ভূমিকা
রমযান মুসলমানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান নিয়ামত। মানুষের কল্যানের জন্যই রমযানের বিধান চালু করা হয়েছে। এ মাস কল্যান ও সৌভাগ্যে পরিপূর্ণ। তাক্বওয়া ও আর্দশভিত্তিক সমাজ বির্নিমানের উদ্দেশ্যে রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের পয়গাম নিয়ে রমযান সমাগত। মানুষের দেহ ও মনকে সংযমের শাসনে রেখে ইসলামী জীবনের পরিপন্থী যাবতীয় অসামাজিক ও অমানবিক কার্যাবলী বর্জনের মাধ্যমে আল্লাহ তায়লার সন'ষ্টি লাভ ও তাক্বওয়া অর্জনই রমযানের মুলকথা।
জাতির পরিচয়
জাতি বলতে সেই জনসমষ্টিকে বুঝায় যা কতগুলো সাধারণ ঐক্যবোধে আবদ্ধ ও সংগঠিত। জাতি একটি বাস্তব ধারণা। সমাজ বিজ্ঞানী Ram mour বলেন, জাতি এরূপ একটি জনসমষ্টি যা নিজেকে প্রকৃতিগত ভাবে ঐক্যসুত্রে আবদ্ধ মনে করে। তাদের ঐক্যবোধ এত দৃঢ় ও বাস্তব যে তারা একত্রে বাস করতে আনন্দ পায়। বিচ্ছিন্ন হলে অসন্তষ্ট হয় এবং তাদের সংগে একই ঐক্যসুত্রে আবদ্ধ নয় এমন লোকের শাসন সহ্য করতে পারেনা। জাতীর মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা প্রবল। জাতি শব্দটি আরবিতে ÃõãøóÉò। কুরআনে শব্দটি এভাবে এসেছে-ßõäÊõãú ÎóíúÑó ÃõãøóÉò ÃõÎúÑöÌóÊú áöáäøóÇÓö ÊóÃúãõÑõæäó ÈöÇáúãóÚúÑõæÝö æóÊóäúåóæúäó Úóäö ÇáúãõäßóÑö æóÊõÄúãöäõæäó ÈöÇááøåö। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১১০)
অন্যত্র বলা হয়েছে- æóßóÐóáößó ÌóÚóáúäóÇßõãú ÃõãøóÉð æóÓóØðÇ áøöÊóßõæäõæÇú ÔõåóÏóÇÁ Úóáóì ÇáäøóÇÓö æóíóßõæäó ÇáÑøóÓõæáõ Úóáóíúßõãú ÔóåöíÏðÇ (সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত-১৪৩)
মোটকথা, জাতি বলতে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনসমাজকে বুঝায় যারা একটি নির্দিষ্ট আদর্শে বিশ্বাসী।
জাতি গঠন বলতে আমরা বুঝি-
১. ব্যক্তি গঠন।
২. সমাজ গঠন।
৩. রাষ্ট্র গঠন।
রমযানের পরিচয়
রমযানের সংজ্ঞা
রমযান(ÑãÖÇä) শব্দটি আরবি রমদ্ (ÑãÖ) মূলধাতু থেকে উদ্গত । আরবি অভিধানে ÑãÖ শব্দটির দু‘টি অর্থ পাওয়া যায়।
১. একটি অর্থ- বছরের প্রথম বৃষ্টি। বৃষ্টির মাধ্যমে যেমন মৃত জমি সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা হয়ে উঠে ঠিক তেমনি রমযানও মানুষের মৃতপ্রায় আত্মাকে নবশক্তিতে বলিয়ান করে।
২. আরেকটি অর্থ- দহন করা, জ্বালানো, পুড়িয়ে ছাই করা, জ্বালিয়ে দেয়া, দগ্ধীভূত করা, ধ্বংস করা।
যেহেতু রমযান মানুষের সঞ্চিত সকল পাপ-পঙ্কিলতা, অন্যায়, অসৎ মানসিকতা, পাশবিক কামনা-বাসনা ও আত্মার সকল প্রকার কলুষতাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভষ্ম করে দেয় সে জন্য এর নাম রমযান।
রমযান শব্দের তাৎপর্য
শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) তাঁর প্রখ্যাত গ্রন' ‘গুনিয়াতুতালেবীন’-এ রমযান শব্দের চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন ‘রমযান’ শব্দের মধ্যে পাঁচটি অক্ষর আছে- Ñ- ã-Ö-Ç-ä (র, মীম, দোয়াদ, আলিফ ও নুন)। এর প্রত্যেকটি অক্ষর একেকটি অর্থ বহন করে।
‘Ñ’ অক্ষরে-ÑÖæä Çááå (রেদওয়ানুল্লাহ) অর্থাৎ আল্লাহর সন'ষ্টি অর্জন।
‘ã’ অক্ষরে-ãÛÝÑÊ Çááå (মাগ্ফিরাতুল্লাহ) অর্থাৎ আল্লাহর ক্ষমা প্রর্দশন।
‘Ö’ অক্ষরে-ÖãÇä Çááå (দিমানুল্লাহ) অর্থাৎ আল্লাহর যামিন হওয়া।
‘Ç’ অক্ষরে-ÇáÝÊ Çááå (উলফাতুল্লাহ) অর্থাৎ আল্লাহর প্রেম ও ভালবাসা।
এবং ‘ä’ অক্ষরে-äÚãÊ Çááå (নি‘আমাতুল্লাহ) অর্থাৎ আল্লাহর নিয়ামত লাভ করা।
রোজা পালনের মাধ্যমে জাতির এই পাঁচটি বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয়। মোট কথা, এ মাসে একজন মু‘মিন তার বিগত পাপ-কালিমাকে দাফন করে আল্লাহর ক্ষমা প্রেম, ভালবাসা, নিয়ামত, যিম্মাদারীত্ব ও সন'ষ্টি লাভ করে।
রমযানের ফার্সি প্রতিশব্দ রোজা। এর আরবী প্রতিশব্দ আস্সাওম(ÇáÕæã) এর অর্থ- আত্মসংযম, কঠোর সাধনা, অবিরাম চেষ্টা ও বিরত থাকা। ইংরেজীতে fasting ব্যবহার করা হয়।
কুরআনে এসেছে- íóÇ ÃóíøõåóÇ ÇáøóÐöíäó ÂãóäõæÇú ßõÊöÈó Úóáóíúßõãõ ÇáÕøöíóÇãõ ßóãóÇ ßõÊöÈó Úóáóì ÇáøóÐöíäó ãöä ÞóÈúáößõãú áóÚóáøóßõãú ÊóÊøóÞõæäó (তোমাদের উপরে সাওম ফরজ করা হয়েছে যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে করে তোমরা মুত্তাক্বি হতে পার।)
হাদীসে বলা হয়েছে ÇáÕæã ÌäÉ (রোযা ঢালস্বরূপ)। যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর হাত থেকে ঢাল যেভাবে মানুষকে রক্ষা করে রোযাও তেমনি কুপ্রবৃত্তি, সমস- অন্যায় কাজ, নফসের তাড়না ও শয়তানের ধোঁকা থেকে রোযাদারকে রক্ষা করে।
রমযানের ইতিহাস
মহান আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী পূর্ববর্তী সকল নবী-রাসুল এর যুগেও রোযার বিধান চালু ছিল।
১. হযরত আদম (আঃ) থেকে হযরত নূহ (আঃ) এর পূর্ব পর্যন- আইয়ামে বীয এর রোযা ছিল। অর্থাৎ চন্দ্রমাসের ১৩,১৪ ও ১৫ তারিখ।
২. হযরত নূহ (আঃ) দুই ঈদ ব্যতীত সর্বদা রোযা রাখতেন।
৩. হযরত দাউদ (আঃ) একদিন রোযা রাখতেন এবং অন্যদিন বিরত থাকতেন এভাবে টানা ছয় মাস রোজা রাখতেন।
৪. ইহুদীরা প্রতি সপ্তাহে শনিবার এবং বছরে মহররমের ১০ তারিখ রোযা রাখত এবং হযরত মূসা (আঃ) এর পক্ষ থেকে ৪০ দিন রোযা পালনের নির্দেশ ছিল। কেননা হযরত মূসা (আঃ) সিনাই পর্বতে ৪০ দিন রোযা রেখে তূর পাহাড়ে অবস্থান করেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর মতে, হযরত মূসা (আঃ) জিলক্কদ ও জিলহজ্জ মাসের ১০ দিন রোযা পালন করে তাওরাত কিতাব লাভ করেন।
৫. খৃষ্টানদের ৫০ দিন গ্রীষ্মকালীন রোযা রাখার নির্দেশ ছিল। তবে তারা তা পরিবর্তন করে বসন-কালে নিয়ে আসে। হযরত ঈসা (আঃ) একদিন রোযা রাখতেন এবং দুইদিন বিরত থাকতেন।
এছাড়াও আহলে কিতাবের বাইরে বিভিন্ন ধর্মব্যবস্থায় উপবাস পালনের বিধান রয়েছে। যেমন-
ক. উচ্চবর্ণের হিন্দুরা একাদশী উপবাস পালন করে।
খ. গুজরাট ও দাক্ষিণাত্ত্বের জৈন ধর্মের লোকেরা প্রতি বছর কয়েক সপ্তাহ উপবাস পালন করে থাকে।
গ. পারসিক ধর্মাবলম্বীদের উপবাস করার বিধান রয়েছে। তাদের যাজকরা জীবনে একবার একটানা ৫ বছর সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস- পর্যন- উপবাস করে থাকে। তবে রান্না ব্যতিত পানীয় খাবারের অনুমতি রয়েছে।
ঘ. বৌদ্ধ ধর্মের ভিক্ষুরা দুপুর থেকে পরেরদিন পর্যন- উপবাস পালন করেন।
রমযানের গুরুত্ব
ধনী-গরিব, বড়-ছোট, অট্টালিকা-বসি-, শহর-গ্রাম, সকলের মাঝে নতুন করে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও অনুপ্রেরনা নিয়ে আসে মাহে রমযান। প্রকৃতপক্ষে, রমযানের এই মর্যাদা ও গুরুত্ত্ব সর্ম্পকে মহাগ্রন' আল কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ÔóåúÑõ ÑóãóÖóÇäó ÇáøóÐöíó ÃõäÒöáó Ýöíåö ÇáúÞõÑúÂäõ åõÏðì áøöáäøóÇÓö æóÈóíøöäóÇÊò ãøöäó ÇáúåõÏóì æóÇáúÝõÑúÞóÇäö অর্থাৎ, রমযান মাস, হতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, মানুষের জন্য পথনির্দেশ, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী হিসাবে। (সুরা বাকারা, আয়াত-১৮৫)
এই আয়াতে দু‘টি বিষয় নির্দেশিত হয়েছে।
১. আল-কুরআন নাজিল হয়েছে রমযান মাসে।
২. মানবজাতির পথ নির্দেশিকা হচ্ছে আল-কুরআন।
রাসুল (সাঃ) বলেছেন- সকল আসমানী কিতাব সমুহ রমযান মাসে নাজিল হয়েছে। (মুসনাদে আহমাদ)
আল-কুরআন রাসুল (সাঃ) এর উপর নাজিল হয়েছে ক্বদরের রাত্রিতে। পরিপূর্ণ কুরআন নাজিল হতে সময় লাগে দীর্ঘ ২৩বছর। মূলত: রমযানের গুরুত্ব কুরআনের কারনে।
রোযার গুরুত্ব সম্পর্কে হাদীস-
১. হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) বলেন-যখন রমযান মাস আসে, তখন বেহেশতের দরজা সমুহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজা সমুহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শেঁকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। (বুখারী ও মুসলিম)
২. হযরত সাহাল বিন সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেন-বেহেশতের আটটি দরজা। তন্মেধ্যে রাইয়ান নামে একটি দরজা রয়েছে। রোযাদার ব্যতিত ঐ দরজা দিয়ে কেহ প্রবেশ করতে পারবেনা। (বুখারী ও মুসলিম)
৩. হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেন-যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও আল্লাহর সন'ষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে রমযানের রোযা রাখবে, তার অতীতের সমস- গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও আল্লাহর সন'ষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে রমযানের রাতে ইবাদত করবে, তার অতীতের সমস- গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও আল্লাহর সন'ষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদত করবে তার অতীতের সমস- গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (বুখারী ও মুসলিম)
৪. হযরত সালমান ফারসী (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একবার রাসূল (সাঃ) শা‘বান মাসের শেষভাগের কোন একদিন আমাদের সাথে ভাষন দিলেন। তিনি বললেন-হে মানব মণ্ডলী! একটি মহান মাস তোমাদের মাঝে ছায়া বিস-ার করেছে। এটি একটি কল্যানময় মাস। এটি এমন মাস, যাতে হাজারও মাসের চেয়েও উত্তম একটি রাত আছে। আল্লাহ তায়লা তোমাদের উপর তার রোযাগুলোকে ফরজ ও তার রাতের নামাজ পড়াকে নফল করেছেন। যে ব্যক্তি সে মাসে আল্লাহর সন'ষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একটি নফল কাজ করে সে অন্য মাসে একটি ফরজ আদায়কারীর সমান হয়। আর যে ব্যক্তি সেই মাসে একটি ফরজ আদায় করে সে অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায়কারীর সমান হয়। এটি ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্যের প্রতিদান হল বেহেশ্ত। এটা সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। এ মাসে মু‘মিনদের জীবিকা বাড়ানো হয়। যে ব্যক্তি এ মাসে কোন রোযাদরাকে ইফতার করাবে তা তার গুনাহ সমুহের জন্য ক্ষমা ও দোযখের আগুন থেকে অব্যাহতি লাভের কারণ হবে। তদুপরি সেই রোযাদার ব্যক্তির রোযার সওয়াব সে সমান সমান পাবে। অথচ রোজাদারের সওয়াব কমবে না। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)! আমাদের সকলের তো রোযাদারকে ইফতার করানোর মত সামর্থ্য থাকে না। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এক ঢোক দুধ দ্বারা, একটি খেজুর দ্বারা বা এক ঢোক পানি দ্বারা রোযাদারকে ইফতার করায়, তাকেও আল্লাহ সে সওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে তৃপ্তির সাথে খাওয়ায় আল্লাহ তায়লা তাকে আমার হাউজ (কাউসার) থেকে পানি পান করাবেন। ফলে সে জান্নাতে যাওয়া পর্যন- আর কখনো পিপাসা বোধ করবে না। এ মাসের প্রথমাংশে রহমত, মধ্যাংশে গুনাহ মাফ ও শেষাংশে দোযখ থেকে অব্যাহতি নির্ধারিত রয়েছে। আর এ মাসে যে ব্যক্তি তার চাকর-চাকরাণীদের কাজ কমিয়ে দেবে, আল্লাহ তা‘য়ালা তাকে মাফ করে দেবেন এবং তাকে দোযখ থেকে মুক্তি দেবেন। (বায়হাক্বী)
জাতি গঠনে রমযানের ভুমিকা
ব্যক্তিগঠনে রমযান
আল্লাহ তা‘য়ালার বাণী- æóÅöÐú ÞóÇáó ÑóÈøõßó áöáúãóáÇóÆößóÉö Åöäøöí ÌóÇÚöáñ Ýöí ÇáÃóÑúÖö ÎóáöíÝóÉð অর্থাৎ, আর যখন তোমার রব ফেরেশতাদেরকে বললেন- আমি দুনিয়াতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে চাই। (সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত-৩০)
একজন ব্যক্তিকে এই প্রতিনিধির দায়িত্বপালন করতে হলে আল্লাহর নির্ধারিত পন্থায় নিজেকে পরিচালনা করতে হবে। এক্ষেত্রে রমযানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ব্যক্তিগঠন করতে নিম্নবর্ণিত মৌলিক গুনাবলী আবশ্যক।
১. তাক্বওয়া অর্জন
একজন মানুষকে সকল প্রকার অন্যায়, অশ্লীলতা ও কুপ্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করতে পারে একমাত্র আল্লাহ ভীতি বা তাক্বওয়া। হযরত উমর (রাঃ) তাক্বওয়ার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ) বলেন , আপনি কি কখনো কন্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করেছেন ? হযরত উমর (রাঃ) বললেন-হ্যাঁ। উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ) পূনরায় প্রশ্ন করলেন-তখন আপনি কি করেছেন ? হযরত উমর (রাঃ) বললেন-আমি সাবধানতা অবলম্বন করে দ্রুতগতিতে ওই পথ অতিক্রম করেছি। উবাই ইবনে কা‘ব বললেন এটাই তাক্বওয়া। আর যিনি তাক্বওয়া অবলম্বন করেন তিনি মুত্তাক্বী।
আন্তরিকতার সাথে মাসব্যাপী এ সিয়াম সাধনের মাধ্যমে ব্যক্তির মধ্যে তাক্বওয়ার এমন ভাবধারা তৈরী হয় যা তার পাশবিক প্রবৃত্তিকে সংযত ও আত্মিক শক্তিকে জাগ্রত ও বিকশিত করে জাতীয় জীবনকে সুন্দর করতে সহায়তা করে। তাই তাক্বওয়া অর্জনই মাহে রমযানের মূল লক্ষ্য। কিন' আমাদের সমাজে তাক্বওয়ার প্রচলিত ধারণা যেমন সংকীর্ণ তেমনি তাক্বওয়ার পরিচয়ও খোঁজা হয় বাহ্যিক ক্রিয়া কর্মের মাধ্যমে, তাই প্রতিবছর রমযান পালন করা সত্বেও জাতির পরিবর্তন হয়না বললেই চলে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘উদ (রাঃ) বলেছেন তাক্বওয়ার অর্থ হচ্ছে- আল্লাহর আদেশের আনুগত্যকরা, তার নাফরমানী না করা, আল্লাহর স্মরণ করা, তাঁকে ভুলে না যাওয়া এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা ও কুফুরী না করা।
হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাঃ) বলেন- ‘দিনে রোযা রাখা কিংবা রাত্রে জাগরণ করা অথবা দু‘টোর আংশিক আমলের নাম তাক্বওয়া নয় বরং তাক্বওয়া হচ্ছে আল্লাহ যা ফরজ করেছেন তা পালন করা এবং তিনি যা হারাম করেছেন তা থেকে দূরে থাকা। সুতারাং যে ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নিষ্ঠা সহকারে আল্লাহর নির্দেশ পালন করে ও নিষেধাজ্ঞা হতে বিরত থাকে সেই মুত্তাক্কী হওয়ার যোগ্য।
২.আত্মসংযম
আত্মসংযম বলতে মূলতঃ তিনটি দিককে বুঝায়
প্রথমতঃ নফসের কামনা বাসনাকে নিয়ন্ত্রণ করা- যাবতীয় মন্দ ও অশ্লীল চিন-া থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা। রাসুল (সাঃ) বলেন, সাবধান ! শরীরের মধ্যে একটুকরো জিনিস আছে যা ঠিক হলে গোটা শরীরই ঠিক হয়ে থাকে। আর তা খারাপ হলে গোটা শরীর খারাপ হয়ে যায়। সেটি হচ্ছে “অন-র’। (বুখারী ও মুসলিম)
দ্বিতীয়তঃ নিজ দেহকে সকল প্রকার হারাম ও অপবিত্রতা থেকে হেফাজত করা। অর্থাৎ সকল প্রকার সুদ, ঘুষ, দূনীর্তি, ব্যাভিচার থেকে নিজেকে হেফাজত করা।
তৃতীয়তঃ জিহ্বা কে সংযত রাখা। অর্থাৎ সকল প্রকার মিথ্যা, ঠাট্টা-বিদ্রুপ, গালি-গালাজ, অপবাদ, গীবত, অনর্থক কথা থেকে বেঁচে থাকা। রাসুল (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি আমার কাছে তার জিহবার জিম্মাদার হতে পারবে আমি তার জন্য বেহেশ্েতর জিম্মাদার হবো। তিনি আরো বলেন, যে ঈমান এনেছে সে যেন কথা বললে ভাল কথা বলে নতুবা চুপ করে থাকে। (বুখারী ও মুসলিম)
৩.সবর
ইসলাম মানুষের মধ্যে আদর্শিক যে নৈতিকতার বাস-বায়ন করতে চায় তার মধ্যে ধৈর্য্য অন্যতম। কারো কাছ থেকে অপছন্দনীয় কথা-বার্তা শুনে কিংবা অপছন্দনীয় আচার-আচরণ পেয়ে তা সহ্য করে যাওয়া এবং আপন ক্রোধ নিরবে হজম করার নাম ধৈর্য্য। একজন মু‘মিনের সাফল্যের জন্য ধৈর্য্য পূর্বশর্ত। শব্দটির আরবি সবর। যার অর্থ ভয় বা দূর্বলতার অনুভূতিকে বেঁধে রাখা। মাওলানা মওদুদী (রহঃ) বলেন, সবর এর অর্থ হচ্ছে-তাড়াহুড়া না করা, তিক্তস্বভাব ও দুর্বলমত ত্যাগ করা, বাধার সময় বীরোচিত মোকাবেলা করা, দুঃখ-বেদনা, ভারাক্রান- ও ক্রোধান্বিত না হওয়া।
রাসুল (সাঃ) বলেন, রমযান মাস সবরের মাস। আর সবর এর প্রতিদান হলো জান্নাত। তিনি আরো বলেন, ধৈর্য্য ঈমানের অর্ধেক। (বুখারী ও মুসলিম)
আল্লাহ তায়লা বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তায়লা ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন। (সুরা বাকার ১৫৩)
একজন রোযাদার ব্যক্তি সুবহি সাদিক থেকে সুর্যাস- পর্যন- সামর্থ্য থাকা সত্বেও পানাহার না করে ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে থাকেন।
৪.সুস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
রোজা মু‘মিনকে আত্মিক ও দৈহিক চিকিৎসা প্রদান করে থাকে। একদিকে যেমন একজন ব্যক্তিকে যাবতীয় ঘুষ, সুদ ও দূর্নীতি থেকে বিরত রেখে আত্মিক চিকিৎসার ব্যবস'া করে থাকে তেমনি শরীরকে সুস'্য রাখার জন্য অনেক জটিল রোগ থেকে হেফাজত করে দৈহিক চিকিৎসাও দিয়ে থাকে। রুশ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডাঃ এ্যালক্সী সাফুরিন বলেন, রোযার মাধ্যমে যে সকল জটিল রোগের চিকিৎসা হয় তন্মোধ্যে কয়েকটি হচ্ছে মেদভূঁড়ির সমস্যা, হজম সমস্যা, লিভার সমস্যা, পেপটিক আলসার, এ্যাকিউট পেপটিক আলসার, ক্রনিক পেপটিক আলসার, কোলেষ্টরেল সমস্যা, হাইড্রোপসি ও ডায়বেটিস প্রভৃতি। একটি রেওয়ায়েতে আছে- ÕæãæÇ ÊÕ꾂 (রোযা রাখ সুস'্য থাক)। -আল-হাদিস
সমাজ গঠনে রমযান
১. সামাজিক বৈষম্য নিরসন
দুনিয়ার সর্বত্র আজ ধনী-গরীবে শ্রেনী সংগ্রাম, হানাহানি, রক্তপাত। সমাজের একদিকে পূঁজিপতিদের স্বর্গসৌধ, অন্যদিকে সেই সৌধের প্রাচীর ঘেঁষে অনাহার-ক্লিষ্ট দরিদ্র মানুষের নিরন্ন মিছিল। এক্ষেত্রে রমযানুল মুবারকের অনুশীলণই এই শ্রেণী সংগ্রাম, সর্বহারা আর পুঁজিপতির আকাশ-পাতাল ব্যবধান দুর করে সমাজে সাম্য ও শানি-ধারা নামাতে পারে। একসাথে ইফতার গুলোতে সাম্যের চমৎকার চিত্র ফুটে উঠে। অফুরন- সওয়াবের আশায় রোযার দিনশেষে সামান্যটুকু খাবারের অপর রোযাদার ভাইকে নিয়ে মিলেমিশে ইফতার করায় পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, প্রেমপ্রীতি, ভালবাসা ও সহযোগিতার এই অনুশীলণ সত্যিই অপূর্ব। ধনীরাও সারাদিন উপোস থেকে উপলদ্ধি করতে সক্ষম হয় অনাহারে কি করুণ যন্ত্রণা। তাই রোজা শেষে ফিৎরা আদায় ও ঈদের দিনে মৈত্রীর মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য শূন্যের কোটায় নেমে আসে।
রাসুল (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি একজন রোযাদারকে ইফতার করায় সে একটি পূর্ণ রোযার সওয়াব পায়। ইফতারের পরিমান যদিও একঢোক পানি, একঢোক দুধ অথবা একটি খেজুর হয়। (বুখারী ও মুসলিম)
২. অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ
বর্তমান পুঁজিবাদী অর্থব্যবস'ায় পুরো বিশ্বের ৮০ শতাংশ সম্পত্তি মাত্র ২০শতাংশ পুজিঁপতি ভোগ করছে। পক্ষান-রে ২০ শতাংশ সম্পত্তি ভোগ করে ৮০ শতাংশ সুবিধা বঞ্চিত জনগণ। ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে এই বৈষম্য দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে এবং গরীবরা আরো গরীব হচ্ছে।
রমযনে ধনীরা নিজ উদ্যোগেই যাকাত, ফিৎরা ও দান-খয়রাতে উদ্বুদ্ধ হয় যা সমাজের বিদ্যমান বৈষম্য দুর করে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়। এব্যপারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে রাসুল (সাঃ) বলেন, প্রত্যেক স্বাধীন ও গোলাম এবং নারী ও পুরুষের জন্য এক সা’ খেজুর কিংবা যব অথবা দেশীয় প্রধান খাদ্য দ্বারা ফিৎরা আদায় করা ফরজ। (বুখারী )
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে ঈদের নামাজের আগেই নিঃস্ব-অসহায় মিসকীনকে ফিৎরা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় কবুল হবেনা বলে সাবধান করা হয়েছে। ( আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
রাষ্ট্র গঠনে রমযান
মহান আল্লাহ তায়লা বলেছেন, æóÚóÏó Çááøóåõ ÇáøóÐöíäó ÂãóäõæÇ ãöäßõãú æóÚóãöáõæÇ ÇáÕøóÇáöÍóÇÊö áóíóÓúÊóÎúáöÝóäøóåõã Ýöí ÇáúÃóÑúÖö ßóãóÇ ÇÓúÊóÎúáóÝó ÇáøóÐöíäó ãöä ÞóÈúáöåöãú অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে ঐ লোকদের সাথে আল্লাহ ওয়াদা করেছেন যারা ঈমান আনে এবং নেকআমল করে যে, তিনি তাদেরকে তেমনই ভাবে পৃথিবির প্রতিনিধি বানাবেন, যেমনি ভাবে তাদের পূর্ববর্তীদের বানিয়েছেন। (সুরা নূর, আয়াত ৫৫)
সুতরাং পারস্পারিক সহযোগিতা ও জবাবদীহিতার মাধ্যমে একটি আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে রমযানের অনন্য ভূমিকা রয়েছে।
১. আদর্শ নেতৃত্ব সৃষ্টি
একজন আদর্শ নেতা সৃষ্টি করার জন্য যে উপাদান গুলো প্রয়োজন যেমন- ত্যাগ, ধৈর্যশীলতা, উদারতা, ক্ষমা ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী এই সবগুলো গুণই রমযান শিক্ষা দেয়।
দার্শনিক আল-ফারাবির মতে, জীবন রক্ষা ও জীবনোন্নয়নের জন্য পরস্পর সহযোগিতা মুলক জীবন নীতি বা সিয়াসাত(রাজনীতি) মানুষের জন্য অপরিহার্য। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন, জনগণের যাবতীয় বিষয় নিঃস্পন্ন করার জন্য রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠা করা দ্বীনের প্রধান কর্তব্য। এক্ষেত্রে আদর্শ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
২. সুনাগরিক তৈরী
মানুষ স্বভাবতই ভোজন প্রিয়, লোভী, সম্পদলিপ্সু, আত্নঅহংকারী এবং জৈবিক চাহিদা পূরনে সর্বদা তৎপর। আর এই কারনেই পৃথিবীতে যত অরাজকতার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন' একজন ব্যক্তি যখন একমাত্র আল্লাহর সন'ষ্টির জন্যই রোযা রাখবে তখন তাকে ১৪-১৬ ঘন্টা উপবাস থাকতে হয়, এই সময়ে তাক্বওয়ার অনুভূতিতে দান-সদকা করে। একসাথে ইফতার অহংকারীর অহংকারকে চূর্ণ করে দেয় এবং জৈবিক চাহিদা পূরনে বাঁধা দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ চাহিদা পূরণে অভ্যস- করে। সমপ্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, সাম্য, ত্যাগ ও সহমর্মিতায় একজন ব্যক্তিকে আদর্শ নাগরিক করে তোলে।
৩. দূর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত জীবন গঠন
দূর্নীতি ও সন্ত্রাস বর্তমান প্রেক্ষাপটে সারা বিশ্বব্যাপী এটি একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যায় পরিনত হয়েছে। নৈতিক শিক্ষার অভাব, সম্পদের অসম বন্টন, পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ও অধিক চাহিদার কারণে দূর্নীতি ও সন্ত্রাস এর সৃষ্টি হয় যা মানুষকে সার্বক্ষনিক অসি'রতার মধ্যে রাখছে। এটি একটি সমষ্টিগত সমস্যা, কোন ব্যক্তিগত সমস্যা নয়। নীতি শব্দের বিপরীত হচ্ছে দুর্নীতি।
দুর্নীতি দুটি ক্ষেত্রে হতে পারে-
১. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে।
২. অর্থ ব্যতিত অন্যান্য ক্ষেত্রে।
মহান আল্লাহ বলেন “ তোমাদের জন্য যা ভালো ও কল্যাণকর তা হালাল করা হয়েছে আর যা ক্ষতিকর ও অকল্যাণকর তা হারাম করা হয়েছে” সিয়াম নীতি গ্রহনের শিক্ষা দেয় এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাহসী মনোভাব তৈরি করে তোলে। সিয়ামের মুল কথা আল্লাহর নির্দেশ হুবহু কার্যকর করা । আল্লাহ যা করতে বলেছেন তা নীতি যা নিষেধ করেছেন তাই দুর্নীতি। সিয়াম সাধনা এক অপূর্ব তাক্বওয়ানুভূতি জাগ্রত করে যার দরূন লোকজন নীতি গুলো চর্চা করতে অভ্যস- হয়।
সাধারনত মানুষ তিনটি কারনে দুর্নীতি করে থাকে- ১. খাদ্যের চাহিদা ২. লোভ লালসা ৩. যৌন চাহিদা।
একজন ব্যক্তি যখন রোযা রাখে তখন সে তার রোযা দ্বারা অফুরন- খাদ্যের চাহিদাকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে। তাই রোযাদার ইহজাগতিক লোভ-লালসা নিয়ন্ত্রণ করতে সামর্থ্য হয়। আর সারাদিন উপবাস এবং আল্লাহর নিষেধ থাকায় বাধাহীন যৌন চাহিদা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে চলে আসে। রাসূল (সাঃ) বলেন, যে রোযাদার অন্যায়, অশ্লীল কথাবার্তা ও পাপাচার ত্যাগ করেনা তার পানাহার ত্যাগ করে উপবাস থাকাতে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। (মিশকাত, বুখারী)
৪. আইন শৃঙ্খলার উন্নয়ন
আমরা জানি, Necessity Knows No Law- “প্রয়োজন আইন মানে না” মানুষ স্বভাবতই আইন ভঙ্গ করতে অভ্যস-। জাগতিক আইনগুলোর একমাত্র উদ্দেশ্য থাকে ইহলৌকিক শানি--শৃংখলা রক্ষা করা। আর এ জন্যই আমরা দেখতে পাই যে, কোন আইনই সম্পুর্নরূপে কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার অনেক সময় মানুষ প্রয়োজনের তাগিদেই আইন ভঙ্গ করে।
কিন্তু রমযান মাসে যাকাত-ফিৎরা, দান-সদকা বেশি বেশি আদায় করে বলে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় থাকে এবং বিভিন্ন ধরনের সভা, সেমিনার, আলোচনা সভা, ইফতার মাহফিল হয় যাতে লোকজন সহজেই আইন- কানুন ও নীতি-নৈতিকতা সম্পর্কে সম্যক অবগত হন। সবচেয়ে যে অনুভূতিটি বেশি কাজ করে তা হচ্ছে এই আইন ভঙ্গ করলে শুধুমাত্র ইহলৌকিক শাসি- নয় বরং পারলৌকিক শাসি-ও পেতে হবে। আর এই অনুভূতির জন্য সাধারনত লোকজন আইন ভঙ্গ করতে ভয় পায়। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, রোযা মানুষের জন্য ঢালস্বরুপ সুতারাং তোমাদের কেউ যেদিন রোযা রাখে সেদিন সে যেন অশ্লীল কথা ও কাজ এড়িয়ে চলে এবং অযথা চেচামেচি না করে। কেউ তাকে গালি দিলে বা তার সাথে মারামারি করতে চাইলে সে যেন বলে- আমি রোযাদার। (বুখারী ও মুসলিম)
৫. সাংস্কৃতিক মুল্যবোধ সৃষ্টি
“সংস্কৃতি হলো একটি জাতির দর্পন স্বরূপ”
যদিও আমাদের স্বকীয় সংস্কৃতি রয়েছে কিন' আজ তা বিলীয়মান হয়ে যাচ্ছে পাশ্চাত্য ও ভারতীয় অপসংস্কৃতির নগ্ন সয়লাবে।
রমযান এলে আমরা স্বল্প পরিসরে হলেও আমাদের সংস্কৃতি চর্চা করি যা আমাদের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ কে জাগ্রত করে। সেহরী ও ইফতার, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কুরআন তেলাওয়াতসহ ঈদের সংস্কৃতির মাধ্যমে একটি জাতিকে আর্দশিক সংস্কৃতি চর্চায় উদ্বুদ্ধ করে।
উপসংহার
রমযানের রোযা হচ্ছে মু‘মিন হওয়ার সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম অনুশীলন। আল্লাহপাক এক মাস ব্যপী ট্রেনিং কর্মসূচীর ব্যবস'া করেছেন এ জন্য যে যাতে করে জাতি বাকি এগার মাস রমযানের অর্জিত শিক্ষা অনুযায়ী জীবন যাপন করতে পারে। আর এ জন্য চাই একটি ইসলামী সমাজ যেখানে আল্লাহর সকল বিধান মানতে কোন বাঁধা থাকবে না থাকবেনা কোন অন্যায়, অবিচার, শোসন, বঞ্ছনা ও নির্যাতন। এ আর্দশ ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে একদল নিবেদিত প্রাণ তাক্বওয়াবান মুজাহিদ প্রয়োজন। আর কেবল মাত্র রমযানের সিয়াম সাধনার মাধ্যমেই তা তৈরী হতে পারে। আল্লাহ আমাদেরকে এই রমযান মাসে আত্মত্যাগ ও আত্মসংশোধনের মাধ্যমে একটি আদর্শ জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন।
we were really lucky to have a such versatile Vai . but Allah chooses those excellent mumins.i see him in the beautiful rose garden of Jannah. now we must punish the killers of our Brother NOMANI. it is must for Bangladesh...
1396
২
িজদ্দা থেকে আবদুল হাদি লিখেছেন,
২৮ অগাস্ট ২০০৯; সকাল ১০:০২
আল্লাহ আপনার শাহাদাত কবুল করুন।
3197
৩
Dhaka থেকে Moin uddin লিখেছেন,
১৭ অক্টোবর ২০০৯; দুপুর ০১:৫৩
আল্লাহ আপনাকে জান্নাতে সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন।
4481
৪
Dhaka থেকে Solaiman Badsha লিখেছেন,
১৭ অক্টোবর ২০০৯; সন্ধ্যা ০৬:২৮
May Allah accept your "shahadat" and pay its best result.And keep us on the your shown way of "jannah".
4488
৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্ থেকে মো:গোলাম সারোয়ার (নয়ন) লিখেছেন,
২০ অক্টোবর ২০০৯; সকাল ০৭:১৯
আমি জানা মতে তার ব্যবহার ছিল খুব অমায়িক।তার কাছে যতটা গিয়েছি ,মুগ্ধ হয়েছি।আজ তার লেখা পড়ে আরো কিছু জনলাম। আমি তার জন্য আল্লাহ কাছে দোয়া করি যেন আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করে।
4562
৬
ঢাকা থেকে আহমেদ মুরাদ লিখেছেন,
১০ নভেম্বর ২০০৯; দুপুর ০২:৪৪
১৯৬৯ সালের ১৫ ই আগষ্টে শাহাদাতের বদলা যেমন আল্লাহ নিয়েছেন শহীদ নোমানী ভাইয়ের শাহাদাতের অনুরুপ শাস্তি তাদের পেতেই হবে। তাদের কোন ক্ষমা নেই।তাদের শাস্তি অবধারিত।
5240
৭
জগন্নাথ বিশ্ব িবদ্ থেকে রিফাত লিখেছেন,
১৬ নভেম্বর ২০০৯; রাত ০২:২১
অসাধারণ একটি প্রবন্ধ লিখেছেন শহীদ শরিফুজ্জামান নোমানী। আমি তঁার মত একজন সম্ভাবনাময় ব্যাক্তির হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাষ্তি দাবী করছি।।
5339
৮
িদনাজ পুর থেকে আকন্দ লিখেছেন,
২১ নভেম্বর ২০০৯; সন্ধ্যা ০৬:১০
আিম আমার েনামানী ভাইেক িফের েপেত চাই।
5483
৯
MALAYSIA থেকে ৃALI MOSTAFIZ লিখেছেন,
১৩ মার্চ ২০১০; রাত ০৯:৫৩
sohid nomani vi er jonne ami doa kori allah jeno take jannat dan koren.
10408
১০
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম থেকে আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব লিখেছেন,
আরশের মহান অধিপতি! জানি তুমি সব শুন, সব দেখ। তোমার কাছে চাই শুধু বিচার। তুমি ছাড়া কারো কাছে হাত পাতা শিখিনি কভূ।
মহান অধীশ্বর! কী অপরাধ ছিল তাঁর? তুিম জান তাঁর অপরাধ সারা জীবনে শুধু একটাই ছিল আর তা হল তোমার জমীনে তোমার দ্বীন কায়েমের জন্য জীবনটা উৎসর্গ করা। আর সত্য সত্য যদি তা-ই হয়ে থাকে অপরাধ, প্রভূ আমার নোমানী ভাইয়ের প্রতিটি রক্তবিন্দু দিয়ে রাঙাও খিলাফাতে রাশেদার রক্তিম গোলগাল সূর্যটাকে। বাংলার পুবাকাশে সে রবির উদয়নের প্রতীক্ষা কী আরও দীর্ঘমেয়াদী? নোমানী ভাইকে দান কর অনন্ত ফিরদাউস, যার প্রতিশ্রুতি তুমি দিয়েছ।
নোমানী ভাই আমাদের অনুপ্রেরণা। তাঁর শাহাদাত আমাকে উদ্বুদ্ধ করে প্রিয় একটি গান বারবার গাইতে-
আমাকে শহীদ করে সেই মিছিলে শামিল করে নিও,
যেই মিছিলের নেতা আমীর হামযা
খুবাইব খাব্বাব-
আল্লাহর ছিল যাঁরা অতি প্রিয়।...
প্রভূ! "যায় যদি প্রাণ, অগণন যাক আরও.. বিনিময়ে চাই শুধু আল্লাহর রাজ" গান মুখে নিয়ে যারা দুরন্ত দুর্বার বেগে শুধু তোমার রিযামান্দি হাসিলের অন্বেষায় ছুটে চলে দুর্নিবার, তাদের তুমি কবুল কর। আমরা আর শুনতে চাইনা মজলুমানের করুণ আহাজারি, দেখতে চাইনা জালিমের সদর্প বিচরণ......
তোমার দ্বীনের তরে নিবেদিতপ্রাণ এ কিশোরকে শামিল কর নোমানী ভাইদের সারিতে___
সেই সংগ্রামী মানুষের সারিতে, আমাকে রাখিও রহমান,
যাঁরা কুরআনের আহ্বানে নির্ভিক, নির্ভয়ে সব করে দান।...
16101
১১
london থেকে mostaq লিখেছেন,
০৮ অগাস্ট ২০১০; রাত ০৯:২৬
আললাহ নোমানী ভাইর শাহাদাত কবুল কর।আমিন
30981
১২
London.uk থেকে Ali Raj (king) লিখেছেন,
০৯ অগাস্ট ২০১০; রাত ০৩:৩৪
শহীদ নোমানী ভাইয়ের রক্ত বৃতা যাবেনা ইনসাল্লাহ।।
আল্লার পথে যারা দিয়েছে জীবন
তাদেরকে তোমরা মৃত বলনা।
বলনা মৃত।
ওরা আছে চেতনা আমাদের আমাদের
ওরা আছে প্রেরনা আমাদের আমাদের
ওরা আছে সংগ্রাম সাধনার
দুর্বার,দুর্যয় অপরাজিত
তাদেরকে তোমরা মৃত বলনা
বলনা মৃত।
আল্লার পথে যারা দিয়েছে জীবন
তাদেরকে তোমরা মৃত বলনা।
বলনা মৃত।
ওরা আছে অলকে আমাদের আমাদের
ওরা আছে পলকে আমাদের আমাদের
ওরা আছে মিছিলে মিছিলে
চির দিন চির চেনা পরিচিত
তাদেরকে তোমরা মৃত বলনা
বলনা মৃত।
আল্লার পথে যারা দিয়েছে জীবন
তাদেরকে তোমরা মৃত বলনা।
বলনা মৃত।
ওরা আছে সাহসে আমাদের আমাদের
ওরা আছে সমুখে আমাদের আমাদের
ওরা হল সেনানী জীবনের
সংগ্রামী পতাকা উজ্জীবিত
তাদেরকে তোমরা মৃত বলনা
বলনা মৃত।
আল্লার পথে যারা দিয়েছে জীবন
তাদেরকে তোমরা মৃত বলনা।
বলনা মৃত।
তাদেরকে তোমরা মৃত বলনা।
ব-ল-না- মৃত। (সাইমুম থেকে সংগ্রহ)
হে আমার রব,আমাদের শহীদ নোমানী ভাইকে কবুল করুন।নোমানী ভাইয়ের পবিত্র রক্তের বদলা হিসেবে বাংলাদেশ কে ইসলামের আলোয় আলোকিত ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে কবুল করুন।
মাহে রামজানের গুরুত্ব ও ফজিলতের উপর লিখিত এই প্রবন্ধকে নোমানী ভাইয়ের নাজাতের উছিলা বানিয়ে দাও। হে আল্লাহ পাক নোমানী ভাইকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন।।
হে আমার পালন কর্তা নোমানী ভাইয়ের মত কোটি কোটি জ্ঞানী,গুনী ও আদর্শবান ছাত্র ও নেতা,কর্মী দিয়ে বাংলাদেশকে মানব সম্পদে ভরপুর করে দাও এবং আমাদেরকে মাফকরে দাও আমিন,আমিন।।
ধন্য বাদ।।
31027
১৩
Rajshahi City থেকে Maruful Islam লিখেছেন,
০৬ জানুয়ারি ২০১১; সন্ধ্যা ০৭:২৪
নোমনী ভাই এর মত আমরাও জীবন দিতে প্রস্তুত কিন্তু ছাত্রলীগকে আমরা জানিয়ে দিতে চাই তোমাদের স্থান রাবিসহ সারাদেশে হবে না।
45103
১৪
Dhaka থেকে Abdur Rahman লিখেছেন,
০৬ অগাস্ট ২০১১; রাত ১২:৩৮
Nomani made us teach that how we sacrificed our life for establishing Islamic rules and regulation in this country according to quran and sunna
64749
১৫
Dhaka থেকে Bayazid hossain লিখেছেন,
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১১; দুপুর ১২:৩২
ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের কাছে প্রশ্ন কি অপরাধ ছিল প্রিয় ভাই নোমানীর ? কেন তাকে নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হলো। সে তো আপনাদের গায়ে তো কোন আঘাত করে নি? সে তো শুধু তার প্রিয় ভাই ফরহাদকে বাঁচাতে চেয়েছিল। আজ বিবেকবান মানুষ কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না নারকীয় তান্ডবতার এ হিংস্রতা। জীবনের সবচেয়ে প্রিয় সবচেয়ে মূল্যবান জীবন দিয়ে শহীদ হয়ে প্রমান করলেন তার কাছে জীবনের চেয়ে প্রিয় ইসলামী আন্দোলন ও শাহাদতের রক্তমাখা এ পথ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি প্রশ্ন আপনারা বিশ^বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীর কি অবিভাবক না? আপনারা কি সকলকে সমান দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পারেন না?
হে আমার রব, শহীদ নোমানী ভাইয়ের পবিত্র রক্তের বদলা হিসেবে বাংলাদেশ কে ইসলামের আলোয় আলোকিত ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে কবুল করুন।
68062
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: