পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ রোববার। ১৪৩৩ বছর আগে এই দিনে ১২ই রবিউল আউয়াল আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জন্ম নেন।
৬৩ বছর পর একই দিনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। তাই মুসলিম উম্মাহর জন্য এ দিনটি যেমন আনন্দের তেমনি শোকের।
বাংলাদেশে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হচ্ছে। এ দিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে পৃথকভাবে বাণী দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইতিহাসের এক অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। তাকে বলা হয় সাইয়্যিদুল মুরসালিন। অর্থাৎ, সব নবী ও রাসুলের নেতা। তিনি নিখিল বিশ্বের নবী। তার জন্মের সময় আরব দেশ অশিক্ষা, অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও ঘোর তমসায় নিমজ্জিত ছিল। এ কারণে ওই সময়কে বলা হয় ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকারের যুগ’।
ওই বর্বর যুগে পৈশাচিক স্বভাবের কালিমাতে মানুষের মানবিক গুণাবলির অপমৃত্যু ঘটেছিল। সে অবস্থা থেকে মানব জাতিকে মুক্তি দিতে মহান আল্লাহ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে পাঠান।
এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সূরা আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি আপনাকে সারা বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছি।’ মহান আল্লাহ পুরো মানবজাতির জন্য সর্বাপেক্ষা কল্যাণকর, পরিপূর্ণ জীবন বিধান সংবলিত পবিত্রতম আসমানি কিতাব ‘আল কোরআন’ নাযিল করেন মহানবী (সা.)-র ওপর।
প্রতি বছর ১২ই রবিউল আউয়ালকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পালন করে সারা মুসলিম বিশ্ব।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। গতকাল বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব চত্বরে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া এমপি এ অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন।
পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে- বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব চত্বরে প্রতিদিন বাদ মাগরিব থেকে ওয়াজ মাহফিল। দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামগণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন।
এছাড়া বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সেমিনার ও আলোচনা সভা, মহিলাদের জন্য সেমিনার এবং বায়তুল মোকাররম মসজিদে কিরাত ও হামদ-নাত মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে এ মেলা চলবে। মেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বঙ্গানুবাদ ও তাফসিরসমূহ আকর্ষণীয় কমিশনে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর পাশে সপ্তাহব্যাপী চলবে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনভিত্তিক পোস্টার ও ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৈনন্দিন ব্যবহার্য কিছু জিনিসপত্র এবং হযরত উসমান (রা.)-এর রক্তমাখা পবিত্র কোরআন শরীফ-এর প্রতিলিপিসহ অসংখ্য দুর্লভ ইসলামি পুস্তক প্রদর্শনীতে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনী প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কিরাত, আজান, হামদ-নাত, কবিতা আবৃত্তি উপস্থিত বক্তৃতাসহ বিভিন্ন ইভেন্টে ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয় এবং ইসলামিক মিশনের অফিসসমূহে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
সাহাবী আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূলে কারীম সা. যখন মদীনায় আসলেন তখন দেখলেন বছরের দুটি দিনে মদীনাবাসীরা আনন্দ-ফুর্তি করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন এ দিন দুটো কি ? তারা বলল যে আমরা ইসলামপূর্ব মুর্খতার যুগে এ দুদিন আনন্দ-ফুর্তি করতাম। রাসূলুল্লাহ সা. বললেনঃ আল্লাহ তাআলা এ দু’দিনের পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দুটো দিন তোমাদের দিয়েছেন। তা হল ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর। ( আবু দাউদ)
ইসলামে ঈদ শুধু দু’টি এ বিষয়টি শুধু সহীহ হাদীস দ্বারাই প্রমাণিত নয়, তা রবং ইজমায়ে উম্মত দ্বারাও প্রতিষ্ঠিত। যদি কেউ ইসলামে তৃতীয় আরেকটি ঈদের প্রচলন করে তবে তা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। বরং তা দ্বীনের মধ্যে একটা বেদআত ও বিকৃতি বলেই গণ্য হবে। যখন কেউ বলে সকল ঈদের সেরা ঈদ- ঈদে মীলাদ’ তখন স্বাভাবিক ভাবেই এর অর্থ হয় ইসলামে যতগুলো ঈদ আছে তার মধ্যে ঈদে মীলাদ হল শ্রেষ্ঠ ঈদ। কিভাবে এটা সম্ভব ? যে ঈদকে আল্লাহ ও তার রাসূল স্বীকৃতি দেননি। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন ও ইমামগন যে ঈদকে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা ইসলামে শ্রেষ্ঠ ঈদ বলে বিবেচিত হতে পারে কি ভাবে ? কোন ভাবেই নয়। আর যে ঈদ আল্লাহর রাসূল সা. প্রচলন করে গেলেন তা শ্রেষ্ঠ হবে না। এটা কিভাবে মেনে নেয়া যায়? কোন ভাবেই নয়। তবে শুধু একদিক থেকে মেনে নেয়া যায়, আর তা হল যত ভূয়া ও ভেজাল ঈদ আছে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হল এই ঈদ!
তা সত্ত্বেও যদি ঈদ পালন করতেই হয় তবে তা ১২ ই রবিউল আউয়াল তারিখে না করে ৯ ই রবিউল আউয়ালে করা যেতে পারে। তাহলে অন্তত সাইয়েদুল মুরসালীন সা. এর ইন্তেকাল দিবসে ঈদ পালন করার মত ধৃষ্ঠতা ও বেয়াদবির পরিচয় দেয়া হবে না। অবশ্য এটাও কিন্তু বেদআত বলে গণ্য হবে।
সার কথা ১২ই রবিউল আউয়ালে ঈদে-মীলাদ উদযাপন করা শরীয়ত বিরোধী কাজ। এ ধরণের কাজ হতে যেমন নিজেদের বাঁচাতে হবে তেমনি অন্যকে বিরত রাখার চেষ্টা করতে হবে।
যে কারণে ঈদে মীলাদুন্নবী পালন করা যাবে না
প্রথমতঃ
ইসলাম পরিপূর্ণ ধর্ম। কুরআন ও হাদীসের কোথাও ঈদে-মীলাদ পালন করতে বলা হয়নি। রাসূলে কারীম সা. এর সাহাবায়ে কেরাম বা তাবেয়ীনগন কখনো এটা পালন করেননি। তাই এটা বেদআত ও গোমরাহী।
আল্লাহ আল কোরআনে বলেছেনঃ
আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান স¤পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছšদ করলাম ।(৫ঃসুরা মায়েদাঃ০৩)
রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেনঃ
عن عائشة رضي الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد- أخرجه البخاري ومسلم
“আমাদের এ ধর্মে যে নতুন কোন বিষয় প্রচলন করবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।” (বুখারী ও মুসলিম।)
তিনি আরো ইরশাদ করেনঃ
“সাবধান ! ধর্মে প্রবর্তিত নতুন বিষয় থেকে সর্বদা দূরে থাকবে। কেননা নব-প্রবর্তিত প্রতিটি বিষয় হল বেদআত ও প্রতিটি বেদআত হল পথভ্রষ্ঠতা।” (আবু দাউদ, তিরমিজী,ইবনে মাজা, মুসনাদে আহমাদ)
দ্বিতীয়তঃ
ঈদে মীলাদুন্নবী হল খৃষ্টানদের বড় দিন, হিন্দুদের জন্মাষ্ঠমী ও বৌদ্ধদের বৌদ্ধ-পূর্ণিমার অনুকরণ। ধর্মীয় বিষয়ে তাদের আচার-অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করা ঈমানের দাবী। অথচ ঈদে-মীলাদ পালনের মাধ্যমে তাদের বিরোধিতা না করে অনুসরণ করা হয়।
তৃতীয়তঃ
সর্বসম্মতভাবে ১২ ই রবিউল আউয়াল নবী আকরাম সা. এর ইন্তেকাল দিবস। এতে কারো দ্বিমত নেই ও কোন সন্দেহ নেই। এ দিনে মুসলিম উম্মাহ ও সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর রাসূল সা. এর ইন্তেকালের শোকে পাথর হয়ে হয়ে গিয়েছিলেন। এসব জেনে-শুনে ঠিক এ দিনটিতে ঈদ তথা আনন্দ-উৎসব পালন করা চরম বেঈমানী ও নবীর শানে বেয়াদবী ভিন্ন অন্য কিছু হতে পারে না।
চতুর্থতঃ
মীলাদুন্নবী পালন করে অনেকে মনে করে নবী কারীম সা. এর প্রতি তাদের দায়ীত্ব-কর্তব্য আদায় হয়ে গেছে। তাই তারা রাসূলে কারীম সা.এর সীরাত ও আদর্শের প্রতি কোন খেয়াল রাখেন না। বরং তারা সীরাতুন্নবী নামের শব্দটাও বরদাশত করতে রাজী নয়।
পঞ্চমতঃ
আল্লাহ ও তার রাসূল সা. কর্তৃক নির্ধারিত ইসলামের দু’ঈদের সাথে তৃতীয় আরেকটি ঈদ সংযোজন করা ইসলাম-ধর্ম বিকৃত করার একটা অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২; সকাল ১০:৫৭
630131
আনোয়ার আলী লিখেছেন : ঈসা বলেন, আল্লাহ আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্যের খাঞ্জা নাযিল করেছেন। এই প্রেরন উপলক্ষে আমরা এই দিন 'ঈদ' পালন করি। আমরা এবং আমাদের পরবর্তীরা ঈদ পালন করবে। --সুরা মায়েদা আয়াত ১১৪-১১৫। এবার বলুন কোরআনের এই আয়াতকেও কি অস্বীকার করবেন ? ইসলামের ইতিহাস লিখা হয়েছে ক্ষমতা দখলকারী রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় দরবারী আলেমদের মাধ্যমে, কাজেই বিভ্রান্ত না হয়ে সাবধান হোন। মাসিক তরজুমান ফেব্রুয়ারী/২০১২ সংখ্যায় লেখা হয়েছে, ইসলাম ও মুসলমানদের ঈদ হিসাবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে সীমাবদ্ধ করা অজ্ঞতার সামিল। বুখারী শরিফে বলা হয়েছে, জনৈক ইহুদী হযরত ওমর (রাঃ)কে বলে, এমন একটা আয়াত যা আপনারা তিলওয়াত করে থাকেন যদি এ আয়াতটা আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের উপর নাযিল হতো, তাহলে আয়াত নাযিল হওয়ার দিনটিকে আমরা ‘ঈদ’ হিসেবে উদযাপন করতাম। আর তাহলো-‘‘আল ইয়াওমা আকমাতুলকুম দীনাকুম।’’ অর্থাৎ আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পরির্পূণ করে দিলাম এবং তোমাদের উপর আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করে দিলাম আর তোমাদের জন্যে ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।’ (সহি বুখারী, ২য় খন্ড, ১৮ পারা, ৬৬২ পৃষ্ঠা) অনুরুপভাবে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রাঃ)‘‘আল ইয়াওমা আকমাতুলকুম দীনাকুম।......’’ আয়াতটি জনৈক ইহুদীর সামনে তিলওয়াত করলে সে বলল-যদি এ আয়াত আমাদের ব্যাপারে নাযিল হতো তাহলে আমরা সে দিন ঈদ উদযাপন করতাম। উত্তরে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রাঃ)বলেন, আয়াতটি তো এমন দিন নাযিল হয়েছে, যেদিন দু’টি ঈদই উদযাপিত হচ্ছিল। একটা হল জুমার, অপরটি আরাফাহর ঈদ। (জামে তিরমিযী, ২য় খন্ড, ১৩৪ পৃষ্ঠা) হযরত ওমর (রাঃ) ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রাঃ) আরাফাহ ও জুমার দিনের কথা উল্লেখ করে উক্ত ইহুদীকে বলেন, আয়াতটি ঈদের দিনই নাযিল হয়েছে। এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা ছাড়াও ইসলামে জুমা ও আরাফাহ দিবসকেও ‘ঈদ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কাজেই এর বিপরীত যারা বলেন, তারা ওহাবী ধর্মমতের অনুসারী এবং সরাসরি মিথ্যা বলেন।
০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২; সকাল ১১:৫৫
630252
কাসেম বিন আব্বাস লিখেছেন : দ্বীন বিরোধী কর্মের সুন্দরভাবে প্রতিবাদ করার জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। সাথে আমার পক্ষ থেকে প্রাণ ঢালা অভিনন্দন। আল্লাহ আপনার জ্ঞানের পরিধি আরো বাড়িয়ে দিন।
০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২; সকাল ১১:৫৬
630257
কাসেম বিন আব্বাস লিখেছেন : truelife4mankind ভাইয়া, দ্বীন বিরোধী কর্মের সুন্দরভাবে প্রতিবাদ করার জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। সাথে আমার পক্ষ থেকে প্রাণ ঢালা অভিনন্দন। আল্লাহ আপনার জ্ঞানের পরিধি আরো বাড়িয়ে দিন।
০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২; দুপুর ১২:০১
630268
বসুমন্দার লিখেছেন : আপনি চাইছেন ঈদে মিলাদুন্নবী কেন ? বলতে চাইছেন ,ঈদ মাত্র দুটি ,রাসূলের জন্মদিনটি আবার আরেকটি ঈদ বা খুশী হয় কি করে ? ঈদে মিলাদুন্নবী phrase টি যদি নাজায়েজ মনে করেন.... যদি মনে করেন দুটি ঈদের দিন বা দুটি খুশীর দিন ছাড়া আর কোন খুশীর দিন হতে পারেনা, তাহলে তা না হউন.... তবে সেক্ষেত্রে বলুন "৩৬৫ দিনের মধ্যে আমি মাত্র ২ দিন খুশী আর বাকী ৩৬৩ দিন অ-খুশী" কিংবা বলুন ''কারো জন্মদিনে আমি খুশী নই'.আপনার এ কথাগুলিতে আমার না-খুশী হবার কোন কারণ দেখছিনা
ছোট মাদবর লিখেছেন : মিলাদুন্নাবী পালন বাদ দিয়ে সিরাতুন্নবী পালন করাই ইসলামের শিক্ষা। কারণ এই মিলাদুন্নবী রাসূলের(সা.),সাহাবী,তাবেঈ বা তাবে-তাবেঈন কেউ কিন্তু পালন করেনি। সুতরাং কেউ এই কাজ করলে তা হবে ইসলাম বিরুধী। জন্মদিন পালন করা ইসলামে জায়েজ নেই। যারা পালন করে তারা ইহুদি,খ্রিষ্টানদের মতো কাজ করছে। যার পরিণাম ভয়াবহ শাস্তি।
৪
637538
০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২; দুপুর ১২:১৮
কাসেম বিন আব্বাস লিখেছেন : জনাব আনোয়ার আলী সাহেব, কি দিয়ে কি দলীল পেশ করলেন? কথায় বলেঃ কোথায় শেখ শাদী আর কোথায় বকরীর লাদী।
প্রথমঃ আয়াতের অপব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। সে ঈদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন? না করতে তার উম্মাতকে উদ্বুদ্ধ করেছেন? নাকি তারই পালন করেছিলেন? দলীল উল্লেখ করবেন আশা করি।
শেষে বলব...
এ জন্ম দিনের ঈদঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন?
সাহাবায়ে কেরামগণ পালন করেছেন?
তাবেঈ-তাবে তাবেঈগণ পালন করেছেন?
চার প্রসিদ্ধ ইমামগণ পালন করেছেন?
উত্তর বলুন না না না না না না না না। তাহলে আপনি?????
কুরআন হাদীসকে নিজের ব্যাখ্যাতে বুঝতে চেষ্টা করা বড় বোকামী ছাড়া আর কিছুই নয়।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
৫
637539
০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২; দুপুর ১২:১৮
কাসেম বিন আব্বাস লিখেছেন : জনাব আনোয়ার আলী সাহেব, কি দিয়ে কি দলীল পেশ করলেন? কথায় বলেঃ কোথায় শেখ শাদী আর কোথায় বকরীর লাদী।
প্রথমঃ আয়াতের অপব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। সে ঈদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন? না করতে তার উম্মাতকে উদ্বুদ্ধ করেছেন? নাকি তারই পালন করেছিলেন? দলীল উল্লেখ করবেন আশা করি।
শেষে বলব...
এ জন্ম দিনের ঈদঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেছেন?
সাহাবায়ে কেরামগণ পালন করেছেন?
তাবেঈ-তাবে তাবেঈগণ পালন করেছেন?
চার প্রসিদ্ধ ইমামগণ পালন করেছেন?
উত্তর বলুন না না না না না না না না। তাহলে আপনি?????
কুরআন হাদীসকে নিজের ব্যাখ্যাতে বুঝতে চেষ্টা করা বড় বোকামী ছাড়া আর কিছুই নয়।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
৬
637555
০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২; দুপুর ১২:৪৩
বসুমন্দার লিখেছেন : @ কাসেম বিন আব্বাস,
পোষ্টে ছবির কথা কিছু বল্লেননা কেন ? কেন জিজ্ঞেস করেননি....এছবি তোলার কাজটি (আমলটি) কোন সাহাবা-তাবেয়ী-তাবে-তাবেয়য়িন করেননি, আপনি করলেন কেন ?, কেন জিজ্ঞেস করেননি এ ছবি তোলার কাজটি (আমলটি) প্রসিদ্ধ ইমামগ করেননি , আপনি এ আমলটি করলেন কেন ? কেন জি্জ্ঞেস করেননি এটি কিসের ছবি ?
কাসেম সাহেব জিজ্ঞেস না করলেও লেখক কি এর উত্তর দিবেন ?
লেখক সাহেব আরেকটি প্রশ্নের উত্তর দিন যেটি কাসেম সাহেব নিজেই নিজের প্রশ্নে ধরা খেয়ে যাবেন বলে করেননি .। আর তা হল ,সাহাবা-তাবেয়য়িন-তাবে-তাবেয়ীনগণ ইন্টরনেট ব্যবহার করেননি, তাই ইন্টারনেট এ আমল করা বেদাত। এ বেদাতী কাজ করলেন কেন ?
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
৭
637598
০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২; দুপুর ০১:১৮
দেশ আমার মাটি আমার লিখেছেন : শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের মত জশনে জুলুস চালু হয়েছে । পৃথিবীর আর কোন দেশে নবীপ্রেমী নাই সব বাংলাদেশে । রসুল সাঃ ওফাতের পর কোন সাহাবা আকরাম যা করে নাই বাংলাদেশের মুসলমানরা সেসব চালু করেছে । পৃথিবীর কোন মুসলিম দেশে এইসব বিদাত নাই।
Rashad লিখেছেন : India, Bangladesh & Pakistan this three countries people are doing Bedat. In Arab countries Shia are doing Bedat.
All bedat has come from Shia. Read Shahi Hadith & Quran Tafsir.
May Allah save us from Bedath.
ইসলামে ঈদ হল দুটি। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।
সাহাবী আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূলে কারীম সা. যখন মদীনায় আসলেন তখন দেখলেন বছরের দুটি দিনে মদীনাবাসীরা আনন্দ-ফুর্তি করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন এ দিন দুটো কি ? তারা বলল যে আমরা ইসলামপূর্ব মুর্খতার যুগে এ দুদিন আনন্দ-ফুর্তি করতাম। রাসূলুল্লাহ সা. বললেনঃ আল্লাহ তাআলা এ দু’দিনের পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দুটো দিন তোমাদের দিয়েছেন। তা হল ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর। ( আবু দাউদ)
ইসলামে ঈদ শুধু দু’টি এ বিষয়টি শুধু সহীহ হাদীস দ্বারাই প্রমাণিত নয়, তা রবং ইজমায়ে উম্মত দ্বারাও প্রতিষ্ঠিত। যদি কেউ ইসলামে তৃতীয় আরেকটি ঈদের প্রচলন করে তবে তা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। বরং তা দ্বীনের মধ্যে একটা বেদআত ও বিকৃতি বলেই গণ্য হবে। যখন কেউ বলে সকল ঈদের সেরা ঈদ- ঈদে মীলাদ’ তখন স্বাভাবিক ভাবেই এর অর্থ হয় ইসলামে যতগুলো ঈদ আছে তার মধ্যে ঈদে মীলাদ হল শ্রেষ্ঠ ঈদ। কিভাবে এটা সম্ভব ? যে ঈদকে আল্লাহ ও তার রাসূল স্বীকৃতি দেননি। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন ও ইমামগন যে ঈদকে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা ইসলামে শ্রেষ্ঠ ঈদ বলে বিবেচিত হতে পারে কি ভাবে ? কোন ভাবেই নয়। আর যে ঈদ আল্লাহর রাসূল সা. প্রচলন করে গেলেন তা শ্রেষ্ঠ হবে না। এটা কিভাবে মেনে নেয়া যায়? কোন ভাবেই নয়। তবে শুধু একদিক থেকে মেনে নেয়া যায়, আর তা হল যত ভূয়া ও ভেজাল ঈদ আছে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হল এই ঈদ!
তা সত্ত্বেও যদি ঈদ পালন করতেই হয় তবে তা ১২ ই রবিউল আউয়াল তারিখে না করে ৯ ই রবিউল আউয়ালে করা যেতে পারে। তাহলে অন্তত সাইয়েদুল মুরসালীন সা. এর ইন্তেকাল দিবসে ঈদ পালন করার মত ধৃষ্ঠতা ও বেয়াদবির পরিচয় দেয়া হবে না। অবশ্য এটাও কিন্তু বেদআত বলে গণ্য হবে।
সার কথা ১২ই রবিউল আউয়ালে ঈদে-মীলাদ উদযাপন করা শরীয়ত বিরোধী কাজ। এ ধরণের কাজ হতে যেমন নিজেদের বাঁচাতে হবে তেমনি অন্যকে বিরত রাখার চেষ্টা করতে হবে।
যে কারণে ঈদে মীলাদুন্নবী পালন করা যাবে না
প্রথমতঃ
ইসলাম পরিপূর্ণ ধর্ম। কুরআন ও হাদীসের কোথাও ঈদে-মীলাদ পালন করতে বলা হয়নি। রাসূলে কারীম সা. এর সাহাবায়ে কেরাম বা তাবেয়ীনগন কখনো এটা পালন করেননি। তাই এটা বেদআত ও গোমরাহী।
আল্লাহ আল কোরআনে বলেছেনঃ
আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান স¤পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছšদ করলাম ।(৫ঃসুরা মায়েদাঃ০৩)
রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেনঃ
عن عائشة رضي الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد- أخرجه البخاري ومسلم
“আমাদের এ ধর্মে যে নতুন কোন বিষয় প্রচলন করবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।” (বুখারী ও মুসলিম।)
তিনি আরো ইরশাদ করেনঃ
“সাবধান ! ধর্মে প্রবর্তিত নতুন বিষয় থেকে সর্বদা দূরে থাকবে। কেননা নব-প্রবর্তিত প্রতিটি বিষয় হল বেদআত ও প্রতিটি বেদআত হল পথভ্রষ্ঠতা।” (আবু দাউদ, তিরমিজী,ইবনে মাজা, মুসনাদে আহমাদ)
দ্বিতীয়তঃ
ঈদে মীলাদুন্নবী হল খৃষ্টানদের বড় দিন, হিন্দুদের জন্মাষ্ঠমী ও বৌদ্ধদের বৌদ্ধ-পূর্ণিমার অনুকরণ। ধর্মীয় বিষয়ে তাদের আচার-অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করা ঈমানের দাবী। অথচ ঈদে-মীলাদ পালনের মাধ্যমে তাদের বিরোধিতা না করে অনুসরণ করা হয়।
তৃতীয়তঃ
সর্বসম্মতভাবে ১২ ই রবিউল আউয়াল নবী আকরাম সা. এর ইন্তেকাল দিবস। এতে কারো দ্বিমত নেই ও কোন সন্দেহ নেই। এ দিনে মুসলিম উম্মাহ ও সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর রাসূল সা. এর ইন্তেকালের শোকে পাথর হয়ে হয়ে গিয়েছিলেন। এসব জেনে-শুনে ঠিক এ দিনটিতে ঈদ তথা আনন্দ-উৎসব পালন করা চরম বেঈমানী ও নবীর শানে বেয়াদবী ভিন্ন অন্য কিছু হতে পারে না।
চতুর্থতঃ
মীলাদুন্নবী পালন করে অনেকে মনে করে নবী কারীম সা. এর প্রতি তাদের দায়ীত্ব-কর্তব্য আদায় হয়ে গেছে। তাই তারা রাসূলে কারীম সা.এর সীরাত ও আদর্শের প্রতি কোন খেয়াল রাখেন না। বরং তারা সীরাতুন্নবী নামের শব্দটাও বরদাশত করতে রাজী নয়।
পঞ্চমতঃ
আল্লাহ ও তার রাসূল সা. কর্তৃক নির্ধারিত ইসলামের দু’ঈদের সাথে তৃতীয় আরেকটি ঈদ সংযোজন করা ইসলাম-ধর্ম বিকৃত করার একটা অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।
এবার বলুন কোরআনের এই আয়াতকেও কি অস্বীকার করবেন ?
ইসলামের ইতিহাস লিখা হয়েছে ক্ষমতা দখলকারী রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় দরবারী আলেমদের মাধ্যমে, কাজেই বিভ্রান্ত না হয়ে সাবধান হোন।
মাসিক তরজুমান ফেব্রুয়ারী/২০১২ সংখ্যায় লেখা হয়েছে, ইসলাম ও মুসলমানদের ঈদ হিসাবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে সীমাবদ্ধ করা অজ্ঞতার সামিল। বুখারী শরিফে বলা হয়েছে, জনৈক ইহুদী হযরত ওমর (রাঃ)কে বলে, এমন একটা আয়াত যা আপনারা তিলওয়াত করে থাকেন যদি এ আয়াতটা আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের উপর নাযিল হতো, তাহলে আয়াত নাযিল হওয়ার দিনটিকে আমরা ‘ঈদ’ হিসেবে উদযাপন করতাম। আর তাহলো-‘‘আল ইয়াওমা আকমাতুলকুম দীনাকুম।’’ অর্থাৎ আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পরির্পূণ করে দিলাম এবং তোমাদের উপর আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করে দিলাম আর তোমাদের জন্যে ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।’ (সহি বুখারী, ২য় খন্ড, ১৮ পারা, ৬৬২ পৃষ্ঠা)
অনুরুপভাবে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রাঃ)‘‘আল ইয়াওমা আকমাতুলকুম দীনাকুম।......’’ আয়াতটি জনৈক ইহুদীর সামনে তিলওয়াত করলে সে বলল-যদি এ আয়াত আমাদের ব্যাপারে নাযিল হতো তাহলে আমরা সে দিন ঈদ উদযাপন করতাম। উত্তরে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রাঃ)বলেন, আয়াতটি তো এমন দিন নাযিল হয়েছে, যেদিন দু’টি ঈদই উদযাপিত হচ্ছিল। একটা হল জুমার, অপরটি আরাফাহর ঈদ। (জামে তিরমিযী, ২য় খন্ড, ১৩৪ পৃষ্ঠা)
হযরত ওমর (রাঃ) ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রাঃ) আরাফাহ ও জুমার দিনের কথা উল্লেখ করে উক্ত ইহুদীকে বলেন, আয়াতটি ঈদের দিনই নাযিল হয়েছে। এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা ছাড়াও ইসলামে জুমা ও আরাফাহ দিবসকেও ‘ঈদ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কাজেই এর বিপরীত যারা বলেন, তারা ওহাবী ধর্মমতের অনুসারী এবং সরাসরি মিথ্যা বলেন।