষিত হৃদয়ের অন্তিম বাসনা গুলোকে এক করে
ইতিহাসের কালো অধ্যায়ে যখনি তাকাই
তখনি শিউরে উঠে আপাদমস্তক।
দেখতে পাই কলঙ্কের টিপ ললাটে ধারণ করে
নির্লজ্জের মত বসে আছে সেদিনের সেই
মীরজাফর, জগৎশেঠ আর ঘষেটি বেগমরা।
দ্রোহের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে।
আগুনতি শিহরনের দাপাদাপীতে
বিদ্রোহী মন বলে উঠতে চায়,
পলাশীর আম্রকানন শুধু ভাগীরথি নদীর
এক ফালি জমি নয়, স্বাধীনতার চিরন্তন আকাংখা
মীরজাফর জগৎশেঠদের মোকাবেলায়
স্বাধীনতা রক্ষার দীপ্ত অঙ্গিকার।
পলাশী যেন শোষকের ভীরু বুক কাঁপানো
নিরাশার কালো পর্দা সরানো
উত্তাল তরঙ্গ মালার উদ্দাম গতিবেগ
পৃথিবী কাঁপানো এক দৃপ্ত আবেগ।
তারপরও এই পলাশী আবেগ তুলতে পারেনা
ঐ প্রগতিবাদীদের অন্তরে,
যারা স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দেয় নিঃশর্ত
যারা হোচিমীন চেগোয়েভারা আর লেলিন দিবস
পালন করে মহা ধুমধামে,
কিন্তু সিরাজউদ্দৌলা আর পলাশীর আম্রকানন
তাদের অন্তরে রেখাপাত করেনা।
মাঝে মাঝে এক অন্তরভেদী চিৎকারে
আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করতে ইচ্ছে হয়
যখনি ঐ প্রগতিবাদীরা মুখোশের অন্তরালে
সিরাজউদ্দৌলার বাঙ্গালীত্ব নিয়ে কাঙ্গালীপনা করে।
দ্রোহের আগুন জ্বলে উঠা ৪৭, ৫২, ৬৯ আর
৭১ কে সম্বল করে যখনি বিচরন করি
স্বাধীন বাংলার মুক্ত আকাশের তলে,
মরুময় হৃদয়টা হাহাকার করে উঠে,
যখনি দেখি বাংলার প্রতিটি পথপ্রান্তরে
মীরজাফর, রায়দুর্লভ আর ঘষেটি বেগমদেও অবাধ বিচরন
যখনি দেখতে পাই প্রগতিবাদীরা দেশ বিকানোর ষড়যন্ত্রে
সওয়ার হয়েছে আমার প্রিয় মাতৃভুমির স্কন্ধে,
যখনি আকাশে বাতাসে ভেসে আসে
নির্যাতিত নিপীড়িত অসহায় মানবতার ক্রন্দনরোল
যখনি দেখি নব্য মীরজাফর, ঘষেটি বেগমরা
দেশের অস্তিত্ব খোয়ানোর ষড়যন্ত্রে মরিয়া
তখনি চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয়
চাই আরও একটি দ্রোহ
যে দ্রোহের আগুনে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে
সকল বিশ্বাস হন্তারক।
কবিতাটি পড়তে পড়তে সিরাজ উদ্দৌলার দেশপ্রেম আর মীরজাফর ও জগৎশেঠদের বিশ্বাসঘাতকতার চিত্র সামনে এসে হাজির হলো। এখনও বাংলাদেশের বিশ্বাসঘাতকদের আনাগোনা বেশী লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিন্তু সিরাজউদ্দৌলার মত দেশ প্রেমিকের বড়ই অভাব।
24105
২
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম থেকে আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব লিখেছেন,
২৬ জুন ২০১০; রাত ০৯:৩৬
ভাল লাগল আরো একজন ভাইয়াকে এ সাইটে দেখে। সোনার বাংলাদেশ পরিবারে আপনাকে আহলান ওয়া সাহলান!
ভাল লেগেছে আপনার কবিতা, একদম মনের মতো। ভাল থাকুন।
24137
৩
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ লিখেছেন,
২৭ জুন ২০১০; সকাল ১১:৩৪
সোনার বাংলাদেশে নিয়মিত লেখা প্রত্যাশা করছি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ভাল রাখুন।
24207
৪
আবুধাবী, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মুহাম্মাদ নুরুল আবছার লিখেছেন,
০১ জুলাই ২০১০; রাত ০৮:২২
দ্রোহ শুধুই দ্রোহ
আপনার লেখা খুবই ভালো লাগলো।
নিয়মিত লেখা চাই
24730
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: