বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; দুপুর ১২:৪৮ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

বাংলাদেশে বাম আন্দোলনের সাফল্য-ব্যর্থতা-৪

সুদীপ্ত সেন

(আগের সংখ্যার পর)

৪.

আগের পর্বে লিখেছিলাম অন্য দলের অনুপ্রবেশ ত্বত্তের কারনে এবং সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের কিছুটা টালমাটালের পর বাম আন্দোলনের অনেক মেধাবী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী বিভিন্ন সেকুলার দলে চলে যায়। এক্ষেত্রে বাংগালী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সেকুলার আওয়ামী লীগ তাদের প্রধান পছন্দ ছিলো। বিভিন্ন ইস্যুতে, বিশেষ করে সেসব জায়গায় বামমনা বনাম ডান সেকুলার মনাদের দ্বন্দ্ব লেগে যেত, সেখানে প্রগতিশীল দল থেকে আগতদের ভুমিকা বরাবরই বামদলের দলের জন্য ইতিবাচক ছিলো। আওয়ামী লীগ ডানধারা বলে কিছুটা পরিচিত এবং দলটিকে দক্ষিনপন্থি ধারার দিকে যেতে যায়, তাদের সাথে লড়াইয়ে বরাবরা জিতে গেছে অপেক্ষাকৃত সেকুলার বাম ধারাটি। এক্ষেত্রে বামদের সাফল্য স্বীকৃতি না দিলে ইতিহাসকে অস্বীকার করা হবে। বর্তমান সরকারের আমলেও কিছু উদাহরন থেকে এটি পরিস্কার হয়। নিচের দুটি লেখার কিছু চুম্বক অংশ তুলে দিলাম, আশাকরি পাঠক এথেকে কিছুটা ধারনা পাবেন—

ক.

দৈনিক সংবাদের সাবেক সহকারী সম্পাদক ও বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলোয় কর্তব্যরত বিশিষ্ট সাংবাদিক সোহরার হাসানের একটি লেখা উল্লেখ করার মতো। আওয়ামী লীগে বাম ও ডানের লড়াই শীরোনামে কলামে সোহরাব হাসান লিখেছেন, “ গত ৬ জুন ২০০৯, আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম বলে পরিচিত কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভানেত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। জানুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এটিই দলের নির্বাহী কমিটির পূর্ণাঙ্গ বৈঠক। এর আগে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের পর উদ্‌ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আরেকবার কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক হয়েছিল ঢাকায় অবস্থানরত সদস্যদের নিয়ে। কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে গত পাঁচ মাসে সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা হয়। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে এ ধরনের আলোচনা অত্যন্ত জরুরি। সমাজতন্ত্রকে অন্যতম আদর্শ ঘোষণা এবং দলীয় পতাকায় তার স্বাক্ষর হিসেবে একটি লাল তারকাখচিত হলেও কেউ মনে করে না আওয়ামী লীগ বামপন্থী দল। বরং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় একে সবাই মধ্যপন্থী দল হিসেবেই দেখতে চায়। তবে একথাও স্বীকার করতে হবে, মাঝে মধ্যে দলটিতে ডানপন্থার ঝোঁক অতিশয় বেড়ে যায়। বিশেষ করে ক্ষমতায় থাকতে দলের একশ্রেণীর নেতা-কর্মী সরকার, প্রশাসন থেকে শুরু করে সবকিছু ‘আমাদের’ বলে ভাবেন এবং বাস্তবে তার শতভাগ বাস্তবায়ন না দেখলেই উষ্মা প্রকাশ করেন।

পত্রিকার রিপোর্ট থেকে আমরা জানতে পারি, বৈঠকে সবচেয়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠ ছিলেন দলের তৃতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল বোস ও ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। বাংলাদেশে সবকিছুই অদ্‌ভুত। ধর্মনিরপেক্ষ দলেও একজন ধর্মবিষয়ক সম্পাদক প্রয়োজন হয়। কি বলেছেন তারা? মুকুল বোস বলেছেন, বামপন্থীরা নাকি আওয়ামী লীগকে ঘিরে ফেলেছে। তিনি বামপন্থী বলতে সাবেক কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাপ নেতাদের কথাই বুঝিয়েছেন। মুকুল বোস আরও বলেছেন, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এক সময়ে বামপন্থী ছিলেন। ন্যাপ করেছেন। এ কারণে তিনি আওয়ামী লীগারদের বাদ দিয়ে ন্যাপের লোকজনকে চাকরি দিচ্ছেন। আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ এনে তিনি বলেছেন, সরকার নিযুক্ত আইনজীবীরা দলের নেতাদের পক্ষে কাজ করেন না। এটর্নি জেনারেল ও তার অফিসের বিরুদ্ধেও তার অভিযোগের অন্ত নেই। একটি পত্রিকায় দেখলাম, তিনি দলে একদা বামপন্থী নেতাদের উদ্দেশ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ বামপন্থীদের আশ্রয়শিবিরে পরণত হয়েছে।

বামপন্থী বলতে মুকুল বোস কি বোঝেন? বামধারার রাজনীতি করা? বুর্জোয়া রাজনীতির বিরোধিতা করা? আওয়ামী লীগে থেকে তো বামধারার রাজনীতি করা সম্ভব নয়। যেসব সাবেক বামপন্থী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন তারা তো আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শের প্রতি আস্থা স্থাপন করেই সেখানে গিয়েছেন। কেবল বামপন্থী নয়, আওয়ামী লীগে তো সাবেক বিএনপি ও সাবেক মুসলিম লীগাররাও যোগ দিয়েছেন। মুকুল বোস কি খুশি হতেন আওয়ামী লীগ থেকে যদি তারা বিএনপি বা মুসলিম লীগের রাজনীতি করতেন? তিনি কৃষিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন তা কি প্রমাণ করতে পারবেন? মতিয়া চৌধুরীর অনেক দোষ থাকতে পারে কিন্তু তিনি বামপন্থী বিবেচনায় কাউকে আনুকূল্য দেখিয়েছেন, সে দাবি কেউ করতে পারবেন না। বরং এসব বিষয়ে তিনি খানিকটা বেশি সতর্ক থাকেন।

দ্বিতীয় কথা হল, সাচ্চা আওয়ামী লীগার আর ভেজাল আওয়ামী লীগারের পরীক্ষা তো ক্ষমতায় থেকে বোঝা যায় না। বিপদ-আপদেই তার প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন পাওয়া গিয়েছিল পঁচাত্তরে খোন্দকার মোশতাকের ক্ষমতা দখলের পর। যেমন পাওয়া গিয়েছিল গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। তখন তো মুকুল বোসের মতো সাচ্চা আওয়ামী লীগাররা শেখ হাসিনাকে নেতৃত্বহারা ও দলছাড়া করতে নিত্যনুতন সংস্কার-দাওয়াই হাজির করেছিলেন। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জেলে, সাধারণ সম্পাদক জেলে, প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জেলে, দ্বিতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিদেশে। মাত্র কয়েক দিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়ে মকুল বোস কি করেছিলেন, কি বলেছিলেন তা কারও অজানা নয়। তখন কিন্তু ‘সাবেক বামপন্থী’ মতিয়া চৌধুরীই শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে দিনের পর দিন সাব-জেলের সামনে ধরনা দিয়েছেন। তথাকথিত সংস্কারের দাওয়াই গেলেননি।

শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ যে ‘বামপন্থী’ মন্ত্রীদের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করেছেন তাতে মোটেই বিস্মিত হইনি। তিনিই তো সেই ব্যক্তি যিনি ২০০৭ সালের নির্বাচনের আগে খেলাফত মজলিসের সঙ্গে ৫ দফা চুক্তি করেছিলেন, যাতে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন করা হবে না বলে আওয়ামী লীগ অঙ্গীকার করেছিল। অঙ্গীকার করেছিল ব্লাসফেমি ও ফতোয়াবাজির পক্ষেও। এই চুক্তিবলে এমন কয়েকজন মজলিস নেতাকে মহাজোটের মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল যারা জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। খেলাফত মজলিসের সঙ্গে ঐক্য করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে হয়তো তাকেও পাকিস্তানের অনুসরণে আরেকটি ‘সোয়াত’ চুক্তি করতে হতো। বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই তালেবানি রাষ্ট্র হতো। আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের কোন পার্থক্য থাকত না।

আওয়ামী লীগে ডানপন্থা ও বামপন্থার বিরোধ নতুন নয়। আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দ বাদ দেয়ার সময়ও অনেকে আপত্তি তুলেছিলেন। ৬ দফার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে দল ত্যাগ করেছিলেন অনেক বাঘা বাঘা নেতা। সেসব ছিল ‘আদর্শের লড়াই’। আর এখন যে লড়াই চলছে তা হলো সুবিধা পাওয়া না পাওয়ার, পদ পাওয়া কিংবা হারানোর। মন্ত্রী-এমপি হতে না পারার মর্মবেদনাও অনেককে বিচলিত করেছে। এসব নিয়ে হয়তো লেখার প্রয়োজন হতো না। যদি না এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শের প্রশ্নটি জড়িত থাকত। (যুগান্তর, ৯ জুন ২০০৯)

খ.
আরেকটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল দৈনিক সমকালে আশির দশকের বিশিষ্ট বাম ছাত্র নেতা অজয় দাশগুপ্তের। “দাপট যখন ষোলোআনার ওপর আঠারো আনা” শিরোনামে কলামে অজয় দাশ লিখেছেন,
১৯৭৫ সালের এদিনের স্মৃতি এখনও সতেজ। অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ৭ জুন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল গঠিত হওয়ার পর ছাত্রদের মধ্যে প্রকাশ্যে কেবল ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ছাত্রলীগ সক্রিয়। এর কেন্দ্রীয় কমিটি ছিল ২১ সদস্যের। শেখ শহীদুল ইসলাম সম্পাদক। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ইসমত কাদির গামা, নূহ-উল আলম লেনিন, মাহবুব জামান, শেখ কামাল, ওবায়দুল কাদের, মমতাজ হোসেন, কাজী আকরাম হোসেন, ফজলুর রহমান পটল, নুরুল ইসলাম মিলন, অজয় দাশগুপ্ত প্রমুখ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

কিন্তু সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে ছাত্র সংসদ আদৌ কাজ করছে কি-না সে বিষয়টি কম গুরুত্ব পায়। নির্বাচনে ভিপি-জিএস পদে বিভিন্ন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বি্বতা করে। যে সংগঠন যত বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জয়ী হয়, তাদের তত কৃতিত্ব। কিন্তু এখন যে নির্বাচনই হচ্ছে না! কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রক্ষমতায় যে দল অধিষ্ঠিত থাকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের সমর্থক ছাত্র সংগঠনের নেতাদের থাকে তাদের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব। তারা নির্বাচিত নয়, কিন্তু দাপট-দৌরাত্ম্যে ষোলোআনার ওপর আঠারোআনা। কর্তৃপক্ষও তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য কে হবেন, কলেজের প্রিন্সিপাল-ভাইস প্রিন্সিপাল পদে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা নির্ধারণে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাদের মতামতের গুরুত্ব অপরিসীম। যাদের সুপারিশ-তদবিরে নিয়োগ মেলে তাদের চটানোর মতো বুকের পাটা ক'জনের থাকে? কিন্তু স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতেই হবে। আর এক্ষেত্রে ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রমেও আনতে হবে মৌলিক পরিবর্তন। ছাত্রদের যদি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে প্রতিদান দিতেই হবে। তাই এ হাতিয়ারের আর ব্যবহার নয়। তা থাকুক ইতিহাসের পাতায়।

কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীর সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয়। এদের একজনের বয়স ৪০ ছাড়িয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে তার পিতা শহীদ হন। ওই সময়ের দুই বছরের শিশুটি এখনও ছাত্রলীগ করছে। দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য সে মিছিল-সমাবেশ করেছে এবং প্রতিপক্ষের মোকাবেলায় প্রয়োজনে লাঠিও ধরেছে। ছাত্রদলের অত্যাচারে মাঝে মধ্যে সে এলাকাছাড়া হয়েছে। এখন দল ক্ষমতায়। তাই 'হিসাবের পাওনা' সে ষোলোআনা বুঝে নিতে চায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মী (যদিও ছাত্রত্ব নেই) জানাল তার অভিজ্ঞতা। বিরোধী দলে থাকার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন হল থেকে কত বড় মিছিল বের হয়েছে, সেটা আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব মনিটর করেছে। এ কাজ যারা সংঘটিত করেছে তারা দল ক্ষমতায় আসার পর সুবিধা কেন নেবে না? তার ভাষ্য : যদি দলের নেতারা নিজেদের দিনবদলের স্লোগানের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আগ্রহ দেখাতে শুরু করতেন তার প্রভাব পড়ত ছাত্র সংগঠনেও।

তবে টানা তিন দশক জনপ্রিয় ছাত্র সংগঠন হিসেবে তাদের টিকে থাকার পেছনে আরও কিছু কারণ ছিল। স্বাধীনতার পর এ ধারা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্ষমতার স্বাদ পেতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ছাত্র ইউনিয়নও নানা কারণে হীনবল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের গৌরবের ধারায় ব্যত্যয় ঘটিয়ে আবির্ভাব ঘটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের। সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যায় উগ্র ধর্মান্ধ ইসলামী ছাত্রশিবির। তাদের প্রতি সাধারণ ছাত্রসমাজের সমর্থন তেমন নেই। কিন্তু এখন অর্থবলে দারুণ বলীয়ান। ছাত্রলীগের সঙ্গে জোট গঠন করা এসব সংগঠন মূলত বামধারার। তাদের কর্মসূচি প্রগতিশীল, কিন্তু সাংগঠনিক শক্তিতে দুর্বল। এ অবস্থায় আদর্শ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রত্যাশা আপাতত স্বপ্নই থেকে যাবে বলে শঙ্কা হয়।(সমকাল, ২ জুলাই ২০০৯)

এভাবে দেখা যাচ্ছে, অন্যদল চলে গেলে বা অন্য পরিমন্ডলে কাজ করলেও বাম ধারার কর্মীরা তাদের নিজের আদর্শ সমুন্নত রেখেছে। শুধু রাজনৈতিক কর্মীরাই নয়, লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা
আওয়ামী লীগের চেয়ে বাম আদর্শের প্রতি তাদের কমিটমেন্ট অব্যাহত রেখেছে। আওযামী লীগের মধ্য সেকুলার ডান বনাম সেকুলার বামের দ্বন্দ্বে নিজের অতিত আদর্শের (বামধারা) প্রতি সহানুভুতিশীল ছিলেন, আছেন। সাংবাদিক সোহরাব হাসান ও সাংবাদিক অজয় দাশ গুপ্তের লেখা তাই প্রমান করে দেয়।
(চলবে)

লেখকঃ প্রগতিশীল আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক কর্মী, ই-মেইল, sudiptoeu02@yahoo.com
http://www.sonarbangladesh.com/articles/SudiptoSen
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy