বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; দুপুর ১২:২০ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

রাবিতে চাই শিক্ষার পরিবেশ

শাফিউল ইসলাম

১ জুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে। দীর্ঘ প্রায় তিন মাস অনাকাঙ্ক্ষিত বন্ধের পর ক্যাম্পাস খুলছে। ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ সবাই মুখর হয়ে আছে ক্যাম্পাসে আবার তাদের পদচারণার জন্য। এজন্য আগামী ৩০ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল খুলে দেয়া হবে। আবাসিক ছাত্রছাত্রীরা তাদের বৈধ আবাসিক কার্ড দেখিয়ে নিজ নিজ হলে অবস্থান করতে পারবে এবং তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সার্বক্ষণিক পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা-ছাত্র-ছাত্রী-কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে। কেননা বিশ্ববিদ্যালয় সবার। এখানে শিক্ষার্থী ছাড়া শুধু শিক্ষক-শিক্ষিকা দিয়ে কোন কাজ হবে না। আবার শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে সব কাজ করা সম্ভব হবে না। আইন-শৃংখলা রক্ষার জন্য সরকারের পুলিশ বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করতে হবে। একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়ম-কানুন এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জারি করা বিধি-নিষেধও আমাদের সবাইকে মেনে চলা উচিত।

গত ১২ মে ২০০৯ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-

ক· ‘পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের মিটিং, মিছিল, সভা-সমাবেশ, মাইকিং, ব্যানার, পোস্টারিং, প্রচারপত্র প্রচার ও বিতরণ নিষিদ্ধ থাকবে।’ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে সহযোগিতার মনোভাব দেখাতে হবে। কোন রাজনৈতিক ফায়দা লাভের জন্য বা অন্য কোন হীন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কোন রকম চিন্তাভাবনা না করি। কেননা বিশ্ববিদ্যালয় কোন রাজনৈতিক দলের নয়। কোন গোষ্ঠীর নয়। বিশ্ববিদ্যালয় সবার। এখানে শিক্ষার উদ্দেশ্যেই শিক্ষার্থীরা আসে। অভিভাবকরা তাদের প্রিয় সন্তানদের পাঠান। এজন্য সবার উচিত বিশ্ববিদ্যালয় যেন শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হতে পারে, সে চেষ্টা করা।

খ· ‘হলসমূহে বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কেউ থাকতে পারবে না।’ গত ২৪ মে ২০০৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ ড· মজিবুল হক আজাদ খান স্যারের সভাপতিত্বে আমরা আবাসিক শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করছি অন্যান্য হল কর্তৃপক্ষও একই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমরা আশা করব সব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারিকৃত সব নিয়ম মেনে চলবে। এছাড়াও গত ২৩ মে ২০০৯ প্রক্টর দফতর থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার স্বার্থে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে যে রকম সহায়তা ও সহযোগিতা করার মনোভাব প্রকাশ করব; তেমনি প্রশাসনকে নজর দিতে হবে যেন নিরাপত্তার নামে কোন পদক্ষেপই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে না যায়। কাউকেই যেন হয়রানি করা না হয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব সংশ্লিষ্ট সবাইকে যেন বিষয়টি গভীরভাবে নজর দিয়ে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেয়। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেমন মর্যাদাবান তেমনি শিক্ষার্থীরাও তাদের অবস্থান থেকে মর্যাদাবান। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সদস্যরাও তেমনি মর্যাদাবান।

সবাইকে সবার প্রাপ্য সম্মান দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এতে অহেতুক কোন হয়রানির শিকার কেউ হবে না। আমরা জানতে পেরেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে রিকশাওলাদের পরিচয়পত্র লাগবে। অর্থাৎ যেসব রিকশাওয়ালার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদানকৃত পরিচয়পত্র থাকবে কেবল সেই রিকশাওয়ালা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করব, যদি কোন অভিভাবক রেলস্ট্রেশন থেকে তার প্রিয় সন্তানের জন্য বাসা থেকে ১৫ কেজি চাল বা শখের কোন জিনিস রিকশা করে নিয়ে আসে তাকে যেন তার সন্তানের কাছে যথাযথ পরিচয় লিখে নিয়ে রিকশা নিয়েই যেতে দেয়া হয়। ওই অভিভাবককে যেন কোন বিব্রতকর পরিস্থিতি কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে কোন নেতিবাচক ধারণা নিয়ে যেতে না হয়। এছাড়াও অনেক সাবেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে আত্মীয়-স্বজন নিয়ে বেড়াতে আসেন, যথাযথ পরিচয়ের মাধ্যমে তাদেরও যেন তাদের প্রিয় ক্যম্পাসে ঢুকতে দেয়া হয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব, এই বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসনির্ভর অনেক ব্যক্তির পারিবারিক আয়-উপার্জনের পথও যেন খোলা থাকে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আমাদেরই সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করতে হবে। সবাইকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা যেন আনন্দের হয়। ‘শৃংখল’ ও ‘শিকল’ যেন মনে না হয়।

লেখকঃ শিক্ষক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ই-মেইল, shafiul_luc@yahoo.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/ShafiulIslam
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
Khulna থেকে Taher লিখেছেন, ০২ জুন ২০০৯; সন্ধ্যা ০৭:৪২
We need a strong movement to stop so-called student politics. Its urgent.
Regards, Taher
1382
R U থেকে kamrul লিখেছেন, ০৫ জুন ২০০৯; দুপুর ০২:১৪
Thank you sir
1444
Joypurhat থেকে Russel Kabir (RU) লিখেছেন, ২৫ জুন ২০০৯; রাত ০১:১৩
Thanks to the administration, But we want to see that how long this environment will be continued?, Time will say....?
Thanks also U brother.
1787
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy