বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; দুপুর ১২:২১ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
ইতিহাস ঐতিহ্য ও মুসলিম জাগরণ (০৩/০৫/২০১২)
ইতিহাস ঐতিহ্য ও মুসলিম জাগরণ (১১/০৪/২০১২)
ইসলাম ও বিজ্ঞান : কিছু প্রাসঙ্গিক কথা (২৬/০২/২০১২)
‘ভালোবাসা দিবস’ আমাদের সংস্কৃতি নয় (১০/০২/২০১২)
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমস্যা : মধ্যমেয়াদি সমাধানে করণীয় (০৪/০১/২০১২)
বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংঘাত বন্ধে কিছু সুপারিশ (২১/১২/২০১১)
দক্ষিণ এশিয়া সামাজিক ফোরামের সুপারিশ (১১/১২/২০১১)
মিসর পরিস্থিতি একটি মূল্যায়ন (৩০/১১/২০১১)
মরক্কো ও মিসরে নির্বাচন : পরিস্থিতির মূল্যায়ন (১৯/১১/২০১১)
সুবিচার প্রতিষ্ঠায় কিছু সংস্কার প্রস্তাব (১৫/১১/২০১১)
ওয়ালস্ট্রিট দখল আন্দোলন : প্রেক্ষিত ও তাত্পর্য (২৫/১০/২০১১)
টালমাটাল শেয়ারবাজার (১৯/১০/২০১১)
ইসলামের দৃষ্টিতে মানবাধিকার (১৭/১০/২০১১)
ইয়েমেন ও তিউনিশিয়া পরিস্থিতি (০৬/১০/২০১১)
মিসরে নারী আন্দোলন (২৫/০৯/২০১১)
মিসরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি (২২/০৯/২০১১)
পাশ্চাত্য ও ইসলামি ব্যবস্খার তুলনা (১১/০৯/২০১১)
শহরাঞ্চলে ‘সিসা’র নামে তামাক সেবন নতুন ফ্যাশন (০৭/০৯/২০১১)
শুধু দক্ষ নয় মানবিক ও নীতিবান পুলিশ চাই (২৮/০৮/২০১১)
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং অরাজকতার পেছনের কারণগুলো (২০/০৮/২০১১)
অশ্লীলতা ছড়িয়ে লাভ কাদের? (১৩/০৮/২০১১)
সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও দ্বন্দ্ব : সমাধান বিভিন্ন সংস্কৃতির স্বীকৃতি (০৬/০৮/২০১১)
হুমকিতে জনস্বাস্থ্যঃ অনেক কাজ করা দরকার (৩০/০৭/২০১১)
আমরা একটি প্রতিবন্ধী জাতি চাই না : সবাইকে সচেতন হতে হবে (২৩/০৭/২০১১)
মিসরে অগ্রসরমান মহিলা আন্দোলন (১৭/০৭/২০১১)
সংবিধান সংশোধন ও পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থা (০৯/০৭/২০১১)
বাজেট নিয়ে কিছু কথা (২৩/০৬/২০১১)
সংবিধানে ইসলামের উল্লেখ কেন থাকতে হবে? (২০/০৬/২০১১)
মিসরে ফ্রিডম ও জাস্টিস পার্টি গঠন (১৩/০৬/২০১১)
বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট সেমিনার ইসলামী ব্যাংকের কল্যাণকর দিক সুস্পষ্ট হয়েছে (১১/০৬/২০১১)
আগের লেখা
794


ইতিহাস ঐতিহ্য ও মুসলিম জাগরণ

শাহ আবদুল হান্নান

আমি নিজে জীবনে অনেক ইতিহাস পড়ে বুঝলাম, ইতিহাস হলো বড় শিক্ষক। মানুষ কী কী ভালো কাজ করেছে এবং সেটা কারা করেছে, তাদের কী যোগ্যতা ছিল, কোন কোন পরিস্থিতিতে সফল হওয়া যায় তা ইতিহাস পাঠে জানা যায়। এখানে ব্যক্তিগত একটা বিষয় থাকে যে লোকটা কত যোগ্য। আবার পরিস্থিতির একটা ব্যাপার থাকে। অনেক সময় যোগ্য লোকও পরিস্থিতির কারণে অনেক কিছুই করতে পারেন না। পরিস্থিতি অনুকূল হলে কম যোগ্য লোকও পারেন। এগুলোর ইতিহাস পড়লে আমরা জানতে পারি, যারা বড় কিছু অর্জন করছেন, তাদের কী কী যোগ্যতা ছিল এবং তাদের সময়ের পরিস্থিতিটা কেমন ছিল।

তেমনিভাবে মানুষের ব্যর্থতাগুলো জানা যায়। ব্যক্তির দোষের কারণে ইতিহাসে কী কী বিষয় ব্যর্থ হচ্ছেন, আবার পরিস্থিতির কারণে কারা কারা ব্যর্থ হয়েছে, তা জানা যায়। কাজেই ইতিহাস একটা বড় শিক্ষক। যেসব বিষয় অবশ্যই পড়তে হবে, তার মধ্যে একটা হচ্ছে সাহিত্য, আরেকটা ইতিহাস। আরো অনেক কিছু আছে যেটা পড়তেই হবে। সাহিত্য জীবনের দর্পণ। তা পড়ে একটা সমাজ কেমন ছিল তা জানা যায়। এটা মনে করা ঠিক হবে না যে, শরৎচন্দ্র পড়লে আমি শুধু উপন্যাস পড়লাম। তা না, ভিন্ন সমাজকেও বুঝলাম। ওই সময়ের হিন্দুসমাজের দ্বন্দ্বগুলোও বুঝলাম। একই কথা সত্য সবার ক্ষেত্রে। শেক্সপিয়র পড়লে আমরা জানতে পারি, ওই সময়ের সাহিত্যের উপজীব্য কী ছিল? সেই সমাজ কেমন ছিল? সেখানে বড় লোকেরা কেমন ছিল? সাধারণ মানুষ কেমন ছিল? কী কী ধরনের প্রশ্ন তাদের সামনে ছিল?
আমাদের ইতিহাস ও সাহিত্য দুটোই লাগবে। অথচ ব্যাপকভাবে এ দুটোর চর্চাই কমে গেছে। ধর্মের বিষয়ে পড়াশোনা নেই। ধর্মকে তো ফিলোসফিই বলা যায়। এটাও মানুষ পড়ছে না। সাহিত্য ও ইতিহাসও কম পড়ছে আগের তুলনায়। তারা পড়ছে বিজনেস।

আর অবশ্যই সায়েন্স বা বিজ্ঞান শিখছে, যে সায়েন্সের মাধ্যমে টেকনোলজি তৈরি করা যাবে। যে সায়েন্সের মাধ্যমে বিশ্বের প্রকৃতি জগতের অনেক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে; যার সূত্র বের করা যায়, কারণগুলো জানা যায়। কিন্তু তার পরও এই সায়েন্স আর বিজনেস পড়ে মানুষ হওয়া যায় না। এর দ্বারা রোবট হওয়া যায়। বর্তমানে বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ কিন্তু কম-বেশি রোবট। হতে পারে, ব্যতিক্রম এখনো আছে এশিয়ার কিছু দেশে। কিংবা যদি বলি মুসলিম ওয়ার্ল্ডের কথা, আফ্রিকার কিছু কিছু দেশ; এখনো তারা রোবট হয়নি। কিন্তু বাকি বিশ্ব রোবট হয়ে গেছে। ইউরোপ রোবট হয়ে গেছে। আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া রোবট হয়ে গেছে। এই হচ্ছে অবস্থা। আমরা তো রোবট চাই না। তাহলে আমাদের ফিলোসফি বা ধর্ম পড়তে হবে। সাহিত্য ও ইতিহাস পড়তে হবে।

ইতিহাস বিকৃত করা যায় না। ইতিহাসের ওপর কোনো যোগ-বিয়োগ করা যায় না। ইতিহাস হচ্ছে যা ঘটেছে এবং কারা ঘটিয়েছে এদের কথা। কী ঘটেছিল তার বর্ণনা। এটা সাহিত্য নয়। এখানে গল্প বানানোর কোনো অবকাশ নেই। ইতিহাস আর সাহিত্য এক জিনিস নয়। ইতিহাস অবশ্যই সত্য ঘটনাভিত্তিক হতে হবে। এখানে আমাদের পছন্দমতো বাড়িয়ে দিলাম বা কমিয়ে দিলাম এগুলো চলবে না।
আমার মনে হচ্ছে, আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার একটা ব্যর্থতা হলো, এখানে সেকুলারিজম থেকে অনেক কিছু আসছে। মানুষ রোবট হচ্ছে আধুনিক সভ্যতার কারণে। আধুনিক সভ্যতার মূল ভিত্তি সেকুলারিজম। এটা এনলাইটেনমেন্ট মুভমেন্টের ফল। এই মুভমেন্টের দু’টি কথা ছিল। একটা ছিল খোদায়ী কোনো ব্যাপারে আমরা জড়িত নই এবং সব হচ্ছে ইহজাগতিক ব্যাপার। আরেকটা ব্যাপার ছিল, তাদের র‌্যাশনালিজম। অর্থাৎ সব কিছু যুক্তির ওপর নির্ভরশীল। এখানে ঐশ্বরিক কোনো ব্যাপার নেই এবং রাষ্ট্রের সাথে এগুলোর কোনো যোগাযোগ নেই। এ ধারণা থেকেই একসময় সেকুলারিজম শব্দটা জনপ্রিয় হয়। এর ফলেই ক্রমে ক্রমে মানুষের শিক্ষা থেকে ধর্ম বাদ পড়ে গেল। বিশেষ করে পাশ্চাত্যে এটা বাদ পড়ে যায় এবং নৈতিকতার গুরুত্ব কমে যায়। ফলে আর ধর্মীয় বিষয় অধ্যয়নের গুরুত্ব রইল না।
পরবর্তী সময়ে আরো দেখা গেল, তারা এই স্বার্থপরতার মধ্যে বলতে লাগল, টাইম ইজ মানি। তার মানে, সময় অন্য কোনো কাজে নষ্ট করা যাবে না; অর্থোপার্জনের কাজে ব্যবহার করতে হবে। যা দিতে হবে ‘মানি’র জন্য দিতে হবে।

তাই যদি হয়, তাহলে আমাকে ব্যবসায় শিখতে হবে বেশি করে, যা অর্থ দেয়, তার ব্যবস্থা করতে হবে এবং সেটা করতে গিয়েই মানুষ বিজনেস সায়েন্সে চলে গেল। পিওর সায়েন্স, টেকনোলজির সাইডে ছিল কিছুটা। কোনোটাই খারাপ না যদি সব কিছু মিলে হতো। ধর্ম ও নৈতিকতাকে সাথে নিয়ে যদি করা হতো। কিন্তু ধর্ম বাদ দেয়ার কারণে এগুলো একেবারে একপেশে, একতরফা, একমুখী হয়ে গেল। এসব কারণেই মানুষ শেষ পর্যন্ত রোবট হয়ে যাচ্ছে; আমাদের ছেলেমেয়েরাও। যখন তরুণ ছেলেমেয়েদের দেখি, মনে হয় না যে, তাদের জীবনে কোনো উচ্চ লক্ষ্য আছে। তাদের সামনে লক্ষ্য হচ্ছে, একটা সুন্দর মেয়েকে কিংবা সুন্দর ছেলেকে বিয়ে করতে হবে। ঘুরে বেড়াতে হবে, মজা করতে হবে। খাওদাও, ভোগ করে মরে যাও। এর চেয়ে উত্তম কোনো লক্ষ্য শিক্ষাব্যবস্থাও দিচ্ছে না। সায়েন্স, বিজনেসে কোথাও নেই হায়ার মোরাল কোর্স। এটা একমাত্র আছে রিলিজিয়ন অথবা এথিকসে। আর ইতিহাসে কিছু পাওয়া যায়। সাহিত্যে পাওয়া যায়। কাজেই মানুষ রোবট হয়ে গেছে এবং হচ্ছে।

যদি এর থেকে ফিরে আসতে হয়, ধর্মেই ফিরে আসতে হবে। এটা বলতে বোঝাচ্ছি না যে, ধর্ম বলতে ইসলাম সবখানেই। আমি অবশ্যই ইসলাম চাই। তার পরও বাস্তববাদী বলেই মনে করি, যেখানে হিন্দু ধর্মই প্রধান, সেখানে হিন্দু ধর্মেই ফিরে আসতে হবে। বৌদ্ধদের বৌদ্ধ ধর্মের দিকেই ফিরে আসতে হবে। খ্রিষ্টানদের ফিরে আসতে হবে খ্রিষ্টান ধর্মের দিকে। কেননা, কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়া উচিত নয়। যদি পরিবর্তন চাই, তাহলে সবখানেই ধর্মের দিকে ফিরে আসতে হবে। কেননা আমরা মুসলিম বিশ্বে হয়তো করলাম কিছুটা, কিন্তু আমরা তো বিচ্ছিন্নভাবে থাকতে পারব না। টিকতেও হয়তো পারব না। এ জন্য বিশ্বব্যাপী দরকার একটা আন্দোলন ও ধর্মে ফিরে যাওয়ার। খ্রিষ্টান ও হিন্দুদের যদি এ রকম উদ্যোগ থাকে, এটাকে স্বাগত জানাই। তবে বিজেপির মতো হওয়া উচিত নয়, যেখানে মুসলিমবিরোধী একটা চেতনা আছে। বরং এ রকম হতে হবে যে, হিন্দু ধর্মের প্রাকটিস তারা পুরোপুরি করবে। নৈতিক মূল্যবোধ পুরা নেবে, আইন থাকলে তাও নেবে। কিন্তু অন্য ধর্মের লোকেদের তারা মানবাধিকার দেবে। ইসলামের ক্ষেত্রে একই কথা। এ রকম হওয়া সম্ভব। পোপ বর্তমানে যেসব কথা বলছেন, তা এ রকমই। ব্যাক টু ফ্যামিলি ভ্যালুস, রিজেক্ট সেকুলারিজম এ রকম কথাই বলছেন তিনি। চার্চ অব ক্যান্টারবারি এ কথাই বলছেন। কারণ, হয়তো বস্তুবাদ, সেকুলারিজম ও নাস্তিকতার প্রভাব তারা বেশি অনুভব করছেন।

তার প্রভাব এই রোবটের মতো লোকগুলোর ওপর কতটা পড়বে, যদি মৌলিক শিক্ষা সংশোধন না করা হয়? হ্যাঁ, তারা পারবেন যদি তাদের দাওয়াত খুব বেশি হয়। তাদের সত্যিকার মুভমেন্ট, সেখানে দাওয়াত থাকবে, যেমন আমরা বলি দাওয়াতের কথা। যেমন, ইসলামপন্থীরা যতই ত্রুটিপূর্ণ হোক না কেন, তারা বলে, আমাদের দাওয়াত দিতে হবে, লোকদের বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে। আমরু বিল মারুফ করতে হবে। নেহি আনিল মুনকার করতে হবে। খ্রিষ্টান ধর্মের তাৎপর্যও এটাই। ইসলামে বলা হয়েছে আমরু বিল মারুফ, কিন্তু খ্রিষ্টান ধর্মে এই মূল কথাটা যে নেই, তা বলা যাবে না। নিশ্চয়ই ঈসা আ: চেয়েছেন যে, ধর্মের কথা অন্যদের বলো। চার্চের এ ব্যাপারে অনেক দায়িত্ব। তাদের ভালো লোকদের অনেক দায়িত্ব আছে এটা করার জন্য।

গোটা বিশ্বেই ব্যাক টু রিলিজিয়ন, ব্যাক টু মোরালিটি, ব্যাক টু এথিকস এটা হতে হবে। না হলে মানুষের মুক্তি নেই। মানুষ একেবারেই বর্বর, স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে। প্রতারক, বাটপাড়, লোভী হয়ে যাচ্ছে। জাতির ওপর জাতির অত্যাচার, ব্যক্তির ওপর ব্যক্তির অত্যাচার, শ্রেণীর ওপর শ্রেণীর অত্যাচার। সব সম্পদই একমাত্র আমেরিকার এটা কী করে হলো? এটা তো অত্যাচারেরই অন্য নাম। কাজেই অনেক মৌলিক প্রশ্ন এর সাথে জড়িত। আমাদের দেশে ইতিহাস চর্চা হচ্ছে না, তা বলব না। হচ্ছে এই অর্থে যে, আমরা যে ইতিহাস পড়ি, উপমহাদেশের যে ইতিহাস পড়ি, কম-বেশি কিছু ভালো লেখক আছেন যারা সেটা লিখছেন। তবে কিছু লেখক হয়তো বা বিকৃত করছেন। বেশির ভাগ লেখকই ভালো লিখেছেন। কিন্তু আমাদের ইতিহাসের কোথাও কোথাও যেসব বিকৃতি চলে আসছে, সেসব দূর করতে হবে। এটা করতে হবে একদল সাহসী লোককে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে জন্ম নিয়েছে, এমন লোক তা করতে পারবে, আগের লোকেরা পারবে না।

ইতিহাস আপন গতিতে চলে; এটা এই অর্থে ঠিক যে কোনো এক ব্যক্তি ইতিহাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ইতিহাসে কোটি কোটি লোক জড়িত। তাই একটা ছোট গোষ্ঠী এটা বদলাতে পারবে না। রেকর্ডিং ভুল হতে পারে, কিন্তু কেউ না কেউ সেই রেকর্ডিং চ্যালেঞ্জ করবে। যেমন আওরঙ্গজেব নিয়ে অনেক কথা আছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে হিন্দু ঐতিহাসিকেরাই বলছেন, এগুলোর অনেক কিছুই মিথ্যা। মনে করি, ইতিহাস নিজের গতিতে চলে এই অর্থে যে, কোনো এক ব্যক্তি এটাকে বদলাতে পারে না। কারো হাতে এটার নিয়ন্ত্রণ নেই। একটা পার্টিও এটা নিয়ন্ত্রণ করে না। কোটি লোকের যে একটা গতি, কোটি লোকের যে একটা মিলিত চিন্তা, এর প্রতিফলন ঘটবেই।

আমার মনে হয়, ইতিহাস আমাদের পড়ানো হচ্ছে না। এসএসসিতেও ইতিহাস খুব ভালো করে নেই। তাদের বোধ হয় সীমাবদ্ধতাও আছে, এত সাবজেক্ট কোনটা ছেড়ে কোনটা পড়াবে। কিন্তু ইতিহাস পড়তে হবে। কিছু হলেও পড়তে হবে। ওপরের দিকে ইতিহাস থাকতে হবে। গ্র্যাজুয়েশন কোর্সে যে সাবজেক্টই পড়–ক, একটা অংশ ইতিহাসের ওপর পড়া উচিত। শুনেছি, হার্ভার্ডে যে সাবজেক্টেই পড়–ক, ইতিহাস যেহেতু বেসিক একটা নলেজ, এটা পড়তে হবে। এখন আমাদের কোনো কোর্স যদি এক শ’ ত্রিশ ক্রেডিটের হয়, তার মধ্যে আমরা যা পড়াচ্ছি, সবটাই পড়ালাম। কিন্তু অর্ধেক অর্থাৎ ৬৫ ক্রেডিটে পড়ালাম। বাকিটা আমরা দশ সাবজেক্ট পড়ালাম। তাহলে একটা ব্যাপক উপলব্ধি হবে। কিভাবে করতে হবে, কবে হবে জানি না। কিন্তু করতে হবে। ইতিহাস ও সাহিত্যকে উপেক্ষা করা যাবে না।

ঐতিহাসিকভাবেই মানতে হবে, কালচারের ভিত্তি ধর্মই ছিল। এটা না মানা মানে বাড়াবাড়ি। হিন্দুদের ক্ষেত্রে হিন্দু ধর্ম প্রাথমিকভাবে। মুসলিমদের ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্ম, আর অন্যরা মাইনর গ্রুপ। খ্রিষ্টানরা তো অনেক পরে এসেছে। বৌদ্ধ ধর্মই বৌদ্ধদের কালচারের ভিত্তি ছিল। পরবর্তী সময়ে একটা কালচার এসেছে পশ্চিমাদের থেকে। সেটা সবাইকে কম-বেশি প্রভাবিত করছে। ড্রেস প্যাটার্নে, ভাষায়, বিনোদনে প্রভাব পড়েছে। খেলাধুলায় প্রভাব রাখছে। চিন্তায় হয়তো বা প্রভাব ফেলছে। যেটুকু ভালো এটুকু হয়তো বা বাদ দেয়া যাবে না। কিন্তু যা মন্দ তা গ্রহণ করা উচিত নয়।

তাই আমাদের বর্তমান কালচারে একটা মিশ্রণ ঘটছে। দেশে একটা মিক্সড কালচার সৃষ্টি করার চেষ্টা হচ্ছে, যেন এখানে হিন্দু ধর্ম ও ইসলাম মিশে যায়। অথবা এর কাছাকাছি যেন চলে আসে ধর্ম হিসেবে। এখানে মঙ্গল প্রদীপ দিয়ে শুরু করা হবে। আর্ট কলেজ বেসিক্যালি হিন্দু থটভিত্তিক বা হিন্দু প্রাকটিসভিত্তিক হবে। কিন্তু আমি মনে করি, মানুষের মৌলিক পরিচয় হচ্ছে ধর্ম। কুরআনও তাই বলে। আল্লাহ পাক সূরা বাকারায় বলেছেন, ‘লা তামুতুন্না ইল্লা ওয়া আনতুম মুসলিমুন’ তোমরা মৃত্যুবরণ কোরো না, যতক্ষণ না তোমরা মুসলিম হয়েছো।’ অবাক লাগে, আল্লাহ তায়ালা বললেন না যে, আমেরিকান বা পাঞ্জাবি বা ভারতীয় না হয়ে মোরো না। কিংবা বাঙালি না হয়ে মোরো না। এটা প্রমাণ করেÑ রাব্বুল আলামিনের কাছে মূল পরিচয় হচ্ছে মুসলিম পরিচয়। তাই হিন্দু ধর্ম একজন হিন্দুর আসল পরিচয়। এই পরিচয়ের ভিত্তিতে যদি বাংলাদেশে দুটো কালচার থাকে, তাতে সমস্যা নেই। এক রাষ্ট্রে কয়েকটা কালচার থাকতেই পারে। ভারত এক রাষ্ট্র হলেও অন্তত বিশটা ভাষা আছে সে দেশে। কী সমস্যা এতে? যে ভাষা বেশি চলে, সেটা রাষ্ট্রভাষা হলো। ইসলাম যারা মানে না, মুসলিম আইডেন্টিটির মধ্যে যে কোনো রকম আপস নেই, এটা তারা বুঝতে পারে না। আমার একাধিক আইডেন্টিটি আছে। আমি একই সাথে কিশোরগঞ্জের মানুষ। একই সাথে বাংলাদেশের মানুষ। একই সাথে বাংলাভাষী। এটা মানতে পারছে না এরা।

এখানে তারা মিক্সড আপ করতে চাচ্ছে। অথচ এটা অযথা। কাজেই ভিন্ন কালচারকে মেনে নেয়াই ভালো। কিন্তু একদল সেকুলার ইচ্ছা করে ইসলামকে দুর্বল করার জন্য বাঙালি কালচার এবং বাঙালিত্বকে বড় করে দেখাচ্ছে। বাঙালিত্বও একটা বিষয়। কিন্তু এটা মৌলিক নয়। বিশ্বাস যেমন মৌলিক, এক আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও আখিরাতে বিশ্বাস যেমন মৌলিক, কোন ভাষায় কথা বললাম এটা অতটা মৌলিক নয়। বিশ্বাসই মানুষের কার্যকে, সব কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে। সেই বিশ্বাস আসে ধর্ম থেকে। যে মূল্যবোধ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেটা আসছে ধর্ম থেকে। আমি কী মাছ খেলাম, এটা আমাকে নিয়ন্ত্রণ করে না। এ দেশের তৈরী সবজি খেলাম, এটা আমার জীবনধারাকে নিয়ন্ত্রণ করে না। কিন্তু এটাকেই কিছু লোক প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। এই বিষয়টাকে মৌলিকভাবে চ্যালেঞ্জ করা দরকার। এটা করছে মূলত তারা, যারা ইসলামকে সহ্য করতে পারছে না। এটা করছে যারা নাস্তিক বা নাস্তিকের কাছাকাছি, তারা। যারা বামপন্থী, যারা না বুঝে মনে করছে আমাদের আর কিছু করার নেই, এখন ইসলাম বিরোধিতাই আমাদের একমাত্র কাজ। যেহেতু আমাদের কিছু করার নেই, আমরা কী প্রতিষ্ঠা করব? সোসালিজম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। কমিউনিজম সম্ভব নয়। তাহলে আমরা কাজ নিলাম ইসলামবিরোধিতা করার এমন মনোভাব। তাদের যে ব্যর্থতা তারা তা মানতে পারছে না। তাদের উচিত ছিল ইসলামকে বিচার-বিবেচনা করা। তারপর যদি এটা গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে গ্রহণ করা। কিন্তু সেই বিচার তারা করতে পারছে না। কারণ অন্ধ বিদ্বেষ দ্বারা তারা পরিচালিত। নিজেদের পরাজয় তারা মানতে পারছে না।

ইসলাম বলে মুনকার গ্রহণ কোরো না। শিরক আর ফাহেশা গ্রহণ করো না। এই তিনটা জিনিসকে বর্জন করে আমরা অন্য কিছু নিতেও পারি সাবধানতার সাথে; যদিও নেয়া কোনো বিজয়ী জাতির পরিচয় নয়। বিজয়ী জাতি নিজে উদ্ভাবন করে। ভারত থেকে যে কালচারটা আসছে, তার অর্ধেক হচ্ছে শিরকভিত্তিক, আর অর্ধেকটা হচ্ছে ওয়েস্টার্ন, এটা মুম্বাই হয়ে আসছে। এই দুটোই মুসলিমদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। অবস্থাটা এ রকম যে, ওরা জিততে পারছে না। কিন্তু আমরাও জিততে পারছি না। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আস্তে আস্তে বিশ্বব্যাপী ইসলামের প্রচার-প্রসার হচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশেও দেখছি, ইসলামের প্রচার-প্রসার ঘটছে। এটা চূড়ান্ত পর্যায়ে বিজয়ী হবে। বামপন্থীদের ভিত্তিটা দুর্বল। পজিটিভ কোনো ভিত্তি নেই। ‘লা ইলাহা’ শুধু চলে না ‘ইল্লাল্লাহু’ ছাড়া। ওদের শুধু লা ইলাহা আছে, লা ইসলাম আছে। কিন্তু তার পরিবর্তে কিছু নেই। সেকুলারিজম কোনো পজিটিভ আইডিয়া নয়। এটা বলে, ‘ধর্ম থাকবে না রাষ্ট্রে।’ ডেমোক্র্যাসি ইসলামেও আছে। স্টাইলে সামান্য কিছু বেশি-কম হতে পারে। আমার মনে হয়, এ ক্ষেত্রে জিতে যাবে ইসলামপন্থীরা, যদি তারা অনেকটা তিউনিসিয়া ও মিসরের মতো বুদ্ধিমান হয়।

মনে হয়, অনেক সময় চলে গেছে। রাসূল সা:-এর পরে চৌদ্দ শ’ বছর চলে গেছে। উনিশ শ’ সাতচল্লিশের পরে এখানে প্রধানত মুসলিম আইডেন্টিটি ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে একটা অন্ধ জাতীয়তাবাদ চলে এলো। সেটা আমাদের মুসলিমত্ব কমিয়ে দিলো। কমিউনিস্টদের সফলতা হচ্ছে, তারা আমাদের মুসলিমত্ব ভোলাতে ও কমাতে পারছে। তবে এখন তাদের এই প্রচেষ্টা থমকে গেছে এ কারণে যে, ইসলামিস্টরা আবার কম-বেশি জেগে উঠেছে। তাদের মধ্যে ছোট হলেও একটা ইন্টেলেকচুয়াল গ্রুপ তৈরি হচ্ছে। বিশ্বব্যাপীই ইন্টারন্যাশনাল ইন্টেলেকচুয়াল গ্রুপের প্রভাব পড়ছে।

লেখক: সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার
(সূত্র:নয়া দিগন্ত,০৩/০৫/১২)
http://www.sonarbangladesh.com/articles/ShahAbulHannan
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
Sydney থেকে Coat Hanger লিখেছেন, ০৩ মে ২০১২; সকাল ০৯:৩৮
Glad to see you picked up "শেক্সপিয়র" correct this time around.
83713
india থেকে dirtroad লিখেছেন, ০৩ মে ২০১২; সকাল ১০:৪১
Nice article..there's a give and take here that dominated muslim thought for a long-time and made islam a great civilization. However, the current militancy..possibly deliberately fed by a section for geo-political reason is against such co-existance. Unfortunately that has become the face of islam in today's world. Which needs to be fought from within.

India can again provide a good benchmark..the complete independence of the Shia, the Bohra, the Ahmediays in India to pursue their line of thought without other groups jumping on them have made it a perfect place for different ideas to co-exist. However the moment a sect gains majority..as in Pakistan, or Iran or Saudi..we see they start cracking down violently on the other sects. How can you expect somebody give respect to another religion when they are intolerant of their kindred thoughts? A few nationalist muslim states like Iraq Syria under Baath party tried to rise above this..but actually the minorities still continued getting persecuted.

In that way I believe the islam in South Asia as well in Indonesia has a better chance of emerging as globalized version. They are free from tribal identity conflicts of middle-east..where actually succession battles createwd rifts in the religion!!! Here the tension within sects does not have a historical legacy and can only be imposed from outside. It is frightening that this external pressure is continuing and increasing in Pakistan nd Bangladesh. We should better look out to prevent this violent sectarianism to which Pakistan has largely fallen a victtim.
83717
উত্তরা, ঢাকা থেকে হারুন-অর রশিদ সরকার লিখেছেন, ০৩ মে ২০১২; সকাল ১১:১৬
আমাদের যা কিছু সুন্দর তার সবই হয়েছে অতীতে। তাই আমি বলি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য আমাদের গর্বের ধন। সেজন্য বর্তমানকে সাজাতে গেলেও তাকাতে হবে অতীতের দিকেই। নিকট অতীতে এই পুরা উপমহাদেশকে সাজিয়েছিল মুসলিম শাসন। ভারতের আনাচে কানাচে মুসলিম ঐতিহ্যগুলি মাথা উঁচু করে ঘোষণা করছে আমাদের সোনালী দিনগুলির কথা। এমন কি, কাদামাটির দেশ বাংলা মধ্যযুগে এমন উন্নতি করেছিল যে, সে সময় বিশ্বের নামকরা কয়েকটি স্থানের মধ্যে বাংলার খ্যাতি ছিল।
ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতি করতেও ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে। আমাদের বর্তমান পোশাক শিল্প মূলত রপ্তানী নির্ভর। মধ্যযুগে এদেশের তাঁতী ও জোলারা শুরু করেছিল এই সুনামের যাত্রা। রপ্তানীযোগ্য পোশাক তৈরী করে বাংলার এই খাতটির খ্যাতি এনে দিয়েছিল তারা। জাহাজভর্তি পোশাক তখন রপ্তানী হতো।
ইদানিং শোনা যাচ্ছে, জাহাজ নির্মাণ শিল্প হতে পারে বাংলাদেশের আরেক সম্ভাবনাময় খাত। দু'একটি কোম্পানী এখন রপ্তানীযোগ্য জাহাজ বানাচ্ছেও। ইতিহাস বলে, মধ্যযুগে বাংলার জাহাজ নির্মাণ কারখানাগুলিতে এত মান সম্পন্ন জাহাজ তৈরী হতো যে, তুর্কী সুলতানরা এখান থেকে অর্ডার দিয়ে জাহাজ বানিয়ে নিতেন। সুতরাং বাণিজ্যিক উন্নতির জন্য, ব্যবসার নতুন নতুন দিক উম্মোচনের জন্যেও ইতিহাস খুলে দেয় অবারিত পথ।
মধ্যযুগে, মোঘল শাসনে মফস্বলেও আইনের শাসন চালু ছিল। আমার তো মনে হয়, মোঘলদের সময়ে যদি কম্পিউটার-ইন্টারনেট থাকতো তা হলে তারা পৃথিবীর একটি বিরাট অংশে সুশাসন উপহার দিত যুগের পর যুগ ধরে।
ঐতিহ্য আমাদের নতুন করে পথ দেখাতে পারে, সমৃদ্ধির বাতায়ন খুলে দিতে পারে।
স্যারকে অনেক ধন্যাবদ এ রকম একটি বিষয় তুলে আনবার জন্য।
83719
সৌদিআরব থেকে আবু জারীর লিখেছেন, ০৩ মে ২০১২; দুপুর ০২:০৯
স্যার,
মুসলামদের পতনে বিশ্ব কি হারালো বা এই টাইপের কোন বাই নিন্মস্তরের সার্বজনিন সিলেবাস ভুক্ত করা যায় কিনা ভেবে দেখার অনুরোধ রইল।
ধন্যবাদ।
83727
ডিটিনি, লন্ডন থেকে আবুল কালাম আজাদ রুবেল লিখেছেন, ০৩ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৬:২৮
স্যার শাহ আবদুল হান্নান, আপনার কথাগুলো আমার অনেক ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ আপনাকে। আল্লাহ্্ আপনার মঞ্গল করুক। আমিও কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মানুষ। কিন্তু আপনি কিশোরগঞ্জের কোথায় জানতে ইচ্ছা করে। যদি সময় পান জানাবেন।
83744
ঢাকা থেকে লেদু মিয়া লিখেছেন, ০৩ মে ২০১২; রাত ০৯:১০
ইতিহাস, সায়েন্স বা ফিলোসোফি যেটাই পড়াশুনার প্রসঙ্গ হোকনা তাতে আপত্তি নেই। তার আগে পড়তে হবে, নাকি হবেনা' সেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া জরুরী। এতোক্ষণ যাদের সমালোচনা হলো, তারা কিন্তু পড়াশুনা করেই অন্ততঃ রোবটটা হতে পেরেছেন। আর আমরা পড়াশুনা করে কয়লায় রুপান্তরিত হচ্ছি। কারণ আমরা পড়াশুনার নামে যা শুরু করেছি তার সবটাই রাবিশ! এখানে পড়াশুনার উদ্দশ্য টাকা কামানো। সেটা রাজনীতি করে নয়তো চাকরী করে। কিন্তু পাশ্চাত্যে পড়াশুনা করেন সম্পদ উৎপাদন বা বানানোর জন্য। ফলে তারা যেমন তাদের নিজেদের দেশে সমৃদ্ধি এনেছে, তেমনি রেখেছে বিশ্বসভ্যতায় অবদান। আর আমরা বসে বসে কারো না কারো কামলা খাটার স্বপ্ন দেখছি। পাশ্চাত্য সমাজ বস্তুর পিছনে ছুটে বস্তু অর্জন করেছে। আর আমরা ভাবের পিছনে ছুটার কথা বলে বস্তু, ভাব দুটোই হারিয়েছি। কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদেরকে বস্তুর কাছাকাছি নেয়ার যোগ্যতা রাখেনা। অন্যদিকে ধর্ম সম্পর্কে আমাদের মানষিক সংস্কারটা এতোটাই অগভির যে কোন অবলম্বন ছাড়া মনের মধ্যে ভাব আসেনা। ফলে কৃত্রিমভাবে ভাবের সমাবেশ ঘটাতে গিয়ে আমরা হয়েছি নেশাগ্রস্থ, ধার্মিক হতে পারিনি।

দেখা যাচ্ছে যাদের আমরা কামলা খাটি তাদের বাড়ে সম্পদ আর আমাদের বাড়ে টাকা। মেধার মূল্যায়ণ না হয়ে টাকা দিয়ে চাকরী বিক্রি জ্ঞানার্জনের পথে আরেকটা বড় প্রতিবন্ধক। আমাদের দেশের শিক্ষিত লোকজনের সর্বক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতা আর নৈরাজ্য এপথে আরেকটা সমস্যা।

ধর্মশিক্ষার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি সমাজ বিজ্ঞানেরই একটি অংশ। মানুষ তার চর্চিত জ্ঞান কোন পথে কিভাবে ব্যবহার করবে এটাই সমাজ বিজ্ঞানের কথা। ধর্ম, হিতোপদেশ বিহীন শিক্ষা মানব কল্যাণে অবদান না রেখে সভ্যতাকে ধ্বংসের দার প্রন্তে নিয়ে যাবে। বোধ বা মূল্যবোধবিহীন মানুষ স্থায়ীভাবে মনুষত্যের স্তরে অবস্থান করতে পারেনা। সে এক সময় বিপর্যয় সৃষ্টিতেই লিপ্ত হয়। আর এই বোধের উৎসই হচ্ছে পবিত্র ধর্ম। তবে সব মানুষেরই কিছু কিছু সহজাত ধর্ম থাকে। যেমনটা রয়েছে পশুদের ধর্ম। সিংহ মাংশাশী কিন্তু গরু মাংশ খায়না। এটাই এদের ধর্ম। একেবারেই ধর্মহীন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। তবে কিছু মানূষের ধর্মহীন সাজাটা এক ধরণের ফ্যাসন। ধর্ম মানুষকে ধরে রাখে, একটা নির্দিষ্ট নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে। তাকে উন্মত্ত হতে দেয়না। মানূষ জ্ঞান বিজ্ঞানে সভ্য হয়ে যত বেশী শক্তি অর্জন করছে ততই তার ধর্মের প্রয়োজনীয়তা দেখা যাচ্ছে। মানুষের উৎকর্ষতার সাথে ধর্ম কমতে থাকলে গোটা পৃথিবীই এক সময় বিরাণ ভূমিতে রুপান্তরিত হবে।
83754
সিঙ্গাপুর থেকে ইয়াছিন লিখেছেন, ০৩ মে ২০১২; রাত ১০:১৯
খুব সুন্দর লিখেছেন পারলে আরো ধারালো ভাষায় লিখবেন।ধন্যবাদ।
83759
লস এঞ্জেলেস থেকে রবি লিখেছেন, ০৪ মে ২০১২; রাত ০১:১৬
লেখাটা পড়ে খুব ভাল লাগলো। স্যারকে ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে আরো এরকম লেখা অাশা করছি।
83772
ঢাকা থেকে সারা লতিফ লিখেছেন, ০৪ মে ২০১২; রাত ০১:১৮
এই সায়েন্স আর বিজনেস পড়ে মানুষ হওয়া যায় না। এর দ্বারা রোবট হওয়া যায়। আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া রোবট হয়ে গেছে। এই হচ্ছে অবস্থা। আমরা তো রোবট চাই না। তাহলে আমাদের ফিলোসফি বা ধর্ম পড়তে হবে। সাহিত্য ও ইতিহাস পড়তে হবে
হান্নান সাহেব আবার বলছেন, শুনেছি, হার্ভার্ডে যে সাবজেক্টেই পড়ুক, ইতিহাস যেহেতু বেসিক একটা নলেজ, এটা পড়তে হবে। হার্ভাড কোন দেশে বলবেন কি ?
83773
১০
বাংলাদেশ থেকে সারা লতিফ লিখেছেন, ০৪ মে ২০১২; রাত ০১:২৫
এই সায়েন্স আর বিজনেস পড়ে মানুষ হওয়া যায় না। এর দ্বারা রোবট হওয়া যায়। বর্তমানে বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ কিন্তু কম-বেশি রোবট। হতে পারে, ব্যতিক্রম এখনো আছে এশিয়ার কিছু দেশে। ইউরোপ রোবট হয়ে গেছে। আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া রোবট হয়ে গেছে। এই হচ্ছে অবস্থা। আমরা তো রোবট চাই না। তাহলে আমাদের ফিলোসফি বা ধর্ম পড়তে হবে। সাহিত্য ও ইতিহাস পড়তে হবে।

হান্নান সাহেব আবার লিখেছেন, "শুনেছি, হার্ভার্ডে যে সাবজেক্টেই পড়ুক, ইতিহাস যেহেতু বেসিক একটা নলেজ, এটা পড়তে হবে। " হার্ভাড কোন দেশে বলবেন কি ?
83774
১১
বাংলাবাজার, ঢাকা থেকে নাঈম লিখেছেন, ০৪ মে ২০১২; সকাল ১০:১৭
ধন্যবাদ, ৬নম্বর কমেন্টধারী লেদু মিয়াকে; লেখাটার সঠিক উপলব্দির জন্য।
83783
১২
dhaka থেকে shah abdulhannan লিখেছেন, ০৪ মে ২০১২; বিকেল ০৫:০৭
About 5, Azad sahib,I am from Kurikhai in Kathiadi, Kishoreganj.Please let me know your e-mail no.
my number is sahannan@sonarbangladesh.com
83799
১৩
dhaka থেকে shah abdulhannan লিখেছেন, ০৪ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৭:৪০
To 5, I am from Kathiadi.
To 9, Harvard is in US.Most Americans are still robot like because of materialism and secularism.
83801
১৪
ঢাকা থেকে পাঠান মাসুক লিখেছেন, ০৪ মে ২০১২; রাত ০৮:২৬
এবাবেই খুলে দেয় মনের সকল দুয়ার
83805
১৫
USA থেকে Afzal khan লিখেছেন, ১৬ মে ২০১২; দুপুর ১২:১৫
From another angle------
Dear writer,
May Almighty keep you in good health so that you can educate us with your knowledge. The title and subject of your article is great but it will be hard for common people like us to get the right conclusion. I think history and literature got the real focus in your article to free our mind? Please allow me to share my thoughts regarding your article. Besides Islamic point of view, I will address from general point of view too. Allah the Almighty says:
"And of knowledge, you (mankind) have been given only a little."---[Al-Isra--85]
" Did you think that We had created you in play (without any purpose), and that you would not be brought back to Us?"---[Al-Mu’minun--115]
“We created not the heavens and the earth and all that is between them for a (mere) play.”
[Al-Anbiaa--16]
“History: An account, mostly false, of events, mostly unimportant, which are brought about by rulers, mostly knaves, and soldiers, mostly fools”. ----------(Ambrose Bierce--- Ambrose Gwinnett Bierce , born June 24, 1842, died sometime after December 26, 1913, was an American editorialist, journalist, short story writer, fabulist, and satirist. )
“History is the lie commonly agreed upon”.-------------- (Voltaire ---François-Marie Arouet de Voltaire, born 21 November 1694, died 30 May 1778, better known by the pen name Voltaire, was a French Enlightenment writer, historian and philosopher famous for his wit and for his advocacy of civil liberties, including freedom of religion, freedom of expression, free trade and separation of church and state.)
"Since history has no properly scientific value, its only purpose is educative. And if historians neglect to educate the public, if they fail to interest it intelligently in the past, then all their historical learning is valueless except in so far as it educates themselves." (G. M. Trevelyan--- George Macaulay Trevelyan, born 16 February 1876 and died 21 July 1962, was a British historian. Trevelyan was the third son of Sir George Otto Trevelyan, 2nd Baronet, and great-nephew of Thomas Babington Macaulay,).
My position is very clear, true history plays very important role in our thinking and understanding regarding other nations. Unfortunately now, false history is dividing us big time and corrupt historian did is fully responsible for that. Only Qur’aanic history as a Muslim we must trust without any doubt and it is belongs to our Emaan. So, according to my conviction IDEA of Qur’aan is our teacher and beloved Prophet is our role Model. Also, true history can be used to recognize our previous mistakes and to correct based on true Idea. Generally speaking ঐতিহ্য is an inherited idea, beliefs, values, knowledge, the artistic and social pursuits, expression, and tastes, arts, manners, dress, etc. Same way there is an Islamic ঐতিহ্য which is unique and built on Divine command. I do not see any fundamental relation between general history and literature for the revival of মুসলিম . If মুসলিম wants to revive, that revival must be based on Divine text and Sunnah of our Prophet. I did not read any alternative method given by Islamic scholars so far. We have to keep in our mind there are two types of knowledge. One is absolute, which comes from Almighty and another one comes from human mind which is subjected to be conjectural. Capitalism and communism is the best example. Both are fighting to solve the problem of mankind since long. Now they have merged into corporatism and we are watching the absolute power of corporatism. It is the Islam made education obligatory for the progress of mankind. We should not differentiate between science, knowledge and business. In fact science, knowledge and business are the branches of a same tree. Question should be asked what is the source of our science, knowledge and business. If we do business based on usury then result will be misery. For the benefit of very few if technology (arms and ammunition) is used to kill the innocent people then that science is the enemy of mankind. Yes, in thinking we become robot because corporatism does not need thinking man rather they need robotic human. To free our mind from robotic we have to know how to use our thinking. True Idea helps to build correct thinking and false idea helps to build incorrect thinking. Because human mind is limited and cannot create, only knows to imitate. Modern, secularism and enlighten is just terminology to use the emotion of common people. In the name of Islam when ruler started oppressing people then idea of secularism, modernism and enlighten emerge. After truth there is a falsehood. I think there is a huge difference between logic and rationality. Without absolute fact there is no rationalization. Example, it is impossible for human being to create sun and moon? So there must be a Creator. Conclusion there must be a Creator, is based on rationalization. Logic is used to achieve a specific purpose. Example, say X=Y. In reality X is not equal to Y. I have no knowledge about other faith. But there are many Islamic based education and lecture going on around the globe but Muslim society is not adopting Islam in their life affairs? There are 1.5 billion Muslims around the globe without quality. Why Muslims are so declined now? On the other hand Islam is saying, it is the true. But Muslims are rejecting Islam from their everyday life affairs? Is it not contradictory? Our Islamic educated people must find out the reason first. We talk much but think less. Once mighty Islam, now cannot save its Book from burning? Scholars are divided and there are fake scholars. Those who are working for Islam, they are also divided. They have no patience and they want to establish Islam according to their way. Watching current situation around the globe it is very clear human beings are looking for truth. There is a big difference between Deen of Islam and other religion. Calling Islam as religion instead of Deen will confuse people.
“O you who believe, enter into Islam completely.---- Surah #2 Ayat #208
It is not permitted for a believing male or female when Allah and His messenger have decided a matter, to have any choice for themselves in their affairs.” -------Surah 33 Ayet 36
And if you dispute over anything, bring it back to Allah and His Messenger ----Surah 4 Ayat#59
Today I have completed this Deen for you and bestowed my favor upon you and chosen for you Islam as your Deen (way of life)---Surh 5 Ayat #3
It is He who sent His Messenger with The Guidance and the Deen of Truth , to make it prevail over all Deens----Surah 61 Ayat # 9
At the end it is the true source of knowledge, information and education is harming us. It is abandoning the model of our beloved Prophet is dividing us. It is the wrong interpretation of the text is polluting us. Deen (way of life) of Islam is not for the Muslim only rather it is for the mankind. Deen (way of life) of USA is capitalism. In capitalism all the faiths are well protected.
84360
১৬
USA থেকে Afzal khan লিখেছেন, ১৬ মে ২০১২; দুপুর ১২:৫৮
CORRECTION---
Sorry, please read ----At the end, it is missing the true source of knowledge, information and education is harming us.
84361
১৭
dhaka থেকে shah abdulhannan লিখেছেন, ২৩ মে ২০১২; সন্ধ্যা ০৭:৪৪
Dear Afzal sahib,I agree with you that absolute knowledge is from Allah.Still it is good to read history and literature.The truth comes out of an event (if there is dispute on a historical event) when you read several books on the same subject.
My main purpose was to say that secularism has destroyed moral foundation and the way out is Islam/religion for humanity in so far as building good human beings are concerned.
84723
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy