বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; সকাল ১১:৫৮ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

আব্দুল মান্নান সৈয়দ স্মরণে

সাজজাদ হোসাইন খান

চুয়াত্তরে তাঁর সাথে পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা। তাঁর লেখালেখির জগতে প্রবেশ করেছিলাম এর অনেক আগেই। আবদুল মান্নান সৈয়দ পরাবাস্তব কবি এবং দুর্বোদ্ধ লেখক হিসেবে তিনি তাঁর অবস্থানকে একটা আলাদা উপত্যকায় দাঁড় করিয়ে ফেলেছিলেন ইতোমধ্যে। প্রতিভার প্রখরতা আর সাধনা-মমত্ববোধ সাহিত্যামোদিদের তাঁর প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে বাধ্য করেছিল। মান্নান সৈয়দের উপস্থাপনের কৌশল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের, ভিন্ন মাত্রার। যে কারণে পাঠকের মুগ্ধতা ছিল তাঁর প্রতি। তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার ধারক। কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সমালোচক, গল্পকার, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, সম্পাদক, অভিনেতা, কী ছিলেন না তিনি। প্রতিটি অঙ্গনেই মান্নান সৈয়দ ছিলেন প্রথম কাতারের। নজরুলগবেষক হিসেবে অনন্য। কবি জীবনানন্দ দাশের পুনর্জন্মতো মান্নান সৈয়দের হাতেই। রবীন্দ্রনাথ, মানিক বন্দোপাধ্যায়, ফররুখ আহমদকে নিয়ে লিখতে পারতেন, বলতে পারতেন অবিরল। তাঁর জানাশোনার ভুবন ছিল বিশাল। তিনি বলতেন এদেশে কতিপয় লোক রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে রাজনীতি করে। কিন্তু তাঁর সাহিত্য ব্যাপারে ওরা নিশ্চুপ। অজ্ঞতা থেকেই এমন মানসিকতার উদ্ভব। তিনি বলতেন রবীন্দ্রনাথকে আমার মতো কজনে পাঠ করেছে? তাই দেখা যেতো নজরুলবার্ষিকীতে প্রধান বক্তা মান্নান সৈয়দ, রবীন্দ্রবার্ষিকীতে প্রধান উপস্থাপক বা মূল প্রবন্ধ পাঠকও মান্নান সৈয়দ। জীবনানন্দ-ফররুখ বা মানিকের সভা-সেমিনারেও শিরোমণি মান্নান সৈয়দ। এ দৃশ্য থেকেই আন্দাজ করা যায়, তাঁর পড়াশোনার ব্যাপকতা কতটা বিস্তীর্ণ ছিল। যেকোন তুচ্ছ বিষয়েও মান্নান সৈয়দ বলতে পারতেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এই যে বলার ক্ষমতা, অর্জন করতে হয়েছে অধ্যয়নের প্রতি ব্যাপক অভিনিবেশের কারণে। যা ছিল মান্নান সৈয়দে ষোলআনা উপস্থিত। তাছাড়া কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ ছিলেন সাহিত্যিক বিভাজনের বাইরে। এই নীচু মানসিকতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তিনি দলমত নির্বিশেষে সব পত্রিকায় লিখতেন, সবার সাথে মিশতেন। তিনি ছিলেন উদারচিত্ত মানুষ। তাঁর কথা ছিল ‘মতান্তর থাকতেই পারে, মনান্তর হবে কেন'? আমাদের সমাজে কতিপয় লোক আছে যারা সাহিত্যকেও বিভাজিত করতে চায়। তারা দলের নিরিখে সাহিত্য বিচার করে। আসলে এই শ্রেণীর লোক সত্যসন্ধ লেখকের যেমন শত্রু, ওরা সাহিত্যেরও দুশমন। কল্যাণকামী সাহিত্য কোন বিশেষ দলের চিন্তা-চেতনাকে ধারণ করে না। সাহিত্যের অবস্থান দলের ঊর্ধ্বে, সর্ব প্রকার সংকীর্ণতার বাইরে। বলতে দ্বিধা নেই মান্নান সৈয়দ ছিলেন সর্বজনগ্রাহ্য এক সাহিত্যসাধক। সমাজ সচেতন একজন লেখক, ঐতিহ্যপ্রিয় বিদ্বজন।

জগন্নাথে এমএ ক্লাসের ছাত্র থাকাকালীন সময় মান্নান সৈয়দের সাথে একান্তভাবে মেশার সুযোগ পেয়েছিলাম। যে মেলবন্ধন তাঁর ইন্তিকালের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত অটুট ছিল। আমি ছিলাম তাঁর প্রিয় ছাত্রদের একজন। তিনি ছিলেন বাংলা বিভাগের শিক্ষক। আর আমি সে বিভাগের ছাত্র। আমাদের ছন্দের ক্লাস নিতেন তিনি। পাঠদানের কৌশলটি ছিল চমৎকার। ক্লাস চলাকালীন সময় কোন প্রকার গুঞ্জন প্রশ্রয় পেত না। আবিষ্ট মনে তাঁর প্রতি মনোযোগী হতো সবাই। লেখালেখির অভ্যাস থাকার কারণে মান্নান সৈয়দের জীবন-জিজ্ঞাসার সাথে কখন যে যুক্ত হয়ে পড়েছিলাম বুঝতে পারিনি। এই হৃদ্যতা বিযুক্ত হয়নি তাঁর শেষদিন অবধি। তাঁর প্রতিটি বাসায়, প্রতিটি কর্মস্থলে আমার গতায়াত ছিল অবাধ। তিনি যখন নজরুল ইনস্টিটিউটে, প্রায়ই ফোন করতেন, আমাকে বলতেন, চলে এসো, আজ দুপুরে একসাথে খাবো। অথবা তিনি বলতেন, অফিসে আছোতো, আমি আসছি। তিনি তাঁর খাবার সাথে রাখতেন। অসুস্থতার পর বাইরের খাবার গ্রহণ করতেন না। আমার এখানে বসে বেগ থেকে খাবার বের করতেন এবং আমার জন্য হোটেল থেকে খাবার আনাতেন, আমাকে মূল্য দিতে বারণ করতেন। এমন অনেকদিনই করেছেন তিনি। সংগ্রামসাহিত্যে প্রকাশিত তাঁর বহু লেখাই আমার কক্ষে বসে শেষ করেছেন। কোন কোনটি সম্পূর্ণটাই এখানে বসে লেখা।

মাস ছয়েক আগে সংগ্রামসাহিত্যে প্রকাশিত মান্নান সৈয়দের শেষ লেখাটিও চা পান করতে করতেই সমাপ্ত করেছিলেন। সেটি ছিল তাঁর শিক্ষকজীবনের স্মৃতির এক ঝলক। তিনি বলতেন, তুমিতো শুধু আমার ছাত্রই নও আমার বন্ধুও বটে। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত কথা, সংসারের কথা কারো কাছে প্রকাশ করতেন না। এসব ব্যাপারে কেউ জিজ্ঞেস করলে বিরক্ত হতেন, কোন কোন সময় ক্ষেপে যেতেন। কিন্তু তিনি তার মনোবেদনা-আনন্দ অনেক কিছুই আমার সাথে শেয়ার করতেন। তিনি তাঁর মোবাইল নম্বর কাউকে দিতেন না। সৌভাগ্যবান যে দু'একজন জানতো তাদের মধ্যে আমিও ছিলাম একজন। বাসায় গেলে ভাবীকে ডেকে বলতেন এই রানু, সাজজাদ এসেছে, ওকে মিষ্টি দাও। তিনি জানতেন আমি মিষ্টি পছন্দ করি। তিনি যখন গেজেটিয়ারে কাজ করতেন তখন তার কাছে গেলে গ্রিন রোডের দক্ষিণ মাথায় একটা মিষ্টির দোকান ছিল আমাকে সেখানে নিয়ে যেতেন তিনি। তার হৃদয়ের এই উষ্ণতা আমাকে আপ্লুত করেছে বরাবর। আমিও শিক্ষকের প্রতি যতটা বিনীত হওয়া প্রয়োজন তার সবটাই ঢালতে চেষ্টা করেছি। আমার অসুস্থতার সময় তিনি দেখতে এসেছিলেন মিরপুরের বাসায়। আরও একবার উপস্থিত ছিলেন একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে। তাঁর একমাত্র মেয়ে জিনানের বিয়েতে দাওয়াত দিতে সংগ্রামে এসেছিলেন। আমাকে টেবিলে না পেয়ে একটি চিরকুট রেখে গিয়েছিলেন, তাতে লেখা ছিল ‘ব্যক্তিগত অতি জরুরি, সাজজাদ, আজ সন্ধ্যেবেলা সপরিবারে তুমি ‘সাজান কমিউনিটি সেন্টার' (সোহাগ কমিউনিটি সেন্টার ও পাসপোর্ট অফিসের মাঝখানে) অবশ্যই আসবে। কার্ডদ্রষ্টব্য। আবদুল মান্নান সৈয়দ ৩/৩/৯২।' গত বছর আমার সাহিত্যকর্ম নিয়ে তিনি ‘কালের ছায়া' শিরোনামে একটি লেখা লিখেছিলেন। কবি মান্নান সৈয়দের এই লেখাটিকে আমি তার স্নেহের পরশ বলেই মনে করি। স্মৃতি সতত বেদনার। স্যারের সাথে আমার স্মৃতির অন্ত নেই। গত পঁয়ত্রিশ-ছত্রিশ বছরের স্মৃতি কি এত অল্প সময়ে ব্যক্ত করা সম্ভব?

‘সাজজাদ কেমন আছ', স্যারের এই বাক্যটি আমার কানে আটকে আছে। হয়তো আরও বহুদিন বাজবে। গত তিন-চার মাস প্রায় প্রতিদিন আমাকে ফোন করতেন। কোন কোন সময় দু'বার। কথা বলতেন নদীর ঢেউয়ের মতো। পনর-বিশ মিনিটের আগে টেলিফোন রাখতেন না। বিষয় অধিকাংশ সময়ই সাহিত্য, লেখালেখি টুকটাক ব্যক্তিগত। স্যারের একটা অভ্যাস ছিল তার কোন লেখা প্রকাশ পেলেই আমাকে ফোন করে বলা অমুক পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাটা পড়েছ? না পড়ে থাকলে এখনি পড়ে নাও, আদেশ করতেন। আরে পড়াশোনা না করলে লিখবে কি। আমারও অভ্যাস ছিল আবদুল মান্নান সৈয়দের কোন লেখা ছাপা হলেই তা পাঠ করা। মাস কয়েক আগে ফোন করে জানালেন ‘গীতাঞ্জলি' নিয়ে তার একখানা প্রবন্ধ প্রকাশ পেয়েছে, একটি দৈনিকের সাহিত্যপৃষ্ঠায়, আমি যেন লেখাটি সত্বর পাঠ করি। আরও জানালেন লেখাটিতে প্রচুর নতুন তথ্য আছে। মান্নান সৈয়দের লেখায় নতুন তথ্য থাকা তো স্বাভাবিক কথার এক ফাঁকে জানালাম স্যার আমার সংগ্রহে ‘গীতাঞ্জলি'র প্রথম মুদ্রণটি রয়েছে, ডাব্লু বি ইয়েটসের ভূমিকাসহ ১৯১২ সালের। মনে হলো তিনি লাফিয়ে উঠেছেন। জবাব এলো ‘বলো কি! তাহলে তো তোমার বাসায় একদিন আসতে হবে। ফোনআড্ডা চলেছিল অনেক সময় ধরে। তখনি তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন বাংলাসাহিত্যের চারটি কাব্যগ্রন্থ নিয়ে সহসা একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখবেন, মনে মনে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শরীর-স্বাস্থ্য ভাল থাকলে ঈদের পর পরই শুরু করবেন।

এই চারটি কাব্যগ্রন্থই পুত হয়েছে ধর্মীয় অনুভবকে আশ্রয় করে। তার মতে, গ্রন্থগুলো বাংলাসাহিত্যের টার্নিংপয়েন্ট, মাইলস্টোন। কাব্যগুলো তিনি সাজিয়ে ছিলেন এভাবে- কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি' কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘মরুভাস্কর' কবি ফররুখ আহমদের সীরাজাম মুনিরা'-এবং চতুর্থ গ্রন্থটির শিরোনাম আবদুল মান্নান সৈয়দের ‘সকল প্রশংসা তাঁর'। কবি গবেষক আবদুল মান্নান সৈয়দের চিরপ্রস্থান এমন একটি মহত বিবেচনা থেকে বঞ্চিত হলো পাঠক, সাহিত্যপ্রেমী বাংলাভাষীকুল। তাঁর আরো একটি অভিপ্রায় প্রায়শই প্রকাশ করতেন। তিনি বলতেন, সব ভাষার বড় লেখকরা জীবনের কোন না কোন সময়ে তাদের মেধাকে বিশ্বচরাচরের রহমত মহামানব হযরত মুহম্মদ মোস্তফা (সা.)-এর জীবনে সমর্পণ করেছেন। আমারও ইচ্ছা আমিও তাঁকে নিয়ে একটি দীর্ঘ পুস্তক রচনা করি। তার এ ইচ্ছা যৎকিঞ্চিৎ ধ্বনিত হয়েছে ‘সকল প্রশংসা তাঁর' কাব্যগ্রন্থে।

গত ৫ই সেপ্টেম্বর ইফতার শেষ করে সবেমাত্র মাগরিবের সালাত আদায় করেছি, এমন সময় কবি রেদওয়ানুল হকের টেলিফোন, শুনেছেন কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ নাকি ইন্তিকাল করেছেন টেলিভিশনে খবর দিচ্ছে! আমারতো তখন আকাশ থেকে মাটিতে পড়ার যোগাড়। পরপর আরো কয়েকটি ফোন পেলাম। কারেন্ট না থাকায় টেলিভিশন দেখা গেল না। খবরটি বিশ্বাস হচ্ছিল না কোনমতেই। কারণ এই তমাশাচ্ছন্ন ৫ তারিখ সকালে স্যারের সাথে আমার কথা হয়েছে। নতুন লেখার জন্য বা কোন সাহিত্য তথ্যের জন্য আমিও প্রায়ই স্যারকে বিরক্ত করতাম। ইদানীং তিনি প্রচন্ডরকম হতাশায় ভুগছিলেন, দেশের অবস্থা, সাহিত্যের বিভাজন তাকে পীড়া দিত। মাস কয়েক আগে আবদুল মান্নান সৈয়দকে কারা যেন থ্রেট করেছিল এই এই পত্রিকায় লেখা যাবে না। লেখলে বিপদ হবে। স্যার ছিলেন এমনিতে ভীতু প্রকৃতির লোক। এতে তিনি ভীত ছিলেন। জিজ্ঞেস করলে বলতেন বিষয়টা তোমার কাছে পরে খোলাসা করবো। তবে আকারে-ইঙ্গিতে কতকটা প্রকাশও করেছিলেন।

সেদিন ফোন করেছিলেন নটা-সাড়ে নটার দিকে। প্রায় দশ মিনিট কথা হয়েছিল। আন্দাজই করতে পারিনি তিনি আজই আমাদের কাছ থেকে চিরবিদায় নিচ্ছেন। তাঁর একটি পান্ডুলিপি নিয়ে কথা হয়েছিল, আমারই মধ্যস্থতায় বাংলা বাজারের এক প্রকাশককে পান্ডুলিপিটি দিয়েছিলেন। প্রুফ এবং কিছু সম্মানী নিয়ে তাঁর বাসায় সেই প্রকাশকের পৌঁছার কথা ছিল সেদিন। কিন্তু কোন বিশেষ কারণে প্রকাশক হাজিরা দিতে পারেননি। আবার ফোন এলো বেলা পৌনে দু'টার দিকে। অপরপ্রান্তে কবি গবেষক আবদুল মান্নান সৈয়দ। এবার তাঁর গলায় হালকা বিরক্তির রেশ। বললেন, ঐ ছেলেটিতো এখনো এলো না। তুমি পান্ডুলিপিটি ফেরত নিয়ে নিও। ঈদের পর তোমার কাছ থেকে সংগ্রহ করবো। বাংলাসাহিত্য পরিষদ এটি প্রকাশ করবে। তুমিতো ভালোর জন্যেই দিয়েছিলে, ওরা পারলো না কি করা। তারপরই অন্য কথায় চলে গেলেন। বললেন, শোন আজ বিকালে আমি ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি, আমার জন্য দোয়া করো। আমি বললাম স্যার, আমার জন্যও দোয়া করবেন। তিনি হাসলেন, বললেন অবশ্যই। কে জানতো এই কথাই তাঁর শেষ কথা হবে, আমার সাথে। রাত সোয়া আটটাই গিয়ে পৌঁছলাম ৫১/৫২ গ্রিন রোডের সেই সুবাস্তু টাওয়ারে, যেখানে বহুবার এসেছি প্রাণোচ্ছল কবি মান্নান সৈয়দের বাসায়, আমার প্রিয় শিক্ষকের আস্তানায়। তাঁর লাশ রাখা আছে এম্বুলেন্সে, শিয়রের কাছে বসে কাঁদছে তাঁর একমাত্র মেয়ে জিনান। ভক্তরা আসছেন একে একে। খবর শুনে সেই প্রকাশকও বাংলাবাজার থেকে ছুটে এসেছিলেন, ব্যথিত মনে। ততক্ষণে বাংলা সাহিত্যের ঝলমল তারাটি ঠিকানা বদলে ফেলেছেন। আমি তাঁর কপালে হাত রাখলাম, তখনো সেখানে বিন্দু বিন্দু ঘাম। তাঁর চেহারার দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল এই বুঝি তিনি বলবেন ‘সাজজাদ কেমন আছো?'
http://www.sonarbangladesh.com/articles/SajjadHussainKhan
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
বাহরাইন থেকে হোসেন লিখেছেন, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১০; দুপুর ১২:১১
বাংলা সাহিত্যের এক মহান ব্যক্তিত্ব আব্দুল মান্নান সৈয়দের স্মরনে শ্মৃতিচারন মূলক লেখা খানি আমার অ নে ক ভাল লেগেছে, এই জন্য শ্রদ্বাবনত চিত্তে ধন্যবাদ সাজ্জাদ হোসেন খানকে। সাহিত্যের সকল শাখায় শ্রেষ্টত্বের দাবীদ্বার সাহিত্যে গবেষক ও শুদ্বতম কবি জনাব মান্নান সৈয়দের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি, উনার শোকার্ত পরিজন ও উনার একমাত্র কন্যার প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। মান্নান সৈয়দের মৃত্যতে বাংলাসাহিত্য এক কালজয়ী সাহিত্যিককে হারাল এবং বাংলা সাহিত্যের এক অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে গেল, উনার সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে এক অমূল্য সম্পদ ও অমর হয়ে থাকবে। জাতি উনার নিকট চির ৃনি ও সকল সাহিত্যপ্রেমি মানুষ আব্দুল মান্নান সৈয়দকে আজীবন শ্রদ্বার সাথে স্বরন করবে। আল্লা উনাকে বেহেস্ত নসীব করুন।
35413
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ থেকে মাহফুজুর রহমান আখন্দ লিখেছেন, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১০; সকাল ১০:০০
আবদুল মান্নান সৈয়দ, একটি নাম একটি ইতিহাস, জীবন্ত কীংবদন্তি। তাঁর সাথে আমার একটেবিলে শেষ বসা হয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাবে ফররুখ সেমিনারে। প্রবন্ধ পড়েছিলাম আমি আর স্যার ছিলেন আলোচক। জীবনের অনেক বড় পাওয়া এটি আমার জন্যে। আজ স্যার নেই; ছাত্রের চলে যাবার পরই তিনি পাড়ি জমালেন্ (মতিউর রহমান মল্লিক এবং তিনি ছাত্র-শিক্ষক)। সামনে খুব ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। কবি আল মাহমুদ চলে গেলে হয়তো পুরোপুরিই এতিম হয়ে যাবো।
কবি সাজজাদ হোসাইন খান ভাইয়ের লেখাটি পড়তে পড়তে দুচোখ ভিজে গেল। সত্যিই তিনি আর ডাকবেন না জাতিকে; তবে তাঁর রেখে যাওয়া কাজ তাঁকে বেঁচে রাখবেন চিরদিন-চিরকাল।
আল্লাহ তায়ালা স্যারকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন- আমীন।
35504
নিউইয়র্ক থেকে আবু লিখেছেন, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১০; দুপুর ১২:২৯
খুব ভালো লেখা। সাহিত্য সমালোচক হিসেবে জনাব সৈয়্দ ছিলেন অনন্য।
35510
মেরিল্যান্ড, আমেরিকা থেকে নুসরাত সাবিনা লিখেছেন, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১০; সন্ধ্যা ০৭:৪৯
আব্দুল মান্নান সৈয়দ আমার একজন প্রিয় লেখক। আল্লাহ তাঁর কাজ'কে কবুল করুন। তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
লেখক কে অনেক ধন্যবাদ সুন্দর এই লেখাটির জন্য।জাযাকাল্লাহু খাইর।
35696
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এহসানুল হক জসীম লিখেছেন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১০; রাত ০৪:১৩
আল্লাহ মান্নান সৈয়দকে জান্নাতবাসী করুক।
35718
ঢাকা, বাংলাদেশ থেকে মনির হোসেন হেলালী লিখেছেন, ০১ অক্টোবর ২০১০; রাত ১০:২৭
লেখাটি ভালো লেগেছে

আব্দুল মান্নান সৈয়দ সাহিত্য জগতের এক অনন্য নাম। সাহিত্যে তার অবদান অনেক। সাহিত্য পাঠকালে আমি তাকে আজো স্মরণ করি হৃদয় দিয়ে। কলম সৈনিক জনাব সাজজাদ েহাসাইন খান তার কলমের শক্তি দিয়ে জনাব আব্দুল মান্নান সৈয়দকে আরো সহজভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। লেখাটি অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে এবং আমার কাছে ভােলা লেগেছে। লেখককে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।

শুভেচ্ছান্তে
মনির হোসেন হেলালী
ঢাকা, বাংলাদেশ
36393
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy