বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; দুপুর ১২:২৫ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

লৌহ মানব গাদ্দাফির মৃত্যু এবং পৃথিবীর জন্যে একটি শিক্ষা

শহীদ খন্দকার টুকু

লিবিয়া'র লৌহ মানব মুয়াম্মার গাদ্দাফির মৃত্যু'র খবর নিঃসন্দেহে সারা পৃথিবীতে গত দুদিনের সব চাইতে আলোচিত ঘটনা। তার সরকার এবং দলের মৃত্যু ঘটেছিল অনেক দিন আগেই। এটা মোটামুটি অবধারিত ছিল যে সমস্ত পরাশক্তির বিরুদ্ধে এবং নিজের দেশের জনসংখার একটা বিরাট অংশের বিরুদ্ধে তার পক্ষে একা দীর্ঘ দিন যুদ্ধ টিকিয়ে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব ছিলনা। তারপরেও তার মৃত্যু'র ঘটনা ভূমিকম্পের মতই ভয়ানক একটা সংবাদ।

এটাতো সন্দেহের অতীত যে তার রাজনৈতিক কর্মকান্ড কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক ছিলনা। কিন্ত লিবিয়া'র জনগণের কল্যাণে তার অবদান, তার রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ড সত্যিকার ভাবে প্রশংসার দাবীদার। Lankanews. com থেকে নেয়া এই তথ্যটুকু থেকে বলা যায় সত্যি লিবিয়া'র জনগণের কল্যাণে তার সাফল্যের তুলনা বর্তমান বিশ্বে কোথাও দেখা মেলা ভার। বলাই বাহুল্য এই সব তথ্য মূলধারার বা পরাশক্তিদের তল্পি বাহক সংবাদ মাধ্যমে কোনো দিন প্রকাশিত হবে না।

• লিবিয়া'র জনগণের জন্য সব ঋণ ছিল সুদ বিহীন।
• শিক্ষার্থীরা যেই পেশার জন্যে পড়াশুনা করে, শিক্ষাকালীন সময়ে তারা সেই পেশার সম পরিমান অর্থ সরকারী অনুদান হিসেবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে পেয়ে থাকতো।
• কর্মহীন থাকা সময় রাষ্ট্র একজন কর্মহীন নাগরিককে তার পেশার সম পরিমান বেতন ভাতা দিয়ে থাকতো।
• বিয়ে করবার সময় রাষ্ট্র নব দম্পতিকে বিনা মূল্যে একটি বাসা বা condo দেয়া হতো।
• উচ্চ শিক্ষাকে অনুপ্রাণীত করবার জন্যে রাষ্ট্র বিদেশে অধ্যয়নকারী যে কোনো ছাত্রকে মাসে ২৫০০ ইউরো এবং আবাস আর গাড়ির অনুদান দেয়া হতো।
• লিবিয়া'র জনগণের জন্যে গাড়ি দেয়া হতো কোনো মুনাফা ছাড়া, নির্মাণ খরচের বিনিময়ে।
• পৃথিবীর কোনো Bank, কোনো অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান অথবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের কাছে লিবিয়া'র কোনো ঋণ ছিলনা।
• প্রতিটি নাগরিকের জন্যে বিনামূল্যের স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার বিধান ছিল।
• লিবিয়া'র ২৫% এর অধিক জনগণের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী ছিল।
• ছিলনা কোনো ভিক্ষুক বা আশ্রয় হীন।
• রুটি বিক্রি হতো মাত্র ১৫ সেন্ট বা বাংলাদেশী মুদ্রায় মাত্র ১০ টাকার ম।

ইউরোপ আমেরিকা বা অন্যান্য পুঁজিবাদী রাষ্ট্র তাকে পছন্দ না করার এগুলো কী যথেষ্ট কারণ নয়? লিবিয়াকে কোনো দিন IMF, World Bank ইত্যাদি পুজিবাদী শোষণের হাতিয়ার এর বশ্যতা শিকারে বাধ্য করা সম্ভব ছিলনা। এক কথায়, লিবিয়া ছিল একটি সত্যিকারের অর্থে স্বাধীন রাষ্ট্র এবং এটাই ছিল লিবিয়া'র মূল অপরাধ। এটাই ছিল লিবিয়ার বিরুদ্ধে সব পরাশক্তির একাট্টা হয়ে যুদ্ধে যাবার মূল কারণ।
হতে পারে গাদ্দাফি একজন কঠোর, অগণতান্ত্রিক এবং স্বৈর শাসক ছিলেন কিন্তু এগুলো গাদ্দাফিকে শুধু ক্ষমতা থেকেই নয়, পৃথিবী থেকেই সরিয়ে দেবার পেছনে কোনো কারণই ছিলনা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিধর দেশ গুলোর জন্যে। উপরন্ত, বেশ কিছুদিন ধরে গাদ্দাফি তেল বিক্রির জন্যে সব তেল উত্পাদন কারী দেশগুলোকে আমারিকান ডলার বা ইউরো'র পরিবর্তে সোনা ব্যবহার এর আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। এই পদ্ধতির প্রবর্তন হলে ইউরোপ আমেরিকা'র ধনী দেশগুলো মোটামুটি bankrupt হয়ে যেত, কারণ এই সব বেশির ভাগ দেশেরই তাদের তহবিলে যথেষ্ট এবং প্রয়োজনীয় পরিমান সোনা নেই যার বিনিময়ে তারা তাদের সত্যিকার অর্থে মূল্যহীন মুদ্রা ছাপিয়ে থাকে ।

শ কয়েক বছর আগে আরেকজন সাহসী কিন্তু আজকের ভূ রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বোকা রাষ্ট্রপতি একই ধরনের আরেকটি একটি ঔদ্ধত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চলেছিলেন আর তা হলো, তিনি আর আমেরিকান ডলার এর বিনিময়ে তেল বিক্রী করবেন না। এই সাহসী কিন্তু বোকা লোকটি'র নাম সাদ্দাম হোসেন। তার করুণ পরিণতির কথা আমরা সকলেই জানি আমরা এও জানি, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তৈরী করে তাকে ক্ষমতাচুত এবং পরবর্তীতে হত্যা করা হয়েছিল, তা ছিল একটা জঘন্যতম মিথ্যাচার।

গাদ্দাফির এই পরাজয়, এই মৃত্যু এবং তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ের ঘটনাবলী নিয়ে ইতি মধ্যেই নানা জন, নানা পন্ডিত নানা ধরনের মন্তব্য, নানা রকমের ব্যাখ্যা করে চলেছেন আশ্চর্য হলেও সত্য যে সব চাইতে সাড়া জাগানো এবং মোক্ষম কথাটি বোধ হয় বলে ফেলেছেন সভ্য দুনিয়ার কাছে সবচে রগচটা, অসংলগ্ন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইল।

ঠিক যে সময়টাতে Nato জাতিসংঘ আরোপিত no fly জোনে এর অজুহাতে গাদ্দাফি বাহিনী এমনকি তার বাড়ীতে ক্রুজ মিসাইল দিয়ে হামলা শুরু করলো, ঠিক সেই সময় কিম এই ঘটনা তার এবং উত্তর কোরিয়া'র জন্যে এবং অনান্য রাষ্ট্র যারা পশ্চিমা শক্তির অসন্তোষের চোখে পড়তে পারে, তাদের জন্যে কী বার্তা নিয়ে আসতে পারে সেটা খুবই ভালো ভাবে বুঝতে পেরেছিলেন। নাম প্রকাশ ছাড়া উত্তর কোরীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বসন্তকালীন এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় লিবিয়া'র ঘটনাবলী থেকে পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্রের মহামূল্যবান কিছু শিক্ষনীয় আছে।
কি সেই মহা মূল্যবান বার্তা?

গাদ্দাফি'র উচিত ছিল লিবিয়া'র পরমাণু প্রযুক্তিকে বন্ধ না করে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া।
আজ যদি গাদ্দাফির হাতে নুন্যতম মাঝারি পাল্লার পরমাণু অস্ত্রও থাকত, যা দিয়ে ইতালিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাটিকে ধংস কিংবা ফরাসী উপকূলে থাকা মার্কিন নৌ জাহাজকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া যেত, তাহলে সন্দেহাতীত ভাবে বলে দেয়া যায়, মার্কিন বাহিনী বা তাদের দোসর ইতালীয় বা ফরাসী হানাদার রা দুঃস্বপ্নেও লিবিয়ার বিরুদ্ধে এই আগ্রাসনের কথা চিন্তা করত না। গাদ্দাফি যদি তার এবং তার রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার কথা মাথায় রেখে একটি ছোটখাটো কিন্তু পরাক্রমশালী পরমাণু বোমা বানিয়ে রাখতেন, তাহলে আজ তাকে এই করুণ পরিণতির মুখোমুখি হতে হত না।

কিন্তু বাস্তবে কি ঘটল? গাদ্দাফি এই প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা ফেলে তাদেরকে বিশ্বাস করে তার পরমাণু প্রযুক্তিটিকে অঙ্কুরেই ধংস করে দিলেন। এই প্রতারক শক্র তাকে এই বলে ভুলিয়ে দিল, তুমি পরমাণু প্রযুক্তি বন্ধ কর, আমরা তোমাকে আমাদের সভ্য সমাজে আলিঙ্গন করব। ২০০৩ সালে গাদ্দাফি যেদিন এই চুক্তিতে সই করেছিলেন, সেদিন থেকেই তার নিজের এবং দেশের প্রতিরক্ষার একমাত্র কার্যকর উপাদানটিকে তিনি হাতছাড়া এবং বিসর্জন দিয়ে দিয়েছিলেন।

উত্তর কোরিয়ার সেই মুখপাত্রটি আরো বলেছিল, পরমাণু প্রযুক্তি বাতিলে লিবিয়াকে চাপ দিয়ে বাধ্য করা পশ্চিমা শাসক চক্রের লিবিয়া'য় সামরিক অগ্রাসনেরী নামান্তর কারণ যে মুহূর্তে লিবিয়া'র গাদ্দাফি এই পরাশক্তিকে অখুশি করার মত, তাদের স্বার্থে আঘাত লাগার মত কোনো কাজ করে ফেলার চিন্তা ভাবনা প্রকাশ করে ফেললেন, সে মুহূর্তেই এই নির্লজ্জ আগ্রাসী শক্তির খড়গ লিবিয়ার ঘাড়ে পড়ল।

পশ্চিমা শক্তির সরাসরি সহায়তা ছাড়া লিবিয়া'র এই সব পাড়ার মাস্তানদের পক্ষে কোনদিন গাদ্দাফি'র পতন তো দুরের কথা, তার ত্রি-সীমানাতেও যাওয়া সম্ভব ছিলনা। আরো স্পষ্ট করে বলতে হয়, যেদিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের drone ব্যবহার দীগুন এ উন্নীত করলো, সেদিন থেকেই যুদ্ধের অঙ্ক গাদ্দাফীর বিরুদ্ধে চলে গেল।

কিন্তু এই বিভীষিকার ভয় উত্তর কোরিয়ার সিংহ মানব কিম এর নেই। হতে পারে সে কঠিন, অগণতান্ত্রিক, অত্যাচারী, স্বৈরাচারী, কিন্তু তার হাতে আছে প্রতিরক্ষার মক্ষম অস্ত্র, আলাদিনের চেরাগ। তিনি সেই মহা শক্তিধর যিনি একটি বোতাম টেপার মাধ্যমে দক্ষি। কোরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাটি কিংবা জাপান সাগরে ভেসে বেড়ানো সমগ্র মার্কিন রণতরীকে এক মুহূর্তে ধুলায় পরিণত করতে পারেন।

আজকে যুক্তরাষ্ট্র নামক এই পরাশক্তিকে কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়. কারো পক্ষে সম্ভব নয় তার দ্রুতগতির, দূর পাল্লার অদৃশ্য মিসাইলকে ঠেকানো, কারো পক্ষেই তার সুপার সনিক যুদ্ধ বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করা সম্ভব নয়। একমাত্র অস্ত্র, যা এই পরাশক্তির আগ্রাসন থেকে ছোট, স্বাধীন একটি রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে পারে তা হলো পারমাণবিক অস্ত্র।

কেউ কি কখনো উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন বা অন্য কোনো সহযোগী পরাশক্তিকে কোনো no fly zone এর ভয় দেখাতে শুনেছেন? কিংবা কোনো drone দিয়ে কোনো অট্টালিকা বা অন্য কোনো সামরিক বস্তুতে আঘাত করার মত দুঃসাহস? অথবা কোনো সামরিক আঘাত করবার হুশিয়ারী? উত্তর কোরিয়ার চার দিক ঘিরে মার্কিন ঘাটি আর নৌ বহর, কিন্তু তাদের দৌড় ওই টুকু ঘুরাঘুরির মধ্যেই সীমিত।

গাদ্দাফি ভালো ছিল কি খারাপ, দেশের এবং জনগণের জন্যে তিনি কি করে গেছেন, তার সাক্ষ্য এই রচনার শুরুতেই বর্ণিত আছে। শুধু এই টুকু লিখেই শেষ করছি, ২০০৩ সালে পরমাণু প্রযুক্তি বন্ধ করে যে ভুলটি গাদ্দাফি করেছিলেন, তার প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা শক্তির কু'নজরে পড়বার মত কোনো বৈদেশিক নীতি নেয়া তার জন্যে কি ভয়াবহ ছিল, নিজের জীবন দিয়ে তিনি তা প্রমাণ করে গেলেন।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/ShahidKhandkerTuku
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
Toronto,Canada থেকে Golam Mohammed লিখেছেন, ৩১ অক্টোবর ২০১১; রাত ০১:৫০
Many thanks Tuku bhai for this informative article.People all over the world should know what these Western powers headed by United States are doing.
70945
Barisal থেকে Rezaul Islam লিখেছেন, ০১ নভেম্বর ২০১১; সকাল ১১:৫৩
The powerful America & Its collaborators are manipulating actual incident before invade against any country one by one. But people of middle east are foolishly trapping by the Western.
71023
ঢাকা থেকে রবিউর হাছান লিখেছেন, ০১ নভেম্বর ২০১১; দুপুর ০১:০৮
ধন্যবাদ শহীদ খন্দকার, তথ্যবহুল লেখার জন্য।
71033
করোনেশন রোড, মোমেনশাহী থেকে আব্দুল্লাহ তাসনীম লিখেছেন, ০১ নভেম্বর ২০১১; রাত ১০:০১
আমরা দুআ ও প্রত্যাশা করি, লিবিয়ার মহান নেতার আত্না যেন মাগফেরাত পায়। এবং লিবিয়ার জনগণ যেন তাদের স্বরূপ, পরিচয়, অর্জন ইতিহাস, ঐতিহ্য রক্ষা করে চলে। এখন দেখার বিষয় হলো-সে দেশের ভবিষ্যত নেতৃত্ব দেশটিকে তেলচোরা চক্র-পশ্চিমাদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে কতটুকু রক্ষা করতে পারে এবং ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা করে চলার নীতি কতটুকু অনুসরণ করে চলে। আল্লাহ মুসলিম উম্মাহর সহায় হোন এবং মুসলিম শাসকদেরকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
71064
new york থেকে Amirul marup লিখেছেন, ০৬ নভেম্বর ২০১১; সকাল ০৭:৪০
apnake onak dornobad sotik kothati opstapon korarjonoo.
71302
UAE থেকে Monkar লিখেছেন, ০৯ নভেম্বর ২০১১; সকাল ০৮:২০
Not really!
Mujib/Zia vanished.
Still no lesson.
Do not blame only America: Muscles dominate everywhere, anywhere, bottom to the top; just look around (including in Bangladesh)
71428
UK থেকে mansoor লিখেছেন, ০৯ নভেম্বর ২০১১; সকাল ০৯:৫৭
Gaddafi 's only mistake is - he would not tolerate any opposition.

In my knowledge one example can be given on his contradictory mentality : ( taken from participator of Islamic org of his biography) An Islamic conference was organised by Libiya in 1972 or 1973 under the banner of OIC. Libiya was the host country but most interesting matter is Gaddafi went to London and styed there till it finished during whole session. By this gesture what he meant ?
71430
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy