এক্সটারনাল ব্যবসাঃ প্রবাসীদের উদ্যোগ বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ
সাইদুর রহমান রুমী
এক্সটারনাল ব্যবসা বলতে যেসব ব্যবসায় বাংলাদেশী প্রবাসীরা সরাসরি অবদান রাখতে পারে যে সকল ব্যবসাগুলো বুঝাচ্ছে, এর মাঝে সামপ্রতিক কালে কল সেন্টার, পর্যটন ও বায়িং হাউজ ব্যবসার কথা ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসছে এসব ব্যবসার প্রায় সব রকম পরিবেশ বিদ্যমান থাকলেও শুধুমাত্র উদ্যোগের অভাবে আমরা দিনকে দিন পিছিয়ে যাচ্ছি। আমাদের পাশ্ববর্তী ভারত, পাকিস-ান, শ্রীলংকা সহ নিকটবর্তী দেশগুলো এসব সেক্টরে বহু আগেই তাদের অবস্থান করে নিয়েছে।
বাংলাদেশে আমাদের প্রিয় স্বদেশ ভূমির প্রতি ভালবাসা দেশপ্রেম এবং বর্ধিষ্ণু জনগনের বিপুল কর্মস\'ান সৃষ্টির নূন্যতম দায়বদ্ধতা নিয়ে চেষ্টা করলে অবশ্যই আমরা সফল হবো।
কল সেন্টারঃ ইতিমধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশন কলসেন্টারের জন্য লাইসেন্স উন্মুক্ত করেছে এবং ৩টি ক্যাটাগরিতে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদান করেছে, এখন প্রয়োজন বিদেশ হতে কাজ নিযে আসা বা কাজ করার মত সফলতা বিকাশে প্রচারনা চালানো। এগুলোর জন্য প্রয়োজন দেশপ্রেমের ডাম্বিকতায় প্রবাসীদের আন-রিক প্রচেষ্ঠা। তাদের এ চেষ্টা এ সেক্টরে বাংলাদেশের প্রবেশ দ্রুত নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
পর্যটনঃ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পর্যটন একটি শিল্প হিসেবে বিস্তৃতি লাভ করেছে। এটি এখন বৈদেশিক মুদ্রা আহরনের বিশাল একটি খাত। পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশ এখন এ শিল্পের প্রতি মনোযোগী হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের জন্য এ সেক্টরটি আরেকটি বিশেষ কারনে গুরুত্বপূর্ণ আর তা হলো যেহেতু আমাদের বিভিন্ন ইস্যুতে একটু ইমেজ সমস্যা রয়েছে- এর মাধ্যমে তা অনেকাংশে কাটিয়ে উঠা সম্ভব। এ উদ্যোগে আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। পাকিস্তান সমাপ্ত ২০০৭ সালকে পর্যটন বছর হিসেবে ঘোষনা করেছিল। নেপালে গত বছর প্রায় ৬০ লাখ পর্যটক গিয়েছিল এর মাঝে প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশী। ভারতে ৩ বছরে পর্যটক আগমনের সংখ্যা গড়ে ২৫ হতে ৩০ লাখ। অথচ ছয় ঋতুর বৈচিত্র্যময়ী সবুজ শস্য শ্যামলা সুন্দরবন-পাহাড়ের এক অপরূপ সৌন্দর্যের দেশ বাংলাদেশে পর্যটক আগমন আশাব্যঞ্চক নয়। একটু আন্তরিক উদ্যোগ-ইমেজ বিল্পআপ প্রোগ্রাম নিলেই এর ব্যতিক্রম হতে পারে। পর্যটকের আগমন বাড়লে এমনিতেই অবকাঠামো প্রয়োজনের তাগিদে তৈরী হয়ে যাবে।
আমাদের কি নেই? রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম বালুময় সমুদ্র সৈকত। সাগর কন্যা কুয়াকাটা, যেখানে রয়েছে সুর্যাস- -সূর্যোদয় দেখার বিরল সুযোগ। বৌদ্ধ সংস্কৃতির ঐতিহ্য বগুড়ার মহাস্থানগড়, প্রাচীন বহু নিদর্শনের মাঝে আহসান মঞ্জিল, লালবাগের কেল্লা, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিটিয়ে থাকা বহু মুসলিম স্থাপনা- নিদর্শন। কুমিল্লার শালবন বৌদ্ধ বিহার, সিলেটের জাফলং, নোয়াখালীর নিঝুম দ্বীপ, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, সী-বীচ, কাপ্তাই লেইক, প্রবাল দ্বীপ, সেন্টমার্টিন, মহেশখালী, সোনাদিয়া ও কুতুবদিয়া, আকাশ-পাহাড়-মাটির এক অবিনস- লীলাভূমি রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, বিশ্বের অন্যতম ম্যানগ্রোব ও রয়েল বেঙ্গল টাইগার সমৃদ্ধ সুন্দরবন। ছোট্ট এ দেশে পর্যটন আকর্ষনের সবরকম উপকরন থাকলেও আমরা এ শিল্পে ব্যর্থতার পরিয়ে দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে ইমেজ বৃদ্ধি, নিরাপত্তা, অথিতিয়তা ও উপরোক্ত স্পর্ট গুলোর আকর্ষনীয় প্রচারনা বৃদ্ধিতে প্রবাসীরা বিরাট অবদান রাখতে পারে। যে যেখানে যে অবস্থানে যে দেশেই কাজ করছে সেখানকার বিদেশীদের বাংলাদেশ ভ্রমনে উদ্ধুদ্ধ করতে পারেন।
বায়িং হাউজঃ রফতানী বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আহরনের আকেরটি হাতিয়ার হচ্ছে আমদানী কারক দেশগুলোতে সক্ষমতা প্রমান। এক্ষেত্রে প্রবাসীদেরও একটি বিরাট ভূমিকা রয়েছে। দেশে বা বিদেশে বায়িং প্রতিষ্ঠা করে বা এতে সহায়তা করে দেশী পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার ধরার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। বছরের পর বছর দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণীর চাকুরীজিবি নাগরিক হিসেবে বসবান না করে বরং দেশীয় ব্যবসা সমপ্রসারন করে গৌরবোজ্জলভাবে মর্যাদা নিয়ে ভূমিকা পালন করতে পারেন প্রবাসীরা।
সামপ্রতিক বছর গুলোতে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক তন\' পাটা-পাটজাত দ্রব্য ও চামড়া-চামরাজাত পন্য রপ্তানীতে ঘুরে দাড়িয়েছে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ বন্ধব সামগ্রী ব্যবহার সচেতনতার সাথে এটির কদর বাড়ছে। এছাড়া তৈরী পেষাক তরকারী-শাকসব্জী, সফটওয়্যার চিংড়ি, সিরামিক প্রসাধনী সহ বিভিন্ন অপ্রচলিত পণ্য বাজারজাত করনের বিশাল সম্ভবনা রয়েছে।
এসব সেক্টরে প্রবাসীদের সম্মিলিত বা একক প্রচেষ্ঠা ছোট্ট এ মুসলিম দেশটিকে পৃথিবীর মানচিত্রে একটি মর্যাদার আসনে-পৌছে দিবে। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ বেকার জনগোষ্ঠীর মাঝে সৃষ্টি করবে নতুন আশার আলো-কোটি কোটি হাত হয়ে উঠবে কর্মচঞ্চল বাংলাদেশ এর সবুজ পাসপোর্টটি বিদেশে এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশনে হবে ভার-মর্যাদাশীল।