|
নববর্ষে বিকৃত বঙ্গাব্দ প্রসঙ্গ
সোনা কান্তি বড়ুয়া |
|
সবাইকে আমাদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। বাঙালি জাতি প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার উত্তরাধিকার। আজ ১৪১৯ বঙ্গাব্দের জায়গায় ২৫৫৫ বঙ্গাব্দ লেখার ইতিহাস আছে। বৌদ্ধ ঐতিহ্য সমৃদ্ধ বঙ্গাব্দ বিকৃত হল কেন? বাংলাভাষার আদিমতম নিদর্শন চর্যাপদে বৌদ্ধ নির্যাতনের ইতিহাস বৌদ্ধ কবি ও পন্ডিতগণ (সিদ্ধাচার্য) কবিতার ভাষায় লিপিবদ্ধ করেছিলেন। বাংলা ভাষা, বঙ্গাব্দ এবং বাংলা সভ্যতার সাথে বৌদ্ধধর্ম ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে আছে এবং বাংলাভাষা বৌদ্ধ পালিভাষার বিবর্তিত রূপ। শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক গ্রন্থদ্বয় ‘মহাবংস’ এবং ‘দ্বীপবংস’ মতে, ভারতের অজন্তা গুহায় বঙ্গবীর বিজয় সিংহের সচিত্র সিংহল অভিযানের ইতিহাস বিদ্যমান এবং ২৫৫৫ বছর পূর্বে বিজয় সিংহের সিংহল (শ্রীলঙ্কা) অভিযানের আলোকে বিকৃত বঙ্গাব্দ বাঙালি জাতির অপমান। হিন্দুরাজনীতি বৌদ্ধ ইতিহাস ধ্বংস করতে বিজয় সিংহের শ্রীলঙ্কা দখলের প্রায় এক হাজার পর বঙ্গাব্দের ইতিহাস শুরু করলেন কি? সম্রাট আকবরের আমলে রচিত আল্লাহ উপনিষদ মানেন কে? বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং বঙ্গাব্দের বিকৃতির জন্য হিন্দুরাজনীতিই দায়ী। গত বছর টরন্টোর ‘সাপ্তাহিক আজকালে পৃষ্ঠা ১৩, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০১১ (সাল, টরন্টো)’ নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন, বাংলা একাডেমীর অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে “ভাষা চেতনা বাঙালির গর্বের বিষয়” শীর্ষক পর পর বিগত দুই বছরের (২০১১ এবং ২০১২) ভাষণে বলেন, “অনেকেই মাঝে মধ্যেই প্রশ্ন করে যে ১৪০০ সাল হলো কী ভাবে। এখন ১৪১৭ তে কী ভাবে এলো, ১৪১৭ হচ্ছে মক্কা থেকে মদীনায় মোহাম্মদের (সা.) যাওয়ার দিন থেকে গণনার স্মারক। প্রথম দিকে লুনার এবং তারপরে সোলার ক্যালেন্ডার এই দুটি মিলিয়ে করা। আকবর সোলার ক্যালেন্ডারে বিশ্বাস করতেন। এটি কিন্তু বাংলা ছাড়া সাব কন্টিনেন্টের কোনো অঞ্চলে আর থাকেনি।” অমর্ত্য বাবু কি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্ঠা করে হিন্দুরাজনীতিকে ধোয়া তুলসী পাতা বানিয়েছেন? তবে ঢাকা হাইকোর্টের আদেশে বাংলাকে বিকৃত করা চলবে না। জনতার প্রশ্ন : বঙ্গাব্দ বিকৃত হল কেন?
বাঙালিত্বের ঐতিহ্য বিহীন তথাকথিত সম্রাট আকবরের দেওয়া বঙ্গাব্দে হিজরি সাল অদৃশ্য এবং আল্লাহ উপনিষদের আলোকে বাবরি মসজিদ ভাঙা হল কেন? প্রত্নতাত্বিক, ভূতাত্বিক, পুরাতত্ত্ব, নৃতত্ব ও ভাষাতত্বের আলোকে বাংলাভাষা পালিভাষার বিবর্তিত রূপ এবং পালরাজত্বকালে বৌদ্ধদের অবদানে চর্যাপদের বঙ্গাব্দ ছিল ২৫৫৫ বঙ্গাব্দ (১৪১৮ নয়)। হিন্দুরাজনীতি বৌদ্ধরাজ্য জয়ের পর ভারতের শাসক হয়ে বিদেশি শাসকগণের সাথে ষড়যন্ত্র করেন। সম্রাট আকবর দিল্লীর সিংহাসনে বসে বঙ্গাব্দের নব সংস্করণ প্রবর্তন করেন এবং উক্ত আইনের পরিনামফল আজকের ১৪১৮ বঙ্গাব্দই বাঙালি ইতিহাসের ট্রাজেডি কেন? হিন্দুরাজনীতি বৌদ্ধধর্মকে অপহরণ করে বর্তমানে নয়া দিল্লিস্থ ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের দরবার প্রাঙ্গনে এখন সুদীর্ঘ ধ্যানমগ্ন বুদ্ধ বিরাজমান, যিনি ভারতের জনগণ ও শাসকবৃন্দকে আশীর্বাদ করছেন। এর পাশে আছে সম্রাট অশোক হল, এখানে ভারতীয় মন্ত্রীরা শপথ নেন এবং বিদেশী রাষ্ট্রদূতগণ মাননীয় রাষ্ট্রপতির নিকট তাঁদের পরিচয় পত্র পেশ করেন। বৌদ্ধধর্ম কি হিন্দুরাজনীতির গোলাম? হিন্দু মন্দিরে তো বুদ্ধপূজা হয় না।
বাংলা ভাষা ও সভ্যতার জনক গৌতমবুদ্ধের অহিংসা পরমধর্মের অবদান বিশ্বের সর্বপ্রথম বাংলা সাহিত্যের আদিমতম নিদর্শন চর্যাপদ। বাংলাভাষা বৌদ্ধদের পালি ভাষার বিবর্তিত রূপ এবং পাল সম্রাট ধর্মপালের রাজকীয় অনুদানপ্রাপ্ত বিশ্ববিখ্যাত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে বুদ্ধবর্ষ বুদ্ধাব্দই বাঙালি সভ্যতার বঙ্গাব্দ ছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বৌদ্ধ বিদ্বেষী রাজা শশাঙ্ক (৭ম শতাব্দী) বৌদ্ধ সভ্যতার পবিত্রতম তীর্থস্থান গৌতমবুদ্ধের ধ্যানভূমি বুদ্ধগয়ার বোধিবৃ ধ্বংস সহ ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধধর্মকে চিরতরে বিলীন করার নীল নঁকসা তৈরী করেন। পরে শঙ্করাচার্য (৮ম শতাব্দী) রাজা শশাঙ্কের অপারেশন “বৌদ্ধ মাত্রই বধ্য” নামে এই হত্যালীলা গণহত্যাতে রূপান্তরিত হয়ে দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে গেল, যা চলেছিল হাজার বছর পর্যন্ত। বৌদ্ধদেরকে কারো চক্ষু উপড়ানো এবং কারো হৃদপিন্ড ছিঁড়ে বের করা হলো। এ এক বিভীষিকা। এই ঐতিহাসিক বিভীষিকা থেকে মুক্তি পেতে ১২০২ সালে (শওকত আলীর লেখা “প্রদোষে প্রাকৃতজন”) বাংলাদেশের বৌদ্ধগণ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। মানুষ এত নিষ্ঠুর হয়েছিল বলে আজ ও বৌদ্ধ জগতের পরম পবিত্র তীর্থভূমি বুদ্ধগয়া হিন্দুরাজনীতি গায়ের জোরে দখল করে আছে। প্রসঙ্গত: উল্লেখযোগ্য যে, সম্রাট অশোকের (খৃষ্ঠপূর্ব ৩য় শতাব্দী) মৃত্যুর পর থেকে আজ পর্যন্ত সমগ্র ঘটনাবলীর দলিল ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, হিন্দুরাজনীতি বৌদ্ধ বিরোধি নিম্ন বর্ণিত যুদ্ধাপরাধে জড়িত: (১) পরিকল্পিত হত্যা (২) বুদ্ধিজীবী এবং বৌদ্ধভিক্ষু হত্যা (চর্যাপদ) (৩) বৌদ্ধ ভিক্ষুণী এবং নারী ধর্ষণ (৪) বৌদ্ধ মহাসঙ্ঘের নিধন। হিন্দুরাজনীতি বৌদ্ধধর্ম এবং বৌদ্ধ ঐতিহ্যকে অপহরণ করে আজ বৌদ্ধ সম্রাট অশোকের রাষ্ট্রীয় ধর্মচক্র (অশোকচক্র) ভারতীয় হিন্দুরাজনীতির রাষ্ট্রীয় প্রতীক।
কর্ণাটকের হিন্দুরাজনীতি সেন রাজত্বের আক্রমনে চার শত বছরের বৌদ্ধ পালরাজত্বের উপর কবর রচনা করেছিল। সম্রাট আকবরের মৃত্যুর পর হিন্দুরাজনীতি ধর্মপ্রাণ বাঙালি মুসলমানদের চোখে ফাঁকি দিয়ে ১৪৩২ হিজরিকে আজকের ১৪১৮ বঙ্গাব্দ করেছেন। ধর্ম ব্যবসায়ী ব্রাহ্মণগণ ধর্মের অপব্যবহার করে লেখাকে নরকের দ্বার স্বরূপ ফতোয়া জারি করে বৈদিক ব্রাহ্মণগণ বিধান দিলেন, “স্বরস্বতী বাগদেবী, লিপির দেবী নয়। দেবভাষায় কোন লিপি নেই (দেশ. ১৪ পৃষ্ঠা, কলকাতা, ১ ফেব্রুয়ারী ১৯৯২)।” গৌতমবুদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার এই সামাজিক বিকৃতির হাত থেকে জনতাকে রা করেন। চারশত বর্ষের পাল রাজত্বে চর্যাপদের বুদ্ধাব্দকে বাদ দিয়ে হিজরি সালের বঙ্গাব্দে হিজরি অদৃশ্যের ঐতিহাসিক বিকৃতির জবাবদিহিতা কোথায়? লেখক শৈলেন্দ্র ঘোষের মতে, “এই জটিলতা নিরসনের জন্য পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে গৌড়েশ্বর হোসেন শাহ তাঁর উজির পুরন্দর খাঁ, মুকুন্দ দাস এবং মালাধর বসু প্রভৃতি সভাসদদের পরামশক্রমে বঙ্গাব্দের প্রবর্তন করেন।”
বাঙালি জাতির অস্তিত্বের স্বার বঙ্গাব্দকে নিয়ে হিজরির কথা তো আমাদের ভাষা আন্দোলন সমর্থকগণ আজ ও ভেবে দেখার অবকাশ বা গবেষণার সূচনা হয়নি। কারণ হিন্দুরাজনীতি আমাদের বাংলাদেশে নদীর জল থেকে জীবন নিয়ন্ত্রণ করার স্বপ্নে বিভোর। রাতারাতি ইতিহাস তৈরী হয় না এবং আমাদের বগুড়ার ঐতিহাসিক অশোকস্তম্ভ কোলকাতায় যাদুঘরে রেখে অমর্ত্য সেন ঢাকায় এসে তাঁর ভাষণে ইতিহাসের নামে ছেলে ভুলানো ছড়া বলেছেন। হিন্দুরাজনীতি ইসলামিক হিজরি সালকে অপমানিত করে চন্দ্র বা সূর্য ক্যালেন্ডারের নামে বৌদ্ধদের বুদ্ধাব্দ এবং ইসলামের হিজরি সালকে পরিহার করে হিন্দুমার্কা বঙ্গাব্দ রচনা করেছেন। কবি শঙ্খ ঘোষের ভাষায়, “সমস্ত মাঠের বিন্দু আমারই ধর্মের ধান বোনা/সুচ্যগ্র মাটি ও আমি অন্য কোনো শরিকে দেব না।”
লেখক শওকত আলী তিনি তাঁর লেখা “প্রদোষে প্রাকৃতজন” গ্রন্থে বখতিয়ার খিলজির বাংলাদেশ আক্রমনের সময় ১২০২ সালে মহামস্ত্রী হলায়ুধ মিশ্র ও হিন্দুমন্ত্রী হরিসেন কর্তৃক “বৌদ্ধহত্যা যজ্ঞের” ভয়াবহ বর্ণনার মাধ্যমে তিনি তাঁর উপন্যাসে বিচার বিশেষণ করেছেন। বুদ্ধগয়ার ‘মহাবোধি মন্দির’ দখল করে (টেলিগ্রাফ, মে ১০, ২০০৮ কলকাতা এবং দেশ, মার্চ ১৭, ২০০৫) বৌদ্ধ ঐতিহ্যবাহী ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের “অশোক কক্ষ” এবং ভারতের জাতীয় পতাকায় বৌদ্ধধর্ম সঞ্জাত “অশোকচক্র” ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু শাসকগণ ঐতিহাসিক কারণে সগৌরবে ব্যবহার করছেন। বঙ্গাব্দের ইতিহাস চুরির পূর্বে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে হিন্দু পন্ডিতগণ “আল্লাহ উপনিষদ” রচনা করে সদাশয় সম্রাটের কৃপাদৃষ্টি লাভ করেন।
অগ্নি পুরান, বায়ু পুরান ও বিষ্ণু পুরান সহ ইতিহাসের অপব্যাখ্যা, মনগড়া ইতিহাস তৈরীর ব্যাপারে পুরানো শাসকদের (সেনাপতি পুষ্যমিত্র, রাজা শশাংক ও পুরোহিত শংকারাচার্য্যের বৌদ্ধ হত্যাযজ্ঞ) রাশি রাশি বৌদ্ধ মন্দির ধ্বংসের প্রতিবেদন (সম্পাদকীয়, আগষ্ট ২২, ১৯৯৩ আনন্দবাজার), এবং জঘন্য চাতুরীর ইতিহাস লিখতে গেলে একটি মহাভারত লিখতে হয়। সম্রাট আকবরের আমলে সর্বপ্রথম বঙ্গাব্দ দিয়ে সরকারী কর্ম শুরু হলে ও কিন্তু বাংলাদেশে সোনার গাঁ এর শাসক ঈশা খাঁ বিভিন্ন কারণে সেনাপতি মানসিংহের সাথে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বাংলা বর্ণমালার হাত ধরেই বাঙালি জাতির সভ্যতার যাত্রা এবং প্রথম বাংলা বইয়ের নাম “চর্যাপদ।” আটচলিশ সাল থেকে বায়ান্নোর আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি? অমর একুশের রক্তাক্ত ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” আলোকিত বিশ্বের গৌরবোজ্জ্বল প্রতিশ্রুতি। জ্ঞান বিজ্ঞানের আলোকের ঝর্ণাধারায় সমৃদ্ধ আজ বাংলাভাষা, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ‘রাষ্ট্রভাষা।’
অমর্ত্য সেন তাঁর উক্ত ভাষণের সর্বপ্রথমে বলেন, “যেমন একাদশ শতাব্দীতে চর্যাপদ। এটি বৌদ্ধ ধর্মীয় লেখা। এর মধ্যে ভুসুকু বলে একজন কবি ছিলেন। তিনি পদ্মা দিয়ে যাচ্ছিলেন নৌকাতে। পথে তার যাবতীয় সম্পত্তি ডাকাতরা নিয়ে যায়, তাকে মারধর করে। তারপর তিনি লিখছেন, নিজেকে নিয়েই যে, ভুসুকু তোমার সব সম্পত্তি ডাকাত নিয়ে গেছে। আমি (অর্মত্য সেন) সে যুগের বাংলা থেকে এ যুগের বাংলা করছি। তিনি (ভুসুকু) বলছেন তোমার সব সম্পত্তি নিয়ে গিয়ে তোমাকে ডাকাতরা মুক্তি দিয়েছে। তুমি এখানেই থেকে জাত বিচার বাদ দিয়ে একটি চন্ডাল মেয়ে বিয়ে করে পরিবার প্রতিষ্ঠা করো। তুমি সব হারিয়ে সত্যি বাঙালি হলে।”
ছিঃ! ছিঃ অমর্ত্য সেন ছিঃ! চর্যাপদের ৪৯ নম্বর কবিতার অর্থ ছিল, “ভুসুকু সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী বা সব ত্যাগ করে আলোকপ্রাপ্ত সিদ্ধপুরুষ হয়েছিলেন।” বৌদ্ধ বিদ্বেষী বৈদিক পন্ডিতগণ আলোকিত বাঙালি শব্দকে অবনমিত করে “বাঙালিকে পশু” বলেছেন (বাঙালি মানুষ নয়, লেজ নাই কিন্তু), এবং গৌতমবুদ্ধকে অপমান করে হিন্দী ভাষায় ‘বুদ্ধু’ বা হীন জঘন্য (বেকুব) শব্দ ব্যবহার করে।
চর্যাপদের অপাপবিদ্ধ সিদ্ধপুরুষ কবি ভুসুকু ‘বাঙালি’ শব্দের আবিষ্কারক ছিলেন। পাল রাজত্বের চারশত বছরকে (৮ম শতাব্দী থেকে ১১ শতাব্দী) বাঙালি জাতির এনলাইটেনমেন্ট যুগ বলা হয় এবং সেই যুগে বুদ্ধাব্দই (গৌতমবুদ্ধের জয়ন্তি সাল) বঙ্গাব্দ ছিল। ‘আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী (ভুসুকু আজ আলোকপ্রাপ্ত সিদ্ধপুরুষ বা বাঙালি হলেন)” থেকে ঐতিহাসিক ‘বাঙালি’ শব্দের অভূতপূর্ব সংযোজন হয়েছিল এবং (দি বুক অব এনলাইটেনমেন্ট) ৪৯ নম্বর কবিতায় সর্বপ্রথম ‘বাঙালি শব্দ’ মহাকবি ভুসুকু কর্তৃক আবিস্কৃত হল। পূজনীয় ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন বাঞ্ছনীয়।
তদানীন্তণ ব্রাহ্মণ শাসিত সমাজে মহাকবি ভুসুকু অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস নিয়ে বলেছিলেন, “আমি আজ বাঙালি হয়ে ‘অহং’ কে জয় করে সিদ্ধপুরুষ হয়েছি।” বৌদ্ধ পালি ভাষায় যার নাম ‘সউপাধিশেষ নির্বান লাভ’ বা রক্ত মাংসের শরীর নিয়ে পরমার্থ জীবন যাপন। ধর্ম বা ব্রাহ্মণ নিয়ন্ত্রিত সমাজে মানবাধিকার রা ও প্রচার করার মানসে বৌদ্ধধর্মের প্রয়োজন আজ ও বিরাজমান। চর্যাপদ এবং বঙ্গাব্দ প্রসঙ্গ নিয়ে সম্মানিত অতিথি অমর্ত্য সেন ঢাকায় একুশের বইমেলা অনুষ্ঠানে আলোচনা করেছেন। আমরা মনযোগ দিয়ে তাঁর লেখা পড়েছি। উক্ত বিষয়ে তথ্য জানা ও পাওয়া বাংলা ভাষাভাষী জনতার মৌলিক অধিকার আছে বলে আমরা মনে করি। দুর্ভাগ্যবশত: চর্যাপদের ৪৯ নম্বর কবিতায় জিতেন্দ্রীয় সিদ্ধপুরুষ কবি ভুসুকু সম্বন্ধে অমর্ত্য সেনের আলোচ্যমান গল্পের সাথে আকাশ পাতাল তফাৎ পরিলতি হয়। চন্ডাল মেয়ে বিয়ে করে বা সব হারিয়ে নয়, ভুসুকু ষড়রিপু সব জয় করে মহাজ্ঞানী ও মহামানব হয়েছিলেন।
সম্মানিত প্রবক্তা অমর্ত্য সেনের ভাষণে কোথায় ভুল ছিল তা আমরা জানতে পারি চর্যাপদের উক্ত ৪৯ নম্বর কবিতায় এবং পরম শ্রদ্ধেয় কবি ভুসুকু লিখেছিলেন, “বজ্রনৌকা পাড়ি দিয়ে পদ্মানদীতে গেলাম। নির্দয় দস্যু দেশ লুট করে নিয়ে গেল। নিজের গৃহিনীকে (কামতৃষ্ণাকে) চন্ডালে নিয়ে যাবার পর ভুসুকু আজ তুমি বাঙালি হলে। পঞ্চপাটন (৫ উপাদান স্কন্ধ) দগ্ধ, ইন্দ্রিয়ের বিষয় বিনষ্ঠ। জানি না আমার চিত্ত কোথায় গিয়া প্রবেশ করলো। আমার সোনা রুপা কিছুই থাকলো না, নিজের পরিবারে মহাসুখে থাকলুম। আমার চৌকোটি ভান্ডার নিঃশেষ হলো, জীবনে মরণে আর ভেদ নেই।”
আলোচ্যমান চর্যায় কবি ভুসুকু কামতৃষ্ণা বা বিয়ে করার ইচ্ছাকে গৃহিনী বলেছেন, “আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী (আজ বাঙালির ইতিহাসে ভুসুকু কামতৃষ্ণাকে জয় করে সিদ্ধপুরুষ বা বাঙালি হল), নিঅ (নিজ) ঘরিনী (কাম তৃষ্ণার লোভ লালশা বা গৃহিনী) চন্ডাল লেলী (চন্ডালে নিয়ে গেল)।” কবি ভূসুকুই সর্বপ্রথম “বাঙালি” শব্দের আবিষ্কারক এবং পাল সম্রাটগণের ৮ম শতাব্দী থেকে ১১ শতাব্দী ৪০০ বছর পর্যন্ত চর্যাপদে বুদ্ধাব্দকে (২৫৫৫ বুদ্ধাব্দ) বঙ্গাব্দ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। |
| |
| http://www.sonarbangladesh.com/articles/SonaKantiBarua |
| |
|
|
|
|
| |
|
|
|
|
| বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন: |
|
|
|
| |
|
|