বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; দুপুর ১২:৩৫ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
আজ থেকে দু’বছর আগে (০৫/০৬/২০১০)
ঢাকা ক্লাব ও সাম্রাজ্যবাদের সেই চিরায়ত কৌশল (১৬/১০/২০০৯)
২৩ জুন : ফিরে আসে পলাশী (০১/০৭/২০০৯)
দূর্নীতি,স্বজনপ্রীতি : জাতীয় উন্নতি ও অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় (১৫/০৬/২০০৯)
বাজেট ভাবনা (১৬/০৬/২০০৯)
গনতন্ত্র ও সেক্যুলারিজমের প্রণয়ের গোপন কাহিনী (১৫/১২/২০০৮)
যে বিষবৃক্ষ একদিন তিনি রোপন করেছিলেন (০১/১২/২০০৮)
পারভেজ মোশাররফের বিদায়ঃ প্রকৃত লাভ ক্ষতি (৩০/০৯/২০০৮)
আগের লেখা
749


আজ থেকে দু’বছর আগে

শরীফ হোসাইন মৌন

প্রিয় আরিশা!

আমি জানি তুমি খুব ভালো আছো। চকলেটটা যদিও খুব পছন্দ করো কিন্তু ভাত, মাছ, গোসতও নাকি খেতে শিখেছো। লাবণী বলে,বাচ্চাদের জন্য প্রয়োজনীয় নরম ভাত তোমার নিষ্প্রয়োজন। তার মানে আমি বুঝতে পারছি তোমার দাঁত বয়সের তুলনায় শক্ত। তুমি যখন বুকের দুধ খেতে তোমার কচি কচি ঐ দাঁতগুলি দিয়ে তুমি তোমার মায়ের স্তনে কামড় দিতে! লাবণী কথা বলতে বলতে চিৎকার করে হেসে ওঠত। কিন্তু আমাকে বলতো না সে কথা,যেন বলতে চাইতো কিন্তু লজ্জায় পারতো না তা বেশ বুঝতাম। আমি বুঝে নিয়েছিলাম। আমি পুরুষ মানুষ, আমি বুঝতে অক্ষম,ইদুরেঁর মতো কচি দাতেঁর সে কামড় একজন মায়ের কেমন লাগে। লাবণী বলেছিল,দিনে তোমাকে পাচঁ থেকে দশবার দুধ খাওয়াতে হয়। কখনো গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে তুমি যখন কাদতেঁ সে তখন তোমাকে দুধ খাইয়ে ঠান্ডা করতো। আমি জানিনা,কী সেই ভাললাগা,কী সেই মায়া যা লাবণীকে জাগিয়ে দিত গভীর রাতে গভীরভাবে তোমার সান্নিধ্যে! আমি হিসেব কষে দেখেছিলাম প্রতিবার দুধ খেতে গিয়ে তুমি গড়ে ৮-১০ টি কামড় দিতে। সে হিসেবে প্রতিদিন ৮০-১০০ টি কামড় দিতে এবং তোমার দুধ খাওয়ার প্রায় এক বছর যাবত তুমি তাকে কামড়িয়েছ ২৯২০০ বার থেকে ৩৬০০০ বার। ভাবতে পারো তোমার কী সাহস,আরিশা? হ্যা,তুমি ভেবোনা,লাবনী তোমাকে এমনিতেই ছেড়ে দেবে! সে তোমাকে আদরের ছলে ঝাপটে ধরে,তখন তুমি গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ওঠো। তখন তোমার কচি হাতের ডগায় সে কামড় মারে,তুমি হেসে হেসে কামড় গ্রহন করো কিন্তু অচিরেই তুমি কান্না কান্না ভাব করো আর লাবনী হাসতে হাসতে গলিয়ে পড়ে।

প্রিয় আরিশা!
তোমার কথা সর্ব প্রথম আমি শুনেছিলাম আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে শমরিতা হাসপাতালের করিডোরে দাড়িয়েঁ। তখন আমার আব্বা মৃত্যু শয্যায় শায়িত। মোটর সাইকেল একসিডেন্ট করে উনার তখন খুবই মর্মান্তিক অবস্থা। অপারেশন করলে অনেকটাই ভাল হয়ে যেতে পারেন অথবা একদম মারা যেতে পারেন। আর অপারেশন না করলে স্মৃতিশক্তিহীন অবস্থায় বেচে থাকতে পারেন। অপারেশন করাব,নাকি করাবনা? এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার আমাদের। মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পেয়ে তখন উনি অনেকটাই ভাবলেশহীন। গ্রামের বাড়িতে মা আর বড় আপার পিচ্ছি সিফাত একা। মাকে বলতে পারছিনা আব্বার সর্বশেষ অবস্থা। আমি বরাবরই দায়িত্বহীন মানুষ। নিজেকেই সামলাতে পারিনা,মাকে কিভাবে কি বলব তা বুঝতে পারছিনা। ঠিক ঐ সময়টাতে তোমার আম্মু, লাবণী আমাকে ফোন করেছিল। নিয়তির ইচ্ছাকে আমি কখনোই ঠাহর করতে পারিনা। আমি শূন্যের দিকে তাকিয়ে একটু হাসলাম। লাবনীর সাথে আমার খুব কথা চলল কয়েকদিন। আমি তাকে অনেক কথা বলতাম। অনেক কাদাতাম। অনেক হাসাতাম। অনেক ভালবাসতাম। অনেক কিস করতাম। মোবাইলে মোবাইলে আমি তাকে ভাত খাইয়ে দিতাম। আইসক্রীম খাইয়ে দিতাম। চা খাইয়ে দিতাম। কিন্তু হঠাৎ একদিন সে চা খেলনা! আমি অবাক হয়ে গেলাম। কারনটা সে বলতে চাচ্ছিল না। আমিই জোর করছিলাম। সে বলছিল,চা খেলে তার বমি আসে। আমার মনে হলো,পৃথিবীতে কত মানুষ,আমি না থাকলে পৃথিবীর এমন কী ক্ষতি হয়?
তোমার কথা সেদিনই আমি প্রথম জেনেছিলাম। যদিও তোমার আগমন অনিবার্য ছিল কারো খেয়ালে। তবু আমি কষ্ট পেলাম। মনে হলো দূরে যে তারাটি প্রত্যহ আমি আকাশে দেখি তা আরো সাত আসমান দূরে সরে গেল। আমি লাবনীকে তোমার নাম জিজ্ঞেস করিনি,সেও বলেনি,যদিও আমার কষ্ট কল্পনায় তোমার নামটি লাবণীর দ্বারা ঠিক হয়েই ছিল। হয়তো তুমি ছেলে না মেয়ে হবে তাও সে জানতো। কিন্তু যখন সে খুব জিদ করে বলল,আমি আমার অনাগত সন্তানকে অবশ্যই ভালবাসব তখন মনে হলো আমি কতগুলো বালির স্তুপে দাড়িয়ে আছি এবং বালিগুলো সরে ক্রমাগত নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।

প্রিয় আরিশা!
আজ তোমার দ্বিতীয় জন্মদিন। তোমার অপূর্ব ক্ষমতা তোমার অজানা। লাবণীর হৃদয়ে তিল পরিমান জায়গাও শূন্য ছিলনা,যেখানে আমি ছিলাম না। অথচ আজ সে তোমাকে ছাড়া একটা মুহূর্তও কল্পনা করতে পারেনা। এই অপূর্ব ক্ষমতাই কারো কাছে কাউকে ঋনী করে তোলে। তোমার সেই অপূর্ব ক্ষমতার সিড়ি বেড়ে কোন জানোয়ার মহান হয়ে ওঠে। আরিশা তোমাকে আমি ভালবাসি। শুধু জন্মদাতার মতো করে নয়,তার চেয়ে যদি আরো বেশি কিছু থেকে থাকে তবে তারই মতো। তবে তুমি শুনে হয়তো একটু মনঃক্ষুন্ন হবে যে, তোমাকে আমি শুধু এই কারনেই ভালবাসি কারন আমার সবচেয়ে ভালবাসার মানুষটির হৃদয় জুড়ে আছো তুমি। তুমি রাগ করছো? প্লিজ রাগ করোনা,তোমাকে অনেক আদর! আদর! আদর!!

প্রিয় আরিশা!
তুমি জাননা,তুমি কেন সৃষ্টি হলে? তুমি কী ভালোবাসার ধন নাকি শৃঙ্খলের মায়া অথবা মায়ার শৃঙ্খল ? হতে পারে আদ দীন হাসপাতালের অযত্ন পরিবেশে তোমার আম্মু যখন “ও নেগেটিভ” রক্তের জন্য চটপট করছে তখন কোন পাপিষ্ঠ ঋনী হবার সে সুযোগ হাতছাড়া করেনি। তোমার আম্মু বোঝেনি, কিন্তু যখন তোমার দুচোখ ঘরের বাহিরে যাবে তখন তুমি বুঝবে ,বনের উপড়ে ফেলা বৃক্ষটিকে চার দেয়ালের মাঝে বাচিয়ে রাখা যায়না,তাই তার শিকড় গজানোর দরকার হয়। বৃক্ষ না বাচলে শিকড় গজাবে কোথ্থেকে ? তাই বৃক্ষটিকে বাচানোর জন্য ও নেগেটিভ রক্ত নিয়ে পাপিষ্ঠর এত উৎকন্ঠা। প্রিয় আরিশা! বনের বিস্তৃর্ন ভূমি থেকে তোমাকে স্বাগতম। ফিরে এসো।
তুমি হয়ত লাবনীর প্রথম সন্তানটি হতে না! কিন্তু আমার সকল স্মৃতিচিহ্নকে কবর দেওয়ার জন্যই পাপিষ্ঠরা দল বেঁধে তার সন্তানটিকে নষ্ট করে ফেলে। কিন্তু অত্যাচারীর খড়গ কি কখনো থামে? তাইতো তারা বলিষ্ঠ উদ্যেমে লাবণী সোনার দেহখানি খুবলে খেয়েছে। দুর্ভিক্ষে নিপতিত আধমরা মানুষটিকে শকুনেরা যেমন দলবেঁধে ছিড়েঁ ছিঁড়ে খায়। হয়তো এ আমার একান্ত নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। আর কারো কিনা জানিনা । দুঃখ আমার এই যে,স্বয়ং আধমরা মানুষটিই না আবার শকুনের হাতে নিজেকে সপেঁ দেয়! এই সে তোমার মা,যাকে তুমি আলতো আলতো ডাকতে শিখেছ “জানু”, “শনু” বলে! অথচ আজ থেকে পাচ বছর আগে ওরা তোমার মাকে নিয়ে শুরু করেছিল গর্ভধারন প্রকল্প। ও যেন আমার ভালবাসার মানুষটি নয়,ও যেন ছাদে দাড়িয়ে থাকা আমার দিকে অবাক হয়ে চেয়ে থাকা সেই মেয়েটি নয়,ও যেন ৮ই মে ২০০৫ সালে আমার হাত ধরে পালিয়ে আসা ভালবাসায় টইটুম্বুর প্রিয়জন নয়, ও যেন ৯ই মের গভীর রাতে আমাদের দাম্পত্যের আলোয় ভুলিয়ে দেয়া আমাদের বিগত বেদনা নয় ; ও যেন একটা যন্ত্র, একটা ভালো কর্মদক্ষতাসম্পন্ন মেশিন।

প্রিয় আরিশা!
এই তো সেদিন তোমার আম্মু যখন রান্নাঘরের গোলামী করছিল,তোমার অবুঝ মন আলতো হাতে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দিল। খুলতে না পেরে,আম্মুকে না দেখে তোমার সে কী আত্নচিৎকার। ২০০৬ সালের কোন এক কালো রাতে নরুল্লাপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান মেম্বর বাড়ীর আকাশ বাতাস কাপিয়ে অসহ্য যন্ত্রনায় পাড়া প্রতিবেশীর ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিয়েছিল তোমার আম্মুর আত্নচিৎকার। গভীর রাতের চিকিৎসকহীন একাকী সেই যন্ত্রনায় জানিনা লাবনীর আমাকে মনে পড়েছিল কিনা? কোন দখলদারের অন্যায় ফসল যখন আমার প্রানের পাখীটির প্রজননতন্ত্রের প্রতিটি রন্ধ্রি রন্ধ্রিকে রক্তাক্ত,ছিন্ন ভিন্ন করে দিচ্ছিল্ল ,তখন আমি কোথায় ছিলাম? কিন্তু এতসব নরক যন্ত্রনাও পশুদের গর্ভধারনের দ্বিতীয় প্রকল্পটিও ব্যর্থ করে দিল। তবু পশুটি থামেনি। ওদের পশু মন বিশ্বাস করে পাখিকে পোষ মানাতে হলে সোনার শিকল পরাতে হয়। প্লিজ আরিশা! তুমি কী পারনা পশুত্বপূর্ন সেই বিশ্বাসকে কাচের দেয়ালের মতো খান খান করে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে?

প্রিয় আরিশা!
তুমি বৃষ্টি খুব পছন্দ করো ,ঠিক তোমার আম্মুর মতো। খাবার খেয়ে হাত ধোয়ার ছলে তুমি বাথরুমে গিয়ে ট্যাপের পানিতে জামা কাপড় সব ভিজিয়ে ফেল। তারপর আবার খেতে এসে আবার হাত ধুতে যাও। আমার অন্তদৃষ্টিতে তোমার দুষ্টুমি দিশেহারা করে। তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করে। জানি সেই সুযোগে দেখে নেব তাকে! লাবণী ছাদে ওঠে তোমাকে একদম হাতছাড়া করেনা। তখন তুমি জিজ্ঞেস করত পারো তবে কেন সে ছাদে ওঠে প্রতিটি মুহূর্তে আমাকে পাগল করতো? শোন আরিশা! আমি যখন কিল্লায় বসে লাবনীর দিকে চেয়ে থাকতাম, সে সহাস্যে বান্ধবীদের দুহাতে দুহাত রেখে শূন্যে ঘুরতো। তোমাকে হয়তো আম্মু সে কথা বলেনি এখনো,কারন তুমি সেরকম করার বায়না ধরবে এ ভয়ে। তোমাকে যে আমি বলেছি,আম্মুকে আবার বলে দিওনা যেন! শুনেছি তুমি পিপাসা পেলে আম্মুকে বল,পানির বোতল খাবে (পানি নয়);এসব শুনে আম্মু হাসিতে গড়িয়ে পড়ে,তখন তুমি আম্মুকে অবাক করে দিয়ে বলতো পারো কোলে আসো (অর্থাৎ কোলে চড়বে)।

প্রিয় আরিশা!
তোমাকে একটা মজার ঘটনা বলি। তুমি হাসতে হাসতে পিটে খিল ধরিয়ে ফেলবে। তোমার আম্মুর একটা ব্যতিক্রমী স্বভাব আছে। কানে হেডফোন লাগিয়ে খুব এফ,এম রেডিও শোনে। তো একদিন হলো কি,রেডিও শুনতে শুনতে কখন যে,ঘুমিয়ে পড়েছে নিজেরই মনে নেই। তোমার কান্না শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখে তমি বিছানা নোংরা করে ফেলেছ। কিন্তু মজার ঘটনাটা হচ্ছে, হেডফোনটা কখন কিভাবে যে তোমার কোমরের নিচে গেল,আর তুমি ঐ নোংরা বস্তুটা দিয়ে হেডফোনটা মাখিয়ে ফেলেছ। শেষে কয়েকদিন ভিজিয়ে উত্তমরুপে ধুয়ে হেডফোন যখন লাবণী পুনরায় কানে দিল,সে অবাক হয়ে দেখল হেডফোনটির কোন ক্ষতিই হয়নি।তুমি কি জানো আরিশা,কেন এটি নষ্ট হয়নি? কারন হেডফোনটিকে লাবণী খুব ভালবেসেছিল। ভালোবাসার এমনই শক্তি।

প্রিয় আরিশা!
ইদানিং তুমি পেকে যাচ্ছ খুব! ভেঙ্গে ভেঙ্গে আলতো আলতো করে কত কিছু তুমি বলো। আম্মু আমাকে তার সবকিছুই বলে দেয়। শুনে খুব মজা পাই যখন তুমি কপাল না বলে পোকাল বলো কিংবা মশা কামড় মেরেছে না বলে মশা মাকড় মেরেছে বলো। সেদিন লাবনী যখন শুয়ে শুয়ে আমার সাথে কথা বলছিল,তুমি পাশের রুম থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে আম্মুকে উকিঁ মেরে দেখে গেছ। আম্মু ঠিকই বুঝে ফেলেছে তুমি অন্যায় (তোমর দৃষ্টিতে) কিছু করতে যাচ্ছ। আম্মুকে কি তুমি খুব ভয় পাও? কই নাতো,নইলে কী ওমন করে আম্মুর ইজ্জ্বত(অন্তর্বাস) নিয়ে তুমি অনায়াসে ঘরময় দৌড়াতে পারতে? অবশ্য তুমি লক্ষীমেয়ে!কার মেয়ে দেখতে হবেনা,তুমি আমার লাবণীর মেয়ে,আর কারো নয়। যেদিন তুমি ফোনে প্রথম আমার সাথে কথা বলেছিলে,কী মজার ছিল দিনটি। কখনো তুমি আমাকে নানী বলছো,কখনো তোমার ছোট মামা রিপন বলছো,হ্যাঁ শেষেই তুমি ডেকেছিলে সবচেয়ে সুন্দর করে বাবাজি। আরিশা! তোমাকে অনেক আদর! আদর!! আদর!!!

আরিশা! তুমি রান্নাঘরে না গেলেই কী নয়? কি দরকার তোমার রুটি বানানোর? তুমি এখন অনেক ছোট,আটার কাই থেকে বেলুনি দিয়ে তোমার তৈরী রুটিগুলিও তাই তোমার মতো পিচ্ছি পিচ্ছি হবে। তাও ঠিক ছিল কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে গরম না করেই ঐ কাঁচা রুটিটি তুমি খেয়ে ফেল!! আরিশা,তুমি যা করোনা। তার চেয়ে বরং জ্ঞানীর মতো চেয়ারে আসন পেতে তুমি কলম কাগজে হাবিজাবি আকতেঁ পারো। তবে আমার সবচেয়ে ভালো লাগে যখন তুমি বারান্দায় গিয়ে পাখিগুলোকে শব্দকরে নামধরে ডাকো এবং বলো, “ পাখি খেতে আসো,খেতে আসো” আমার ইচ্ছে করে ঠিক ঐ মুহূর্তে তোমাকে ঝাপটে ধরে দুগালে চুমু খাই।তুমি এতো দুষ্ট হলে কি করে? তুমি কই ছিলে?
আরিশা! মাঝে মাঝে মোবাইলের হেডফোনের একটা তার আম্মু তোমার কানে দিয়ে দেয় ।আমার খুব মজা লাগে যখন তুমি মোবাইলের ঐ প্রান্ত থেকে তোমার আম্মুর শিখিয়ে দেয়া শব্দ “শরীফ” না বলে “ শইফ” বলো। মাঝে মাঝে তুমি আমাকে কি সব গান যে শোনাও! আমার খুব হাসি পায়,যদিও তোমার আম্মু আমাকে সেসব তর্জমা করে শোনায়।একদিন নাকি তুমি বসে বসে কি সব হাবিজাবি করছো আর গাইছিলে, “ ভালবাসি,ভালবাসি”,যখন লাবনী উকিঁ মেরে তোমাকে লক্ষ্য করলো তুমি নাকি অন্যদিকে ফিরে শশব্দে হেসে উঠেছিলে। সেই থেকে আমিও তোমাকে মোবাইলে এই দুটি শব্দ বলি আর তুমি নাকি মুচকি হাসো। আমি তো সেই হাসি দেখতে পাইনা,লাবনী বলে। আরিশা,আমার কাছে চলে আসনা,তোমার সেই মুচকি হাসিটি প্রান ভরে দেখি।

প্রিয় আরিশা!
তোমার একটা স্বভাব আমার খুব ভালো লাগে। লাবণীর ব্যবহৃত কোন বস্তুই তুমি কাউকে ধরতে দাওনা। এমনকি নানীকেও তুমি আম্মুর পাশে বসতে দাওনা। সালমা যখন কাপড় চোপড় ধূতে আসে,তুমি তাকে আম্মুর ওড়নাটি ধরতে দাওনা। ঘর হতে বের হবার সময় তুমি আম্মুকে চশমা পরতে বলো,লাইট,ফ্যান বন্ধ করতে বলো। আজানের সময় টিভি বন্ধ রাখতে বলো। লক্ষী মা আমার,তুমি এতকিছু শিখেছ কোথ্থেকে? নিশ্চয় লাবনী তোমাকে সব শিখিয়েছে। আচ্ছা আরিশা! আজ যখন তুমি আর লাবণী রিকশায় করে জন্মদিনের কেক কিনতে যাবে,কাজের মেয়ে সালমাকে যেমন তোমার আম্মুর ওড়না ধরতে দাওনা, তেমন করে থার্ডপারসন শুয়োরের বাচ্চাটিকে রিকশা থেকে ফেলে দিতে পারোনা?

প্রিয় আরিশা!
আজ তোমার জন্মদিন। দিন দিন তুমি বড়ো হয়ে যাচ্ছ। তুমি কি একদিন সত্যকে উপলব্দি করবেনা? তুমি কি সেই সত্যের দ্বারে ফিরে আসবেনা?
আজ তুমি অনেক সাজবে,অনেক হাসবে,অনেক চকলেট খাবে। আমি দূর দেখি আমার অন্তর্দৃষ্টিতে তোমার সবকিছু দেখি। তোমার কোন কিছুতে আমি নাই। আমার এ কষ্ট তোমার আম্মু বোঝেনা,তাইতো সে আমাকে দূরে ঠেলে রাখে। অথচ এই সুখ দুঃখ সব কিছুই তো আমার। তুমি যখন গর্ভে ছিলে, তোমার সেই শরীরী অস্তিত্ব লাবনীর পেটে প্রচন্ড ধাক্কা দিত,লাথি মারতো। সে হাউমাউ করো কাদঁতনা,কিন্তু গভীর কষ্টে তার দুচোখ বেয়ে পানি বের হয়ে আসতো। রাত গভীর হলেও লাবণী ঘুমাতে পারতো এই ভয়ে, যদি ঘুমের ঘোরে সে এপাশ ওপাশ করে আর শক্ত বিছানার ছাপ লেগে তুমি কষ্ট পাও। দীর্ঘ দিনের কষ্ট থেকে তুমি তাকে মুক্তি দিলে ২০০৮ সালেই এই দিনে। আমার প্রিয় লাবনীর চোখে মুখে সেদিন আনন্দাশ্রু বহে গিয়েছিল।

প্রিয় আরিশা!
আমি তোমার জন্মদাতা হতে পারতাম। তোমার শরীরী অস্তিত্ব আমার কাছে শূন্য। কিন্তু এই অশরীরী অস্তিত্ব আমার পেটে নয়,দেহে নয়, দীর্ঘ সাড়ে দশ মাস নয়; আমার সারাটা মন জুড়ে, আমার হৃদয়ের পৃথিবী জুড়ে সারাটি মুহূর্তে প্রচন্ড হাসায়,প্রচন্ড কাদায়ঁ। তুমি কেন আমার হলেনা? কেন আমার হতে পারোনা?
ইতি
বাবা
২২-৫-২০১০ ইং
( সমাপ্ত)
http://www.sonarbangladesh.com/articles/SharifHossainMauno
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
ফ্রান্স থেকে শিলা লিখেছেন, ০৮ জুন ২০১০; রাত ০৯:১৩
এটা কি ধরনের লেখা????
22056
রিয়াদ থেকে সুমন লিখেছেন, ০৮ জুন ২০১০; রাত ১০:২৭
একদম ফাটাফাটি।
22059
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 
জন্ম লক্ষীপুর জেলার লক্ষীপুর থানার পূর্ব নন্দনপুর গ্রামে ১৯৮২ সালে।
হিসাব বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স করেছেন ঢাকায় কবি নজরুল কলেজে।
চিন্তা ও জানার প্রবল আগ্রহই লেখালেখিতে নিজেকে যুক্ত করা। বিভিন্ন ম্যাগাজিন,দৈনিক পত্রিকা ছোটকাল থেকেই খুব টানতো তাকে।কিশোর কণ্ঠ,কচি কাচার মেলা,সাহিত্য পাতাগুলি এবং বিশেষ ভাবে আন্তর্জাতিক পাতা গুলি মনযোগ সহকারে পড়তেন সেই ছোটকাল থেকে। ইদানিং রাজনীতি নিয়ে কলাম লিখছেন বিশেষ করে নয়া দিগন্তে,আমার দেশ,দিনকাল,সংগ্রাম,যায়যায়দিন প্রভৃতিতে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট যেমন-সোনার বাংলাদেশ,প্রিয় ডট কম,প্রভৃতি লেখা আসছে নিয়মিত। ব্লগ সাইট গুলিতেও নিয়মিত।
প্রকাশিত গ্রন্থ, অজান্তে গভীর মায়া(কাব্য গ্রন্থ) প্রকাশ ২০০০ সাল,সুদূরিকা স্বপ্ন ছোয়া(উপন্যাস) প্রকাশ ২০০২। বর্তমানে আমার দেশ ঢাকা পাঠক মেলার যুগ্ম আহবায়ক।
পেশায় একাউনট্যান্ট,ট্যুরিজম. ইমেইল, sharif5may2005@ yahoo.com

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy