মহাজোট সরকার তাদের মেয়াদের অর্ধেকেরও বেশী সময় পার করে এসেছে। যতই দিন যাচ্ছে সামনের নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চিন্তার পাল্লা বাড়ছে। ক্ষমতাসীন সরকার মধুচন্দ্রিমা কাটানোর পর এবার নজর দিবে ভোট ব্যাংকের দিকে এমন আশা করা হলেও বাস্তবে তার খুব একটা প্রতিফলন চোখে পড়ে না। এ অবস্থায় তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের অবস্থান দৃঢ় করতে প্রয়োজন আ’লীগ ও তার অংগ সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগের সক্রিয় সাংগঠনিক কার্যক্রম। কিন্তু প্রতিটি জায়গায় এর প্রতিচিত্র ভিন্ন। চাঁদার ভাগ-বাটোয়ারা, টেন্ডার ও দখল নিয়ে আ’লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ মুখোমুখি অবস্থান দাঁড়িয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীনদের আক্রমনে বিরোধীদের না যতজন নিহত হয়েছে তার অনেকগুণ নিহত হয়েছে তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে। তবে নিজেরা মাঠে আসতে না পরলেও বিরোধী দলকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে নারাজ সরকার। যে কারণে নতুন নতুন ইস্যু সৃষ্টি করে তাদের পর্যদুস্ত করে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন তৈরী করা হচ্ছে নতুন নতুন ইস্যু যাতে করে বিরোধী দল অন্য দিকে নজর দিতে না পারে। ফলে আজ জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি তো পরদিন বিরোধী দলীয় নেতার বাড়ি ঘেরাও। তাই কোন্ ইস্যু ছেড়ে কোন ইস্যুতে কথা বলবে তা ভেবেই ঘাম ছুটছে বিরোধী দলের। উপরন্তু নাশকতার পরিকল্পনা ও ১৪৪ ধারার খড়গ তো আছেই। সবকিছু চলছে আ’লীগ উপদেষ্টাদের পরিকল্পনামাফিক। বিএনপি-জামায়াতকে ব্যস্ত রাখা হয়েছে তাদের নিজস্ব ইস্যু নিয়েই; জনগণের সমস্যা নিয়ে রাজপথে তীব্র আন্দোলন তাই তারা সৃষ্টি করতে পারছেনা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে রাজপথ তারা গরম করতে না পারলেও জনগণের কল্যাণে সরকারের ব্যর্থতা আগামী নির্বাচনের জন্য তার পথ পরিস্কার করে দিচ্ছে। জনসমর্থন টিকিয়ে রাখতে অন্য পথ ধরেছে ক্ষমতাসীনরা। এ পথে তাদের যাত্রা কতটা ফলপ্রসু হবে তা সময়ই বলে দিবে। ভাসমান ভোটাররা যে আশাতে মহাজোটকে ভোট দিয়েছিল সে আশা যদি বাকী দু-বছরেও পূরণ করতে পারে সরকার, তাহলে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। মনে রাখতে হবে, এই ৩০শতাংশ ভাসমান ভোটাররাই বাংলাদেশে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করে।
এই খেটে খাওয়া দরিদ্র ভাসমান ভোটারদের ভোট পুরোটা ক্ষমতাসীনরা পেয়েছিল শুধুমাত্র তাদের প্রতিশ্রুতির তুবড়ি দিয়ে। স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে অধ্যয়ন, ঘরে ঘরে চাকরি আর দশ টাকা কেজি চাল খাওয়ানো, এগুলো আজ ফাঁকা বুলি প্রমাণিত হয়েছে। জনগণ বুঝেছে সামনে মুলো ঝুলিয়ে তাদের গাধার মত ব্যবহার করা হয়েছে। জনগণের এ মনোভাবের পরিবর্তন না হলে ক্ষমতাসীন জোট খুব একটা সুবিধা করতে পারবেনা আগামী নির্বাচনে এ বিষয়ে একমত সকল বিশ্লেষক। আগামী নির্বাচনে নিম্নোক্ত শ্রেণীর সমর্থন ক্ষমতাসীনদের বিপক্ষে পড়তে পারে।
ক) নিরপেক্ষ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ও পরিবারগুলোর ভোট এবার ক্ষমতাসীনদের বিপক্ষে যেতে পারে। দ্রব্যমূল্যে ও লাগামহীন উর্ধ্বগতি, অসহনীয় লোডশেডিং, গ্যাস-পানির অপ্রতুলতা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। যার ফলে নিরপেক্ষ ও ভাসমান এই ভোটাররা আগামী নির্বাচনে তাদের মত পরিবর্তন করতে পারেন।
খ) ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ এ নির্বাচনে তাদের মত পরিবর্তন করতে পারেন । ২০০১ সালের নির্বাচনে দুটি কারণে আ’লীগ পরাজিত হয়েছিল বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। যার একটি হল সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর ধর্মবিশ্বাসে আঘাত। এবারও সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা সংযোজন, আল্লাহর উপর বিশ্বাস ও বিসমিল্লাহ নিয়ে গোঁজামিল, হিজাব সংক্রান্ত রায়, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ প্রভৃতি কর্মকান্ড দেশের ধর্মপ্রিয় জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর অংশকে ক্ষুব্ধ করেছে। ফলে, এক বিশাল ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর সমর্থন ক্ষমতাসীনদের বিপক্ষে যাবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
গ) সারা দেশজুড়ে অসংখ্য মানুষ ক্ষমতাসীন যুব ছাত্র-সংগঠনের নির্যাতন সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। ফলে তাদের স্বজনদের চোখের পানি মোছাতে ব্যর্থ সরকার এ সকল পরিবারের সমর্থন হারাতে পারে।
ঘ) এ সরকারের শাসনামলে সেনাবাহিনীকে অনেক সময় জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা হয়েছে। সর্বশেষ রুপগঞ্জসহ পিলখানায় নিহত শহীদদের সহকর্মী,স্বজনদের সমর্থন সরকার হারাতে পারে বলে বিশ্লেষণগণ ধারণা করেছেন।
ঙ) সংখ্যালঘুদের ভোটব্যাংক প্রায় পুরোটাই আ’লীগের জন্য সংরক্ষিত থাকে। তবে, এ ভোট ব্যাংকে ভাঙ্গনের প্রবল সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে এবার। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় সংখ্যালঘু নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে ক্ষমতাসীনদের হাত থাকায় নির্যাতিত সংখ্যালঘুরা তাদের মত পরিবর্তন করতে পারেন বলে আভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা ।
চ) অনেকে মন্তব্য করেছেন, সরকার দূর্নীতি, সন্ত্রাস কিছুই দমাতে চায়না একমাত্র বিরোধী মত ছাড়া। অনেক ক্ষেত্রে, সরকার নিজের প্রয়োজনেই দূর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। তাই, এ সময়ে ব্যাপক দূর্নীতির শিকার জনগণ তাদের মত সরকারের সমর্থনে নাও দিতে পারেন। বিগত সময়ে বিএনপি সমর্থক এক বিরাট জনগোষ্ঠী বিএনপিকে সমর্থন করেননি তত্ত্বাধায়ক সরকারের আমলে ফুলে ফেঁপে উঠা দূর্নীতির অভিযোগের কারণে। বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা কিছু সমর্থক নিয়ে পৃথক দুটি রাজনৈতিক দলও গঠন করেছিলেন। কিন্তু এবার তারা ছাড়াও চারদলীয় জোটের কট্টর বিরোধী কাদের সিদ্দিকী, আ স ম আব্দুর রবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রকাশ্যে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, ফলে ২০০৮ সালের নির্বাচনের মত আগামী নির্বাচনে মহাজোট তাদের আর সর্মথন পাবেনা বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ছ) গত নির্বাচনে মহাজোট বামদের পুরোপুরি সমর্থন পেয়েছে। কিন্তু এবার ক্ষমতার অংশীদারিত্ব , তেল-গ্যাস নিয়ে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত প্রভৃতি বামদের এক বিরাট অংশকে মহাজোট থেকে পৃথক করে দিয়েছে। এদের জনসমর্থন নিয়ে চিন্তিত না হলেও মিডিয়ার উপর এদের প্রভাব সরকারের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।
জ) বাংলাদেশের কৃষিজীবিরা প্রায় অনেকেই মহাজোটকে ভোট দিয়েছিলেন বিনামূল্যে সার পাওয়ার আশায়। এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের এক জনসভায় বলেছিলেন , কৃষককে সার নিতে ঘরে আসতে হবে না; সারই কৃষকদের ঘরে পৌছে যাবে। ফলে এবার যদি তিনি আবার প্রতিশ্রুতি দেন, ‘সার, বীজ, ট্রাক্টর, পানি (!) সবই ফ্রি দেওয়া হবে’ তবু তাদের মনের বরফটুকু গলবেনা।
ট) পোশাক শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ, চট্রগ্রামে ডক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী নামানো, পরিবহন সেক্টর ও নৌ শ্রমিকদের অসন্তোষ, সিএনজি চালকদের অসন্তোষ, শ্রমিক নেতা মুজিবুর রহমানকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার প্রভৃতি কারণে শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ভোট এবার মহাজোটের বিপক্ষে পড়তে পারে।
ঠ) এ সরকারের আমলে পুলিশকে সার্বক্ষণিকভাবে ব্যস্ত রাখা হয়েছে বিরোধীদল নিপীড়নের কাজে। নিরপরাধ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, মিথ্যা মামলায় তাদের রিমান্ড প্রভৃতি কাজে পুলিশকে নগ্নভাবে দলীয় বাহিনীর মত ব্যবহার করা হয়েছে। এ সকল কর্মকান্ড সচেতন পুলিশ সদস্যদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সঞ্চার করেছে। এছাড়া পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহে অভিযুক্ত জওয়ানরা অনেকে অভিযোগ করেছেন তারা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না, এ সকল পরিবারের ভোটও মহাজোট সরকার হাতছাড়া করতে পারে।
মোটামুটিভাবে বলা যায়, ভোটের লড়াইয়ে মাঠ পর্যায়ে মহাজোটের অবস্থান মোটেই ভালো নয়। টিপাইমুখ বাঁধ, ট্রানজিট, তেল-গ্যাস , নির্লজ্জ ভারততোষণ প্রভৃতি ভোটব্যাংকে খুব একটা নাড়াতে না পারলেও দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণে চূড়ান্ত ব্যর্থতা, গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চরম অনিয়ম, সারা দেশে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাস, সমাজে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা ভোট ব্যাংককে পুরোপুরি মহাজোটের বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে দিবে। মজার ব্যাপার হলো, আ’লীগ সমর্থনকারী এক বিরাট সচেতন জনগোষ্ঠী সরকারের বিরুদ্ধে চলে গেছে যা সরকারের জন্য একটা দুঃসংবাদ। সরকার খোদ নিজ দলের নেতাকর্মীদেরই আস্থায় আনতে পারছেনা। সেখানে সাধারণ জনগণের কথা তো বলাই বাহুল্য। যতই দিন যাচ্ছে সরকারের জনসমর্থন এক ধাপ করে কমছে। প্রতিটি দিন তাদের সামনে হাজির হচ্ছে নতুন অসংখ্য সমস্যা নিয়ে। এ সুযোগে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া বিএনপি ফ্রন্টে আসতে চাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে। এ দাবিকে অনেকটা হাস্যকর মনে হলেও এ দাবির মাধ্যমে আরও বড় কিছু আদায় করতে চায় বিএনপি।
জনসমর্থনের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশিত হয়ে পড়বে এ ভয়ে যখন সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতেই গড়িমসি করছে, সে অবস্থায় বিরোধীদের মধ্যবর্তী নির্বাচন দাবি তাদের কিছুটা হলেও কোণঠাসা করবে। সরকারের একের পর এক রাজনৈতিক মারে পিছু হটা বিরোধী দলের ঘুরে দাঁড়ানোর এটা একটা অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করবে। কিন্তু, তার জন্য জাতিকে এক ভয়াবহ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। যে সরকার শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের উপর হামলা করে, তারা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আন্দোলন যে বিন্দুমাত্রও বরদাশ্ত করবেনা এটা সহজ কথা। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনীতি আবার এক-এগারো পূর্ববর্তী অবস্থানে ফিরে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই দেশ ও জনগণের স্বার্থে উদার না হলে অদূরবর্তী বিপদ থেকে উত্তরণ সহজ হবে না। এবার ফেরা যাক ভোটের রাজনীতির কথায়। পত্রিকার সচেতন পাঠকগণ হয়তো আগেই খেয়াল করে থাকবেন, প্রতিটি জাতীয় দৈনিকের জনমত জরিপে সরকারের কর্মকান্ডের প্রতি জনসমর্থন উঠানামা করছে দশ থেকে ত্রিশ শতাংশে। সচেতন পাঠকদের এই রায় নিশ্চয়ই সরকারের নীতিনির্ধারকদের চোখ এড়ায়নি। তাই ভোট দূর্গকে সুদৃঢ় রাখতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সে পরামর্শের অনেকগুলো বাস্তবায়নও করা হয়েছে।
ক) অনেকে বলেন, জাতীয় পার্টি তথা এরশাদের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো বিপুল সংখ্যক পেশাজীবির চাকুরি জাতীয়করণ, বেতনবৃদ্ধি এবং আনুষঙ্গিক প্রশাসনিক সুবিধা প্রদান ইত্যাদি। ভোটব্যাংক ঠিক রাখতে একই পথে হাঁটছে মহাজোট। এ পরিকল্পনা অনুসারেই এ অর্থবছরে সরকারী চাকুরিজীবিদের বেতন ভাতা দাবীর চেয়ে বেশী বৃদ্ধি করা হয়েছে।
খ) মন্ত্রীপরিষদে একটি বিল পাশ হয়েছে চাকুরীতে কোটা বিষয়ক যেখানে সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ছাড়াও নাতি, নাতনী আত্মীয়-স্বজন সবাইকে ৫৫% কোটায় ভর্তি করা হবে যে ঘোষণা দিয়েছেন , এতে মেধার অবমূল্যয়ন হলেও তাতে সরকারের কোন পরোয়া নেই, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের একটি ভোটও যেন মহাজোটের বাইরে না যায় সে কারণেই সরকারের আইনটি পাশ করেছে।
গ) আইনমন্ত্রীসহ বিচারপতি এবং প্রধান বিচারপতি দেশ ৭২এর সংবিধানে ফিরে গিয়েছে এবং বাংলাদেশ এখন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলে মত দিয়েছেন। অথচ প্রধানমন্ত্রী (অর্থমন্ত্রীর ভাষায় বোকা) জনগণকে বললেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে। সংবিধানে বিস্মিল্লাহ ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসও থাকবে। হায়রে ভোটের রাজনীতি! বাংলাদেশে কি একজনও সৎ সাহসযুক্ত সাংবাদিক নেই যে তাকে প্রশ্ন করতে পারে, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে রাষ্ট্রধর্ম কেমন করে থাকে।
ঘ) দুদক এখন দন্তহীন বাঘে পরিণত হয়েছে। এমন্তব্য বিরোধীদলের নয়, স্বয়ং দুদদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের। যে আইন সরকার করেছে, এমন হাস্যকর আইন সম্ভবত পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। বিরুদ্ধে তদন্ত করতে যদি তারই অনুমতি নিতে হয়, তাহলে এ প্রতিষ্ঠান দুসক-এ (দুর্নীতি সহায়ক কমিশন) পরিণত হবে। বিশ্লেষকরা বলেছেন, প্রশাসনের এ সকল দুর্নীতিবাজের কর্মকর্তাদের পরবর্তী নির্বাচনে কাজে লাগানোর জন্য সরকার সম্পূর্ণ নীরব থেকে তাদের প্রকারান্তে প্রশয় দিচ্ছে।
ঙ) গত নির্বাচনে বিএনপি শুধু মহাজোটের কাছেই হারেনি, হেরেছে মিডিয়ার কাছেও। নির্বাচনের এবং জনমতের নিয়ন্ত্রণের প্রায় পুরোটাই মিডিয়ার উপর প্রভাবের কারণে। গত চারদলীয় জোট সরকার যে সকল মিডিয়া প্রতিষ্ঠিত করেছিল তাদের মালিকানা বিএনপির হাতে থাকলেও সংবাদকর্মীরা ছিল আ’লীগ ও বামদের হাতে। এক-এগারোর পরে এসকল মিডিয়ার মালিকানাও চলে যায় মহাজোটের কাছে। হাতেগোনা যে কয়টি মিডিয়া এরপরও সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার আছে, তাদের কাছে প্রতিনিয়ত যাচ্ছে হুমকি। একটি টিভি চ্যানেল ও একটি সংবাদপত্রকে এর মধ্যেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। টকশোর উপর নেমে এসেছে নিষেধাজ্ঞা। এক কথায় সরকারের কর্মকান্ডের কোন সমালোচনা যেন মিডিয়া করতে না পারে তার সকল যজ্ঞ সম্পন্ন করেছে মহাজোট সরকার। ফলে, সরকারের কোন সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থবিরোধী হলেও জনগণের কাছে তা পৌছাচ্ছে খুব সামান্যই। সরকার যত কৌশলই অবলম্বন করুক, বাকি দু’বছরে দ্রব্যমূল্যসহ জনদূর্ভোগ হ্রাস না করতে পারলে, সরকার আগামী নির্বাচনে হালে খুব একটা পানি পাবেনা বলে মনে করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিরোধী দলকে আস্থায় নিয়ে আসা, সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সমস্যার প্রশমন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সফল হলে সরকার পুনরায় জয়ের আশা করতে পারে বলেও অভিমত তাদের। দেশ ও জাতির স্বার্থে আমরাও চাই সরকার ও বিরোধী দল একসাথে জনকল্যাণের কাজ করুক, সংসদ আবার প্রাণবন্ত হোক আর বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সমৃদ্ধির পথে।
বর্তমান সরকার ভাল করে জানে এবং চট্টগ্রামের মিয়র র্নিবাচনের পরে আরো পরিস্কার হয়েছে যে জনগণ ৫% সমর্থন আছে কিনা সন্দেহ আছে। কিন্তু আগামিতে আওয়ামীলিগ ভিবিন্ন টালবাহানা করে র্নিবাচন বর্জন করবে এতবা র্নিবাচনের নামে আন্ধকারে পাতানো খেলা খেলবে তাতে কোন সন্দেহ নাই।
42582
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: