বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; দুপুর ১২:৩৫ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
বিবর্ণ বিদায় (গল্প) (১১/০২/২০১২)
অবেলায় অনিশ্চিতে (১৭/০৯/২০১১)
উলঙ্গ গণতন্ত্র (০৯/০৭/২০১১)
বড় মানুষ (২৯/০১/২০১১)
দেশ তো বিক্রি হয় না কিন্তু মাথা বিক্রি কে ঠেকাবে? (০৭/০৮/২০১০)
মুড়ির টিন নামক বাস-দানবদের থেকে ঢাকাবাসী কে রক্ষা করুন (০৩/০৭/২০১০)
এ আলো জ্বলবেই (০১/০৩/২০১০)
মায়ের গাড়ি চড়া (গল্প) (১৫/০১/২০১০)
সাধারন মানুষের জীবনটাই হলো কম্প্রোমাইজের মাননীয় অর্থমন্ত্রী (০১/০৭/২০০৯)
দিন বদলের স্বপ্নঃ ফলেই হোক বৃক্ষের পরিচয় (১৫/০৫/২০০৯)
প্রতিক্ষীত নির্বাচন এবং কিছু প্রত্যাশা (০১/১২/২০০৮)
আগের লেখা
263


বিবর্ণ বিদায় (গল্প)

শরীফ নাজমুল

শরীরটাকে এক রকম টেনেই তুলেন বিছানা থেকে রাজা মিঞা।আর দেরি করলেই বুড়ি চিল্লাচিল্লি শুরু করবে। কিন্তু জীবনের বোঝা টেনে চলা সাতষট্টি বছরের জরাগ্রস্ত শরীর আর কত সইবে? তাই সকাল হয়ে গেলেও শরীরটা উঠতে চায় না। তার উপর শরীরটা আজ যেন বেশি খারাপ।
উঠে হাত-মুখ ধুতেই বুড়ি পান্তা বেড়ে দেয়। রাজা মিঞার শরীরটা আজ একদম চলছে না। কাজে না যাবার জন্য বুড়ির মন গলাবার চেষ্টা করে, মৃত ছেলের কথা তোলে। বলে, ছাওয়ালডা বাচি থাকলি পর আজ আর রিস্কা টানন লাগত না। বুড়া বয়সে বসে বসে খাতি পারতাম।
সেই স্বপন না দেখে এখন কাজে যান। চাল না কিনলে রাতে চুলা জ্বলবি না। আমারো কাজে যাতি হবে। বুড়ি মুখ ঝামটা দেয়।

বুড়ো বুঝতে পারে কজে না যাবার বাহানা আজ আর পাশ হবেনা। পেটের ক্ষিধা বড়ই খতরনাক জিনিশ। তিনি জানেন বুড়ি ছেলের কথা ভেবে প্রতিদিনই কাদে, কিন্তু আজ বুড়ার সাথে এই মুহুর্তে পুরান কাসুন্দি ঘাটলে পেটের ক্ষুধার কি হবে? কথা না বাড়িয়ে পান্তা খেয়ে রাজা মিঞা গ্যারেজের দিকে হাটেন। মনে মনে দোয়া করেন যেন গ্যারেজের মালিক না থাকে, লোকটি তাকে রিক্সা দিতে গেলেই কিছু কথা শুনায়ে দেয়। অবশ্য ম্যানেজার ছোকরাটি সেদিক থেকে ভাল, বয়স অল্প হলেও মনে দয়া-মায়া আছে। রিক্সা পাওয়াও সহজ, সাথে মন বেশী ভাল থাকলে সকাল বেলা আধা-কাপ চাও জুটে যায়।

বুড়ির সাথে আলাপ না জমলেও আজ বারবার মনে পরে তার পুরান দিনের কথা। গরীবের সংসার তার। গ্রামে থাকতেন আর মানুষের জমিতে বর্গা চাষ করতেন। নিজের জমিজমা কিছু ছিল না, প্রাচুর্য ছিলনা। কিন্তু মনে সুখ ছিল আর ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। একমাত্র ছেলেকে তিল তিল করে মানুষ করছিলেন। দুজনেই স্বপ্ন দেখতেন একদিন ছেলে বড় চাকরি করবে। অসম্ভব মেধাবী সেই ছেলে গ্রামের স্কুল, পাশের থানা শহরের কলেজ থেকে ভালভাবে পাশ করে ভর্তি হয় ভার্সিটিতে। নিজের খরচ নিজেই মিটাত টিউশনি করে।

কিন্তু একদিন তার সব স্বপ্ন ভেংগে যায়, যেদিন তার সোনার দলা কলিজার টুকরা ছেলে দুইদল ছাত্রের মারামারির মাঝে পড়ে মারা যায়। আরো পরে জোতদার তার জমি গুলি বিক্রি করে দেন। নতুন মালিক তাকে আর চাষ করতে দেয় নি। উনি সেখানে ফ্যাক্টরী বানাবেন। বেঁচে থাকা যখন কঠিন হয়ে গেল তখন একদিন দুই বুড়ো-বুড়ি চলে আসেন এই শহরে। চিরচেনা সবুজ গ্রাম আর সারা জীবনের সংগী লাঙল-জোয়াল ফেলে এসে, নিরস শহরের ইট-কাঠ-গাড়ি-দালানের ভীড়ে রিক্সার প্যাডেলে আশ্রয় নেয় তার বেঁচে থাকবার অভিযান। কোন স্বপ্ন নয়, কোন আশা নয়, শুধুই পেটে-ভাতে বেচে থাকবার সংগ্রামে নামেন রাজ়া মিঞা।

সাত-পাচ ভাবতে ভাবতে রিক্সা গ্যারেজে চলে আসেন তিনি। কিন্তু আজ মনে হয় দিন খারাপ। গ্যারাজে যেতেই দেখে মুর্তিমান মালিক বসে আছে। তাকে দেখেই ব্যঙ্গ করে বলেন, কি বুড়ো মিঞা, তুমি রিক্সা চালিয়ে আমার জমার টাকা ওঠাতে পারবে? নাকি আবার গাড়ির নিচে ফেলে রিক্সাটা ভেঙ্গে ফেলবে? রাজা মিঞা আকুতি করে, ভাই আপ্নের জমা না দিয়া তো কোনদিন তো যাই নাই। আপ্নে আমারে দেখলেই এমুন করেন কেন? প্যাডের খিদা মানেনা বলেই রিশকা টানি। তয় একটা ফেলাক্স কিনবার পারলে তহন চা বেচমু, আপ্নের রিক্সা আর নিমু না। আর কডা দিন সময় দেন।

মালিক বলে তোমার ফ্লাক্স কিনার গল্প শুনতে শুনতে তো আমিই বুড়া হইয়া গেলাম বাবাজী। আমার পোলায় হয়ত তোমার বিক্রি করা চা কিনে খাইতে পারব, আমার কপালে নিশ্চয় হইব না। ঠিক আছে, লইয়া যাও একখান রিক্সা, সময় মত ফেরত দিবা আর জমার ৫০ টাকা ঠিক মত নিয়া আসবা।

রাজা মিঞা রিক্সা নিয়ে বেরিয়ে যায়। স্টান্ডের সামনে এক কাপ চা খায় আর মনে মনে ভাবে, এরকম একটা রিক্সা স্টান্ডের সামনে একদিন তিনিই চা বিক্রি করবেন। রিক্সা টানবার ধকল আর শরীর সইতে পারছে না। আর প্রত্যেক দিন গ্যারাজ মালিকের গালিগালাজ খাওয়াও ভাল লাগে না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ফ্লাক্স কিনবার মত টাকা সে যোগাড় করতে পারছে না। যা আয় হয় তা দিয়ে দিনের খাওয়া শেষে আর কিছু জমা হয় না। বুড়ি এক বাসায় মাসকাবারি কাজ করে হাজার টাকা পায়, সেটা ঘর ভাড়া দিতেই চলে যায়। বুড়ো রাজা মিঞা ভাবেন, আজ থেকেই কাজ একটু বেশি করবে, রোজ বিশ টাকা আলাদা জমা করবে।

এই মামা, যাবেন? এক তরুণ জিজ্ঞেস করলে তিনি সচকিত হয়ে ওঠেন। ভাড়া নেবার জন্য রেডি হন। বউনির খরিদ্দার, মুখে হাসি ফুটে। তার সাথে থাকা এক তরুণী সাথে সাথেই বলেন, এই শুনো বুড়ো রিক্সাওয়ালা নিও না। এরা চালাতে পারবে না। অফিস ধরতে দেরী হয়ে যাবে। তারা চলে যায়। রাজা মিঞা দুঃখ পান, বুড়ো হওয়াটা যেন অপরাধ! লুংগীর খুট তুলে চোখটা মুছে নেন। নতুন খরিদ্দারের আশায় চেয়ে থাকেন রাস্তার দিকে।

রাজা মিঞা বের হয়ে গেলে বুড়ি খাটের নীচের একটি মাটির হাড়ির ভিতরে রাখা তার গোপন ডিব্বা বের করে। এখানে তার সযত্নে লুকিয়ে জমানো টাকা আবার গুনে দেখেন, পাঁচ শ’ টাকা হয়েছে। আর দুই শ’ হলেই একটা ফ্লাক্স কিনবেন। বুড়ো অনেকবার বলেছে তার শরীর আর রিক্সা টানতে পারেনা। একটা ফ্লাক্স কিনতে পারলে চা বিক্রি করতেন। অনেকদিন থেকেই তিনি টাকা জমাচ্ছেন। মাসে বেতন যা পায়, পুরোটায় দিতে হয় ঘর ভাড়া। মাঝে মাঝে খালা ৫০-১০০ টাকা বখশিশ দেয়। বাসায় কোন গেস্ট আসলে তারাও কেউ কেউ যাবার সময় ৫০-১০০টাকা দেয়। এই টাকা গুলি তিনি জমা করছেন। খালার এক বোন এসছে বিদেশ থেকে, যাবার সময় দুই-একশ টাকা বখশিশ কি দিবে না? তাহলে তো ফ্লাক্সটা কেনা হয়ে যায়। তখন আর বুড়ো কে রিক্সা টানতে হবে না। একটু আশা নিয়ে খুশী মনেই বাসা থেকে বের হয়ে যায়।

পর পর দুটি ভাড়া মারেন রাজা মিঞা। আবার ফিরে আসেন শুরুর স্টান্ডে। রোদ ওঠেছে চড়বড়ে। গলাটা শুকিয়ে আসে। শরীর টা কেমন যেন গুলিয়ে ওঠে। একটা মুড়ির মোয়া কিনে খান তিনি, সাথে এক গ্লাস পানি।

এই চাচা, গুলশান যাবেন? এক ভদ্রলোক জানতে চান। মাথা নেড়ে সাঁয় দিতেই ওঠে বসেন রিক্সার ওপরে। রাস্তায় ভয়ানক জ্যাম লেগে গিয়েছে। বুড়ো রাজা মিঞা রিক্সা টানেন। কেমন করে যেন দুই গাড়ির সারির মাঝখানে পড়ে যান। ট্রাফিক জ্যামে অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঠাঁয় রোদে। গলাটা শুকিয়ে আসে। গাড়ি চলা শুরু করলে তিনিও রিক্সা টান দেন। মাঝের সারি থেকে এক ধারে আসতে চেষ্টা করতেই কেমনে যেন পাশের গাড়ির গায়ে রিক্সা লেগে যায়। যমদুতের মত নেমে আসে গাড়ির ড্রাইভার।

ঐ বুড়ার বাচ্চা, চোখে দেখস না? গাড়িতে তো লাগিয়ে দিলি, এখন গাড়ি ঠিক করার টাকা দিতে পারবি? ছেলের
মত বয়সী গাড়ির ড্রাইভার হম্বি তম্বি করতে থাকে। পারে তো মারতে আসে।
বুড়ো অসহায় আত্মসমর্পণ করে, বাবাজি বুঝতে পারি নাই, আচকা মাতাডা ঘুরি উঠলো, চউক্ষে আন্ধার দেখলাম। তহনি রিশকাডা যাইয়া গাড়িত লাগছে। কিছু মনে কইরেন না বাবাজী।

আশে-পাশের লোকজন এগিয়ে এসে বুড়ো মিঞা কে উদ্ধার করে। ড্রাইভার কে শান্ত করে গাড়িতে ফেরত পাঠায়। রাজা মিঞা কে বলে চাচা আপনি চলে যান। রিক্সায় বসা যাত্রি তার ভাড়া দিয়া নেমে যায়। বলে চাচা আপনি পাশে সাইড করে রেস্ট নিন।
রাজা মিঞা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। একবার ভাবে চলে যাবেন। শরীরটা একদমই চলছে না। বুকের ভিতর কেমন যেন ব্যাথা হয়। গলাটা শুকিয়ে আসে। ট্যাকের টাকা ক’টি গুনে দেখেন, এখনো জমার টাকা ওঠেনি! জমা না দিতে পারলে গ্যারেজের মালিক আর কোন দিন কি রিকশা দিবে? আর গালি-গালাজও তো কম করবে না! তাছাড়া চাল-তরকারি না কিনলে খাবেন কি? ভেবে তিনি কোন কুল কিনারা পান না। রিক্সায় হেলান দিয়ে বসে বসে ভাবতে থাকেন।

বুড়ি বাড়িতে কাজ শেষ করে বের হবার সময় খালা ডাকে। খালার যে বোন যে বিদেশ থেকে এসেছে, তার হাতে হাজার টাকার একটা নোট ধরিয়ে দেয়। শোন, আমার জন্য তোমার বাড়তি কষ্ট হলো, এই টাকাটা রাখ। বুড়ি যেন চোখ কে বিশ্বাস করতে পারেন না, হাজার টাকা! বুড়ির চোখে পানি চলে আসে আবেগে, খালার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে। বলে খালা টাকাটা খুব কামে লাগব, কালামের বাপে আর রিকশা টানবার পারে না। এইডা দিয়া তারে একখান ফেলাক্স কিনা দিমু। কাপ, চা-পাতা চিনিও কিনা লাগবে। হে রিকশা ইস্টান্ডে চা বেচবো। আল্লাহ আপনার ভাল করবে খালা। ছেড়া শাড়ির আচলে চোখ মুছতে মুছতে বের যায় বুড়ি, মনে তার আনন্দ খেলা করে। ফেলাক্স পেলে কি রকম খুশি হবে স্বামীর সে হাসি মুখটা তার মনে ভেসে ওঠে, মনটা আনন্দে ভরে যায়।

রাজা মিঞা একটু দম নিয়ে আবার রাস্তায় নামেন। ভাড়াও পেয়ে যান আরেকটি। কিন্তু কিছুদুর যেতেই চোখ আধার হয়ে আসে। গন্তব্যের আগেই যাত্রীকে নামিয়ে দিয়ে রিক্সা সাইড করেন। নিজে ফুটপাতের উপর বসে হাপাতে থাকেন। ভয়ানক তৃষ্ণায় বুক ফেটে যাচ্ছে। কেউ কি একটু পানি দিবে? ব্যাকুল চোখে পাশ দিয়ে যাওয়া লোক গুলির দিকে তাকান, একটা চেনা মুখ খোজেন, যে একগ্লাস পানি দিবে, পরম আদরে মাথায় হাত রাখবে। কিন্তু কেউ খেয়াল করে না কিম্বা খেয়াল করলেও সযত্নে এড়িয়ে চলে যায়। এই শহরে সবাই ছুটছে নিজের ধান্দায়, কারো সময় নেই। কিম্বা সময় থাকলেও কেউ বাড়তি ঝামেলায় যেতে চায় না।

অবচেতন হয়ে ফুটপাথের উপর শুয়ে পড়েন রাজা মিঞা। কেমন একটা ঘোরের মাঝে চলে যান। দেখেন কে একজন এসে তার হাত ধরেছে। তিনি ভাল করে দেখেন, এ যেন তার সেই হারিয়ে যাওয়া ছেলে, যেন বলছে বাবা, চলো, আমার বাসায় চলো। তিনি বলেন তোর মা কই? আমি একা কেমনে যাই? তোর মারে দেখবার কেউ নাই। ছেলে বলে, মা পরে আসবে। এখন তুমি চলো। সারা জীবনের না পাওয়া দুঃখগুলি নাই হয়ে যায় তার জীবন থেকে। পরম সুখে চোখদুটি বন্ধ হয়ে আসে তার।

nhmsu@yahoo.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/SharifNazmul
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
মাদরাসা মোড়, নাটোর থেকে আবু লাবীব লিখেছেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২; বিকেল ০৫:৫৫
আসুন, আমরা বৃদ্ধদের রিকশাকে বয়কট না করে তাদের রিকশায় উঠে কমপক্ষে তাদের কর্মের জন্য সহায়তা করি।
78427
খুলনা থেকে রেজাউল ইসলাম লিখেছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২; বিকেল ০৫:৫১
শরীফ নাজমুল ভাই, এ রকম কাহিনী পড়ে চোখে পানি আসে, হৃদয় বিগলিত হয়, চোখ মুছি, আবার ভূলেও যাই । কারন আমরা অতীতকে তাড়াতাড়ি ভূলে যাই । আর আমাদের সরকার গুলো আরও বেশী তাড়াতাড়ি ভূলে যায়....তাই আমাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়না
78566
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy