বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে টিপাইমুখ বাঁধ। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা হলেও এর কোনো সমাধান হয়নি। বর্তমানে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারত সরকার বেশকিছু সুবিধা আদায় করার লক্ষ্যে তৎপর হয়ে উঠেছে। বর্তমান সরকারের বয়স ৭ মাস পূর্তি না হতেই ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ট্রানজিট, টিপাইমুখ বাঁধ প্রভৃতি বিষয়গুলো আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সরকারের অবশ্যই সু-সম্পর্ক বজায় রেখে দেশ পরিচালনা করা অত্যাবশ্যক। তবে দেশের স্বার্থ কোনোভাবেই জলাঞ্জলি দিয়ে তা করা দেশ তথা জনগণের সঙ্গে বেঈমানির শামিল হবে। আমরা অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখতে পাবো ভারত কখনোই স্বার্থহীনভাবে এদেশকে সহযোগিতা করেনি। যেসব চুক্তি করেছে এবং করতে যাচ্ছে তাদের পেছনেও বিশাল স্বার্থ অন্তর্নিহিত রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ব্যতীত অন্যান্য সরকার দেশ পরিচালনাকালে ভারত সরকারের কোনো বিষয়ে এতোটা তোড়জোড় পরিলক্ষিত হয় না। হয়তো ভারত সরকার জানতো আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো সরকারের কাছ থেকে তেমন কোনো সুবিধা আদায় করা সম্ভব হবে না। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদন করেছিল। আমরা কি পারছি সেই চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে। আমরা যদি বাস্তবায়ন করতে না পারি তবে কেন চুক্তি করে শুধু তাদের কাজের বৈধতা দিচ্ছি।
বাংলাদেশের সিলেট সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পূর্বে বরাক নদীতে এবং টুইভাই বরাক নদীর সঙ্গমস্থল থেকে মনিপুর রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে সঙ্কীর্ণ গিরিখাতে অবস্থিত টিপাইমুখ স্থানে ভারত বাঁধ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ভারত ২৬১ মিটার উঁচুতে ৩৯০ মিটার দীর্ঘ বাঁধ দিয়ে টিপাইমুখ পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত ‘নর্থ ইস্টার্ন ইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন লিমিটেড’-এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে মর্মে জানা যায়। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৫ কোটি ডলার এবং ২০১২ সালের মধ্যে এ প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। টিপাইমুখ বাঁধের মোট পানি ধারণ ক্ষমতা হবে ১৫.৯ মিলিয়ন কিউবিক মিটার। প্রকৃতপক্ষে এদেশের রাজনীতি দুমেরুতে বিভক্ত হওয়ার কারণে দেশের সার্বিক জনগণ দুভাগে বিভক্ত হয়েছে। ফলে জাতীয় যে কোনো সমস্যা নিয়ে সাধারণ জনগণ বিভ্রান্তির মুখে পতিত হচ্ছে। আমরা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতো জাতীয় নীতিতে একমুখ হতে পারি না।
সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় কমিটির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে সংসদীয় কমিটি ছয়দিন ভারতে অবস্থান করেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সরেজমিন টিপাইমুখ এলাকা পরিদর্শন করতে পারেননি। তবে তিনি দেশে ফিরে জানিয়েছেন, ভারত সরকার তাকে আশ্বস্ত করেছে যে, টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও বাংলাদেশের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এ উদ্ধৃতি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় বাংলাদেশের জনগণ কিংবা সরকার যতো বিরোধিতাই করুক না কেন; তারা টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করবেই। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সমর্থন আদায়ের কৌশল হিসেবে ‘এদেশের ক্ষতি যাতে না হয় বিষয়টি দেখবে’ সূচক মন্তব্যটি করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার পর এদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয়ের মতো ঘটনা ঘটলেও সরকারের কিছু করার থাকবে না মর্মে নিশ্চিত বলা যায়। আবার জনগণের মনে সংসদীয় কমিটি ও ভারত সরকারের বিষয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে যে, ভারত সরকার সংসদীয় কমিটিকে যথাযথভাবে মেহমানদারি করে কৌশলে টিপাইমুখ এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন থেকে বিরত রেখেছেন।
সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত বিশেষ করে মণিপুর, মিজোরাম ও আসাম রাজ্যের লাখ লাখ আতংকিত, ক্ষুদ্ধ জনতা এবং বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহের উদ্বিগ্ন কোটি মানুষের মতামত ও প্রতিবাদের পরও শেষ পর্যন্ত গত ডিসেম্বর মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় শক্তি মন্ত্রণালয় মণিপুর রাজ্যের টিপাইমুখ নামক স্থানে বরাক ও টুইভাই নদীর সংযোগ স্থলের কাছে বহুল নিন্দিত টিপাইমুখ বহুমুখী বাঁধ প্রকল্পের বাস্তবায়নে সম্মতি প্রদান করেছে। এটির নক্সা চূড়ান্ত, প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়েছে ইতোমধ্যেই। সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত থেকে ১০০ কিঃ মিঃ দূরে নির্মিত হবে এই নদী সংহারক বৃহৎ বাঁধ। এর দৈর্ঘ্য হবে ১৫০০ ফুট ও উচ্চতা হবে ৫০০ ফুট। এই বাঁধের কাংখিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১৫০০ মেগাওয়াট, ন্যূনতম প্রাথমিক উৎপাদন মাত্রা হবে কমপক্ষে ৪ শত মেগাওয়াট। বাঁধটি তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত নর্থ ইষ্ট ইলেট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন (নিপকো) আগামী ২০১২ সালে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করার কথা ভারতীয় সরকারকে নিশ্চিত করেছে। অথচ খোদ ভারতীয় জনগণই এই বাঁধ নির্মাণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কারণ কথিত পরিমাণের বিদ্যুতের বদলে মণিপুর, মিজোরাম ও আসামের মানুষ ও পরিবেশ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে, বরাক ও অন্যান্য নদীর পানি প্রবাহ হ্রাস পাবে ১৭,৩৫৪ কিউসেক। বাঁধ সংলগ্ন বিরাট এলাকা জলমগ্ন হবে, উৎখাত হবে ১৩২০টি আদিবাসী পরিবার, বিনষ্ট হবে তাদের ২৭,২৪২ হেক্টর বন ও পাহাড়ী ভূমি। আমরা জানি বরাক নদীই বাংলাদেশে প্রবেশের পর সুরমা ও কুশিয়ারার বিভক্ত হয়েছে যা পরবর্তীতে আবার যুক্ত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে মেঘনার। অর্থাৎ বরাক-সুরমা-কুশিয়ারা-মেঘনা একই পানি যা সর্বমোট ৯৪৬ কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত হয়ে আছে। এর মধ্যে ভারতে রয়েছে ২৭৭ কিলোমিটার আর ৬৬৯ কিলোমিটার বাংলাদেশে।
আমরা জানতে পেরেছি যে, ভারত শুধু জলবিদ্যুতের জন্য টিপাইমুখ বাঁধ বানিয়েই ক্ষান্ত হবে না, বরাকের আরেকটু উজানে ফুলারতল এলাকায় তারা আরেকটি সেচ-ব্যারাজও নির্মাণ করবে। যার মাধ্যমে শীতকালে প্রচুর পানি কৃষিকাজের জন্য বরাক থেকে সরিয়ে নেয়া হবে। এসব বাঁধ নির্মিত হলে এই দীর্ঘ এলাকার পানি সরবরাহ হ্রাস পাবে, পাহাড়ী ও সমতল বন, গাছ-গাছালি, ফল-ফসল, কৃষি উৎপাদন, জলাশয়, অন্যান্য ছোট-বড় শাখা নদী সমূহ পানি বঞ্চিত হবে, শুরু হবে মরুকরণ, উপরের দিকে উঠে আসবে সামুদ্রিক লোনা পানি, জমি হবে লবনাক্ত, সৃষ্টি হবে পানীয় জলের সংকট, বিপর্যস্ত হবে বাংলাদেশের পরিবেশ ও কোটি কোটি জনতা। শুকনো মওশুমে পানি টিপাইমুখে আটকে রাখার ফলে বৃহত্তর সিলেট, কুমিল্লা ও তৎসংলগ্ন ময়মনসিংহ এলাকা হবে শুষ্ক ও পানিশূন্য আর বর্ষার ভারি বর্ষনের সময় খোলা রাখা ফ্লাডগেট থেকে প্রবল স্রোতের সঙ্গে প্রচুর পানি নেমে এসে একই এলাকা বন্যায় ভাসাবে। এক হিসেবে বলা হয়েছে যে, টিপাইমুখ বাঁধ চালু হলে সুরমা নদীর পানি বর্ষাকালেই ৫ ফুট কমে যাবে, বঙ্গোপসাগরের লবণ ঢাকা নারায়ণগঞ্জ বেয়ে সিলেট শহরে পৌঁছুবে ১৫ বছরের মধ্যেই। তাছাড়াও ভূ-প্রাকৃতিক চরিত্রের কারণে পৃথিবীর সর্বোচ্চ ভূমিকম্প প্রবণ যে ছয়টি স্থান রয়েছে তার ১৮টি বৃহৎ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে সর্বশেষ ৫০ বছর পূর্বের আসামের ভূমিকম্পের পর পরবর্তী মারাত্মক কম্পন ধ্বংসযজ্ঞও হবে অনেক অনেক বেশী। আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি, কনভেনশন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার পানি চুক্তি এবং ভারতীয় মন্ত্রীদের আশ্বাস মোতাবেক বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর কোন নদী-ভিত্তিক কার্যক্রম ভারত করার কথা নয়, কিন্তু বাস্তব অবস্থা তার উল্টো। বাংলাদেশমূখী সকল নদী নিয়ে আন্তঃ নদী সংযোগ প্রকল্পসহ ভারতের এতসব কর্মযজ্ঞ অবাধে চলছে অথচ বাংলাদেশ সরকার বা যৌথ নদী কমিশন সেসব বিষয়ে যথাসময়ে বা যথেষ্ট অবহিত নয়।
টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক হবে না। এটা কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, অর্থনৈতিক সমস্যা। আন্দোলন নয়, আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। আমরা নিজেরা জাতীয় ইস্যুতে একমত হতে না পারলে কোনোদিনই দেশের স্বার্থরক্ষা করা সম্ভব হবে না। পার্শ্ববর্তী দেশ নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য নিজস্বভাবেই আলাপ-আলোচনা ছাড়া বেশকিছু উদ্যোগ ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া অন্যতম। এছাড়া বিএসএফ সীমান্ত এলাকায় নির্বিচারে মানুষ হত্যা করলেও এর কোনো বিচার হয় না। তাই দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্য রেখে জাতীয় স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে শুধু টিপাইমুখ বাঁধ বিষয়ে নয় দেশের সার্বিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া আবশ্যক।
pls know everything about this matter.shekh hasina is good leader in bd. pls gather more knowledge about bd politics.then comments like this. bal love country, think poverty.desh k bhalobason and desher manosh k bhalobason.
2897
৩
কানাডা থেকে মà§à¦¿à¦®à¦¨ চৌধà§à¦°à§€ লিখেছেন,
১৯ অগাস্ট ২০০৯; দুপুর ০২:২২
As a researcher, you are
utilizing your all kinds of thought as well as brain
for the development in our country .lot of thanks
I love your precious articles .
Presentation of the truth in a simple well structured manner encourage and inspire people to look and listen for more - something that you've definitely succeeded in doing.