বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; দুপুর ০১:১১ (ঢাকা সময়)
ভিশন ২০৩০: উন্নত মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের জন্য নিজের পাকা বাড়ী, নিজের গাড়ী এবং প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য সম্মানজনক চাকুরী।

পুরনো কলাম

 
আমাদের মাঝে পূর্ণ চাঁদের উদয় (৩১/১২/২০১১)
ঘড়ি (২১/০৮/২০১০)
একগুচ্ছ পুতুল ও একদল চোখ-কান বাঁধা মানুষ আমাদের বিদায় জানিয়েছিল (১৩/০২/২০১০)
প্রস্থান রটনা (কবিতা) (০১/১২/২০০৯)
বলতে দাও (কবিতা) (১৬/১০/২০০৯)
দু'খণ্ড মমতার মেঘ (কবিতা) (১৬/০৯/২০০৯)
বৃষ্টি পড়ে (কবিতা) (১৫/০৫/২০০৯)
ক্ষমতা-দায়িত্ব-প্রার্থীতা ইত্যাদি সম্পর্কে সচেতনতা কেন প্রয়োজন (০১/১২/২০০৮)
কি করে বদলাবে সভ্যতা? (কবিতা) (১৫/১১/২০০৮)
পাখার বাতাসে শুকাবো রক্তলেখা (কবিতা) (০১/১১/২০০৮)
ঈদ এবং প্রবাসীর 'আনন্দ'! (৩০/০৯/২০০৮)
দুই দিগন্ত (কবিতা) (০১/০৮/২০০৮)
আগের লেখা
238


আমাদের মাঝে পূর্ণ চাঁদের উদয়

ফজলে এলাহি মুজাহিদ

=পূর্ণিমার আলোয় আলোকিত হৃদয়=

তলা'আল বাদরু 'আলাইনা - মিন সানিয়াতিল অদা'আ
অজাবাশ্ শুক্রু 'আলাইনা - মা-দা'আ লিল্লাহি দা'আ
আইয়ু্যহাল মাব'উসু ফি-না - জি'তা বিলআমরিল্ মোতা-'আ
জি'তা শার্রাফ্তাল মাদিনাহ্ - মার্হাবান্ ইয়া খাইরা দা'আ।
অর্থাৎ,
-আমাদের মাঝে পূর্ণিমার চন্দ্র উদিত হয়েছে সানিয়াতুল অদা'আ (মদীনার দক্ষিণে কুবার উপকন্ঠে অবস্থিত একটি জায়গার নাম) হতে।
-আমাদের শুকরিয়া আদায় করা উচিত ততক্ষণ পর্যন্ত, আহ্বানকারী যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর পথে আহ্বান করতে থাকে।
-হে আমাদের মধ্যে প্রেরিত (মহাপুরুষ)! আপনি এমন বিষয় নিয়ে এসেছেন, যার আনুগত্য করা হয়।
- আপনি আগমন করে মদীনাকে সম্মানিত করেছেন, হে উত্তম দা'ঈ! (আল্লাহর পথে আহ্বানকারী) আপনাকে শুভেচ্ছা-স্বাগতম।

আহা! সেদিনের শিশুদের মাঝে যদি আমিও হতাম। তবে তো প্রিয় রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেতাম, শুনতে পেতাম তার কন্ঠের সুমধুর তিলাওয়াত, জীবন চলার পথ-নির্দেশ, দেখতে পেতাম আল্লাহর কালাম আল-কুরআনের জীবন্ত রূপ, সঙ্গ পেতাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষের। মহানের রব (প্রতিপালক)-এর প্রশংসায় আমার কন্ঠ উৎসর্গ, চৌদ্দ শতক পরের আমিও আজ তাঁর প্রিয় বন্ধু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্নেহের পরশ লাভে ধন্য, তিনি (আল্লাহ্) আমায় দয়া করেছেন, আমার দো'আ কবূল করেছেন, আমি রাসূলের প্রতিবেশী, মদীনার বাসিন্দা, আলহামদুলিল্লাহ্।

স্বদেশের মাটি পেরিয়ে বিশ্ব দেখবো, এ আকাংখা অনেক ছোট্টবেলা থেকেই। সেদিনের ভাবনাগুলো ঘুরপাক খেত দু'টি ভিন্নধর্মী স্রোতে। 'যা কিছু দেখি, তাতেই সেরা হবো' -ভাবনার এ ধারা বেয়েই সেরা দাবাড়ু, গায়ক, অভিনেতা, খেলোয়াড় আরো আরো, প্রচেষ্টা কিছু থাকলেও সেসবের কিছুতেই আমার মন স্থায়িত্ব পায়নি এবং এ পথেই বিশ্ব দেখার প্রথম মন্যিল ভেবে রেখেছিলাম আমেরিকা। অন্য ধারায় বইতো দরবেশ দাদুর দরবেশ নাতি, প্রিয় শিক্ষকের (মক্তবের হুযুর) যোগ্য ছাত্র, যোগ্য আলেমের যোগ্য উত্তরসূরী, ভাবনা ভাবনাই রয়ে গেল, জীবন-জগৎ আমাকে এসবের কিছুই দিল না। ভাবনার জাল বুনতে বুনতেই প্রবাসী হলাম সৌদী আরবের বেদুঈন পল্লীতে। লোহিত সাগরের পানি ছুঁই ছুঁই করে গড়ে উঠা ছোট্ট মহকুমা উমলেজ, প্রথম সাগর দেখা, প্রথম মরুর পরশ, পৃথিবী দেখার প্রথম মন্যিল আমার।

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নবী এটুকু ছাড়া তেমন পরিচিত ছিলাম না, আমার প্রথম পরিচয় প্রিয় নবীর সাথে, যখন আমি উমলেজের প্রবাসীদের একজন। 'সীরাত ইবনে হিশাম' এই জীবনী গ্রন্থখানিই আমাকে প্রথম পরিচয় করিয়ে দেয় একজন মানুষের সাথে, একজন সুহৃদের সাথে, একজন সুবিচারক শাসকের সাথে, একজন সুবিজ্ঞ সেনাপতির সাথে, একজন রাসূলের সাথে, একজন পরম বন্ধুর সাথে। লাইনের পর লাইন পেরিয়ে দুচোখের দৃষ্টি যতই এগিয়ে যাচ্ছে, মনের পৃথিবী যেন ততই বিশাল থেকে বিশালতায় হারিয়ে যাচ্ছে। একজন মানুষের দেহ এবং আত্মা পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেলেও তিনি রেখে যান তার মমতা, স্নেহ-ভালবাসা, শ্রম, জীবনের সবটুকু অর্জন, গোস্সা-কাঠিন্যতা-প্রবলতা, চরিত্র-কর্মের মাধুর্য ইত্যাদি ইত্যাদি। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা পড়ছে, সাথে সাথে রচিত হচ্ছে আমার ক্ষুদ্র হৃদয়ে প্রিয় রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালবাসার ভিত। মনে পড়ে যখন শেষের পৃষ্ঠাগুলো পড়ছিলাম, পৃথিবীতে আসার পর থেকে এতটা ব্যথিত হয়ে কখনো কাঁদিনি, যতটা সেদিন কেঁদেছিলাম। যেন অন্ধকারে ছেয়ে গেল আমার সম্পূর্ণ পৃথিবী . . .। যেন ভাবতে পারছিলাম না মদীনায় এলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাত পাবো না। বেদুঈন পল্লীর মসজিদে সালাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, হঠাৎ সেকেলে পরিবেশ দেখে সবকিছু গুলিয়ে ফেল্লাম, চৌদ্দশত বছরকে যেন চৌদ্দ বছর মনে হতে লাগল এবং কিভাবে কিভাবে যেন হিসাব-নিকাশ করে মনের মধ্যে এর সত্যতা দৃঢ় হতে শুরু করল। সালাতান্তে তো প্রায় এক বেদুঈনকে জিজ্ঞেসই করে ফেলেছিলাম আর কি যে, 'তোমরা কি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছিলে?' -কি কারণে যেন আবার সম্বিত ফিরে পেলাম। প্রিয় মানুষের প্রতি মানব-হৃদয়ের চিরন্তন আকুলতা বুঝি এমনি। (চলবে)

=প্রথম সফর=

অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম, যত প্রতিবন্ধকতাই থাকুক, যত অর্থ সংকটই থাকুক, মদীনা যাবই ইনশাআল্লাহ্। প্রবাসী মাত্রই প্রথম দিনগুলো হয় কষ্টের, সংগ্রামের, তারপর ধীরে ধীরে আসে প্রতিষ্ঠার দিন। নতুন দিনগুলোতে মরুর নতুন অতিথি; তথাপি সংকল্পে ছিলাম অটল আর নির্ভরতার সবটুকুই ছিল প্রতিপালকে। সত্যিই, যে তাঁর উপর নির্ভর করে, তিনি তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। শুরু হলো আমার যাত্রা; ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম রাষ্ট্রের প্রতি (একদার)। ভাবাবেগের প্রাবল্যে মনে হতে লাগলো, মরুর বালির প্রতিটি কণা, খেজুর বাগানের প্রতিটি গাছ, আঁকা-বাঁকা পথের দু'ধারের প্রতিটি পাহাড়-পর্বত আমায় জানাচ্ছে 'আহ্লান ওয়াসাহ্লান' স্বাগতম-শুছেচ্ছা। এছাড়াও আমার অবস্থানস্থল উমলেজের বাইরে এটাই আমার প্রথম পদক্ষেপ।

অভিভূত! ঐ যে দু'চোখের সীমানায় ভেসে উঠলো মিনারগুলো। আমার প্রিয় দর্শন। মদীনার শহর-প্রান্ত ধরে বাসটি যতই এগিয়ে যাচ্ছে, ততই আমার হৃদয়জুড়ে ঘনীভূত হচ্ছিল আবেগ, পৃথিবীর সমস্ত ভূমিতলের মাঝে আমার প্রিয় ভূমিতে আমি আজ প্রথম আসলাম, প্রথম দেখলাম। কতই না দেখেছি ছবিতে, আজ প্রথম দেখে যেন মনে হলো ছবিতে যাকিছু দেখেছি, সব জীবন্ত হয়ে এ মেহ্মানকে জানাচ্ছে সাদর অভিনন্দন। "আল্লাহু আকবার! আল্লাহু আকবার!!" ধ্বনিত হলো মহানের মহানত্ব, মাগরিবের সালাতের আহ্বান। কিছু দূরে, বাসষ্ট্যান্ডের পাশের একটা মসজিদেই তা আদায় করলাম। সালাতান্তে ধীরে-সুস্থে চলতে লাগলাম পৃথিবীর দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ স্থানের দিকে।

আজ আমার অন্তর প্রশান্ত। খুব নয়, অনেকটা কাছাকাছি থেকে মিনারগুলোর মাঝখান যেন কাঁচের মনে হলো, আসলে আলোর প্রভাবেই এমন দেখালো। গলিপথ ধরে চলতে গিয়ে মনে পড়লো বার বার একটি গানের কলি- 'আমি যদি আরব হতাম, মদীনার ও পথ, যে পথে মোর চলে গেছেন নূর-নাবী হযরত'। এই তো সেই পথ, যে পথে কতই না চলেছেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম, চলেছেন তার প্রিয় সাহাবীগণ। কত ভালবাসতেন তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে, তার কথার জবাবে তারা বলতেনঃ 'আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক', যাকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য তারা ঢাল হিসাবে ব্যবহার করতেন নিজ নিজ পিঠ, তার প্রতিটি কথা শোনার জন্য তারা থাকতেন উদগ্রীব, তার সুন্দর মুখখানা আর মিষ্টি মুচকি হাসি দেখে তারা ভুলে যেতেন নিজেদের সমস্ত কষ্টকে। আমি সেই পথে চলছি, যেন স্বপ্নের ভেতর, সত্যিই কি আমি চলছি সেই পথে, সে--ই মসজিদে? যা ছিল একদা ক্ষুদ্র মদীনা থেকে শুরু করে অর্ধ পৃথিবীর সংসদ, বিচারালয়। জীবনের প্রিয় বাসনার বাস্তবতা টের পেয়ে আমি সিজদায় লুটিয়ে পড়লাম এশার সালাতে। এই প্রথম সালাম জানালাম তাকে, যিনি একদা এসেছিলেন এই পৃথিবীতে সমস্ত সৃষ্টির জন্য রহমত স্বরূপ।

'আস্সালাতু আস্সালামু 'আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আস্সালাতু আস্সালামু 'আলাইকা ইয়া হাবীবাল্লাহ্, আস্সালাতু আস্সালামু 'আলাইকা ইয়া সাইয়্যেদুল মুরসালীন, আস্সালাতু আস্সালামু 'আলাইকা ইয়া রাহমাতুলি্লল 'আলামীন'- সালাত এবং সালাম হে আল্লাহর রাসূল, হে আল্লাহর প্রিয় বন্ধু, হে নবী-রাসূলগণের নেতা, হে বিশ্ব-জাহানের রহমত! সালাম জানালাম তার প্রিয় বন্ধু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে; যিনি ছিলেন তার সুখ-দুঃখে, বিপদে আপদে ছায়ার মত সাথী, হিজরতের সঙ্গী। আরো সালাম জানালাম তার পাশে শায়িত সেই উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে; যিনি একদা নাঙ্গা তরবারী হাতে নিয়ে ছুটে এসেছিলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করতে, আর সেই উমারই রাসূলের মৃতু্যর পর প্রিয় মানুষটিকে হারানোর ব্যাথা এতই অসহনীয়ভাবে অনুভব করেছিলেন যে, তখনো নাঙ্গা তরবারী নিয়ে বলেছিলেন, 'যে বলবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা গেছেন, তার রক্ষে নেই'! অবশেষে ধৈর্যের প্রতীক আবু বকর তাকে শান্ত করেন আল্লাহর বাণী শুনিয়েঃ "মুহাম্মদ একজন রাসুল মাত্র; তার আগে বহু রাসূল গত হয়েছে। কাজেই যদি তিনি মারা যান বা নিহত হন তবে কি তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে? এবং কেউ পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলে সে কখনো আল্লাহর ক্ষতি করবে না; বরং আল্লাহ্ শীঘ্রই কৃতজ্ঞদেরকে পুরস্কৃত করবেন।" [সূরা আলে-ইমরানঃ ১৪৪]

কি পরম বন্ধু ছিলেন তারা, দুনিয়াতেও সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম-লড়াইয়ে ছিলেন পাশাপাশি আর আখেরাতের প্রথম মঞ্জিল 'কবর', এখানেও রয়েছেন পাশাপাশি। হে আল্লাহ্! আমাকে আপনার ও আপনার প্রিয় বন্ধুর বন্ধুত্বে ধন্য করুন এবং সন্তুষ্ট রাখুন, আমাদেরকেও। আমীন! (চলবে)

[আমার প্রথম সফর ছিল ভাবাবেগে ভরপুর, তাই পরবর্তীতে যখন মদীনার বাসিন্দা হয়ে মদীনায় প্রর্ত্যাবর্তন করবো, মানে লিখবো, তখন তথ্যভিত্তিক লেখার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ্।]

=দু'টি প্রহর এবং একটি ভোর=

প্রিয়জন, তাও যদি হয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ, জগৎসমূহের জন্য রহমত স্বরূপ একজন, বুঝতেই পারছেন মনের আনন্দ তখন কোন পর্যায়ের, তিনি আজ দুনিয়াতে নেই, তথাপি প্রিয়জনের প্রতি এই ভালবাসা মানব মনের চিরন্তন বহিঃপ্রকাশ- তার কত কিছুই তো তিনি ছেড়ে চলে গেছেন আমাদের জন্য, উত্তরাধিকার। সেসবের প্রত্যেকটিই অনুভবের অলিন্দে সৃষ্টি করে আমাদের প্রতি তার অগাধ ভালবাসার প্রতিকৃতি, মনের যখন অবস্থা এই, তখন কখনো কখনো ভুলে যাই 'তিনি নেই'।

'হায়! আমি যদি পৃথিবীতে আসতে পারতাম তার জীবদ্দশায়' -ভাবনার এমন ধারার পাশাপাশি আরেকটি ভাবনাও উঁকি দেয় মনের আবেগী পর্দাখানি কিঞ্চিত সরিয়ে- সেদিনের 'আমি' যদি হতাম আবু জাহ্ল, আবু লাহাব আর উতবার সাথী, যদি হতাম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধবাদী! তখনি দয়াময় আল্লাহর প্রতি সিজদাবনত মন বলে উঠেঃ ১৪০০ বছর পরের আমাকে তিনি পরিচয় করিয়েছেন তাঁর প্রিয় মানুষটির সাথে, আমার অন্তরে সৃষ্টি করে দিয়েছেন তার প্রতি অঢেল ভালবাসা, আমার চেতনাকে তার আদর্শের অনুসরণে সর্বদা সতর্ক-আত্মসমালোচক (যদিও দূর্বল মানুষ বলে তার পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করতে পারছি না) বানিয়ে কত বড় অনুগ্রহ করেছেন তিনি আমার প্রতি; আলহামদুলিল্লাহ্।

আমার নাম রেখেছিলেন নানাজান (তার কবরজীবনের প্রশান্তি আমার দো'আর একটি অংশ) 'ফজলে এলাহি', যার অর্থ দাঁড়ায় 'মা'বূদের অনুগ্রহ', (উপরে যার উল্লেখ করলাম) এরচেয়ে বড় অনুগ্রহ তো আমি আমার জীবনের দ্বিতীয়টি খুঁজে পাই না; তবে আরেকটি অনুগ্রহের আকুল প্রত্যাশী আমি আমার প্রতিপালকে, সে না হয় অন্য কখনো বলা যাবে আর যদি বলে যাওয়ার সুযোগ না পাই তো আমার প্রস্থানই তার জানান, ইনশাআল্লাহ্।

তো এই প্রদ মানসিকতার মাঝে কাটালাম মদীনায় আমার প্রথম রাতের দু'টি প্রহর। যে অজানা প্রায় ঠিকানাটি নিয়ে এসেছিলাম, তার খোঁজে খোঁজে এখন মধ্যরাত। এজন থেকে সেজন, এ দোকান থেকে ও দোকান, এ রাস্তা ও রাস্তা করে যে মানুষটির পর্যন্ত পৌঁছুলাম, তার সাথে আমার সাক্ষাত এবং পরিচয় জীবনে এই প্রথম। কিন্তু একজন অজানা-অচেনাকে এভাবে সাদরে-আদরে বরণ করা দেখে আমি সত্যিই আভিভূত হলাম আর যেন গিলে গিলে খাচ্ছিলাম ইসলামের সৌন্দর্য্য-সৌহার্দ সুধা। যেন রূহের জগতে ছিল আমাদের পরম বন্ধুত্ব, পৃথিবীতে আমাদের শরীরের সাক্ষাত হয়নি তবু যেন অন্তরের সাক্ষাত বহুদিনের পুরোনো।

আদর্শ মানুষের অন্তরেই প্রথম বাসা বাঁধে আর সমআদর্শের অন্তরগুলোকে বুঝি দেহের অজান্তেই খুঁজে-পেতে গড়ে তোলে বন্ধুত্বের 'শীসা ঢালা প্রাচীর', নইলে আমার অন্তর কেন কাঁদে ফিলিস্তিনের ভাইদের রক্ত-ঝরা ব্যাথায়, ইরাক, আফগানিস্তান, কাশ্মীর কেন আমার অন্তরের অবাধ্য ক্ষত; অথচ তাদের প্রতিটি অন্তর আর অন্তরবাহক দেহের সন্ধান পাওয়া আমার ক্ষুদ্র জীবন-কালে অসম্ভব, অচিন্তনীয়।

ভোরের প্রথম আঁধারে মুয়াজ্জিনের কন্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আরেকটি কণ্ঠের আহ্বান কানে এল; আমার মেজবান ভাইয়ের। ফজরের পর ঘরে ফেরা পথে পরিচিত হলাম মদীনায় অবস্থারত আরো ক'জন আলেম ও আদর্শ-পথের সুদৃঢ় পথচারীর সাথে। সকলের কাছ থেকেই সম-আচরণে আমি সত্যিই মুগ্ধ; মূলতঃ আমার পরিপূর্ণরূপে ইসলাম গ্রহণের [অর্থাৎ, "হে ঈমানদারগণ, তোমরা ইসলামে প্রবেশ কর পুরোপুরিভাবে...(প্রথমাংশ)" (সূরা আল-বাকারাহঃ ২০৮)] পর ইসলামের ভ্রাতৃত্ববোধের সাক্ষাত এই প্রথম বাস্তবতায় দেখলাম। এ ভ্রাতৃত্ববোধকে মানবতাবোধেরও অনেক উর্ধ্বে দেখতে পেলাম। প্রায় অর্ধরাত পর্যন্ত খোঁজা-খুঁজির পরিশ্রমের পর রাতের কয়েক ঘন্টা ঘুম ছিল নিতান্তই অপর্যাপ্ত, তাই আরো পুষিয়ে নেয়ার আশায় আবার বিছানার আশ্রয় নিলাম। হঠাৎ,
-ঘুমিয়ে পড়েছেন?
-না ভাই, জেগে আছি এখনো, আসুন।
-আপনার সাথে তো এখনো পরিচয়ই হলো না, আলাপ করতে চাই।
-অবশ্যই, বসুন।

শুরুটা ছিল এভাবেই অনেকটা। তারপর পরিচয়, জানা-শোনা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত, পারিবারিক সব খোঁজ-খবরই নিলেন এবং দিলেন। বলে কয়েও যে বন্ধুত্ব পাতানো যায়, এটাই ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা। অনেক কথা হলো, কিন্তু সেদিনের কথাগুলো থেকে একটি ব্যাপারই আমার আজীবনের সঞ্চয় হয়ে থাকলো। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, তার ফলাফল এবং আমাদের শিক্ষিতদের হতাশায় বিচলিত আমি ছিলাম মোটামুটি শিক্ষার প্রতি বিতৃষ্ণ, অথচ সেদিনের সেই মেজবানের খুব সহজ-সরল কিছু যুক্তি আমার ধারণার অস্বচ্ছ ভিত আমূল পাল্টে দিল, শিক্ষা অর্জনে এবং দানে তার এই পরামর্শগুলো আমার অনেক মূল্যবান পাথেয় হয়ে আছে।

চিন্তার এই পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে অনেকেই মুক্তচিন্তার কথা তুলতে পারেন অর্থাৎ, বলতে পারেন যে, 'ইসলামের মোহেই তো ঢাকা আপনার চিন্তা-চেতনা, তাই একটু মুক্তচিন্তা খাটিয়েই দেখুন না'। কিন্তু মুক্তচিন্তার অধিকারী (?) যারা, তাদের কাছ থেকে যখন এর সংজ্ঞা শুনি, তখনি মনে হয় যেন এটা মুক্তচিন্তার সংজ্ঞা নয়; বরং চিন্তার জগা-খিচুরী অথবা চিন্তার কোন একটা ধারার প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ। আমি মনে করি- চিন্তার লাগামহীনতাই মুক্তচিন্তা নয়, যদি কেউ সেটাই প্রমাণ করতে চায়, তাহলে বলবো আমাদের শিশুরা এবং উম্মাদরাই সবচেয়ে বড় মুক্তচিন্তাবিদ কারণ, তাদের চিন্তাতেই কোন লাগাম থাকে না, যাচ্ছে-তাই চিন্তা করে বসে আর সব কাণ্ড ঘটিয়ে বসে বিবেচনায় অপরিপক্ক শিশু এবং বিভ্রান্ত-বিবেচক উম্মাদরা; বরং বলবো- 'সুস্থ-গঠনমূলক-পরিচ্ছন্ন চিন্তার স্বাধীনতাই হচ্ছে মুক্তচিন্তা'।

মূলতঃ মুক্তচিন্তার সঠিক সংজ্ঞার সাথে ইসলামের কোন বিরোধ নেই কারণ, বিশ্বাসী তার বিশ্বাসের নীতিমালার আওতার মধ্যেই এর চর্চা করবে, এর বাইরে গেলে সে আর বিশ্বাসী রইল না এবং অবিশ্বাসী তার অবিশ্বাসের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতেই পারে আর ইসলাম তো বিশ্বাসের প্রশ্নে কারুর প্রতিই চাপ প্রয়োগ করে না। ইসলামের এই বৈশিষ্ট্যই তাকে করেছে জগতের আর সব ধর্ম ও বাদ-মতবাদ থেকে আলাদা; ইসলাম তো একটা পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থার নাম এবং এটা মানুষেরই জন্য, আর তাই এমন কোন প্রশ্ন বা চিন্তা যা মানব চিন্তায় আসতে পারে এবং তা যত মুক্তই হোক না কেন ইসলাম তার সময়োপযোগী সঠিক জবাব দানে সক্ষম, ইসলামের সংবিধান আল-কুরআনের সবচেয়ে বড় মু'জিযা হওয়ার এটাই বড় প্রমাণ জ্ঞানীদের চিন্তা-চেতনায়। এই ছিল আমার মদীনায় আগমন-পরবর্তী ভোরের অর্জন।

=প্রথম জুম'আ ও স্বদেশীর ভিড়ে=

গত দিনের ভ্রমণ-ক্লান্তি আর খোঁজা-খুঁজির শ্রান্তি লাঘবে ভোরের ঘুমটি ভাঙ্গলো যখন, তখন চোখ মেলতেই দেখি জ্ঞান-পিপাসুদের সাজানো বাগান। কত আর হবে সকাল নয় কি সাড়ে নয়টা, বসেছিলাম কিছুক্ষণ, দেখেছিলাম জ্ঞানের আকাংখা, সৌন্দর্য, শৃংখলা। দিনটি ছিল শুক্রবার, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে এটাই আমার জীবনের প্রথম জুম্'আ, আত্মার রঙ যেন আমি দু'চোখেই দেখতে পাচ্ছি। অযু করে পবিত্রতা অর্জন করে ধীর পদে চললাম মসজিদের পানে, পথ তো নয় যেন জনতার ঢল। মসজিদের ভেতরকার অবস্থা উপছে পড়া, অবশেষে যেন সারিগুলো খুঁজলে দু'টো পা রাখার জায়গাও পাওয়া যাবে না। শুক্রবারে ছাদ খুলে দেয়া হয়, এছাড়া মদীনা যেহেতু মক্কার উত্তরে অবস্থিত তাই মদীনার কিবলা দক্ষিণে, মসজিদের বাইরের দক্ষিণাংশ মানে ইমামের সম্মুখের অংশ বাদ দিয়ে পূর্বাংশ, পশ্চিমাংশ ও উত্তরাংশেও মুসল্লীদের বৃদ্ধি অনুযায়ী বিস্তৃতি ঘটতে থাকে এইদিনে। প্রায় এগারটার মধ্যে পৌঁছেও প্রথমদিকে স্থান পেলাম না; বর্তমান প্রথম ছাতার সামনের অংশে জায়গা পেলাম। অনুভব করলাম মহান আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদাতে মানুষের মনের প্রতিযোগী মনোভাব; কল্যাণ লাভের প্রতিযোগিতা। জুম্'আ শেষে আবারো প্রচণ্ড জনস্রোতে যেন অনেকটা ভাসতে ভাসতেই পৌঁছে গেলাম বাসায়, যেখানে মেহমান হলাম মদীনার।

অবাক হলাম জ্ঞানপিপাসুদের ভীড় দেখে, আরো আনন্দ ছড়ালো মন-প্রাণজুড়ে মধুর ব্যবহার, যেন সবাই আমাকে কতকাল থেকে চেনে-জানে; অথচ আজই প্রথম সাক্ষাৎ। তেমনি সাক্ষাৎ ঘটলো মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া একজন ছাত্রের সাথে। মাদ্রাসা শিক্ষা বা দ্বীনী শিক্ষার সৌভাগ্য আমার জীবনে আসেনি, ছোট বেলায় মক্তবে কিছুদিন কুরআন পড়েছিলাম বটে তাও যৌবনের প্রারম্ভেই যেন খেয়ে-দেয়ে হজম। তবে মাঝে মাঝে ইচ্ছে জাগতো, 'যদি মাদ্রাসায় পড়তে পারতাম', কিন্তু পরিবার-পরিজন ছিল সাধারণ শিক্ষার পক্ষপাতী, সেসব বুঝে-শুনে আমার ইচ্ছেগুলো মনের সিন্দুকেই বন্দী হয়ে ছিল, ভাব প্রকাশের মুক্তিও মেলেনি তাদের নসীবে। আমাদের গ্রামাঞ্চলে মাদ্রাসার ছাত্রদের যে দৈন্যদশা দেখতাম তাতে ওদেরকে আমার মাঝে মাঝে করুণার পাত্র মনে হতো।

হবে না কেন, আমাদের পিতা-মাতা এবং সমাজই এর জন্য দায়ী, তাদের যে সন্তানটির মধ্যে তারা জ্ঞানের প্রখরতা দেখে, যাকে সুস্থ-বুদ্ধিমান মনে হয়, তাকেই তারা খেয়ে না খেয়ে সাধারণ শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত করতে চায়, অবস্থাভেদে কখনো কখনো দেখা যায় গ্রামের চাষাভূসা পিতার পরিচয় দিতেও তখন উচ্চশিক্ষিত সন্তান লজ্জাবোধ করে, হায় শিক্ষা! হায় প্রায়চিত্তভোগী পিতা-মাতা!! পক্ষান্তরে যে ছেলেটি তার দেখতে হাবাগোবা, পক্ষাঘাতগ্রস্ত তাকেই সে আল্লাহর রাস্তায় দান করতে তৎপর হয়ে উঠে, ভর্তি করিয়ে দেয় মাদ্রাসায়, বেচারা দ্বীন শিখে এসে বাবা-মায়ের সেবায় নিয়োজিত হয় আর নিয়োজিত হয় সেই সমাজকে আল্লাহ্র দ্বীন শিক্ষা দিতে, যে সমাজ তাকে এর বিনিময়ে একমুঠো চাল দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে। এহেন সমাজের পিতা-মাতা যদি মৃতু্যপথে ক'ফোঁটা জল চেয়ে চেয়ে না পেয়ে তৃষ্ণার্ত বুকে পৃথিবী ত্যাগ করে, তো এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই; পাওনা কখনো কখনো শুরু হয়ে যায় গন্তব্যে পৌঁছানোর পূর্ব থেকেই। তো এইসব কারণে-অকারণে বিতশ্রদ্ধ ছিলাম আমি মাদ্রাসা ছাত্রদের প্রতি।

আমায় চমৎকৃত করলেন তিনি, তার কথার সৌন্দর্য-মাধুর্য, তার পোষাক-পরিচ্ছদ, জ্ঞানগর্ভ আলোচনা সবকিছুতেই আমি এমনকিছু দেখতে পেয়েছিলাম যা কিনা সাধারণ শিক্ষাজীবনে আর কোথাও আমার নযর কাড়েনি, যদিও আমার অপছন্দের তালিকায় মাদ্রাসার ছাত্ররা তখনো অনেকাংশ জুড়ে। আমি বাধ্য হলাম যেন, তার সাথে পরবর্তী সাক্ষাতের প্রস্তাব দিতে এবং তার বিদ্যাপীঠ মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দেখার আগ্রহ প্রকাশ করতে। তিনি সানন্দে রাজি হলেন, ঠিক হলো পরদিন মানে শনিবার বিকেলে।

দুপুরের পাঠ চুকে আসর পড়ে বেশ ঘুরোঘুরি করলাম মদীনার বাঙ্গালী মার্কেটে। এখানেও অন্যান্য প্রতিটি শহরের মতই অবস্থা, বাংলাদেশীরা তাদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ ও যোগাযোগ রক্ষার্থে একটা নির্দিষ্ট এলাকা বেছে নেয় যেন, কিংবা গতানুগতিকভাবেই যেন গড়ে উঠে শহরের প্রাণকেন্দ্রের কোন এলাকাজুড়ে বাংলাদেশীদের বাজার বা পাড়া, যাকে এখানে সবাই বলে 'বাঙ্গালী মার্কেট'। অবশ্য শহরভেদে নামেও কিছু ভিন্নতা দেখা যায় যেমন, ইয়নাবোতে বাংলাদেশীদের একত্র হওয়ার এলাকাটিকে বলে 'নিমতলা', রিয়াদে দেখেছি 'বাত্হা' ও 'হারাহ্', মক্কায় 'মিসফালাহ্' ইত্যাদি ইত্যাদি, কখনো স্থানের সঠিক নামে কখনো ছদ্মনামে পরিচিত। মদীনার বাংলা মার্কেটের আরেক নাম হচ্ছে 'বাংলাগলি' যদিও এ স্থানের সঠিক নাম হচ্ছে 'বাব আল-মাজেদী'। বাংলাদেশীদের দোকান ও হোটেলগুলো একটা সরু গলিজাতীয় রাস্তার দু'পাশে বিধায় এই নাম সম্ভবতঃ।

বিকেলের মিঠে রোদ-ছায়ায় ঘুরে ফিরে দেখলাম বাংলাদেশীদের ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকান-হোটেল আর মাগরিব এশা আদায় করলাম হারামে। মজার ব্যাপার লক্ষ্য করলাম যে, আমরা স্বদেশে জনসংখ্যায় অনেক বেশী বলে জড়াজড়ি করে, প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে-ঠুলে চলতে হয় আমাদের, প্রবাসেও আমরা যেন অভ্যেসের লালন করে যাচ্ছি, তাই প্রতিটি বাংলামার্কেটেই থাকে শ্বাসরুদ্ধ করা ভিড়। মনে পড়ে, রিয়াদের 'বাত্হা'য় যতদিন গিয়েছি, ইন করা ইস্তিরি শার্ট কখন যে ধাক্কাধাক্কিতে অনেকটা গেঞ্জির রূপ ধারণ করেছে টেরই পাইনি, ওখানে গেলে পায়ে হাঁটতে হয় না, স্রোতের টানেই ভাসতে ভাসতে চলতে থাকবেন জনসমুদ্রে, শুধু গন্তব্য এলে কষ্ট করে ঠেলা-ধাক্কার বৈঠা হাতে নিয়ে কিনারে পৌঁছতে হবে মাত্র। এমনটি দেখতে পাওয়া যায় শুধু এখানকার ছুটির দিন ও তার আগের দিনটিতেই; তবে প্রবাসের একঘেয়েমিতে সপ্তাহে এমন একটি দিন একেবারেই মন্দ না অনেকের জন্য, যদিও আমি তেমন পছন্দ করি না। গ্রামাঞ্চল থেকে শাক-শব্জী বিক্রি করতে আসা বাংলাদেশী ভাইদেরকে দেখতে আমার খুব ভাল লাগে, তখন মনে হয় না যে প্রবাসে আছি, যেন বাংলাদেশের কোন হাটে এসেছি।

উল্লেখ্য করা প্রয়োজন যে, একই দেশের প্রবাসী হলেও আমি যে শহর থেকে এসেছি, (পূর্বে উল্লেখ করেছি- উমলেজ) সেই পাঁচ বর্গকিলোমিটারের বিচ্ছিন্ন বাড়ী-ঘর নিয়ে গড়ে উঠা ক্ষুদ্র শহরে এত বেশী বাংলাদেশী ছিল না যে পাড়া গড়ে উঠবে, সেখানে এমন ধরনের কোন পাড়াও নেই। স্বল্প সংখ্যক বলে সবাই সবাইকে চিনতাম, ভাল-মন্দ আদান-প্রদান হতো নিজেদের মধ্যে যেমনটি হয়ে থাকে আমাদের গ্রামাঞ্চলে। শহুরে জীবনে তো পাশের ফ্লাটের প্রতিবেশীকেই চেনা হয় না বছর বছর থেকে, নগর জীবনের এ এক অভিশাপ, সমাজ ও সামাজিক ঐক্য এখানে যেন গৌণ ঠেকে। প্রবাসেও তেমনি দেখেছি, ছোট আর বড় শহরগুলোর প্রবাসী বাংলাদেশীদের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যেও যেন গ্রাম ও শহরের ব্যবধান বিদ্যমান। তাই একই দেশের প্রবাসী হয়েও মদীনায় এসে কিছু নতুনত্ব পেলাম, পেলাম ভিন্নতা, একটু অচেনা অচেনা নগুরে ভাব স্বদেশীদের ভিড়ে। এভাবেই রাতের বুকে হারিয়ে গেল সেদিনের সময়গুলো।

=জান্নাতের বাগান এবং পথ দর্শনে=

ফজরের পর আজ আর বাসায় ফিরিনি, জান্নাতের বাগানসমূহের একটি, যেটি অবস্থিত মসজিদুন্-নববীর অভ্যন্তরে, সেখানে যাওয়ার এবং বসার সুযোগ পেলাম। মসজিদ খোলা থাকে অথচ জান্নাতের সেই বাগানটিতে ভিড় থাকে না এমনটি কখনো দেখা যায় না। সূর্যোদয়ের পর সালাত আদায় করলাম এবং তিলাওয়াত করলাম পবিত্র কুরআন থেকে। প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের অনেক পাশেই বসে ছিলাম, যেন আন্তরিক পরশ অনুভব করছিলাম। এখানকার দায়িত্বে নিয়োজিত আলেমগণকে দেখলাম যিয়ারতকারী অনেককেই সংশোধন করে দিচ্ছেন অর্থাৎ, দো'আ কিংবা কিছু চাওয়া অথবা চাওয়ার জন্য মুসলমানেরা হাত তুলবে শুধুমাত্র আল্লাহ্ রাব্বুল 'আলামীনের কাছেই; কোন পীর, ওস্তাদ এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছেও না (এ বিষয়েও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা রাখি পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ্)।

বেরুলাম তখন সকাল দশ কি সাড়ে দশ হবে। আজ ঐতিহাসিক কিছু স্থানে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে, সে অনুযায়ী মসজিদ থেকে বের হয়েই ভাবলাম একা যাব না কি কোন দলের সাথে ভিড়ে যাব, উল্লেখ্য যে, এই প্রথম সফরে আমার কোন সহযোগী (গাইড) ছিল না, সীরাত পড়ে পরিচিতির যেটুকু সঞ্চয় করেছিলাম, তাই সম্বল আর মদীনায় এসে যাদের সাথে পরিচিত হয়েছিলাম, তাদের কাছ থেকে মৌখিক কিছু পরামর্শ। অবশেষে একটা মাইক্রোতেই উঠে বসলাম, যেখানে আরো প্রায় ছয়/সাত জন যাত্রী ছিলেন। দূর থেকে দেখতে পাচ্ছিলাম উহুদ পাহাড়, আজ কাছাকাছি যাচ্ছি। মনটাতে খুবই উত্তালতা অনুভব করলাম, ঠিক যখন গাড়ী থেকে নামতে গিয়ে উহুদের মাটির প্রথম স্পর্শ পাই, যেন অনেকটা শিউরে উঠলাম।

এ তো সেই প্রান্তর, যেখানে আমার প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহত হয়েছিলেন, যেখানে হামযা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর বুক চিরে কলিজা বের করে চিবিয়ে খেতে চেষ্টা করেছিল এবং গিলতে না পেরে ফেলে দেয় হিন্দা, এ তো সেই পাহাড় যার মধ্য থেকে আনাস ইবনে নযর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু জান্নাতের সুঘ্রাণ পেয়ে শাহাদাতের মাধ্যমে তা অর্জন করে নেন। গাড়ী যেখানটায় থামলো, স্থানটা ঐতিহাসিক মানচিত্রানুযায়ী ঐ জায়গাটা হওয়ারই সম্ভাবনা রাখে বেশী, যেখানে হানযালা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু শাহাদাত বরণ করেন, যাকে ফেরেশতারা গোসল করিয়েছিলেন। কত মর্মান্তিক ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই উহুদ পাহাড়। দেখলাম সাইয়্যেদুশ্ শুহাদা (শহীদদের নেতা) আমীর হামযাসহ উহুদের যুদ্ধে নিহত প্রায় সত্তরজন আসহাবের কবর। এখানেও একই ব্যবস্থা, দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ ও বিভ্রান্তদের জন্য এখানেও উপদেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে করে কেউ কবরবাসীদের কাছে নয়; একমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহরই কাছে হাত পাতে কোন কিছুর আশায়। এত সব ব্যবস্থার মাঝেও দেখা যায় দু'একটা বেদুঈন বালককে, যারা-কি পড়ে কিভাবে কবর যিয়ারত করতে হবে এই নূন্যতম জ্ঞানটুকু রাখে না-এমন যিয়ারতকারীদেরকে মক্তবের হুজুরের মত করে কিছু দোআ পড়িয়ে দু'পাঁচ রিয়াল আদায় করে থাকে।

হারিয়ে গিয়েছিলাম ইতিহাসের অন্তরালে, যদিও জনারণ্যের মাঝেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। ত্যক্ত-বিরক্ত মাইক্রো-ড্রাইভার গায়ে হাত রেখে বললোঃ 'ইয়াল্লা সাদীক, নাহ্না মা-স্যী' ওহে বন্ধু, আমরা যাচ্ছি (তুমিও চলো)। মন না চাইলেও চলে আসতে হলো। পরবর্তী স্থান ছিল মসজিদে কি্ববলাতাঈন, মুসলমানদের পূর্ববর্তী কেবলা ছিল মসজিদুল আকসার দিকে, তারপর আল্লাহ্ তা'আলা তাকে পরিবর্তন করে মসজিদুল হারামের (মক্কার) দিকে করে দেন। দু'টো মিনার স্থাপন করা হয়েছে এ মসজিদে, মিনার দু'টিই যেন বলে দিচ্ছে মসজিদের পরিচয়। ভেতরে সুন্দরভাবে মুসল্লীদের জন্য সংক্ষিপ্তভাবে লেখা আছে আল্লাহ্র আয়াতসহ কিছু পরিচয়-ইতিহাস। দু'রাকাআত সালাত আদায় করে আবার চড়লাম পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। পথে পথে দেখে নিচ্ছিলাম মদীনার বিভিন্ন রাস্তা-বাড়িঘর গুলো। আবেগী মনের অলিন্দে তখন ইতিহাসের পাতাগুলো হালকা বাতাসে খেলা করছিল যেন।

যাত্রীদের মধ্য থেকে একজনের কণ্ঠস্বরে ফিরে তাকালাম, একজন সুদানী ভদ্রলোক চালকের কাছে জানতে চাইলেন 'সানিয়াতুল ওদা'আ' এখানে কোথায়? আমরা তখন মসজিদ কুবার কাছাকাছি। চালক হাতের ইশারায় দেখিয়ে দিলেন। মনের চোখে যেন দেখতে পাচ্ছিলাম, আনসার যুবক খেজুর গাছে উঠে রাসূলের মদীনায় আগমন দেখতে চেষ্টা করছে, হঠাৎ কাফেলা চলে এলো দৃষ্টি-সীমায়, বেজে উঠলো দফ্, শিশুদের আভ্যর্থনা সঙ্গীত- 'তলা'আল বাদরু 'আলাইনা...', মনের অজান্তেই দু'চোখ ভিজে উঠলো। আলোচিত প্রতিটি স্থানকেই জীবনে প্রথম দেখার অনুভূতিটাই আলাদা। ভাবনার জগত সাঁতরে সাঁতরেই যেন চলছিলাম প্রতি পদে পদে। সালাত আদায় করে নিলাম আবেগে-আনন্দে। খানিক ঘুরে-ফিরে দেখলাম মসজিদের চারপাশ, কারুকাজ। মাইক্রোবাসটি যখন আমাদের নিয়ে আবার ফিরে এলো মসজিদুন্ নববীর কাছে, তখন যোহরের সময় ছুঁই ছুঁই করছিল, অযু বানিয়ে প্রতি সালাতে হাজার সালাতের আকাংখা নিয়ে ঢুকে পড়লাম মসজিদের অভ্যন্তরে, মহান প্রতিপালকের আহ্বানে সাড়া দিতে, তাঁকে সিজ্দা করতে।

দুপুরের কিছু সময় বিশ্রামে কাটালাম, চেষ্টা করলাম কিছু ঘুমিয়ে নিতে কারণ, বিকেলের প্রোগ্রাম ছিল মদীনা ইসলামিক ইউনিভার্সিটি দেখার। কিন্তু ভাবনারা ঘুমকে দু'চোখের আশপাশেও আসতে দিল না। মদীনা! আমার মনের প্রতিটি অণু-পরমাণুতে প্রশান্তি ছড়িয়ে দিয়েছে, ছড়িয়েছে আনন্দ অঢেল, এ ক'দিনেই পৃথিবীতে আমার দেখা এবং অনুভব করা সবচেয়ে শান্তিময় স্থান বলে মনে হতে লাগলো। এখন ভাবতেই কষ্টে হৃদয়টা মুচড়ে উঠছে যে, এই শান্তির শহর ছেড়ে চলে যাবো আর মাত্র একটি দিনের পরেই। কিন্তু কি করেই বা থাকবো এখানে, ওদিকে তো কত কি ফেলে এসেছি, তার উপর এখানে হঠাৎ করেই তো স্থায়ী কোন কাজের ব্যবস্থা করা এতই সহজ নয়। আমার মিষ্টভাষী মেজবানকে বলবো বলবো করেও সরাসরি বলতে পারছি না, ইঙ্গিতে অনেক বুঝিয়েছি যে, মদীনা আমার হৃদয় কেড়েছে। এভাবে সাত-পাঁচ-তিন-এক ভাবতে ভাবতে ভাবনারা কখন যে শূন্যে এসে ঠেকেছে টেরই পাইনি, ক্লান্ত মন তখন স্বপ্নের দেশে, স্মৃতির অজান্তে নিরব, নিথর ঘুমে তলিয়ে গেছে রৌদ্র-ভ্রমণ-ক্লান্ত দেহটিও।

=জ্ঞানের ধারক ও বিদায়ের স্মারক=

শিক্ষাজীবনটা আজ বিকেলে খুব বেশী কড়া নাড়ছে স্মৃতির দুয়ারে। আসরের সালাতান্তে একটা ট্যাঙ্ নিয়ে, কথা রাখতে এবং দু'চোখ জুড়াতে ও এ মন ভরাতে চলে গেলাম পূর্বকথামত মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রধান ফটকের সামনেই নামিয়ে দিল ট্যাঙ্, তারপর ধীরে ধীরে এগুলাম জ্ঞানের রাজ্যের এ অনন্য অভ্যন্তরে। সেদিনের দেয়া কাগজে লেখা ভবন, তলা ও কামরা খুঁজে পেতে বেগ পেতে হলো না তেমন। দেখলাম কত সাধারণ সহাবস্থান বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন সংস্কৃতির, বিভিন্ন মাতৃভাষার ছাত্রদের মাঝে। একই কামরাকে চাদর টাঙিয়ে কয়েকজন মিলে ভাগ করে প্রত্যেকেই বানিয়ে নিল নিজস্ব পরিমণ্ডল। এভাবেই চলছে তাদের শান্ত-নিরব জ্ঞানচর্চা। যেহেতু এখানে নেই আমাদের দেশের মত ঘৃণ্য রাজনীতির কালো থাবা, নেই হল দখলের উন্মাদনা, নেই এমনকি রাজতন্ত্রেরও তেমন কোন প্রভাব, সেহেতু এখানে বাকী আছে শুধুই শিক্ষা-জ্ঞান-আলো।

ছাত্র বড়ভাই আমাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখালেন বিভিন্ন ভবনগুলো, বিকেল ছিল বলে ছাত্ররা সবাই হারামে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। প্রতিদিনই আসরের পরে ভার্সিটির বাসে করে ছাত্ররা চলে আসে হারামে, এখানে এসে মসজিদুন্ নববীতে সালাত আদায় এবং মসজিদে অবস্থিত দু'টি গ্রন্থাগার থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় অধ্যয়ন ও নোট সেরে নেয়। মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখাটা খুব বেশী স্থায়ীত্ব পেল না, বাসের সময় হওয়াতে চলে আসতে হলো যদিও পথটা খুব একটা বেশী নয় মসজিদুল নববী থেকে। পথে নানা কথায় একজন আলেমের আচরণে মুগ্ধ হচ্ছিলাম, যিনি এখন মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডে কর্মরত আছেন। (বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে পরে বিস্তারিত লিখবো ইনশাআল্লাহ্)

আজ আর কোথাও বেরুইনি, মাগরিব ও এশা পড়ে হৃদয়ের স্পন্দনসম রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় মসজিদ, জান্নাতের বাগান, রাসূলের মিম্বার, মেহ্‌রাব, কবর, সাহাবাদের 'আসহাবে সুফ্ফা' বাবুস্ সালাম, বর্তমান মেহ্‌রাবসহ আভ্যন্তরটা ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম আর মনে মনে ব্যথিত হচ্ছিলাম; আগামী কালই আমার মদীনার শেষ দিন, জানিনা আবার কবে কখন ফিরে আসতে পারবো। অশ্রুগুলো দু'চোখের বাঁধ ভাঙ্গতে চায় বারে বারে, চাপা কষ্টে রুখে দেই, ইনশাআল্লাহ্ আমি মদীনায় ফিরে আসবোই। কতই তো মনে মনে স্বপ্ন এঁকেছি এ ক'দিনে, এখানে ওখানে বলেছিও অনেক- যদি একটা কাজ পেতাম মদীনায়। অল্প বয়স, তদুপরি অপরিচিত পরিবেশ, অথচ এক মহাবিশ্ব আবেগ নিয়ে মাঝে মাঝে খুবই অসহায় লাগছিল নিজেকে। নিমগ্ন জলের ভেতর থেকে ক্ষীণ বুদবুদগুলো আর কতটাই বা দৃষ্টি কাড়ে দর্শকের, হারিয়ে যায় মৃদুমন্দ বাতাসে।

বাসায় ফিরে এলাম যখন তখন রাতের অনেকটা পেরিয়ে গেছে, নিরবে বিছানা নিলাম, ঘুম গুলো যেন সব অশ্রু হয়ে গেছে আজ রাতে। নিরবেই উঠে তুলে নিলাম কাগজ-কলম। লিখলাম ছোট্ট একটা চিরকুট, এখানেই রেখে যাব উষ্ণ আবেগগুলো, যদি এ আবেগের বীজ থেকে কখনো জন্ম নেয় আমার স্বপ্নের চারা, যদি হয়ে যায় আমার মদীনায় বসবাসের কোন সুব্যবস্থা। আরো নিরবে প্রভূকে বলেছিলাম- 'হে প্রভূ! বেঁচে থাকার জন্য তো পৃথিবীর কোথাও না কোথাও আমাকে থাকতেই হবে, যেহেতু জন্মভূমি থেকে বের করে এতদূর নিয়ে এসেছেন তবে কেন থাকতে দিবেন না আপনার প্রিয় হাবীবের শহর মদীনায়?' (মনের ভাষায়) বেদনায়, ক্লান্তিতে, আবেগে একসময় হারিয়ে গেলাম স্বপ্নের রঙীন জগতে, যেখানে পৃথিবীর বস্তুদের কোন স্থান নেই, শুধুই অপার্থিবতায় ভরপুর।

সমাপ্ত
http://www.sonarbangladesh.com/articles/fazleelahi
শেয়ার করুনঃ
পাঠকের মন্তব্য:
নাসিম,রিয়াদ, সৌদি আরব থেকে মোহাম্মদ আল-আমীন লিখেছেন, ০১ জানুয়ারি ২০১২; দুপুর ১২:৫২
ভাই আপনি সব সময়ই অনেক গুরুত্বপুর্ণ লেখা লেখেন যা প্রতিটি মুসলমানের প্রতি মুহুর্তে প্রয়োজন।আপনার এই সাবলীল লেখা আমার ব্লগ লেখার অনুপ্ররণা।২০০৮সালে প্যাচালিতে আপনার লেখাগুলো দেখেই মুলত আমি ব্লগ লিখতে উৎসাহ পেয়েছি।আপনাকে কোনোদিন ভুলার নয়।ভুলবোনা ইনশাআল্লাহ।
75105
জেদ্দা থেকে আবু রাকিব লিখেছেন, ০১ জানুয়ারি ২০১২; রাত ০৮:২৬
হৃদয় ছোঁয়া লেখাটির জন্য হৃদয় নিসৃত ধন্যবাদ। কিন্তু মদীনায় কিভাবে শুরু হলো বসবাস তাতো জানা হলো না। প্রতিটি সংখ্যায় একটি করে লেখা চাই। নতুন চাকরী এ অযুহাত মোটেও মানবোনা।
75142
তেহরান থেকে আবু আয়মান লিখেছেন, ০৬ জানুয়ারি ২০১২; রাত ০২:১১
আপনার লেখার প্রশংসা করার ভাষা নেই। লেখাটি পড়ে শুধু মদীনা যেতে ইচ্ছে করছে!
75507
বাংলা (ইউনিকোডে) অথবা ইংরেজীতে আপনার মন্তব্য লিখুন:
কীবোর্ড

Bijoy       UniJoy       Phonetic (Help)       English

নাম:

স্থান:

ই-মেইল:
মন্তব্য:
 
 
লেখক পরিচিতি
 
 

 


© Sonar Bangladesh, 2002-2011. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Privacy Policy