বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; দুপুর ০১:১৮

ভালবেসে হৃদয়ে দাগ কেটে দেওয়া সাড়া জাগানো রোমান্টিক ছবি, এ যুগের মাস্টার পিস - A walk to Remember (2002)

লিখেছেন মাছুম চৌধুরী ০১ অক্টোবর ২০১০, সন্ধ্যা ০৬:৫৫



২০০২ সালের আমেরিকায় মুক্তি পাওয়া A walk to Remember (2002) ছবিটি নিকোলাস স্পার্কের A walk to Remember উপন্যাস থেকে তৈরী করা হয়েছে। এই উপন্যাসটি ১৯৯৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছে যদিও নিকোলাস স্পার্ক বহুদিনপূর্বেই এই উপন্যাস লিখেছিলেন। নিকোলাস স্পার্ককে সাধারনত রোমন্টিক উপন্যাসের গুরু হিসেবে তুলনা করা যায়। দি নোট বুক, ডিয়ার জন, দি লাস্ট সংগ, মেসেজ ইন দি বোতল এই ধরনের সাড়া জাগানো বেশ কিছু রোমন্টিক উপন্যাসের রচয়িতা হচ্ছেন নিকোলাস স্পার্ক। নিকোলাস স্পার্কের ছবিতে যেভাবে দুইজন কিশোর-কিশোরীর (তরুন-তরুনীর) প্রেম-ভালবাসা দেখানো হয় তা সত্যিই হৃদয় দিয়ে উপলব্দি করার মতো।


বেশ কয়েকদিন পূর্বে যখন আমি ডিয়ার জন ছবিটি যখন দেখছিলাম তখন ছবিতে চিঠি দিয়ে দুই প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কের গভীরতা দেখে মনে মনে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম এই ভেবে যে, ইস্ যদি একটি সেরকম প্রেম করার সুযোগ পেতাম তবে সারাদিন বসে বসে শুধু চিঠি লিখতাম যেমনটি জন তার প্রেমিকাকে যুদ্ধের ময়দানে থেকেও লিখেছিলো। চিঠি নিকোলাস স্পার্কের উপন্যাসের একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র। A walk to Remember (2002) এ ছবিটি দেখেও দর্শক আপনার হারানো প্রিয়তমাকে খুঁজে পেতে ইচ্ছে করবে। যারা ভালবাসার মূল্যদিয়ে প্রিয়তমাকে বিয়ে করে সংসার করছেন তারা ভালবাসা কী জিনিস তা কিছুটা হলেও বুঝতে পারবেন। যাকে ভালবেসে দর্শক/পাঠক আপনি বিয়ে করেছেন অন্ত্যত বলতে পারবেন, আমি পাইলাম, তাহারে পাইলাম। যারা জীবনে ভালবেসেছেন কিন্তু কোন কারনে প্রিয়তমাকে পাননি তার জন্য এ ছবিটা হতে পারে কষ্টের। তবুও শত কষ্টের মাঝেও পাঠক আপনার মনের ভালবাসার মূল্যয়ন আপনি করতে পারবেন এ ছবিটা দেখলে।


চরিত্রঃ এ ছবিতে অভিনয় করেছেন শেন ওয়েস্ট এবং পপ সিঙ্গার ও অভিনেত্রী মেন্ডি মুর। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অ্যাডাম স্যাঙ্কম্যান এবং প্রযোজক ছিলেন ডেনিস ডি নবি ও হান্ট লরি। প্রিয় পাঠক, মিস্টি কন্ঠের মিস্টি মেয়ে মেন্ডি মুর হলিউডের আরেক সুঅভিনেত্রী যাকে নিয়ে কিছু না লিখলে মনে কষ্ট থেকে যাবে তাই দু’চার কথা না লিখে পারলাম না। আমি এখন পর্যন্ত মেন্ডি মুরের এই ছবিটি শুধু দেখেছি। তবে এ ছবিতে অভিনয় এবং ছবির এক পর্যায়ে স্টেজ শোতে তাঁর যাদুকরী কন্ঠের গায়কীর জন্য ১০০ তে ১০০ পয়েন্টস দেয়া যেতে পারে।


বিশ্ব চলচ্চিত্রের এখন পর্যন্ত যে কয়েকটি ছবি দেখেছি তাতে মনে হচ্ছে, সাবলিল অভিনেত্রী হিসেবে অদ্রে হেপবার্নের চঞ্চলতা, ড্রিউ বেরিমোরের হাসি এবং মিস্টি মেয়ে মেন্ডি মুরের সজিবতা এবং সরলতা দর্শক হৃদয়কে নাড়া দেবার জন্য যথেষ্ট। মাঝে মাঝে আনমনে ভাবি, কীভাবে তাঁরা এতো সাবলিল জীবন্ত অভিনয় করতে পারে ? মেন্ডি মুরের গায়কী প্রানে লাগার মতো। হিংসে হয় কিভাবে এতো সুন্দর গান করেন, অভিনয় করেন মেন্ডি মুর ? মেন্ডি মুর একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। ২০০০২ সালে A walk to Remember (2002) তে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয় জীবনের শুরু। মেন্ডি মুরের উল্লেখযোগ্য ছবি গুলোর মধ্যে রয়েছে Chasing Liberty, American Dreamz এবং Saved । সাম্প্রতিক কালে অর্থাৎ মে ২৬, ২০০৯ সালে মেন্ডি মুরের একটি গানের এলবাম বের হয়েছে যার নাম Amanda Leigh।



কাহিনীঃ
হঠাৎ একটি বিপদজনক দূর্ঘটনা ঘটার পর লেনডন রোলিন্স কার্টার (শেন ওয়েস্ট) কে স্কুল কর্তৃপক্ষ হুমকি দিলো এ ধরনের অপরাধের জন্য তাকে স্কুল থেকে বহিস্কার করা হবে। যদিও বন্ধু মহলে লেনডন খুব জনপ্রিয় কিন্তু কিছুটা একরোখা টাইপের ছেলে। অবশেষে শাস্তি হিসেবে লেনডনকে স্কুলের কার্যক্রম হিসেবে বাড়তি কিছু কাজের দায়িত্ব্য দেওয়া হলো যা তাকে অবশ্যই করতে হবে। প্রতিদিন স্কুলের শেষে এ অতিরিক্ত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে - স্কুলের নাট্য দলের সাথে সংযুক্তি এবং বসন্ত কালীন গানের অনুষ্ঠানে তাকে বাধ্যতামুলকভাবে অংশগ্রহন করতে হবে। কিছুটা একরোখা, অমনোযোগী লেনডন প্রথমদিকে নাট্যদলে সবার সাথে তালমিলিয়ে চলতে কষ্ট হচ্ছিল কারন লেনডন এ ধরনের কাজে মোটেই উৎসাহী নয়। কিন্তু তারপরেও লেনডনকে নাট্য দলের মিউজিক্যাল ক্লাসসহ সব ক্লাসে যেতে হতো। তেমনি একদিন নাটকের ক্লাসেই দেখা হলো সেই মেয়েটির সাথে যে মেয়েটি পড়াশোনায় খুবই মনোযোগী, সারাদিন বই নিয়ে লাইব্রেরী ওয়ার্ক করে, পড়াশোনা করে। এই মেয়েটি স্কুলের অন্যান্য মেয়েদের চেয়ে কিছুটা আলাদা। বয় ফ্রেন্ড নেই, অনেক শান্ত, বিনয়ী, আত্বপ্রত্যয়ী এবং মেধাবী। দর্শক, বলুনতো কে এই মেয়েটি ? এই মেয়েটির নাম জেমি এলিজাবেথ সুলিবেন (মেন্ডি মুর)। জেমি নামেই সে পরিচিত। ছবিটি যখন দর্শক আপনি দেখবেন - তখন মনে হবে যাইনা একটু এই মেয়েটির পিছে পিছে ভালবাসার খোঁজে যদি মন গলে তবে তো তাকে ভালবাসা যাবে, মন পাওয়া যাবে। লেনডন, জেইমির পিছে পিছে যখন যায় তখন আমার স্কুল জীবনের কথা মনে পড়ে যায়। ক্লাস এইটে পড়ার সময় অপরিনত এক ভালবাসায় আমি এমনি স্কুল পড়ুয়া একটি মেয়ের প্রেমে পড়েছিলাম। মেয়েটির ডাক নাম ছিলো সুমি। যাইহোক, জেইমির পিছু পিছু যখন লেনডন ছুটে চলে তখন দর্শক হয়তো আপনার মনেও পুরোনো কোন মজার স্মৃতি বেরিয়ে আসবে। জেইমির বাবা হেগবার্ট সুলিবেন (পিটার কয়টি) একটি গির্জার যাজক। লেনডন যখন আস্তে আস্তে নাটকের ক্লাসে নিয়মিত হচ্ছে তখন জেইমি এবং নাটকের ক্লাস দুটোর প্রতিই তার আগ্রহ বেড়ে যেতে থাকে। কিন্তু লেনডন নাটকের ক্লাসের পড়া কিছুতেই আত্তস্থ করতে পারছিলো না।
এমনি একদিন লেনডন, জেইমি ডেকে নিয়ে অনুরোধ করলো ক্লাসের যাবতীয় পড়াশোনায় তাকে সাহার্য করার জন্য। জেইমি, লেনডনকে সব রকম সাহার্য করার জন্য রাজি হলো কিন্তু একটা শর্ত। প্রিয় দর্শক, বলুনতো শর্তটা কী হতে পারে ?? শর্ত, সে এক কঠিন শর্তঃ লেনডন কোনদিন জেইমির প্রেমে পড়তে পারবে না কিংবা ভালবাসার অফার দিতে পারবে না। প্রিয় দর্শক. জেইমি কেনো এতো কঠিন শর্ত দিলো লেনডনকে ? তাহলে কী জেইমি অন্য কাউকে ভালবাসে ?? এ ধরনের শর্ত শুনে লেনডন অবাক হয়ে যায় এবং ভাবতে থাকে, সে কোনদিন জেইমির প্রেমে পড়বে না এটা সে কিভাবে নিশ্চিত করবে ? কিছুটা নিরব হ্যা সূচক উত্তরের মধ্যে দিয়ে লেনডন জেইমিকে শর্ত মেনে চলার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেয়।


তারপর শুরু হলো লেনডন এবং জেইমির একসাথে পথচলা। স্কুলের ক্লাসের শেষে লেনডন এবং জেইমি তাদের বাড়িতে নিয়মিত প্র্যাকটিস করে। বাড়তে থাকে জেইমি এবং লেনডন এর সম্পর্ক। জেইমি তার জীবনের অনেক স্বপ্নের কথা লেনডনকে জানিয়ে দেয়। একসময়কার বদমেজাজী, একরোখা লেনডনের জীবন পাল্টাতে থাকে। যে লেনডন একসময় স্কুল বন্ধুদের সাথে হইচই করে বেড়াতো সে এখন অনেক সুশংখল, দায়িত্বশীল এবং পরিনত। একদিন লেনডন যখন তার এক বন্ধুর সাথে দুষ্টামি সুলভ কাজ করছিলো তখন সেখানে উপস্থিত হলো জেইমি। জেইমি লেনডনকে বললো, এখন আমাদের প্রাকটিসের সময় । লেনডন তখন জেইমিকে বললো সেটাতো তোমার স্বপ্ন। অর্থাৎ নাটক করা, গান গাওয়াতো জেইমির স্বপ্ন, লেনডনের নয় এ কথাগুলো বলে লেনডন যখন জেইমিকে উপহাস করে বললো তখন জেইমি লেনডন এর বন্ধুদের সামনে অপমানিত হলো। জেইমি চলে গেলো কিন্তু মনে রয়ে গেলো অপমানের হতাশা।

সে বিকেলেই লেনডন, জেইমিদের বাসায় গেলো এই আশা নিয়ে যে, জেইমি পূর্বের ন্যায় লেনডনকে সাহার্য করবে। কিন্তু জেইমি লেনডনকে তাদের বাড়ি থেকে প্রত্যাখান করলো। সেসময়ে লেনডন জেইমির অভাব ভালভাবে বুঝতে পারলো যখন লেনডন নিজে নিজে নাটকের স্প্রিট মুখস্থ করতে শুরু করলো।
বেশ কিছুদিন পর লেনডন আবারও জেইমির কাছাকাছি যেতে চেষ্টা করে কিন্তু জেইমি পূর্বের ন্যায় তাকে প্রত্যাখান করে। ছবির টার্নিং পয়েন্ট আসলো যখন লেনডনের কয়েকজন দুষ্টু বন্ধু হিংসে করে জেইমির পর্ণো ছবি প্রিন্ট করে স্কুলে বিলি করলো। জেইমি তার নিজের ছবির এ অবস্থা দেখে হতবাক হলো এবং লজ্জা পেয়ে যখন স্কুলের ক্যাফেটেরিয়া থেকে বের হয়ে যেতে চাইলো তখন সেখানে উপস্থিত হলো লেনডন। জেইমি যখন কাদঁতে শুরু করলো লেনডন এ অপরাধের জন্য তারই পুরোনো একজন বন্ধুর সাথে মারামারিতে ঝরালো এবং বললো এগুলো শুধুমাত্র পশুদের কাজ। অবশেষে লেনডন জেইমিকে নিয়ে স্কুলের ক্যাফেটেরিয়া থেকে বেড়িয়ে আসলো। লেনডন জেইমির কাছে ক্ষমা চাইলো।
অতপর একদিন লেনডন তার গাড়িতে করে জেইমিকে নিয়ে ডিনারে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলো। কিন্তু জেইমি যেতে চাইলো না কারন তার ডেটিং এ যাওয়ার অনুমতি নেই। জেইমি তার বাবার কাছে চার্চে ফিরে গেলো অনুমতি পাবার আশায়। জেইমির বাবার অনুমতি পাবার পর জেইমি লেনডনের সাথে ডিনারে বের হলো। সে রাতের পর থেকে তারা পরস্পরের প্রেমে পড়ে গেলো। জেইমির জীবনের অনেক ইচ্ছে আছে, লেনডন সে ইচ্ছে গুলোর প্রতি সম্মান দেখিয়ে সেগুলো সম্পূর্ণ করার চেষ্টা শুরু করলো। জেইমির জীবনের শেষ এবং ১ নম্বর একটি ইচ্ছে হলো - সে লেনডনকে বিয়ে করতে চায় সেই চার্চে যেখানে তার বাবা-মা বিয়ে করেছিলো।

লেনডন এবং জেইমির ভালবাসার অন্তিম পর্যায়ে জেইমি লেনডনকে জানালো তার ব্লাড ক্যানসার হয়েছে। এ অবস্থায় কোন চিকিৎসা ব্যবস্থাই কাজে আসবে না। লেনডন প্রাথমিক ভাবে খুবই কষ্ট পেয়েছিলো। ছবির এ সময়কার নাটকীয় সংলাপ, লেনডনের অভিব্যাক্তি দর্শক আপনার মন হৃদয়কে না ছুয়ে পারবে না।
জেইমির ক্যানসার আরও খারাপের দিকে যেতে লাগলো। জেইমিকে এখন হাসপাতালে চিকিৎসকের পরিচর্যায়। লেনডন প্রতিদিন জেইমিকে দেখতে আসতে লাগলো। জেইমির শর্যা পাশে বসে লেনডনের দিন রাত চলে যায়। একদিন লেনডন হাসপাতালে এসে দেখলো জেইমি ওয়ার্ডে নেই। কারন লেনডনের বাবা জেইমির জন্য স্পেশাল সেবার জন্য প্রাইভেট হোম কেয়ারের ব্যবস্থা করেছে।


জেইমির জীবনের শেষ বেলায় লেনডন জেইমির শেষ ইচ্ছেগুলো সফল করার জন্য আপ্রান চেষ্টা করে যেতে লাগলো। জেইমির ইচ্ছে অনুযায়ী লেনডন জেইমির জন্য একটি টেলিস্কোপ তৈরী করলো এবং লেনডন জেইমিকে অনুরোধ করলো সে টেলিস্কোপ দিয়ে দূর আকাশে তারাগুলো দেখার জন্য। ঠিক সে মূহুতেৃৃর্ব লেনডন জেইমিকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব দিলো। জেইমি সে প্রস্তাব গ্রহন করলো। চার্চে সুন্দর একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জেইমি এবং লেনডনের বিয়ে হলো যেখানে জেইমির বাবা উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের মধ্য দিয়ে লেনডন জেইমির জীবনের সব ইচ্ছে পুরন করলো। জেইমি এবং লেনডনের বিয়ের একমাস পর জেইমি মারা গেলো।

জেইমি মারা যাবার ৪ বছর পর লেনডন জেইমির বাবার সাথে দেখা করতে আসলো এবং বললো সে কলেজ শেষ করেছে এবং মেডিকেল স্কুলে ভর্তির চান্স পেয়েছে। লেনডন তারপর জেইমির বাবাকে একটি বই দিলো যে বইটি জেইমি লেনডনকে দিয়েছিলো। লেনডন গভীর কষ্ট নিয়ে জেইমির বাবাকে বললো - আমি দুঃখিত যে, আমি জেইমির মৃত্যুর পূর্বে তার সব ইচ্ছে পূরণ করতে পারিনি যা কালের অলৌকিক স্বাক্ষী হয়ে থাকবে। জেইমির বাবা বললো - জেইমি তার মৃত্যুর পূর্বে সেরকম এক অলৌকিক জিনিস দেখেছে, সে হচ্ছো তুমি।


ছবির শেষ পর্যায়ে জেইমিকে নিয়ে লেনডনের কিছু উক্তি এ ছবির মর্যাদাকে বাড়িয়েছে বহুগুন। লেনডন বলছে, জেইমি শুধু আমার জীবনই রক্ষা করেনি বরং জীবন সম্পর্কে সে বহুকিছু আমাকে শিখিয়েছে। কিভাবে জীবনে স্বপ্ন দেখতে হবে, কিভাবে স্বপ্ন নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যাবে সবকিছুই আমি শিখেছি জেইমির কাছে। দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে লেনডন মনে মনে বলছে - জেইমি ও আমার ভালবাসা বয়ে চলা বাতাসের মতো, দেখা যায় না শুধু মন দিয়ে অনুভব করা যায়। দূর আকাশের সূর্য অস্ত যেতে থাকে, জেইমির এবং লেনডনের জন্য কস্টও যেনো বেড়ে যায়, হৃদয়ে দাগ কেটে যায় ভালবাসায়। কোথায় গেলে পাবো তারে যে চলে গেছে বহুদূরে ------। মেন্ডিমুরের নিজের কন্ঠে গাওয়া একটি গান দিয়ে ছবিটি শেষ হয়। এ ছবিতে সেরা অভিনয় করেছে কে সে প্রশ্ন দর্শক আপনাদের বিবেচনায় থাক। কিন্তু একসময়কার বদমেজাজি, বখাটে ধরনের একটি ছেলে লেনডন অবশেষে হয়ে উঠছে ছবির সবচেয়ে বলিষ্ট নায়ক। ভালবাসার এরকম প্রতিদান দিতে শেখা, ভালাবাসার মানুষটাকে সম্মান দেখিয়ে জীবন বিসর্জন দেওয়া কিংবা ভালবাসতে শেখা আমরা এরকম ছবি না দেখলে কিভাবে শিখবো ? রিভিউ লিখতে লিখতে আমি ভুলেই গেছি এটি একটি ছবির ঘটনা। কারন ছবির কথা ভেবে বুকের মাঝখানটা যখন খালি খালি লাগছিলো। যেমনটি ছবির শেষদিকে লেনডনের হয়তো লাগছিলো জেইমির জন্য। এ ছবিতে জেইমি ভালবাসার প্রতিক এবং ভালবাসার সত্যিকার নায়ক আমাদের লেনডন। সবকিছুই অচল হয়ে যাবে, কিন্তু ভালবাসা থেকে যাবে।


আন্তর্জাতিক এওয়ার্ডঃ
A walk to Remember (2002) ছবিতে অভিনয়ের জন্য মেন্ডি মুর ২০০২ সালে MTV Movie Awards (Breakthrough Female Performance) পেয়েছেন।

পরিচালক - এডাম সাঙ্কম্যান
প্রযোজক - ডেনিস ডি নবি
হান্ট লরি
উপন্যাস - নিকোলাস স্পার্ক
অভিনয়ে - শেন ওয়েস্ট ও মেন্ডি মুর
সঙ্গীত - মারবিন ওয়ারেন
সিনেমাটোগ্রাফি - জুলিও ম্যাকেট
মুক্তিকাল - জানুয়ারী ২৫, ২০০২
সময় - ১০২ মিনিট

বিষয়শ্রেণী: বিবিধ
শেয়ার করুনঃ
৪৩৬ বার পঠিত, ৯ টি মন্তব্য
৬ জনের পছন্দ
রেটিং দিতে লগইন করুন
পাঠকের মন্তব্য:
মন্তব্যের জবাব দিতে সমস্যা হলে এখানে ক্লিক করুন এবং নতুন পাতায় মন্তব্য লিখুন
48658
০১ অক্টোবর ২০১০; সন্ধ্যা ০৬:৫৯
আজাদ লিখেছেন : সরাসরি প্রিয়তে ..
48667
০১ অক্টোবর ২০১০; সন্ধ্যা ০৭:১৩
মিখাইল জাবির লিখেছেন : প্রিয়তে রাখরাম।
48668
০১ অক্টোবর ২০১০; সন্ধ্যা ০৭:১৭
প্রবাহ লিখেছেন : ভাইরে.... লোভ আটকাইতে পারতাছি না! ক্যামনে এই ছবি দ্যাখা যাইব তাড়াতাড়ি কনতো ভাই!
48677
০১ অক্টোবর ২০১০; সন্ধ্যা ০৭:২৪
সংশপ্তক লিখেছেন : বস, আপ্নার বর্ণনা শুইনা ঈমানে কইতাছি আমি এই ছবির প্রেমে পইড়্যা গেছি! আছি ঢাকার বাইরে। ঢাকায় গিয়াই এই ছবি আমি জরুরি ভিত্তিতে দেখমুই!
০১ অক্টোবর ২০১০; সন্ধ্যা ০৭:৩৫
29302

মাছুম চৌধুরী লিখেছেন : আমার মন্তব্য খুব স্বাভাবিক, ভালবাসতে জানতে হয় এবং শিখতে হয়। কাউকে ভালবাসার পূর্বে মনে ভালবাসা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত। আপনার মনের মানুষটিকে খুব ভালবাসুন। জয় হোক সবার
48685
০১ অক্টোবর ২০১০; সন্ধ্যা ০৭:৪৫
ইফতি লিখেছেন : সুন্দর লিখেছেন।
48763
০১ অক্টোবর ২০১০; রাত ১০:২১
SalmaRahman লিখেছেন : প্রিয়তে রাখণাম।
48765
০১ অক্টোবর ২০১০; রাত ১০:২৭
শৈল্পিক ভাবনা লিখেছেন : প্রিয়তে....
48955
০২ অক্টোবর ২০১০; সকাল ১১:৫৮
চৌধুরী শামীম লিখেছেন : আপনার মুভি রিভিউ সত্যি ই অসাধারন। প্লিজ চালিয়ে যান। নিয়মিত চাই/
মন্তব্য লিখতে লগইন করুন
মাছুম চৌধুরী