বাংলাদেশ একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। মহাজোট নেত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের তিন মাস অতিবাহিত করলেও এখনও কোন কাজ শুরু করতে পেরেছেন বলে মনে হয়না । সরকার যে ভিশ্অন২০২০ নিয়ে দিন বদলের সনদ ঘোষনা করেছে তা বাস্তবে রুপ দেয়া একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ- এ পরিণত হয়েছে। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সদিচ্ছা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মহাজোট সরকার গঠন করার এক মাসের মাথায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। দেশের অত্যন্ত একটা নাজুক পরিস্থিতিতে সরকার কাজ শুরু করেছে। দীর্ঘ ২ বছরের অনির্বাচিত সরকারের শাসন থেকে দেশ একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে এসেছে । সেনাবাহিনী সমর্থিত অনির্বাচিত সরকার দেশকে একটি গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। দেশকে নেতৃত্ব শুণ্য করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার যে ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা নিয়ে মাঠে নেমেছিল সে অবস্থা থেকে দেশ উদ্ধার পেয়েছে। কিন্তু দেশ এখনও সংকামুক্ত নয়। সরকারের ভিতরে বাইরে বিদেশী প্রভুরা দেশীয় ছদ্দাবরণে দেশকে ধবংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দেশ আজ বহুবিধ সমস্যায় জ্ররজ্রিত হলেও সরকার সেদিকে মনোনিবেশ করতে পারছে না। দেশীয় অর্থনীতি ধবংসের মুখে পতিত হয়েছে। ফারাক্কা বাধের কারণে নদীর বুকে ধুধু বালু চর। দেশের অর্থনীতির প্রধান উৎস বৈ্দেশিক রেমিট্যান্স দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রতিদিন বহুসংখ্যক শ্রমিক বিদেশ থেকে ফিরে আসছে। খুব কম সংখ্যক শ্রমিক এখন বাইরে যেতে পারছে।ফলে বেকার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এই মুহুর্তে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারলে দেশীয় অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে।
দেশে এত গুরুত্বপুর্ন সমস্যা থাকলেও সরকার সে দিকে নজর দিতে পারছে না। বিভিন্ন কৃত্তিম সংকট তৈরী করে সরকারকে সার্বক্ষনিকভাবে ব্যস্ত রাখার একটি ব্যবস্থা করে রাখা হচ্ছে। যেখানে দেশের মানুষের হাতে কাজ নেই, ঘরে দুবেলা দুমুঠো ভাতের ব্যবস্থা নেই, রাত্রে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর একটা জায়গা নেই সে রকম একটা নাজুক পরিস্থিতিতে বিডিয়ার বিদ্রোহ সামাল দিতেই সরকার ব্যস্ত। ইতোমধ্যে সরকার ও সেনাবাহিনীর টানাপড়েন সম্পর্ক দেশবাসী ও বিশ্বের মানুষ সবাই প্রত্যক্ষ করছে। দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য মাতম উঠেছে। জঙ্গী জঙ্গী ধোয়া তুলে আন্তর্জাতিক অংগনে বাংলাদেশকে একটি সন্ত্রাসী রাস্ট্র হিসেবে পরিচিত করার সব রাস্তা পাকা করা হচ্ছে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে। ইতোমধ্যে অভিবাসী শ্রমিক ফেরত পাঠানোর মধ্য দিয়ে সে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিগত সময়েও বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাস্ট্র করার সকল অপচেষ্টা হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের কালো থাবা আজও জাতির কাধে ভর করে আছে। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে । প্রধান মন্ত্রী স্বয়ং নিজে ঘোষনা দিয়েও ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে তিনি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়েছেন।
তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে কার ইন্ধনে ছাত্রলীগ এমন বেপরয়া হয়ে উঠছে? কে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করছে? সাংগঠনিক নেত্রীর কথা তারা শুনছে না কেন? কারা দেশে জংগী জংগী মাতম তুলছে? দেশের এত বড় বড় সমস্যা রেখে যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও জংগীর বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা কেন? জাতীয় সমস্যা নিয়ে কোন কথা বলছে না কেন? বিডিয়ার কে ঢেলে সাজানোর জন্য এত ব্যস্ত কেন? দেশে কি আর কোন সমস্যা নেই? স্বয়ং সরকারের মন্ত্রীরাও এর থেকে দূরে নয়। অনবরত তারা জংগীর বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করছেন । বিডিয়ার বিদ্রোহের ঘটনা নিয়ে দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা নানামুখী কথা বলছেন। অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যারা কোন দিন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না সে সকল মন্ত্রীরাই এখন বেশি কথা বলছেন । দেশ থেকে জংগী ও সন্ত্রাসবাদ নির্মুল হোক এটা সবাই চায় কিন্তু সরকারের মন্ত্রীরা যখন এটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান এবং দেশ জংগীতে ছেয়ে গেছেবলেন তখন আন্তর্জাতিক অংগনে একটা জংগী রাস্ট্র হিসেবেই পরিচিতি মেলে । তাই বিষয়টি নিয়ে ভাবার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে ।এর পিছনে অন্য কোন ষড়যন্ত্র আছে কিনা খুজে বের করা দরকার। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে সরকার গঠন করেছে তা বাস্তবে রুপ দিতে হলে এগুলোকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। বংগবন্ধু যে স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ স্বাধীনের ডাক দিয়েছিলেন সে দায়িত্ব আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার কাধে। উনি কি হেরে যাবেন এ যুদ্ধে? নিজেকে গুটিয়ে নিলে অপতৎপরতা বাড়তেই থাকবে। কাজেই প্রত্যাখান নয়, বরং শক্ত হাতে দমন করুন । বঙ্গবন্ধু কন্যা হিসেবে মানুষের অনেক আশা আপনার কাছে। দেশের প্রধান মন্ত্রী হিসেবে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধান ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব আপনারই ।জনগণ ভোটের মাধ্যমে সে দায়িত্ব আপনাকে দিয়েছে। এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে জাতি বংগবন্ধুর মত আপনাকেও আজ়ীবন স্বরন রাখবে।
বাংলাদেশ একটি অমিত সম্ভাবনার দেশ। সঠিক নেত্রীত্বে এ দেশ একটি সোনার বাংলাদেশে পরিণত হবে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ।শুধু সরকারি দল নয়, সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও দেশের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে তা মোকাবেলায় সোচ্চার হওয়া দরকার। সংসদের সামনে আসন নেয়ার জন্য ঝগড়া করার চেয়ে মানুষের সমস্যা নিয়ে কথা বলুন, দেশের স্বাধীনতা যেন বিপন্ন না হয়তা নিয়ে কথা বলুন। সরকারের ইতিবাচক কাজে সহযোগিতা করুন। বাংলাদেশ বাচলে সবাই বাচবে আর বাংলাদেশ বিলীন হলে আপনারাও ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন এ নির্মম বাস্তবতাটা মনে রেখেই দেশের কল্যাণে কাজ করুন। তাতেই দেশ ও জাতির মংগল।
Sheikh Hasina needs to learn many things from India.
444
২
Bangladesh থেকে Mahathir লিখেছেন,
১৬ এপ্রিল ২০০৯; সকাল ০৭:৩১
রাজাকারের বেয়াইন,চমক প্রধানমন্ত্রী, মিথ্যাবাদী আর বাচাল মন্ত্রীসভা খুবই উপযুক্ত সম্ভোধন হাসিনা আর তার মন্ত্রীসভার জন্য। বেসরকারীদলগুলির উচিৎ প্রতিদিন এসব ব্যবহার করা নয় কি ?
496
৩
paris থেকে shila লিখেছেন,
১৭ এপ্রিল ২০০৯; রাত ০১:৩০
balanced article... but not informative... pls add some infos to enrich ur article...
thanks for it.
518
৪
luwait থেকে azad লিখেছেন,
১৯ এপ্রিল ২০০৯; রাত ০৮:৪৫
kira hasinar bon valoi to tosamode korle
573
৫
portugal থেকে pallab লিখেছেন,
২৩ এপ্রিল ২০০৯; রাত ১১:৫০
bhai ranjit kumar thik bolesen. 1996 jokhon BAL kkhomotai silo takhon Seikh Hasina ke bangladesher mukhyo montri baniesilo ebar 2009 sale BUFFER STATE desh hisabe obihito korese.amar mone hoi appni BAL er jogyo upodeshta hote paren aro kichu upodesh die!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
655
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: