বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; দুপুর ১২:৪৬ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
গণতন্ত্রের পথঘাট (১৭/০৪/২০১২)
একজন অতন্দ্র সাহসী মানুষ (২১/০২/২০১২)
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস : সংস্কৃতি রক্ষা ও বিকাশের লড়াই (২১/০২/২০১২)
খাঁটি বাঙালির খোঁজে (১৯/১২/২০১১)
রাষ্ট্র ও সমাজ কেন এগোয়নি (১২/১২/২০১১)
সুপ্তিকে কে বাঁচাবে, কার আছে সামর্থ্য? (১০/১২/২০১১)
দুই পক্ষই বলছে তারা জিতেছে তবে হারলটা কে (১৫/১১/২০১১)
দাঁড়াবার জায়গা (০৫/১০/২০১১)
বাঙালির বাঁচামরা (০৮/০৯/২০১১)
সময়ের কাছে ইতিহাসের দাবি (০৫/০৮/২০১১)
আমাদের যে রাজনীতি প্রয়োজন (২৫/০৬/২০১১)
প্রকৃতিকে বাঁচাতে হয় (২৩/০৫/২০১১)
শহীদ সাবেরকে যেন ভুলে না যাই (৩১/০৩/২০১১)
ঋণ আছে এবং থাকবে (০৪/০৩/২০১১)
আমাদের নতুন যাত্রা (২২/০২/২০১১)
বাংলাভাষা : সংস্কৃতির রক্ষাকবচ ঐক্যের জন্য অবলম্বন (১৪/০২/২০১১)
পাপে, পরাজয়ে, প্রতিরোধে (১৮/০১/২০১১)
দেশপ্রেম নিহত হয়নি, আহত হয়েছে (০২/০১/২০১১)
মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার (১৩/১২/২০১০)
বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন ডা. মিলন (২৮/১১/২০১০)
ধনী ভিক্ষুক, গরিব ভিক্ষুক (১২/১১/২০১০)
প্রাচীন দ্বন্দ্ব এখনো বর্তমান (২২/১০/২০১০)
গণতন্ত্রের কয়েকটি উপাদান (১৫/১০/২০১০)
ঋণ শোধ করতে হবে নিজেদের প্রয়োজনেই (২৬/০৯/২০১০)
একজন সহযাত্রীর হঠাৎ চলে যাওয়া (০২/০৯/২০১০)
উন্নতির মাপকাঠি (০১/০৯/২০১০)
স্বাধীন সাংবাদিকতায় আস্থাশীল একজন সম্পাদক (০২/০৮/২০১০)
মানুষ তার ভাগ্যের চেয়ে নিশ্চয়ই বড় (১৯/০৭/২০১০)
বিজ্ঞানের সামাজিকতা (১৯/০৭/২০১০)
বাঙালিকে কে বাঁচাবে (১০/০৭/২০১০)
আগের লেখা
402


গণতন্ত্রের পথঘাট

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

গণতন্ত্রে পথঘাট যে মোটেই মসৃণ নয়, বরং আগাগোড়াই এবড়োখেবড়ো ও বিঘ্নসংকুল, সেটা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে। পৃথিবীজুড়ে মানুষ সেটা বুঝতে পারছে, বুঝতে হচ্ছে আমাদেরও। কিন্তু আসল সমস্যাটা কী? সেটা কোথায়? গণতন্ত্রের জন্য এত যে আকাঙ্ক্ষা, তাকে আনার ব্যাপারে এমন যে সাধ্যসাধনা, তবু গণতন্ত্র আসে না কেন? বলা যাবে এবং বলা হয়, বলা প্রসঙ্গত নয় যে গণতন্ত্রের পথে বাধা ও বিঘ্ন একটা নয়, অনেকটা। যেমন পরমতসহিষ্ণুতার অভাব। পরমতসহিষ্ণুতা তো গণতন্ত্রের একটি প্রাথমিক শর্ত। আমরা কেউ কাউকে সহ্য করব না, ঝগড়া-ফ্যাসাদ লাগিয়েই রাখব- এ রকম অবস্থা হলে গণতন্ত্র তো আসবে না। তার সামনে বিপদ আছে এমনটা বুঝে সে পালাবে এবং ওই যে সহিষ্ণুতার অভাব, তার সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত, এতেও কোনো সন্দেহ নেই। বলা যায়, জড়িত হচ্ছে সংস্কৃতি। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি না থাকলে গণতন্ত্র যে পাওয়া যাবে- এ বড়ই দুরাশা। আর গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ব্যাপারটাও সোজা জিনিস নয়; কোনো কিছুর লেজ নয় সে, আস্ত দেহ বটে; কিন্তু প্রাণিদেহের লেজের মতোই অসরল ও চঞ্চল। তাকে সোজা করাও কঠিন। কেননা সংস্কৃতির ভেতর শিক্ষা, সভ্যতা, ইতিহাস, ধর্ম, ভাষা, এমনকি প্রকতিও রয়ে গেছে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়তে হলে তাই অনেক কিছুতেই হাত দিতে হবে। আমাদের দেশের নিজেদের সংস্কৃতি তো অবশ্যই অগণতান্ত্রিক। হবে না কেন? এখানে মানুষ দরিদ্র, অদৃষ্টবাদী, অশিক্ষা ও কুশিক্ষায় নিমজ্জিত, উদাসীন, বিশ্বাসী হয়েও অবিশ্বাসী, বেশ ভালো রকমের চরমপন্থী ইত্যাদি ইত্যাদি। গণতান্তিক সংস্কৃতির জন্য যা যা উপাদান আবশ্যক, তার প্রায় সবটাই এখানে অনুপস্থিত।

অন্য সব বিঘ্নের কথা না হয় বাদই দিলাম। তাদের অধিকাংশই অত্যন্ত গভীর ও দুরপনেয়; খুবই সহজ যে ব্যাপার অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, সেটাই নিয়ে বিতর্ক। অভাব হলো সদিচ্ছার। সদিচ্ছা থাকলেই ভোটের আয়োজন যথার্থ হতে পারে। তবে কেবল সদিচ্ছা থাকাটাই যে যথেষ্ট, তেমনটাও ভাবা যাচ্ছে না। কেউ কেউ বলছেন।

ভোট গ্রহণের না হয় আদর্শ ব্যবস্থাপনা কায়েম করা গেল, এমনকি অকল্পনীয় রকমের সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন ঘটে গেল, তাহলেই কি আমরা গণতন্ত্র পেয়ে যাব? নির্বাচিত সরকার কি স্বৈরাচারী হয় না? আর সেই সরকার যদি বিপুল ভোটে জয় হয়, তাহলে জনমতকে সে কিভাবে পদদলিত করতে পারে, তার দৃষ্টান্ত দেখার জন্য আমাদের নিজেদের দেশের দিকে তাকাতে হবে কেন। আধুনিক গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলে গৌরবান্বিত যে গ্রেট ব্রিটেন, সেখানেই কি আমরা তা অনায়াসে দেখতে পাব না? ইরাকে গিয়ে মানুষ মারার সরকারি কাজটা ব্রিটেনের অধিকাংশ মানুষই পছন্দ করেনি, তাই বলে টনি ব্লেয়ারের কি কোনো অসুবিধা হয়েছিল তাঁর তৎপরতা চালাতে?

না, নির্বাচন মানেই যে গণতন্ত্র, নির্বাচিত সরকার মানেই যে গণতান্ত্রিক- এমন কথা কেউ বলবে না, বলার উপায় নেই। নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্র খুবই সম্ভব ঘটনা এবং তেমন স্বৈরতন্ত্র নিজেকে বৈধ বলে বিশ্বাস করে দাম্ভিকতায় অনির্বাচিত স্বৈরতন্ত্রকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। হিটলার, মুসোলিনি- এঁরা অনির্বাচিত ছিলেন না। হ্যাঁ, গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন দরকার, কিন্তু নির্বাচনের আভা দেখেই গণতান্ত্রিক সূর্যোদয়ের প্রত্যাশা করাটা মোটেই বাস্তবসম্মত নয়। গণতন্ত্রের জন্য আরো অনেক কিছু দরকার। সবচেয়ে বেশি যেটা দরকার, সেটাকে বুঝতে ও চিনতে হলে অর্ধসত্য দ্বারা বিভ্রান্ত হব না- এ রকমের একটি মনোভাব আবশ্যক। আর ওই যে অত্যাবশ্যক উপাদানটাকে চিহ্নিত করা, সে কাজ মোটেই জটিল থাকবে না, বরং খুবই সরল ও সহজ হয়ে যাবে, যদি গণতন্ত্র জিনিসটা কী সেটা পরিষ্কার করে নিই। একেবারেই অল্প কথায় বলতে গেলে বলা যাবে, গণতন্ত্র হলো সেই রকমের ব্যবস্থা, যেখানে মানুষের সঙ্গে মানুষের অধিকার ও সুযোগের সাম্য রয়েছে। কেবল অধিকার নয়, সুযোগেরও। সমান অধিকারের কথা সংবিধানে লেখা থাকলে চলবে না, তাকে কার্যক্ষেত্রে প্রতিফলিত হতে হবে। গণতন্ত্র কেবল রাষ্ট্রের ব্যাপার নয়, সমাজেরও ব্যাপার বৈকি। অধিকার ও সুযোগের সাম্য যদি সমাজে না থাকে, তাহলে রাষ্ট্রে তাকে পাওয়া যাবে না, আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যারা আছে, তারা যদি সাম্যের ওই আদর্শে বিশ্বাসী না হয়, তারা যদি লালন-পালন ও প্রয়োগ ঘটায় বৈষম্যের, তাহলে সমাজে সাম্য থাকবে না। কেননা রাষ্ট্র ও সমাজ পরস্পরের অনুপ্রবিষ্ট বৈকি।

গণতন্ত্রের জন্য অনেক কিছু চাই। কিন্তু অন্য সবই হচ্ছে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। গণতন্ত্রের প্রাণ থাকে ওই এক জায়গাতেই, আর সেটা হলো সাম্য। সাম্য যেখানে যত কম, গণতন্ত্রের পথঘাট সেখানে তত বেশি বিঘ্নসংকুল। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বলতে যা বুঝি, তাতে বহু ও নানা উপাদান থাকা অত্যাবশ্যক; কিন্তু ওটাই মেরুদণ্ড, যেটা না থাকলে অন্য সব কিছু ছত্রভঙ্গ হয়ে যেতে বাধ্য, তা যেমনভাবেই তাদের জড়ো করা এবং সাজানো হোক না কেন। আর এই যে সাম্য, তা কোনো এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, একে ব্যাপ্ত হতে হবে সর্বত্র, রাষ্ট্রে ও সমাজে তো বটেই, পরিবারেও। গণতন্ত্র এক ও অবিভাজ্য; তাকে টুকরো টুকরো করা যায় না কিংবা আলাদাভাবে যে পাওয়া যাবে তাও নয়। গণতন্ত্রের এমন বিবরণ শুনলে মনে হতে পারে, কোনো কল্পলোকের কথা বলছি বুঝি। তা প্রকৃত গণতন্ত্রের একটা আদর্শ বটে; এবং তাকে বাস্তবায়ন করতে হলে মানুষে-মানুষে বৈষম্য কমাতে হবে বৈকি। বৈষম্য যত কমবে, গণতন্ত্রও তত এগিয়ে আসবে। উল্টোটা করলে ঘটবে বিপরীত ঘটনা।

বাংলাদেশে বৈষম্য বৃদ্ধি এবং গণতন্ত্রে আগমন-সম্ভাবনা যে পরস্পরবিরোধী, তা প্রমাণিত হচ্ছে। আমাদের যেসব বিজ্ঞ বন্ধু বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে, যদি সদিচ্ছা থাকে, তাঁরা কার সদিচ্ছার কথা ভাবছেন, সেটা পরিষ্কার হয় না। ভোটারদের সদিচ্ছার ব্যাপারে তো কোনো সন্দেহেরই অবকাশ নেই, তাঁরা তো চাইবেনই যথার্থ প্রতিনিধি নির্বাচন করতে। সমস্যা হচ্ছে ভোট প্রার্থীদের নিয়ে। গণ্ডগোল এঁরাই পাকান। প্রার্থীরা প্রার্থী হয়েছেন বা হচ্ছেন জনগণের সেবা করার নির্মল আদর্শবোধ থেকে নয়, ক্ষমতা ও টাকা দুটোই লাভ করবেন- এ আশাতেই। ভোটযুদ্ধ আসলে টাকার যুদ্ধ, তার চেয়ে কম কিছু নয়, বেশিও কিছু নয়। ভয়ংকর এই যুদ্ধে সদিচ্ছার জন্য কোনো জায়গাজমিন খোলা নেই, এখানে সবটাই বদিচ্ছা। কোটিপতি না হলে এ যুদ্ধে কেউ নামতে সাহস পায় না, জেতা তো অনেক দূরের কথা। গণতন্ত্র এখানে বঞ্চিত জনগণের অধিকার নয়, ধনাঢ্যদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সম্পত্তি বটে। ধনবৈষম্যের বাস্তবতা বাংলাদেশের নির্বাচনে যেমন নির্লজ্জভাবে উন্মোচিত হয়ে পড়ে, তেমনটা অন্য কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

এই যে ধনী ব্যক্তিরা যাঁরা দাঁড়ান, তাঁদের কেউ নির্বাচিত হন, কেউ হন না; যাঁরা হন তাঁরা উল্লাস করেন, যাঁরা হন না তাঁরা নির্বাচিতদের টেনে নামানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এঁরা এক দলের লোক নন, কিন্তু এক শ্রেণীর লোক বটে। আর সেটি হচ্ছে দেশের শাসকশ্রেণী। শাসকশ্রেণীই শাসন করে, অন্যরা সেখানে ঢুকতে পারে না। এই শ্রেণী এদল-ওদলে বিভক্ত, তাঁদের রাজনৈতিক পোশাক আলাদা, আওয়াজ ভিন্ন, কিন্তু আসলে সবাই তাঁরা এক, তাঁরা শাসক। বাংলাদেশের সামনে এখন নানা সমস্যা। দারিদ্র্য, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, বেকারত্ব, বিনিয়োগের অভাব- সব কিছুই মস্ত মস্ত সমস্যা বটে। গণতন্ত্রের পথে প্রধান প্রতিবন্ধক যে বৈষম্য, দেশের শাসকশ্রেণী তার যেমন প্রতিনিধি, তেমনি রক্ষাকর্তা। পুঁজিবাদীরাই গণতন্ত্রের নামে বাগাড়ম্বর করে থাকে। পুঁজিবাদী বিশ্বের প্রধান নিয়ন্ত্রক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন দায়িত্ব নিয়েছে সারা পৃথিবীকে গণতান্ত্রিক করে ছাড়বে। যেখানে গন্ধ পাবে গণতন্ত্র নেই, সেখানেই গিয়ে হানা দেবে। ধনী দেশের কথা আলাদা। মধ্যপ্রাচ্যে এমন দেশ আছে, যেখানে কোনো ধরনের গণতন্ত্র নেই। কোথাও রয়েছে রাজতন্ত্র, কোথাও বা একনায়কতন্ত্র। সেসব দেশ মাফ পেয়ে যাবে, কিন্তু আফগানিস্তান বা ইরাকের মতো বৈরীভাবাপন্ন দেশের জন্য কোনো ক্ষমা নেই, সেখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে তবে ছাড়বে (তা তো করেছেও)।

শাসকশ্রেণী আগেও ছিল। সেটা বিদেশি। তার জায়গায় স্বদেশি শাসক পাওয়া গেল। পরিবর্তন এটাই। এতটুকুই। একেই বলা হলো স্বাধীনতা। আমরা যখন ব্রিটিশ শাসনে ছিলাম, ব্রিটেনে তখন নির্বাচন হতো, একদল ক্ষমতা থেকে সরে যেত, আরেক দল ক্ষমতায় আসত, কিন্তু তাতে উপমহাদেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটত না। পাকিস্তান আমলেও দেখেছি, শাসকের দল বদল হয়েছে, কখনো রাজনীতিকরা শাসন করেছেন, কখনো আমলারা; কখনো বা সামরিক বাহিনীই নিয়ে নিয়েছে সব ক্ষমতা, এমনকি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীরা রাষ্ট্রক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে স্থান পেয়েছেন; কিন্তু সেসব ঘটনায় শাসক-শাসিতের সম্পর্কে কোনো রকমের বদল দেখা যায়নি, এবং শাসকশ্রেণীর যে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী চরিত্র, তাতেও বিন্দুমাত্র চিড় ধরেনি। স্বাধীন তো হলো, কিন্তু গণতন্ত্রের তো খবর নেই। খবর না থাকার কারণ তো বোঝাই যায়। সেটা হলো এই যে, পুরনো শাসকরা চলে গেছেন, কিন্তু তার জায়গায় নতুন যাঁরা এসেছেন, তাঁরা ওই আগের শাসকদের মতোই। দৃষ্টিভঙ্গিতে পুঁজিবাদী। শাসক বদলেছে, শাসন বদলায়নি; হাকিম গেছে, হুকুম রেখে গেছে পেছনে। এই শাসকশ্রেণী পুরনো বৈষম্য কেবল যে টিকিয়ে রেখেছে তা নয়, তাকে ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে তুলেছে। এমন অবস্থার ভেতরে বিজ্ঞ লোকেরা যখন বলেন, নির্বাচনব্যবস্থায় সংস্কার, সিভিল সোসাইটির সক্রিয় ভূমিকা, ক্ষুদ্রঋণের বিস্তার, এনজিওদের কর্মকাণ্ডের প্রসার ইত্যাদির মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র আনবেন, তখন তাঁদের সরলতা দেখে সত্যি সত্যি ভয় পেয়ে যেতে হয়। এঁরা কি বোঝেন না যে আসল সমস্যা হচ্ছে সেই পুঁজিবাদী ব্যবস্থাটাই- দারিদ্র্য, মানুষকে যা নিরাশ্রয় করছে, ধনী-দরিদ্র-নির্বিশেষ সবাইকে করে তুলছে বিচ্ছিন্ন ও ভোগবাদী, প্রসার ঘটাচ্ছে মৌলবাদের এবং নিরন্তর বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে বৈষম্যের?

পুঁজিবাদের পক্ষে প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্য পথ করে দেওয়াটা আসলেই একটা স্বভাববিরুদ্ধ কাজ। কেননা পুঁজিবাদের প্রাথমিক কর্তব্যই হচ্ছে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করা। চাপের মুখে পড়ে পুঁজিবাদ বড়জোর যা করতে পারে তা হলো ছাড় দেওয়া। ছাড় সে দিয়েছেও, কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ পুঁজিবাদকে নিয়ে হয়েছে। কিন্তু কল্যাণ রাষ্ট্র মানেই যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়, তা এখন পরীক্ষিত সত্য। সর্বাগ্রে প্রয়োজন হলো বৈষম্য নিরসনের তথা সমাজ পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন। এর কোনো বিকল্প নেই। গণতন্ত্রের পথঘাট অমসৃণই রয়ে যাবে সমাজে, যদি মৌলিক পরিবর্তন না ঘটে, যদি না সাম্য আসে অধিকার ও সুযোগের।

লেখক : শিক্ষাবিদ ও সমাজ বিশ্লেষক
[কালের কণ্ঠ, , ১৭/০৪/১২]
http://www.sonarbangladesh.com/articles/SirajulIslamChowdhur
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
নারায়নগন্জ থেকে মাহবুব লিখেছেন, ১৭ এপ্রিল ২০১২; বিকেল ০৫:৪৭
জনাব, গনতন্ত্র নিয়ে আপনার এ লিখাটি বর্তমান স্বৈরাচারী অগনতান্ত্রীক সরকারের প্রেক্ষাপটে অনেকটা ফালতু প্যাচাল বলে মনে হয়েছে। এক সমুদ্র লবনাক্ত জলে এক ফোটা মিঠা পানি ডেলে সমুদ্রের সমগ্র জলকে সুমিষ্ট করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন মাত্র। ভাল লাগতো যদি গনতন্ত্রের 'মানষপুত্র' নামে খ্যাত, (নাকি কুখ্যাত) বর্তমানে টক অব দি কান্ট্রি 'কাল বিড়াল' নিয়ে দু'চার লাইন লিখতেন।
83014
ঢাকা থেকে জয় লিখেছেন, ১৭ এপ্রিল ২০১২; সন্ধ্যা ০৭:০৭
গণতন্ত্রের পথঘাট যা মসৃণ ছিল বর্তমানে সেটুকু্ও আর রবে না মনে হচ্ছে।
83020
USA থেকে হক-কথা লিখেছেন, ১৭ এপ্রিল ২০১২; রাত ১০:৫৫
আসলে গণতন্ত্র বলে কোন তন্ত্র নাই। আমরা গণতন্ত্র বলে যেটা বুঝাতে চাই (সকল মানুষের পূর্ণ অধিকার ও জণগনের ক্ষমতা) সেই রকম ১০০ ভাগ খাঁটি গণতন্ত্র পৃথিবীর কোথাও নাই কোন কালেও ছিলনা। উন্নত দেশ গুলোতে (এমেরীকা, ইংল্যান্ড, ইন্ডিয়া) যদিও তারা গণতন্ত্রের দাবী করে সেখানেও গণতন্ত্র আপেক্ষিক। তাই এত গণতন্ত্র গণতন্ত্র করে মুখের ফানা তুলে লাভ নাই। আসলে মানুষ রচিত কোন তন্ত্রই ঠিক নয়। সবগুলোরই কোন না কোন সমষ্যা আছে এবং থাকবেই। একমাত্র মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যিনি এই জগতের সৃষ্টি কর্তা তিনিই সঠিক তন্ত্র দিতে পারেন যা সকলের জন্যই সমান ও সকলেই সমান স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে। আর এটিই হচ্ছে "হুদাল্লীন মুত্তাকীন" আল-কূরআন।
তাই আমরা যদি প্রকৃতই গণতন্ত্র (আমরা সবাই যে অর্থে চাই) চাই তবে আমাদের জন্য একটি পথই খোলা আর সেটি হচ্ছে ইসলাম।
83032
USA থেকে Afzal khan লিখেছেন, ১৮ এপ্রিল ২০১২; সকাল ০৯:০৪
Dear respected writer,
There is a difference between concept of Creator and concept of human being. Also there is a difference between power of Creator and human being. Any superficial concept related to power of Creator and human being will definitely create confusion and doubt in our thinking, solution and progress. Truth is, power of creator is unlimited and power of human beings is very limited. Truth is, we human beings are created by the Creator on the other hand no body create Creator. Truth is, Creator does not need us rather we need Creator. Truth is, we human beings are created with instincts. Instinct of worship drives human beings to worship be the Creator, glorify idol or false deities. Instinct of preserving human race appers in the sexual inclination and parenting. The survival instinct reflects in ownership, selfishness/selflessness, deseire to dominate, fear, and curiosity. On top of human beings have biological needs. Such as hunger and thrist. To satisfy hunger and thrist human needs food and drink. Human being also need to sleep and rest. To sleep and to rest needs shalter. To satisfy human being instincts and biological needs in any society, organized systems such as economical, judicial, educational, and societal and foreign policies are required. To build each and every system society has to adopt principals and to run those systems society needs people of personality. According to my knowledge there are only two sources from where human can adopt principals. One from the Creator and another from human mind. There is no third sources. Secularism is trying to play the role of third sources and we are watching how miserably it failed. A political party is not just a group of people rather a group of people built on personality. There is no such a thing called BAL, BNP, Bangali or Bangladeshi personality. Personality must be built on truth and justice the mind must be convienced of its soundness and it must aslo satisfy human instincts. We know truth and justice only comes from the Creator not from human mind. So our fudamental problem is not in the administrative system (democracy) rather in our source of fundmental principals which is coming from the consensus of our mind? At the same time we agree human mind is very limited and fully dependend on Creator on the other hand we do not want to accept Creator as a whole. Are we really ignorant or acting as an ignorant? Are we with the truth or against? Are we with the nature or against? Are we not watching the behavior of BAL and BNP? Are we blind? Based on BAL mind BNP is their enemy? But based on democracvy BNP has ruled the country and still it has popularity. Is it not human mind keeping us divided with the flavor of Bangali and Bangladeshi? Was it not human mind decided Baksal was right? Is it not human mind saying Shaheed Zia was not a Freedom fighter? Time has come to free our mind from superficial thinking. Time has come to do honest research to find out the role of a creator in our individual life and societal? Time has come to find out are we trying to limit the domin of our Creator? Time has come to define the relationship between Creator, individual and society? If the law of the Creator is apply on universe and nature 100% , then how come the same Creator left on us to make our laws of societal conducts? Are we dependend on unverse and nature or universe and nature are dependend on us? Can we change the law of the nature and universe? Can we change the nature of human being? Then how come we are so sure that we will be able to solve the problem of human being? People please wake up and ask questions to our Pondits. May be they have spend their whole life based on conjucture and at the end of their life they do not want to change? The uncle of our prophet did not change because of self pride. He was the leader of Mokkan society. So there will be always some people who will not change but they are not stopping us to change either? So we listen and ignore?
Dear writer honestly speaking you are very correct --- আমাদের দেশের নিজেদের সংস্কৃতি তো অবশ্যই অগণতান্ত্রিক(injustice). হবে না কেন? এখানে মানুষ দরিদ্র, অদৃষ্টবাদী, অশিক্ষা ও কুশিক্ষায় নিমজ্জিত, উদাসীন, বিশ্বাসী হয়েও অবিশ্বাসী, বেশ ভালো রকমের চরমপন্থী ইত্যাদি ইত্যাদি। গণতান্তিক সংস্কৃতির জন্য যা যা উপাদান আবশ্যক, তার প্রায় সবটাই এখানে অনুপস্থিত। গণতন্ত্রের জন্য আরো অনেক কিছু দরকার। সবচেয়ে বেশি যেটা দরকার, সেটাকে বুঝতে ও চিনতে হলে অর্ধসত্য দ্বারা বিভ্রান্ত হব না- এ রকমের একটি মনোভাব আবশ্যক। একেবারেই অল্প কথায় বলতে গেলে বলা যাবে, গণতন্ত্র হলো সেই রকমের ব্যবস্থা, যেখানে মানুষের সঙ্গে মানুষের অধিকার ও সুযোগের সাম্য রয়েছে। কেবল অধিকার নয়, সুযোগেরও। I do agree withyou 100%.
এঁরা কি বোঝেন না যে আসল সমস্যা হচ্ছে সেই পুঁজিবাদী ব্যবস্থাটাই- দারিদ্র্য, মানুষকে যা নিরাশ্রয় করছে, ধনী-দরিদ্র-নির্বিশেষ সবাইকে করে তুলছে বিচ্ছিন্ন ও ভোগবাদী, প্রসার ঘটাচ্ছে মৌলবাদের এবং নিরন্তর বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে বৈষম্যের? পুঁজিবাদের পক্ষে প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্য পথ করে দেওয়াটা আসলেই একটা স্বভাববিরুদ্ধ কাজ। কেননা পুঁজিবাদের প্রাথমিক কর্তব্যই হচ্ছে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করা। Also I do agree with you 100%. But I would like to raise a question to you here? According to your opinion system of capitalism is the root of all injustice and instability around the globe and which I do agree, then why we are blaming a group of Islam practicing (may be misguided) people in the name of Jongi and Moulobad? Is this not contradictiung what you are saying? Or it is intentional?
গণতন্ত্রে (establishing peace and justice) পথঘাট যে মোটেই মসৃণ নয়, বরং আগাগোড়াই এবড়োখেবড়ো ও বিঘ্নসংকুল, সেটা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে। পৃথিবীজুড়ে মানুষ সেটা বুঝতে পারছে, বুঝতে হচ্ছে আমাদেরও। কিন্তু আসল সমস্যাটা কী? সেটা কোথায়? গণতন্ত্রের জন্য এত যে আকাঙ্ক্ষা, তাকে আনার ব্যাপারে এমন যে সাধ্যসাধনা, তবু গণতন্ত্র আসে না কেন? বলা যাবে এবং বলা হয়, বলা প্রসঙ্গত নয় যে গণতন্ত্রের পথে বাধা ও বিঘ্ন একটা নয়, অনেকটা। যেমন পরমতসহিষ্ণুতার অভাব। পরমতসহিষ্ণুতা তো গণতন্ত্রের একটি প্রাথমিক শর্ত। আমরা কেউ কাউকে সহ্য করব না, ঝগড়া-ফ্যাসাদ লাগিয়েই রাখব- এ রকম অবস্থা হলে গণতন্ত্র তো আসবে না। তার সামনে বিপদ আছে এমনটা বুঝে সে পালাবে এবং ওই যে সহিষ্ণুতার অভাব, তার সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত, এতেও কোনো সন্দেহ নেই।--Yes very true.
সর্বাগ্রে প্রয়োজন হলো বৈষম্য নিরসনের তথা সমাজ পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন। এর কোনো বিকল্প নেই। গণতন্ত্রের পথঘাট অমসৃণই রয়ে যাবে সমাজে, যদি মৌলিক পরিবর্তন না ঘটে, যদি না সাম্য আসে অধিকার ও সুযোগের! Here I beg to differ. A collective movement is a final action for societal change. Before that we need home work. We are a divided and an emotional nation. Leader is our idea and party is our guide. Arrogance is our pride and ignorance is our idea. Our Pondits are confused and out of touch from reality.
For your attention , I am reminding you from your previous article -dated ১৫/১০/১০/ -সূত্রঃ কালের কণ্ঠ, ----গণতন্ত্রের কয়েকটি উপাদান ---you said, গণতন্ত্র নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে। তবুও এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে এবং থাকবেই। গণতন্ত্র সম্পর্কে এত যে কথা বলা হয়, তাতে ধারণা করা মোটেই অসংগত নয় যে, গণতন্ত্র জিনিসটা কী সে বিষয়ে সবাই একমত। সেটা অবশ্য ঠিক নয়। গণতন্ত্র বলতে নানা মত আছে, কেউ ভাবেন গণতন্ত্র হচ্ছে নির্বাচিত সরকার, অন্যপক্ষ বলেন মোটেই না, গণতন্ত্র অনেক বড় ব্যাপার। এ হচ্ছে একটা পরিপূর্ণ সংস্কৃতি। --Now how you are suggesting to go for a movement for your understading of democracy when people have different understading of democracy?
সংজ্ঞা নিয়ে মতবিরোধ যতই থাকুক, গণতন্ত্র যে পরিচিত শাসনব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম এ নিয়ে তেমন একটা দ্বিমত নেই। সর্বোত্তম কেন তাও আমরা জানি। কারণটা হচ্ছে এই যে গণতন্ত্র ব্যক্তিকে মর্যাদা দেয়। কেবল মর্যাদা দেয় না, ব্যক্তির অধিকার, তার স্বার্থ, বিকাশ_এসবকে বিবেচনার একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে। গণতন্ত্রের জন্য আরো অনেক কিছু দরকার। সবচেয়ে বেশি যেটা দরকার, সেটাকে বুঝতে ও চিনতে হলে অর্ধসত্য দ্বারা বিভ্রান্ত হব না- এ রকমের একটি মনোভাব আবশ্যক।– Sir, here I am totally lost. Please show me one place in this world where your version of democracy implemented so that I can agree with you. If you are talking in theory may be you are right but practically it is invisible. So how come you are claming democracry (your version) as a ruling system is the best. Are you also a victim of emotion sir?
83039
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy