মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ২২ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৭:২৪ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

এইসব অসংলগ্ন বকার অর্থ কি দাঁড়ায়!

সাঈদ তারেক

পায়ের তলা থেকে যখন মাটি সড়ে যায় সরকার নাকি তখন অত্যাচার নির্যাতনের পথ বেছে নেয়। সরকারের দায়িত্বশীল লোকজন যখন অসংলগ্ন বকতে থাকে তখন তাকে কি বলা যায়!

সাম্প্রতিককালে ব্যাপকভাবে আলোচিত বিষয়গুলো হচ্ছে যোগাযোগমন্ত্রীর অযোগ্যতা এবং তার দূর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংকসহ দাতা ও সহায়ক সংস্থাগুলোর পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন স্থগিত, কোনরূপ চুক্তি বা ফি ছাড়াই বাংলাদেশকে ভারতের করিডোর হিসেবে ব্যবহার, বেগম খালেদা জিয়ার দেশব্যপী রোড মার্চ এবং নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। কিন্তু এসব বিষয়ে খোদ সরকার প্রধান থেকে শুরু করে ইদানীং যেসব মন্তব্য টিকা টিপ্পনী করা হচ্ছে তাতে সামগ্রিকভাবে কারও কারও মানসিক সুস্থতা নিয়েই সন্দেহ দেখা দিয়েছে! সরকার এবং সরকারি দলের অনেক রথি মহারথির বাণী বচন অবশ্য বেশ কিছু দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। হতে পারে বাতাস তারা টের পেয়ে গেছেন। সামনে ওয়ান ইলেভেনের পদধ্বনী, কখন কোথায় গিয়ে উঠতে হয়! অবস্থা দাঁড়িয়েছে, সরকার প্রধান একাই বলে চলেছেন, কিছু সারিন্দা মাঝে সাঝে কীর্তনে ধূয়া ধরছেন। এই সারিন্দা পার্টির কথার অবশ্য কেউ পাত্তা দেয়না কিন্তু খোদ সরকার প্রধান যখন সব বিষয়েই আগ বাড়িয়ে নোক্তা দেন তখন তা না ধরে উপায় কি

গত মাসের শেষের দিকে বেগম জিয়া ঢাকায় সমাবেশ ডাকলেন। হয়ে গেল তা মহা সমাবেশ। সরকার তো বটেই যারা আয়োজন করেছিল তারাও তাজ্জব বনে গেল। বেগম জিয়ার জনসভায় এত মানুষ হবে অনেকের ধারণাই ছিল না। সরকার কি বুঝলো তারাই ভাল জানে তবে যারা বোঝার বুঝে গেল দেশবাসী আর পছন্দ করছে না সরকারের এইসব খেয়ালীপনা, যথেচ্ছাচার। যদি গণতন্ত্র মানি বলতে হবে এই সমাবেশে উপচেপড়া জনসমাগম ছিল সরকারের নীতি কর্মসূচীর প্রতি সাধারণ মানুষের অনাস্থারই প্রকাশ। কিন্তু সরকার বুঝলো উল্টো। সরকারের শনৈ: শনৈ: সাফল্যে নাকি বিরোধীদের গা জ্বালা ধরে গেছে!

সিলেটমুখী রোড মার্চ এবং পরের দিন সিলেট শহরে মানুষের অভূতপূর্ব ঢল দেখে যে কোন সরকারেরই মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার কথা। আমাদের সরকার প্রধান বললেন দেশের উন্নয়ন দেখে খালেদা জিয়ার নাকি মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তিনি পাগল হয়ে গেছেন। মানুষ শান্তিতে থাকলে নাকি বেগম জিয়ার অশান্তি বেড়ে যায়! বুঝুন ঠ্যালা। কোন শান্তিতে আছে দেশের মানুষ! তবে হ্যাঁ, শান্তিতে আছে ক্ষমতাসীন দল এবং সরকারের লোকজন। তাদের কোন চিন্তা নাই। আয় উন্নতির ভাবনা নাই। বাজারে জিনিসের দাম রকেট গতিতে উর্ধ্বমূখী হলেও কোন টেনশন নাই। এদেরকে বাসে বাদুরঝোলা হতে হয় না, লোড শেডিংয়ে হাত পাখা চালাতে হয় না, যানজটে নাকাল হতে হয়না। এদের শান্তি দেখে যদি বেগম জিয়ার মনে অশান্তি বাড়ে মানুষ কি তা দোষের মনে করবে? এখন প্রধানমন্ত্রী যে বললেন খালেদা জিয়া পাগল হয়ে গেছেন, মানুষ যদি উল্টোটা বলে!

উত্তরাঞ্চলমূখী রোড মার্চ শুরু হলো প্রধানমন্ত্রী নেমে গেলেন গাড়ীর নম্বর টুকতে। বললেন, এইসব গাড়ীর মালিক কারা তাদেরকে খুঁজে বের করা হবে। কিভাবে তারা গাড়ীর মালিক হয়েছে খতিয়ে দেখা হবে। জিন্দেগীতে কোনদিন শুনেছেন কেউ আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণ বাদ দিয়ে পুলিশ মিছিলের গাড়ীর নম্বর টুকে বেড়াচ্ছে! আমাদের আজকের প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলে থাকার সময় এমন অসংখ্য গাড়ী মিছিল করেছেন, এখনও যখন তিনি সড়কপথে কোথাও যান কত শত গাড়ী তার সফরসঙ্গী হয়! এসব গাড়ীর নম্বর টুকে কেউ কোন দিন কারও বাপ দাদার হদিস বের করতে পেরেছে! কে না জানে আজ আওয়ামী লীগের লোকেরা যেভাবে গাড়ীর মালিক হয়ে চলেছেন কাল বিএনপির লোকেরা একই কায়দায় গাড়ী বাড়ী ব্যবসা বাণিজ্যের মালিক বনেছেন। ভেবে দেখুন কে কার নম্বর টোকে!

আসলে নম্বর টোকাটুকি কিছু না, নম্বর নিয়ে তদন্ত হবে বলে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদেকে ভয় দেখানো হয়েছিল যাতে বেগম জিয়ার রোড মার্চে গাড়ীর বহর কমে। হুমকিটা দেয়া হয়েছিল সিলেট রোড মার্চের পরই। কিন্তু দেখা গেল গাড়ীর সংখ্যা কমার বদলে রাজশাহীর রোডমার্চে বেড়ে গেছে। তাহলে কোথায় রইলো প্রধানমন্ত্রীর হুমকী! কে তা পরোয়া করছে! নিজের ছাত্রলীগ- তারা করছে কোন ব্যাপারে? যুবলীগ করছে? কেউ না। আসলে কেউই শোনে না প্রধানমন্ত্রীর কথা। উনার কথা উনি বলে যান। ‘কামেলিরা কাম’ করে যায় নিজেদের মত করে।

বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করলো হাল আমলের যোগাযোগমন্ত্রীর দূর্নীতির অভিযোগে। প্রধানমন্ত্রী বললেন, তার মন্ত্রী নয় বিএনপি আমলের মন্ত্রীর দূর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক গোস্বা হয়েছে। পত্র পত্রিকা টিভি নিউজের কল্যাণে সারা দেশ তো বটেই দুনিয়ার লোক জানে কার জন্য পদ্মা সেতু ঠেকে গেল, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দিলেন অদ্ভূত খবর। বুঝলাম না তিনি নিজে কি পত্রপত্রিকা পড়েন না টিভি নিউজ দেখেন না, না মনে করেন পাবলিক এখনও সেই এনালগেই রয়ে গেছে, বিদ্যুৎ থাকেনা বলে টিভি নিউজটাও দেখে না! আরও এক অদ্ভূত তথ্য দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করতে নোবেলজয়ী ড: ইউনুস নাকি বিশ্বব্যাংকে লবিং করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখে এ খবর শুনে চমকে উঠেছিলাম, সরকার প্রধান যখন বলেছেন নিশ্চয়ই ফালতু কথা বলেন নাই। খটকাই লেগেছিল। কিন্তু দু’দিন পরই ড: ইউনুস নিজে সবিনয় প্রতিবাদ জানিয়ে বললেন প্রধানমন্ত্রীর দেয়া তথ্য সঠিক নয়। আশ্বস্ত হলাম, ড: ইউনুস যখন বলেছেন সত্যিই বলেছেন। যাহোক, কাল জনাব অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধের পেছনে ড: ইউনুসের কোন হাত নাই। এখন কোথায় রইলো প্রধানমন্ত্রীর মুখ!

গত সপ্তাহে আকষ্মিকভাবে বেগম জিয়াকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বসলেন। হঠাৎ কি দরকারটা পড়েছিল এই আক্রমণের বুঝলাম না। বললেন বেগম জিয়া তার নানা নানীর নাম বলতে পারবেন না। জিয়াউর রহমানের বাবা মা’র কবর কোথায় তাও তিনি জানতে চাইলেন। সেই সঙ্গে এটা বলতেও ভুললেন না তিনি তার চৌদ্দ পুরুষের নাম বলতে পারেন। বুঝলাম প্রধানমন্ত্রীর চৌদ্দপুরুষের নাম ঠিকানা তার মুখস্ত কিন্তু হঠাৎ করে বেগম জিয়ার নানা নানীর নাম জানা দরকার হয়ে পড়লো কেন! বেগম জিয়া অবশ্য তা না জানিয়ে বলে দিয়েছেন, এইসব কুৎসিত কথার জবাব দিতে তার রুচীতে বাধে। কোথায় রইলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা! এইসব বেহুদা কথা বলে তিনি কি মানুষের কাছে মহান হলেন না ছোট হলেন! খুবই আফসোস হচ্ছে এইসব ছোটখাট ভালমন্দগুলো বুঝিয়ে দেয়ার মত কেউ নাই প্রধানমন্ত্রীর আশেপাশে!

গোলাম মাওলা রনি সরকার দলীয় এক এমপি। মাঝে মাঝে টিভি টক শো’তে দেখা যায়। সেদিন সৈয়দ আবুল হোসেন সাহেবের যোগাযোগমন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে একটি ঘটনা বয়ান করেছেন। গল্পটা আর এখানে উল্লেখ করছি না, আমার ধারণা পত্র পত্রিকা ইউটিভির বদৌলতে সারা দেশের মানুষ তো বটেই সারা বিশ্বের যে কোনে বাঙ্গালী আছে প্রত্যেকে সে ভিডিও ক্লিপটি অবলোকন করেছেন। তাজ্জব বনে গেছি এ কোন যুগে বাস করছি আমরা! সেই হবুচন্দ্র রাজার কায় কারবার। রাজা বললেন দৌড় লাগাও, দৌড়ে যে ফার্ষ্ট হবে তাকে আমি মন্ত্রী বানাবো। আর সত্যি সত্যি দৌড়ে জিতে এক গবুচন্দ্র মন্ত্রী হয়েও গেলেন! প্রথমটায় মনে হয়েছিল রনি বুঝি বানিয়ে বলেছে। বেচারার না শিরোচ্ছেদের হুকুম হয়ে যায়। ওমা, সেদিন সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী গোমর ফাঁস করে দেয়ার জন্য রনিকে এক হাত নিয়েছেন ঠিকই, ঘটনা অস্বীকার করার পরিবর্তে সংশোধন করে দিয়েছেন। বলেছেন লোকেশনটা কোন লেকের পাড় ছিল না, দৌড় প্রতিযোগীতাটা হয়েছিল একটা প্লে গ্রাউন্ডে। তার মানে ঘটনা সত্য! বুঝুন তাহলে বাংলাদেশে ডিজিটাল গণতন্ত্রের নমুনা, মন্ত্রী হওয়ার তরিকা!

প্রধানমন্ত্রী সেদিন রনিকে ধোলাই দিলেন, বললেন রাস্তা থেকে টুকিয়ে এনে এমপি বানিয়েছেন, শ্বশুর বিএনপি করে, সব বেঈমান- কিন্তু সেই সাথে পার্থকে টেনে আনলেন কেন বুঝলাম না। পার্থ প্রধানমন্ত্রীর ফুফাতো বোনের ছেলে, শেখ মনি শেখ সেলিমের আপন ভাগিনা, প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলালের মেয়ের জামাই। এরশাদ সরকারের মন্ত্রী মরহুম নাজিউর রহমানের ছেলে পার্থ বিজেপি করে। সে সুবাদে চার দলের একদল। বেগম জিয়ার সাথে এক মঞ্চে বক্তৃতা করে। সেই পার্থের সাথে রনির ব্যবসায়িক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বললেন, তার পরিবারের সাথে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে কাউকে ছাড়া হবে না। কি বোঝালেন কথাটা বলে! কে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তার পরিবারের সাথে। রনি না পার্থ? কিভাবে হলো বিশ্বাসঘাতকতা! রনি গল্পটা বলে দিয়েছে বলে, না পার্থ আওয়ামী লীগ করে না বলে!

এর মধ্যে আর এক নাটক হলো নারায়নগঞ্জ সিটি নির্বাচনে দলীয় সমর্থন নিয়ে। দুই হেভিওয়েট প্রার্থী। দুইজনই আওয়ামী লীগ। সমর্থন না দিলেও দুই জনের একজন জিতবেন। তারপরও চেষ্টা হলো একজনকে বসিয়ে দিতে কারণ ভয় ছিল ত্রিমুখী লড়াইয়ে না বিএনপির লোক বেরিয়ে যায়। কিন্তু চেষ্টা সফল হলো না। দুই প্রার্থীই রয়ে গেলেন মাঠে। দল থেকে বলা হলো কাউকেই সমর্থন দেয়া হবেনা। এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল, কিন্তু দুই দিনেই হাওয়া ঘুরে গেল। কেন্দ্রীয় তিন নেতা ঢাকা থেকে গিয়ে এক প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নেমে গেলেন। রব উঠলো আওয়ামী লীগ একজনকে সমর্থন দিয়ে দিয়েছে। দলের মুখপাত্র তড়িঘড়ি ব্যাখ্যা দিয়ে বললেন, তিন নেতা গেছে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুবাদে, এটা কোন দলীয় সমর্থন নয়। তিন দিন পরে কি এক যাদুর কাঠির স্পর্শে এই নেতাই বললেন উল্টো কথা। শামীম ওসমান পেলেন দলের সমর্থন! শামীমের যে ক্রেডেন্সিয়াল তাতে তার মানুষের ভোট পাওয়ার কথা নয়, লোকের ধারণা দলের সমর্থন না পেলেও জিতবেন আইভি। আইভিও তো আওয়ামী লীগের, সে জিতলে অসুবিধা কি? শামীমের পক্ষে দলের সমর্থন, তার অর্থ দল চাইছে আইভি নয় শামীম জিতুক। আইভি সম্পর্কে ধারণা সে গণমানুষের নেতা, শামীম সম্পর্কে প্রচারণা সে সন্ত্রাসের গড ফাদার। তার অর্থ কি এই দাঁড়ায় না নারায়নগঞ্জের নেতা হিসেবে সরকার একজন গড ফাদারকে বেছে নিয়েছে! এখন যদি দলের সমর্থন নিয়েও হেরে যায় শামীম! প্রধানমন্ত্রী নাকি প্রথম দিকে আইভির পক্ষেই ছিলেন। দুষ্ট লোকে বলে, কে বা কারা নাকি বুঝিয়েছে আইভির যে জনপ্রিয়তা এখনই না ঠেকালে কোন দিন সে ‘মমতা’ হয়ে উঠতে পারে! এই কপাল পোড়ে আইভির।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনটা হচ্ছে না সরকারী প্রার্থী হেরে যাবে সেই ভয়ে। সরকারের লোক জিতবে না অতএব সে কারণে নির্বাচনই বন্ধ, এই হচ্ছে আমাদের দেশে গণতন্ত্র! সেই ডাকসু নির্বাচনের মত। স্বৈরাচারের আমলে যাও দুই একবার হয়েছে, ’৯১-এ গণতন্ত্র চালু হবার পর থেকে ২০ বছরে এর নামগন্ধ নাই। নির্বাচনকে যে ‘গণতন্ত্রের’ কেন এত ভয়!

সিটি কর্পোরেশনে মাথা ব্যথা হয়ে বসে আছে বিএনপির মেয়র। মাথাব্যথা উপশমের কোন উপায় যখন নাই তখন আর কি করা, মাথাই কেটে ফেলো! সেই হবুচন্দ্র রাজার কায় কারবার আর কি! বিগত জোট সরকারের আমলের পূর্তমন্ত্রী একবার বলেছিলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ পানি সোয়ারেজের পরিসেবা অপর্যাপ্ত অতএব রাজধানী শহরে আর হাই রাইজ বিল্ডিং নির্মাণ করতে দেয়া হবে না! হাল আমলের বিজ্ঞ মন্ত্রীসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঢাকাকে দুই ভাগ করে দুইটা সিটি কর্পোরেশন করা হবে। নগরবাসী নাকি আরও অধিক সেবা পাবে। কি সেবাটা পাবে ঢাল নাই তলোয়ার নাই এই নিধিরাম সরদারের কাছ থেকে! দু:খ হয় এইসব নীতি নির্ধারকদের জন্য, সিটি কর্পোরেশন বা সিটি গভর্ণমেন্ট কি জিনিস এরা তা জানেও না বোঝেও না। পাবলিকের পয়সায় বিদেশের বড় বড় শহরে গিয়ে মৌজ করে বেড়ায়, একবার খোঁজ করে দেখেওনা সেই সব শহরের নগর ব্যবস্থাপনা কিভাবে ফাংশান করে।

লেটেস্ট হচ্ছে, বিশ্বব্যাংক টাকা না দিলেও সরকার বিকল্প ব্যবস্থা বা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করবে। নির্মাণ করবে মানে কাজ শুরু করবে। তার অর্থ তবুও আবুল হোসেনকে মন্ত্রীত্ব থেকে খারিজ করা যাবে না। গয়েশ্বর রায় বলেছেন আবুল হোসেনকে বাদ দেয়ার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নাই। আল্লাহই জানেন কোথায় এই লোকের ক্ষমতার খুঁটি! বিশ্বব্যাংককে বাদ দেয়া যাবে তবুও আবুল হোসেনকে বাদ দেয়া যাবেনা। নতুনভাবে অর্থ সংস্থান করে যে নির্মাণ কাজ শুরু হবে আবুল হোসেন তখনও থাকবে। অর্থাৎ পদ্মা সেতুর কাজ আবুল হোসেনকে দিয়েই করানো হবে। বা এ সেতু নির্মাণ কাজের সাথে আবুল হোসেনকে জড়িত থাকতেই হবে। এর রহস্য অবশ্য এখন জানা যাবে না। যারা জানেন তারা প্রকাশ্যে বলতে পারবেন না। ‘খোলে আম’ জানা এবং বলা যাবে এ সরকার মতা থেকে চলে গেলে। না জানি কোন কিস্সা কাহিনী আবার শুনি সে সময়!

সন্দেহ নাই সাম্প্রতিককালে সরকারের নানা কর্মকান্ড বিশেষ করে সরকার প্রধানের বক্তৃতা বিবৃতি টিকা টিপ্পনী মন্তব্য ভাষণ মানুষের মাঝে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, আবার মাঝে মাঝে হাস্যরসেরও খোরাক যোগাচ্ছে। স্বৈরাচার চরিত্রের তথাকথিত গণতন্ত্র সরকার যত দিন যায় তত জনপ্রিয়তা হারায়, যত পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায় তত অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে, ব্যর্থতা যত প্রকট হয় তত তারা বেসামাল হয়, কথাবার্তা আচার আচরণে অসংলগ্নতা প্রকাশ পায়, এটাই নিয়ম। তাহলে কি আমাদের গণতন্ত্র সরকারের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে! বিরোধী দলের ওপর অত্যাচার নির্যাতন তো চলছেই, হাল সময়ে হঠাৎ করে এইসব অসংলগ্ন কথাবার্তা প্রলাপ বকা কেন!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন, আপনার সাম্প্রতিককালের এইসব অসংলগ্ন কথাবার্তায় মানুষের কি ধারণা হতে চলেছে আপনার সম্পর্কে।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/SaeedTarek
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
কোনাপাড়া থেকে মুনির লিখেছেন, ০১ নভেম্বর ২০১১; সকাল ০৬:৩৯
চমৎকার, লিখে যান, ধন্যবাদ।
71011
usa থেকে এমদাদ লিখেছেন, ০৩ জানুয়ারি ২০১২; দুপুর ০১:১৬
Tariq Saheb, sundor likhchen. likhgulo chaliye zan. ami to likhte pari na, kintu egulo amar o hazar manuser moner kotha. Apnar arekti likha ami khuzchhi. ektu zanaben kothay ami ta pabo. Amar mone hoy eta apnar likha. Arekti muktizuddha kobe hobe.(আরেকটি মুক্তইযুদ্ধ কবে হবে।) Thank you.
75286
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy