|
বাংলাদেশে আইনের শাসন ও ব্রাসেলসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
শওকত মাহমুদ |
|
রাজ্যের সবচেয়ে গরিব মানুষটিও তার পর্ণকুটিরে রাজার সমস্ত বাহিনীকে অগ্রাহ্য করতে পারে। তার ঘরটি নড়বড়ে হতে পারে — হয়তো ছাদও পড়পড় — বাতাসের ঝাপটা একদিক দিয়ে ঢুকে অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে — তাতে ঝড় প্রবেশ করতে পারে — বৃষ্টি ঢুকেও সয়লাব করতে পারে — কিন্তু ইংল্যান্ডের রাজা সেখানে ঢুকতে পারেন না — তার তাবত্ বাহিনীর স্পর্ধাই হবে না সেই ভগ্নদশা খুপড়ির চৌকাঠ মাড়ানো!’ (The poorest man may in his cottage bid defiance to all the forces of the Crown, it may be frail - its roof may shake - the wind may blow through it - the storm may enter - the rain may enter - but the King of England cannot enter - all his forces dare not cross the threshold of the ruined tenement! (Statesmen in the Time of George III, Brougham, 1845)
বিশ্বসভ্যতায় বাড়ি বা সম্পত্তির অধিকার যে কত বড় অধিকার, তা বুঝিয়ে বলতে লর্ড চ্যাথাম উনিশ শতকে বিলাতের লর্ড সভায় এই কথাটি বলেছিলেন। ব্রিটেনের সম্ভবত সবচেয়ে প্রভাবশালী আইন বিশারদ স্যার এডওয়ার্ড কোক আরও একধাপ এগিয়ে বলেছিলেন 'একজন মানুষের বাড়ি হচ্ছে তার দুর্গ। এসব উদ্ধৃতি পড়ছিলাম যখন প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্যান্টনমেন্টে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর বাড়ি থেকে বলপূর্বক উচ্ছেদ করে দিয়ে ব্রাসেলসে গিয়ে এ সম্পর্কে মন্তব্য করছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী ব্রাসেলস সফরকালে বলেছেন, সুপ্রিমকোর্টের আদেশে বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে তিনি সরকারের কাছ থেকে এ সম্পত্তি গ্রহণ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একটা প্রচ্ছন্ন হুমকিও ছিল এমনভাবে যে, বেগম জিয়ার গুলশানের বাড়ি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। উচ্ছেদের ঘটনাটি ঘটে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে মামলাটি বিচারাধীন থাকার সময় এবং প্রধানমন্ত্রীর এতদসংক্রান্ত মন্তব্যটিও মামলার নিষ্পত্তির আগে এবং বাদীর বিরুদ্ধে বিষোদ্গারমূলক। বিচারপতিদেরও প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য প্রভাবিত করতে পারে, এমন অভিযোগও বাদীপক্ষ তুলতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর কথাবার্তায় ড. টমাস ফুলারের মন্তব্যটি মনে পড়ে যায় 'ইব ুব হবাবত্ ংড় যরময, ঃযব খধ িরং ধনড়াব ুড়ঁ' (কখনও বেশি উপরে যাবেন না, আইন আপনার উপরে)। মামলাটি তাঁর অধীন দফতরের পাঠানো একটি নোটিশের বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরকালীন মন্তব্যগুলো স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে এবং বাড়ি বা সম্পত্তির প্রতি মানুষের অধিকার আন্তর্জাতিক সনদ বা আইনে কীভাবে ব্যাখ্যাত, তা বোঝার জন্যে ইংল্যান্ডের সমকালীন বিচারপতিদের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রণী সাবেক লর্ড চিফ জাস্টিস অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস এবং যুক্তরাজ্যের সিনিয়র ল লর্ড টম বিংহামের সাড়াজাগানো বই 'Rule of Law' পড়ছিলাম। টম বিংহাম ছিলেন নির্দয়ভাবে নিরপেক্ষ এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুগান্তকারী বেশকিছু রায় দিয়ে গেছেন।
ইরাকে ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রাসনকে তিনি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী মনে করেছেন। টম বিংহাম আটক ব্যক্তিকে নির্যাতন করা এবং নিগ্রহের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় করাকে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আটকাদেশ বা সাজার মেয়াদ বাড়ানো-কমানো সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতাকে খর্ব করেছিলেন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি মারা গেছেন — অবসর না নিলে তিনি বিলাতের সুপ্রিমকোর্টের সভাপতি হতেন। বর্তমান বাংলাদেশে আইনের শাসন, ব্যক্তি অধিকার, মানবাধিকার বা বিচার বিভাগের অবস্থাকে যদি কেউ আন্তর্জাতিক আলোয় বুঝতে চান তবে বিংহামের বই হতে পারে সেরা পথফলক।
যত আন্তর্জাতিক সনদ ও আইন আছে, যেগুলো মানবসভ্যতার শক্ত গাঁথুনি তৈরি করেছে, সবগুলোতেই সম্পত্তি রক্ষার অধিকার বিস্তৃত ব্যাখ্যায় পরিপূর্ণ। মানবাধিকারের তিনটি মূল স্তম্ভ হচ্ছে, ব্রিটিশ দার্শনিক জন লকের ভাষায় — আত্মরক্ষার অধিকার, সম্পত্তি রক্ষার অধিকার ও স্বাধীনতা (লিবার্টি) রক্ষার অধিকার। ১২১৫ সালের ম্যাগনা কার্টা, ১৭৮৯’র ফ্রেঞ্চ ডিক্লারেশন অব দি রাইটস অব ম্যান অ্যান্ড দি সিটিজেন্স, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও বিল অব রাইটস (১৭৯১), মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা (১৯৪৮), দি ইন্টারন্যাশনাল কোভেনান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস (১৯৬৬), ইউরোপিয়ান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটস (১৯৬৯) এবং বিশ্বের নানা আদালতের রায় থেকে গড়ে ওঠা ‘কমন ল’তে এসব বিষয় সুস্পষ্টভাবেই স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশ অনেক সনদের অনুস্বাক্ষরকারী দেশ এবং সেসব সনদ দেশীয় আইনের মতোই শক্তিশালী।
বাংলাদেশের সংবিধানেও এই অধিকার অন্তর্ভুক্ত আছে। বেগম জিয়াকে দেয়া বাড়ি ছাড়ার নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জের মামলায় ২০০৯ সালের মে মাসে হাইকোর্ট সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিলেন। সংবিধানে পরিষ্কার বর্ণিত আছে, আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না, যাতে কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে। আইনের কর্তৃত্ব ব্যতীত কোনো সম্পত্তি বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্ত বা দখল করা যাবে না। সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল একবার সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক সনদের ব্যত্যয় ঘটলে বাংলাদেশের যে কোনো ভুক্তভোগী নাগরিক বাংলাদেশেই তার প্রতিকার চাইতে পারেন।
ম্যাগনা কার্টার ৩৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নাগরিকের অধিকার বা থাকার জায়গা জোর করে কেড়ে নেয়া যাবে না। লর্ড বিংহাম তাঁর বইতে দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, ঐতিহাসিকভাবেই একজনের গৃহের পবিত্রতা বা অলঙ্ঘনীয়তার বিষয়টি পাকাপোক্তভাবেই স্বীকৃত। ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৮(১) ধারায় উল্লেখ আছে : Everyone has the right to respect for his private and family life, his home and correspondence. এসবে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। ইংল্যান্ডের ওই মানবাধিকার-বান্ধব বিচারপতি বলছেন, একজনের বাড়িতে সরকারের প্রবেশের ২৬৬ রকম পথ আছে (Harry Snook, Crossing the threshold : 266 ways the state can enter your home); কিন্তু তারপরও কারও বাড়িতে রাষ্ট্রের ঢোকার ক্ষেত্রে আইনগত সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া থাকতে হবে। এখানেই প্রশ্ন ওঠে, ১৩ নভেম্বর বাড়ি ছাড়তেই হবে, না ছাড়লে বেগম জিয়াকে উচ্ছেদ করা হবে — এমন কোনো সিদ্ধান্ত আদালত দিয়েছেন কি? বরং অ্যাটর্নি জেনারেলের মুখ থেকে বিতর্কিত ব্যাখ্যা শুনেছি এবং বাস্তবায়নও তদ্রূপ হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও সাদা পোশাকধারীরা এ কাণ্ড করেছে। যদিও ওই বাড়িটি ক্যান্টনমেন্টের ‘এ’ ক্যাটাগরির হয়েই থাকে, তবে তা উচ্ছেদের জন্য সেনাবাহিনীর কোন পর্যায়ের অফিসারকে মিলিটারি পুলিশ নিয়ে যেতে হয়, তা সেনা বিধিতে আছে কিনা জানা নেই। কেননা আইন প্রতিমন্ত্রী আগে বলেছিলেন, ওটা সেনাবাহিনীর কাজ। যদি তা-ই হয়, তবে সেনারা এসব কাজে কি র্যাব-পুলিশকে ডাকবে? বেগম জিয়ার বাড়ির লিজ বাতিল করেছে খোদ মন্ত্রিসভা। এটা নিশ্চয়ই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তাই বিএনপি বাড়ি নিয়ে রাজনীতি করছে এমন প্রচারের আগে ভাবা প্রয়োজন — মন্ত্রিসভা কেন ঢাকঢোল পিটিয়ে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল?
আইনের শাসন বা রুল অব ল’র ধারণাটি ১৮৮৫ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংলিশ ল’-এর অধ্যাপক এ ভি ডাইসি প্রথমে সুসংবদ্ধ করেন এবং গোটা বিশ্বে তা গৃহীত হয় নানা আন্তর্জাতিক সনদ ও আইনের মধ্যে। আইনের শাসনের প্রথম স্তম্ভ হচ্ছে কোনো ব্যক্তিকে আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ছাড়া সাজা দেয়া যায় না। ডাইসির কথায় বিষয়টি একদম পরিষ্কার — No man is punishable or can lawfully be made to suffer in body or goods except for a distinct breach of law (আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ছাড়া কোনো মানুষকে সাজা দেয়া বা আইনগতভাবেও তাকে দৈহিকভাবে অথবা মালামালগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায় না)। বিংহাম এর বিস্তৃত ব্যাখ্যায় বলেছেন : '... If anyone is to be penalized it must not be for breaching the rule dreamt up by an ingenious minister or official in order to convict us. It must be for proven breach of the established law of the land. And it must be a breach established before the ordinary courts of the land, not a tribunal of members picked to do the govt's bidding, lacking the independence and impartiality which are expected of judges.' (আমাদের দণ্ড দিতে কোনো ধূর্ত মন্ত্রী বা কর্মকর্তার বানানো কুমতলবি বিধি লঙ্ঘনের জন্য কাউকে নাকাল করা যায় না। এটা হতে হবে প্রতিষ্ঠিত আইনের প্রমাণিত লঙ্ঘনের দায়ে। এই লঙ্ঘনটা প্রমাণ হতে হবে দেশের সাধারণ আদালতে, সরকারের স্বার্থসিদ্ধির জন্যে কয়েকজন মনোনীত ব্যক্তির সমবায়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল দ্বারা নয়, যাদের স্বাধীনতা ও পক্ষপাতহীনতা নেই, যা কিনা বিচারকদের কাছে কাম্য)। প্রশ্ন জাগে, বেগম জিয়াকে তাঁর বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করা হলো কোন প্রমাণিত আইনি লঙ্ঘনের জন্যে আর লর্ড বিংহাম বর্ণিত ওই ধূর্ত মন্ত্রী বা কর্মকর্তা কারা? ২০০৯-এর ৮ এপ্রিল মন্ত্রিসভা যখন বাড়ির লিজ বাতিল করল, তখন কি আদালতের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে বা বেগম জিয়া সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন? দার্শনিক স্পিনোজা বহু আগেই অমোঘ সত্যের জানান দিয়েছিলেন এই বলে যে, ‘আইন হচ্ছে অধিকারের গণিত। আইন কোনো রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ বা রাষ্ট্রের নির্দেশিত বিষয় নয়।’ বেগম জিয়াকে এক কাপড়ে শক্তিপ্রয়োগ করে বের করে দেয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৭ ধারাটি মনে দাগ দিতেই পারে — A person should not be criminally punishable for an act which was not criminal when it was done. বেগম জিয়া তো কোনো ফৌজদারি অপরাধ করেননি, আদালত দ্বারা দোষীও সাব্যস্ত হননি। তবে তার ঘরের দরজা ভেঙে সরকার ঢুকল কেন? এটাই তো ফৌজদারি অপরাধ।
৯/১১’র পর জঙ্গি সন্দেহে বিশ্বজুড়ে গ্রেফতার, বিভিন্ন দেশে কারাগারে নির্মম পীড়নের মধ্য দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর রায় প্রদানকারী লর্ড বিংহাম তাঁর এই মনমাতানো বইটিতে আইনের শাসনের অপরিহার্য দিকগুলো নিয়ে এসেছেন। সংক্ষেপে এবং বিচারপতির প্রখর মনোযোগে ও নিরপেক্ষতায়। কতক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার চাইতেও ব্যক্তিঅধিকার বড় বলে তিনি মত দিয়েছেন। মন্ত্রীদের স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার। সরকার বা নির্বাহী বিভাগের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগকে কঠিন ভূমিকা পালনের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিচার বিভাগ হতে পারে কর্তৃত্ববাদী সরকারের শিকার। সরকার সাধারণত মামলায় হারতে চায় না — 'There are countries in the world where all judicial decisions find favour with the powers that be, but they are probably places where any of us would not wish to live' (বিশ্বে অনেক দেশ আছে যেখানে বিচার বিভাগের সব সিদ্ধান্ত ক্ষমতাসীনের পক্ষে যায়। কিন্তু এমন দেশে সম্ভবত আমাদের কারোই থাকার ইচ্ছা নেই)।
বিচারপতিদের নিয়ে অনেক পর্যবেক্ষণ রয়েছে লর্ড বিংহামের। ১৬৭১ থেকে ’৭৬ পর্যন্ত কিং বেঞ্চের প্রধান বিচারপতি স্যার ম্যাথু হেল বিচারকদের দায়িত্ব পালনে আবশ্যিক ১৮টি করণীয়ের যে তালিকা তৈরি করেছিলেন, বিংহাম তার ব্যাখ্যায় বলেছেন : Judges are servants of the public whose important work calls for their serious, single - minded professional attention. He knew that he should try to exclude his personal feelings, avoid taking up any partisan position and suspend judgment until all the evidence and both parties had been heard (বিচারপতিরা হচ্ছেন জনগণের সেবক যাঁদের গুরুত্বপূর্ণ কাজে থাকবে তাঁদের গভীর, তীক্ষষ্ট পেশাগত অভিনিবেশ। তাঁর জানা আছে যে তাঁকে ব্যক্তিগত উপলব্ধি বাদ দিতে হবে, দলীয় অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে এবং দু’পক্ষ না শুনে সাক্ষ্যপ্রমাণ না দেখা পর্যন্ত রায় প্রদান স্থগিত রাখতে হবে)। অর্থাত্ শুনানি ছাড়া রায় প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
ঔঁফরপরধষ অপঃরারংস-এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়েছেন লর্ড বিংহাম। আইনের উন্নয়নে এটা যেমনি অপরিহার্য, তেমনি অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্টের বিচারপতি হেডনের এই মতকেও তিনি সমর্থন করেছেন — Judicial activism taken to extremes can spell the death of the rule of law [J. A. Heydon, Judicial Activism and the death of rule of law, quadrant (Jan - Feb 2003)].
বর্তমান বাংলাদেশে আইনের শাসন, ব্যক্তি অধিকার, মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার আকাল চলছে। অর্থনীতির বিশ্বায়ন হয় কিন্তু মানবাধিকারের ভুবনীকরণ হয় না। লর্ড বিংহাম এ কথাও বলতে ছাড়েননি, যদি কোথাও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হয়, স্বেচ্ছাচার বিরাজ করে, তবে অর্থনীতিও মুখ থুবড়ে পড়ে। সাংবিধানিক স্বাধীনতা মূল বিষয়। বিশ্বখ্যাত কলামনিস্ট, নিউজ উইকের সাবেক সম্পাদক ফারীদ জাকারিয়া তার নিউইয়র্ক টাইমস বেস্ট সেলার বই ‘দি ফিউচার অব ফ্রিডম’-এর এই পর্যবেক্ষণে আমরা আস্থা রাখতে পারি যে, গণতান্ত্রিক শাসকের তুলনায় স্বৈরাচার অর্থনীতির ভালো করতে পারে না — Most dictators have ravaged their countries (বেশিরভাগ একনায়ক তাদের দেশকে ধ্বংস করেছে)।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রাসেলসে বসে আদালতে বিচারাধীন তার মন্ত্রণালয়ের অধীন দফতরের বিরুদ্ধে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার আগে বিতর্কিত মন্তব্য করতে পারেন, পাশাপাশি অর্থনীতির স্বাস্থ্য উদ্ধারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে টাকা চাইতে পারেন। আইনের শাসনের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের মহাদেশ ইউরোপ কিন্তু এক্ষেত্রে দেখতে পারে মানবাধিকারের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার কতখানি এবং বর্তমান মহাজোট সরকার আন্তর্জাতিক সনদ লঙ্ঘন করছে কিনা। এখন পাশ্চাত্যে আইনই রাজা। রাজা আইন নয়। ব্রিটিশ দার্শনিক জন লকের ভাষায় — Wherever law ends, tyranny begins (যেখানে আইনের শেষ, স্বৈরশাসনের শুরু সেখানে)।
লেখক : জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি
[সূত্রঃ আমার দেশ, ০১/১২/১০] |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/ShaokatMahmud |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
| লেখকঃ সাংবাদিক |
|
১, শেখ হাসিনার ইচ্ছা,
২, ভারতের ইচ্ছা, এবং
৩, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিশ্ব মোড়লের (ভাসুর কিনা, তাই নাম বলা যাবেনা) ইচ্ছা।
শেখ হাছিনা চেয়েছেন বাগম জিয়াকে বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করবেন কারণ তিনি গণ ভবন দখল করতে পারেন নি তাই। সুতরাং ঠেকায় কে? আইন, আদালত, পুলিশ, রেব, সানাবাহিনী সব তার হুকুম তামিলের জন্য একপায়ে খাড়া। হলোও তাই।
ভারতের ইচ্ছা হলো বাংলাদেশের বুকের উপর দিয়ে তার মালপত্র, সাজ সরন্জাম, অস্ত্র গোলাবারুদ ও সেনাবাহিনী পারাপার করবে তার জন্য প্রয়োজন রাস্তা ঘাট, নৌ বন্দর, সমুদ্র বন্দর। তো এই ইচ্ছার বিরুদ্ধে কার কি বলার আছে? সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গেলো। বালা হলো আমরা অনেক টাকা পাবো, ধনি হতে আর ক'দিন। দেশটা সিংগাপু হলো বলে। যখন পয়সার প্রশ্ন আসলো, বলা হলো, এ কি করে হয়? প্রতিবাশীকে বুকার উপর দিয়ে চলতে দিলে পয়সা নিতে হয়না, এ বড় লজ্জার ব্যাপার। তারপর বেদেশ মন্ত্রী সফর করলেন, বললেন চুক্তি হবে শীঘ্রই। আমাদের মালখানার মন্ত্রী আবুল মাল (মানে সম্পদের বাবা?) মিন মিন করে একটা কিছু নেবো ফি নাহলেও মাশুল নেবো। কিন্তু আজ জানলাম কোনো মাশুল, ফি, বা 'একটা কিছু' ছাড়াই চুক্তি হয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষের কোনো মতামতের তোয়াক্কা করার কোনো দরকারই নেই, এমনকি একদলীয় বসংবদ সংসদেরও জানবার বা জানাবার নেই এখানে। ভারতের ইচ্ছাই হলো সব।
তেল, গ্যাস, কয়লা সহ প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের তেমন না থকলেও যা ই আছে তা দেখভালের দায়িত্ব আজ ওল্লেখিত তিন নম্বর খোদার ইচ্ছার উপর যে নির্ভর করে তা কি ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন আছে? ইতোমধ্যে বংগোপসাগরের গ্যাস/ তেল ক্ষেত্র ইজারা হয়ে গেছে কনকোফিলিপসের সাথে যা ১/১১ এর সেনা সরকার করতে চেয়েও পারেনি তা আমাদের গণতান্ত্রীক সরকার করেছে। দেশবাসিকে বা সংসদ নামক রাবার স্টাম্পকেও ব্যাবহার করা হয়নি। কেনো হয়নি? মোরব্বিরা যে বলেছেন? মরব্বীর কথা কি করে ফেলা যায়? বেয়াদবি হবে যে? আমরা কি বায়াদবের জাতী? কক্খনোই নয়। আমাদের জাতীর পিতাকে আামরা আইন করেই পিতা বানিয়াছি। ডি এন এ টেস্ট করেও যদি বলা হয়, তাহলেও তা টিকবে না কারণ এটা আইন । পিতা বলতেই হবে। এ ও এক ধরনের 'খোদা' ই কারবার। তাইনা?
ধন্যবাদ।