রবিবার, ২৩ মাঘ ১৪১৯; ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২; রাত ১০:০৪ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

নামকরণ-নামবদল

শামস মোহাম্মদ

অবশেষে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হতে ‘জিয়া’ বাদ দেয়া হয়েছে। নতুন নাম ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ সাইনবোর্ড প্রতিস্থাপন করা হয়েছে সোমবার রাতের আঁধারে।

মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে রাজধানী থেকে শুরু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের আগের নাম বদলে শেখ মুজিব, তাঁর স্বজন ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে নামকরণ চলছে জোরেসোরে। ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে যে সকল স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল, সেসব স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে আগের নাম পুনর্বহাল করা হবে। এর মধ্যে কেবল জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে ১২০০ কোট টাকা খরচ হবে বলে খবর বেরিয়েছে। নামবদল নিয়ে ক্রমশঃ রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে আর সেই সাথে সরগরম হয়ে উঠেছে আলোচনার টেবিল।
বিএনপি ইতোমধ্যেই জিয়া বিমান বন্দরের নাম পরিবর্তনকে প্রতিহিংসামূলক আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে দেশব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচী দিয়েছে। এমনকি তা সরকার পতনের আন্দোলনের দিকেও যেতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন বিএনপিকে ‍শিক্ষা দিতেই এ নাম বদল। অবশ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রী-উপদেষ্টার বক্তব্য জিয়াউর রহমানের নামে কোনো প্রতিষ্ঠান থাকবে না, সব বদল করা হবে। এতে করে এটা পরিস্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছে নামবদল নিয়ে সরকার অত্যন্ত কঠিন ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

প্রেক্ষাপট

নামকরণ এদেশে নতুন কোন বিষয় নয়। বিভিন্ন সময়ে নানা প্রেক্ষাপটে স্থান ও স্থাপনার নামকরণ হয়েছে। আবার নামকরণের প্রতিবাদে গণআন্দোলনেরও ইতিহাস রয়েছে। শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের শেষদিকে ১৯৯৯ সালে সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নামবদলকে কেন্দ্র করে রক্তস্রোত বয়ে গিয়েছিল। সেই তীব্র গণআন্দোলন সিলেটসহ সারাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশের আন্দোলনের ইতিহাসে সেটা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হয়ে আছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের শ্লোগান নিয়ে আওয়ামীলীগ নির্বাচনী ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিচার বহির্ভূত হত্যা বন্ধ করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু সরকার গঠনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও কেবল বঙ্গবন্ধু হত্যার রায় কার্যকর করা ছাড়া বাকী প্রতিশ্রুতির তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অথচ ক্ষমতা নেয়ার পরপরই সরকার পুরোনো প্রতিষ্ঠানের ‘নামকরণ-নামবদল’ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। নামবদলের এ তালিকায় খেলার মাঠ, সেতু, ছাত্রাবাস, সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা, এমনকি প্রকল্পের নামও বাদ যাচ্ছে না। নামবদলের বাড়াবাড়িতে দেশ অশান্ত হয়ে উঠেছে। জিয়া বিমানবন্দরের নামবদলের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের ফলে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি, টিপাইমুখ বাঁধ, তেল ও গ্যাস রপ্তানী, ভারতের সঙ্গে চুক্তিসহ অসংখ্য জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আড়ালে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যেভাবে শুরু:

বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের আগে ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়, পরবর্তীতে যা স্বনাম ছাপিয়ে মূখ্য হয়ে ওঠে। আর স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতেই পূর্ব পাকিস্তানের নাম পরিবর্তন হয়ে বাংলাদেশ হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হয় মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায়। পরে বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে ‘মুজিবনগর’ রাখা হয়। দেশ স্বাধীন হবার পর দেশের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপকভাবে নামকরণ ও নামবদল করা হয়। ঢাকার জিন্নাহ এভিনিউ পাল্টে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ রাখা হয়। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের জিন্নাহ সড়কের নাম পাল্টে হয় শেখ মুজিব সড়ক করা হয়। আর চট্টগ্রামের ইকবাল রোড হয়ে যায় শেখ মুজিব রোড। এভাবে সারা বাংলাদেশে প্রায় চার সহস্রাধিক স্থাপনার নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করা হয়েছিল। নাম পরিবর্তনের জোয়ারে জাহাঙ্গীনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ফজলুল হক মুসলিম হলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ বাদ দেয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম থেকে ‘রব্বি জিদনী এলমান' তুলে দেয়া হয়। ধর্মনিরপেক্ষতার ধাক্কায় নামবদলের সময় উপমহাদেশের খ্যাতিমান মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও প্রখ্যাত মুসলিম মনিষীদের নাম পরিবর্তন করা হলেও অমুসলিম হিন্দু নেতাদের নামবদল হয়নি। ঢাকার পুরাতন আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে স্থাপিত ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজের নামের সাথে ইসলামিক শব্দটি থাকায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে কবি নজরুল কলেজ (নজরুল ইসলাম নয়) ।
জিয়াউর রহমানের আমলে তাঁর নামে নামকরণের প্রবণতা ছিলনা। প্রেসিডেন্ট জিয়ার মৃত্যুর পর বিচারপতি সাত্তার ১৯৮১ সালে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ১৯৭৯ সালে জিয়ার হাতে গড়া শিশু পার্ককে জিয়ার নামে নামকরণ করেন।
এরশাদ ক্ষমতায় গিয়ে নামকরণ অব্যাহত রাখেন। তবে তিনি কারও নাম বদল করেননি। তিনি বনানীতে একটি স্টেডিয়াম তৈরী করে নিজের নামে এরশাদ আর্মি স্টেডিয়াম রাখেন। আর এ নামটি টিকিয়ে রাখতে কৌশল হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের নামে হলসহ কিছু স্থাপনার নাম দেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এরশাদের পতন হলে দেশব্যাপী বিভিন্ন স্থাপনা থেকে এরশাদের নাম মুছে ফেলা হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপির সময় এ স্টেডিয়ামটি বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম নামে পরিচিত হয়। এ আমলে জিয়ার নামে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে দেখতে পায় নামকরণের জন্য কোন প্রতিষ্ঠানই বাকী নেই। নতুন প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা তৈরী করে তা নামকরণ এদেশের প্রেক্ষাপটে একদিকে যেমন ব্যয়বহুল তেমনি সময় সাপেক্ষ। তাছাড়া বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়ে। এসব কারণে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপকভাবে পুরানো স্থাপনার নামবদল করে বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণ করে। শুরু হয় নামকরণ ও নাম বদলের রাজনীতি। ২০০১ সালে চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় গিয়ে এর মধ্যে কিছু নাম বদলে দেয়। ২০০৯ সালে দিনবদলের শ্লোগান নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে বিএনপির দেয়া নাম মুছে নিজেদের দেয়া নামের সাইনবোর্ড স্থাপন করায় অতীব তৎপর হয়ে ওঠে।

ম্যূরাল ভাংচুর দিয়ে শুরু:

২০০৯ সালের ১২ মার্চ রাতে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরের লাউঞ্জের ভেতর থেকে জিয়াউর রহমানের ম্যূরাল ভেঙ্গে ফেলা হয় বিমানমন্ত্রীর নির্দেশে। এর মাধ্যমেই শুরু হয় দেশব্যাপী জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ম্যূরাল ভাংচুর। এরপর গত ৩রা আগস্ট গভীর রাতে ভেঙে ফেলা হয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে স্থাপিত জিয়াউর রহমানের দেয়ালচিত্রটি। মুখে কাপড় বেঁধে একদল লোক ড্রিল মেশিন দিয়ে ভেঙে ফেলে দেয়ালচিত্রের প্রতিকৃতি। গতবছর ১৬ মে রাতে গাজীপুরের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গেট সংলগ্ন স্থান থেকে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আরেকটি ম্যুরাল ভেঙ্গে ফেলে। গতবছর ২৯ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলের সামনে স্থাপিত খালেদা জিয়ার ম্যুরাল ভেঙে ফেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার শেষ মূহুর্তে সারাদেশে অসংখ্য ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে যার বেশিরভাগ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নেতাকর্মীরা ভেঙ্গে ফেলে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ক্ষমতা ছাড়ার ছয় দিন আগে স্বাধীনতা ফলকের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এ ফলকটির কাঁচ ভেঙ্গে লেখা কালো কালি দিয়ে মুছে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে ওই ফলকও ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। ওদিকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় গিয়ে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ভেঙ্গে ফেলা নামফলক ও ভিত্তিপ্রস্তর পুণঃস্থাপন করে।

বঙ্গবন্ধু পরিবারবর্গের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান

শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে সারাদেশে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে। দেশের দুটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রয়েছে বঙ্গবন্ধুর নামে। এর একটি গাজীপুরের সালনায় বঙ্গবন্ধু স্নাতোকোত্তর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পূর্বে যার নাম ছিল ‘পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ ইন এ্যাগ্রিকালচার’ বা ইপসা। ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার একে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করে বঙ্গবন্ধুর নামে রাখে। অন্যটি শাহবাগস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় যা আগে ছিল পিজি হাসপাতাল। বঙ্গবন্ধুর নামে তিনটি সরকারী কলেজ রয়েছে। এর একটি বগুড়া সরকারী মহিলা কলেজ, একটি গোপালগঞ্জে এবং অন্যটি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে। বঙ্গবন্ধুর নামে সারাদেশে অন্তত ৩৪টি বেসরকারী কলেজের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলো ঢাকার মীরপুর ও ধামরাইয়ে, ময়মনসিংহের তারাকান্দায়, জামালপুরে, টাঙ্গাইলের সখীপুরে, ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে, গাজীপুরে, রাজবাড়ি, শরিয়তপুরে, মেহেরপুরের দরিয়াপুরে, গোপালগঞ্জের পাটগাতি গ্রামে, সিরাজগঞ্জ সদরে, রাজশাহীতে, নাটোরের চন্দ্রকোলায়, রংপুরের খালাসপীরে, নীলফামারীর শিমুলবাড়িতে, দিনাজপুরে, ঠাকুরগাঁওয়ে, চাঁদপুরের কচুয়ায়, দক্ষিণ কচুয়ায়, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ও পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায়। বঙ্গবন্ধুর নামে মহিলা কলেজ রয়েছে সিরাজগঞ্জে, মংলায়, বাগেরহাটের চিলতমারিতে, সাতক্ষীরায়, জামালপুর সদরে। কারিগারি কলেজ রয়েছে লাঙ্গলকোটে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ও ঢাকার গুলশানে। বঙ্গবন্ধুর নামে বগুড়ায় একটি কৃষি কলেজ রয়েছে। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর নামে মোট পাঁচটি আবাসিক ছাত্রাবাস রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নামে পঞ্চগড়ের চাকলারহাটে একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও রংপুরের পীরগঞ্জে একটি উচ্চ বিদ্যালয়সহ দেশব্যাপী অনেক স্কুল রয়েছে। বগুড়ায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু কৃষি কলেজ’। রংপুর পৌরসভার অধীনে ‘বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল’ রয়েছে। পাকিস্থান আমলের গোপালগঞ্জে ‘কায়দে আজম মেমোরিয়াল কলেজ’কে স্বাধীনতার পরে ‘সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজ’ করা হয়। খুলনায় স্মিথ সড়কের নাম দেয়া হয়েছে শেখ মুজিব সড়ক।

ভোলার মনপুরার পচাকুড়ালিয়া নামের একটি স্থানে ‘শেখ মুজিব চিন্তানিবাস’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে এখানে বসে মুজিব জাতীয় বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করতেন।

বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসার নামে ভোলা ও গোপালগঞ্জে দুটি সরকারী মহিলা কলেজ রয়েছে। এ নামে কমপক্ষে আটটি মহিলা কলেজ ও একটি ফিসারিজ কলেজের সন্ধান পাওয়া গেছে। মহিলা কলেজগুলো নাটোরের বরাইগ্রামে, টাঙ্গাইলে, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায়, বগুড়ার সোনাতলায়, কুমিল্লার সদরে, যশোরের শার্শায়, ফকিরহাটে ও টেকনাফের উখিয়ায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ফজিলাতুন্নেসার নামে জামালপুরের মেলান্দহে একটি ফিসারিজ কলেজ রয়েছে। এছাড়াও তার নামে নিলফামারীরর ডিমলায় একটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এবং গোপালগঞ্জের মুকসেদপুর, শরীয়তপুর ও সিলেটের বালাগঞ্জে একটি করে মহিলা সিনিয়র মাদ্রাসা রয়েছে। শিবচরে একটি হাইস্কুল রয়েছে তাঁর নামে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আবাসিক ছাত্রাবাস রয়েছে ফজিলাতুন্নেসার নামে। শেখ মুজিবের পিতা শেখ লুৎফর রহমানের নামে কোটালিপাড়ায় একটি সরকারী কলেজ রয়েছে।

শেখ হাসিনার নামে মাদারীপুরে, গোপালগঞ্জে ও বাগেরহাটে অন্তত তিনটি কলেজ রয়েছে। এছাড়াও দেশের সমগ্র দেশে তাঁর নামে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। মাদারীপুর ও কোটালিপাড়ায় শেখ রাসেলের নামে দুটি কলেজ, শেখ কামালের নামে জামালপুরের ঘোষপাড়ায় একটি কলেজ রয়েছে। গোপালগঞ্জে যুবউন্নয়ন কেন্দ্র ও স্টেডিয়ামকে শেখ কামালের নামে পরিবর্তন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসেরের নামে বাগেরহাটের কচুয়ায় একটি মহিলা কলেজ রয়েছে। ঢাকার ধানমন্ডির আবাহনী মাঠের নাম সম্প্রতি পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব মাঠ’। গত আওয়ামী লীগ সরকার টুঙ্গিপাড়ায় শেখ রাসেল দু:স্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পূনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। এছাড়াও সম্প্রতি এসটি খিজির-১ ফেরিকে এসটি শেখ কামাল ফেরি, এসটি খিজির-২ ফেরিকে এসটি শেখ জামাল ফেরি, এসটি খিজির-৩ ফেরিকে এসটি শেখ রাসেল ফেরি, এসটি খিজির-৪ ফেরিকে এসটি শহীদ সুকান্ত বাবু ফেরি (আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে) নামবদল করা হয়।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে বঙ্গবন্ধুর নামে আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান মন্ত্রিসভা।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার নামে প্রতিষ্ঠান

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে দু’টি সরকারী কলেজ রয়েছে। এর একটি ফেনীতে, অন্যটি বগুড়া মেডিকেল কলেজ। এছাড়াও তাঁর নামে অন্তত ২৫টি বেসরকারী কলেজ রয়েছে। এগুলো ঢাকার কেরানীগঞ্জে, জামালপুর, রাজশাহীর চারঘাট, জয়পুরহাট, নাটোরের মিস্ত্রিপাড়া, বগুড়ার গাবতলীর নাসিরপুর, গাবতলী সদর, বাগবাড়ি, নীলফামারী, ভোলার চরফ্যাশনে, পিরোজপুরের নাজিরপুর, বরিশালের সাহেবেরহাট, আগৈলঝাড়ার ছায়াগ্রামে, খুলনার দৌলতপুর, সাতক্ষীরার তালা, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, কুমিল্লার সদর, চান্দিনা, হবিগঞ্জের লাখাই, কক্সবাজারের পেকুয়ায় ও পঞ্চগড়ের টুনিরহাটে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তাঁর নামে চারটি মহিলা কলেজ রয়েছে ঢাকার মীরপুরে, ডেমরায়, টাঙ্গাইল ও ভোলা সদরে। ময়মনসিংহে রয়েছে শহীদ জিয়া টেকনিক্যাল কলেজ, যাত্রাবাড়িতে রয়েছে শহীদ জিয়া গার্লস স্কুল ও কলেজ এবং কেরানীগঞ্জ এলাকায় চারটি উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়াও বগুড়া সেনানিবাসে, খুলনার পাইকগাছার গদাইপুর, মহেশ্বরপাড়া, গৌরনদীর ছয়গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় স্কুল রয়েছে। জিয়াউর রহমানের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে, কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ও টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট চারটি আবসিক ছাত্রাবাস রয়েছে। এছাড়াও চারদলীয় জোট সরকার বরিশালে শহীদ জিয়াউর রহমান নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছে, যা কয়েকদিন আগে বর্তমান সরকার পরিবর্তন করেছে। ময়মনসিংহের মেডিকেল কলেজ এলাকায় জিয়াউর রহমানের নামে একটি অডিটোরিয়াম রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে জিয়ার নামে একটি সার কারখানা রয়েছে। রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে একটি ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের একটি অডিটোরিয়ামের নাম রাখা হয়েছে জিয়ার নামে। এছাড়াও ঢাকার নিউ এয়ারপোর্ট সড়কটি জোট সরকারের সময়ে রাখা হয় ‘বীরউত্তম জিয়াউর রহমান সড়ক’। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পরে এ নামফলকটি দু’বার ভাংচুরের শিকার হয়। গাজীপুরের কবীরপুরে ১০৫ একর জমির ওপর ‘জিয়া ফিল্ম সিটি’ নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের সরকার এ জমি এফডিসিকে দিয়েছিল। বর্তমান সরকার এর নামটি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।চট্টগ্রামে শহীদ জিয়া স্মৃতি জাদুঘর রয়েছে নগরীর পুরাতন সার্কিট হাউজে। ১৯৮১ সালে এখানেই তিনি সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছিলেন। এছাড়াও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ঐতিহাসিক স্থান কালুরঘাটে বিএনপি সরকার নির্মান করেছে জিয়াউর রহমান কমপ্লেক্স।

খালেদা জিয়ার নামে নাটোরে, সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ও ফেনীতে মোট তিনটি মহিলা কলেজ আছে। তাঁর নামে রাজধানীতে একটি মেডিকেল কলেজ করা হলেও বর্তমানে তা পাল্টে ফেলা হয়েছে। খালেদা জিয়ার নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজে মোট পাচঁটি আবাসিক ছাত্রবাস রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খালেদা জিয়ার নামে একটি হল প্রতিষ্ঠার জন্য ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হলেও তা এখনো তৈরী হয়নি। এছাড়াও তাঁর নামে পঞ্চগড়ের ভজনপুরে উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য বিগত জোট সরকারের সময় বিভিন্ন মহল থেকে খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানর নামে অনেক প্রতিষ্ঠানের নামকরন করার চেষ্টা হয়। এর প্রেক্ষিতে সরকারের অনুমতি ছাড়া এরূপ নামকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে এ উদ্যোগে কিছুটা ভাটা পড়ে।

এরশাদের নামে:

এরশাদের নয় বছরের আমলে তার নামে টঙ্গী, খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানে দু:স্থদের পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘এরশাদ নগর’ স্থাপন করা হয়েছিল। রংপুরে এরশাদের বাসভবনের পথে ‘মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মোক্তার সড়ক’ নাম পাল্টে ‘এরশাদ সরণী’ রাখে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। তবে স্থানীয়রা এ নাম প্রত্যাখান করায় নামকরণ সফল হয়নি। এরশাদের পিতা মকবুল হোসেনের নামে এখানে একটি এতিমখানা আছে। এরশাদের নামে মেহেরপুরের গাংনীতে একটি ও কুমিল্লার বুড়িচংয়ে একটি বেসরকারী কলেজ রয়েছে। এছাড়াও তাঁ‍র নামে বেশকিছু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

রওশন এরশাদের নামে ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকায় একটি মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয় ঐ সময়। তবে ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে এর নাম পাল্টে বেগম রোকেয়ার নামে রাখে। ভোলায় রওশন এরশাদের নামে একটি বালিকা বিদ্যালয় রয়েছে।

নামবদলের প্রতিযোগিতা যেভাবে চলছেঃ

সম্মেলন কেন্দ্র ও জিয়া উদ্যান

রাজধানীতে জিয়ার মাজারকে কখনোই আন্তরিকভাবে মেনে নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়েই রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়ার মাজারকে জৌলুসহীন করার পদক্ষেপ নেয়। এছাড়াও সংসদের আশপাশে বঙ্গবন্ধুর নামে স্থাপনা তৈরীর উদ্যোগ নেয়া হয়। একপর্যায়ে জিয়ার মাজারে যাওয়ার ব্রিজটি রাতের আঁধারে খুলে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। এর প্রতিবাদে বিএনপি তখন ব্যাপক আন্দোলন করে।

ন্যাম সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গণচীনের সহায়তায় শেরেবাংলানগরে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় শেখ হাসিনার প্রথম আওয়ামী লীগ সরকার। এসময় এর রাখা হয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। পরে ২০০২ সালের ১২ জানুয়ারী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এটি ‘বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র’ হিসাবে উদ্বোধন করেন। ২০০৯সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেই এ সম্মেলন কেন্দ্রের নাম পুনরায় বঙ্গবন্ধুর নামে বহাল করে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়া উদ্যানের নাম পাল্টে এর নাম দেয় চন্দ্রিমা উদ্যান। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার আবার আগের নাম জিয়া উদ্যান বহাল করে। এখন এ পার্ককে আবার চন্দ্রিমা উদ্যান করার প্রক্রিয়া চলছে।

নভোথিয়েটার

সংসদ ভবনের পূর্ব পাশে প্রতিষ্ঠিত দেশের একমাত্র নভোথিয়েটারটির নাম এ পর্যন্ত চারবার বদল করা হয়েছে। এর বর্তমান নাম ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার’। জানা গেছে, মহাকাশ গবেষণার জন্য ১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকার ৫২ কোটি টাকার এ প্রকল্প শুরু করে। তখন এর নাম দেয়া হয় ‘ঢাকা নভো থিয়েটার’ । তবে তারা কাজ শুরু করে যেতে পারেনি। ২০০১ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা ছাড়ার কিছু দিন ঢাকা নভোথিয়েটার নাম পাল্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে রাখে। পরে ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় গিয়ে মূল নাম ‘ঢাকা নভোথিয়েটার’ ফিরে যায় । এর কিছুদিন পরেই এ নামটি পাল্টে মাওলানা ভাসানীর নামে রাখা হয়। ১২০ কোটি টাকা খরচে করে প্রকল্পটি শেষ করে ২০০৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর শেষ করে জোট সরকার।

খালেদা জিয়া মেডিক্যাল কলেজ

মহাজোট সরকার গত ১ জুন শেরেবাংলা নগরস্থ ‘বেগম খালেদা জিয়া সরকারী মেডিক্যাল কলেজ’ নাম পরিবর্তন করে। চার দলীয় জোট সরকার ২০০৬ সালের ৬ মে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে এ মেডিকেল কলেজটি উদ্বোধন করে। উদ্বোধনের দিনে আওয়ামী নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দীর নাম পরিবর্তন করে খালেদা জিয়ার নামে কলেজ করার প্রতিবাদ জানান। এসময় চারদলীয় জোট সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় আগের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নাম ঠিকই রয়েছে। এ ভবনে অস্থায়ীভাবে খালেদা জিয়া মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে।

যমুনা সেতু

যমুনা নদীর ওপর স্থাপিত দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ও দেশের সবচেয়ে বড় সেতুর নামকরণ নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হয়েছে। ১৯৯১র বিএনপি সরকার ‘যমুনা বহুমুখি সেতু’ হিসাবে কাজ শুরু করে। তখন পাঁচ টাকার ধাতব মুদ্রার ওপর সেতুর ছবি ও নাম দিয়ে বাজারে ছাড়া হয়। ১৯৯৪ সালে সেতু নির্মাণকালে পূর্ব প্রান্তে খালেদা জিয়া এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় গিয়ে সংসদে ‘বঙ্গবন্ধু সেতু’ নাম পাস করিয়ে ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। পরে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর আবার পুরোনো নামে ফিরে যায় ‘যমুনা বহুমুখি সেতু’। বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর গত ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারী ‘বঙ্গবন্ধু সেতু’ নাম পুন:স্থাপন করা হয়।

মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও শেখ হাসিনা যুবকেন্দ্র

২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মা বেগম ফজিলাতুন্নেসার নামে রাজধানীর মিরপুরে একটি ও সাভারের জিরানীতে একটি মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে। ২০০১ সালে বিএনপির সময়ে নামদু’টি বদলে মিরপুরের কেন্দ্রটির নাম ‘মহিলা কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ ও জিরানীর কেন্দ্রটির নাম দেয়া হয় ‘বিবি আয়শা প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স’।২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেই ফজিলাতুন্নেসার নাম পূনর্বহাল করেছে। শেখ হাসিনার প্রথমবারের সরকার ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সাভারস্থ জাতীয় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির নাম দেয় শেখ হাসিনা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে শেখ হাসিনার নাম মুছে জাতীয় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ফেরত যায়। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই এটি শেখ হাসিনা যুব কেন্দ্র নাম ফিরে পেয়েছে।

পিজি হাসপাতাল

শেখ হাসিনার প্রথম সরকার শাহবাগে অবস্থিত দেশের একমাত্র চিকিৎসা গবেষণার প্রতিষ্ঠান আইপিজিএমআর বা পিজি হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে’। যদিও লোকজন এখনও এ প্রতিষ্ঠানকে পিজি হাসপাতাল নামেই চেনে। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পিজি হাসপাতালে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এজন্য কর্মচারীদের আন্দোলনও হয়। তবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার কারণে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে বঙ্গবন্ধুর নামে বিশ্ববিদ্যালয় বহাল থাকে। ভারত, পাকিস্তান সহ ‍বিশ্বের বহু দেশেই চিকিৎসাশাস্ত্রে গবেষনার জন্য আইপিজিএমআর নামেই প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোথাও এ নাম পরবর্তন হয়নি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশই একমাত্র ব্যতিক্রম।

নৌবাহিনীর রণতরী

২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দক্ষিণ কোরিয়ার দাইয়ু কোম্পানী থেকে একটি ফ্রিগেট কিনে ‘বিএনএস বঙ্গবন্ধু’ নাম দিয়ে নৌবাহিনীতে যুক্ত করে। পরে চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় গিয়ে এ ফ্রিগেট কেনার ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে এবং এর নাম পাল্টে ‘বিএনএস খালিদ বিন ওয়ালিদ’ রাখে। আরো পরে তা নৌবাহিনী থেকে ডিকমিশন করা হয়। ২০০৭ সালের ১২ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ ফ্রিগেটটি চট্টগ্রামের ঈশা খান জেটিতে রিকমিশন দিয়ে নৌবাহিনীতে ফের যুক্ত করে, তবে খালিদ বিন ওয়ালিদ নামই বহাল থাকে। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার নাম পাল্টে আগের নাম ‘বিএনএস বঙ্গবন্ধু’ পুনবর্হাল করে।

জাতীয় স্টেডিয়াম

১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামের নাম দেয় ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম’। ১৯৯৮ সালে মিনি বিশ্বকাপের আগে ভিআইপি’র ১ নং এবং মশাল গেটে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়। ২০০২ সালে বিএনপি সরকার বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির পাশে জিয়াউর রহমানের একটি প্রতিকৃতি তৈরি করে যা গত বছর মহাজোট সরকার ভেঙ্গে ফেলে।

১২ স্টেডিয়ামের নামবদল একটি আদেশে

২৮ জুন ২০০৯ সরকার এক ঘোষণায় ১২ টি স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এক ঘোষণায় বলা হয়- এসব স্টেডিয়াম আগের নামে পরিচিত হবে। এ ঘোষণার ফলে-
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়াম বঙ্গবন্ধুর সহচর জহুর আহমেদ চৌধুরীর নামে,
খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ আবু নাসেরের নামে,
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম শহীদ কামরুজ্জামানের নামে,
বরিশাল জেলা স্টেডিয়াম বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের নামে,
কিশোরগঞ্জ জেলা স্টেডিয়াম শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের নামে,
রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স বঙ্গবন্ধুর পূত্রবধু সুলতানা কামালের নামে,
নরসিংদী জেলা স্টেডিয়াম আওয়ামী লীগ নেতা মুসলেহ উদ্দিন ভূইয়ার নামে,
গাইবান্ধা জেলা স্টেডিয়াম গণপরিষদের স্পীকার শাহ আবদুল হামিদের নামে,
ফেনী জেলা স্টেডিয়াম ভাষা শহীদ আবদুস সালামের নামে,
গোপালগঞ্জ স্টেডিয়াম বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামালের নামে,
পঞ্চগড় জেলা স্টেডিয়াম মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের নামে এবং
নাটোর আধুনিক স্টেডিয়াম শঙ্কর গোবিন্দ চৌধুরীর নামে পরিচিত হবে।

এসব স্টেডিয়ামের মধ্যে গত ১ জুলাই শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে জহুর আহমেদ চৌধুরীর নাম ফলক উন্মোচন করেন। ২০০১ সালের ১৭ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জহুর আহমেদের নামেই এ স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করেছিল। তবে ওই বছরের অক্টোবরে চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় গিয়ে এর নাম দেয় বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম।

খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামটির নির্মান কাজ ১৯৮৩ সালে শুরু হলেও ১৯৯৮ সালে শেষ হয়। আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৭ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ভাই শেখ আবু নাসেরের নামে এর নামকরণ করে। পরে ২০০৩ সালে বিএনপি সরকার এর নাম পাল্টে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেনেন্ট মতিউর রহমান বিভাগীয় স্টেডিয়াম রাখে। বর্তমানে এ নাম মুছে ফেলে শেখ আবু নাসেরের নাম লেখা হয়েছে। এভাবে রাজধানীর একমাত্র মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নাম নিয়েও কয়েক দফা টানা হ্যাচড়া হয়েছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার এ কমপ্লেক্সের আগে বঙ্গবন্ধুর পূত্রবধু ক্রীড়াবিদ সুলতানা কামালের নাম জুড়ে দেয়। তবে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়েই এ নাম বাতিল করে আগের নাম বহাল রাখে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ আবারও সুলতানা কামালের নাম জুড়ে দিয়েছে।

এছাড়াও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগের প্রথম সরকার নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা স্টেডিয়ামটিরও নামকরণ করে। আওয়ামী লীগ নেতা শামিম ওসমানের দাদার নামে এর নাম রাখা হয় খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম। তবে বিএনপির সময়ে ওসমানের স্থলে ওসমানী নাম বসিয়ে বাকী শব্দ বাদ দেয়।

আওয়ামী লীগ সরকার কমলাপুরে স্থাপিত একটি স্টেডিয়ামের নাম রাখে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম। আওয়ামী লীগের অভিযোগ, কামাল শব্দটির প্রতি এ্যালার্জির কারণেই বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর স্টেডিয়ামের নাম থেকে কামাল বাদ দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক একটি একটি ফুটবল টুর্ণামেন্টের নাম রাখা হয়েছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলেই এ কাপের খেলা চালু হয়। আর বিএনপি আসলেই বন্ধ হয়ে যায়।
ভৈরব সেতু
কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব সেতুর নামকরণ কয়েকবার হয়েছে। ’৯৬র আওয়ামীলীগ সরকার এর নাম সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ২০০১ সালে বিএনপি এর নাম দেয় ‘চীন বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু’। এ সেতুটির নাম সৈয়দ নজরুল ইসলামের নামে রাখার জন্য বর্তমানে চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম ষ্টেডিয়াম

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এমএ আজিজের নামে রাখার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিশ্রুতি ছিল বলে জানা যায় । তবে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে এমএ আজিজের পরিবর্তে আরেক আওয়ামী লীগ নেতা এমএ হান্নানের নামে রাখে। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামীলীগের দাবী এমএ হান্নানই সর্ব প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে ঢাকাস্থ বিমানবন্দরকে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামকরণের পাল্টা জবাব দিতেই এমএ হান্নানের নামে এ বিমানবন্দর নামকরণ করা হয়। এ নিয়ে চট্টগ্রামে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হলে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামকে এমএ আজিজ স্টেডিয়াম নামকরণ করে। এমএ আজিজ স্বাধীনতার পরপরই মারা যান। এ কারণেই বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় গিয়ে এর নাম পরিবর্তন করেনি। তবে পাকিস্থান আমলে এর নাম ছিল নিয়াজ স্টেডিয়াম।

২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের সময় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে এম এ হান্নানের নাম বদলে বিখ্যাত মুসলিম সুফি শাহ আমানতের নামে রাখে। সুফি সাধক হিসেবে শাহ আমানত (রহ.) চট্টগ্রামবাসীর কাছে সম্মান ও ভক্তির একটি নাম। রাজনৈতিক কারণে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করতেই তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিরোধীদের দাবী। বর্তমান সরকার এটি পরিবর্তন করে এমএ হান্নানের নামে দেয়ার নানা উদ্যোগ থাকলেও এর সঙ্গে একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় সুফীর নাম থাকায় নাম পাল্টানো সহজ হচ্ছেনা। এ কৌশলেই বর্তমানে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে দেশের আরেক সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.) নামে নামকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যাতে বিএনপি আবার ক্ষমতায় গিয়ে নাম পাল্টাতে একই বাধার সম্মুখীন হয়।

ডুলাহাজরা সাফারী পার্ক

কক্সবাজারে স্থাপিত দেশের প্রথম সাফারী পার্কের নামও কয়েকবার বদল হয়েছে। ’৯৬র আওয়ামীলীগ সরকার এর নাম রাখে ‘বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক’। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে এর নাম পাল্টে ‘ডুলাহাজরা সাফারী পার্ক’ দেয়। তবে বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক নামে ফেরত গেছে।

ফেনী কলেজ

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ফেনীর ত্রাস জয়নাল হাজারী গায়ের জোরে ফেনী পাবলিক কলেজের নাম পরির্তন করে নিজের নামে রাখেন ‘হাজারী কলেজ’। ২০০১ সালে বিএনপির সময়ে পুনরায় ‘ফেনী পাবলিক কলেজ’ করা হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এলে এটি ‘হাজারী কলেজ’ পূণঃপরিবর্তন করে।

জিয়ানগর উপজেলা

পিরোজপুরে গত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ইন্দুরকানি উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ‘জিয়ানগর’ রাখা হয়। এখন এ নাম পরিবর্তনের জন্য স্থনীয় পর্যায় থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে অতি সম্প্রতি। বর্তমান সরকার আসার পরে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’টি আবাসিক হলের নাম বদলে গেছে। ছাত্রদের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের নাম বদলে ‘শের-ই-বাংলা হল’ এবং ছাত্রীদের একমাত্র হল ‘চাঁদ সুলতানা হলের’ নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘কবি বেগম সুফিয়া কামাল হল’।

রাজশাহী পার্ক

১৯৯৭ সালে আওয়ামীলীগ সরকার রাজশাহীতে একটি পার্কের নাম রাখে শহীদ কামরুজ্জামান পার্ক। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে নাম পরিবর্তন করে ‘রাজশাহী পার্ক’ নামে। ২০০৯ সালে কামরুজ্জামানের নামই ফিরে এসেছে।

ছাত্রাবাস

সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজের একটি ছাত্রীনিবাসের নাম ছিল শহীদ জিয়াউর রহমান ছাত্রীনিবাস। বর্তমান সরকারের ছয় মাসের মধ্যে এর নাম দুবার বদল হয়েছে। প্রথমে এর নাম বেগম রোকেয়া করা হলেও তা বদলে এখন জাহানারা ইমাম হয়েছে। যশোরের চৌগাছা ডিগ্রি কলেজের একটি ছাত্রাবাসের নাম রাখা হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রাবাস। তবে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা এর নাম পাল্টে ‘শরীয়তুল্লাহ হল’ নাম দেয়। নেত্রকোনা সরকারি কলেজের খালেদা জিয়া হলের সাইনবোর্ডটি সম্প্রতি মুছে দিয়েছে ছাত্রলীগ।

অডিটোরিয়াম

সিরাজগঞ্জ শহরে একটি নতুন অডিটোরিয়াম এখনও চালু না হলেও দুবার নাম পরিবর্তনের মুখে পড়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার এর নাম ক্যাপ্টেন মনসুর আলী অডিটোরিয়াম রেখেছিল। পরে বিএনপি এর নাম পরিবর্তন করে ‘ভাষা শহীদ অডিটোরিয়াম’ করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে ‘ক্যাপ্টেন মনসুর আলী অডিটোরিয়াম’ করে কাজ শেষ করে এনেছে।

খুলনা হাসপাতাল

খুলনা শহরের নব নির্মিত একটি হাসপাতাল নিয়েও নামকরণের রাজনীতি চলছে। বিএনপির সময়ে এর নাম রাখা হয় খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল। বর্তমান সরকার তা বদলে দিয়ে শেখ মুজিবের ভাই শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল রেখেছে।

গড়াই সেতু

কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপরে স্থাপিত একটি সেতুর নামফলক ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে ।এ সেতু তৈরীর আগেই বাংলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক মীর মোশাররফ হোসেনের নামে রাখার জন্য বিভিন্ন পর্যায় থেকে আহবান করা হয়। জোট সরকার এতে কোন কর্ণপাত না করে ২০০৫ সালের ২০ জানুয়ারী স্থানীয় বিএনপি এমপির পিতা সৈয়দ মাস-উদ আহমেদ রুমীর নামে নামকরণ করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর সেতুর পাশেই বিশাল এক প্রতিবাদসভা করে রুমীর নামফলক ভেংগে মীর মোশাররফ হোসেনের নামফলক স্থাপন করে জনতা।

বরিশালের বেলস পার্ক

বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্কের নাম নিয়েও টানা হেচড়া হয়েছে। ১৯৯৬র আওয়ামীলীগ সরকার এর নাম রাখে ‘বঙ্গবন্ধু উদ্যান’। ২০০১ সালে বিএনপির সময় এটি ‘বেলস পার্ক’ নামে ফেরত যায়। বর্তমান সরকার এর নাম পুনরায় ‘বঙ্গবন্ধু উদ্যান’ রেখেছে। বরিশালের প্রতিষ্ঠানের নামকরণে এগিয়ে আছেন বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাদ। তার নামে নগরীর কাউনিয়ায় একটি কলেজ, কাশিপুরে একটি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও আগৈলঝাড়ায় একটি কলেজ রয়েছে। তাছাড়া দপদপিয়া সেতুর নামও পরিবর্তন করে ‘আবদুর রব সেরনিয়াবাদ সেতু’ রাখা হয়েছে।

মৎস্য কেন্দ্র ও মার্কেট

জোট সরকারের আমলে বরিশাল শহরের কীর্তনখোলা নদীর পাশে একটি মৎস্য কেন্দ্র স্থাপন করে তার নাম শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে রাখা হয়। ওয়ান ইলেভেনের পর তা উচ্ছেদ করা হয়। তবে কয়েকদিন আগে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা একই স্থানে মৎস্য কেন্দ্র স্থাপন করে তার নাম দেয় ‘আবদুর রব সেরনিয়াবাত মৎস্য কেন্দ্র’। ’৯৬র আওয়ামীলীগের সরকারের সময় বরিশাল শহরের পাশে কলাতলির একটি চর দখল করে বঙ্গবন্ধু মার্কেটের একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। ২০০১ সালের পর দখলকারীরা চর ছেড়ে দেয়। শহর থেকে ১২ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণের চরামদ্দি এলাকায় সরকারী সড়কের পাশ দখল করে বঙ্গবন্ধুর নামে বেশকিছু দোকানপাট তৈরী করা হয় তখন। স্থানীয় এমপি মাসুদ রেজা এতে সহায়তা করেন। বঙ্গবন্ধুর নাম দেয়ায় খুব সহজেই এর দখল নিশ্চিত হয় এবং জেলা প্রশাসন থেকে জমির লিজও পাওয়া যায়। তবে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে তার নামও পরিবর্তন হয়ে যায়। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এ মার্কেটকে ‘বেকারবন্ধু মার্কেট’ নাম দেয়া হয়। বর্তমানে এ নামটিও নেই।

এমপির পিতার নাম প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর নাম

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ‘চরকলমি’ ইউনিয়নকে ভেঙ্গে নাম একটি অংশের নাম দেয়া হয়েছে ‘মুজিবনগর’। অপর অংশের নাম স্থানীয় আওয়ামীলীগের এমপি জ্যাকবের পিতার নামে দেয়া হয়েছে ‘নজরুলনগর’। জ্যাকবের পিতার নাম রাখতে গিয়ে ঢাল হিসেবে এখানে বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

এবার রাজধানীর নাম বদলের প্রস্তাব

কেবল প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনাই নয় এবার দেশের রাজধানীর নাম পাল্টে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। এজন্য একশ্রেণীর স্তাবকরা ‘বঙ্গবন্ধু সিটি’, ‘শেখ মুজিব সিটি’ বা ‘মুজিবনগর’ করার প্রস্তাব করছে। সাবেক সচিব ও মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মুসা গতবছর ৫ আগস্ট ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে রাজধানীর নাম পাল্টে ‘শেখ মুজিব সিটি’ করার দাবি জানান। সবচেয়ে আতংকের বিষয় যখন নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা আসে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা?

‘জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর’ নামটি গত ৩০ বছর বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত। বর্তমান নাম পরিবর্তনের খবর তাই দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ‍অঙ্গনেও প্রচার পেয়েছে। নাম পরিবর্তনের এ ধাক্কাটি বিশ্বের লাখ লাখ বিমান যাত্রীর নিকট একটি প্রশ্নের উদ্রেক করবে। সন্দেহ নেই, এটি সমস্যাক্লিষ্ট ও বিভেদসঙ্কুল জাতি হিসাবেই বিশ্বদরবারে আমাদের পরিচিত করবে। এখানে শেখ মুজিব আর জিয়াউর রহমানের নাম ওঠানামার বিষয় নয় বরং জাতি হিসেবে আমাদের মান মর্যাদার বিষয়। শেখ মুজিব আর জিয়াউর রহমান নিজেদের শৌর্য-বীর্য আর বীরত্বে নিজ নিজ অবস্থানেই মানুষের মনে স্থান পাবে যুগ যুগ ধরে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত শিক্ষাটা কেবলি বিরোধী দলের জন্য নয়, সরকারের অভিবাবক হিসাবে তাঁর জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/ShamsMohammad
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
ঢাকা থেকে ফিরোজ লিখেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০; রাত ১০:০৩
অত্যন্ত তথ্যবহুল লেখা। প্রিন্ট করে রেখে দিচ্ছি। অনেক ধন্যবাদ।
9471
বাংলাদেশ থেকে সিভিক লিখেছেন, ০১ মার্চ ২০১০; রাত ০১:৪৯
যে গনতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য বাঙ্গালী জাতির এত সংগ্রাম, যে গনতান্ত্রিক রাজনীতির অধিকার বাঙ্গালী অনেক ত্যাগ স্বীকার করে স্বাধীনতা যুদ্ধে অর্জন করে অথচ যে গনতান্ত্রিক রাজনীতি গনতন্ত্রের রাজনীতির নেতা মজিবরের হাতে নিহত হয় জন্মের ৫ বছরের মধ্যে, জিয়ার পৌরহিত্যে সে বহুল আকাঙ্খিত গনতন্ত্র ধাপে ধাপে শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে বহুদলীয় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়। এ জিয়া সামরিক বাহীনি থেকে অবসরপ্রাপ্ত একজন জেনারেল। সারা জীবন ধরে হাজার বার প্রতিশ্রুতি দিয়েও নির্বোধ আওয়ামী রাজনীতিবিদেরা জনগনের অধিকার বাস্তবায়ন করতে ব্যার্থ হয়। সামরিক বাহীনির একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল এসে জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে প্রমান করে দেয় ঐ রাজনীতিবিদেরা গলাবাজ হতে পারে তবে অযোগ্য, অপদার্থ, অকর্মন্য॥
তাই আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি জিয়াকে খাটো না করলে মজিবর ফুটে না। জিয়ার নাম মুছে না দিলে মজিবরের নাম স্পষ্ট হয়না। জিয়াকে খাটো করতে জিয়ার নাম মুছতে আওয়ামী লীগের কর্মীদেরকে পূর্ন সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়।
9484
Noakhali থেকে Salam Sikdar লিখেছেন, ০১ মার্চ ২০১০; দুপুর ১২:১৩
Really informative.......Thanks for contribution.
9510
রিয়াদ থেকে মুক্তি লিখেছেন, ০৩ মার্চ ২০১০; দুপুর ০৩:০৩
নাম পরিবর্তন বা বদলের উদ্দেশ্য ভাল হলে তা দোশনীয় নয় কিন্তু মন্দ হলে তা অবশ্যই নিন্দনীয় ও ঘৃণীত। কোন অমুসলিম নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করার পর তার নাম (মন্দ নাম হলে) পরিবর্তন করা হয়। মন্দের বদলে ভাল কিছু করা একজন বিবেক সম্পন্ন সুস্থ মানুেরে আলামত ; কিন্তু মন্দের বদলে মন্দ অথবা মন্দের থেকে আরো মন্দ কিছু করা সুস্থ্য মানুষের লক্ষণ নয় । বর্তমান ক্ষমতাসীনদের আচরণে মনে হচ্ছে যে, আগের সকল রেকর্ড ভংগ কের চেম্পিয়ন হওয়ার চেষ্টা করছে। স্বাধীনতার পূর্বে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলটির নাম ছিলো আওয়ামী মুসলিম লীগ। এই দলটির প্রতিষ্ঠাতাদের কয়েকজন হলেন ; মওলানা আবদুল হামীদখান ভাষাণী, সরওয়ারর্দী, এ কে এম ফজলুল হক, শেখ মুজিব, খন্দকার মোশতাক অর্থাৎ এককভাবে শেখ মুজিব নয় । অতঃপর দলটিতে শেখ মুজিব সহ মুসলিম বিদ্বেষীদের অাধিপত্য বৃদ্ধি পাবার পর দলটির নাম থেকে 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দেয়া হয়। শেখ মুজিবকে হত্যা করার পর আওয়ামী লীগের আবদুল মালেক উকিল লন্ডন গিয়ে বলেছিলেন যে, দেশ ফেরাউনের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। আর বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছে তারা বোধ হয় ফেরাউনকেও হার মানাবে! দেশ স্বাধীন হবার পর সংবিধানের মধ্যে সংখা গরিষ্ঠ্ মুসলমানদের চেতনা ভুলুন্ঠিত করে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতন্ত্র ঢুকিয়ে শেখ মুজিব ও সংবিধান রচনাকারীরা বিশ্বাসঘতকতা করেছে। কেননা কোন মুক্তিযোদ্ধা ধর্মনিরপেক্ষতা ও নাস্তিক্য সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্যে যুদ্ধ করেনি। যারা শেখ মুজিবকে হত্যা করেছে তারা ব্যক্তি স্বার্থে হত্যা করেনি বরং তারা মুক্তি যুদ্ধ করেছে কিন্তু শেখ মুজিবের ধর্ম নিরেপেক্ষ ও সমাজতন্ত্রকে মেনে নেয়নি। অতঃপর জিয়োউর রহমান সংবিধানে বিসমিল্লাহ্ ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং ইনসাফ ভিত্তিক শাসন করার বিষয়কে সংযোজন করেছেন। সুতরাং কে ভাল করছে আর মন্দ করছে তার প্রকৃত হিসাব আল্লাহর কাছে আছে এবং তিনি পরকালে তার সঠিক পুরস্কার দিবেন।
9681
সুইডেন থেকে আশু বাঙ্গালী লিখেছেন, ০৩ মার্চ ২০১০; বিকেল ০৫:২০
লেখককে অবশ্যই ধন্যবাদ, এই সুন্দর তথ্যনির্ভর লেখার জন্যে।
রাজধানীর নাম মুজিবসিটি হলে খারাপ হয়না, তবে দেশের নামটা বাংলাদেশের পরিবর্তে বঙ্গবন্ধুদেশ হলে আরও ভাল হবে অথবা যেহেতু এখন ডিজিটাল সময় চলছে তাই প্রধানমন্ত্রী পুত্র বিশিষ্ট কম্পিউটার বিজ্ঞানী জয়ের নামানুসারে জয়দেশ ও খুব জুতসই !!!!!!!!!!!
9688
সৌদী আরব থেকে আবু উসামা লিখেছেন, ০৩ মার্চ ২০১০; রাত ১০:৩৫
তথ্য নির্ভর লিখার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ। শূধু বিমান বন্দরের নাম পাল্টাতে যদি প্রায় ১২০০ কোটি টাকা খরচ হয় তার পরে তো থেকে গেলো আরো ২০০ প্রতিষ্ঠান সেখানে কত টাকার দরকার সেটা ভালো বলতে পারবেন আমাদের সো কল সূশিল! সরকার যদি একটু আন্তরীক হন তাহলে বাংলাদেশে যেই সকল মানুষের নাম জিয়া রাখা হয়েেছ সেই গুলো পরিবর্তন করার জন্যে সংসদে একটা বিল পাশ করতে পারেন। তবে আমার একটা পরামর্শ বর্তমান সরকারের কাছে আপনারা বাংলােদটাকে পরিবর্তন করে "শেখ মুজিব" রাখুন দেশের কোটি কোটি টাকা বেচেঁ যাবে।
9707
িরয়াদ, সৌিদআরব থেকে েমাহাম্মদ আলী লিখেছেন, ০৪ মার্চ ২০১০; রাত ১২:১১
আবু উসামা আপনার পরামর্শ আমরা বিবেচনা করবো, সব যদি ঠিক মতো এগিয়ে যায় তাহলে প্রয়োজনে আমরা সংসদে বিল পাশের দাবি জানাবো যে, সারা বাংলাদেশের "জিয়া" নামের সমস্ত মানুষের নাম পরিবর্তন করার জন্য। আর ভবিষ্যতেও কেউ যেন "জিয়া" নাম না রাখতে পারে, তারও আইন পাশের ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাবো। আর সব কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে একটি একটি করে আগালে এটা আওয়ামীলীগের জন্য কোন সমস্যা হবে না।
9711
ঢাকা থেকে কাজী সায়েমুজ্জামান লিখেছেন, ১৩ মার্চ ২০১০; দুপুর ১২:০৭
শামস মোহাম্মদ
আপনি কাজটি ঠিক করেন নি। আমার অনেক দিনের গবেষণা আপনি এখানে তুলে দিয়েছেন। আর তাছাড়া আমিও সোনার বাংলাদেশের একজন লেখক। সুতারাং একজন লেখকের লেখা চুরি গর্হিত কাজ বলেই মনে করি।
আমি আশা করবো সোনার বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এ লেখাটি সরিয়ে ফেলবেন। আমি আমার লেখার লিংক দিয়ে দিলাম।
প্রথম কিস্তি
http://www.somewhereinblog.net/blog/Saemuzzaman/29064808
২য় কিস্তি
http://www.somewhereinblog.net/blog/Saemuzzaman/29065245
এ লেখা পুরোটাই সাপ্তাহিক বুধবারে ছাপা হয়েছে।
10370
ঢাকা থেকে আহম্মদ ফয়েজ লিখেছেন, ১৩ মার্চ ২০১০; বিকেল ০৫:০৩
বাহ দাদা! ভালোই ফাটিয়েছেন।

কাজী সায়েমুজ্জামানের এই লেখাটা আমিও সাপ্তাহিক বুধবারে পড়েছি, তা অনেক দিন আগের কথা। তা আপনি এত বোকার মতো কাজ করলেন কেন?

এই সাইটে যে সায়েম সাহেব লেখেন তাও দেখলেন না। দেখলে তো এটা করার কথা না।

এসব বিসয়ে সাবধান থাকবেন।

শিক্ষিত লোকেরা এমন চোরের মতো কাজ করবে এটা আশা করা যায় না।
10388
১০
ঢাকা থেকে মুছা মিয়া লিখেছেন, ১৫ মার্চ ২০১০; দুপুর ১২:৩০
বাহ দাদা! ভালোই ফাটিয়েছেন।

কাজী সায়েমুজ্জামানের এই লেখাটা আমিও সাপ্তাহিক বুধবারে পড়েছি, তা অনেক দিন আগের কথা। তা আপনি এত বোকার মতো কাজ করলেন কেন?

এই সাইটে যে সায়েম সাহেব লেখেন তাও দেখলেন না। দেখলে তো এটা করার কথা না।

এসব বিষয়ে সাবধান থাকবেন।

শিক্ষিত লোকেরা এমন চোরের মতো কাজ করবে এটা আশা করা যায় না।
10521
১১
Chittagong থেকে Md Akram Uddin Pavel লিখেছেন, ১৬ মার্চ ২০১০; সকাল ০৫:৩০
Really it was weird.I hate AL govt, Bcoz they cant run a country very well.They should teach From BNP which will b better for AL govt.Chatro League doing destructive work in gradually by which effected all general people of Bangladesh.We cant expect from AL govt.Change we need in our politics.
10578
১২
Dhaka থেকে M Rahman লিখেছেন, ১৭ মার্চ ২০১০; সকাল ০৭:২১
জনাব কাজী সায়েমুজ্জামান, আহম্মদ ফয়েজ, মুছা মিয়ার দৃষ্টি আকর্ষন। কেবল শামস মোহাম্মদের এ লেখাটিই নয় নাম বদল নিয়ে অনেক লেখাই বেরিয়েছে যার একটার সঙ্গে অন্যকটর কিছু কিছু মিল রয়েছে। এ লেখাটিও কয়েকমাস আগে পাওয়া গেছে যা আমাদের মনে হয়েছে সোনার বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া যায়। তাছাড়া বিষয়বস্তু তো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন। নানাজন নানাভাবে তথ্য জোগাড় করে সমৃদ্ধ করছে পাঠকদের জানার পিপাসাকে। শামস মোহাম্মদ সম্পর্কে তেমন কোনো পরিচয়ও নাই সোনার বাংলাদেশ সাইটে, তাই তাকে ব্যক্তিগত আক্রমন আবান্তর। তাছাড়া কাজী সায়েম সাহেব যে ভাষায় দাবী করেছেন তা কতটা ধোপে টিকবে? দেখুন এ লিংকগুলো:
http://www.shaptahik-2000.com/2010/01/10/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%AA-%E0%A6%A6/
‘নাম বদলের রাজনীতি’ শিরোনামে দিলীপ দেবনাথ ও পলাশ মাহবুবের লেখা সাপ্তাহিক ২০০০এর লেখাটির সাথেও তথ্যগত কিছুটা মিল আছে কাজী সায়েম ও শামস মোহাম্মেদের লেখায়। আবার গড়মিলও আছে।
আবার মাহবুব তালুকদারের এ লেখাও এসব বিষয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
http://www.mzamin.com/index.php?option=com_content&task=view&id=6361&Itemid=83
http://priyo.com/forum/2009/jul/07/28350.html
তাছাড়া সরকারই দাবী করেছে আড়াই’শ প্রতিষ্ঠানের নাম বদলের তথ্য দিয়েছে।
আলোচ্য লেখা থেকে যে কেউ ইচ্ছা করলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যুক্ত করে তাদের লেখাকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারেন। তাতে করে কারো কোনা ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না। যেমন, ‘‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের আগে ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়, পরবর্তীতে যা স্বনাম ছাপিয়ে মূখ্য হয়ে ওঠে। আর স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতেই পূর্ব পাকিস্তানের নাম পরিবর্তন হয়ে বাংলাদেশ হয়। নাম পরিবর্তনের জোয়ারে জাহাঙ্গীনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ফজলুল হক মুসলিম হলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ বাদ দেয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম থেকে ‘রব্বি জিদনী এলমান' তুলে দেয়া হয়। ধর্মনিরপেক্ষতার ধাক্কায় নামবদলের সময় উপমহাদেশের খ্যাতিমান মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও প্রখ্যাত মুসলিম মনিষীদের নাম পরিবর্তন করা হলেও অমুসলিম হিন্দু নেতাদের নামবদল হয়নি। ঢাকার পুরাতন আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে স্থাপিত ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজের নামের সাথে ইসলামিক শব্দটি থাকায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে কবি নজরুল কলেজ (নজরুল ইসলাম নয়) । এছাড়াও সম্প্রতি এসটি খিজির-১ ফেরিকে এসটি শেখ কামাল ফেরি, এসটি খিজির-২ ফেরিকে এসটি শেখ জামাল ফেরি, এসটি খিজির-৩ ফেরিকে এসটি শেখ রাসেল ফেরি, এসটি খিজির-৪ ফেরিকে এসটি শহীদ সুকান্ত বাবু ফেরি (আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে) নামবদল করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে জিয়ার নামে একটি সার কারখানা রয়েছে। রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে একটি ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের একটি অডিটোরিয়ামের নাম রাখা হয়েছে জিয়ার নামে। এছাড়াও ঢাকার নিউ এয়ারপোর্ট সড়কটি জোট সরকারের সময়ে রাখা হয় ‘বীরউত্তম জিয়াউর রহমান সড়ক’। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পরে এ নামফলকটি দু’বার ভাংচুরের শিকার হয়। উল্লেখ্য বিগত জোট সরকারের সময় বিভিন্ন মহল থেকে খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানর নামে অনেক প্রতিষ্ঠানের নামকরন করার চেষ্টা হয়। এর প্রেক্ষিতে সরকারের অনুমতি ছাড়া এরূপ নামকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে এ উদ্যোগে কিছুটা ভাটা পড়ে। একপর্যায়ে জিয়ার মাজারে যাওয়ার ব্রিজটি রাতের আঁধারে খুলে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। এর প্রতিবাদে বিএনপি তখন ব্যাপক আন্দোলন করে।শেখ হাসিনার প্রথমবারের সরকার ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সাভারস্থ জাতীয় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির নাম দেয় শেখ হাসিনা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ভারত, পাকিস্তান সহ বিশ্বের বহু দেশেই চিকিৎসাশাস্ত্রে গবেষনার জন্য আইপিজিএমআর নামেই প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোথাও এ নাম পরিবর্তন হয়নি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশই একমাত্র ব্যতিক্রম। ‘জিয়ানগর’ নাম পরিবর্তনের জন্য স্থানীয় পর্যায় থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে অতি সম্প্রতি। একশ্রেণীর স্তাবকরা ‘বঙ্গবন্ধু সিটি’, ‘শেখ মুজিব সিটি’ বা ‘মুজিবনগর’ করার প্রস্তাব করছে।’
বর্তমান উন্মুক্ত বিশ্বে কোনো অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে কোনো তথ্যই গোপন থাকে না। আর আলোচ্য বিষয়টি তো রবীন্দ্রনাথের কবিতা নয়, যে অমুক লিখেছে বলে আর ওই বিষয়ে কেউ লিখতে পারবে না। লেখকদের কাছে পাঠকরা নিশ্চয় শোভন আচরন আশা করতে পারে।
10711
১৩
ঢাকা থেকে কাজী সায়েমুজ্জামান লিখেছেন, ১৯ মার্চ ২০১০; দুপুর ১২:২৬
M Rahman@@@
আমার লেখাটি সাপ্তাহিক বুধবারে ছাপা হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর, সাপ্তাহিক২০০০ এ ছাপা হয়েছে ১০ জানুয়ারী, সামেহায়ার ইনে লিখেছিলাম ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বর।

আর আমার হুবহু একই লেখা একই শব্দ যা কাটা ছেড়াও করা হয়নি- এখানে ছাপা হয়েছে। আর একটা কথা-বলা হচ্ছে আড়াইশ প্রতিষ্ঠানের নামবদল করা হয়েছে। কিন্তু এর ইতিহাস কোথাও নেই। ইতিহাস লেখকের খুজে বের করতে হয়েছে।
যাক শামস মোহাম্মদ আমাকে হাসিয়েছেন। কারণ আমার লেখার সেসব স্থানে তথ্যগত ভুল ছিল তাও তিনি তুলে দিয়েছেন।
আমার অনেক পাঠকরাই এ লেখঅটির প্রতিবাদ জানিয়েছেন। লেখক হিসেবে আমি তাদের সমথর্ন দিয়েছি। আশা করছি এটা শোভন আচরণের সীমা পার করেনি।
10942
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy