বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; দুপুর ০১:০২ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

অপরাধ দমনে সৌদী আইনের কঠোরতা এবং বাংলাদেশীদের অপরাধ প্রবণতা

জাহিদ হাসান

সৌদী আরবের রিয়াদ শহরে ২০০৭ সালে এক মিশরীয় নাগরিককে হত্যার অভিযোগে ১১ বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করা হয়। সৌদী আরবের বিচার বিভাগ ১১ বাংলাদেশীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাদেরকে অভিযুক্ত করে এবং অভিযুক্তদের ৮ জনকে অতি সম্প্রতি সৌদী আরবের নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্যে শিরচ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় এবং অপর ৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। সৌদী আরবের বিচার ব্যবস্থা আরবদের মধ্যযুগীয় রীতিনীতি ও ইসলামী শরীয়া আইন দ্বারাই মূলত: নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত। ইসলামী শরীয়া আইন অনুযায়ী খুনের বদলে খুন অর্থাৎ খুন করার শাস্তিও মৃত্যুদন্ড (কিসাস)। সৌদী আরব মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া এখনও সেই মধ্যযুগীয় (বর্বর) এবং তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও প্রথা অনুসরণ করে জনসমক্ষে প্রকাশ্যে শিরচ্ছেদের মাধ্যমে কার্যকর করে। সুদূর অতীতে সৌদী আরবে (আরবীয়রা) মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে শিরচ্ছেদ করার পর তার বিচ্ছিন্ন মস্তককে একটা বড় থালার মধ্যে বসিয়ে বিচারক মন্ডলীর সবার সামনে নিয়ে প্রদর্শন করে রায় কার্যকর করার প্রমাণ দেওয়া হত। ইদানিং কালেও প্রকাশ্যে শিরোচ্ছেদ করার সাথে সাথে উপস্থিত জনতা (আরবীয়রা) হাত তালি দিয়ে ও আমিন আমিন বলে উল্লাস ও সমর্থন প্রকাশ করে। কিন্তু কোন কোন সময় অন্যান্য দেশের লোকেরা এ দৃশ্য দেখে অজ্ঞান হয়ে যায়। এ বিচার প্রক্রিয়া তথা রায় কার্যকর করার প্রথা আমাদের কাছে, আপরাপর বিশ্ববাসীর কাছে এবং মানবতাবাদীদের কাছে নিষ্ঠুর, বর্বর, পৈশাচিক ও মানবতাবিরোধী বলে মনে হলেও সৌদী আরব তথা আরব্য সমাজ এটাকে আল্লাহর আইন বা ইসলামী শরীয়ার বিধান (কিসাস) বলে সব সমালোচনা ও বিরোধিতার উর্ধ্বে স্থান দিয়ে এটাকে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের ইসলামী বা ধর্মীয় দায়িত্ব বলে মনে করে। স্বাধীন দেশ ও জাতি হিসেবে এটা তাদের নিজস্ব ও আভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও আধুনিক ও গণতান্ত্রিক বিশ্ব সমাজের অংশ হিসেবে আরবরাও এখন আর বর্বর ও মধ্যযুগের বিচ্ছিন্ন কোন জাতি নয়। তাই আরবদের অনেক ধর্মীয় ও ঐতিহ্যগত রীতিনীতি ও বিধান যা গণতান্ত্রিক ও আধুনিক বিশ্বের গণতন্ত্রমনা ও মানবতাবাদী সমাজের কাছে অগণতান্ত্রিক ও মানবতাবিরোধী বলে মনে হয় তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা যায়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে মাত্র কিছুদিন আগে সৌদী আরবের নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্যে ৮ বাংলাদেশীর শিরচ্ছেদ করার দৃশ্য ইন্টারনেট এর মাধ্যমে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বহু দেশে প্রদর্শিত হওয়ায় এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়েছে, নিহতদের ঘরে ঘরে মাতম আর কান্নার রোল বয়ে যাচ্ছে, একজনকে হত্যার দায়ে একসাথে ৮ জনকে হত্যা করায় সৌদী আরবের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও যথার্থতা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশীদের সাজা মওকুফ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার ও সৌদী আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সক্রিয় উদ্যোগ ও ভূমিকা নিয়েও জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।

এ নিয়ে বাংলাদেশের হাই কোর্ট থেকে একটা রুল ইস্যু হয়েছে এবং এ বিষয়ে যা বলার বা যা করার তা এখন বাংলাদেশ সরকারই করবে, বিচারাধীন বিষয় বলে এ নিয়ে আমাদের কোন মন্তব্য বা আলোচনা করার আর তেমন সুযোগ নাই।

আমরা এখন শুধু অপরাধ দমনে সৌদী আরব তথা আরব দেশ সমূহের বিচার ব্যবস্থা বা শাস্তির প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে পারি। খুন বা হত্যা করার অপরাধে আপরাধীকে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার বিধান সব দেশেই আছে, শুধু মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম, আবার অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে মৃত্যুদন্ড বা অন্যান্য শাস্তি থেকে অপরাধীকে মওকুফ বা মাফ করে দেওয়ার সুযোগও সৌদী আরবসহ বিশ্বের সব দেশেই আছে। ইসলামী শরীয়া আইন অনুযায়ী খুন করার অপরাধের শাস্তিও খুন (মৃত্যুদন্ড), সৌদী আরব তাদের মধ্যযুগীয় রীতি-নীতিকে ধারণ করে খুনের আসামীকে প্রকাশ্যে শিরচ্ছেদ করে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া এখনও বহাল রেখেছে। তাদের কাছে ইসলামী শরীয়ার আলোকে এর অন্তর্নিহিত যৌক্তিকতা হল শাস্তির ভয়াবহতা দেখে যাতে এমন আপরাধ থেকে মানুষ বিরত থাকে। এ নিয়ে আধুনিক ও তথাকথিত গণতান্ত্রিক বা মানবতাবাদী সমাজে বিতর্ক থাকলেও আইন বা শাস্তির এমন কঠোরতা ও ভয়াবহতা বহাল থাকায় সৌদী আরবসহ অন্যান্য আরব দেশে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, রাহাজানীর মত জঘন্য অপরাধের পরিমাণ অনেক কম। এ ব্যাপারে যারা নাস্তিক্যবাদের বা ধর্মনিরপেক্ষতার অনুসারী, তথাকথিত প্রগতিশীল ও মুসলমানের নামধারী হয়েও নিজেকে মুসলমান বলতে বা ভাবতে লজ্জা বোধ করে একমাত্র তারাই দ্বিমত পোষণ করে। তথাকথিত আধুনিক, গনতান্ত্রিক ও মানবতাবাদী সমাজে তথা বিশ্বে প্রতিদিন খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ অমানবিক ও মানবতাবিরোধী যে অপরাধ সংগঠিত হয় আইনের কঠোরতা ও শাস্তির ভয়াবহতার কারণে সৌদী আরবসহ আরব সমাজে এ জাতীয় অপরাধের পরিমাণ নিতান্তই কম। রাজনৈতিক দলাদলির কারণে কলহ বা হত্যাকান্ড, অপহরণ করে নিয়ে মানুষকে / শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশকে বিভৎসভাবে খন্ড খন্ড করে বস্তায় ভরে ফেলে দেওয়া, বিনা বিচারে ক্রসফায়ারে মানুষ হত্যা, পকেটমার বা চোর বা মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে সাধারণ মানুষ কর্তৃক মানুষকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে পিটিয়ে (গণপিটুনিতে) হত্যা করা, নারী / মহিলাদেরকে এসিড মেরে ঝলসে দেওয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দলাদলির কারণে সহপাঠিদের দ্বারা সহপাঠিদের খুন করা, রাম দা ,চাইনীজ কুড়াল ও অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করে এক পক্ষ আর এক পক্ষকে আক্রমণ করে রাজপথে লাশ উপহার দেওয়া, খুন করে টাকা পয়সা ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া, প্রতিদিন তথাকথিত গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবতাবাদী সমাজে এমন শত শত অমানবিক, নির্মম, নিষ্ঠুর, পাশবিক ও নৃশংস ঘটনা যেভাবে অব্যাহতভাবে ঘটছে তার ছিটেফোটাও সৌদী আরব তথা আরব দেশে ঘটেনা এবং তা একমাত্র তাদের দেশের আইন প্রয়োগে কঠোরতা ও শাস্তির ভয়াবহতার কারণে। একটা দেশ ও সে দেশের সরকারের মূল ও নৈতিক দায়িত্বই হল সমাজকে আপরাধমুক্ত রাখা বা সমাজে অপরাধের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে ও কমিয়ে রাখা এবং অমানবিক, নির্মম ও নৃশংস অপরাধের হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করে জনগণের জান-মালের হেফাজত করা বা জনগণকে নিরাপদে রাখা। এ পবিত্র ও গুরুদায়িত্ব পালন করার জন্য যদি কোন দেশ বা সে দেশের সরকার কঠোর আইন ও ভয়াবহ শাস্তির বিধান অনুসরণ করে তবে সে আইন ও শাস্তির বিধানকে যে আইনেই সংজ্ঞায়িত করা হোক না কেন জনগণের জান-মাল তথা মানবতাকে আপরাধীদের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তার বিবেচনায় যথার্থ ও উপযুক্তই বলতে হবে।

উল্লেখ্য, মানব জাতিকে অপরাধ করা থেকে বিরত রাখতে পারে বলে মনে করা হত : ১। শিক্ষা (বিবেক), ২। শাস্তির ভয় ও লোকলজ্জা (যদি কেউ দেখে ফেলে বা জেনে যায়) এবং ৩। ধর্ম। এর অর্থ হল যার মধ্যে প্রকৃত শিক্ষার আলো আছে তার বিবেক বেশী শাণিত যা তাকে কোন পাপ কাজ বা আপরাধ করা থেকে বিরত রাখে, কিন্তু এখন দেখা যায় এ অস্ত্রের ধার ভোতা হয়ে গেছে, শিক্ষিতরাই এখন বেশী পাপ কাজ ও আপরাধ করছে। আর তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষকতার জোয়ারে মানুষের জীবন থেকে ধর্মের গুরুত্ব ও প্রভাব অনেকটাই হাল্কা হয়ে গেছে, তাই নামাজ পড়ে কপালে কাল দাগ ফেলেও ঘুষ থাওয়া ও দূর্নীতি সমানে চলতে থাকে। আর লজ্জা শরমের তো কোন বালাইই নাই (ভয়তো দূরের কথা)। স্ববিরোধী ও দ্বৈত চরিত্রের মানুষই এখন চারিদিকে। একমাত্র অস্ত্র এখনও অবশিষ্ট আছে তা হচ্ছে বিচার বা শাস্তি, এও যদি তথাকথিত গণতান্ত্রিক /ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবতাবাদী মতাদর্শের আঘাতে ভোতা হয়ে যায় তবে মানুষে আর পশু/জানোয়ারে দুনিয়াতে কোন পার্থক্য থাকবেনা (যদিও বনে জঙ্গলে পশুরা মানুষের তুলনায় এখন অনেক ভদ্র ও সুশৃংখল - যা শিক্ষা, ধর্ম, চক্ষুলজ্জা বা শাস্তি দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেনা )।

আমাদের মত তথাকথিত গণতান্ত্রিক ও মানবতাবাদী বিচার ব্যবস্থায় একজন খুনের মামলার অভিযুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত আসামীও আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বা আইনের সাথে জড়িতদের প্রভাবিত করে বের হয়ে বা অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়ে যায়, আইনের সাথে জড়িতরা আইনের মার-প্যাঁচের বদৌলতে বাদীকে আসামী ও আসামীকে বাদী বানাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সৌদী আরব ও অন্যান্য আরব দেশে প্রাচীন কালে যে কাজির বিচার ছিল এবং সেখানে যেমন সাক্ষী, প্রমাণপত্র ও পারিপার্শিকতার উপর নির্ভর করে বিচার করা হত, এখনও একই ভিত্ত্বির উপর নির্ভর করেই বিচার করা হয়, তবে তাদের বিচার ব্যবস্থাও এখন অনেক আধুনিক ও যুক্তিনির্ভর হয়েছে, নিম্ন আদালত, উচ্চ আদালত, মহকুমা আদালত, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট হয়েছে, আইন পেশা অনেক উন্নত হয়েছে, হাজার হাজার আইনজীবি কর্মরত আছে, অভিজ্ঞ ও প্রবীণ আইনজীবিরা বিচারক নিযুক্ত হচ্ছে, আসামীদের আত্মপক্ষ সমর্থন করা ও আইনজীবি নিয়োগ করার বিধান ও সুযোগ রয়েছে, বিদেশীদের জন্য (রাষ্ট্রীয়ভাবে) দোভাষী নিয়োগের ব্যবস্থাও রয়েছে। এখানে অপরাধ করলে কেউ আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বের হওয়ার সুযোগ নাই বা এ ধরনের ঘটনা নাই বল্লেই চলে, টাকা খেয়ে চার্জশীট দাখিল করার মাধ্যমে বাদীকে আসামী বা আসামীকে বাদী বানানোর কোন সুযোগ ও সাহস (শাস্তির ভয়ে) এখানে কারো নাই। তবে এ কথাও সত্য রাজ পরিবারের কেউ বা পশ্চিমা বিশ্বের কোন দেশের লোকেরা যদি সৌদী আরবে বা অন্য কোন আরব দেশে কোন জঘন্য অপরাধ করে তবে তাদের বেলায় কখনো কখনো আইনের কঠোরতা শিথিল করার ঘটনা ঘটে থাকে (যদিও আইনের চোখে এবং ইসলামের দৃষ্টিতে সবাইকে সমানভাবেই বিচার করতে হবে - একই অপরাধে কাউকে কঠোর শাস্তি, কাউকে কম শাস্তি বা ক্ষমা নয়)। কিন্তু তাই বলে অন্যের অপরাধ ক্ষমা করলে অমারও বিচার করা যাবেনা এটাও যুক্তি হতে পারেনা, তাহলেত আর অপরাধের বিচারই হবেনা, ফলে সমাজে অপরাধ বাড়তেই থাকবে।

সৌদী আরব তথা আরব দেশেও মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীকে ক্ষমা করার বা দন্ড মওকুফ করার নিয়ম বা বিধান আছে, তবে আমাদের দেশের মত খুনের মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামীকেও রাজনৈতিক বিবেচনায় যেভাবে ছেড়ে দেওয়া হয় বা ক্ষমা করা হয় সেভাবে হয়না। ক্ষতিগ্রস্থের পরিবার যদি অপরাধীকে ক্ষমা করে তবে হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে বিদেশীদের বেলায় সে দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান সৌদী বাদশাহকে অনুরোধ করলেও সৌদী বাদশা তা নিজ ইচ্ছায় করতে পারেননা, বাদশার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে রক্ত পন (Blood money) দিয়ে বা অনুনয়-বিনয় করে যদি রাজী করানো যায় তবে ক্ষমা করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্থের পরিবারের সম্মতিটাই প্রধান বিবেচ্য বিষয়। এমন উদাহরণ আমাদের দেশেও আছে, কিছুদিন আগে স্বয়ং আমাদের প্রধানমন্ত্রী এক জায়গায় বক্তব্য দেওয়ার সময় জানালেন লিবিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফী একবার তাকে পবিত্র কোরানের একটা আয়াত উদ্ধৃত করে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের মাফ করে দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছিলেন, জবাবে শেখ হাসিনাও কোরানের আর একটা আয়াত উদ্ধৃত করে পিতার হত্যার বিচার করার হক সন্তানের আদায় করতে হয় বলে গাদ্দাফীকে জানিয়ে দিয়েছিলেন। এখানে দুটো বিষয়ই স্পষ্ট হয়ে গেছে : ১। ইসলামে খুনের বিচারও খুন এবং ২। ক্ষতিগ্রস্থের পরিবার ছাড়া খুনিকে কেউ মাফ করতে পারেনা (কিন্তু আমাদের দেশে পারে)।

পরিশেষে সৌদী আরবে বাংলাদেশীদের অপরাধের বিষয়ে কিছুটা আলোচনা করা প্রয়োজন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ হওয়ায় ১৯৭৬ সাল থেকে সৌদী আরব বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি আমদানী করা শুরু করে এবং ২০০৭ সাল পর্যন্ত সৌদী আরবে একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জনশক্তি বা শ্রমিকের সংখ্যাই ছিল সর্বোচ্চ। সৌদী আরবের মাটিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে মূলত স্বভাব ও বৈশিষ্ট্যগত কারণে সৌদী আরবে বাংলাদেশীদের অপরাধের ঘটনা ও কাহিনী বাড়তে শুরু করল। খুন / হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি / চুরিসহ বেআইনী ও অবৈধ কার্যকলাপ এমন এক পর্যায়ে পৌছেছে যখন সৌদী আরবে অন্য কোন দেশের লোক অপরাধ করলেও সৌদী কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ মনে করে বাংলাদেশীরাই করেছে। নোয়াখালী সমিতি, বরিশাল সমিতি, চট্টগ্রাম সমিতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমিতি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠনের নামে বিদেশের মাটিতে সহিংস রাজনীতি ও আঞ্চলিকতার বিষবাষ্প এমনভাবে ছড়িয়েছে চাঁদাবাজি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এদের মধ্যে রিয়াদ ও অন্যান্য শহরে প্রায়ই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। বাংলাদেশীয় স্টাইলে সৌদী আরবের রাস্তায় (এমনকি পুলিশের সামনে) এক দল আর এক দলকে রামদা, চাইনীজ কুড়াল, ছুরি, তরবারি নিয়ে এমনভাবে আক্রমণ করে যা ভাবতেও অবিশ্বাস্য মনে হয়। শুধু যে নিজেরা নিজেরাই মারামারি করে তাই নয়, অন্যান্য দেশের লোকজন এমনকি সৌদীদের সাথেও বাংগালীরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। নামাজের সময় সৌদী আরবে আযান দিলেই দোকান পাঠ সব বন্ধ করে মুসলমান হলে মসজিদে যেতে হয়, এজন্য সৌদী সরকারের বিশেষ বাহিনী (মোতওয়া) এলাকায় এলাকায় গাড়িতে চড়ে নামাজে যাওয়ার জন্য জনসাধারলকে আহ্বান জানাতে থাকে, বাংলাদেশীরা একবার নয় বহুবার এই বিশেষ বাহিনীর সাথেও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এমনকি রিয়াদের বাংলাদেশী ব্যবসায়ী অধ্যুষিত এলাকা বাথাহতে একবার বাংগালীরা এক সৌদী পুলিশকেও পিটিয়ে মেরে ফেলেছিল, এ ঘটনার পর সবাই মনে করেছিল সৌদী আরব থেকে সব বাংলাদেশীকে বের করে দেওয়া হবে।

এটা গেল বাংগালীদের অপরাধের এক দিক, আর এক দিক হলো অবৈধ বাংলাদেশীর সংখ্যাও সৌদী আরবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছেছে। তথাকথিত ফ্রি ভিসায় গিয়ে মূল স্পন্সর এর কাছে কাজ না করে বেআইনীভাবে অন্যত্র কাজ করা, হজ্জ / ওমরা ভিসায় এসে পালিয়ে যাওয়া, এক ভিসায় গিয়ে কিছুদিন পর বেশী বেতনের লোভে অন্য জায়গায় পালিয়ে যাওয়া, আবাসিক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রিনিউ না করে অবৈধভাবে কাজ করা। এ ধরনের অবৈধ হাজার হাজার বাংলাদেশী এখন সৌদী আরবের বিভিন্ন জেলে পড়ে আছে।

বাংলাদেশীদের আপরাধ ও অবৈধ কার্যকলাপের মাত্রা সৌদী আরবে অতি মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় সৌদী আরবে এখন সৌদীরা এবং অন্যান্য দেশের লোকেরাও বাংলাদেশীদেরকে খারাপ নজরে দেখছে, বাংগালী হলেই মনে করে ক্রিমিনাল। মূলত এসব কারণেই ২০০৭ সাল থেকে সৌদী আরব বলতে গেলে বাংলাদেশের ভিসা বন্ধই করে দিয়েছে এবং বাংগালীদের এক স্পন্সর থেকে অন্য স্পন্সরের কাছে বদলীও বন্ধ করে রেখেছে।

বাংগালীদের ছোট অপরাধকেও বড় করে দেখছে, অপরাধের জন্য শাস্তির কঠেরতাও বৃদ্ধি করেছে। অথচ আমাদের সরকার, বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জনশক্তি রপ্তানীকারকরা সৌদী আরবে বাংলাদেশীদের আপরাধ দমনে বা অপরাধমূলক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখার ব্যাপারে কোন কার্যকর ব্যবস্থাই নিচ্ছেনা, যার ফলে এক বিদেশীকে হত্যার অপরাধে আজ ৮ বাংলাদেশীর মস্তক বিচ্ছিন্ন করা হলো এবং আরো এ ধরনের বিচার সামনে অপেক্ষায় আছে, সর্বোপরি সৌদী আরবে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানীও বন্ধ হয়ে গেছে (যা ছিল বাংলাদেশের বৈদেশিক মূদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় বাজার)।

লেখক : রিয়াদ, সৌদী আরব।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/ZahidHasan
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
সিলেট থেকে এ,কে,এম জাহাং্গীর লিখেছেন, ১৬ অক্টোবর ২০১১; রাত ১০:২৪
শরিয়াহ্ আইন ও তার প্রয়োগ সম্পর্কে কারো ধৃষ্টতা প্রদর্শন উচিত নয়।তবে আইনের প্রয়োগ যদি সাধারণ মানুষের জন্য শুধু হয়,রাজপরিবার কিংবা পশ্চিমারা তার আওতার বাইরে থাকে তবে তা সমর্থন যোগ্য নয় কোনমতেই।আল্লাহর হদ্দ এর ব্যাপারে বান্দার কিছু অনুমোদনের নেই।আর বান্দার হক/দাবী শুধুমাত্র সে বান্দাই কিংবা তার নিকটতম উত্তরাধিকারগণই মাফ করতে পারেন। এখানে কোর্ট বা রাষ্ট্রপতির কোন মাফের এখতিয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশে সৌদী রাষ্ট্রদূত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়টি স্পষ্ট করেই বলেছেন।ইসলামের চেয়ে অধিক মানবাধিকার আর কে দিতে পারে ! মানব প্রকৃতির যিনি রূপকার,যিনি মানব প্রকৃতির(মানব অপরাধ প্রকৃতির) এ -টু জেড জানেন তিনি যে বিধান দিয়েছেন তার চেয়ে উত্তম বিধান আর কার হতে পারে ! 'ইন্টেলের' তৈরী প্রসেসরের সৃষ্ট কোন সমস্যার জন্য আমাদের 'এএমডি' এর কাছে যাওয়া উচিত নয় ,এবং আমরা যাইও না । প্রত্যেক জিনিসের স্রষ্টার নিকটই স্বীয় সৃষ্ট জিনিসের িকছু গোপনীয়তা বা লাগাম ধরা থাকে।সুতরাং সৃষ্টি যার আইন তার।তাই বলে বাংলাদেশে এখনই এই আইন বিচ্ছিন্ন বা বেসরকারীভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নয়, কারন তার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র এখনও তৈরী হয়নি।সৌদীআরবে আমার জানা এই ক্ষেত্র প্রস্তুত আছে। কাজেই তারা এই আইন বাস্তবায়ন করতেই পারে এবং করা অবশ্য কর্তব্য। স্মরণ করুন মহাগ্রন্থের সেই অমোঘ বাণী,"হত্যার মধ্যেই তোমাদের জীবন নিহিত আছে।"এই হত্যা আপনারা জানেন, ইসলামী শরীয়তের বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে মৃত্যদণ্ড ছাড়া আর কিছু নয়।জাত্যাভিমান ,জাতীয়তাবাদ যে কোন বিচার ব্যবস্থার জন্য কোন বিবেচ্য বিষয় নয়।
69811
riyadh থেকে noyem লিখেছেন, ১৭ অক্টোবর ২০১১; রাত ১২:৫৬
thanks brother
69840
Riyadh থেকে Abdul Aziz Mir লিখেছেন, ১৭ অক্টোবর ২০১১; সকাল ১১:২১
Thanks Mr.Zahid Hasan for presented a nice article, which are based on facts and figure. Keep writing.....

From Sonarbangladesh, dated on 01.04.2010

২০০৭ সালে এক মিশরীয় লোককে পিটিয়ে হত্যা করেছিল ১০/১২ জন বাংলাদেশীরা, তার পিছনেও ছিল বৈদ্যুতিক তার চুরি সংক্রান্ত বিবাদ। সেই থেকেই আরব সংবাদ মাধ্যমে এর প্রচার হতে থাকে, বিশেষ করে সৌদী আরব ও মিশরের পত্র পত্রিকা ও টেলিভিশন মাধ্যম।

কিছু বাংলাদেশী অন্যায় করে তা সত্যি, কিন্তু প্রচার মাধ্যম সমস্ত বাংলাদেশীদের অন্যায় ভাবে অপরাধী বলে চিহ্নিত করতে থাকে। এমনকি ২০০৮ এর প্রথম দিকে বাংলাদেশ বিরোধী ওয়েব সাইট খুলে যা তিন/চার সপ্তাহে আশি হাজার আরববাসী বাংলাদেশী বিরোধী মন্তব্য বা অপকর্মের বর্ণনা ঐ ওয়েব সাইটে আসে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে সৌদী শ্রম মন্ত্রী ঐ দেশের মজলিশে সুরা বা সংসদের অনুমতিক্রমে বাংলাদেশীদের কিছু পেশার ভিসা বন্ধ করে দেন। আসলে তারপর থেকে অঘোষিত ভাবে আর কোনো ভিসাই হচ্ছেনা।

আমাদের জাতির দুর্ভাগ্য কিছু সংখ্যক লোকের পাপের প্রাশ্চিত্ত আমরা ২০/২৫ লক্ষ লোক আজ এদের দৃষ্টিতে অপরাধী। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কোন সরকারি কর্মকর্তা সৌদী আরবে আসেনি। পত্র পত্রিকা, টেলিভিশন ও ওয়েব সাইটের এই ঢালাও সমালোচনা এক প্রকার বিনা প্রতিবাদে চলছে। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে একটি হালকা প্রতিবাদ সৌদী গেজেটে এসেছিল।
আমি নিজের বিবেকের তাড়নায় উজ্জীবিত হয়ে সৌদী গেজেট তাং ৮-২-২০০৮ এবং আরব নিউজ তাং ৯-২-০৮ এবং মি. মেজবাউদ্দিন জওহের আরব নিউজ তাং ৪.৩.০৮ প্রথম প্রতিবাদ বা আত্মরক্ষা যাই বলুন লেখা পাঠাই এবং পত্রিকা আমাদের লেখা হুবহু প্রকাশ করেছে। আমাদের এই সামান্য চেষ্টার মাধ্যমে অন্তত এই দুটো পত্রিকার মিলিয়ন পাঠককে আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দিতে পেরেছি। পর্যায়ক্রমে আমাদের পক্ষে কিছু লেখা এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরব নিউজের সুলেখক মি. তারিক এ. আল মায়েনা এক উপসম্পাদকীয় লিখেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে অগাধ ধারণা না থাকলে এমন অপূর্ব প্রতিবেদন লেখা সম্ভব নয়, যা প্রকাশিত হয় ১২.৪.০৮ তাং।

These are the few lines from my article at SONARBANGLADESH, which was published on 01.04.2010.
I am going to write the real fact about the unfortunate beheaded 8 persons in Saudi Arabia very soon. Our some media & some intellectuals are given some short of negative information about this misfortune accident. We have to accept the reality, not to be emotional. Now some printing media became very friendly for expatriates, but actuality are some thing else, like when we some expatriates tried to write the problems of expats in some Bengali papers in Bangladesh to get the kind attention of our goverment, we always ignored or rejected. Please do not try to show too sympathy for us, which will be worst in other way around. We must respect the law of the host country.
69873
সৌদিআরব থেকে মোহাম্মদ আলী লিখেছেন, ১৮ অক্টোবর ২০১১; সকাল ১১:০৬
I am the one waiting for fair Justice from Saudi "HUKUMAH". One day I will let know all the world including so called 'Human rights (Specially Bangladeshi )Organizations.

We can't let destroy our images or Saudi law and order for some of Bangladeshi Robber/Bandits.

It is more then enough.....! During day the criminals will enter family house and will lots all money and assets.

And Saudi Arabian "Shariah Hukumah" will not take action against those.....!
It is impossible....!!
Off course one day all will know in Bangladesh too.
We should do so....!!!
We got information that they are 3/4 groups of Burglar/Bandit. And targeted only families "HOT CAKE" Gold/Jowellary/Cash.
69953
Jeddah থেকে Abdul Kader লিখেছেন, ১৮ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ০২:০৪
Comm:-3
Dear Mir bhai,
I am a regular reader of your articles. I became
a reader, because your brave writing at Saudi Gazette and Arab News about the expatriates Bangladeshi, which were really affective writing for those days, when we were almost
guardianless in a foreign country.
On behalf of Bangladeshi you play a wonderful,excellent and
charismatic role, which must be play by our embassy or government, but you did first that job, and we some follow you as a commentators or writers.
I salute Sonarbangladesh to give us a space to express our oppinion. Once again I salute Mir bhai as well to show us the road.
We are always waiting some things from you for the welfare of the Bangladeshi communities in this Holy land,Saudi Arabia. We always with you Inshallah, Allah will solve our suffering brothers..
I thak Mr. Zahid Hasan bhai as well for his contribution for our communities.
69964
UK থেকে mansoor লিখেছেন, ১৮ অক্টোবর ২০১১; বিকেল ০৪:৪৯
Many readers of news paper might read a recent comment delivered from Dr.Mizanur Rahman Khan, chairman , Humanrights commission of Bangladesh in meeting . He said that " after the slain of 8 Bangladeshi in Saudi Arabia we are relaxed to resolve that from now on Saudi has no right to protest if War crime tribunal give the verdict of hang by neck till death to those now under going trial ". We'r surprised to see so irrevalent comment has been given by our chairman of human-right commision linking our war crime trial with doemstic criminal law of Saudi wich can jeoperadise our relation between two brethren Muslim nation ! We don't know , nobody knows when or in any time Saudi Govt has protested any verdict of court for killing any criminal in any time or any day ? Govt has hanged 5 killers of Mujib but we didn't see any protest from Saudi Govt ! So why he express his doubtness on Saudi Arab lest they might protest our war crime tribunal's order for killing arrested persons on this case ? Do Dr.Mizan knows in advance what punishment is coming for those under trial so he is relaxed and expressed in this way : " we are satisfied on Saudi on thinking that on henceforth they will not be able protest our tribunal order hang till death to war criminal " !!! Every reader should protest his comment and demand an analysis.
69973
আবুধাবী, ইউ.এ.ই. থেকে মোহাম্মদ লোকমান লিখেছেন, ২০ অক্টোবর ২০১১; সকাল ০৮:২৯
প্রিয় জাহিদ হাসান ভাই, সালাম নেবেন।
আপনার সময়োপযোগী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লেখাটির জন্য অনেক ধন্যবাদ।

সৌদি আরবে শিরচ্ছেদ হওয়া আট বাংলাদেশীর জন্য গোটা জাতি মর্মাহত। এসব হতভাগ্যদের মধ্যে কে কোন্ রাজনৈতি দলের সমর্থক অথবা কোন্ ধর্মীয় উপ-দলের সমর্থক তা খতিয়ে দেখার কোনই গরজ অনুভব করেনি জাতি। আবার আমাদের জাতির একটি অংশ সামান্য রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে ২৮ অক্টোবর সংঘটিত করে সাপের মতো পিটিয়ে মানুষ মারে, মানবতা বিরোধী অপরাধের ছদ্মাবরণে দেশের আলেম ওলামাদেরকে মারার চক্রান্ত করে।

আমরা একদিকে আইন হাতে তুলে নিয়ে মানুষ মারি আবার অন্যদেশের আইনে কেউ শাস্তি পেলে তাকে বর্বর বলে চেল্লাপাল্লা করি। এসব বৈপরিত্য দূর হওয়া খুবই জরুরী।
70096
কুয়ালালুমপুর থেকে কাউয়ান লিখেছেন, ২২ অক্টোবর ২০১১; রাত ০৪:২৬
সৌদি আরবে যে আট বাংলাদেশীর মৃত্যু দন্ড কার্যকর করা হয়েছে তা নিয়ে আমরা কেন এত আলোচনা করছি তা বুঝতে পারছি না। যেখানে তারা সবাই এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বলে আদালতে স্বীকারুক্তি দিয়েছে তাতে প্রমানিত হলো তারা দোষী। সৌদি সরকার তাদের আইন অনুযায়ী শাস্থি প্রদান করেছে। এখানে মায়া কান্নার কি হলো। অপরাধ করলে স্বাস্থি পেতেই হবে, এটাই নিয়ম (একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া)। আর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার সবচেয়ে কম কষ্টের প্রক্রিয়া হলো শিরোচ্ছেদ। জন সম্মুখে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করলে তার প্রভাব হয় সবার মধ্যে। আপতত দৃস্টিতে এটাকে বর্বর মনে হলেও সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিই হলো এটি। তাই দেখা যায় সৌদি সমাজে তুলনামূলক অনেক কম অপরাধ সংঘটিত হয়।
70230
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy