বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; দুপুর ১২:০০ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

গোধূলীতে অভিশপ্ত একজন বেকার (গল্প)

সাকিব ফেরদৌস

“প্রেম এতদিন নেপথ্যের আড়ালে লুকাইয়া ছিল — আজ সে সম্মুখে আসিয়া পর্দা উঠাইয়া দিয়াছে। জগৎ সংসারের উপর হইতে আবরণ উঠিয়া গেছে। প্রতিদিনের পৃথিবীর সমস্ত তুচ্ছতা আজ অন্তর্হিত হইল। গাছপালা, পশুপক্ষী, পথের জনতা, নগরের কোলাহল, সকলই আজ অপরূপ। এই বিশ্বব্যাপী নূতনতা এতকাল ছিল কোথায়।”

আমি নির্বিকার শুনে গেলাম। যেভাবে চোখ বন্ধ করে শুয়ে ছিলাম, ওভাবেই চিৎ হয়ে পরে থাকলাম। আওয়াজ শুনে মনে হল রাজিবের গলা, ভরাট কন্ঠ।

“কি রে, চোখ খুললি না? আচ্ছা বলতো, কথাগুলো কার?”
চোখ খুলতে কষ্ট হল। পার্কের একটা বেঞ্চে চোখ বুঁজে চিৎ হয়ে পরে ছিলাম। অর্ধ-নিদ্রা আর অর্ধ-জাগরণের একটা পরিশুদ্ধ মজা পাচ্ছিলাম। আমি চোখ-মুখে রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে উত্তর দিলাম- “কার কথা? তোর নাকি?”
“আরে, তুই তো মহামূর্খ! কথাগুলো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।”

রাজিব আমার কাছ থেকে কিছু ফিরতি কথা বা মন্তব্য শোনার আশা করছিল কিন্তু আমি আবারও চোখ বন্ধ করলাম, কোন কথা বললাম না। আজ দু’দিন হল আমি বাড়ি থেকে বিতাড়িত। রাতের বেলা রাজিবের মেসে থাকি আর বিকেলের দিকে পার্কে এসে ঝিমাই অথবা ফারহানার সাথে দেখা করার চেষ্টা করি। ইদানিং ফারহানাও আমার সাথে দেখা করতে চায় না।

“আমি জানতাম তুই এইখানে, তাই তোর কাছে আসলাম। শোন, বিয়ের জন্যে মেয়ে দেখতে যাচ্ছি। কালকে সকালের ট্রেনে বাড়ি যাব।”
আমি চোখ বন্ধ করেই রাখলাম, এবারও কোন কথা বললাম না কারণ রাজিবের ঐ রকম বিয়ে প্রত্যেক মাসেই হয়! প্রতিবারেই সে সকালের ট্রেনে বাড়ি যায় আর দিন দুয়েক পর রাতের ট্রেনে ঢাকা ফেরে। বেচারার বিয়ে আর হয় না।

আপাতত কানের কাছে আর কোন আওয়াজ পাচ্ছি না, রাজিব চলে গেছে বোধহয়। তার মানে কিছু সময়ের জন্যে কোন ঘ্যানঘ্যানানি নাই, আবারও একটু আরাম করে ঝিমানো যাবে। যাই হোক, আমার ঘটনা বলি। আমাদের বাসা মগবাজারে, মধুবাগ এলাকায়। বছরখানেক হল আমি পড়ালেখা শেষ করেছি, বর্তমানে বেকার। বেকার বললে ভূল হবে, শব্দটা হবে ‘বাউন্ডুলে’। বেকারের কথা বলতে গিয়ে একটা কথা মনে পরে গেল। ক্লাস থ্রী’তে পড়ার সময় আমাদের স্কুলের ‘জব্বর স্যার’ (আসল নাম মোঃ আব্দুল জব্বার) বাংলা ব্যাকরণ ক্লাসে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন- “এককথায় প্রকাশ কর, যার কোন আকার নাই, কি হবে?” আমি নির্বোধের মত বলেছিলাম- “স্যার, বেকার।” জব্বর স্যার প্রচন্ড মারকুটে ব্যাটসম্যান ছিলেন, সেদিন তিনি ঝড়ো একটা ইনিংস খেলেছিলেন। তবে আজ আমার মনে হচ্ছে সেদিনের জবাবটা কিন্তু ভূল ছিল না!

যাই হোক, যা বলছিলাম তাই বলি। যখন ইউনিভার্সিটিতে পড়তাম, আমার ডিপার্টমেন্টে পড়া একজন জুনিয়রের সাথে তখন আমার প্রেম ছিল, তার নাম ফারহানা। ‘ছিল’ করে বলাই ভাল, কারণ এখন প্রেম আছে কি’না সেটা আমি নিজেও নিশ্চিত নই! আগামী মাসে ফারহানার রেজাল্ট বের হবে, ভাব চক্করে মনে হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি ওর বিয়ে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু আমার পক্ষে আপাতত পার্কে শুয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। আমার বর্তমানে এমন কোন অবস্থা নেই যাতে ফারহানার বাসায় গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া যায়। ফারহানার বাবা পুলিশের একজন ডি.আই.জি., নির্ঘাত আমাকে জেলে ঢুকিয়ে দেবে! আর আমার বাবা? ওরে বাপরে! আমার আব্বাজানকে দেখলে তো এখনও আমার ‘মুত্র বিসর্জন’ হয়ে যায়। তাহলে আমার ফারহানার কি হবে? ফারহানার বিয়ে ঠিকই হবে তবে আমার সাথে হওয়ার কোন উপায় আছে বলে মনে হচ্ছে না। একটা উপায় অবশ্য ছিল কিন্তু সেটা আমার মত ছেলের পক্ষে সম্ভব নয়, ওকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে আমি কখনোই করতে পারব না। তাছাড়া ফারহানা মনে হয় আমার সাথে পালিয়ে বিয়ে করতে রাজিও হবে না।

আবারও রাজিবের কন্ঠ শুনলাম মনে হল।
“তোকে একটা কথা বলতে ভূলে গিয়েছি। তোকে যে প্রেমের লাইনগুলো তখন শুনালাম, ওগুলো ‘চোখের বালি’ উপন্যাসের।”
এবার সত্যিই আমার মেজাজ খারাপ হল, উঠে বসলাম।

“রাজিব, তুই কি আমার সাথে ফাজলামি করছিস নাকি রে? তোর প্রেম উৎলিয়ে পরছে, তাই না? শালা বেহায়া কোথাকার! নিজের বিয়ের জন্যে মনে-মনে খুব ফুর্তি হচ্ছে, হ্যাঁ? কি যেন ‘চোখের বালি’ না কি বললি? তুই যে এই মুহূর্তে আমার চোখের বালি, সেটা বুঝতে পারছিস না?”
বেচারার আনন্দে ভাটা পরল। কিছু না বলে চলে যাচ্ছে। ওর মেস থেকে এই পার্কটা কাছেই, হেঁটে যাতায়াত করা যায়। আমি পুনরায় আগের মত করে শুয়ে পরলাম। এই ‘শয়ন রোগ’টার জন্যেই অবশ্য আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। সেদিন সন্ধ্যাবেলা শুয়ে-শুয়ে খবরের কাগজ পড়ছিলাম (সকালবেলা পড়তে পারি না, ঘুম থেকে উঠি দুপুরের পরে), হঠাৎ আব্বাজানের আগমন হল। আমি সঙ্গে-সঙ্গে উঠে বসলাম। আব্বাজান চেয়ার টেনে ধীরস্থীর ভাবে বসলেন। একহাত দিয়ে তিনি তাঁর মোটা কালো ফ্রেমের চশমাটা খুলে মুঠোভর্তি করলেন, উনার কপালে একটা বিশাল ভাঁজ দেখা গেল। ঢোলের শব্দ কানে ভেসে আসছে, আসলে আমার বুকের ভিতরের শব্দটা আমি নিজেই শুনতে পাচ্ছি। আমি চোখের পাতা না ফেলে নিচের দিকে লাগাতার তাকিয়ে আছি অতিশয় ভদ্র ছেলের মত এবং ততক্ষনে যা বুঝার ঠিকই বুঝে নিলাম যে কি হতে যাচ্ছে।

“অনেক চিন্তা ভাবনা করে দেখলাম তোমার মত একটা ‘অপদার্থ’কে বাড়িতে রেখে পরিবেশ দূষণ করে লাভ নেই। আমি চাই আমার পরিবার দূষণমুক্ত থাকুক। তুমি আজ রাত নয়টার মধ্যে তোমার সব জিনিসপত্র গুছিয়ে ফেল আর দশটার মধ্যে এ বাড়ি ত্যাগ কর।”

কথাগুলো বলেই তিনি উঠে দাঁড়ালেন। যাবার সময় আমার হাত থেকে টান দিয়ে খবরের কাগজটি নিয়ে নিলেন। যেতে যেতে অস্ফুট স্বরে বললেন- “বেকার প্রজাতিদের খবরের কাগজ পড়ার মত বিলাসিতা মানায় না!”

এবারেরটা মিলিয়ে সর্বমোট চতুর্থবারের মত আমি বাড়ি থেকে বিতাড়িত হলাম অর্থাৎ আমার কাছে ব্যাপারটা মোটেও নতুন নয়। প্রতিবারই সপ্তাহখানেক বাদে পুনরায় নির্লজ্জের মত বাড়ি ফিরে আসি। প্রথমদিকে চলে যাওয়ার সময় আমার আম্মাজান কান্নাকাটি করতেন, এখন তাও করেন না। বিতাড়িত হবার পর প্রতিবারই আমার আশ্রয়স্থল রাজিবের মেস। সে আমার একমাত্র বন্ধু। আসলে আমার সাথে কেনজানি মানুষজনের বন্ধুত্ব হয় না। আমি সবার সাথে সবসময় খারাপ ব্যবহার করি এই জন্যে বোধকরি কেউ আমাকে পছন্দ করে না, আমিও অবশ্য এসবের তোয়াক্কা করি না। আমি রাজিবের সাথেও খুব খারাপ আচরণ করি, এমনকি ফারহানার সাথেও সবসময় মেজাজ তিতিক্ষি করে থাকি। তাহলে ওরা আমাকে ছেড়ে যায় না কেন? সম্ভবত ওরা আমাকে খুব ভালবাসে।

আবারও রাজিবকে দেখা যাচ্ছে। আচ্ছা, ও ঐরকম হনহন করে হাঁটছে কেন? ও কি জানে না যে এভাবে হাঁটলে ওর ছয়ফুট লম্বা হ্যাংলা দেহটাকে সার্কাসের ক্লাউনের মত দেখায়? আমি সহজে হাসি না, তবুও ওকে দেখে আমার এখন হাসি পাচ্ছে।
“রাজিব, তোকে খুব অদ্ভূত লাগছে রে, মনে হচ্ছে তুই সার্কাস দেখাচ্ছিস আর আমি টিকিট কেটে তোর সার্কাস দেখছি। হাঃ হাঃ হাঃ”
রাজিবের মুখ বিষন্ন, পূরোদমে হাঁপাচ্ছে সে।
আমি আবারো মজা করে বললাম- “কি রে শালা, পুলিশের দৌড়ানি খেয়েছিস নাকি? এরকম করছিস কেন? সমস্যা কি?”
রাজিব দম ফেলল, তাড়াতাড়ি করে ঢোক গিলে বলল- “দোস্ত রে, খুব খারাপ খবর আছে। ফারহানা ফোন করেছিল। সবকিছু ঠিকঠাক, কাল নাকি ওর বিয়ে হচ্ছে।”
আমি ওর সাথে মজা করার মানসিকতায় ছিলাম বলে আমার মুখে হাসির একটা আভা ছিল। আকস্মাৎ ওর কথা শুনে চোখের সামনে সবকিছু কেমন যেন ঘোলাটে হয়ে গেল কিন্তু যতটা সম্ভব মুখে হাসির ঐ আভাটা ধরে রাখার চেষ্টা করলাম।
“তুই চাইলে আজ রাতেই পোলাপান নিয়ে আমরা ফারহানার বাসায় যাব, দরকার পরলে ওকে তুলে নিয়ে আসব, কথা শুনে মনে হল ও রাজি আছে। আমি ইতিমধ্যে আমার বাড়ি যাওয়া, মেয়ে দেখা সব ক্যান্সেল করে দিয়েছি।”
মূর্তির মত হয়ে আমি শুধু ওর কথা শুনে যাচ্ছি।
“তুই এখনও বসে আছিস? চল আমার সাথে, মেসে গিয়ে পোলাপান নিয়ে মিটিং করতে হবে। হাতে একদম সময় নাই, খুব দ্রুত সবকিছু এরেঞ্জ করতে হবে।”

আমি নির্বিকার, কোন কথা বললাম না। শুধু দেখলাম রাজিবের চোখ ছলছল করছে। গোধুলীর লাল আলোতে ছয়ফুট লম্বা একটা পুরুষ মানুষের চোখের পানি দেখতে খারাপ লাগছে না!
“কি হল, তুই বসেই রইলি যে! তুই কি মানুষ!”
বসা থেকে আমি এবার আস্তে করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুয়ে পরলাম, আগের মত করে। চোখ বন্ধ করতে গিয়ে দেখি কিছু একটা গড়ে পরছে কানের পাশ দিয়ে, বেশ সুড়সুড়ি লাগছে। এছাড়া আর কি’ই বা করব আমি? একটা মেয়ের জীবন তো আর নষ্ট করে দিতে পারি না! আমি বেকার মানুষ, অচল পয়সা। আমার ঘর নাই, কেউ নাই, কিছু নাই।

অনেকটা সময় পর চোখ খুললাম, চারিদিকে বেশ অন্ধকার হয়ে গেছে। রাজিবকে দেখা যাচ্ছে না, চলে গেছে মনে হয়। আসলে আমার মত মানুষের জন্যে কোন বন্ধু বা ভালবাসা, কিছুই থাকা উচিৎ নয়। এসব পাবার কোন যোগ্যতাও আমার নেই কারণ আমি আমার নিজের কাছেই অভিশপ্ত, আমি একজন বেকার!

(এই গল্পের সবকয়টি চরিত্র, ঘটনা এবং প্রেক্ষাপট কাল্পনিক। বাস্তবের সাথে এর কোনকিছু মেলাতে গেলে সেটা নির্ঘাত বোকামী ছাড়া আর কিছু হবে না!)

[উৎসর্গঃ আমার বন্ধু অর্ক্য’কে, যে কিনা আমাকে ‘বাউন্ডুলে’ হতে বলেছিল!]

লেখকঃ ছাত্র (এম.এস.ফিন), ইন্টারন্যাশনাল ইসলামীক ইউনিভার্সিটি মালেয়শিয়া
ই-মেইলঃ sakeebferdous@gmail.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/SakibFerdous
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
জিগাতলা থেকে গোলাম শাহরিয়ার রনি লিখেছেন, ১২ জুলাই ২০১০; রাত ০১:১৫
জটিল বস!
এ দেখি আমার জীবন কাহিনী। একদম হুবহু আমার সাথে মিলে গেছে।
ভাই, সত্যি করে বলেন তো ঘটনা কার? আপনার নাকি? তাছাড়া তো এত ভাল করে লেখা সম্ভব নয়।
যাই হোক, খুব ভাল লাগলো পড়ে। অনুগ্রহ করে আরও লিখবেন ভাই, আমি আপনার লেখার একজন ভক্ত হয়ে গিয়েছি।
ভাল থাকবেন।
26553
কুয়ালালামপুর থেকে তারিক রিদওয়ান লিখেছেন, ১২ জুলাই ২০১০; রাত ১০:৫৯
অসম্ভব সুন্দর একটা গল্প ভাইয়া!!!!!! অসাধারণ!!!!!!!!
26715
জেদ্দা,সৌদি আরব থেকে নুর আয়েশা সিদ্দিকা লিখেছেন, ১৪ জুলাই ২০১০; রাত ০১:৫৫
ভাই সাকিব ,আপনার গত সংখ্যার লিখাটি ও পড়েছিলাম। সময়ের অভাবে মন্তব্য লিখা হয়নি।বুঝেনই তো বিনা বেতনে সংসারে বুয়ার কাজ ,হাউজ টিউটর,সমস্ত কিছু একহাতে সামলাতে হয়।সোনার বাংলাদেশের পাঠক আঙ্গিনায় আপনাকে স্বাগতম জানাচ্ছি।আপনার দুটো লিখাই অনেক ভালো লেগেছে।আগামীতে আরো লিখবেন আশা করি। সালাম ও শুভ কামনা থাকলো।
26959
ঢাকা থেকে আনিকা আফরিনা লিখেছেন, ১৪ জুলাই ২০১০; রাত ০৯:৩৪
সাকিব ভাই, ২টা অনুরোধ করি, রাখবেন?
১. আপনি প্লীজ নিয়মিত লেখা পাঠাবেন যাতে আমরা মজা করে পড়তে পারি।
২. অনুগ্রহ করে রাজনৈতিক লেখা লিখবেন না। কারণ এতে আপনার পাঠক ২ ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। প্রথম গ্রুপ আপনাকে খুব সাপোর্ট করবে কিন্তু অপর গ্রুপ আপনাকে খুব করে অপোজ করবে। আমি চাই না আপনি কোনো বিশেষ গ্রুপের হয়ে যান। আসলে সোনার বাংলাদেশ এর রাজনৈতিক ঘরনার লেখা পড়তে পড়তে আমরা ক্লান্ত হয়ে পরেছি।
তাই বলছিলাম কি, আপনি আপনার মত করে সাকিবীয় লেখা লিখতে থাকেন আর আমরা সপ্তাহয়ান্তে একটু মজা করে পড়তে থাকি।
ভাই, অনুরোধ করায় মাইন্ড করলেন?
27071
পার্কের একটা বেঞ্চের উপর থেকে মোঃ সালাউদ্দিন মোল্লা লিখেছেন, ১৪ জুলাই ২০১০; রাত ১০:০৬
ভাই, আমার নাম মোঃ সালাউদ্দিন মোল্লা। আমি গত বৎসর দেশের একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাশ করেছি। অনেক চাকুরী খুঁজেছি কিন্তু এই মামা-চাচার যুগে আমার কোন মামা-চাচা না থাকায় আমি বিগত ১ বৎসর ধরে আমি বেকার জীবন যাপন করছি। আমরা ২ ভাই ও ৪ বোন, আমিই সবার বড়। বড় হবার কারনে আমার উপর অনেক চাপ, অনেক দায়ীত্ব। আমি বুঝি আমার অনেক কিছু করা উচিৎ কিন্তু আমি কিছুই করতে পারছি না। মাঝে মাঝে নিজেকে খুব হতভাগা মনে হয়। আমার বাবা ৩ বৎসর আগে অবসর গ্রহন করেছেন। বলতে পারেন ভাই, আমার কি করা উচিৎ?
আপনার লেখাটা পড়ে চোখে পানি এসে গেল। আসলেই আমরা মনে হয় অভিশপ্ত। আমরা কি এমন পাপ করেছি যে আল্লাহ আমাদের এই শাস্তি দিচ্ছেন?
27073
ঢাকা থেকে ইফতেখার লিখেছেন, ১৫ জুলাই ২০১০; রাত ০১:২৯
খুব ভালো লিখেছেন মশাই। চালিয়ে যান, আপনার লেখায় যথেষ্ট মজা পাচ্ছি। এই লেখার ম্যাসেজটা চমৎকার।
27097
জেজু, দঃ কোরিয়া থেকে রওহানী আফরোজা লিখেছেন, ১৫ জুলাই ২০১০; রাত ০২:৩৭
সাকিব ভাই, এটা সম্ভবত আপনার দ্বিতীয় লেখা। আসলেই আপনার ধন্যবাদ প্রাপ্য। আপনি একটা জটিল বিষয়কে ফুটিয়ে তুলেছেন গল্পের ছলে, সবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে। প্রকৃতপক্ষে একজন বেকারের চাওয়া পাওয়াকে কেউ গুরুত্ব দেয় না, আমরা কখনো কখনো ভুলেই যাই যে তারা মানুষ। যাই হোক, আপনার আরও সুন্দর সুন্দর লেখা পড়ার প্রত্যাশায় রইলাম। ভালো থাকবেন।
27108
ঢাকা থেকে মনসুর-উল-হাকিম লিখেছেন, ১৫ জুলাই ২০১০; সকাল ১০:২৬
গল্পটি সুন্দর - কিন্তু বিদগ্ধ পাঠক-পাঠিকাদের প্রতি অনুরোধ, মনে রাখবেন মহান আল্লাহ আপনার প্রতি নজর রাখছেন - দু:খ-কষ্ট সবই সাময়িক - হতাশা, দুশ্চিন্তা এগুলি একধরনের মানসিক অসুখ।

আপনার সাধ্যমত চাকুরি বা ব্যবসার চেষ্টা চালিয়ে যান - মহান আল্লাহ আপনাকে সাফল্য দেবেনই।
27140
বাংলাদেশ থেকে ইবনে বতুতা লিখেছেন, ১৫ জুলাই ২০১০; সকাল ১১:৫০
সুন্দর গল্প। কিন্তু বানান ভুলগুলো খুবই দৃষ্টিকটু লাগে। র এবং ড় এর ব্যবহারগুলো একটু খেয়াল করুনঃ
মনে পড়ে, চোখে পড়ে, বই পড়ে, তারপরে, জামা পরে, পড়ে পড়ে ঘুমাই, আছাড় খেয়ে পড়ে গেলেন, চিৎ হয়ে পড়ে থাকলাম, পরে গিয়েছি বলে পেছনে পড়ে গেলাম।
27148
১০
ঢাকা থেকে শারমিন লিখেছেন, ১৬ জুলাই ২০১০; সকাল ১১:২৬
খুবই ভাল লাগলো গল্পটি পড়ে। এককথায় অসাধারণ।
ইবনে বতুতা সাহেবকে বলছি, আপনি �র� এবং �ড়� এর ব্যবহারগুলো নিয়ে বলেছেন। বুঝা যায় আপনি বাংলায় অনেক দক্ষ। তারপরেও আমি বলব, গল্পটি সত্যিই আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে।
ধন্যবাদ ইবনে বতুতা সাহেবকে এবং দ্বিগুণ ধন্যবাদ সাকিব ফেরদৌস ভাইয়াকে সুন্দর একটি গল্প উপহার দেয়ার জন্য।
27280
১১
সুইডেন থেকে পাশা লিখেছেন, ১৯ জুলাই ২০১০; রাত ০৩:০২
অসাধারণ লেখা। নতুন ধারার লেখাটি পড়ে অসম্ভব ভাল লেগেছে।
27673
১২
নভোমন্ডল থেকে অর্ক্য লিখেছেন, ২০ জুলাই ২০১০; সন্ধ্যা ০৭:৪৬
এই ভবঘুরে জীবনে আজ অবধি কোন প্রাপ্তি ছিলনা, কিন্তু আজ কিছু একটা প্রাপ্তি প্রশান্তির সাধ পেলাম। জীবনের অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছি না পাওয়ার কষ্টে, কিছু একটা প্রাপ্তির অপেক্ষায় ছিলাম। এ বেলায় তা পূর্ণ হল। সাধুবাদ লেখককে তার সুন্দর লেখাটি এই বাউন্ডূলের নামে উৎসর্গ করার জন্য।
27988
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy