বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; দুপুর ০১:০১ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

সামারে একদিন (পর্ব - ২)

ওয়াসিম খান পলাশ

অটোরুট গুলো সাধারণত শহরের বাইরে দিয়ে চলে যায়। তাই দুপার্শ্বে যত দূর চোখ যায় শুধু ক্ষেত আর ক্ষেত। এখানকার ফসলের ক্ষেতগুলো আয়তনে বিশালাকৃতির হয়। মাঝে মাঝে দূরে ছোট ছোট ভিলেজ, খামার বাড়ি চোখে পড়ে। কখনো গরুর পাল আবার কখনো ঘোড়ার পাল চোখে পড়লো মুহুর্তের জন্য। আমাদের যাত্রা সঙ্গী ছোট ছোট বাচ্চারা বেশ মজা পাচ্ছিলো গরু আর ঘোড়ার পাল দেখে। ফরাসীতে গরুকে তোরো, গাভীকে বলে ভাষ। আর পুরুষ ঘোড়াকে সোভাল, স্ত্রী ঘোড়াকে বলে জুমো বলে। আবার বাচ্চা ঘোড়াকে বলে পুলা। এদেশের স্কুল পড়ুয়া ছেলে মেয়েরা এই প্রানীগুলো খুব বেশী চিনে। মেটারনাল, প্রাইমারি লেভেলে পড়া অবস্থাতেই তারা এই প্রানীগুলোর কাছে যাওয়ার সুযোগ পায়। এখানকার স্কুলগুলো ছেলে মেয়েদের সপ্তাহে,দুসপ্তাহে একবার নিয়ে যায় শিক্ষনীয় ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে। কখনোবা সিনেমা দেখাতে। তবে ফরাসি দেশের ছেলে মেয়েদের একটি গুন সর্বজন বিদিত যে তারা নিজ দেশের জিওগ্রাফি সম্বন্ধে খুব ভালো জ্ঞান রাখে।

প্রায় পৌনে এগারোটার সময় আমরা ফ্রান্স বেলজিয়াম ফ্রন্টিয়ার অতিক্রম করলাম, বেলজিয়ামে প্রবেশ করলাম। ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন হওয়ার পর পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর ফ্রন্টিয়ার বেশ শিথিল। সতর্ক না থাকলে বুঝাই যাবে না যে কোনো দেশের বর্ডার অতিক্রম করছি। দুপাশের দুদেশের নাম লিখা সাইনবোর্ড আর কিছুই চোখে পড়ে না। নেই কোনো কাষ্টমস, নেই কোনো বর্ডার সিকুরিটি।

সেই আশির দশকের কথা। সোভিয়েত ইউনিয়ন সমর্থিত পূর্ব ইউরোপের কম্যুনিষ্ট দেশগুলো আর যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর দু'ধারার দ্বন্দ্ব। বার্লিন প্রাচীরের ইতিহাস কার না অজানা। সোভিয়েট ইউনিয়ন ভেঙে অনেকগুলো স্বাধীন দেশের জন্ম হলো। আবার দুই জার্মানি এক হয়ে এক জার্মানি হলো। পরবর্তীতে অনেকগুলো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে আরো কয়েকটি স্বাধীন দেশের জন্ম হলো। ইতিহাস এখানেই থেমে থাকেনি। একদিকে যেমন সোভিয়েট ইউনিয়ন, যুগোস্লাভিয়া, চকোস্লাভাকিয়া ভেঙে খান খান। ঠিক তেমনি ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালী, স্পেন, ব্রিটেনের নেতৃত্বে উত্থান হলো ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন নামের আরেকটি নতুন পরাশক্তির।

এখন একমাত্র ব্রিটেন যেতে ইমিগ্রেশন ও কাষ্টমস পাস হতে হয়। বর্তমান ইউরোপীয়ান ইউনিয়নে ব্রিটেন একমাত্র দেশ যাদের নিজস্ব মুদ্রা, যারা এখনো বর্ডার ওপেন করেনি।

সাড়ে দশটার মধ্যে আমরা ওয়ালীবি এসে পৌঁছোলাম। সামারের রৌদ্র ঝলমলে সকাল। তাপমাত্রা আস্তে আস্তে বাড়ছে। কাল ইন্টারনেটে চেক করেছিলাম, আজকে এখানকার তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আমরা কোচ থেকে নেমে পড়লাম। গাইডরা অপেক্ষা করতে বললো। যার যার মতো ব্যাগ, সাইড ব্যাগ, বাচ্চাদের পুশ চেয়ার সংগ্রহ করে নিলাম। চারিদিকে বেশ ভীড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে। আমাদের মতো বেশ কিছু গ্রুপ এসেছে দেখলাম। অনেকে এসেছে পরিবার পরিজন, বন্ধু বান্ধব নিয়ে।

এরই মধ্যে গাইডরা এসে হাজ়ির। হাতে পার্কে প্রবেশের টিকিট। এক এক করে সবাই টিকিট নিয়ে যার যার মতো ওয়ালীবিতে প্রবেশ করলাম। উল্লেখ্য, এই ধরনের পার্কে এক মিটারের কম উচ্চতার বাচ্চাদের কোনো প্রবেশ ফি লাগে না। প্রবেশ পথেই বিশাল আকৃতির কয়েকজন কার্টুন অভ্যর্থনা জানালো। অনেক বাচ্চা উৎসাহী হয়ে ওদের সাথে পোজ দিয়ে ছবি তুলছে। ওয়ালীর প্রবেশেই দুপার্শ্বে কিছু রেষ্টুরেন্ট, স্ন্যাক্স, ড্রিংসের দোকান। দোকান গুলো মনে হচ্ছে গাছের তক্তা দিয়ে তৈরী করা। পার্কটির দুটি অংশ। একটি অংশ ছোট বড় সবার বিভিন্ন খেলাধুলার আইটেম। অন্যটি শিশুদের, যাদের উচ্চতা এক মিটারের কম। পার্কটির চারিদিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও এক পাশে ছোট একটি লেক। বিনোদনের আইটেমগুলো এত সুন্দর রংয়ের কম্বিসনে আকা। মনে হবে যেন স্বপ্নের কোনো দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছি। যার যার পছন্দের আইটেমগুলোতে চড়লাম, ঘুরে বেড়ালাম, বিশ্রামের এক ফাকে লাঞ্চ সেরে নিলাম।

এখানকার খেলাধুলার প্রধান আইটেমগুলো ছিলো – রোলার কাষ্টার, থ্রিল রাইড, ফ্যামিলি রাইড, কিডি রাইড। বিভিন্ন আডভেঞ্চার আইটেমগুলোতে উঠানামায় নিজের অজান্তেই সময় গড়িয়ে গেল।

সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে গাইডদের কাছে সবাইকে রিপোর্ট করার কথা। গুডবাই জানাতে হলো ওলাবী বেলজিয়ামকে। সারাটা দিনের এতোটা আনন্দ। অথচ খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম গুডবাইয়ের মুহূর্তে। হয়তো আমার মতো অনেকেই। একটি দিনের পরশ আর অনেকগুলো সুন্দর মুখ, ভুলবোনা কোনোদিন।

polashsl@yahoo.fr
http://www.sonarbangladesh.com/articles/WasimKhanPolash
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy