রবিবার, ২৩ মাঘ ১৪১৯; ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২; রাত ০৮:৪৫ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

এক মিনিটে এক ভোটঃ ১৭৭৭২৭৭ বুথের প্রতিটিতে

আমার দেশ

নির্বাচন কমিশনের দেয়া হিসাব অনুযায়ী এবার নির্বাচনে সারাদেশে যে পরিমাণ ভোট পড়েছে, তাতে সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু থেকে বিকাল ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত সারাদেশের ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রতিটি বুথে প্রতি মিনিটেই প্রায় একটি করে ভোট পড়েছে। যেসব কেন্দ্রের দিনের আধাবেলা বাকি থাকতেই ভোট গ্রহণ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে গড়ে মিনিটে ৪/৫টি ভোট পড়েছে, যা অতীতে বাংলাদেশেই কেবল নয়, বিশ্বের অন্য কোনো দেশেও নজির আছে বলে জানা নেই। অনেকে বলেছেন, এই রেকর্ড গিনেস বুকে স্হান পেতে পারে। যদিও এই রেকর্ডের যথার্থতা ও বাস্তবতা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। গতকালই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে বাস্তবে এটা সম্ভব কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বলেন, আপনারা মালিকের নানা এজেন্ডা নিয়ে এসে এসব প্রশ্ন করেন। সংবাদ সম্মেলন শেষ করার আগে উপস্হিত কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা তো ৪টার পর দরকার হলে ১২ ঘণ্টাও ভোট নিয়েছি। কিন্তু মিডিয়ার সবাই জানেন এবং দেখেছেন কোথাও এ রকম ঘটনা ঘটেনি; বরং নির্বাচনের দিন এমনকি গতকালও সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, ‘এবারে ভোটারদের সুবিধার জন্য ভোটকক্ষ ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭১৮-তে উন্নীত করা হয়। আমি নিজেই কয়েকটি সেন্টারে গিয়েছি। দুপরের দিকে সেন্টারগুলো ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। বেলা ২টা আড়াইটার দিকে অনেক কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষ হয়ে যায়।’

নির্বাচনের দিন বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, এমনকি পরদিন পত্রিকার খবরে দেখা গেছে, বহু কেন্দ্রে অর্ধেক ভোট গ্রহণের পর দুপুরের পর থেকে কেন্দ্র ফাঁকা ছিল। এ অবস্হায় গড়ে সারাদেশে ৮৭.১৭ ভাগ ভোট পড়া এবং ৮৮টি কেন্দ্রে ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ ভোট পড়ছে, সেখানে প্রতি মিনিটে প্রতিটি বুথে মিনিটে ৪/৫টি করে ভোট পড়েছে, যা কল্পনাকেও হার মানায়। আর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত যে জবাব দিয়েছেন, সেটা সাধারণভাবে কার্যকর নয়। বরং হাতেগোনা কিছু কেন্দ্রে বিকাল ৪টার পরও যারা কেন্দ্রের সীমানার মধ্যে ছিলেন তাদের ভোট নেয়া হয়েছে। এতে কোথাও আধা ঘণ্টার বেশি সময়ের প্রয়োজন পড়েনি। এ অবস্হায় নির্বাচন কমিশনেরই উচিত হবে অস্বাভাবিক এই ভোটের হারের যৌক্তিকতা জাতির সমানে তুলে ধরা। নতুবা সত্যিকার অর্থেই ব্যাপক ভোটারের উপস্হিতির নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে।

সিইসি গতকাল মোট বুথের সংখ্যা ভিন্ন বললেও নির্বাচন কমিশনের দেয়া তালিকা অনুযায়ী এবার মোট ভোটকক্ষ বা বুথের সংখ্যা দেখানো হয়েছে, ১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৭টি। মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৩৫ হাজার ২৬৩টি। মোট ভোটার ছিলেন ৮ কোটি ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৪০৬ জন। ভোট পড়েছে ৭ কোটি ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৪৪৯ জনের। শতকরা হিসাবে ৮৭ দশমিক ১৭ ভাগ। কমিশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী এই হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গড়ে প্রতি মিনিটে প্রতি কেন্দ্রে সাড়ে ৫টি এবং প্রতি বুথে ১ মিনিট ২০ সেকেন্ডে একটি করে ভোট পড়েছে। তবে সর্বোচ্চ ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশের ওপর যেসব আসনে ভোট পড়েছে, সে রকম ৮৮টি আসনে প্রতি ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডে গড়ে একটি ভোট পড়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ৮৮ কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিল ২ কোটি ৪১ লাখ ২২ হাজার ১৪ জন। ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৪৭টি। মোট কেন্দ্র ছিল ১০ হাজার ৩২৫টি। মোট বুথ ছিল ৫১ হাজার ৬২৫টি। প্রতি বুথে ৮ ঘণ্টায় গড়ে ৪৩৩ দশমিক ৩৭টি ভোট পড়েছে। এ হিসাবে প্রতি ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডে একটি করে ভোট পড়েছে।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ভোট প্রদানের অবিশ্বাস্য হার প্রতি বুথে প্রতি মিনিটে গড়ে একটি করে ভোট প্রদান সম্ভব কিনা জানাতে চাওয়া হলে-সিইসি প্রশ্নকারী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, উন্মুক্ত মন নিয়ে আসুন। ফিক্সড চিন্তা মাথা থেকে ফেলে দিন। পত্রিকার উদ্দেশ্য ও মালিকের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য প্রশ্ন না করাই ভালো। সারা দুনিয়ার মানুষ এক রকম বলছে আর অন্যরা অন্যরকম বললে সেটা হবে না। সবারই মানসিকতা উদার হওয়া উচিত। দলীয় ভুত কাজের মধ্যে এনে বিঘ্ন সৃষ্টি না করাই ভালো। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনও বলেন, ‘ডোন্ট ক্রিয়েট কন্ট্রোভার্সি।’ পরে তিনি ভিন্ন ব্যাখ্যাও দেন। (সূত্র,আমার দেশ ০২/০১/২০০৯)
http://www.sonarbangladesh.com/articles/amardesh
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy