মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৭:১১ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

নিখোঁজ ইলিয়াস: শংকিত বাংলাদেশ

রশীদ জামীল

কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি বুঝি শুকিয়ে গেছে মানুষটির। কতই বা কাঁদবেন আর। দিনরাত, কেঁদেই তো চলেছেন। কান্নাই যে এখন তার অবলম্বন। কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ কথাবলার পর ভুল প্রমাণিত হলাম আমি। লক্ষ্য করলাম আবারো শুরু হয়েছে বিরামহীন ঝরনাধারা। মায়ের মন তো!!

ইলিয়াস আলীর মায়ের কথাই বলছি। ২২ এপ্রিল সন্ধ্যায় দেখতে গেলাম তাঁকে। ইলিয়াস আলীর গ্রামের বাড়ি, বিশ্বনাথের রামধানায়। আমরা ক'জন বন্ধু- মুসা, দিদার, হারুন, গুলাব মিলে। উদ্দেশ্য ছিল, মা’কে সান্ত্বনামূলক কিছু কথা বলবার চেষ্টা করব। উনার মানসিক অবস্থা সম্বন্ধে জেনে টুকটাক লিখব কিছু, কিছুই করা হয়নি। কিন্তু উনার চোখের পানিতে ভেসে গেছে আমার ভেতরের যত কথা। পাশে তখন ইলিয়াস আলীর বৃদ্ধ চাচা। ষাটোর্ধ্ব এই মানুষটিরও চোখ ভেজা। বারবার ওড়না দিয়ে চোখ মুছছিলেন তার বোন। আরো অনেকেই তখন ঘিরে ছিলো তাঁকে। ঘরভর্তি মানুষগুলোর সকলের চোখই ভেজা। চোখ দু'টো ভিজে উঠলো আমারও। আমার মনে হল--- আমার মনে হল, আমি যেন আমার ভাইকেই খোঁজে পাচ্ছি না। বাইরে শত শত মানুষ! বেদনামলীন সবগুলো চেহারা বাকরুদ্ধ! যেনো স্বজনহারানোর বেদনায় বিত সবাই। বড়বেশি ভারি হয়ে ওঠা বাতাসের বিপরীতে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা মানুষের থাকে না। আমারও ছিল না। ফিরে আসবার সময় লক্ষ্য করলাম মা যায়নামাজে বসে গেছেন পশ্চিমমুখো হয়ে। একটু পর পর হাত দু'টো উঠে যাচ্ছে উপরের দিকে, আর চোখ দিয়ে গড়িয়ে নামছে পানি। হঠাৎ আমার মনে হল, কেনো হল জানি না, এই চোখের পানি কাজে না লেগে পারেই না। মায়ের দোয়া বলে কথা।

দুই॥
জলজ্যান্ত একটি মানুষ নিখোঁজ হয়ে আছে আজ ক’দিন হয়ে গেল! কেউ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছে না মানুষটি কোথায় আছে? কেমন আছে? আদৌ বেঁচে আছে কি না! এ কোন বাংলাদেশে বাস করছি আমরা! বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী। স্বাভাবিক কারণেই বিএনপি এটাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিতেই দেখছে। কিন্তু আমরা, সিলেটবাসী, আমরা যারা বিএনপি বা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথেই সম্পৃক্ত না, কষ্ট পাচ্ছি আমরা। ইলিয়াস আলী বিএনপি’র নেতা নাকি আওয়ামীলীগের, সেটা আমাদের বিবেচ্য না। ইলিয়াস আলী সিলেটের ছেলে। ইলিয়াস আলী আমার ভাই। এই সিলেটের লক্ষ লক্ষ মানুষের আপন মানুষ ইলিয়াস আলী। মানুষ কাঁদছে। সিলেটের মানুষ অঝোরে কাঁদছে আজ। মাথায় কাফনের কাপড় বেধে রাস্তায় নেমেছে। লাশ হয়েছে। ইলিয়াস আলীর জন্য জীবন দিতেও আপত্তি করেনি তারা। তবুও যদি প্রিয় মানুষটি ফিরে আসে! তবুও যদি সিলেটের স্বার্থে সিলেটে বসে হুংকার দিয়ে ঢাকাকে কাঁপিয়ে দিতে পারার ক্ষমতাসম্পন্ন বিশাল কলিজার মানুষটি সিলেটে ফিরে আসে। ঘরের ভেতরে থাকা মায়েরা, যারা কোনেদিনই দেখেননি ইলিয়াস আলীকে, তারাও আহাজারী করছেন! জায়নামাজে বসে উপরের দিকে হাত উঠিয়ে বলছেন, হে আল্লাহ, ছেলেটিকে তুমি বাঁচিয়ে দাও।

ইলিয়াস আলীর নির্বাচনী এলাকা আমার বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথের মানুষ দলমতের উর্ধ্বে উঠে পাগলের মত হয়ে আছে। সবার মুখে একই কথা, ইলিয়াস আলীর সন্ধান চাই। ইলিয়াস আলীকে ফেরত চাই। ইলিয়াস আলীর সাথে রাজনৈতিক মতপার্থক্য আছে-এমন নেতারা পর্যন্ত আপসেট। তারাও ইলিয়াস আলীর জন্য ব্যথিত। তারাও চান ইলিয়াস আলীর সন্ধান, ঘরে ফেরা। বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথের মায়েরা, বোনেরা, পারলে রাস্তায় নেমে আসেন-অবস্থা। ইলিয়াস আলী কখন কীভাবে মানুষের এতো কাছাকাছি চলে গিয়েছিল, কেউ বুঝতে পারেনি।

তিন॥
১৭ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে নিখোঁজ হয়ে আছেন ইলিয়াস। ১৮ তারিখ মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের আইজি সহ বনানীতে ইলিয়াস আলীর বাসায় গিয়ে তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করা হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনোই হদিস পাওয়া যায়নি মানুষটির! উপরন্তু প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ‘‘ইলিয়াস আলী খালেদা জিয়ার নির্দেশে লুকিয়ে আছে!’’ গোয়েন্দারা নাকি তদন্তের জন্য ক্যু পাচ্ছেন না। চোখের সামনেই এত বড় আলামত। এটা ধরেই তারা আগান না কেনো? তারা প্রধানমন্ত্রীকে গিয়ে বিনীতভাবে জিজ্ঞেস করতে পারেন, ম্যাডাম, ইলিয়াস আলীকে খালেদা জিয়া কোথায় লুকিয়ে রেখেছেন দয়া করে জায়গার নামটি বলেন। আমরা তাকে বের করে আনি। আর জাতির সামনে খালেদা জিয়ার মুখোশ খুলে দিই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে আরো বললেন, আপনাদের তৈরি করা বাহিনীই আপনাদের খাবে। এ কেমন দায়িত্বশীলতার পরিচয়। রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর মাইক্রোফোন থেকেই যদি এমন কথা উচ্চারিত হয়, জনগণ তাহলে যাবে কোথায়?

আর খালেদা জিয়া! তিনি যখন নিশ্চিত, সরকারই তাকে তুলে নিয়ে গেছে, তাহলে এই ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ মার্কা আন্দোলন কেনো? হরতাল ডাকতে তো আর পয়সা লাগে না। গুলশানে বসে ঘোষণা দিয়ে বসলেন, হ-র-তা-ল! নিজে থাকলেন বুলেট প্রুফ দেয়াল বেষ্টিত তাপ নিয়ন্ত্রিত আলিশান কক্ষে, বাকী যারা, বড় নেতা, মাঝারি নেতা, পাতি নেতা, সবাই যার যার ঘরে। গরীবের সন্তানদের ছেড়ে দিলেন পিকেটিং এ। মরুক তারা। গরীবের জন্মই তো হয়েছে রাস্তাঘাটে মরার জন্যে। এটাকে রাজনৈতিক ফাজলামো ছাড়া আর কিছু বলতে আমি রাজি নই।

বলা হবে, পুলিশ তো রাস্থায় নামতেই দিচ্ছে না! লাঠিপেঠা করছে। মামলা দিচ্ছে। বলি কোন কালে হরতালকারীদের ধরে পুলিশ চুমো দিয়েছিল? আমি বিএনপিকে একটি পরামর্শ দিই। আওয়ামীলীগের হাতে পায়ে ধরে তাদের রাজি করাতে পারেন কি না দেখেন। তারা যদি রাজি হয়, তাহলে তিনমাস আওয়ামীলীগের কাছে আন্দোলনের ট্রেনিং নিন। তারপর মাঠে নামুন। সাঁতার না শিখে পানিতে নেমে হাবুডুবু আর কত খাবেন?

হরতাল কখনো দেশের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। অতীতে আওয়ামীলীগও এই কাজ করে আরাম পেয়েছে। এখন বিএনপি এই আমল করছে। ধীক্কার জানাই এমন রাজনীতিকে, হরতালের রাজনীতিকে। মানুষকে জিম্মি করে, গরিবের পেটে লাথি মেরে কিসের রাজনীতি! কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, হরতালের বিকল্প খোঁজে বের করতে। আমিও তাই বলি। আন্দোলন করুন, এটা গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু অন্যের অধিকার কেড়ে নিয়ে নয়। অবশ্যই হরতালের বিকল্প কিছু খোঁজে বের করুন। আর... আর সত্যিই যদি ইলিয়াস আলীর জন্য আপনাদের দরদ থাকে, তাহলে মানুষের উপর জোর করে হরতাল চাপিয়ে না দিয়ে আপনারা, বিএনপি যারা করেন, ঘোষণা দিয়ে রাস্তায় শুয়ে পড়ুন। বলুন, সরকারকে বলুন, চালান গাড়ি আমাদের বুকের উপর দিয়ে। ইলিয়াস আলী তো আপনাদের দলের জন্য অনেক দিলো। আপনারা ঢাকায় বসে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। সিলেটে বসে ইলিয়াস আলী বুক পেতে দিয়েছে গুলির সামনে। এখন সেই ইলিয়াস আলীর জন্য এটুকুন করতেও যদি আপনাদের বুক কাঁপে, তাহলে দোহাই আপনাদের, ইলিয়াস আলীর জন্য আর মায়াকান্না করবেন না। আমরা জানি, জীবিত ইলিযাস আলী, মৃত ইলিয়াস আলী, দু’টোই আপনাদের কাজে লাগবে। এটাই বাংলাদেশের রাজনীতি। কিন্তু আমরা, রাজনীতি না করা সিলেটের সাধারণ মানুষ, আমরা চাই জীবিত ইলিয়াসকে। দয়া করে আমাদের অনুভূতিজনিত দুর্বলতাকে নিয়ে রাজনীতি করবার চেষ্টা করবেন না।

চার॥
ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হয়ে আছেন ৮ দিন ধরে। কেউ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছে না মানুষটি কোথায় আছে? কোন অবস্থায় আছে? ইতোমধ্যে বিএনপির ডাকে ইলিয়াস আলীর সন্ধান’র দাবিতে চারদিন হরতাল পালিত হয়েছে। মারা গেছে চারজন। ইলিয়াসের জন্মভূমি বিশ্বনাথে তিনজন, ঢাকায় মারা গেছে নিরপরাধ বাস চালক বদর আলী। আরো অনেকেই হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। সারাদেশে গ্রেফতার হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। মামলা হয়েছে ষোল হাজার মানুষের উপর। আর এরই মধ্যে হরতাল, ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াও এর কারণে দেশের তিন হাজার কোটি ছাড়িয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এই হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির দায় কে নেবে? ইলিয়াস আলীকে কে বা কারা অপহরণ করেছে, অথবা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী যদি তিনি লুকিয়েও থেকে থাকেন, তাহলে তাকে উদ্ধার করা বা গোপন অবস্থান থেকে খুঁজে বের করবার দায়িত্ব তো সরকারের। এই দায় সরকার কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারেন না।
সরকারে উর্ধ্বতন মহল থেকে বার বার আশ্বস্ত করে বলা হচ্ছে, ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করা হবে। খুব শিগগিরই ইলিয়াস আলী নিখোঁজ’র রহস্য উদঘাটিত হবে। যদিও এ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কিছুই জানাতে পারছেন না তারা। এরই মধ্যে আবার তদন্তকারী সংস্তাগুলোর উর্ধ্বতন মহল থেকে বলা হচ্ছে, ইলিয়াস আলীকে আন্ডারওয়ার্ল্ড এর সন্ত্রাসীরা অপহরণ করেছে! ইতোমধ্যে তাদের সনাক্তও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। দেশের মানুষ আজ বিভ্রান্ত। কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। সবার মনে একই প্রশ্ন, আসলেই কী হচ্ছে?


বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ (বলে আমরা দাবি করি)। যদিও দেশটির সাথে গণতন্ত্রের শেষ কবে দেখা হয়েছিল অথবা আদৌ দেখা কখনো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতা এদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে। ভিন্নমতকে ভিন্ন উপায়ে দমিয়ে ফেলার কাপুরোষোচিত নষ্ট সংস্কৃতি এদেশের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে আছে গোড়া থেকেই। আর ইদানীং শুরু হয়েছে গুম কালচার। ঠিক শুরু বলা বোধ’য় ঠিক হবে না। আশংকাজনকহারে বেড়ে গেছে বলা যায়। ভয়াবহ অবস্থা। গুম আর গণতন্ত্র কখনো একসাথে চলতে পারে না, এই বোধটুকু যদি হারিয়ে যায়, কোনো দেশের রাজনৈতিক কালচার থেকে, তাহলে সে দেশ অবধারিতভাবেই দেশটি স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলবে। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ভেসে যেতে পারে বানের পানির মতো... নাহ। অলুক্ষুণে কথা ভাবতে চাই না। তবুও আশাবাদি থাকতে চাই আমরা। আমরা বিশ্বাস করতে চাই রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতার জয় হবে। ইলিয়াস আলীর মতো ডাকসাইটে নেতা নিখোঁজ! ইতোপূর্বে নিখোঁজ হওয়া অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাকর্মী বা অরাজনৈতিক মানুষ’র ফিরে না আসা, তাদেরকে খোঁজে বের করতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা... সব মিলিয়ে মানুষ আজ দিশেহারা। কী হচ্ছে আর কী হতে চলেছে, কিছুই বুঝতে না পেরে পুরোই হতাশ হয়ে আছে সকলে। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা দরকার। গণতন্ত্রের মৃতপ্রায় আত্মাটিকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থেই এটি দরকার। তা নাহলে এদেশের সার্বভৌমত্বই হুমকির মুখে পড়বে বলে আমরা মনে করছি।

পাঁচ॥
সারা দেশের মানুষ, যারা রাজনৈতিক দলাদলিতে নেই, সকলেরই দাবি, ইলিয়াস আলীর সন্ধান। কোনো বিবেকবান মানুষই কারো গুম হয়ে যাওয়াকে মেনে নিতে পারে না। তাও আবার একটি প্রতিষ্ঠিত দলের প্রতিষ্ঠিত নেতা ইলিয়াস আলীর মতো মানুষ!! আমরা আশায় বুক বেধে আছি ইলিয়াস আলী ফিরে আসবেন। সরকার তাকে খুঁজে বের করবে। আমার দেশের গোয়েন্দা বিভাগের উপর আমাদের প্রচণ্ড আস্থা। আমরা কোনো অবস্থাতেই ইলিয়াস আলী ইস্যুতে তাদের ব্যর্থতার কল্পনাও করতে রাজি না। আমরা আন্তরিকভাবেই বিশ্বাস করি, তাঁরা ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে সফল হবেনই। পাশাপাশি যে নিরীহ বাস চালক ভাইটি আমার সুযোগ সন্ধানী দুর্বৃত্তদের বর্বরোচিত আঘাতে পুড়ে লাশ হল, তার জন্য গভীর সমবেদনা জানাই। যে লোকগুলো ইলিয়াস মুক্তির দাবিতে রাস্তায় বেরিয়ে লাশ হল, তাদের সকলের আত্মার শান্তি কামনা করছি। জানি, আমাদের রাজনৈতিক বসন্তবাদীরা এই লাশগুলোর দায় নিতে রাজি হবেন না। মানুষের মৃত্যুতে তাদের অন্তর আর কাঁপে না। না কাঁপার কারণও আছে। এই মানুষগুলো তো আর তাদের নিজেদের কারো সন্তান না। যে মায়েদের বুক খালি হয়েছে, সেই মাই কেবল বুঝবেন সন্তান হারানোর বেদনা। যে সন্তান তার বাবাকে হারিয়েছে, সেই বুঝবে বাবা হারালে কেমন লাগে! অকালে স্বামী হারানো সেই স্ত্রীই বুঝবে বৈধব্যে’র যন্ত্রনা!

ইলিয়াস আলীর মা পথ চেয়ে বসে আছেন। স্থির বিশ্বাস তাঁর, ছেলেটি ফিরে আসবেই। আমরা কামনা করি এই মায়ের বিশ্বাস যেনো ভেঙে না যায়। আজ, ২৬ এপ্রিল এই লেখাটি যখন টাইপ করছি, তখন পর্যন্ত ইলিয়াস আলীর ব্যাপারটি আশা নিরাশার দুলাচলে দুলছে। যদি এমন হতো, লেখাটি কাগজে ছাপা হওয়ার আগেই জানা যেতো, ইলিয়াস আলীর সন্ধান মিলে গেছে! মানুষটি সুস্থ অবস্থায় ফিরে এসেছে তাঁর মায়ের কোলে!

আমরা মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিনের কাছে প্রার্থনা জানাই, ইলিয়াস আলী যেখানেই আছে, মানুষটি ভাল থাকে যেনো। সিলেটের ছেলে ইলিয়াস আলী আবার যেনো ফিরে আসে সিলেটের মানুষের মাঝে। সাথে সাথে এ-ও প্রত্যাশা করি, আজকের পর থেকে আর কোনো মায়ের সন্তানকে যেনো এদেশে গুম হতে না হয়। আগেই একবার বলা হয়েছে, কথাটি এখন বারবার বলা দরকার, গুম আর গণতন্ত্র একসাথে চলতে পারে না।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/RashidJameel
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
london থেকে saiful লিখেছেন, ৩০ এপ্রিল ২০১২; দুপুর ০২:৩৫
deshta akhon moger muluke porinoto hoyese. akhon bachar matro dui phot, 1.hoy hijrot kora, ba 2. dolmot nirbisheshe moydane neme bal ke desh teke tariye dewa.
83613
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy