জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররাম এদেশের ধর্মপ্রান মানুষের গর্ব �" অহংকারের প্রতিক। শুধু স্থাপত্যশৈলির আকর্ষণীয়তার জন্যই নয় বরং রাজধানির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ মনোরম মসজিদটি বিভিন্ন কারণে এ দেশের তৌহিদি জনতার মনের মনিকো� ায় স্থান করে নিয়েছে। যুগ যুগ ধরে দেশ বিদেশের ইসলাম �" মুসলমান বিরুধি বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার কন্� ের প্রতিবাদ এই মসজিদের আঙিনা থেকেই শুরু হতে দেখা যায়। রাজধানির বাইরের মানুষ কোন কারন বশত ঢাকাতে গেলে আগ্রহের সাথে বায়তুল মোকাররামে নামাজ আদায় করার জন্য ছুটে যান এবং এর মাধ্যমে এক ধরনের মানষিক তৃপ্তি লাভ করে থাকেন। বায়তুল মোকাররমের এই আবেদন যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। আর অতীতে এখানে নিয়োগ প্রাপ্ত ইমাম �" খতীবগণ�" ধমীয় অনুভুতি �" চেতনায় উজ্জিবিত থেকে স� িক ইসলামী আক্বিদা বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে পালন করে গেছেন তাদের কাজ।
কিন্তু পরিতাপের সাথে লক্ষ করা যাচ্ছে, বিগত কিছুদিন থেকে বায়তুল মোকাররাম তার সেই সুন্দর ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। খতিব নিয়ে বিতর্ক এবং মসজিদে অপ্রিতিকর ঘ� না এখন প্রতি সপ্তাহেই পত্রিকার শিরোনাম হয়ে এক অস্বস্থিকর অবস্থা তৈরি করছে। কেন এমন হল, এ প্রশ্ন এখন অনেকেরই। আসলে আমাদের দুর্ভাগ্য, বড় ক্রান্তিকালে আমরা খতিব আল্লামা উবাইদুল হক (রহ.) কে হারিয়েছি। আজ তার শূন্যতা হাড়ে হাড়ে টের পা�"য়া যাচ্ছে। তার জিবদ্দশায় বায়তুল মোকাররাম হয়ে উ� েছিল তৌহিদী জনতার আশা আকাঙার কেন্দ্র। তিনি পরিণত হয়েছিলেন এ দেশের আপামর মুসলমানদের ধর্মীয় অভিভাবক রূপে। তার ইলিম, আমল, যুগোপোযুগি চিন্তাধারা �" বক্তব্যে খুব সহজেই তাকে অনন্য করে তুলত। সরকার কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত খতীব হয়ে�" দ্বীন ধর্মের স্বার্থে কিছু বলতে কোন দিনই তিনি কাউকে পরোয়া করেননি। এক্ষেত্রে চাকরির তোয়াক্কা�" তার মধ্যে ছিলনা। তিনি ছিলেন বিশাল মনের অধিকারী, কোন সঙকির্ণতা তার মধ্যে কাজ করতোনা আর তাই তিনি ছিলেন অসম্ভব জনপ্রিয় একজন মানুষ। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে জাতীয় ঐক্যের প্রতিক। এমন একজন বিরল মানুষের অস্থিত্ব গোটা দেশের জন্যই ছিল পরম সৌভাগ্যের বিষয়। আর তার সম্পৃক্ততায় বায়তুল মোকাররাম হয়ে উ� োছল ধর্মপ্রাণ মানুষের কেন্দ্র বিন্দু, আশা আকাঙার প্রতিক আর সকল বিতর্ক মুক্ত এক মিলন কেন্দ্র।কিন্তু তিনি হ� াতই সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন। একরাশ শূণ্যতা গ্রাস করল এদেশের ধর্মীয় অঙনকে। বায়তুল মোকাররামে �" সেই অবস্থা দেখা দিল। পরবর্তিতে ভারপ্রাপ্ত খতিব মুফতি নুরুদ্দিন বিপর্যয় সামাল দিয়ে চালিয়ে যেতে লাগলেন তার কাজ। এনিয়ে প্রথমে কিছুটা কানাঘোষা দেখা দিলে�" পরবর্তিতে দেশের বিগত উলট পালট পরিস্থিতিতে বায়তুল মোকাররাম নিয়ে আর তেমন কোন উচ্চবাচ্চ কানে আসেনি।
গত ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর মহাজোট ক্ষমতায় বসার পুর্বক্ষণে বিদায়ী তত্বাবধায়ক সরকার একেবারে শেষ মূহূর্তে কারো সাথে কোন প্রকার আলোচনা ব্যতিরেকে বায়তুল মোকাররামে খতিব নিযুক্তি দিয়ে খতিব ইস্যুকে আলোচনায় নিয়ে আসে। এরপর থেকেই দেখা দেয় দাঙা হাঙামা। মসজিদে অপ্রিতিকর সব কান্ড। প্রথমতঃ এতদিন যখন ভালভাবেই চলছিল তখন নির্বাচিত সরকারকে এ বিষয়ে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। মনে রাখা প্রয়োজন , খতিব সরকারি চাকরি হলে�" মসজিদের মিম্বর কোন রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। জাতিয় মসজিদের খতিব সারা দেশের মানুষের আস্থাভাজন �" গ্রহনযোগ্য হবেন এবং তার নিয়োগে ধর্মীয় বিষয়টাই বিবেচ্য হবে এটাই সকলের কাম্য। এক্ষেত্রে ধর্ম সম্পর্কে যারা পুরোপুরি �"য়াকিফহাল নন তারা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে চাপিয়ে না দিয়ে দেশের ধর্মীয় ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করেই কাজটা করা উচিত ছিল। কিন্তু সেটা না করে তড়িগড়ি নিজেরা খতিব নিযুক্তি দিয়ে দেশে বিশৃঙখলা আর অপ্রিতিকর ঘ� নার দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়া হলো।
দ্বিতীয়তঃ জাতীয় মসজিদের খতিব হ�"য়ার জন্য যে ধরনের যোগ্যতা আর গুণাগুন থাকা প্রয়োজন সেটাইবা কতটুকু বিবেচনা করা হয়েছে তা�" দেখার বিষয়। নব নিযুক্ত খতিবের ধর্মীয় জনাশোনার পরিধি সম্পর্কে সবার জানার সুযোগ নেই। কারণ ঢাকা আলিয়ার দায়িত্বে আর রাজধানির এক মসজিদের খতিব তিনি ছিলেন বটে, কিন্তু তার পরিচিতি এদেশের ধর্মীয় অঙ্গনে খুব একটা ছিলনা। ব্যক্তি জীবনে তার সম্পর্কে তার সংশ্লিষ্টরাই ভাল বলতে পারবেন কিন্তু খতিব নিযুক্তির পর গত ২৬ জানুয়ারী দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত তার সাক্ষাতকার থেকে দুটি বিষয় দেশবাসি জানতে পেরেছে। আর এসব বিষয় জানার পর তার খতিব নিযুক্তিতে মোটা দাগের প্রশ্ন �" দেখা দিয়েছে।
তিন বলেছেন যে, আটরশির প্রয়াত পীরের সাথে তার খুব ঘনিষ্� তা ছিল। তিনি সেখানে সময় সময় যাতায়াত করতেন। পীর সাহেবের দোয়া নিতেন আর পীর সাহেব �" তাকে খুব স্নেহ করতেন। ১৯৮৭ সাল থেকে পীর সাহেবের মৃত্যু পর্যন্ত ছিল এ সম্পর্ক। আটরশির দরবারে তার গ্রহনযোগ্যতা এতই ছিল যে, পীর সাহেবের জানাযা �" তিনিই পড়ান।
এখানে একটি বিষয় জানা প্রয়োজন, সব কিছুতেই আসল আর ভেজাল থাকে। ধর্মীয় লাইনে�" এই জিনিষটা সর্বদা দেখা যায়। তখন কারো ব্রান্ড দেখে আর বক্তব্যে আসল ভেজাল নিরূপন না করে ধর্মের কষ্টি পাথরে যাচাই বাছাই করে আসল নকল চিনতে হয়। আমাদের দেশে পীরের অভাব নেই কিন্তু এর কয়জন প্রকৃত পীর আর কারা ভন্ড সেটা বোঝা প্রয়োজন । আর এই জিনিষটা বুঝার জন্য কারো প্রচার প্রোপাগান্ডা আর মুরিদের বহর দেখে বুঝার প্রয়োজন নেই। শরীয়তের কষ্� িপাথর দিয়ে সেটা খব সহজেই করে নেয়া যায়। যে সকল পীর আধ্যত্মিকতার দাবীদার তাদের মধ্যে আল্লাহর হুকুম আর নবীর তরীকা � িক মতো আছে কি না, যদি থাকে তাহলে স� িক পীর, আর না থাকলে ভন্ড। সহজ সমীকরণ। আমরা এই মানদন্ডে বিচার করলে দেখি, আটরশির তথাকথিত পীরের মধ্যে এসব ছিলনা। শরীয়তের ফরজ করা হজ্ব সামর্থ থাকার পর �" তিনি করেছেন বলে যানা যায়নি, অথচ হক্কানী পীরগণ বার বারই মক্কা মদিনা যিয়ারতের জন্য উদগ্রীব থাকেন। শরীয়তের ফরজ করা বিধান পর্দা মেনে চলা তার মধ্যে ছিলনা। তিনি তার সাক্ষাত প্রার্থী মহিলা মুরিদগনের সাথে অবলীলায় সাক্ষত দিতেন। রাসুলের একটা গুরুত্বপুর্ণ সুন্নাত হলো জামাতে নামাজ পড়া কিন্তু আটরশির তথাকথিত পীর খানকায় থাকলে�" মসজিদে জামাতে আসতেন না। তার কাছে আসা ভক্ত মুরিদানরা মাথা নিচু করে ভক্তি দিত আর এটা যে শিরকের মতো পাপ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এ ধরনের অসংখ্য শরীয়ত বিরুধি কর্মকান্ডের আখড়া ছিল আটরশীর দরবার। কোন প্রয়াত ব্যক্তি সম্পর্কে বিষোদগার করা আমার উদ্দেশ্য নয় কিন্তু প্রাসঙ্গিক কিছু বলতেই হলো। যা থেকে জাতিয় মসজিদের বর্তমান খতীবের আক্বীদা বিশ্বাস সম্পর্কে সাম্যক ধারণা হতে পারে।
মা�"ঃ সালাউদ্দিন তার আলোচিত সাক্ষাতকারে আরো যে কথাটি বলেন তা হলো, বঙ্গবন্ধু পরিবারের সাথে তার দীর্ঘ কালের সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক থাকা ভালো কথা। এমন একটি ঐতিহ্যবাহি �" শক্তিশালী পরিবারের সাথে সম্পর্কিত থাকা তার জন্য নিশ্চয়ই গৌরবের বিষয়। এবং এতে দোষনীয় কিছুই নেই। কিন্তু কথা হচ্ছে, এই সম্পর্কের খাতিরেই তিনি খতিব নিযুক্ত হলেন কি না। এখানে তার যোগ্যতা আর গ্রহনযোগ্যতা বিচার না করে সম্পর্কের ভিত্তিতেই তাকে বসিয়ে দেয়া হলো কিনা সেটাই দেখার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছ। এই সন্দেহের পিছনে কিছু কিছু আলামত �" ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
নির্বচিত সরকার ক্ষমতায় এসে ধীরে সুস্তে যে কাজটা করার ছিল তত্বাবধায়ক সরকার একেবারে যা�"য়ার সময় সে কাজটা করল। অথচ এটা তখন এমন মহা গুরুত্বপুর্ণ কিছুই ছিলনা। আসলে মা�"ঃ সালাহউদ্দিনের ক্ষমতাসীনদের সাথে দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্ক এবং তত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক তড়িগড়ি তার নিয়োগ প্রাপ্তি থেকে একটা জিনিষ � িকই বেরিয়ে আসছে আর সেটা হচ্ছে এই কাজে তত্বাবধায়ক সরকারের কাধে বন্ধুক রেখে শিকার করা হয়েছে। যাতে পরবার্ততে এর সম্পুর্ণ দায় তত্বাবধায়ক সরকারের ঘাড়ে চাপে, এবং এনিয়ে তত্বাবধায়ক সরকারই সমালোচিত হয়। সেই সাথে পছন্দের মানুষকে দেশের সবচেয়ে গুরুত্ব পুর্ণ মঞ্চে বসিয়ে দিয়ে পরবর্তিতে নির্বাচিত সরকার বিভিন্নভাবে তার পদ টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ গ্রহন করবে। দালালদেরকে মা� ে নামানো হবে আর আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী দিয়ে প্রতিবাদের কন্� রোধ করা হবে। এই পরিকল্পিত খেলাটাই এখন সামনে আসছে। কিন্তু এর মাধ্যমে ধর্মীয় অঙ্গনে বিভক্তি, দাঙ্গা হঙ্গামা আর রেষারেষিতে আতংকিত হয়ে গেছেন মুসল্লীগণ। বায়তুল মোকাররাম এখন তাদের নিকট এক ঝামেলার স্থানে পরিণত হয়েছে
কিন্তু এমনটি হ�"য়ার কথা ছিলনা। যাদি খতিব নিয়োগে সরলতার পরিচয় দেয়া হতো, দেশের আলেম- উলামা, পীর- মাশায়েখদের সমন্বয়ে প্রস্তাবনা তৈরি করে সেই ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হতো। ধর্ম মন্ত্রণালয় আর ইসলামী ফাউন্ডেশন মানুষের ধর্মীয় আবেগ- অনুভুতি আর বায়তুল মোকাররামের ঐতিহ্যকে আমলে নিয়ে খতীব নিয়োগ করতো। সর্বোপরি কোন রাজনৈতিক অভিলাষ ছাড়া এই পদের জন্য একজন প্রকৃত উপযুক্ত হক্কানী আলিম নিয়োগ দেয়া হতো তা হলে আজ আমাদের গর্বের প্রতিক বায়তুল মোকাররাম হানাহানি জুতোজুতি আর বিশৃংখলার ক্ষেত্র হতোনা কোন ভাবেই।
মসজিদ আল্লাহর ঘর , ইবাদাতের স্থান। মসজিদে দাঙ্গা হাঙ্গামা দুরে থাক, জোরে কথা বলা�" নিষিদ্ধ। মসজিদের ভিতরে মারামারি কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য হতে পারেনা। আর জাতিয় মসজিদে এমন দুঃখজনক ঘ� নায় গোটা জাতি লজ্জিত। আল্লাহর ঘরকে দাঙ্গা হাঙ্গামার ক্ষেত্র করে কলুষিত করা যেমন অন্যায় � িক তেমনি ভাবে মসজিদে বিশৃংখলার ইস্যু তৈরি করা�" অন্যায়। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ এখন�" আশা করছে, নতুন সরকার এর সমাধানে আন্তরিকতা এবং সরলতার পরিচয় দিবে।