বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; দুপুর ১২:৩৭ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
কবি মতিউর রহমান মল্লিকের সংস্কৃতি দর্শন (২৭/০৮/২০১১)
কবি মতিউর রহমান মল্লিকের সাংস্কৃতিক আন্দোলন (১৩/০৮/২০১১)
চলচ্চিত্র তথা মিডিয়ার জন্য লেখা (০৬/০৮/২০১১)
রাজনৈতিক সংস্কৃতি (১৬/০৭/২০১১)
সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশের জন্যই ওবায়দুল হক সরকারকে প্রয়োজন (২১/০৫/২০১১)
বৈশাখের বিচার চাই (২৩/০৪/২০১১)
সুস্থ সংস্কৃতির ভিত্তি (০৫/০২/২০১১)
শাশ্বত (কবিতা) (০১/১১/২০০৯)
মিডিয়ার মস্তিস্ক-২ (১৬/০৮/২০০৯)
মিডিয়ার মস্তিস্ক-১ (০১/০৮/২০০৯)
সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও আজকের প্রেক্ষাপট (১৬/০৭/২০০৯)
সুস্থধারার চলচ্চিত্র ও নাটক তৈরিতে সমস্যা (০১/০৭/২০০৯)
আগের লেখা
394


কবি মতিউর রহমান মল্লিকের সংস্কৃতি দর্শন

শেখ আবুল কাসেম মিঠুন

সংস্কৃতি একটি জাতির মানসিক বিকাশ এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। সুসভ্য জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য তাই প্রয়োজন উন্নত সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করার সমন্বিত প্রচেষ্টা। বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখার প্রয়োজন। বিক্ষিপ্ত প্রচেষ্টা কোনো সুফল বয়ে আনে না। শাসকচক্রের তত্ত্বাবধানে কায়েমী স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আমাদের দেশে আজ অবধি কোনো সুসংহত সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য প্রতিষ্ঠা পেতে পারেনি। যার জন্য এই বিশাল জনগোষ্ঠি একই ভাষাভাষি হয়েও এবং তাওহিদ, আখেরাত এবং রিসালাতে বিশ্বাসী হয়েও চিন্তাগত বিভক্তি ও বিভেদের কারণে কোনো শান্তিপূর্ণ ব্যাপারে অথবা উন্নয়নে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারে না। মতভেদ পরিণত হয় প্রতিহিংসা চরিতার্থে। অন্তরে বাসা বাঁধে মানসিক গোলামী।

চিন্তাগত বিষয়টি সংস্কৃতির ভিত্তিই শুধু নয়, নৈতিক আদর্শভিত্তিক গঠনমূলক চিন্তা স্ফুরিত সংস্কৃতি আত্ম-মর্যাদাকে জাগরিত করে। কিন্তু চিন্তাকে গঠন করে সঠিক শিক্ষাপদ্ধতি এবং জ্ঞানার্জন। আবার শিক্ষা ও জ্ঞানকে বলিষ্ঠ করে সমার্থক নানা প্রকার সাংস্কৃতিক অন্ঠুান। তাই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত কবি, শিল্পী, সাহিত্যিকদের ক্ষেত্রে সঠিক শিক্ষাগ্রহণ ও জ্ঞানার্জন জরুরী।

একজন কবি, শিল্পী বা সাহিত্যিক রাষ্ট্রীয় বিধি বিধানের অধীনে যে শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেকে শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলেন, তিনি তার শিক্ষাকে সেই কায়েমি শাসকদের সমর্থনে কাজে লাগাতে চেষ্টা করেন কারণ কায়েমী স্বার্থান্বেষী শাসকচক্র নিজেদের সমর্থনে লোক তৈরির জন্য তাদের মনমতো শিক্ষাপদ্ধতির প্রচলন ঘটান। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ সত্যান্বেষী। বিবেকের তাড়নায় সে সত্যকে খুঁজে বের করার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে।

সত্যপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সত্যও কল্যাণকামী লোকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন। আর ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারা যখন শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সত্যান্বেষী মানুষদের সংগঠিত করে দেশ ও জনগণের কল্যাণের জন্য তাদের চিন্তাগত ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন তখন তাঁরা হন দায়িত্বশীল। আর এইভাবেই একটি সংগঠন গড়ে ওঠে এবং আন্দোলন পরিচালিত হয়।

কবি মতিউর রহমান মল্লিক জাতির বৃহত্তর কল্যাণ, ইসলামের প্রচার, প্রসার ও দেশের উন্নয়নকার্যে ভূমিকা রাখার জন্য সেই কিশোর বয়স থেকেই আন্দোলনের প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর মাতা-পিতা ছিলেন শিক্ষিত। বড়ভাই আহমদ আলী মল্লিক খ্যাতিমান কবি ও শিক্ষক। শিক্ষকতার মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য নাগরিক তৈরির জন্য ছাত্রাবস্থায় তাঁর একান্ত ইচ্ছা ছিলো শিক্ষকতা করার, অধ্যাপক হওয়ার। কিন্তু কেনো একটি প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপকের চাকরির সীমাবদ্ধ গণ্ডির মধ্যে বসবাসের জন্য তিনি জন্মাননি। তাঁর চিন্তার ব্যাপকতা ও বিশালত্ব, তাঁর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সর্বজনীনতা তাঁর কাব্যপ্রতিভা, সংগীতপ্রতিভা এবং সর্বপরি নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে সাংস্কৃতিক জগতের অতি প্রয়োজনীয় নেতৃত্বের আসনে বসিয়ে ছিলো।

কবি বিশ্বাস করতেন ’সংস্কৃতি’ একক কোনো বিষয় নয়। রাজনীতির সঙ্গে সংস্কৃতির কোনো পার্থক্য নেই। সংস্কৃতিই উৎকৃষ্ট রাজনীতি। বিজ্ঞান ও অর্থনীতি ছাড়াও সকল বিষয়ের সঙ্গেই সংস্কৃতি ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। যার সভ্যতা আছে তার সংস্কৃতি আছে, শুধু তাই নয় যার অস্তিত্ব আছে তার সংস্কৃতি আছে বরং সংস্কৃতিহীন কোনো বিষয়ের অস্তিত্বই নেই। আর সংস্কৃতির চর্চা তার অনুশীলন এবং কবিতা, গান, অভিনয় বিভিন্ন মাধ্যমে সুন্দরতম প্রকাশই নতুন নাগরিকদের যেমন পরিশিলিত সুন্দর মনন গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে তেমনি একটা কল্যাণকামী সুন্দরতম নৈতিক চিন্তার অধিকারী প্রজন্ম উপহার দিতে পারে।

তাই সংস্কৃতি বিষয়টি তিনি শাদামাটা দৃষ্টিভঙ্গিতে কখনো দেখেননি এবং সঠিক ইসলামের অনুসারীদের জন্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড খুব জরুরী শুধু নয় বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। ইসলামী সংস্কৃতি চর্চাই ইসলামকে পৃথিবীর মানুষের কাছে আকর্ষনীয় এবং অনুসরণীয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করতেন। পাশাপাশি যারা জ্ঞানপাপী, সত্যকে জেনেও অহংকারের দাপটে অস্বীকার করে ফুৎকারে নিভিয়ে দিতে চায় সত্যের আলো, তাদের সম্পর্কে রাসূলে খোদা সা. কী পন্থা অবলম্বন করেছিলেন কবি মল্লিক তাঁর একটি প্রবন্ধে সংক্ষিপ্তাকারে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন- ‘রাসূলে খোদা একটি সত্য এবং সাম্যের সমাজ গড়ার কাজ শুরু করতেই কায়েমী স্বার্থবাদী নেতারা ও কবিরা প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়। এক নতুন জীবন প্রতিষ্ঠার পথে নেতারা বাঁধা সৃষ্টি করতে থাকে জনসাধারণকে সংগঠিত করার মধ্যদিয়ে। আর কবিরা কবিতা রচনার ভিতর দিয়ে ইসলাম ও রাসূল মুহাম্মদের বিরুদ্ধে কুৎসা গেয়ে গেয়ে জনমতকে বিভ্রান্ত করার কাজে উঠে পড়ে লেগে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিকতার বাইরে চলে গেলে রাসূল সা. তাঁর সহযোগীদের ডাক দিয়েছিলেন: ‘যারা হাতিয়ার দ্বারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাহায্য করে, কথার দ্বারা (অর্থাৎ কবিতার দ্বারা) আল্লাহর সাহায্য করতে তাদেরকে কে বাঁধা দিয়েছে?’

কবি মল্লিক আরো লিখেছেন, হাসসান বিন সাবিত, কাব বিন মালিক, আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা রা. প্রমুখ ঐ উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিলেন। আর ঐসব কবিরা দুশমনদের চরম দাঁতভাঙা জবাব দিতে লাগলো। মসজিদে নববীতে কবি হাসসান রা.-এর জন্য মিম্বার তৈরি করা হলো।’

কবির জন্য আল্লাহর রাসূল সা. দোয়া করতেন ‘হে আল্লাহ! রুহুল কুদ্দুসকে দিয়ে তাকে তুমি সাহায্য করো।’ তিনি কবিদের উপহার-উপঢৌকন দিতেন। কবি মতিউর রহমান মল্লিক জানতেন ইসলামের প্রচার প্রসারের জন্য কবিতা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতি চর্চার যেমন প্রয়োজন তেমনি জ্ঞানপাপীদের দুশমনীর জবাব দেবার জন্য একমাত্র হাতিয়ার ইসলামী সংস্কৃতির অবিরাম চর্চা। তাই তিনি অত্যন্ত একনিষ্ঠভাবে সমস্ত জীবন-মন উজাড় করে ইসলামী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে গেছেন। শুধু তাই নয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরো শক্তিশালী ও বেগবান করার জন্য যে যে পদক্ষেপ তিনি নিয়েছিলেন তা সমাপ্ত করে যেতে না পারলেও তার এমন এক পটভূমি রচনা করে গেছেন এবং দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন যে, যেকোনো বোদ্ধা সাংস্কৃতিক কর্মী তাঁর দিক নিদের্শনাকে পাথেয় হিসেবে অবলীলায় গ্রহণ করতে দ্বিধা করবেন না।

কবি সংস্কৃতিকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে যে দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন তার মধ্যে কবির সংস্কৃতির দর্শন খুঁজে পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য নির্দেশনা হলো-
এক.
যে আদর্শ ধারণ করে একটি মানুষ তার কর্মময় জীবন অতিবাহিত করে, সেই আদর্শের আলোকে নিজস্ব চরিত্র গঠন করতে হবে এবং কর্মময় জীবনে সেই আদর্শের প্রকাশ ঘটাতে হবে। আল্লাহতা’আলা মেধা ও স্বভাবগত দিক থেকে মানুষকে নেয়ামত দান করেন। সেই নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ‘সুম্মা লাতুসআলূন্না ইয়াওমাইজিন আনিন্নায়ীম’। অতএব প্রতিটি আদর্শবান মানুষের উচিৎ কর্মময় জীবনে মেধা ও স্বভাবের দিক থেকে পেশা বেছে নেয়া, যে পেশা অবলম্বন করে সে আল্লাহ দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে নিরলস প্রচেষ্টা চালাতে পারে। মেধা ও স্বভাবগত স্বত্তার বিপরীতে তিনি যে সাহিত্য-সংস্কৃতির আন্দোলনের দিকে না ঝোঁকেন। তাতে মূল আন্দোলনই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সাহিত্য-সংস্কৃতির আন্দোলন করতে গেলে তাকে যে কবি, সাহিত্যিক অথবা শিল্পী হতে হবে তা নয়। কিন্তু তাকে অবশ্যই সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। সাথে সাথে নেতৃত্বের যোগ্যতা, সাংগঠনিক মেধার অধিকারী হতে হবে এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের যেকোনো বিষয়ে চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।

দুই.
দায়িত্বশীলকে অবশ্যই মেধা ও প্রতিভার সন্ধানে থাকতে হবে এবং যথার্থ মেধার সন্ধান পেলে তার শিল্পীসত্তাকে যতেœর সাথে লালন করে বেড়ে উঠার সাহায্য করতে হবে।

তিন.
যেকোনো সাংস্কৃতিক দায়িত্বশীলদেরকে অভিজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। কর্মীদের ওপর জোর করা মানে জুলুম করা। সঠিক নেতৃত্ব কর্মীকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারে। দায়িত্বশীলকে অবশ্যই ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে উঠে সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে এবং প্রতিটি কাজে আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে। কারণ হাজারো যোগ্যতা দিয়েও সাফল্য আয়ত্ব করা যায় না আল্লাহর সাহায্য না এলে।

চার.
কোনোভাবেই বা কোনো পরিস্থিতিতেই ভাঙন কাম্য নয়, সকল প্রতিকুলতা কাটিয়ে সংগঠনের সকল কর্মীকৈ ঐকবদ্ধ রাখতে হবে দায়িত্বশীলকেই।

পাঁচ.
মূল সংগঠনের ওপর থেকে অর্থনৈতিক চাপ কমানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এ জন্য অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। বিভিন্ন প্রকাশনাকে বাজারজাত করার পদক্ষেপ নিতে হবে।

ছয়.
প্রাক্তনদের অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা না করে তাদের অভিজ্ঞতাকে প্রেরণা ও শক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।

সাত.
অনেক কিছুর পিছনে অর্থ ঢালতে বেশিরভাগ মানুষ আগ্রহী হলেও সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ে এগিয়ে আসে না। অথচ একটি প্রকাশনা দীর্ঘস্থায়ী, তার আবেদন অনেক গভীর ও তাৎপর্যমন্ডিত। অর্থবান মানুষকে সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রকাশনার ক্ষেত্রে আগ্রহী করে তুলতে হবে।

আট.
জ্ঞানার্জনের জন্য বই-পত্র-পত্রিকা পাঠের বিকল্প নাই, তেমনি অল্পসময়ে অধিক জানার জন্য সেমিনার বা আলোচনা সভার বিকল্প নাই। কবি, সাহিত্যিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মীকে অবশ্যই নিজস্ব পরিমণ্ডলের সেমিনার বা আলোচনা সভায় যোগদান করা উচিৎ এবং ইতিহাস, ব্যক্তিত্ব, সমকালীন পরিস্থিতি ছাড়াও বিশেষ বিশেষ শিক্ষা ও জ্ঞানের কথাগুলো নোট করা উচিৎ। সেসব নিয়ে ভাবনা-চিন্তা ও বিশ্লেষণ করে নিজস্ব মতামত লিপিবদ্ধ করা দরকার। প্রয়োজনে সেই জ্ঞানই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের প্রতি কবি বিশেষ করে জোর দিয়েছেন।

নয়.
সমমনা সকল সংগঠনের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি মূল সগঠনের দায়িত্বশীলদের সাথে আন্তরিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। জাতীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাথে পরিচিত হবে এবং সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

দশ.
প্রতিটি কর্মীকে মূল সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে।

এগার.
বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

বারো.
নতুন নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। আগ্রহ সৃষ্টির জন্য সাংস্কৃতিক সপ্তাহ করা, পুরস্কারের প্রবর্তন করা ছাড়াও নানাবিধ মনোগ্রাহী পন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে।

তেরো.
মূল সংগঠনের কেন্দ্র থেকে উপশাখা পর্যন্ত সকল স্থানে সাংস্কৃতিক সম্পাদকের পদ সৃষ্টি করা দরকার। যারা অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনকে সকল প্রকার প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা করতে পারে।

চৌদ্দ.
প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ খুররম জাহ মুরাদ বলেছেন: যথার্থ বিশ্বাসী মানুষের গড়ে উঠবার সময়ই হচ্ছে পাঁচ থেকে এগারো বছরের মধ্যবর্তী সময়কাল। এ সময়কালের মধ্যে গড়ে ওঠা মানসিকতাই স্বাভাবিক ভাবে আমৃত্যু একটি মানুষকে পরিচালিত করে। মনস্তাত্বিক এই দার্শনিক মতের আলোকে কবি মল্লিক শিশু-কিশোরদের জন্য সংগঠন তৈরির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

পনের.
কেন্দ্রিয় উপদেষ্টা কমিটি ছাড়াও কেন্দ্রিয়ভাবে পাঠাগার, কালচারাল কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা, অসুস্থ্য সাহিত্য-সংস্কৃতিসেবীদের জন্য সাহায্য তহবিল গঠন, গবেষণার জন্য বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন।

আরো প্রায় পঞ্চাশটির মতো দিকনির্দেশনামূলক পন্থার কথা তিনি তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য এবং লেখায় উল্লেখ করেছেন। বিষয়গুলি মূলত: মাওলানা আবুল আ’লা মাওদূদী র. সংস্কৃতির যে পাঁচটি মৌলিক উপাদানের যথার্থ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন তার সমার্থক। উপাদান সমূহ-১. জীবন সম্পর্কে ধারণা। ২. জীবনের চরম লক্ষ্য। ৩. মৌলিক বিশ্বাস ও চিন্তাধারা। ৪. ব্যক্তি প্রশিক্ষণ। ৫. সমাজ ব্যাবস্থা।

একটি উন্নত জাতি গঠনে কবি মতিউর রহমান মল্লিকের যে সাংস্কৃতিক দর্শন তা যেমন উন্নত চিন্তা-গবেষণার ফসল তেমনি বাস্তব ধর্মী ও আধুনিক যুগ উপযোগি। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে রাজনৈতিক হাতিয়ার না করে শিল্প-সম্মত পন্থায় শিল্পের ভিত্তির উপর বসিয়ে এবং তাকেই পাথেয় করে রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তা-চেতনা তৃণমূল পর্যায়ে জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও আদরণীয় করে পৌঁছানো সম্ভব। কবির সংস্কৃতি দর্শন যথাযথভাবে চর্চার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডকে বলিষ্ঠ, তেজোদ্বীপ্ত ও গতিশীল করা সম্ভব।

সমাপ্ত
http://www.sonarbangladesh.com/articles/SheikhAbulKasemMithu
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
রংপুর থেকে মোঃ আবু তাহের লিখেছেন, ২৮ অগাস্ট ২০১১; দুপুর ১২:০৯
সুন্দর লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

দোয়া করি আল্লাহ যেন মল্লিক ভাইকে জান্নাতুল ফেরদাউসে দাখিল করেন।
66601
রিয়াদ সৌদিঅরব থেকে এম এ শহীদ লিখেছেন, ২৮ অগাস্ট ২০১১; বিকেল ০৫:২৯
খুবই গুরুত্ত পুর্ণ বিষযটি লিখার জন্য লিখক কে ধন্যবাদ,
66640
জেদ্দা,সৌদী আরব থেকে আবু ওবায়েদ লিখেছেন, ৩১ অগাস্ট ২০১১; দুপুর ০২:১১
ধন্যবাদ জনাব শেখ আবুল কাসেম মিঠুন সাহেব ।ঈদ মোবারক ।আপনার লেখা অত্যন্ত সুন্দর হযেছে। ইসলামের সংস্কৃতি ও জনাব মরহুম কবি মতিউর রহমান মল্লিকের সংস্কৃতি দর্শন আমাদের জন্য পাথেয় ।দোয়া করি আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দিন এবং মল্লিক ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন ।আমীন
66864
London থেকে Alomgir লিখেছেন, ৩১ অগাস্ট ২০১১; বিকেল ০৫:৩৪
I would like to thank to the writer for his well timed and thought provoking writing which has depicted the solutions and outcomes of the limitations of cultural movements and the future perspectives of this!!!!!!

I think we all need to emphasize on the cultural activities in order to broaden our horizon and mindset as well as our faith!!!!!

The writer has also given the examples of the prophet (sm) of using the poetry to answer the oppression created by the than non-believers against Islam!!!!
However, we are in current and modern time facing even harder and harsher propaganda from the various medias while protecting our faith as a muslim.
From this case, we need to understand the importance of cultural movements.

Finally, we pray to the almighty Allah to grant Motiur Rahman Mollik in the highest garden of paradise.

And Allah also grants long life to those who are trying to establish the culture in favor of their faith like Mr Abul Kashem Mithun!!!!!

Thanks to everyone who has contributed here in Sonar Bangladesh blogs!!!
66871
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy