|
ইন্টারনেটে পর্নোঃ অবক্ষয়ের মুখে যুবসমাজ
শওকত আল-ইমরান |
|
গত ২১ শে জুলাই দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার একটি খবর সমাজ সচেতন প্রত্যেক ব্যক্তিকেই আশান্বিত করেছে। সংবাদটির ’শিরোনাম হলো ‘পর্নো অপরাধীদের বিরুদ্ধে আসছে জামিন অযোগ্য আইন।’ সংবাদটির কিছু অংশ হল এইরকম ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোল্লা ওয়াহেদুজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশপত্রে উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে ভিডিও এবং বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে পর্নোগ্রাফির প্রসারতা ব্যাপকভাবে বাড়ায় সমাজে অশ্লীলতা, পৈশাচিকতা, অস্থিরতা ও নৃশংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে দেশের যুব সমাজের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পাশাপাশি সমাজের আবহমান সাংস্কৃতিক প্রবাহে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে যুব সমাজ ক্রমাগত ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এতে সমাজের সামগ্রিক ভারসাম্যও হুমকির মুখে।’ এই সংবাদটি পড়ে অনেকেরই খুশি হবার কথা।
অনেক বুদ্ধিজীবী বলে থাকেন আমরা প্রযুক্তির দিক দিয়ে যত উন্নত লাভ করছি আমাদের সভ্যতাও তত উন্নত লাভ করছে। আসলেই কি আমাদের সভ্যতা দিন দিন উন্নত লাভ করছে? সভ্য মানে যদি হয় “অসভ্য” তাহলে সেই সব বুদ্ধিজীবীদের কথা ঠিক আছে। কিন্তু সভ্যতা মানে যদি হয় রুচিসম্পন্ন, সংস্কৃতিসম্পন্ন তাহলে প্রযুক্তি যে আমাদের সভ্যতাকে অগ্রসর করছে তা বলা যাবে না। বরং আমরা এতটুকু বলতে পারি প্রযুক্তি আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আশাতীতভাবে সহজ করেছে কিন্তু আমাদের সভ্য করেনি। প্রযুক্তি যদি আমাদের সভ্য করত তাহলে ব্যাপক হারে সারা পৃথিবীতে ধর্ষন বাড়ত না, মানুষ মানুষকে খুন করতো না, পথে পথে মেয়েদের উত্যক্ত হতে হতো না, গরিবেরা না খেয়ে মরতা না। সভ্যতা যদি আমাদের মানসিকতাকে উন্নত করতো তাহলে আমেরিকার মত একটি শীর্ষ প্রযুক্তির দেশ সারা পৃথিবীতে আগ্রাসন চালাত না। মোট কথা প্রযুক্তি আমাদের সভ্য করতে পারেনি, বরং প্রযুক্তি যত উন্নতি লাভ করছে আমাদের হীন স্বার্থ তত প্রকট হয়ে উঠছে।
ইন্টারনেট তেমনই একটি উন্নত প্রযুক্তি। ইন্টারনেট সমগ্র পৃথিবীকে আমাদের হাতের মুঠোই এনে দিয়েছে। ঘরে বসেই আমরা সারা পৃথিবীকে অবলোকন করছি। ইন্টারনেটে অনেক ভাল দিক রয়েছে যা ব্যবহারের ফলে আমাদের জানার পরিধিকে বাড়িয়ে দেয় কিন্তু এর খারাপ দিক মোটেই উপেক্ষা করার মত নয়। পর্নোগ্রাফি তেমনই একটি খারাপ দিক যা যুবক-যুবতিদের ঠেলে দিচ্ছে ভয়াবহ বিকৃত যৌনাচারের দিকে। এই সব অশ্লীল ভিডিও দেখার ফলে একজন তরুন হয়ে উঠছে সেক্স অপরাধী। তার একমাত্র চিন্তাধারা হয়ে উঠে সেক্স। যার ফলে সে একজন তরুনীকে পথে ঘাটে লাঞ্ছিত করে। তার স্বাভাবিক কাজকর্ম বহ্যত হয়। আমরা যদি আমাদের দেশটাকে এগিয়ে নিতে চাই তবে আমাদের তরুন সমাজকে অবশই নৈতিকতার মানদন্ডে উর্ত্তীণ হতে হবে।
অশ্লীল ছবি দেখার ফলে একজন তরুনই যে বখাটে হয় তা ভুল। অশ্লীল ছবি দেখার প্রতিক্রিয়া একজন তরুনীর মধ্যেও দেখা যায় যা সাধারনত আলোচিত হয় না। একজন তরুনের মতই একজন তরুনীও যে বখাটিনী হতে পারে এই সত্যটি আমাদের স্বীকার করতে হবে। অনেক ছেলেকে দেখা যাই ময়লাযুক্ত প্যান্ট পড়ে সেই প্যান্ট আবার এতো নিচে থাকে যে নাভী দেখা য়ায। এই ছেলে গুলোকে আমরা সাধারনত বখাটে ভাবি। অনেককে দেখা যায় এমন পাতলা পাঞ্জাবী পড়িধান করতে যে তার সমস্ত শরীর দেখা যায়, একে আমরা বখাটে মনে করি। অনেককে দেখা যায় চুল বড় করে রেখে চোখে কালো চশমা পড়ে বুকের বুতাম খুলে রেখে যখন রাস্তা দিয়ে চলে তখন একেও আমরা সাধারণত বখাটে ভাবি। কিন্তু কোন মেয়ে যখন অশ্লীল টাইপের পোশাক পড়ে তখন তাকে আমরা সাধারণত বখাটিনী ভাবি না। কোন মেয়ে যখন স্বাভাবিক পোশাক পরিধান না করে বরং শরীরের স্পর্শকাতর অংগগুলি ফুটে উঠে এই রকম পোশাক ব্যবহার করে তখন তাকে আমরা বখাটিনী ভাবি না বরং মনে করি বাহ! এই মেয়েটি তো বেশ আধুনিক।
ধর্ষণ, বখাটে, বিকারগ্রস্থ, আত্মহত্যা এই শব্দগুলো আজকাল পত্রিকার পাতায় ও বুদ্ধিজীবীদের মুখে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই ধরনের কিছু শব্দের ব্যবহার যখন বেড়ে যায় তখন মনে করতে হবে জাতির একটি অংশ ধ্বংশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির স্বাভাবিক বিকাশ ব্যহত হচ্ছে। সস্তায় যৌন সামগ্রী সমাজে ছড়িয়ে পড়লে একটি নিজ্বস্ব সংস্কৃতি সম্পন্ন জাতিকে খুব সহজেই পতনের দিকে নিয়ে যাওয়া যায়। যুবদের নৈতিক শক্তিকে ধ্বংশ করার যত পথ ও পন্থা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হল খুব সহজেই অশ্লীল সামগ্রী হাতে পাওয়া। বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অশ্লীলতার বড় উপাদান পর্নোগ্রাফি সহজ প্রাপ্তির ফলে যুকসমাজ ব্যাপকহারে পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে।
অনেক বুদ্ধিজীবী অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং লেখেন কিন্তু অশ্লীলতা বন্ধের পন্থা কি হতে পারে তা নিয়ে খুব একটা লিখতে বা বলতে চান না। তার কারন যে কি আল্লাহই ভাল জানেন। তবে ধারনা করা যেতে পারে, ইসলামী পন্থা ছাড়া অশ্লীলতা বন্ধের কোন পথ নেই ভেবেই হয়ত তারা চুপ থাকে। বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, আর উপদেশ বিবৃতি নয়, অশ্লীলতা বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থার কথা বলুন।
অশ্লীলতা বন্ধে কোরআনের শিক্ষা মেনে নেওয়াই হবে অশ্লীলতা বন্ধের উত্তম পথ। মহান আল্লাহ বলেন “তোমরা যিনার ধারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চই এটা অশ্লীল কাজ ও অসৎ পন্থা (বনী ইসরাঈল-৩২)।” অন্যত্র তিনি বলেন “ লজ্জাহীনতার যত পন্থা আছে উহার নিকটেও যেয়ো না, তা প্রকাশ্যেই হোক আর গোপনেই হোক (আনআম-১৫১)।” এই হল অশ্লীলতা বন্ধে মহাগ্রন্থ আল কোনআনের বৈজ্ঞানিক পন্থা। অশ্লীলতার উপাদান গুলোকেই যদি ধ্বংস করে দেওয়া যায় তবে সমাজে অশ্লীলতার প্রসার কোন মতেই সম্ভব নয়। অনেক লেখকই বলছেন “বিপথগামিত, বিকারগ্রস্ততা, অশ্লীলতা বর্তমানে ক্রমবর্ধমান।” এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে ইন্টারনেটে অশ্ললীতা। ইন্টারনেটের মত উন্নতি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কিছু ছেলে মেয়ে সৃজনশীলতার সাক্ষর রাখলেও অধিকাংশ ছেলে মেয়েই এর নেতিবাচক দিকটির প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে যা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। সরকারে যারা আছেন তাদের প্রতি আমাদের একান্ত অনুরোধ, পার্থিব উন্নতির পাশাপাশি নৈতিকতার উন্নতি ঘটাতে চাইলে কোরআনের কথা মেনে নিয়ে ইন্টারনেটের সমস্ত পর্নোগ্রাফির সাইট গুলি বন্ধ করে দিন।
লেখকঃ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/ShawkatAlImran |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
| লেখক পরিচিতি |
| |
|
| |
লেখকঃ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ
|
|
All country has the right to direct the service provider for blocking the all porn side as per requirement of its social condition. Government has all right to do so for save the society from any harmful effect.
If any human rights group or ultra democratic group rise the question in name of human right government should punished them I hope no one of country opposed that even court order in favor of so call human right group. Few days before government taken action against misusing of face book. We see how government compels to re open that. Till now I think re open face book was wrong decision. For benefit of few intellectual we can not throw our social value in bay of bangle.