বেগম জিয়ার বাড়ি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও এরশাদের বক্তব্যের পর্যালোচনা
সাজিদ মাহমুদ
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদের সভায় বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটির বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। এর আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনটি ছেড়ে দেবার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর পর বেগম জিয়া কিংবা বিএনপির কারো সাথে কোনোপ্রকার কথা না বলেই অকস্মাৎ বাড়িটির বরাদ্দ বাতিল করা হল।
সংসদে ওই বাড়ি এবং তৎসংলগ্ন নয় বিঘা জমিকে ঘিরে একটি মহান ইচ্ছের প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জানিয়েছেন, ওই জমিটিতে পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শহীদ সেনাপরিবারগুলোর পুনর্বাসন করার পরিকল্পনার কথা। তার ভাষায় প্রক্রিয়াটা হচ্ছে, পরিবারপ্রতি দু’টো করে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়া হবে। একটি ওই পরিবারটির আবাসনের জন্যে আর অপরটি ভাড়া দিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্যে। নিঃসন্দেহে এটি একটি মহতী উদ্যোগ। তবে সমস্যা হলো, এ প্রশংসিত উদ্যোগটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী যে বাড়িটি নির্বাচন করেছেন সেখানে আগে থেকেই একজন নিহত রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনাপ্রধানের বিধবা স্ত্রী পুনর্বাসিত ছিলেন। পুনর্বাসিত একটি পরিবারকে সরিয়ে সেই স্থানটিতে অন্য কাউকে পুনর্বাসন করবার চিন্তা বোধ হয় ভালো কিছুর আড়ালে মন্দ কিছুর ইঙ্গিতই বহন করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, সেই বাড়িটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল আরেক সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান কর্তৃক আদিষ্ট হয়েই। সুতরাং, এমন একটি বাড়িতে পিলখানায় নিহত সেনাকর্মকর্তাদের পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করলে তা স্বয়ং ঐ পরিবারগুলোই কতটা সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করবে তা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
এদিকে এরশাদ কর্তৃক খালেদা জিয়াকে সেই বাড়িটি বরাদ্দ দেয়ার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে এরশাদকে ব্যঙ্গ করে বলেছেন, “ভাবী সাহেবাকে (বেগম খালেদা জিয়া) খুশি করার জন্যেই তিনি নাকি সেই বাড়িটি তাকে বরাদ্দ দিয়েছিলেন”! তবে শেখ হাসিনার এই মন্তব্যে এরশাদ সাহেবের তেমন একটা খারাপ লেগেছে বলে মনে হয় না। এর পরপরই রাজনৈতিক আনুগত্য দেখাতে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সুর মিলিয়ে কথা বলেছেন। মিডিয়াকে জানিয়েছেন, সহানুভূতির দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি তখন বেগম জিয়াকে দু’টি বাড়ি প্রদান করেছিলেন। একটি তার থাকার জন্য আর অপরটি ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য। এখন যেহেতু বেগম খালেদা জিয়ার অনেক অর্থ, সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাড়িটি তার ছেড়ে দেয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাথে সাথে তিনি এটিও জানিয়েছেন, বেগম জিয়া রাজনীতি করবেন জানলে তিনি সেই বাড়িটি তাকে বরাদ্দ দিতেন না।
এরশাদ সাহেবের বক্তব্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনাকর্মকর্তাদের পরিবারগুলোকে যে উদ্দেশ্যে দু’টি করে বাড়ি বরাদ্দ দেবার চিন্তা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেই একই রকম উদ্দেশ্য ও চিন্তা থেকেই এরশাদ সাহেবও সেসময় দু’টি বাড়ি বরাদ্দ দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়াকে। শহীদ জিয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাবাহিনী প্রধান ছিলেন বলে তার বিধবা স্ত্রীকে মর্যাদার দৃষ্টিকোণ থেকে দু’টি বাড়ি প্রদান করা হয়েছিল, যা শেখ হাসিনার বর্তমান এই পুনর্বাসননীতির সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তাসত্ত্বেও সরকার বেগম জিয়ার দু’টি বাড়ির প্রয়োজনীয়তা অবজ্ঞা করল।
“বেগম জিয়া রাজনীতি করবেন জানলে বাড়িটি তাকে বরাদ্দ দেয়া হত না” মর্মে যে বক্তব্য দিয়েছেন এরশাদ সাহেব, সেটি তার সঙ্কীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশমাত্র। রাজনীতি করা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কেউ সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করলে তার থেকে সহানুভূতি উঠিয়ে নিতে হবে এই তত্ত্ব তিনি কোথায় পেলেন? তাছাড়া সেনানিবাস এলাকায় থেকে বেগম জিয়া একাই তো রাজনীতি করছেন। এমন অনেক রাজনীতিবিদদের উদাহরণ দেয়া যাবে, যারা সেনানিবাস এলাকায় থাকেন। যেমন, মেজর জেনারেল (অবঃ) কে এম সফিউল্লাহ, মেজর (অবঃ) সুবিদ আলী ভূঁইয়া এমপি, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ ইবরাহিম ভূঁইয়া, বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী লে• কর্নেল (অবঃ) ফারুক খান, কর্নেল অলি আহমদ এবং বিএনপির হান্নান শাহ সহ প্রচুর রাজনীতিবিদ এই ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকেই রাজনীতি করছেন। সুতরাং, রাজনীতিবিদ হিসেবে খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টে থাকার ব্যাপারটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় না।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তার ছোট বোন শেখ রেহানার জন্যে বরাদ্দকৃত জমি সেনাপরিবারগুলোর পুনর্বাসনকার্যে প্রদান করার ঘোষণা দিয়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে শেখ হাসিনার বড় মানসিকতার পরিচায়ক। তবে শেখ রেহানার জমির সাথে বেগম জিয়ার জমিটির তুলনা করা ঠিক হয় নি। কারণ, শেখ রেহানার ওই জমিটি তাকে দেয়া হয়েছিল গত আ’লীগ আমলে। সেসময় বঙ্গবন্ধু-পরিবারের সম্মান ও মর্যাদা ছিল রাষ্ট্রীয়ভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। ফলে এটি অন্তত স্পষ্ট, কোনো বিশেষ সহানুভূতি থেকে তাকে সেসময় ওই জমিটি প্রদান করা হয়নি। অপরদিকে বেগম জিয়ার বাড়িটি তাকে দেয়া হয়েছিল তার জীবনের কঠিনতম মুহূর্তে। শহীদ জিয়া কিংবা বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে সেটি অধিগ্রহণ করা হয়নি, যেমনটি করা হয়েছে শেখ রেহানার জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে।
সুতরাং, শেখ রেহানার জমি ছেড়ে দেবার ঘোষণার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে তার বাড়িটি ছেড়ে দেবার ব্যাপারে কোনোপ্রকার মানসিক চাপ আরোপ করার চেষ্টা করাটাও ছিল নিতান্তই অযৌক্তিক ও হাস্যকর।
ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রচুর জমি পতিত থাকা সত্ত্বেও বেগম জিয়ার বাড়ি ও তৎসংলগ্ন জমির প্রতি সরকারের টার্গেট এবং অবশেষে জমিটির বরাদ্দ বাতিল করার মধ্য দিয়ে সরকার তার ক্ষমতার অপব্যবহার করল। সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা যদি তাদের এই হঠকারিতার শক্তি হয়ে থাকে, তবে জাতির সামনে আগামীতে অনেক বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।
It's quite clear political game.Government should disclosed fear investigation about
Bdr mutiny.Otherwise people in Bangladesh rise for Justice.
373
৪
canada থেকে sheikh M লিখেছেন,
১১ এপ্রিল ২০০৯; সকাল ১০:৫৪
Thanks for good article. One day,People in Bangladesh Bring Them for justice.
388
৫
Bahrain থেকে Mohammad Mostafa Nur Mohammad লিখেছেন,
২৭ এপ্রিল ২০০৯; সন্ধ্যা ০৬:০১
Its a political game to hide the facts of BDR mutinity. All new agendas are to serve the same purpose and others. Waliur Rahman and the groups are the paid agents of the benificiaries of 11th January (1/11)of 2007.
696
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: