সুপ্রিয় পাঠক, আসসালামু আলাইকুম। প্রাচ্যের অফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নয়া খানদান কইতাছি। আমি এক চত্বর। জামার কলার ঝাঁকাইয়া কইতে পারি আমারে চেনে না এমন পোলা এই ক্যাম্পাসে নাই। কিস চত্বর আমার নাম। কলা ভবনের সামনের বট গাছ থেকে ঠিক উত্তরের গ্রীলের নিকট আমার বাড়ী। জন্ম সাল, তারিখ কিছুই মনে নাই। তয় আমার জন্মের সময় আমার পিতা-মাতা যে অবিবাহিত ছিল এইডা ডাহর করবার পারি। আবেগী এক সময়ে আমার জন্ম ভাবিয়া রোমাঞ্চিত হই। আমার ভাই বোনের সংখ্যা দিনের পর দিন বাড়তেই আছে, বাড়তেই আছে । বড় আপা মল চত্বর , ছোট ভাই হাকিম চত্বর, আরো আছে দিল চত্বর, ভবঘুরে চত্বর, উদাসি চত্বর, ডাস চক্বর ।
একবার পুরান ঢাকার দুই উদ্ভ্রান্ত যুবক-যুবতী আমার উঠানে এসে বসল। এত কাছাকাছি যে আমার কাতুকুতু লাগতাছিল। শরম ও কিছু লাগতাছিল, তয় হাইসা দিলাম যখন শুনি -পোলাডা কয় হেরে ছাড়া নাকি হেতে বাঁচবো না। ও বেটি কয় , “ তোমরা ছেলেদের বিশ্বাস করা যায় না।” তয় সত্যি কথা কী এই মাইয়াডা দুদিন আগে জিয়া হলের আনোয়ারকেও একই কথা বলেছে। কে যে কারে বিশ্বাস করে কে যে করে না তাহা আর বুঝিতে পারিনা। প্রেম মহান, প্রেম পবিত্র। রজকীনীর লাইগ্যা চন্ডিদাসে বছরের পর বছর বড়শী বাইল তয় তার মনটা বদলায় নাই। লাইলীর লাইগ্যা পাগল মজনু লাইলীর কুকুরকে চুমু দিয়েও অপেক্ষায় থেকেছে চল্লিশটা বছর। অথচ আমাগো লাইলী মজনুরা সরাসরি···দিয়াও অপেক্ষা করে না কেউ কারো জন্যে। হায়রে প্রেম, হায়রে ভালবাসা!
আমার একটা চাচাত ভাই আছে, নাম দোয়েল চত্বর। আমারে কয় হেতে নাকি পত্যেকদিন নিশিরাইতের নিশাচরদের নানান কিচ্ছা কাহিনী দেখে। তিন নেতার মাজারের পেছনেই নাকি মহাকারবার। আমি ছোট তাই সামনে কিছু কইবার পারিনা। তয় একদিন সাহস কইরা কইলাম- ভাইজান তুমি দেখ পেটের দায়ে করা দরকষাকষি, আর আমি পত্যেকদিন মাগনা মাগনা ইংরেজি, বাঙলা, হিন্দি সিনেমার চলমান টাটকা অংশ দেখি । হেতে কয় এই রকম সিনেমা নাকি আজকাল সিনেমা হলেও দেখা যায়। আমি বিশ্বাস করিনা। কেমনে করব বলেন? সিনেমায় তো বিশেষ বিশেষ সময়ে দৃশ্য কাইটা দেয়। তয় আমাগো চত্বরের সিনেমায় কোন কাটাকাটি নাই পুরোটাই দেখবার পারি হি···হি···হি···। সিনেমা হলে বিদ্যুৎ চইলা গেলে সিনেমা বন্ধ হয় আর আমাগো এখানে বিদ্যুৎ গেলে সিনেমা পুরোদমে চালু হয় হ্যাঁ··হ্যাঁ··হ্যাঁ।
একদিন বটতলায় এক অনুষ্ঠানে আমেনা নামে এক ছাত্রী চমৎকার একটা গান গেয়েছিলো-“বালিকা তোমার প্রেমের পদ্ম দিওনা এমন কাউকে” গানটা আমার ভীষণ ভাল লেগেছিলো, একদম খাঁটি কথা। তবে ভাল লাগেনি “তুমি বরুনা হলে হবো আমি সুনীল” গানটা । বলবেন, কেন? সত্যি কথার ভাত নাই ভাই , তবুও কই ,মনে রাইখেন···
মিঠামিঠা কথার মিঠাই প্রেম, মিঠাই খাইলেই খতম “গেম”।
একদিন রাত দেড়টার দিকে আমার চত্বরে এলো আমিনা । গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে ভিজল আর কাঁদল মন ভরে। মনটা আমার হু হু কইরা কাইদা উঠল। পত্যেকদিন আমিনা একটা ছেলের হাত ধরে আসত, গল্প করত, হাসি মুখে চলে যেত। মিঠাই কথার মোহে প্রেম দিয়েছিলো-বাসের হেলপারকে। শুনেছি আমিনা আত্নহত্যা করেছে। দুকূল হারিয়ে শেষে নিজেকে আবিস্কার করে কবর মাঝে। হারিয়ে যায় সুবাশিত গোলাপ। হারিয়ে যায় সুন্দর আগামী। এমনি করে হাজারো গোলাপ হারিয়ে যাবার নিরব সাক্ষী আমি। ফেরাতে পারিনি সত্য ও সুন্দরের পথে। কিসে আমার অহংকার? সৌভাগ্যের কিস এঁকে দিতে পারিনি আমেনার কপালে, এঁকেছি কলঙ্কের তিলক। তবে কিসে আমি কিস চত্বর ? আমি হলাম হাজারো আমেনার হারিয়ে যাওয়া ভালবাসার মিস চত্বর।