|
আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের বুদ্ধিবৃত্তি : একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা
সমর কুমার ঘোষ |
|
সোনার বাংলাদেশ সম্ভবত: একমাত্র মিডিয়া যেখানে সকল মতের লেখা পাওয়া যায়। এখানে যেমন গাফফার চৌধুরীর কলাম প্রকাশ করা হয়, তেমনি ফরহাদ মজহার বা মাহমুদুর রহমানের লেখাও দেয়া হয়। লেখাগুলোতে মন্তব্য করার সুবিধা থাকায় দেখা যায় নানা রাজনৈতিক মতাদর্শের পাঠকগণ তাদের মন্তব্য লিখে থাকেন এবং কতৃপক্ষ অশ্লীল বা খুব বেশী আপত্তিকর না হলে সেগুলো প্রকাশ করতে দ্বিধা করেন না। বাংলাদেশে যে ধরণের অসহিঞ্ষুতার প্রকোপ চলছে, তাতে এটিকে যথেষ্ঠ উদারতা বলতে হবে।
পাঠকদের মন্তব্য থেকে আমাদের দেশের শিক্ষিত শ্রেণীর মন-মানসিকতার একটি পরিচয় পাওয়া যায়। একটু খেয়াল করলে দেখা যায় একটি দলের সমর্থকেরা একই ধরণের মন্তব্য করে থাকেন। এই বিষয়েই আলোচনা করবো।
প্রথমে আসা যাক জামায়াত সমর্থকদের মন্তব্যের ব্যাপারে। তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতা তাদের মন্তব্যে ফুটে ওঠে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই দলের সমর্থকেরা লেখা না পড়েই মন্তব্য করেন এবং অপ্রাসঙ্গিকভাবে ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেন। এ প্রসঙ্গে ছাত্রজীবনের একটি কাহিনী মনে পড়ে গেলো। তখন ক্লাস এইট-নাইনে পড়ি। সহপাঠী এক শিবিরকে বেকায়দায় ফেলার জন্য আরেক সহপাঠীকে বুদ্ধি দিলাম তাকে একটি প্রশ্ন করতে। একদিন তারা কয়েকজন মিলে শিবিরটাকে ধরে বললো, ‘আচ্ছা তোমরা যে বল ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা কায়েম করবে; সেই শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন হবে? তাতে কি কি পড়ানো হবে?’ সে উৎসাহিত হয়ে বলেছিল, ‘ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলে এখনকার মত সুদের অংক করা হবে না, বরং কত ওয়াক্ত নামাজ পড়লে কত রাকাত সোয়াব পাওয়া যায়, সেই হিসাব করা হবে।’ দেখুন এদের জ্ঞান বুদ্ধির দৌড়!
জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ভারতের অন্ধ বিরোধিতা এতোই প্রবল যে তা অধিকাংশ সময়ে হাস্যকর পর্যায়ে চলে যায়। সব কিছুতেই এই দলের সমর্থকেরা ‘র’, ‘মোসাদ’ ইত্যাদির সংশ্লিষ্টতা খোজে। কিছুদিন আগে সোনার বাংলাদেশ ম্যাগাজিনে নিজামী পুত্র তার পরিবারের সদস্যদের গুনগান করে একটি প্রবন্ধ লেখেন। সেই প্রবন্ধের একজন জামাতী তাকে (নিজামী পূত্রকে) ‘র’এর এজেন্ট হিসাবে গালি দিয়ে মন্তব্য করেন। পরে অবশ্য তিনি ভুল স্বীকার করে বলেন যে, তিনি না পড়েই মন্তব্য করেছেন।
এই দলের সমর্থকদের জ্ঞান বুদ্ধির দৌড় তাদের মন্তব্যগুলো দেখলেই বোঝা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা না পড়ে, না বুঝেই মন্তব্য করে। মন্তব্য গুলোতে হয় তেল মারা হয়, নতুবা কাফের বলে গালি গালাজ করা হয়। এক ভদ্রলোক সাঈদীর মাহাত্ম নিয়ে একটা লেখা লিখলেন। আমি তন্ন তন্ন করে পড়েও তার মধ্যে সাঈদীর কোন মাহাত্ম খুজে পেলাম না। তিনি সেই পুরানো কাহিনী লিখলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের চামড়া তুলতে যাচ্ছিল এক যুবক। পথে কুড়িয়ে পেল একটা চটি বই। সেটি পড়ে সে হয়ে গেলো শিবিরের ক্যাডার।’ আর এই কাহিনী পড়ে গন্ডায় গন্ডায় তেল মারা মন্তব্য শুরু হয়ে গেলো।
বিএনপি সমর্থকদের খালি কথায় চিড়ে ভেজে না। তারা হালুয়া রুটি ছাড়া কোন কিছু করতে নারাজ।
আওয়ামী লীগ সমর্থকরা অনেক বেশী আলোকিত। তারা লেখা পড়ে যুক্তি ও উদাহরণ দিয়ে মন্তব্য করেন। তির্যক মন্তব্যেও তাদের পারদর্শীতা রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে তারা ইসলাম ধর্মের প্রতি তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে ফেলেন যা দলের বিপক্ষে চলে যায়। তির্যক মন্তব্য করতে গিয়ে তারা অনেক সময় গালি-গালাজের আশ্রয় নেন। এটিও দলের সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরী করে।
|
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/SamarKumarGhosh |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
|
আমি সোনার বাংলাদেশ সাইটের নিয়মিত পাঠক, মাঝে মাঝে মন্তব্য করি, আপনার মত পাঠকের মন্তব্যগুলো আমিও খুব ভাল করে পড়তে চেষ্টা করি। আর আপনার কোন কলাম পেলে তা আমি শুরুতেই পড়ি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মন্তব্য করি কারণ আপনি পাঠকের মন্তব্যের জবাব দেন। আপনি সাইটটির প্রশংসা করেছেন নিরপেক্ষতা দেখে, আপনাকে ধন্যবাদ নিরপেক্ষতা স্বীকার করার জন্য, আমার ও তাই মনে হয়।
তবে আপনি আরও ধন্যবাদ পেতেন যদি আপনার কলামে একইভাবে নিরপেক্ষতা প্রকাশ তথা বাস্তবতা তুলে ধরতেন।
প্রথমত আপনি ক্লাস এইট নাইনের একটা ছাত্রের উদাহরণ দিয়েছেন- আপনার উদাহরণ আমি মিথ্যে বলছিনা, কিন্তু আপনার জানা উচ্তি ছিল ছাত্রটা শিবিরের কোন পর্যায়ের কর্মী, কারণ ছাত্র শিবির এমন একটা সংগঠন যেখানে যোগ্যতা অনুসারে পর্যাক্রমে মানের ভিন্নতা আছে (যা হয়তো আপনি জানেন) প্রশ্নটা যদি আপনি একজন সাথীকে করাতেন তাহলে সঠিক জবাব পেতেন।
জামায়াত সমর্থকরা সব জায়গায় মোসাদ আর 'র' এর সংশ্লিষ্টতা খোেজ বলেছেন আমি তা পাইনি এবং আমি 'র' বা 'মোসাদে'র সংশ্লিষ্টতা খোজার চেয়ে বাস্তবতা তুলে ধরতে চেষ্টা করি, তারপরও অনেকে আদর্শগত কারণে ভারতের বিরোধীতা করে সত্য, সাথে সাথে আপনি আওয়ামীলীগ সমর্থকদের কথায় কথায় তালেবানী উদাহরণটা উল্লেখ করেননি। কারণ তারা তাদের সমর্থক ছাড়া সবাইকে রাজাকার থেকে ছাড়িয়ে তালেবান কমান্ডার বানিয়ে নেয় যা হাসির খোরাক ছাড়া আর কিছু নয়। আপনি হয়তো এ কারণেই ব্যাপারটা এডিয়ে গেলেন। আপনি জানেন ব্যতিক্রম কখনো উদাহরণ হতে পারেনা। কিন্তু আপনি ব্যতিক্রমটা নিয়েই লিখলেন।
আবার ও ধন্যবাদ