রবিবার, ২৩ মাঘ ১৪১৯; ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২; রাত ০৮:৪৪ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
ছদ্ম বাকশালী ফন্দি আর সেনানেতৃত্বের বিপাক (২৫/০১/২০১২)
সরকারের সর্ষের মধ্যে ভূত (২০/০১/২০১২)
রাজনৈতিক মীমাংসা কিংবা তৃতীয় শক্তি (১৩/০১/২০১২)
বিরোধী দলনেতা প্রধানমন্ত্রীকে রাজনৈতিক মীমাংসার সময় বেঁধে দিলেন (১১/০১/২০১২)
নয়া ইংরেজি সালের তিনটি কুলক্ষণ (০৯/০১/২০১২)
রঙ্গতামাশা করে বুঝ দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন মন্ত্রী-উপদেষ্টারা (০৪/০১/২০১২)
অর্থনীতি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ধাঁধা (২৬/১২/২০১১)
স্বাধীনতা রক্ষায় নয়া মক্তিযুদ্ধের ডাক (২৪/১২/২০১১)
বিজয় দিবসের সুসংবাদ ও দুঃসংবাদ (১৯/১২/২০১১)
সরকারের অর্থসঙ্কটের গভীরতা আর ঢাকা ভাগের তামাশা (১৪/১২/২০১১)
সরকারের সাফল্য দাবি এবং বাস্তবতা (১২/১২/২০১১)
সঙ্কট মোকাবেলায় প্রয়োজন জাতীয় ঐকমত্য (০৬/১২/২০১১)
নগর ভাগ- অর্থনীতির হরিলুটের ভাগ (০৫/১২/২০১১)
টিপাইমুখ বাঁধ প্রতিরোধে জাতীয় ঐকমত্য (২৮/১১/২০১১)
টিপাইমুখ আর তিস্তা নিয়ে গোলকধাঁধা (২৩/১১/২০১১)
শেয়ারবাজার বাঁচাতে ব্যাংকিং বিভ্রাট দেখা দেবে কি? (২১/১১/২০১১)
ক্ষমতার মসনদে দিনবদলের হাতছানি (১৬/১১/২০১১)
রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে আকস্মিক পটপরিবর্তনের সাবুদ (০২/১১/২০১১)
নির্বাচন বয়কটের রোলিং স্টোন গড়াতে শুরু করেছে (৩১/১০/২০১১)
দুরাচার সংস্কৃতি ও ক্ষমতার অপপ্রয়োগ (২৬/১০/২০১১)
কুৎসা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি (২৪/১০/২০১১)
কর্তৃত্ববাদী শাসকচক্রের সাঁড়াশি অভিযান (১৯/১০/২০১১)
বিশ্বব্যবস্থার সংকট ও অপ্রস্তুত বাংলাদেশ (১৭/১০/২০১১)
কর্তৃত্ববাদী শাসকচক্রের সাঁড়াশি অভিযান (১২/১০/২০১১)
পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির বিড়ম্বনা (১০/১০/২০১১)
জনমর্দনে শাসকচক্রের সাঁড়াশি অভিযান-২ (০৫/১০/২০১১)
রাজনৈতিক সংকটের ন যযৌ ন তস্থৌ অবস্থান (০৩/১০/২০১১)
কর্তৃত্ববাদী শাসকচক্রের আর্থরাজনৈতিক সাঁড়াশি অভিযান (২৮/০৯/২০১১)
ডুবছে হাসিনা-মনমোহন যৌথ বিবৃতির নির্দেশ (২৬/০৯/২০১১)
ঢাকায় মনমোহন এবং চীনের শ্বেতপত্র (২১/০৯/২০১১)
আগের লেখা
964


ছদ্ম বাকশালী ফন্দি আর সেনানেতৃত্বের বিপাক

সাদেক খান

আজ ২৫ জানুয়ারি। এ দেশে ঘৃণিত একনায়কত্ববাদী শাসনব্যবস্থা বাকশালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান, যার অবর্তমানে তার নামেই মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে; তার ব্যক্তিত্বের কাছে মাথা হেঁট করে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ একরকম বিনা বিতর্কে তাকে আজীবন রাষ্ট্রপতি করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরেছিল। একটা খুদে সেনাবিদ্রোহে নিহত সেই আজীবন রাষ্ট্রপতির মৃত্যু ঘটেছিল। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন বিদ্রোহীদের মনোনীত তারই অন্যতম সহযোগী ও সিনিয়র মন্ত্রী খোন্দকার মোশতাক আহমেদ। মুজিব সরকারের মন্ত্রী আর বাকশালে বিলুপ্ত আওয়ামী লীগের কিছু প্রভাবশালী নেতা নিয়েই গঠিত হয়েছিল রাষ্ট্রপতি মোশতাকের মন্ত্রিসভা, যারা বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করার সঙ্কল্প নিয়ে বাকশাল প্রক্রিয়াকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করেছিল। তারপর তৎকালীন সেনাবাহিনীর সিজিএস বা সেনাপ্রধান কার্যালয়ের কর্মাধ্যক্ষের বিদ্রোহে সেনাপ্রধানের বন্দী অবস্থায় রাষ্ট্রপতি মোশতাক ক্ষমতাচ্যুত হন, খুদে বিদ্রোহীরা দেশত্যাগী হয়; তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সায়েমের হাতে ক্ষমতা দিয়ে মোশতাক সরে দাঁড়ান। সেনাপ্রধানকে ছাড়িয়ে আনতে দ্বিতীয় সারির সেনা নেতৃত্বে সাধারণ সৈন্যরা পাল্টা বিদ্রোহ করে, তাদের সাথে যোগ দেয় জনসাধারণ। সেই সিপাহি জনতা বিপ্লবের ফলে সমাজদেহ থেকেই বলা চলে বাকশালের অবশিষ্ট পরগাছা ক্রমে অবলুপ্ত হয়ে যায়। রাষ্ট্রপতি সায়েম সেনাপ্রধান (পরবর্তীকালে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি) জিয়ার কাছে ক্ষমতা হস্থান্তরের পর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বহুদলীয় গণতন্ত্রের কার্যকর পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঘটে। কিন্তু পরবর্তী সেনাপ্রধান জাঁদরেল এরশাদ দমিত বিদ্রোহীদের হাতে শহীদ জিয়ার মৃত্যুর পর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাত্তারের কাছ থেকে ১৯৮২ সালে ক্ষমতা কেড়ে নিলে আবারো গণতন্ত্র বন্দী হয়। একটা নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের ধারা প্রবর্তনে প্রয়াসী হন স্বৈরাচারী এরশাদ, কিন্তু গণধিক্কারে নাগরিক অভ্যুত্থানে তার পতন ঘটে। বহুদলীয় গণতন্ত্রচর্চায় ১৯৯১ সাল থেকে পনেরো বছর দোষারোপ আর সঙ্ঘাতের রাজনীতির মেরুকরণ ঘটেছে, অনুদার গণতন্ত্রের চরম অসহিষ্ণুতার শিকার হয়েছে সামাজিক শান্তি ও নৈতিকতা, ধনবাদী অর্থনীতির বিকাশ ঘটলেও ক্ষমতাশ্রয়ী কৃপাভোগী আর মুৎসুদ্দি পুঁজি রাজনীতির চরম দুর্বৃত্তায়ন ঘটিয়েছে। তারপর ক্ষমতার অপব্যবহার আর দুর্নীতির কলুষমুক্ত গণতন্ত্র উদ্ধারের নামে দুই বছর সামরিক সমর্থনপুষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অবসান ঘটেছে ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে। বিপুল বিজয় লাভ করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। পরাজিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট প্রশাসনিক কারসাজির অভিযোগ তুললেও নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিয়েছে।
সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও বিপুল জোটশক্তি লাভ করে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোতে প্রবলভাবে দলীয়করণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিরোধী দলের অভিযোগ। জনজীবনেও চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জবরদখল, ধর্ষণ ও নির্যাতনপ্রিয় আওয়ামী ক্যাডারদের প্রতি নিদারুণ বিরূপ প্রতিক্রিয়া বর্তেছে। মামলা-হামলায় সদাবিব্রত বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। ক্যাঙ্গারু কোর্টের সমতুল্য অস্বচ্ছ একপেশে বিচারপ্রক্রিয়ায় যুদ্ধাপরাধের সন্দেহভাজন বলে বিনা জামিনে কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে চারদলীয় জোটের কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের নেতাকে। অন্যদের মাথায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে নানা ধরনের ফৌজদারি মামলা। তিন বছরের মাথায় এসে নৈরাজ্য আর অপশাসনের লক্ষণগুলো এতই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে ক্ষমতাসীনদের মধ্যেই কেউ কেউ সমালোচনামুখর হয়ে উঠেছেন। দাতাগোষ্ঠী সরকারের উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে। শেয়ার কেলেঙ্কারি, ডলার সঙ্কট, পুঁজিপাচার, সরকারের ব্যাংক ঋণের বোঝা ইত্যাদি অব্যবস্থায় শিল্পোৎপাদন বিকাশরুদ্ধ, কৃষক পণ্যের দাম পাচ্ছেন না অথচ খাদ্যমূল্যসহ দ্রব্যমূল্য স্ফীতি জনসমাজকে পঙ্গু করে দিয়েছে। গণবিক্ষোভের অব্যর্থ বহিঃপ্রকাশ ঘটছে বিচ্ছিন্ন নানা মিছিলে, অবরোধে আর বিএনপির নেতৃত্বে বর্ধিত বহুদলীয় জোটের রোডমার্চ ও সমাবেশগুলোতে বাংলাদেশে চলমান প্রশাসনিক বৈকল্য, অর্থনৈতিক দুরবস্থা আর বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতশক্তির কায়েম করা ‘বধ্যভূমি’ হঠাতে ক্ষমতাসীনদের ব্যর্থতা বা ঔদাসীন্য আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে।
এমন অবস্থায় আওয়ামী লীগ নীতিনির্ধারকেরা একটা ছদ্ম বাকশাল কায়েমেরও ছক কেটেছেন বলে বিরোধী জোটের তরফে বিলক্ষণ হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করা হয়েছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের মুখোশ বজায় রাখার লক্ষ্যে জাঁদরেল এরশাদকে ‘পোষা’ বিরোধী দলনেতা সাজিয়ে আওয়ামী লীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা আর শেখ হাসিনার পারিবারিক অন্দরমহলে কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার চাবি তালাবদ্ধ রাখতে একটা সাজানো নির্বাচনের নীলনকশা সেই ছকের প্রথম ধাপ। সেই নীলনকশার প্রতিরোধে তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রাখার দাবিকেই প্রধান দাবি হিসেবে খাড়া করে বিরোধী জোট গণ-আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে মাঠে নেমেছে।
কিন্তু বিরোধী জোটকে তাক লাগিয়ে দিয়ে সেনা সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন বছরের বিস্ময় হিসেবে ঘোষণা এসেছে : ‘নির্বাচিত সরকারের উচ্ছেদকল্পে একটা সশস্ত্র বিদ্রোহের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে সেনা নেতৃত্ব।’ লিখিত বক্তব্যে সেনাসদর মুখপাত্র বলেছেন : ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাঁধে ভর করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে অতীতে বিভিন্ন অপশক্তি রাজনৈতিক সুবিধা লাভ করেছে কিংবা ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু সাংগঠনিকভাবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ঘটনার বদনামের দায়ভার বহন করছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাগতভাবে দক্ষ ও সুশৃঙ্খল সেনাসদস্যদের বক্তব্য এই যে, আমরা আর কোনো ধরনের দায়ভার আমাদের সংগঠনের কাঁধে নিতে চাই না।’ আরো বলা হয়েছে : ‘সরকার উৎখাত ও দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে ব্যাহত করার অপপ্রয়াস ব্যর্র্থ হয়েছে। কিছু প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকের ইন্ধনে ধর্মান্ধ সাবেক ও বর্তমান কিছু সেনাকর্মকর্তা এ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল এহসান ইউসুফ ও চাকরিচ্যুত মেজর জাকিরকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীতে এ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সাথে সরাসরি জড়িত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক (জিয়া) ও হংকং প্রবাসী ইশরাক আহমেদ। মেজর জিয়া বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনীতে কর্মরত ১৪ থেকে ১৬ জন কর্মকর্তা এ ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। তাদের সেনাসদরের লগ এরিয়ায় নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অন্য দিকে এ ঘৃণ্য চক্রান্তের সাথে জড়িত সেনাকর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন করতে এরই মধ্যে একটি তদন্ত আদালত গঠন করেছে সেনাসদর দফতর। ওই তদন্তে দোষী প্রমাণিত সেনাকর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সেনা আইনে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ঘটনাটি স্বভাবতই আন্তর্জাতিক মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত সংবাদ শিরোনামে এসেছে। নয়াদিল্লি টেলিভিশন বলেছে : ভারতবিরোধী একটা সেনাসদস্য ‘গ্রুপ’ ওই ক্যু-দেতার চেষ্টা করেছে। ওই গ্রুপটির ধারণা, নয়াদিল্লির সাথে ঢাকার সম্পর্ক বেশি রকম ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে : অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় জড়িতদের কী কারণে ধর্মীয় উগ্রপন্থী বলে বর্ণনা করা হচ্ছে তা পরিষ্কার নয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ভারতের কয়েকটি পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে জল্পনাকল্পনা আর রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট প্রচারের ধুম পড়ে গেছে। যেমন- কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় অপ্রকাশিত সূত্রে মন্তব্য : “ভারত মনে করছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গতকালের ‘ব্যর্থ’ সামরিক অভ্যুত্থানের আসল লক্ষ্য ছিল নয়াদিল্লি। হাসিনা সরকার আসার পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে মৈত্রীর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাকে ভেস্তে দেয়াটাই এই সেনা অভ্যুত্থানের লক্ষ্য। দুই দেশের গোয়েন্দারাই রিপোর্ট দিয়েছেন, এই লক্ষ্যে হিজবুত তাহরীর, জামায়াতে ইসলামী ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি একজোট হয়ে কাজ করছে। গোটা ঘটনার মাথা হিসেবে উঠে আসছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের নামও।”
প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব লিখিত প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের হীন উদ্দেশ্যে একটি স্পর্শকাতর ঘটনাকে ব্যবহার করতে চাইছে। সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপপ্রয়াসের অংশ হিসেবে তারা ঘটনার বিবরণের সাথে বিরোধী দলের দিকে ইঙ্গিত করার নির্দেশনা দিয়েছে। সেনাসদরের সংবাদ সম্মেলনে এমন কিছু মন্তব্য চলে এসেছে, যেগুলো রাজনৈতিক রঙে রঞ্জিত। কিছু কটাক্ষমূলক মন্তব্য ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রচারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ‘সরকার মহাসঙ্কটে পড়েছে। তাই গত ডিসেম্বরে সংঘটিত একটি পুরনো কাহিনীর অসম্পূর্ণ প্রচার করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, জনগণের দৃষ্টিকে অন্য খাতে প্রবাহিত করা।’
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্য : ‘বিরোধী দলের নেতা (বেগম জিয়া) আগেই ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার পতনের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। তার লক্ষণ তো দেখা গেল। জনগণের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস নেই বলেই তারা ভিন্ন পথে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। সময়মতো ষড়যন্ত্র ধরতে পারায় সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ। এতে তারাও বেঁচে গেছে, দেশও বেঁচে গেছে।’ ভারত ও বাংলাদেশের কিছু বিশেষজ্ঞকে উদ্ধৃত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলস টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করাসংক্রান্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাষ্যটি সামরিক বাহিনী থেকে সরকারবিরোধীদের সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা বলে একটি মহলের ধারণা। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে। সামরিক বাহিনী এটা যথাযথভাবে সামাল দিতে না পারলে আগামীতে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে।
সেনাসদরে ঘোষিত ওই ভাষ্য নিয়ে জনমনে কোনো উৎসাহের লক্ষণ নেই, বরং সেনাবাহিনীর মধ্যে অনির্দিষ্ট ১৫-১৬ জন মধ্যম বা দ্বিতীয় সারির সেনাকর্মকর্তা বিদ্রোহী মনোভাবাপন্ন বলে সন্দেহভাজন, তাদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে; তদন্তের আগেই ঘটা করে এই আগাম ঘোষণা সেনা শৃঙ্খলার অভাবের লক্ষণ ও দৌর্বল্য প্রকাশ করে উসকানির কারণ হয়ে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক চিন্তাবিদ।
বিরোধী মহল থেকে বলা হচ্ছে, ছদ্ম বাকশাল পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে ফেলল। রাজনীতিবিমুখ ব্যক্তিরা বলছেন, গণতন্ত্রের নামে গণতন্ত্রকে হত্যা করার নানা নজির রয়েছে; এই ঘটনার লক্ষণগুলোও একই ধারার। রাজনীতি করে সেনা অস্থিরতার মীমাংসার চেষ্টা বিপজ্জনক, তা নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্কের সূত্রপাত আরো বিপজ্জনক।
লেখক : বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট
[সূত্র : নয়াদিগন্ত-২৫/০১/১২]
http://www.sonarbangladesh.com/articles/SadekKhan
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
Dhaka থেকে NURUL ISLAM লিখেছেন, ২৫ জানুয়ারি ২০১২; সকাল ১১:১৬
আমাদের দেশে যেন ভূত পেত্নির আচর করেছে! বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই বি ডি আর এর ঘটনা ঘটলো।শেয়ার বাজার থেকে লাখো কোটি টাকা যেন লাপাত্তা হয়ে গেল। অর্থ নীতির অবস্হা খুবই গুরুতর।দেশ আসলে কোন দিকে যাচেছ! জাতির ভাগ্যে কি আছে আল্লাহ পাকই ভাল জানেন।
77193
ধানমন্ডি থেকে কাকন লিখেছেন, ২৫ জানুয়ারি ২০১২; সন্ধ্যা ০৭:০৩
মেঘ দেখে করিসে ভয় আরালে তার সূর্য হাসে। আ:লীগ বাংলাদেশের কাল মেঘ শুধু মাত্র সংখ্যালঘুদের ও প্রতিবেশি একটি
দেশের সহায়তায় ঠিকে আছে দেশবাসীকে সংঘঠিত ভাবে আগায় আসতে হবে। আ:লীগকে বলতে চাই বাঘ আসলো বলা বালকের নাটক কইরেন না অবশ্য আপনাদের কাছে বালকের নাটক ছাড়া বেশী কিছু আশা করা যায় না।
সবাইকে ধন্যবাদ।
77234
London থেকে Jewel লিখেছেন, ২৫ জানুয়ারি ২০১২; সন্ধ্যা ০৭:৩১
BNP ER DALAL AI THODER LEKHA PORE MANUSH CHI CHI DAI SALA BEIMAN KHALEDA ZIA K TEL MARO!
77237
Sweden থেকে Shaheen লিখেছেন, ২৫ জানুয়ারি ২০১২; রাত ০৮:৪০
Sir,
Thank you sir for your very informative and outstanding column.It ha now clear to everybody that bloody bakalist wanted to have a fish in the troubled water as people are queing for BNP due to their baksalism and so called totallitarian.
77245
Virginia,U.S.A থেকে Wounded Tiger লিখেছেন, ২৫ জানুয়ারি ২০১২; রাত ১০:১১
Thanks a lot for writing the true and courageous column.When all the institutions of Bagladesh are captive in the hands of RAW/MOSSAD and their paid agents,we understand how dangerous and difficult to express the opinion against the regime.The regime is trying to silence the true voices by threat,intimidation,assault and sues.Even the so called law maker viciously attacked and broke the hand of a female T.V.reporter who was doing her civic duty.Lately,after the martyrs of 57 very patriotic,experienced officers at Peel khana massacre,the recent army drama is another ploy of RAW/MOSSAD to destroy the army.It is time Bagladeshis must wake up and join hands with the patriotic forces to defeat the evil forces.
77253
স্বদেশ থেকে স্বদেশী লিখেছেন, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২; সন্ধ্যা ০৭:৪৯
আওয়ামীলীগ জানে ফেয়ার নির্বাচনের মাধ্যমে কোনদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এদেশের মানুষ তাদের হাড়ে হাড়ে চিনে। তাই ষড়যন্ত্র অার ইন্ডিয়া হলো তাদের একমাত্র ভরসা। ইন্ডিয়ার হুকুমেই ৫৭জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাকে তারা হত্যা করেছে। তাদের নির্দেশেই জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছে। তাদের নির্দেশেই আরো কিছু সেনা কর্মকর্তাকে সরানোর জন্য সাজানো সেনা অভ্যত্থানের নাটক তৈয়ার করেছে। আরো কতকিছু যে করবে তার কোন শেষ নেই। পাগলা ককুরের মতো হয়ে পড়েছে। কারণ তারা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছে যে, এ মহুর্তে নির্বাচন হলে ৫/৬টি সিট পেতে পারে।
77876
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy