বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; দুপুর ১২:২১ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

কাদের স্বার্থে এ রাজনীতি?

শাহ মুহাম্মদ মুতাসিম বিল্লাহ

দেশ আছে, জনগণ আছে, জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকারও আছে; সুতরাং দলও রয়েছে। এ দল রাজনৈতিক। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা রাজনীতি করেন, কর্মীরা করেন তাদের কর্মসূচী সমর্থন। এভাবেই চলে দলীয় কর্মকাণ্ড তথা রাজনীতি। রাজনীতির প্রেক্ষাপট ও অবস্থা ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন হলেও নেতাদের চরিত্রে মিল পাওয়া যায়। সব দলই ক্ষমতায় যেতে চায়। আর ক্ষমতায় গেলে দলের নেতারা হন দেশের হর্তাকর্তা; রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী। যারা মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পান না তাদের মধ্যে অনেক এমপি থাকেন, নির্বাচনী দৌড়ে হেরে যাওয়া কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বীতার সুযোগবঞ্চিত প্রভাবশালী নেতারা থাকেন। দল ক্ষমতায় গেলে তারাও কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতার স্বাদ লাভ করেন। দল ক্ষমতায় থাকার সুবাদে তারা এহেন সুবিধা নেই যে ভোগ করতে চান না। দেশ ও দশের সুখ সুবিধার কথা ষোল আনা তারা ভাবেন কিনা এ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তারা যে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চান এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাহলে কি তাদের রাজনীতি কেবলি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য?

রাজনীতি করেন অথচ ক্ষমতায় যেতে পারলেন না, নির্বাচনে দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ থেকে বঞ্চিত হলো, চিহ্নিত হলো বা হলেন বিরোধী দল বা বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী হিসেবে, নির্বাচনে দল বেশি আসন না পেলেও নিজ এলাকায় বিজয়ী হয়ে এমপি হয়েছেন তাদের কেউই সরকারি ক্ষমতার স্বাদ পান না। তবে বিরোধী নেতা বা এমপি হিসেবে সরকারি বেসরকারি সুযোগ সুবিধা লাভ করেন। কথায় কথায় দেশ ও জনগণের দোহাই দিলেও তারা সরকারের গঠনমূলক কাজে উৎসাহ যোগাতে কার্পণ্যবোধ করেন। তাহলে কি তাদের রাজনীতি সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে উৎসাহ না দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী হিসেবে কেবলি সুযোগ সুবিধা লাভ?

সরকারি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে উপরের দুটো প্রশ্ন গণতন্ত্র অনুশীলনের পাদপীঠ বা রাজনীতির চর্চায় উন্নত দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে আমাদের বাংলাদেশে বর্তমানে রাজনীতির নামে যা চলছে সেই প্রেক্ষাপটে প্রশ্নগুলো প্রাসঙ্গিক এবং এগুলোর উত্তর খোঁজা জরুরি।

বিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষক নয়, আমজনতার মুখেই এ কথা হরহামেশা শোনা যায় যে, এ দেশের রাজনীতিকরা বিরোধী দলে থাকলে এক, আর সরকারি দলে থাকলে আরেক। দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের একটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, আরেকটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর পরের পর্যায়ে রয়েছে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে এ চারটি দলের মিলমিশের মধ্য দিয়েই এ দেশে সরকার গঠন হচ্ছে, আবার বিদায় নিচ্ছে। কখনো তা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কখনো বা বিএনপির নেতৃত্বে। জাতীয় পার্টিও দেশ শাসন করেছে। বাম ও প্রগতিশীল ঘরানার দলগুলো এ ক্ষেত্রে সহায়ক বা সহযোগী ভূমিকা ছাড়া কোনো নির্ণায়ক ভূমিকা এখনো পালন করতে পারেনি। কে স্বৈরাচারী সরকার, আর কে গণতান্ত্রিক এ বিতর্কে গিয়ে পারস্পরিক দোষারোপ ছাড়া বাস্তবে কোনো আদর্শিক অবস্থান দেখতে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ এক দল আরেক দলকে স্বৈরাচারী, অগণতান্ত্রিক কিংবা সাম্প্রদায়িক বললেও স্বার্থ হাসিলের সময় অর্থাৎ সরকার গঠন প্রশ্নে সেই অভিযুক্তদের সমর্থন নিয়েই জোট বা মহাজোট গঠন করে তাদের ক্ষমতায় আসতে দেখা যায়। ক্ষমতার আকর্ষণে তারা দলীয় আদর্শ ও জনগণের কাছে দেয়া অঙ্গীকারের কথা ভুলে যান। আবার ক্ষমতায় গেলে এর আগের দেয়া প্রতিশ্রুতি তারা মনে রাখেন না। এ প্রসঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এ দেশবাসীর সবারই মনে আছে হরতাল নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অঙ্গীকারের কথা। এই দুটি দলই ক্ষমতায় থাকাকালে হরতাল ইস্যুতে যে কথা বলেছে, ক্ষমতা ছাড়ার পর অর্থাৎ বিরোধী দলে থাকার সময় ওই কথা আর রাখেনি। তাদের কথা আর কাজের মধ্যে গরমিল দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় সরকারি ও বিরোধী দল জনস্বার্থ ও অঙ্গীকারের কথা ভুলে ক্ষমতায় যাওয়ার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। তাদের এ রাজনীতি কাদের জন্য? জনগণের নয়, ক্ষমতালোভীদের জন্য। তাদের এ রাজনীতি গণকল্যাণমুখী নয়, দলকল্যাণমুখী; তাদের রাজনীতি সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষায় নয়, দলের নামে গুটিকতক নেতার স্বার্থ হাসিলের জন্য। কোনো আদর্শে তারা স্থির থাকছেন না, তারা ক্ষণে ক্ষণে রঙ পাল্টান। তারা সুবিধাবাদী চক্রের নিয়ামক শক্তি।

প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই কোনো না কোনো আদর্শ থাকে, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ক্ষমতায় গেলে তারা কি করবেন এর বর্ণনা থাকে। দলীয় নেতাকর্মীরা সেই লক্ষ্যসাধনে, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে রাতদিন কাজ করেন। বিশেষ করে নেতৃত্বের গুণে দলের জনপ্রিয়তা যেমন বাড়ে তেমনি দলের প্রতি সমর্থক ও জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতাও বাড়ে। এভাবে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জনগোষ্ঠীর অলিখিত জবাবদিহিতা গড়ে ওঠে। জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের দল ও নেতা নির্বাচিত করেন। আর এ দল ও নেতা জনগণের আকাঙ্খা পূরণ করে। এ দল ক্ষমতাসীন হতে পারে আবার বিরোধী দলেও থাকতে পারে। দল যে অবস্থানেই থাকুক না কেন দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জনগণের কল্যাণ কামনায় দলটির কোনো পরিস্থিতিই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

সরকারি দল হোক, আর বিরোধী দলই হোক- দেশ ও সরকার পরিচালনায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই দায়দায়িত্ব ও ভূমিকা রয়ে গেছে। কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা হতে পারে না। গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনার দায়িত্ব সব রাজনৈতিক দলেরই। রাষ্ট্রের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন দল থাকলেও ভুল শোধরানোর দায়িত্ব থেকে বিরোধী দলের এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সহজ পথ নেই। একগুয়েমি করে এড়িয়ে গেলে কিংবা নৈরাজ্যকর কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে তা জাতির উন্নয়নের ভিতকেই দুর্বল করবে। এমন চিন্তা বা পরিকল্পনা থেকে দূরে থাকাই নিজ দল ও রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক।

সংসদীয় গণতান্ত্রিক কাঠামোয় প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই গুরুত্ব রয়েছে। সংসদে গিয়ে এলাকার উন্নয়ন ও রাষ্ট্রের কল্যাণে নিজেদের মতামত তুলে ধরতে প্রতিটি দল নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচিত হয়ে দলের নেতারা যদি তাদের উপর জনগণের অর্পিত দায়িত্ব ভুলে গিয়ে সংসদে না যান তবে তারা প্রকারান্তরে দেশ ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণাই করলেন। এই যদি তাদের সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়ায় তাহলে তারা কোন উদ্দেশে রাজনীতিতে আসেন আর তারা কাদের জন্য রাজনীতি করেন?

আমাদের এখানে এখন কি চলছে? নির্বাচিত সংসদ আছে, বিরোধী দল আছে, বিরোধী দলের এমপিরা সরকারি সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন কিন্তু সংসদে যাচ্ছেন না। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কেউ তাদের কথা বলতে দিচ্ছেন না বা দেবেন না তা মেনে নেয়া যায় না। সংসদের বাইরে তারা হরতালসহ নানা কর্মসূচি দিচ্ছেন কিন্তু সংসদে গিয়ে কথা বলছেন না। সংসদে গিয়েও তো কথা বলা যায়। এমপি হয়ে সংসদে না যাওয়া এ কোন রীতি? এ কোন রাজনৈতিক সংস্কৃতি? তবে এ কথাও ভুললে চলবে না এখন যারা ক্ষমতাসীন তারাও এ অপসংস্কৃতির চর্চা করেছেন।

তাই বলে কি এ চর্চা চলতেই থাকবে? কেউ হাঁ বলবেন না। বিভিন্ন দলের বিজ্ঞ নেতারাও একই কথা বলবেন। সুস্থ রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টিতে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতাদেরই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। এ আলোর মশালের ধারক ও বাহক তারাই।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/ShahMdMutasimBillah
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
ইউ এস এ থেকে দূবীনিত লিখেছেন, ৩১ জুলাই ২০১১; সকাল ০৯:৪০
এ দেশে এখন যা চলছে তা কি রাজনীতি? দলগুলো বৈধ-অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল বা ক্ষমতায় যাওয়ার বা ক্ষমতায় টিকে থাকার যে প্রক্রিয়া চালু করেছে বা করার পাঁয়তারা করছে তার কোন গ্রহণযোগ্যতা আছে কি? আমার মতে বর্তমানে এ দেশে কোন রাজনীতি নেই। যা চলছে তা সন্ত্রাসনীতি। এখন জোর যার মুল্লুক তার।
64366
USA থেকে Afzal Khan লিখেছেন, ৩১ জুলাই ২০১১; সকাল ১০:৪৬
It is very important to understand what politics are and the role of a politician in our society. With out knowing details of politics purpose of our politicians will remain very confusing to us. According to my observation politics is serving the purpose of very few people in our country. It is very easy to break something but some times it is impossible to fix. To misguide a nation it is very easy but to organize a nation is very hard. To ignite the emotion of the innocent people is very easy but to defuse is very hard and some times leadership has to sacrifice life for that. Our nation born out of emotion. Meaning we were prepared for 6 points solution not fully independent. Independent was imposed on us. So to run an independent nation, experience team, manpower, honesty, sincerity, sharing and team work mentality was missing. Greed, pride, selfishness, dishonesty, and inexperienced people started running the show. Real player become watcher and watcher becomes real player. Real brain become idle brain and evil brain become super brain. Politics misunderstood and definition of politicians redefined. Toki become maharaja and maharaja become toki. Joy bangle slogan, Mukti bahani tag, Jatir Pita Jikir, BAL Shadhinoter sole agent mentality , BAL dealership in Loot Pat , famine and the creation of BAKSAL made this nation total bankrupt in all sides. 95% BAL popularity decline to minority with hatred, ultimate result Jatir Pita had to sacrifice his life with full family. Our nation could not get out from that hatred. Now nation is divided in two camps with full of mistrust. As a result criminals, god fathers, elites, godless, soulless, business syndicates and foreign power got he upper hand. Now they are keeping dividing our nation further for their own benefit. These criminals and devil are in the both camp. Their only politics is to suck the blood of our motherland. They support both the parties and they provide money both the parties. Leftist and liberals are faceless Mirjaffors. They are the real divider and they are the hidden devils. They can not politically survive with out the support from popular party. They must be exposed with details. They are connected internationally. One thing they can do perfectly, how to curse Islamic idea and party. Parliament is not a place of purification. Parliament is meeting place based on ides and principal. When ides and principal is not honored then going over their just for attendance is another mockery. First our PM and parliament members must understand their role and then they need to educate them how to behave in the parliament.
I do not thing they will ever learn. These ignorant and arrogant groups must go. We need new blood. Depending on infected blood will kill our time. Only national unity based on national interest can shine our land not party, leader, or politicians. Politicians are not angel. They are just human being. They are not messenger receives revelation. They are just manager, manages societal affairs with rules and law. With out rules and law leaders are like rest of the citizens. Time has come, we have to bring down our leaders from high. We have to stop viewing them as a saint. They have no magic. Only peoples mandate is magic for them. If they are not following the truth and justice then they are violators. Suppose to be in jail not in the chair.
64370
জামার্নী থেকে ত্রস,কোল লিখেছেন, ৩১ জুলাই ২০১১; দুপুর ০১:৩৭
রাজনীতি হচ্ছে, সরকার ত্রবং সরকার গঠনকরার মানষিকতায় অাক্রান্ত বুর্জোয়া ত্রবং তাহাদের সন্তানাদী ত্র্যালিট সমাজের রাজনৈতিক দলগুলোর। মেহনতী জনগনের রাজনীতি কলে-কারখানা ও খেত-খামারেই সীমাবদ্ব থাকে কিন্তু সরকার গঠন বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তাহা বিস্তারিত লাভ করেনা। বুর্জোয়া-ত্র্যালিটগণ মেহনতী জনগণের কথা বলেই হ্মমতায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।গণতন্ত্রকে তাহারা শুধু তাহাদের শ্রেণি স্বার্থে ব্যবহার করে থাকেন ত্রবং ইহাকে ত্রই প্রতারণাযুক্ত পথটিকে তাহারা জনগণের বৈধ-রাজনীতি বলে থাকেন?
64380
USA থেকে Durbineeto লিখেছেন, ৩১ জুলাই ২০১১; রাত ০৯:১২
What going on in Bangladesh is not at all politics. I can define local politics as follows. "Politics, in Bangladesh, is a dirty game played by the idiots and the musclemen.
64414
বাহরাইন থেকে শাহ আরকামী লিখেছেন, ০২ অগাস্ট ২০১১; রাত ০২:১৪
বাংলাদেশের রাজনীতি বনাম পেটনীতি .এরই চর্চা চলছে.প্ৃথিবীর কোন দেশেই এরকম রাজনীতি নেই .হে আল্লাহ তুমি আমাদের দেশের রাজনীতিকে ইসলামনীতি করে দাও.
64486
Dhaka থেকে Hira-e-noor লিখেছেন, ০৩ অগাস্ট ২০১১; সন্ধ্যা ০৭:৩০
64600
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy