মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৭:১২ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

নারী, পেশা এবং এ সময়ের ভাবনা

রেহনুমা বিনত আনিস

ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর কি কাজ করা উচিত না’কি উচিত না? এ’নিয়ে চিন্তাগবেষনার অন্ত নেই। যারা মনে করেন নারীর কাজ করা উচিত না তাদের বক্তব্য হোল এতে নারীর মাতৃত্বের দায়িত্ব বিঘ্নিত হয়। যারা মনে করেন নারীর কাজ করা উচিত তাদের বক্তব্য হোল নইলে মেয়েদের এত কষ্ট করে লেখাপড়া করার প্রয়োজন কি? উভয়েক্ষেত্রেই এমন একটি সরল দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টিকে বিবেচনা করা হচ্ছে যা বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক। কয়েকটি বাস্তব ঘটনা পর্যালোচনা করলেই স্পষ্ট হবে কেন বিষয়টিকে এত সরলভাবে দেখা সম্ভব নয়। ৫ নং ঘটনা ব্যাতীত প্রতিটি ক্ষেত্রে গোপনীয়তার স্বার্থে ব্যাক্তির নাম পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছেঃ-

১. অধিকাংশেক্ষেত্রে সন্তান কিছু জিজ্ঞেস করলে মায়েদের বলতে শোনা যায়, “তোমার আব্বু এলে জিজ্ঞেস করে জানাব”। লেখাপড়ার চর্চা থেকে দূরে থাকতে থাকতে তারা একসময় অনেক সাধারন জ্ঞানের বিষয়াবলীও ভুলে যান। ফলে সন্তানের স্বাভাবিক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সন্তানের সামনে লজ্জায় পড়ে যান এবং সন্তানের শ্রদ্ধা হারান। তবে এই ভুলে যাওয়ার পরিধি যে কত ব্যাপক হতে পারে তা দেখে আমি এতটা বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম যে আমার প্রথম সন্তানের জন্মের দ্বিতীয় দিন থেকেই তাকে একহাতে খাওয়াতাম এবং আরেক হাতে বই নিয়ে পড়তাম। আমাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার আগে লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয়। একবার এক শ্রদ্ধেয়া ভাবী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে এসে কাঁদতে কাঁদতে চলে যান। ভাবী বিদেশে বড় হয়েছেন, মাস্টার্স করেছেন, বিয়ে করে ছয় ছয়টি সন্তান বড় করেছেন। সবাই আমাকে দোষারোপ করতে শুরু করে, আমি হয়ত প্রশ্নপত্র অতিরিক্ত কঠিন করেছি! খাতা চেক করতে গিয়ে দেখি খাতা সম্পূর্ণ খালি, পরীক্ষার্থীর নামের বানানটিও ভুল। পরে ভাবী ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে জানালেন তিনি বিয়ের পর থেকে আর কলম হাতে নেননি; প্রথমত তিনি কলম ধরতে ভুলে গিয়েছেন এবং দ্বিতীয়ত তিনি তাঁর নামের বানান পর্যন্ত লিখতে ভুলে গেছেন! উল্লেখ্য, তাঁর স্বামী একজন প্রফেসর। কিন্তু তিনি স্ত্রীকে জ্ঞানার্জন দূরে থাক, জ্ঞানের চর্চার জন্য পর্যন্ত কোনপ্রকার সহযোগিতা করেননি। ছয়টি সন্তান এবং সংসারের পরিপূর্ণ দায়িত্ব স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে তিনি নিজের জ্ঞানচর্চার জন্য সময় করে নিয়েছেন। দু’জনের জ্ঞানের পার্থক্য যত বেড়েছে, তাঁর স্ত্রীর প্রতি সম্মান তত কমেছে। একসময় তিনি স্ত্রীর প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েছেন এবং একপর্যায়ে তিনি শুধু ঘুমানো ছাড়া বাসায় সময় দেয়াই বন্ধ করে দেন।

২. রাহির বিয়ে হয় এক বিরাট যৌথ পরিবারে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী পরিবারের বড় ছেলে। ঘরে বাবামা, বিবাহযোগ্যা বোন, বিভিন্ন স্তরে লেখাপড়া করা অনেকগুলো ভাইবোন এবং এই পরিবারের ওপর নির্ভরশীল ব্যাক্তিবর্গ। রাহির সামনে দু’টি পথ- স্বামীকে আরো বেশী উপার্জন করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা অথবা সবার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের প্রয়োজন মেটানো। রাহি তৃতীয় একটি পথ বেছে নিলো। সে একটি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনে কাজ নিলো। ফলে স্বামী তার সম্পূর্ণ উপার্জন পরিবারের জন্য ব্যায় করতে সম হলেন এবং রাহির টাকায় নিজেদের চলে যা উদ্বৃত্ত থাকে তাও পরিবারের পেছনে খরচ করা সম্ভব হোল। স্বামীর সমস্যা বুঝে চলা এবং অহেতুক চাপ সৃষ্টি না করার কারণে দু’জনের বন্ধুত্ব মজবুত হোল এবং সংসারের দায়িত্ব দু’জনে ভাগ করে নেয়ায় কেউ অতিরিক্ত চাপ বা বিরক্তির সম্মুখীন হোলনা।

৩. দু’টি বাচ্চা শামার হাতে দিয়ে ওর স্বামী ক্যান্সারের কাছে পরাজিত হলেন। শোকে কাতর শামা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওর শ্বশুরবাড়ীর আত্মীয়স্বজন স্বামীর সমস্ত সম্পদ হস্তগত করে তাকে কেবল দয়া করে একটি রুম দিল থাকার জন্য। গ্রামের পুকুরপাড় থেকে কচুঘেচু তুলে পেট তো চলছিল কোনক্রমে কিন্তু বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাবার সংস্থান নেই, বইখাতা কাপড় কিনে দেবার পয়সা নেই, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার মত কোন আত্মীয়স্বজন নেই, চাকরী ছেড়ে দিয়েছে বহুদিন তাই চাকরীর জন্য যোগাযোগ করবে এমন পরিচিত কেউ নেই। বাড়ীর কাছের এক ভদ্রলোকের দয়া হোল। তিনি শিক্ষিতা মেয়েটিকে একটি কাজের ব্যবস্থা করে দিলেন। আজ শামা বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছে, ছোট মেয়েকে ভালো স্কুলে পড়াচ্ছে এবং শ্বশুরবাড়ীর লোকজনকেও সাহায্য সহযোগিতা করছে সেই চাকরীর বদৌলতে।

৪. কামিনীর বিয়ের পর ওর স্বামী ওর গহনাপাতি নিয়ে নেয় ওর নামে বাড়ী করার জন্য। স্বামীর পরিবারে অর্থ জোগান দেয়ার জন্য ওকে চাকরীতে ঢুকতে হয়। নতুন পরিবারে সবার জন্য কিছু করার এই সুযোগ পেয়ে খুব খুশী কামিনী। পরে সন্তানাদি হয়ে গেলে কামিনী চাকরী ছেড়ে দেয়, স্বামীও ততদিনে ভালো চাকরী পেয়েছে। একসময় সে জানতে পারে বাড়ী করা হয়েছে স্বামীর নামে। আস্তে আস্তে দেখা যায় স্বামী সব সিদ্ধান্তই ওর ওপর চাপিয়ে দিতে শুরু করেন, আলোচনার কোন সুযোগ নেই। স্বামীর কাছে মূল্য নেই বলে সন্তানদের কাছেও সে মূল্যহীন। এখন কামিনীর মা অসুস্থ, সে মায়ের চিকিৎসার জন্য স্বামীর কাছে কিছু টাকা চায়। স্বামী সাফ বলে দেন শ্বাশুড়ী বিনা চিকিৎসায় মরে গেলেও তিনি তার জন্য কোন টাকা দিতে পারবেন না, তাঁর কষ্টের টাকা তিনি কি পানিতে ফেলবেন? কান্না ছাড়া কামিনীর অসুস্থ মাকে দেয়ার আর কিছুই নেই। উল্লেখ্য, কামিনীর স্বামী একজন ইঞ্জিনিয়ার।

৫. একসময় বাংলাদেশের ঘরে ঘরে গৃহিনীরা হাঁসমুরগী, গরুছাগল, পায়রা পালতেন- এতে ডিমদুধের চিন্তা থাকতনা, উপরন্তু প্রয়োজনমত মাংসের জোগানও হত। একতু খোলা জায়গা পেলেই লাগানো হত শাকসব্জী, ফলমূল; অন্তত ফুলপাতালতা। আমি ঢাকার ধানমন্ডির মত অভিজাত এলাকাতেও এই প্রচলন দেখেছি ছোটবেলায়। মহিলারা পাটি বুনতেন, মোড়া বানাতেন, সেলাইফোঁড়াই করতেন সব বাসায় বসে বাচ্চাদের পড়াতে পড়াতে। আজকাল ঐ সময়টুকু গিন্নীরা আরাম করেন সিরিয়াল দেখে দেখে এবং ব্লাডপ্রেশার আর ডায়াবেটিসের বড়ি গিলে গিলে। মিসেস আনিস আন্টি ছিলেন ব্যাতিক্রম। তিনি এই সময় ব্যায় করতেন পোশাক ডিজাইন করে, বুটিক চালাতেন, অ্যাকুয়ারিয়াম ফিশ চাষ করতেন, এক্সটিক পাখী চাষ করতেন- গরীব দুঃস্থদের জন্য কয়েকটি স্কুল চলত এই পয়সায়। এই বিশাল ব্যাবসা চালানোর জন্য তিনি নিয়োগ দিয়েছিলেন অনেক মানুষজন, অনেক ভাগ্যাহত নারীর অন্নসংস্থান হত তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করে, আমার পরিচিত লোকজনকে তিনি কাজ দিয়েছেন তাদের বিপদের সময়। সন্তানদের দেখাশোনার সুবিধার জন্যই তিনি বাইরে কাজ না করে বাসায় কিছু করেছেন। তাঁর নিজের মত করে সমাজের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছেন।

৬. লাকীর স্বামী ওকে বাংলাদেশে রেখে অ্যামেরিকায় গেলেন স্বপ্নের সন্ধানে। তিনটি সন্তানের দেখাশোনা নিয়েই ব্যাস্ত লাকী স্বপ্ন বোনে আজই হয়ত স্বামী তাকে নিজের কাছে ডেকে পাঠাবেন। তিনবছর পেরিয়ে যায়। স্বামী ব্যাস্ততার মাঝে ফোন করারও সময় পাননা, লাকী ফোন করলে তড়িঘড়ি রেখে দেন। স্বামী আগের মত নিয়মিত টাকা পাঠান না, যে টাকাপয়সা বিপদআপদের জন্য দিয়ে গেছিলেন তাও প্রায় শেষ। বিরহে চিন্তায় পাগলের মত হয়ে যায় সে। স্বামী অসুস্থ নয়ত? তার কোন বিপদ হয়নি তো? চতুর্থ বছরে এক অ্যামেরিকাপ্রবাসী ভাই ছুটিতে এসেছে খবর পেয়ে তাঁর কাছে ছুটে যায় স্বামীর খবর জানার জন্য। ভদ্রলোক প্রথমে কিছুতেই বলবেন না পরে বললেন, “স্বামীকে এত বিশ্বাস করা ঠিক নয়”। “স্বামীকে বিশ্বাস করবনা তো কি আপনাকে বিশ্বাস করব?” রেগে গিয়ে বাসায় চলে যায় লাকী। পরে মাথা ঠান্ডা হলে আরেক বিদেশফেরত ভাইকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারে এক শ্বেতাঙ্গিনীকে বিয়ে করে দেদারসে সংসার করছেন স্বামী গত তিনবছর ধরে! লেখাপড়া করেনি বেশি, বাবামা বেঁচে নেই, কোন ভাই নেই। কি করবে, কোথায় যাবে লাকী?

৭. সিমি তার দুই ছেলেকে মানুষ করার জন্য কোনদিন চাকরী করেনি, বন্ধুবান্ধবের সাথে যোগাযোগ রাখেনি, পৃথিবীর সব কিছু ভুলে স্বামী সংসার আর সন্তান নিয়েই সে মেতে ছিল। প্রজাপতির রঙ্গিন পাখায় ভর করে কবে যে কেটে গেল এতগুলো বছর, সে টেরই পায়নি। বছর দুই হোল ছেলে দু’টোরই বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেবৌরা ওর সাথেই থাকে। কিন্তু ছেলেরা এখন আর কাজ থেকে ফিরে সারাণ ওর গলা জড়িয়ে ধরে বসে থাকেনা, কিছু সময় মায়ের সাথে কাটিয়ে নিজের ঘরে গিয়ে বৌদের সাথে সংসারের হিসেবনিকেশ করে, বাবামা’র খবর নেয়। স্বামী থাকেন পড়াশোনা আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা নিয়ে, রিটায়ার করে আর কিইবা করার আছে সময় কাটানোর জন্য? সিমির কেমন যেন একা একা লাগে। বৌগুলো খুব লক্ষ্মী। ঘরের কোনকিছুতে হাত দিতে হয়না ওকে, দু’জনে মিলে গল্প করতে করতে টুকটুক করে সব করে ফেলে দুই বৌ। তবুও ওরা ওর কাছ থেকে ওর ছেলেদের কেড়ে নিয়েছে ভেবে ওর ওদেরকে সহ্য হয়না। সিমি পড়াশোনা ভুলে গেছে সেই ত্রিশ বছর আগে, বন্ধুদেরও ছেড়ে দিয়েছে তখনই। কি করে কাটবে ওর অফুরন্ত সময়?

৮. মনোয়ারা বেগমের বয়স হয়েছে ৫৫। শরীরে এমন এক অসুখ বাসা বেঁধেছে যার চিকিৎসা আর ঘরোয়া পদ্ধতিতে সম্ভব হচ্ছেনা। শহরে নিয়ে যাবার সামর্থ্য নেই তার দিনমজুর ছেলের। সে মাকে সাধ্যসাধনা করে গ্রামের ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। কিন্তু ডাক্তারসাহেব তাকে পরীক্ষা করার জন্য বোরকা খুলতে বললে তিনি রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে বাড়ী ফিরে এলেন। একবছর ভুগে, পরে শয্যাশায়ী হয় বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন মনোয়ারা বেগম। এই মৃত্যুটি কিন্তু সহজেই এড়ানো যেত। গ্রামে যদি একজন নারী ডাক্তার থাকতেন হয়ত মনোয়ারা সুচিকিৎসা পেতেন।

৯. লামিয়া মাত্র বয়োঃপ্রাপ্র হয়েছে। ওর জন্য কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী কেনার জন্য ওর মা বাজারে গিয়ে ঘুরে ঘুরে হয়রান। সব দোকানে পুরুষ সেলসম্যান। কয়েকবার সাহস করে কাছাকাছি গেলেও লজ্জায় বলতে পারলেন না তাঁর কি প্রয়োজন। কেন যে মেয়েদের জন্য মহিলা সেলসম্যান দিয়ে দোকান করা হয়না! বিদেশে কি সুন্দর একেকটি পরিবারের সকল সদস্য মিলে দোকান চালায়। বাবা দোকানে বসলে মা গিয়ে রান্না সেরে আসেন, বড় ছেলে স্কুল থেকে ফিরে দোকানে বসলে বাবা শুতে যান, বাচ্চারা কাউন্টারে বসে হোমওয়ার্ক করে। আর একটি মুসলিম দেশে মহিলাদের পুরুষ সেলসম্যানের কাছে নারীদের জিনিস চাইতে গিয়ে বিব্রত হতে হয়!

১০. আমার ছোটবেলায় পাশের বাসায় এক দাদু থাকতেন। ওনার ফ্রিজে সবসময় আমার জন্য ফিরনী করা থাকত। বাসায় হরেক রকম বয়মে থাকত তেঁতুল, গুড়, মুড়ি, নারকেলের বরফি আরো নানারকম লোভনীয় খাবার। উনি আমাকে খাওয়াতেন আর ফাঁকে ফাঁকে নানারকম সুরা, দুয়া, নামাজ শেখাতেন। খাবার লোভে গিয়ে কতকিছু শিখে আসতাম তার ইয়ত্তা নেই। যেবার আমি প্রথম রোজা রাখি দাদু প্রায় পনেরো বিশরকম আইটেম করে ইফতার খাইয়েছিলেন। এত আদর করতেন বলে তাঁকে আমি মিষ্টিদাদু ডাকতাম। তবে উনি যে আমার কি উপকার করেছেন তা আমি বুঝতে পারি বড় হয়ে। তিনি শুধু আমাকেই নয়, পাড়ার অনেক শিশু এবং তাঁর বাসায় কাজের লোকদের নামাজদুয়া শেখাতেন। এভাবে নিজের পয়সা এবং সময় নষ্ট করে অন্যের সন্তানকে মানুষ করার মত সোনার মানুষগুলো হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের সমাজ থেকে।

ওপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা একপ্রকার নিশ্চিত হতে পারি যে মানুষের জীবনকে কোন নির্ধারিত ফর্মুলায় ফেলা যায়না। সুতরাং, সবার জন্য একই সমাধান কার্যকর হতে পারেনা। তবে ইসলামে কয়েকটি ফর্মুলা নারীপুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য অবশ্যপালনীয় করে দেয়া হয়েছেঃ

১. আল্লাহ মানবজাতির জন্য রাসূল (সাঃ) এর মাধ্যমে প্রথম যে নির্দেশ প্রেরণ করেছেন তা হলো “পড়”। এর সাথে এ’রকম বাক্যাংশ সংযোজিত হয়নি “এই নির্দেশ কেবলমাত্র পুরুষদের জন্য, নারী এই নির্দেশের আওতাবহির্ভূত” অথবা “পড় এবং অতঃপর ভুলে যাও”। কেবলমাত্র এ’কারণেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে একজন ব্যাক্তির আজীবন সাধনা হতে হবে জ্ঞান অর্জন করা এবং চর্চার মাধ্যমে তাকে সতেজ রাখা। জ্ঞানার্জনকে জীবনের ল্য স্থির করার পেছনে কোন অর্থনৈতিক বা পার্থিব স্বার্থকে উহ্য করা হয়নি। নারী পুরুষ উভয়কেই জ্ঞানার্জন করতে হবে নিজের স্বার্থে এবং সমাজের স্বার্থে- কেননা একজন আলোকিত মানুষ সমাজকে উপহার দেবে প্রথমত একজন আলোকিত নাগরিক যে হবে সমাজের জন্য কল্যাণকর, এবং দ্বিতীয়ত পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি আলোকবর্তিকা যা তাদের পথ দেখাতে সহায়তা করবে। জ্ঞানার্জনের জন্য এর চেয়ে বেশী আর কোন কারণ বা প্রেষণার প্রয়োজন নেই। এর বাইরে যা পাওয়া যায় সব বোনাস।

২. জ্ঞানপ্রাপ্ত হবার সাথে সাথে জ্ঞানী ব্যাক্তির দায়িত্ব হয়ে পড়ে এই জ্ঞান চতুষ্পার্শে ছড়িয়ে দেয়া যার জন্য বলা হয়েছে যে ব্যাক্তি একঘন্টা জ্ঞানসংগ্রহ করে এবং অতঃপর একঘন্টা জ্ঞানবিতরণ করে তার ঘুম মূর্খ ব্যাক্তির রাতব্যাপী নামাজের সমান। এই দায়িত্বের ক্ষেত্রেও পুরুষ এবং নারীর বিভাজন করা হয়নি। অতঃপর পুরুষের ওপর তার জ্ঞান ব্যাবহার করে অন্নসংস্থান করার দায়িত্ব অর্পন করা হয়েছে, নারীর ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অধিকার এবং পেশা গ্রহন করার ব্যাপারে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে কিন্তু তার অর্জিত অর্থ কারো জন্য ব্যায় করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। কিন্তু তাই বলে এ’কথাও কোথাও বলা হয়নি যে নারী কোন কাজ করতে পারবেনা বরং এক মহিলা সাহাবী যখন রাসুল(সাঃ)কে জানান যে তাঁর স্বামী পঙ্গু এবং তিনি কাজ করে স্বামীসন্তানের ব্যয়নির্বাহ করেন তখন রাসুল(সাঃ) তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে এর জন্য তিনি আল্লাহর কাছে উত্তম পুরস্কারের হকদার হবেন। রাসুল (সাঃ)এর স্ত্রী খাদিজা (রাঃ) ব্যাবসায়ী ছিলেন, আয়শা (রাঃ) কুর’আন এবং হাদীসের শ্রেষ্ঠতম শিক্ষিকা ছিলেন, আয়শা (রাঃ)র বোন আসমা (রাঃ) স্বামীর তেখামার দেখাশোনা করতেন, রাসুল(সাঃ)এর আরেক স্ত্রী হাতের কাজ করে বিক্রি করতেন অতঃপর সম্পূর্ণ উপার্জন সদকা করে দিতেন, খাওলা (রাঃ) ছিলেন কবি, যুদ্ধেক্ষেত্রেও নারীরা পিছিয়ে ছিলেন না। রাসূল(সাঃ) এঁদের কি পরিমাণ সম্মান করতেন তা উল্লেখ করা নিষ্প্রয়োজন, আসমা (রাঃ) কেমন মা ছিলেন এবং তিনি কেমন সন্তান গড়ে তুলেছিলেন তার জন্যও ইতিহাসের স্যাই যথেষ্ট। উল্লেখ্য এই কাজগুলোর পেছনে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য মূখ্য ছিলোনা বরং সমাজের জন্য কিছু করার, পরিবারের সহযোগিতার, সৃষ্টিশীলতার উদ্দেশ্যই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

৩. কাজ করা বলতে শুধু চাকরী করা বোঝায় এবং জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্য কেবল একে ব্যবহার করে ফায়দা হাসিল করা এটি অত্যন্ত সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গী। একজন ব্যাক্তির বেড়ে ওঠা এবং একজন ব্যাক্তিমানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পেছনে অসংখ্য মানুষের প্রত্য এবং পরো অবদান থাকে। নিজের স্বার্থ লাভ হয়ে যাবার সাথে সাথে শুধুমাত্র একজন সঙ্গী এবং নিজের ক’টি সন্তান ছাড়া পৃথিবীর আর সবার অধিকার ভুলে যাওয়াটা ইসলাম কেন মানবতার সংজ্ঞায়ও সঠিক হতে পারে, এটা মেনে নেয়া কষ্টকর। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কারণে নয়, নৈতিক কারণেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে সবার কিছু করা উচিত তার নির্ধারিত কাজের বাইরে। তবে অর্থনৈতিক বিষয়টিও একেবারে ফেলনা নয়। ইসলামে নারীকে ধনসম্পদে যে অধিকার দেয়া হয়েছে তা কেবল ব্যাক্তিগত নিরাপত্তার জন্যই নয় বরং দায়িত্বশীলতা শিক্ষা দেয়ার জন্যও বটে। পাশাপাশি টাকাপয়সা ছাড়া অনেক নধংরপ ইবাদাত করা সম্ভব নয় যেমন সদকা, যাকাত এবং হাজ্জ্ব। তাছাড়া সামাজিক ক্ষেত্রে মেলামেশার কারণে মানুষের সামাজিক প্রতিভা, মনের বিস্তৃতি এবং পরিচিতের পরিধি বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে নারীর সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ত্রেগুলোতে মেধাবী এবং দায়িত্বশীলা নারীদের এগিয়ে আসা উচিত। মনে রাখা উচিত, বাবামায়ের প্রতি দায়িত্বও আল্লাহ কেবল পুরুষের জন্য নির্ধারণ করে দেননি এবং এই ব্যাক্তিগত দায়িত্বগুলোর জন্য নারীর স্বামী তাকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিতে বাধ্য নন।

সুতরাং, এই ব্যাপারে আমরা একমত হতে পারি যে নারীপুরুষ নির্বিশেষে সবার একটি মূখ্য ক্যারিয়ার থাকতে হবে- জ্ঞানার্জন এবং জ্ঞান বিতরণের ক্যারিয়ার। দ্বিতীয়ত, জীবনধারণের জন্য কাজ করতে হবে বটে তবে ক্যারিয়ার যেন ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ না করে বরং ক্যারিয়ার যেন ব্যাক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কেননা, নারী বলুন আর পুরুষ বলুন, কোন মানুষই টাকা কামানোর বা ঘর সংসার সামলানোর মেশিনে রূপান্তরিত হওয়াটা বাঞ্ছনীয় নয়। প্রত্যেক মানুষের অধিকার আছে বিশ্রামের, আনন্দের, নিজের জন্য সময় ব্যয় করার। তৃতীয়ত, প্রত্যকেটি মানুষের চিন্তা করতে হবে আমাকে আল্লাহ কোন নিয়ামতটি দিয়েছেন যা দিয়ে আমি মানুষের সেবা করতে পারি?

এবার ক্যারিয়ারের বিষয়টিকে নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করি। নারীর কাছে পারিবারিক জীবনে সফল হওয়া পূর্ণতার অনুভূতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। এর একটি বিরাট অংশ মাতৃত্ব। তবে এটা মনে করার কোন কারণ নেই যে মাতৃত্ব একটি সাময়িক দায়িত্ব এবং সন্তান বড় হয়ে গেলে মায়ের দায়িত্ব কমে যায় এবং সে বাইরে সময় দিতে পারে। মাতৃত্বের দায়িত্ব একটি ষরভবষড়হম দায়িত্ব যার শেষ কেবল কবরে গিয়ে। এর একেক পর্যায়ে একেকভাবে সময়, শ্রম এবং মেধা ব্যায় করার প্রয়োজন হয়, কিন্তু এই দায়িত্ব আমৃত্যু শেষ হয়না। সুতরাং, এর জন্য আর সব দায়িত্ব ঠেকিয়ে রাখা বা একে ব্যক্তির ব্যাক্তিগত বিকাশের প্রতিবন্ধকতা মনে করা সঠিক হতে পারেনা। ইসলামে পরিবারের ওপর এতটা গুরুত্ব দেয়ার মূল কারণই এটা যেন পুরুষ ও নারী সন্তান এবং সংসারের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিতে পারে, নারী যেন বিবাহিত থেকেও single mother রূপান্ত্রিত না হয়। দ্বিতীয়ত, সময়ের সুষ্ঠু ব্যাবহার এবং কো-অর্ডিনেশনের মাধ্যমে মানুষ অল্প সময়ে অনেক কাজ করতে পারে। আর যদি অতিরিক্ত পরিশ্রমের কথা বলা হয় তাহলে Robert Robert Browning এর মত আমাকেও বলতে হয়ঃ
‘Ah, but a man’s reach should exceed his grasp
Or what’s a heaven for?’ (Andrea de Sarto)

জীবনটা পরীক্ষা ক্ষেত্র এবং এই পরীক্ষার সময় নির্ধারিত, তবে সনাতন পরীক্ষার মত এক্ষেত্রে আমরা জানিনা এই নির্ধারিত সময় কার জন্য কতটুকু। সেক্ষেত্রে কোন কাজটি যুক্তিযুক্ত? দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা নাকি বি সি এসের মত যে ক’টি সম্ভব প্রশ্ন একটির পর একটি উত্তর দিতে থাকা? কোন পদ্ধতিতে পাশের সম্ভাবনা বাড়ে?

সুতরাং, সন্তান লালন পালনের জন্য গৃহিনী হলেই ভালো মা হতে পারবেন আর কাজ করলে ভালো মা হওয়া যাবেনা এটা কোন যুক্তি হতে পারেনা। একজন গৃহিনী কি সারাণ সন্তান নিয়ে বসে থাকেন? প্রথমত, যদি থাকেন তাহলে এটা সুস্থতার লণ নয়। একটি শিশুর সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠার জন্য কিছু পরিমাণ স্বাধীনতার প্রয়োজন যখন সে দুষ্টুমী করবে, গায়ে কাদা মাখাবে, গাছে চড়বে এবং মা দেখবেন না। দ্বিতীয়ত, একজন মানুষের নিজের এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশে বসবাসকারী মানুষজনের প্রতি কিছু দায়িত্ব আছে। পরিপার্শ্ব হতে বিচ্ছিন্ন একজন মানুষ একসময় তার আশেপাশের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ সম্পর্কে অসচেতন হয়ে পড়েন এবং তখনই সমাজ বঞ্চিত হয়। কিভাবে তা একটু পরেই আলোচনা করছি।

একসময় মানুষের পনেরো বিশটা করে বাচ্চা হত। তাঁদের জিজ্ঞেস করলে তাঁরা মনেই করতে পারতেন না কি করে বড় হোল এতগুলো ছেলেপুলে। এর একটা কারণ হোল তখন মানুষ অনেক নিঃস্বার্থ ছিল। কার বাচ্চা কে খাওয়ায়, কে গোসল করায়, কে শাসন করে এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ব্যাপার নিয়ে তখন কেউ তেমন মাথা ঘামাত না। মায়েরা সন্তানদের যে সময় দিতেন তা quantity নয় quality দিক থেকে সর্বোচ্চ মানের ছিল। যেটুকু সময় তারা সন্তানদের কাছে পেতেন সে সময়টুকু তারা সন্তানদের নীতিনৈতিকতা এবং পড়াশোনা শিক্ষা দেয়ার জন্য কাজে লাগাতেন। পরম ঔদার্য্যে লালিত পালিত এইসব মানুষগুলো প্রত্যকেই সোনার মানুষ হতেন যারা দেশ এবং দশের জন্য করতেন, যাদের কথা আমরা আজও গল্পেপ্রবন্ধে পড়ে উজ্জীবিত হই।

এখন একজন মা তার সন্তানের জুতোর ফিতা থেকে মাথার চুল পর্যন্ত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চান, ফলে ন্যূনতম স্বাধীনতাবঞ্চিত একটি শিশু ছোটবেলা থেকেই কষ্ট আর লাঞ্ছনা নিয়ে বেড়ে ওঠে। অধিকাংশ শিশু বাবাকে মনে করে একজন ** যাকে মাঝেমাঝে দেখা যায় এবং যার কাছ থেকে টাকা পাওয়া যায়। তাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয় টেলিভিশন যাকে ছাড়া তারা খেতে পারেনা, ভাবতে পারেনা, চিন্তাশীলতার বিকাশ ঘটাতে পারেনা। এই মায়ের নিজের শিশুটি ছাড়া আর কারো জন্য কিছু ভাবার বা করার নেই। তাই তিনি তাকে বাংলা সিনেমার নায়কের মত নাচেগানে সুপারদর্শী, তর্কালংকার, মহানহৃদয়, মারদাঙ্গা, ব্ল্যাকবেল্টধারী ডাক্তার বানাতে চান। ফলে আমাদের সমাজ আজ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর, ব্যাঙ্কার, বিজনেসম্যানের ভারে ন্যুব্জ, কিন্তু এর মাঝে ‘মানুষ’ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অন্যদিকে আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের সন্তানদের জন্য যতটুকু করতে পারতাম, যা দেখে আমার সন্তান উদার হতে শিখত, তা না করে জন্ম দিচ্ছি ঈভটিজার, গুন্ডা এবং চোরডাকাতশ্রেণীকে। একদিকে আমার ছেলের জন্য ভিডিও গেম কেনা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা খরচ করে, অন্যদিকে প্রতিবেশী বস্তির মেয়েটি না খেতে পেয়ে আত্মহত্যা করছে।

সুতরাং, মায়েদের আগে মানুষ হবার চিন্তা করা উচিত যারা শুধু নিজের সন্তানের জন্য নয়, সবার জন্য করার মানসিকতা রাখবেন। বাবাদের চিন্তা করা উচিত স্ত্রী কেবল সংসার সামলানোর মেশিন নন এবং সন্তানগুলো তিনি একা জন্ম দেননি। সুতরাং বাবাও মাঝে মাঝে রান্না করবেন, ঘরের কাজে হাত লাগাবেন, সন্তানদের নিয়ে খেলবেন, স্ত্রীর সাথে গল্প করবেন, বাচ্চাদের বাইরে নিয়ে গিয়ে স্ত্রীকে পড়াশোনা করার সময় দেবেন। এই সন্তান বাবামা’র বন্ধুত্ব দেখে আত্মবিশ্বাস এবং নিরাপত্তার অনুভূতি নিয়ে বড় হবে এবং বাবামায়ের পারস্পরিক সম্মানবোধ তাকে উভয়কে যথাযথভাবে শ্রদ্ধা করতে শেখাবে। উভয়ে কাজ করবেন সন্তানের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্য, একটি সুন্দর সমাজ তাকে উপহার দেবার জন্য- যেখানে টাকাপয়সা ও ধনসম্পদ গৌণ এবং জ্ঞান, দায়িত্বশীলতা এবং সৌহার্দ্য মূখ্য।

পরিশেষে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে একটি ক্ষুদ্র উদাহরণ দিয়ে ইতি টানছি। আমি বিয়ের আগে একটা স্কুলে চাকরী করতাম, বিয়ের পর মাস্টার্সের রেজাল্ট বের হলে ইউনিভার্সিটিতে চাকরী পাই। আমার প্রথম সন্তান হলে আমি চিন্তা করি চাকরীতে একবছর গ্যাপ দেব, বাচ্চা বড় হলে আবার কাজে ফিরে যাব। হাফিজ সাহেব আমাকে বলেন, “তুমি যদি চাকরী ছেড়েও দাও আমার আপত্তি নেই। কিন্তু ভেবে দেখ, কর্মেক্ষেত্র তোমার উপস্থিতিই কিন্তু একটা আদর্শের প্রতীক। তোমার শূণ্যস্থান হয়ত খালি থাকবেনা। ঐ জায়গায় আরেকজন আসবে। তবে সেই ব্যাক্তি হয়ত একে নিছক পেশা হিসেবেই নেবে।তুমি যে ল্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে পড়াও, অন্যের সন্তানকে নিজের সন্তানের মত মানুষ করতে চাও, সেটা হয়ত সে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা মনে করবে। তার চেয়ে বরং আমরা এটা করতে পারি- তুমি কাজের পরিমাণ কমিয়ে নাও, কাজের জায়গায় আমরা একটা রুমের ব্যাবস্থা করি, বাচ্চা আমাদের সাথে প্রতিদিন যাবে, একটা উদার এবং শিক্ষিত পরিবেশে সমাজের নামীদামী মানুষের সাহচর্যে বড় হবে। তোমার কাস থাকলে আমি বাচ্চাকে দেখব, বাকী সময় তুমি ওর সাথে কাটাতে পারবে”।

বাচ্চা হাঁটতে শিখলে পরে এই কেন্দ্রিক একজন মহিলার কর্মসংস্থান হয় যে আমি কাসে থাকাকালীন বাচ্চার সাথে থেকে ওকে পাহাড়া দেবে, ওর খাবার আর গোসলের পানি গরম করে দেবে, ওর কাঁথাকাপড় ধুয়ে দেবে। বাচ্চা বড় হয়ে গেলে আমি আবার আমার স্বাভাবিক কাসলোড নিতে শুরু করি। এভাবেই বড় হয়েছে আমার দু’টি সন্তান। ঘরের সমস্ত কাজ হাফিজ সাহেব আর আমি ভাগ করে করি যাতে কেউ অতিরিক্ত কান্তি বা চাপ অনুভব না করি। উল্লেখ্য, আমি সবসময় যৌথ পরিবারে ছিলাম। কিন্তু আমার সন্তান আমার দায়িত্ব, তাকে আমি কোনদিন কারো ওপর বোঝার মত চাপিয়ে দেয়া সমীচিন মনে করিনি। দু’জনে মিলে বাচ্চাদের দেখাশোনার দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেয়ায় আমাদের বাচ্চাদের কখনো কোন অসুবিধা হয়নি কেননা বাচ্চারা দায়িত্ব, বাচ্চার অসুখ সব দু’জনে মিলেই সামাল দেয়া গেছে। আমাদের কারো কর্মেক্ষেত্রেও কোন প্রমোশন দেরী হয়নি, কোথাও কোন সমস্যা হয়নি। প্রয়োজন ছিল শুধু দু’জনের কো-অর্ডিনেশন। একপর্যায়ে আমি প্রফেসর হবার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের কোঅর্ডিনেটর ছিলাম, দায়িত্ব ছিল অনেক বেশী- কিন্তু স্বামী, সন্তান, তাঁর পরিবার এবং আমার পরিবারের সবার প্রতি দায়িত্ব জোগান দিয়েও বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রা করতে কোন অসুবিধা হয়নি। আমাকে যারা চেনেন তারাই বলবেন আমার দু’টি বাচ্চা মানুষ হয়েছে কি হয়নি। তবে আমি আজ আনন্দিতচিত্তে বলতে পারি আমার হাজার হাজার সন্তান মানুষ হয়েছে!

এবার আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন নারীর কাজ করা উচিত কি উচিত নয়।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/RehnumaBintAnis
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
india থেকে dirtroad লিখেছেন, ০৯ অক্টোবর ২০১১; সকাল ১১:২৭
excellent article.
69397
্নেপাল থেকে শামিম লিখেছেন, ০৯ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ১২:৩৪
লেখাটা একেবারেই ইসলামের দৃষ্টিকোন থেকে বলে মানি হলো না আপু। বস্তুবাদিতার কথা চিন্তা করলে প্রথম লাইনটা টানার দরকার ছিলনা। আরেকটা স্বামী যদি চাকুরী করেন কিভাবে সারাদিন বাসায় থেকে বউকে সাহায্য করবে কিভাবে? চাকুরী ছাড়া কি একটা মেয়ে গঠনমূলক কাজ করতেয় পারে না? লেখাপড়া ভুলে যায়? আজিব লাগলো ব্যাপারটা।
69401
সৌদিআরব থেকে আবু জারীর লিখেছেন, ০৯ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ০১:৪৯
আমার নিজের অভিজ্ঞতা কিছুটা বয়ান করিঃ

আমাদের যখন বিয়ে হয়েছে তখন আমি একদিকে মাস্টার্স অন্যদিকে এমবিএর ছাত্র। আমার স্ত্রী তখন সবেমাত্র ইন্টার পাশ করেছে। তার ইচ্ছামত তাকে পড়ার সুযোগ দিলে সেও মাস্টার্স পাশ করে। বাড়ি থেকে দূরে বলে একটা স্কুলে শিক্ষিকার চাকুরি পেলেও পাঠাইনি।

বর্তমানে আমি বিদেশে আছি আর সে দেশে। যে ভাবে তার দিন কাটেঃ

সকাল ৫টায় নীদ্রা ত্যাগ। ৬টায় বড় সন্তানকে নিয়ে স্কুলে গমন। বাসায় ফিরে ছোট বাচ্চাকে স্কুলে প্রেরনের জন্য প্রস্তুতি। ৯টায় ছোটবাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে গমন। ৯.৩০টায় বড় বাচ্চার স্কুল শেষ হলে তাকে নিয়ে কোচিংএ গমন। ১০টার মধ্যে তাকে কোচিংএ দিয়ে বাসায় আগমন। সামান্য ঘর গৃহস্থালির কাজ শেষে আবার ১২টায় দুই বাচ্চাকে স্কুল থেকে নিয় আসা। বাচ্চাদের গোসল খাওয়াদাওয়া শেষে হোম ওয়ার্কে সহায়তা। তিনটায় হুজুর আসেন আরবী পড়াতে। ৪.৩০টায় বাচ্চাদের আর্টের কোচিং এ নিয়ে যাওয়া সপ্তাহে তিন দিন। গানের স্কুলে নিয়ে যাওয়া সপ্তাহে ১দিন। নিজে একটা সংগঠনের সাথে জড়িত সেখানে যাওয়া কমপক্ষে ১দিন। সন্ধার পরে বাচ্চাদের পড়াতে বসানো। ১০টার মধ্যে তাদের ঘুমপারিয়ে সংসারের টুকিটাকী কাজ শেষে ঘুমতে যেতে মিনিমাম ১১/১২টা।
এবার বলুন আমি তাকে আর কোন চাকুরী দিতে পারি?
ধন্যবাদ।
69406
ঢাকা থেকে সাইফ লিখেছেন, ০৯ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ০২:০০
ভাল লাগল।
69408
নিউ ইয়র্ক থেকে ম ম রহমান লিখেছেন, ০৯ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ০২:৩৬
একটা জিনিস খটকা লাগলো মানুষ লেখা পড়া ভূলে যায় কি করে? তবে যদি গণিত/পদার্থ বিদ্যার সূত্র ভূলে যাওয়া কিংবা রসায়নের সমীকরণ অথবা জীব-বিজ্ঞানের শ্রেণী-বিন্যাস, এগুলো চর্চা না করলে হয়তো মেমোরীতে একটু জট লেগে যায়। যে কেউ একটু চেষ্টা করলে সেই জট খুলতে পারে। বাস্ববতার নিরেখে আপনার লেখা ভারী সুন্দর হয়েছে। সমাজের অনেক নারী-পুরুষ এ লেখা পড়ে উপকৃত হবে। ধন্যবাদ
69410
ঢাকা থেকে এস, এম, ইমদাদুল ইসলাম লিখেছেন, ০৯ অক্টোবর ২০১১; সন্ধ্যা ০৭:০৮
ভাবনাটা ভাল । "মানুষ" হিসেবে মানুষের উচিত প্রথমে চিন্তা করা, আমি কে ? কোথায় ছিলাম ? এখানে কেন এলাম? আমার কাজ কি ? আবার কোথায় যাব ? ব্যাস । যার যে কাজ , যার যেটা দায়িত্ব তিনি সেই কাজ এবং দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলেই স্বার্থকতা । বেশী কিছু লোড নেয়া একজন মানুষের পক্ষে তো সম্ভব না । তাতে সমস্যা , জটিলতা বাড়ে। আসল কাজটা হয় না।
69421
চকবাজার, চট্টগ্রাম থেকে মোহাম্মদ লোকমান লিখেছেন, ১০ অক্টোবর ২০১১; সকাল ০৮:১৩
মেয়েদের কাজ করা অবশ্যই উচিৎ, তবে যাদের সবদিক সামাল দেবার যোগ্যতা অথবা সুযোগ নেই তারা শুধু সংসারে সময় দিলেই ভাল করবেন।
69444
বাংলাদেশ থেকে আবু সাইফ লিখেছেন, ১০ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ০৩:১৫
দিক নির্দেশক লেখা, অ-নে-ক ধন্যবাদ
@আবু জারীর বলেছেন: "....সকাল ৫টায় নীদ্রা ত্যাগ। ৬টায় বড় সন্তানকে নিয়ে স্কুলে গমন। বাসায় ফিরে ছোট বাচ্চাকে স্কুলে প্রেরনের জন্য প্রস্তুতি। ৯টায় ছোটবাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে গমন। ৯.৩০টায় বড় বাচ্চার স্কুল শেষ হলে তাকে নিয়ে কোচিংএ গমন। ১০টার মধ্যে তাকে কোচিংএ দিয়ে বাসায় আগমন। সামান্য ঘর গৃহস্থালির কাজ শেষে আবার ১২টায় দুই বাচ্চাকে স্কুল থেকে নিয় আসা। বাচ্চাদের গোসল খাওয়াদাওয়া শেষে হোম ওয়ার্কে সহায়তা। তিনটায় হুজুর আসেন আরবী পড়াতে। ৪.৩০টায় বাচ্চাদের আর্টের কোচিং এ নিয়ে যাওয়া সপ্তাহে তিন দিন। গানের স্কুলে নিয়ে যাওয়া সপ্তাহে ১দিন। নিজে একটা সংগঠনের সাথে জড়িত সেখানে যাওয়া কমপক্ষে ১দিন। সন্ধার পরে বাচ্চাদের পড়াতে বসানো। ১০টার মধ্যে তাদের ঘুমপারিয়ে সংসারের টুকিটাকী কাজ শেষে ঘুমতে যেতে মিনিমাম ১১/১২টা।
এবার বলুন আমি তাকে আর কোন চাকুরী দিতে পারি? """
: এটা "চাকরী" হলো না??? মনে হয় আপনি ঠিকমত "বেতন" দেন না(?)

আপার এ কথাটা বোধ হয় আপনার দ্ৃষ্টি এড়িয়ে গেছে-
"""মানুষের জীবনকে কোন নির্ধারিত ফর্মুলায় ফেলা যায়না। সুতরাং, সবার জন্য একই সমাধান কার্যকর হতে পারেনা।..."""
চকবাজার, চট্টগ্রাম থেকে মোহাম্মদ লোকমান লিখেছেন,
""মেয়েদের কাজ করা অবশ্যই উচিৎ, তবে যাদের সবদিক সামাল দেবার যোগ্যতা অথবা সুযোগ নেই তারা শুধু সংসারে সময় দিলেই ভাল করবেন।"""
:যাদের যোগ্যতা বা সুযোগের সংকট আছে তারাও ঘরে বসে অনেক কিছু করতে পারেন- প্রয়োজন যথাযথ সাপোর্ট ও সহযোগিতার, তেমন পরামর্শদাতা ও ।
69463
IIUM, কুয়ালালামপুর থেকে তারিক রিদওয়ান লিখেছেন, ১০ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ০৩:৪১
চরম সত্য কথা, চরম বাস্তবতা... সমাজের এ অবস্থার জন্য পুরুষরা যেমন দায়ী, মেয়েরাও দায়ী, তবে সার্বিকভাবে আমি পুরুষের দোষই বেশি দিব... কারণ পরিবারের দায়িত্ব এদের হাতে হওয়ায় এরা ভাবে যে সারাদিন চাকুরি করে ওরা দুনিয়া উদ্ধার করে ফেলছে আর তার স্ত্রী সারাদিন বাসায় কিছুই করেনাই, "শুধুমাত্র" কিছু রান্না-বান্না করেছে, সন্তানদের স্কুল থেকে আনা-নেওয়া করেছে (কিন্তু এসকল সুশিক্ষিত গর্দভ স্বামীরা জানেনা রান্না করাটাও যে কতোটা কষ্টের কাজ)... এই যদি হয় এদেশের পুরুষদের চিন্তা-ধারা, এই যদি হয় তাদের স্ত্রীদের প্রতি তাদের ধারণা, তাহলে সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ-সম্মান থাকবে কি করে?? তখন সন্তানরা দেখে তার মায়ের প্রতি বাবার শ্রদ্ধাবোধ, আর সন্তানরাও মনে মনে এই ধারণা করে যে তাদের মা হলো একজন চাকরানী, যে সারাদিন খেটে খেটেই মরে, এর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকার দরকার নেই... আমার কাছে মনে হয়, আমাদের সমাজে আদর্শ বাবাই নেই, আদর্শ মা তো বাদই দিলাম!
69466
১০
ঢাকা থেকে জসিম উদ্দিন লিখেছেন, ১১ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ০২:৪৬
অসাধারণ একটি লেখা।

চমৎকারভাবে বাংলাদেশি নারীকে তুলে ধরেছেন।

ধন্যবাদ লেখিকাকে।
69506
১১
আবুধাবী থেকে সালমা লিখেছেন, ১১ অক্টোবর ২০১১; সন্ধ্যা ০৭:১৮
অসাধারণ,অসাধারণ,অসাধারণ
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপা, এত সুন্দর একটা লেখা উ্পহার দেওয়ার জন্য।
ভালো থাকবেন, আর এই লেখা টা সবার পরা দরকার বলে মনে করি।
69518
১২
কেন্দুয়া নেত্রকোণা থেকে আনোয়ার হুসাইন খান সোহেল লিখেছেন, ১২ অক্টোবর ২০১১; সন্ধ্যা ০৭:৩০
শ্রদ্ধেয় লেখিকা।
আপনার শেষ কথার উত্তর হচ্ছে বাংলার প্রতিটি স্থানে কি নারীর পরিপূর্ণ নিরাপত্তা আছে? কখনো কি হবে? নারী কি তার সতীত্ব রক্ষা করে সব জায়গা থেকে ফিরে আসতে পারবে? এমন অসংখ্য প্রশ্ন আসবে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে। যদি নারীর পূর্ণ নিরাপত্তা ও কর্মস্থল ভিন্ন করতে পারেন তাহলে নারীকে কর্মে পাঠাতে পারি অন্যথায় নয়। জবাবের আশায় রইলাম আপু।
69581
১৩
ক্যানাডা থেকে রেহনু্মা বিনত আনিস লিখেছেন, ১২ অক্টোবর ২০১১; রাত ১০:৫৮
যারা পড়েছেন এবং কষ্ট করে মন্তব্য করেছেন সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ

যাদের ভালো লেগেছে তাদের অনুরোধ করব প্রিয়জনদের পড়তে দিতে আর যাদের ভালো লাগেনি তাদের অনুরোধ করব পরিবারের নারীদের সময় এবং গঠনমূলক কাজের সুযোগ দিতে।
69596
১৪
্ক্যানাডা থেকে রেহনুমা বিনত আনিস লিখেছেন, ১২ অক্টোবর ২০১১; রাত ১১:৪১
নেপাল থেকে শামীম ভাইঃ ভাই, প্রথমেই মনে রাখা দরকার আমরা বিশুদ্ধ ইসলামী সমাজে বসবাস করিনা সুতরাং যেকোন আলোচনায় বস্তুবাদকে বিবেচনায় আনতে হবে এটাই স্বাভাবিক নয়কি?
পরিবারকে সময় দেয়ার জন্য একজন পুরুষ সারাদিন বাসায় থাকা জরুরী নয় বরং ইচ্ছা এবং আন্তরিকতাই যথেষ্ট। চিন্তা করে দেখুন, আপনি যে ব্যাপারগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তার জন্য কি আপনি ব্যাস্ততার মাঝেও সময় বের করে নেননা? আপনি কি মুহাম্মাদ (সা) এর চেয়েও ব্যাস্ত? তিনি কি স্ত্রীদের বাসার কাজে সহযোগিতা করতেন না নাকি তাঁদের সাথে বসে গল্প করার সময় পেতেন না?
চর্চার অভাবে মানুষ ভুলে যায় এবং ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক। আপনি নিজেই চিন্তা করে দেখুন মাস্টার্স পর্যন্ত লেখাপড়ার কতখানি আপনার মনে আছে। একজন পুরুষ স্ত্রীকে মেধার চর্চা বজায় রাখার সুযোগ করে দিলে তারই লাভ, আলাপ পরামর্শ করার জন্য একজন সঙ্গী পাওয়া যায়। নতুবা উভয়ের ইন্টেলেকচুয়াল লেভেলের ফারাক তাদের মাঝে দুরত্ব সৃষ্টি করে।
আমি কিন্তু কোথাও বলিনি গঠনমূলক কাজ বলতে কেবল চাকরী বোঝায়। আমার মেধা, যোগ্যতা এবং টাকার অভাব ছিল, নইলে আমি কখনো চাকরি করতাম না। তবে বসে থাকতাম না, এই যেমন এখন চাকরি করিনা তবে ব্লগ লিখি এবং অন্যান্য কাজ করি।
আচ্ছা, চাকরী করাই যদি একমাত্র গঠনমূলক কাজ হত তাহলে আপনি আয়শা (রা) এবং বেগম রোকেয়াকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? বলতে পারেন কেন আমাদের গৃহিনীরা সিরিয়াল দেখে সময় কাটায়, কেন তারা খাদিজা (রা) বা আসমা (রা) হয়না? স্বামীর সাহচর্যবঞ্চিত একজন স্ত্রী সারাদিন সিরিয়াল দেখা এবং গীবত করা ছাড়া আর কি কি গঠনমূলক কাজ করেন বলতে পারেন?
69599
১৫
্ক্যানাডা থেকে রেহনুমা বিনত আনিস লিখেছেন, ১২ অক্টোবর ২০১১; রাত ১১:৪৮
বাংলাদেশ থেকে আবু সাইফ এবং কুয়ালালামপুর থেকে তারিক রিদওয়ানঃ বিশেষ ধন্যবাদ
69600
১৬
ক্যানাডা থেকে রেহনুমা বিনত আনিস লিখেছেন, ১৩ অক্টোবর ২০১১; রাত ১২:০৩
নেত্রকোণা থেকে আনোয়ার হুসাইন খান সোহেল: ভাই, আপনি যদি লেখাটি ভালোভাবে পড়তেন তাহলে আমাকে এই মন্তব্যের উত্তর দিতে হতনা। লেখার কোথাও গঠনমূলক কাজ বলতে চাকরী করা বোঝানো হয়নি। কেবল নারীর মেধাগত বিকাশ, অর্থনৈতিক অধিকার এবং নৈতিক দায়িত্বর কথা মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে যাতে সে তার প্রতিভার অপচয় না করে। একজন নারী কি তার মেধা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী বাসায় কয়েকটি শিশুকে পড়াতে পারেনা, ক'খানা হাঁসমুরগী পালতে পারেনা, কোন সৃষ্টিশীল কাজ করতে পারেনা বা পাড়ার লোকজনকে নিয়ে কোন গঠনমূলক কাজ করতে পারেনা? আর সেটুকু নিরাপত্তাও যদি আপনারা দিতে না পারেন তাহলে আপনাদের দায়িত্ব কি তা আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। ধন্যবাদ।
69601
১৭
USA থেকে Afzal Khan লিখেছেন, ১৩ অক্টোবর ২০১১; সকাল ০৯:২৭
Dear writer,
Thank you for your beautiful presentation and practical explanation and no doubt lots of thing to learn and follow. Please allow me to add my understanding about the role of a male and female in a society from Islamic point of view. Please correct me if there is any honest mistakes from me.
"Oh mankind! We have created you from a male and female, and made you into nations and tribes, so that you may know each other. (Al- Hujurat--13)
"Oh Mankind! What has misled you from your Rabb, most Generous? Who created you , fashioned you perfectly, and gave you due proportion . In whatever form He willed , He put you together" (Al-Infitar-6--8).
"Woe to mankind! what has made him reject Creator? From what thing did He created him? From a clot He created him--" (Abasa-17-19)
You are absolutely right. In the above ayet Allaah (SWT) has addressed mankind with obligations and He has gifted Mankind the ability to express one's thoughts and emotions with guide lines. He (SWT)has revealed the laws to mankind and He will resurrect Mankind, account him/her and admit him/her to paradise or hell.Therefore, He has made mankind ---not men or women--- the subject of the obligations.
Allah (SWT) has created mankind, whether male or female , with a specific nature which is distinct from that of animals.The women is a human, as is the man. Allaah (SWT) has prepared both of them, in their capacity as humans, and made them live in the same society as a compliment to each other. He (SWT) has favored both of them with faculty of thought and intelligence. Again this thought and intelligence Allaah created for mankind and not exclusively for a man or woman. So our primary focus should be to understand the role of a man and woman in private and public life according to the command of Allaah (SWT). Otherwise there will be contradiction between the law of Allaah and the law of the human------
Islam already determines the actions which humans perform in their capacity as humans are permissible for each man and woman without distinction, discrimination or differentiation. Allah (SWT) based on His wisdom entrusted the custody of the children , whether sons or daughters, with the women to the exclusion of men. The Shari'ah has made the woman a mother and a housewife. However, the woman's primary role as mother and housewife does not mean she is confined to this role and prevented from pursuing other activities. Rather it means that Allaah has created the woman so that the man can fulfill his obligation towards his family which Allaah entrusted on him not on her and may obtain offspring to keep the generation grow.
"And Allaah has made for you wives of your own kind, and has made for you, from your wives, son and grandsons." (An- Nahl-72)
And among His sign is this, that He created fro you wives from among yourselves, that you may find repose in them ( Ar-- Rum--21)
However, at the same time He has created woman to be active in the public life as she is active in her private life. Thus, He has obliged her to carry Islam to man kind, seek knowl;edge with regards to the actions that are incumbent on her in her life, and He allowed her to trade, lease, delegate, and forbade her from lying, treachery and betrayal. Same way He has obliged, allowed and forbade the man from these things. Allaah gave women the right to work agriculture or industry just as she practices trade. He gave women the right to form contracts, own all type's of property and invest her wealth. Allaah also gave her right to look after her own affairs by herself, become a partner or employee, employ people, lease property and things, and undertake the rest of the societal transactions, However it is not permitted for the woman to take up position of ruling as Head of the state , his assistant, governor and mayor. My dear respected writer, Absence of Islam from the society is the mother of all misunderstanding. What you are trying to say and what I am trying to say is the same in theory and limited to our private life. People does not see in public life what you are practicing. Every women (mother) is the honor of the male. Present male dominated society using our women as commodity. Lack of our Islamic knowledge we could not convince our women that Islam honored you with dignity and prestige. So with out Islamic society fruits of Islam will not be seen in public life. We are trying our best in private life but pressure of outside is so powerful, it is very hard to hold fast. Thank you and may Allaah increase your knowledge.
69614
১৮
ঢাকা থেকে তিতির রহমান লিখেছেন, ১৩ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ১২:৫২
লেখাটার কিছু কিছু অংশ খুব ভালো হয়েছে। একটা জীবন সুন্দর-সার্থক করতে খুব বেশি কিছু কি প্রয়োজন? লেখা টা সবার পড়া উচিত বলে মনে করছি। রচয়িতা কে অনেক ধন্যবাদ।
69626
১৯
Nepal থেকে shamim লিখেছেন, ১৩ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ১২:৫৩
নেপাল থেকে শামীম ভাইঃ ভাই, প্রথমেই মনে রাখা দরকার আমরা বিশুদ্ধ ইসলামী সমাজে বসবাস করিনা সুতরাং যেকোন আলোচনায় বস্তুবাদকে বিবেচনায় আনতে হবে এটাই স্বাভাবিক নয়কি? :- আপু, কতটুকু বস্তুবাদিতা পর্যন্ত ইসলামীক দৃষ্টিভঙ্গীর আওতায় থাকে সেটা কিন্তু একটা বিবেচ্য বিষয়। আপনি কি খেয়াল করেছেন আমাদের ইসলামীক মনোভাবাপন্ন মেয়েরা চাকূরী করবে এরকম একটা গো ধরে বসে থাকে । চাকুরী করাটা কে একটা স্ট্যাটাস মনে করেন উনারা এমনকি স্বামীর যথেষ্ট পরিমান আয় রোজগার থাকার পর ও। আপনি কিছু কেইস স্টাডি দিয়েছেন, ভবিষ্যত সমস্যায় পরতে পারে এই ভেবে কাজ করা বা চাকুরী করার উপকারীতা নিয়ে। দুনিয়াতে আমাদের কে কি পাঠানোর উদ্দেশ্য এইটা যে বেশী বেশী টাকা আয় করে সুখ ভোগ করা এমনকি সেটা ইসলাম সমর্থিত পরিবেশ হোক চায় না হোক?? একটা মেয়ে যখন বাহিরে চাকুরী করে তখন কি সঙ্গসারের প্রতি দায়ীত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারে?? ছেলে, মেয়ে, শশুর শাশুড়ি, আত্বীয় এদের প্রতি কি দায়ীত্ব পালন ঠিকভাবে করতে পারে?? আপনি কি দেখেছে আমাদের দেশে বড় বড় কিছু কোম্পানী আছে যেগুলোতে রিসিপশনিষ্ট গুলো সুন্দরী মেয়েদের রাখা হয়!!, কেন একটা ছেলে কে বসানো হয় না?? কিছুদিন আগে একটা মেয়ের কথা শুনলাম, সে নাকি কল সেণ্টারে জব করতেছে, হিজাব করা একটা মেয়ে শুধু মাত্র কিছু টাকা আসবে এই ভাবে জবটা করতেছে, শুনে একটু অবাক হলাম!! এই জবটা না করলে কি না খেয়ে থাকতো মেয়েটা??

পরিবারকে সময় দেয়ার জন্য একজন পুরুষ সারাদিন বাসায় থাকা জরুরী নয় বরং ইচ্ছা এবং আন্তরিকতাই যথেষ্ট। চিন্তা করে দেখুন, আপনি যে ব্যাপারগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তার জন্য কি আপনি ব্যাস্ততার মাঝেও সময় বের করে নেননা? আপনি কি মুহাম্মাদ (সা) এর চেয়েও ব্যাস্ত? তিনি কি স্ত্রীদের বাসার কাজে সহযোগিতা করতেন না নাকি তাঁদের সাথে বসে গল্প করার সময় পেতেন না? ঃ আমার বউ যদি চাকুরী করে আমাদের যদি বাচ্চা থাকে ছোট, সেই ক্ষেত্রে আমি যদি চাকুরী করি, তাহলে আমার বউকে কি করে সাহায্য করতে পারি একটু বলবেন প্লীজ অফিস টাইমে?? আমার বাচ্চাকে সারাদিন কারো কাছে রেখে যেতেই হবে, আর কোন কি অল্টারনেটিভ আছে?? প্রয়োজন না থাকার পর ও টাকা রোজগারের জন্য বাচ্চার, সংসারের প্রতি এটা কি আদল?

চর্চার অভাবে মানুষ ভুলে যায় এবং ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক। আপনি নিজেই চিন্তা করে দেখুন মাস্টার্স পর্যন্ত লেখাপড়ার কতখানি আপনার মনে আছে। একজন পুরুষ স্ত্রীকে মেধার চর্চা বজায় রাখার সুযোগ করে দিলে তারই লাভ, আলাপ পরামর্শ করার জন্য একজন সঙ্গী পাওয়া যায়। নতুবা উভয়ের ইন্টেলেকচুয়াল লেভেলের ফারাক তাদের মাঝে দুরত্ব সৃষ্টি করে।ঃ
চাকুরী করে জ্ঞান চর্চা করার সুযোগটার চেয়ে কি চাকুরী না করে জ্ঞান চর্চার সুযোগটা কি বেশি না? আপনার কি মনে হয় ? আমাদের জন্য যে জ্ঞানটা আবশ্যক সে জ্ঞানের কোন ছিটাফোটাকি অফিসএ চাকুরি করে অর্জন করা যায়???
আমি কিন্তু কোথাও বলিনি গঠনমূলক কাজ বলতে কেবল চাকরী বোঝায়। আমার মেধা, যোগ্যতা এবং টাকার অভাব ছিল, নইলে আমি কখনো চাকরি করতাম না। তবে বসে থাকতাম না, এই যেমন এখন চাকরি করিনা তবে ব্লগ লিখি এবং অন্যান্য কাজ করি। --আমি আসলে এই মনোভাবের কথাটা বলতে চেয়েছি। এটা কয়জনের আছে এটা একটু ভেবে দেখবেন প্লীজ।

আচ্ছা, চাকরী করাই যদি একমাত্র গঠনমূলক কাজ হত তাহলে আপনি আয়শা (রা) এবং বেগম রোকেয়াকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? বলতে পারেন কেন আমাদের গৃহিনীরা সিরিয়াল দেখে সময় কাটায়, কেন তারা খাদিজা (রা) বা আসমা (রা) হয়না? স্বামীর সাহচর্যবঞ্চিত একজন স্ত্রী সারাদিন সিরিয়াল দেখা এবং গীবত করা ছাড়া আর কি কি গঠনমূলক কাজ করেন বলতে পারেন?ঃ এইসব ক্ষেত্রে একজন স্বামীকে হওয়া উচিত সচেতন, স্ত্রীর প্রতি যথেষ্ট দায়ীত্বপুর্ন হওয়া উচিত, তার জ্ঞান পিপাসু হওয়ার জন্য অনুপ্রানিত করা উচিত। একটা মানুষকে যখন আখিরাত মুখী করা যায় তখন সে যে সিরিয়াল দেখবে না, এটা কিন্তু জোর করেই বলা যায়, কি বলেন? তার মানে কিন্তু এই নয় যে চাকুরী করতে না দিলে সিরিয়াল দেখবে চাকুরি করতে দেওয়াই ভালো, এরকম যদি মানষিকতার কোন মেয়ে হয়, সে যে অফিসে অন্য কিছু করবে না তার কোন নিশ্চয়তা কোথায়? যায় হোক আমি বিশ্বাহ করি আপনি এরকম টাইপের মানষিকতার মেয়ে বা ছেলেদের নিয়ে লেখেন নাই। ধন্যবাদ আপনাকে।
69627
২০
আমিরাত থেকে নজরুল ইসলাম টিপু লিখেছেন, ১৩ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ১২:৫৭
'নারীপুরুষ নির্বিশেষে সবার একটি মূখ্য ক্যারিয়ার থাকতে হবে- জ্ঞানার্জন এবং জ্ঞান বিতরণের ক্যারিয়ার। দ্বিতীয়ত, জীবনধারণের জন্য কাজ করতে হবে বটে তবে ক্যারিয়ার যেন ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ না করে বরং ক্যারিয়ার যেন ব্যাক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কেননা, নারী বলুন আর পুরুষ বলুন, কোন মানুষই টাকা কামানোর বা ঘর সংসার সামলানোর মেশিনে রূপান্তরিত হওয়াটা বাঞ্ছনীয় নয়। প্রত্যেক মানুষের অধিকার আছে বিশ্রামের, আনন্দের, নিজের জন্য সময় ব্যয় করার। তৃতীয়ত, প্রত্যকেটি মানুষের চিন্তা করতে হবে আমাকে আল্লাহ কোন নিয়ামতটি দিয়েছেন যা দিয়ে আমি মানুষের সেবা করতে পারি'।

আপনার লিখাটি পড়েছি, খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবতার দাবী রাখে। আমাদের সমাজে নারীর জন্য সেই কাজই আছে যা পুরুষদের করেতে হয়। নারীদের কে ও কাজের মাঝে ব্যস্থ রাখাটা উত্তম, যদি সুযোগ থাকে। তবে তাদের বাধ্য করা যাবেনা। যার যত বেশী শিক্ষা তার তত বেশী দৃষ্টিভঙ্গি হবে। ফলে সময়ের সাথে সাথে সবার কাজের ধরণ ও বদলে যায়।

নতুন ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুরুষ যে কাজ করতে পারে, নারীদের পক্ষে নানা সমস্যার কারণে তা সম্ভবপর হয়ে উঠেনা। সে জন্য নারীদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক কাজ পাওয়া গেলে সে কাজে নারীদের জড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।

সকল পুরুষ যেমন কাজ করতে চায়না সকল নারীও কাজ করতে চায়না। বিপদে পড়ে নারী কাজে যোগ দেওয়াটা একটা ব্যতীক্রম। তবে বহু স্বামী আছে যারা চায় তার স্ত্রী চাকুরী করবে। এটা নিয়ে মনোমানিল্য হয়। মূলত সব ব্যাপার গুলো নির্ভর করে সমাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, নারীর যোগ্যতা-দক্ষতা, চাকুরীর পরিবেশ ও পারিবারিক সম্মতির উপর, যা আপনি বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
69628
২১
ইংল্যান্ড থেকে ভিক্টোরিয়া লিখেছেন, ১৪ অক্টোবর ২০১১; রাত ০৩:১৬
কোরআন-হাদিসের সুরা/কেরাতে নারীর ঘরে/বাইরে কাজ করার অধিকার নিয়ে অনেক তথ্যই পাওয়া যায়। নারীর সর্বাঙ্গ মোটা কাপরে ঢাকা থাকবে, বেগানা পুরুষকে মূখদর্শন করা যাবে না, পুরুষ অভিবাবক ছাড়া নারী একাকি ঘরের বাইরে যাবে না/ভ্রমন করবে না, নারীর চলাফেরা হবে নিঃশ্বব্দ, নারী কোন প্রসাধন বা সুগন্ধি ব্যবহার করবে না, সংসারের আয়-রোজগার নারীর দায়িত্ব না ..................... এ ধরনের আরো আনেক কথা। যা বর্তমান প্রজন্মের অনেকের দৃষ্টিতে একেবারেই অগ্রহনযোগ্য। আর আমার নিজের কাছেও ব্যাপারটা কেন যেন unrealistic মনে হয় । কিন্তু প্রসঙ্গ তা না, সময়ের পরিবর্তন ও জীবনের প্রয়োজন ও তাগিদে আজকের কর্মক্ষেত্রে সর্বত্র নারীর মুক্ত-স্বাধীন পদচারনা। নারী/পুরুষ সমান সনাম, অনেক ক্ষেত্রে বরং নারীরাই অগ্রগামী। এ ক্ষেত্রে ধর্মের বিধান শুধু কিতাবেই সীমাবদ্ধ, প্রতিয়মান হয়।

সুতরাং ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর কি কাজ করা উচিত/অনউচিত সে বিতর্ক এখন আর নারীর কোন সমস্যা না বরং ইসলামের সমস্যা। নারী তার পথ ইতিমধ্যেই খুঁজে বেড় করে নিয়েছে, নারী চলছে তারমত করেই । এখন ইসলামকেই স্পষ্ট করে বলতে হবে নারীর কাজ করায় কোন বাধা/নিষেধ নেই । বড় বড় হুজুর সাহেবরা এখন হয়তো মুখ রক্ষার তাগিদে নারীর উপর অর্পিত ধর্মের নির্মম নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল নিজেরাই তুলে নিতে বাধ্য হবেন। ইসলামকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য মুক্ত-স্বাধীন কর্মজীবি নারীর বিকল্প নেই ।
69656
২২
USA থেকে Afzal Khan লিখেছেন, ১৪ অক্টোবর ২০১১; রাত ০৯:৫৮
"Those who oppose Allahs order have to be warned that a calamity may strike them or a painful doom may fall upon them"--(Surah An-Nur Ayet #63).
The Qur’an is not a forged statement but a confirmation of Allah’s existing Books and a detailed explanation of everything------------------(Yusuf------Surah#12-----Ayat#111)
“O you who believe. Enter perfectly into Islam (by obeying all the rules and regulations of Islam) And follow not the footsteps of Satan. Verily. He is your open enemy-------------------(Al - Baqarah Surah #2---Ayat# 208)
And, We have sent down to you the Book the Qura'n as an exposition of Everything----- ------- ( An-Nahl Surah# 16-Ayat# 89)
Do you believe in a part of the Book and reject the rest? Then what is the recompense of those who do so among you, except humiliation in this life, and on the day of Resurrection, they will be consigned to the most grievous torment-----------(Al-Baqarah---- Surah# 2 Ayat# 85)
"Reason and experience both forbid us to expect that national morality can prevail in exclusion of religious principle"----------------------------- USA "President George Washington" --
"Our Constitution was made only for a moral and religious people. It is wholly in adequate to the government of any other" ----------------------By USA President John Adams
"Condemnation with out investigation is the highest form of ignorance" --"Albert Einstein" .
Let us argue less and focus on educating ourselves with Islam. At the end Islam does not need us rather we need Islam. Those who think we have to save Islam, in fact they are trying to propagate we have to save God (Naujubillah).
69687
২৩
USA থেকে Afzal Khan লিখেছেন, ১৪ অক্টোবর ২০১১; রাত ১০:০৫
Freedom of choice or struggle for existence?
Russia sentences Israeli to 18 years for sex trafficking---Wed, April 27, 2011, Haaretz.com-----According to the court, from 1999 to 2007, Avi Yanai and his accomplices sold hundreds of women for prostitution to Israel, Italy, Spain, Germany, Greece, the Netherlands, the United Arab Emirates and other countries.Wed, April 27, 2011An Israeli citizen was sentenced yesterday to 18 years in prison by the Moscow military court, for organizing a vast network of sex trafficking. According to the court, from 1999 to 2007, when most of the network's agents were arrested, Avi Yanai and his accomplices sold hundreds of women for prostitution to Israel, Italy, Spain, Germany, Greece, the Netherlands, the United Arab Emirates and other countries. The minimal official estimate stands at 129 women, but some of the states still investigating the network put the number at several hundred. The women were lured from Moldova, Ukraine, Russia, Belarus and Uzbekistan.
Aside from Yanai, 83 people were arrested across Europe, 14 of them in Russia. The network is suspected to have produced tens of millions of dollars in profits for its operators, and some of the women trafficked may have been murdered by the Albanian mafia.
69688
২৪
ঢাকা, বাংলাদেশ থেকে মনির হোসেন হেলালী লিখেছেন, ১৪ অক্টোবর ২০১১; রাত ১০:৪২
ভালো লেগেছে লেখাটি। তবে এখানে কেবল পুরুষকে দায়ী করলেই হবে না। অনেক নারী এমন আছেন যে, লেখা পড়ার কথা শুনলে আর ভালো লাগে না। আমি আমার স্ত্রীকে দিনে কয়েক বার জোর করে টেবিলে বসানোর চেষ্টা করেও অনেক সময় সফল হইনি।আমার মাস্টার্স শেষ আর সে ডিগ্রীর ছাত্রী। সংসারে তার তেমন কোন কাজ নেই তবুও সে পড়তে রাজি না। তার নাকি লেখা পড়া আর ভালো লাগে না। তাই বলে যে সব মেয়েরাই এমন তা বলছি না। আর সব পুরুষরাই যে নারীকে লেখা পড়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন তাও পুরোপুরি ঠিক না। দু দিকেই সমস্যা আবার সমান সম্ভাবনাও। লেখিকাকে অনেক ধন্যবাদ।
69692
২৫
ঢাকা থেকে জুলফিকার লিখেছেন, ১৬ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ০১:০৩
মেয়েদেরকে যেখানে ঘরে থাকার হুকুম দেওয়া হয়েছে। স্ত্রীদেরকে তাদের স্বামীর ঘর রক্ষণাবেক্ষণ এবং সন্তান লালন-পালনের হুকুম দেওয়া হয়েছে। সেখানে রোজগারের কথা আসে কিভাবে! হ্যাঁ যদি এমন হয় স্বামী রোজগারে অক্ষম সেখানে ভিন্নকথা। আল্লাহর আদেশ না মানার অর্থ যদি আমরা বুঝতাম তাহলে এভাবে সমাজে মহিলাদের এভাবে অবাধ বিচরন করতে দেখতামনা। আল্লাহর ফয়সালা মানিনা বলেই আমরা টাকা-গাড়ী-বাড়ীর পেছনে ছুটছি। সেজন্যই তো আমরা বিপথগামী। ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি। একঘন্টা পরে কি ঘটবে এটাই যখন বলবার যোগ্যতা আমাদের নেই, তখন আমরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করি কি করে। আল্লাহর শোকরিয়ার জন্য কতটুকু সময় আমরা ব্যয় করি! আমরা কি নিজেদের কখনো প্রশ্ন করে দেখেছি, না দেখিনি। সেই সময় কোথায় আমাদের। সকলকেই তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে একথা আমাদের ভাবা উচিৎ। আল্লাহ আমাদের সকলকেই তাঁর হুকম পালন করবার তৌফিক দান করুন। আমিন
69768
২৬
নারায়ণগঞ্জ, বাংলাদেশ। থেকে মুহাম্মাদ আবু তাহের লিখেছেন, ২২ অক্টোবর ২০১১; বিকেল ০৪:০৫
লেখাটি পড়ে মনে হল ইসলামকে কিছুটা আধুনিকায়ন করা হয়েছে, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে। মেয়েদেরকে ইসলামের মধ্যে রেখে পশ্চিমা ধাচে গড়া হয়তোবা। ইসলামের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্য পেলাম না। ভাল লাগলো লেখাটি পড়ে।
70286
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy