পুলিশ হেডকোয়ার্টারের তথ্য অনুযায়ী সাম্প্রতিক ৩৬ ঘন্টার হরতালে ঢাকাসহ সারাদেশে ১৬১ জনকে মোবাইল কোর্ট বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা করেছে। ৭ দিন থেকে সর্বোচ্চ ২ বছর মেয়াদে সাজা দিয়েছে মোবাইল কোর্ট।
হরতালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আইনগত বৈধতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, বিরোধীদলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, ঢাকার জেলা প্রশাসক মো: মহিবুল হক, ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো: ফেরদৌস হোসেন, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার, মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান, আইন ও শালিস কেন্দ্রের এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল যার যার অবস্থান থেকে পরস্পর বিরোধী যুক্তি-তর্ক তুলে ধরছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, যারা মোবাইল কোর্ট নিয়ে মন্তব্য করেছেন তারা আইনটির সঠিক ব্যাখ্যা জেনে-বুঝে মোবাইল কোর্টের সাজার বৈধতা সম্পর্কে মন্তব্য করুন। জনগণের জানমাল রক্ষা, হরতালের নামে জ্বালাও-পোড়াওসহ নাশকতামূলক কর্মকা- দমন করার আইন সংবিধানে স্বীকৃত। আইন মেনেই হরতালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘৩৬ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিনে সরকার মোবাইল কোর্ট বসিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিচ্ছে। এ ধরণের আইন প্রয়োগ কেবল ১৯৫২ সালের তামাক ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনেই সম্ভব।' ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ব্যবহার করে হরতালকারীদের দমনের বিষয়টি নজিরবিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এ ধরণের আইনের প্রয়োগ ঔপনিবেশিক আমলেও হয়নি। সরকারের এ বিষয়টি থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, শুধু বিএনপিকে অবরুদ্ধ করে দুর্বল করার জন্যই আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসন ও বিচার বিভাগে দলীয়করণ করেছে। শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার লক্ষ্যেই পুলিশ ও র্যাবকে রক্ষীবাহিনীর মতো ব্যবহার করেছে।'
ব্যারিস্টার রফিক উল হক বলেছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে হরতাল ঠেকানো আইনের শাসনের পরিপন্থী। এটি গণতান্ত্রিক নয়। কাউকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তার বিচার করা যায় না। সামরিক আইনেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রয়েছে। তাই হরতালের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচার অগণতান্ত্রিক, অবৈধ ও অসাংবিধানিক।
ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, হরতাল-সংশ্লিষ্ট কোন অপরাধ করে থাকলে তার বিচার ভ্রাম্যমাণ আদালতে হওয়া উচিত নয়। হরতাল করা মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। এটা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি হাতিয়ার। এক্ষেত্রে কেউ কোন অপরাধ করে থাকলে তার বিচার সাধারণ আদালতে হওয়া উচিত। আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জেরা করে সাজা দিতে পারেন আদালত।
হরতালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা নাগরিকের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী দাবি করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, নাগরিকের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা, মিছিল-মিটিং করার অধিকার খর্ব করার জন্যেই হরতালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ ও বেআইনি। এই বেআইনি কাজটি চলতো পাকিস্তানি শাসক আইয়ুব খানের আমলে। এ কাজের পরিণতি কি হয়েছিল তাও জনগণের জানা আছে। সরকার এভাবে দমন-নিপীড়ন চালালে আইয়ুব খানের পরিণতি ভোগ করতে হবে। বাধ্যতামূলকভাবে স্বীকারোক্তি নিয়ে হরতাল সমর্থকদের সাজা দেয়া হচ্ছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, দন্ডবিধির ১৮৬ ধারা ব্যবহার করে এ কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেয়া হচ্ছে। যখনই কেউ দোষ স্বীকার করছে তখন এ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটরা সাজা দিচ্ছেন। কিন্তু পুলিশ যখন ধরে নিয়ে যায়, তখন কারও দোষ স্বীকার করা ছাড়া অন্য কোন উপায় থাকে না। আগে দন্ডবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করা হতো এবং সেখান থেকে জামিন নেয়া হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাজা দিচ্ছে। এর ফলে অভিযুক্তদের আর জামিন চাওয়ার সুযোগ থাকছে না। আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারছে না। কারণ, সাজা হয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে জামিনের জন্য যেতে হলে প্রথমে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে রায়ের কপি নিয়ে তারপর আদালতে যেতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় জামিন চাওয়ার আগেই আসামিদের সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। সরকার এই অস্ত্র ব্যবহার করে বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, দলীয় নেতা কর্মীদের দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে।
ঢাকার জেলা প্রশাসক মো: মহিবুল হক বলেছেন, হরতাল ঠেকানোর জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ব্যবহার করা হয়নি। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই রাজধানীতে ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করেছে। অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও ভ্রাম্যমাণ আদালত জেলা প্রশাসকের নির্দেশেই কাজ করে যাচ্ছে।
সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বলেছেন, ব্রিটিশ আমলে যারা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিল তাদের ধরতে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট চালু করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে কখনোই কোন রাজনৈতিক কর্মকা-কে বাধা দেয়ার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবহার দেখা যায়নি। সরকার তার নিজের ভঙ্গুর অবস্থানকে টিকিয়ে রাখতে এখন হরতালের মত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু এ ধরনের কর্মকান্ডের মাধ্যমে কোন সরকারের পক্ষেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। বরং এর ফলে দেশের মানুষ ও সাধারণ জনগণের কাছ থেকে তারা ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তাও হারায়।
র্যাব সদর দফতরে নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা বলেন, হরতালের আগেরদিন সারারাত তিনি মোবাইল কোর্টের দায়িত্বে ছিলেন। বারিধারা আমেরিকান দূতাবাসের কাছে গার্মেন্টস কর্মী আনা-নেয়ার গাড়িতে চালকের সহায়তায় কয়েকজন তরুণ আগুন ধরিয়ে দেয়। সাদা পোশাকের র্যাব সদস্য ও পুলিশের টহল দল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি চালক জসিমকে আটক করে। অন্যরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে আরো একজন গার্মেন্টস কর্মীকে আটক করা হয়। তিনি ঘটনাটি দেখেছেন। আটককৃত চালক জসিম দোষ স্বীকার করে। তাকে দুই বছর সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আটক অপরজন দোষ স্বীকার করেনি এবং জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। তাই তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তিনি বলেন, মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ শতভাগ মেনেই সাজা দেয়া হয়। আইন অপব্যবহার করার সুযোগ নেই। মোবাইল কোর্টে সাজাপ্রাপ্তরা অন্য আদালতে সাজাপ্রাপ্তদের মত উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো: ফেরদৌস হোসেন বলেছেন, হরতালকে আইগতভাবে নিষিদ্ধ করার আগ পর্যন্ত হরতালের নামে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার প্রত্যেক রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীরই আছে। কিন্তু সরকার হরতালের কর্মসূচি দমন করতে গিয়ে যে ধরনের কাজ করছেন তা সম্পূর্ণভাবে গণতন্ত্র পরিপন্থী। অধ্যাপক ফেরদৌস হোসেন বলেন, হরতালের সময়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের অনেক বড় দায়িত্বই থাকে সরকারের। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে ওইসব বাহিনীর হাতেই যদি সাধারণ মানুষ নিরীহ রাজনৈতিক কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হন তা হবে আইনের শাসনের পরিপন্থী। হরতালের সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত কোন মানুষকে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাকে জেল জরিমানা করে দিলে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ অবস্থার দিকে রূপ নিবে। এরফলে জনমনে অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকবে, যা একসময়ে গণবিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান বলেছেন, জুডিশিয়ারী সেপারেশনের পরে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আর জুডিশিয়ারী ম্যাজিস্ট্রেটদের কাজ আলাদা। কিন্তু এরপরেও ভেজাল খাদ্য, ইভটিজিং বন্ধে বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটদের কিছু কিছু ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু হরতাল চলাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষ কিংবা হরতাল সমর্থনকারীদের ধরে বিনা বিচারে জেল জরিমানা দেয়া এবং রাষ্ট্রীয়কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ সাজানোর প্রক্রিয়াটি কোনভাবেই গণতান্ত্রিক নয়। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে এ ধরনের কাজ ঘটতে পারে না।
হরতালে মোবাইলের কোর্টের সাজা প্রদানের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইন ও শালিস কেন্দ্রের এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।
অচিরেই উচ্চ আদালতের রায়ে এ বির্তকের যবনিকা পাত ঘটবে- আশা করা যেতে পারে। তবে বিজ্ঞ পাঠকদের বিবেচনার উদ্দেশ্যে কিছু অভিমত তুলে ধরতে চাই।
প্রথমত : গত ১২ ও ১৩ জুন আহূত হরতালকারী কারা? এমন প্রশ্নের সহজ উত্তর হল- প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এমন উত্তরে সাধারণভাবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোন কারণ হয়তো খুঁজে পাবে না জাতি। কিন্তু সামান্যতম মনযোগের সাথে চিন্তা করলে যা বেরিয়ে আসে তা হল- বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে মন্ত্রী-এমপিদের ছত্রচ্ছায়ায় দেশব্যাপী গড়ে ওঠে জঙ্গি সংগঠন। তারা ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক ও বিশ্বব্যাপী দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে। এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে শাহনেয়ামতুল্লা ডিগ্রী কলেজের সামনে বিস্ফোরিত বোমার আঘাতে রিক্সা চালক সাদ্দাম নিহত হন। সংঘবদ্ধ জঙ্গিরা আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে দু’জন বিচারক হত্যা করে ও আইনজীবী সমিতি ভবনেও বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের ছত্রচ্ছায়ায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এস.এম কিবরিয়াকে হত্যা করা হয়। সর্বপরি ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ বেশ ক’জন নিহত হন। আহত হন কয়েক শ’ নেতা-কর্মি। বিগত সরকারের আমল পেরিয়ে দলটির আরো পেছনের কর্মতৎপরতার ইতিহাস অধিকতর ভয়াবহ। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তার দলের এ কী ভয়াবহ অবস্থান!
দ্বিতীয়ত : হরতালে নাশকতা করে কারা? হরতাল করা গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে নাশকতা করা কোন অবস্থাতেও গণতান্ত্রিক অধিকার নয়। অথচ বাংলাদেশে হরতাল মানেও নাশকতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন করা ও জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে জীবনযাত্রা ব্যাহত করা। হরতাল আহ্বান করা যেমন গণতন্ত্র তেমনি হরতাল প্রত্যাখ্যান করার অধিকারও জনগণের রয়েছে। অথচ মেধাশুন্য লাঠিয়াল তান্ত্রিক নেতৃত্বের কারণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কেউ হরতাল করে না, বরং নাশকতা নির্ভর হরতাল অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। নাশকতা সংঘটিত করার কাজে নিয়োজিত হয় প্রধানত রাজনৈতিক জ্ঞানহীন ভাড়াটে পেশাদার সন্ত্রাসী। নাশকতা প্রতিহত করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে, যা সার্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারছে না। তাহলে নাশকতা প্রতিহত করার উপায় কী?
তৃতীয়ত : বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হরতালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিরুদ্ধে আইনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মোবাইল কোর্ট গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিপন্থী- এটাই মূল অভিযোগ। কিন্তু বিএনপি বা অন্য কেউ ‘জননিরাপত্তা আইন’, ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন’সহ অন্যান্য কালো আইনের বিরুদ্ধে আইনী লড়াই তো দূরে থাক- সামান্যতম আপত্তিও প্রকাশ করছেন না। লাগাতর সংসদ বর্জন করলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ হয় না কিন্তু হরতালে নাশকতাকারীদের গ্রেফতার বা সাজা দিলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বাধাগ্রস্থ হয়!
চতুর্থত : মেয়াদোত্তীর্ণ পথ্য, ভেজাল খাদ্য, দ্রব্যমূল্য, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ইভটিজিং, ফিটনেসহীন পরিবহন, অযৌক্তিক বর্ধিত ভাড়া প্রভৃতি বিষয়ে দেশের কোথায় ন্যূনতম তৎপর নেই ভ্রাম্যমান আদালত। এসব ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকায় জনগণ দারুন হতাশ। এমন অবস্থায় নাশকতা প্রতিহত করার জন্য হরতালে মোবাইল কোর্ট হঠাৎ করেই ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠেছে। যে দেশে বর্ধিত অযৌক্তিক উচ্চ মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে ক্রেতাসাধারণ বাধ্য সে দেশের জনগণ সরকারের এমন ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করতে পারে না। সরকারকে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথেই এখনই উপলব্ধি ও বিবেচনা করতে হবে। আমরা শঙ্কিত- সরকারের সম্বিত ফেরার আগেই সময় পেরিয়ে যায় কি না?
হরতালে মোবাইল কোর্ট নিয়ে যতো বিতর্কই হোক কেন- রাজপথের আন্দোলনের গণতন্ত্রের আগে সংসদীয় ব্যবস্থায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় গণতন্ত্র, রাজনীতি সর্বোপরি বাঙালির নিজস্ব সমাজ ব্যবস্থাকে অর্থবহ করে তোলা সম্ভব হবে না। সম্ভবনার সকল ক্ষেত্রগুলো দূরে সরে চলে যেতে পারে নাগালের বাইরে দীর্ঘ সময়ের জন্য ।
সাত্তার হোসেন : সাংবাদিক ও গবেষক
oaitijjho@yahoo.com
স্মৃতি কনা বিশ্বাস : সমাজকর্মী
sush_bangla@yahoo.com