যখন তখন গালাগালি করা তার অভ্যাস, মনে কর এমনিতেই বসে আছে কিন্তু এর মধ্যেই সুখে থাকলেও ভুতে তাকে কিলাবেই। কথা নেই বার্তা নেই, মোড়ের ধারে হাটতে থাকা কিশোর ছেলেটিকে দৌড়ানি দিলো, ক্যমন হইলো? হুদাই।
আচমকা সময়ের শেষ গানগুলো বাঁজে, মনে হয় যেনো সব তাউরাস এক হয়ে বসে উঠান মেলেছে। চিলেকোঠায় দু চারটা ইদুর জমানো গমের ভেতর হেটে বেরায় বলেই এখনো সন্ধ্যা নামে। ধর একদিন আর সন্ধ্যা নামলো না, তারপর কি হবে?
...
এইতো শহর, আমার ভেতর
ঝগড়া ঝাটির ঝড় তোলে
ভিন্ন ভিন্ন ছিন্ন ভিন্ন
মেঘ স্বপনের ঘর তোলে
সর্বদাই শব্দ সংক্রান্ত স্বল্পতারা নিজস্ব ব্যাখ্যা সংক্রান্তিতে এসে কাল হয়ে দাঁড়াত। নিজেকে বুঝার চেষ্টাটাই খুব বিরাট একটা প্রশ্ন হয়ে তার্কিক শহরের বিতর্কিত...
বাংলা ব্লগ দিবস নিয়া নানান ধরণের ক্যচাল ও উচ্চমাত্রার শব্দতরঙ্গ শ্রুত হইতেছে। কেহ কেহ গিট্টু লাগাইবার নিমিত্তে আন্তরিক পোষ্ট দিয়াছেন এমনকি সেই জটলা পাকানো গিট্টু ছাড়াইতেও বহুজন উত্তেজিত হইয়া পড়িবার উপক্রম।
সামহোয়ারইন ব্লগ অত্যান্ত চমৎকার একটি ব্লগ, এবং সেই সাথে সেখানের পরিবেশও সুন্দর। কিন্তু কাহারো সঙ্গে সেই পরিবেশ যায়না বলিয়াই সোনার বাংলা নামক ব্লগে কিছু মানুষের ভির বাড়িয়া থাকে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মাঝে কুটিল কিছু সেয়ানা মগজ সকল স্থানেই রহিয়াছে। উহা সামুতে যেমন এসবিতেও তেমন। কিন্তু লক্ষ্যকরিয়া আতংকিত হই...
মানুষ চাইলেও কখনো কখনো জীবনকে পরিবর্তন করতে পারেনা, আকাশের মত করে সেখানে মেঘ জমে বৃষ্টি ঝরে আবার রোদ খেলা করে। মানুষ জীবটা বড্ড অদ্ভুতরে খুকি। আমি পৃথিবীর তাবৎ নিয়ম থেকে মুক্ত। তাই হয়তো এতোটা গভীর ভাবে তোর কিংবা তোদের উপলব্ধিগুলো অনুভব করি।
পুতুল খেলার দিন শেষ। দিন শেষ অনেক কিছুরই, কিন্তু যে নিয়মের দিনে তুই আবদ্ধ হচ্ছিস তাও কিন্তু অনিশ্চিত নিশ্চয়তার দিন। সেটা উপেক্ষা করার শক্তি কার আছে?
জীবনে যখন মগ্নতার দিন আসে তখন উপলব্ধিগুলো ছেঁড়া কাঁথার মত বিস্তৃত হতে থাকে। আমাদের সময়গুলো হয়ে উঠে বিষাক্ত।
তুই আমি আমরা, সত্যিকার অর্থে কেউ না, নো-বডি। শতাব্দী আমাদের ঘাড়ে পা রেখে নিজের খোলস খুলে নিত্যই নতুন হচ্ছে। আমরা কেবল সময়ের ভার বহনকারী গাধা। এতো বাতচিত, এতো আয়োজন, এতো রাজনীতি, অর্থনীতি সবইতো আগামীর জন্য। সওয়ার হয় মানব পিঠে। এইসব উৎকর্ষতা আসলে বেকার মনকে আকার দেয়ার প্রচেষ্টা।
এখানেও কিন্তু ছিলাম আমরা সবাই। আমাদের কোলে মাথা-রেখে কত স্বপ্ন তাদের দু চোখে কাজল মেখেছে, কত কাশবন তার তরুণীয় ঝিলিকে সূর্যালোকে নিজের ভেতর ধারণ করেছিলো।
শীতের দিন আসছে, খুকি তুই শুনছিস? শীত আসছে। ওরা ডানা ঝাপটাবে এই ফকীরের দেশে কংকালসার বৃদ্ধের হাড়ের চিপায় চাপায়। তোর মনে আছে? সেই ছোট্ট কালে দাদু-বাড়ীর সামনে যে উঁচু রাস্তাটা ছিল ওখানে বুড়ো লোকেরা তাদের মেরুদণ্ডের হাড়গুলোকে দেখিয়ে সূর্যের দিকে পিঠ করে বসে থাকতো। খুব গভীর ভাবে দেখলে হয়তো চোখে লাগতো সেই হাড়ের উঁচুনিচু...
প্রায়ই না খেয়ে থাকি, শরীরে খুব একটা ক্ষতি হয়না জানিস? মঞ্জু সেদিন বলে, মশাই শুনেছেন? চশমার ভারি ফ্রেমের নিচে গোল হয়ে থাকা পাওয়ারটা দিয়ে তার দিকে টানা এক মিনিট তাকিয়ে বলি "কি?
ও জানে যে ওকে এই প্রশ্নটা শুনতে হলে মিনিট খানেক অপেক্ষা করতে হবে, এবং এই ফাঁকে আমি তার সমগ্র শরীরে দু বার নজর বুলিয়ে নেবো। ও দাড়িয়ে সব সময় দু পায়ের বুড়ো আঙ্গুলগুলো দিয়ে মাটির মধ্যে সুড়সুড়ি দিতে থাকে। মেক্সিকান আধবুড়োর আসল নাম ম্যেঞ্জার সলু। ভাবলাম থাকবি...
জানিস? আমার এখানে রাত হলেই পাহাড়ি কুকুরগুলো বিকট শব্দে মাথায় তোলে পুরো এলাকাটা। ক্যেমন যেন গা ছিম ছিমে একটা অবস্থা। এখনো বারান্দায় বসে আছি ইজি চেয়ারে। দূরে দু একটা শিশিরের ফোটা পড়ার শব্দ শুনা যায়।
সমতলে কেউ একজন প্রতি রাতেই তার বউকে পেটায়, আর বৌ তাকে ইচ্ছা মত গালাগাল করে। এটা প্রায় নিয়মিত। দিনের বেলায় প্রায়ই দেখি দুজন হাত ধরাধরি করে হাটে। হাসি ঠাট্টা ভালোবাসা সবই আছে। কি আশ্চর্য। মানুষ মানেই অন্যরকম। ঐ তো-- আমি ঠিক ঠিক শুনতে পাচ্ছি--...
শোন পাগলি, আমি সুন্দর করে কথা বলতে জানিনা, অশরীরীদের কথা বলায় মানা আছে, কে এমন নিয়ম করেছে জানা নেই, কিন্তু নিয়মগুলো এমনই যে শত বছর ধরে অনুসরণ করতে থাকলে সেগুলো রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যায়, আর ছাড়ানো যায়না, সেই নিয়মকে ভেঙ্গে আরও মজবুত কিছু সশব্দে ছড়ানো যায় কিনা সেই চিন্তা মাথার মগজেই আসেনা।
মগজের চারিদিকে অন্ধ আনুগত্যের শক্ত দেয়াল তৈরি হয়, সে দেয়ালের ঘাঁজে জন্মায়নি কোন শেওলা জাতিয় উদ্ভিদ, সেখানে কেবল প্যালেস্তার খসে যাওয়া নোংরা দুর্গন্ধের বিষ্ঠারা খেলা করে।...
কেউ একজন অনেক বছর আগে খুব আপন ছিল, পর হতে হতে কিরকম যেন আবার আপন হয়ে গেলো। আবার আপন হতে হতে পর হবার পালা। নতুন নতুন মানুষগুলো একেকজনের জীবনে আসছে, আর যাচ্ছে, ভিন্ন ভিন্ন অনুভবে ভিন্নতা নিয়ে কিরকম একটা স্বপ্নের মতই কেটে যাচ্ছে সেই আদি থেকে...
আলতো করে ধরা আমাদের নগর সভ্যতার খসখসে দেয়ালে
সবুজ শেওলার আস্তরণ, এখানে চাষ হয় ইন্ডিভিজুয়ালিজমের।
আমিই হয়ে উঠি রাজত্বের কর্ণধার, আমাতেই আমি আমিত্বে,
বেড়ে উঠে দালান প্রতিটি মানব প্লটে, সীমান্তে অন্তে।
ভোর হবে হবে ঠিক এমন সময়ে কখনো দুনিয়া দেখেছিস? তোদের এই নগরীয় সভ্যতায় ভোরকে দেখতে হলে ছাদের উপর...
বাতাসের ভেতর দিয়ে সময়ের ঘোড়সওয়ার দূর্বার গতিতে
নিঃশেষ হওয়ার পথে ক্রমান্বয়ে ধাবমান।
প্রিয়ার চুলের ঘ্রাণে মাতাল সৈনিক যুদ্ধের ময়দান থেকে ফিরে আসে
ফিরে আসে হিরোয়িক সব আচরণ খসিয়ে, পরে থাকে শিরস্ত্রাণ, তরবারি
এক মুঠো ভালোবাসার কাছে জাতীয় স্বার্থ পরে থাকে পদানত।
...
আদিম মানুষেরা দুটো পাথর নিয়ে প্রচণ্ড আবেগে খেলা করছে। আবেগ মস্তিষ্কের অনেক আদিম অংশ। আর লজিক হচ্ছে সভ্যতার সাথে পরিবর্তনশীল।
আমি কিন্তু তোদের সময়ে নেই।
বহু সহস্র শতাব্দী প্রাচীনে বসে জঙ্গলের সেই আদিম মানবদের সাথে বসে আগুন নাচ দেখছি। এইসব বুনো স্বভাবের মাঝে কি ধরনের যেন একটি প্রশান্তি আছে। মাঝখানে শুকনো কাঠে জ্বলছে ভাবি সভ্যতার আগুন।
...
শাওয়ার ছেড়ে দিয়ে একেবারে চুপ হয়ে কখনো ১০০ মিনিট দাড়িয়ে ছিলি একাধারে? প্রথম বেশ ভালো লাগবে, ঘাড়ে পানিগুলো লম্বা চুলগুলোকে ছুঁয়ে চুইয়ে পড়বে। ২০ মিনিট যখন পার হবে তখন দাড়িয়ে থাকাটা অসহ্য মনে হবে। কিন্তু কি অদ্ভুত ভাবে পরবর্তী ১০ মিনিটের মধ্যেই একটা পরিবর্তন ঘটবে মনোজগতে। মনে হবে একটা প্রবহমান ঝর্ণার নিচে দাড়িয়ে, তবে শর্ত হচ্ছে চোখ বন্ধ রাখতে হবে।