পহেলা মার্চ’২০১২ বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স এ চট্টগ্রাম থেকে আবুধাবির যাত্রী ছিলাম রাত ৮:৪৫’র ফ্লাইটে। যথা সময়ে চকবাজারের বাসা থেকে বের হয়ে আগ্রাবাদ পর্যন্ত পৌঁছালে গিন্নী মোবাইলে জানাল, টিভিতে হেড লাইন উঠছে, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দরে আগুন লেগেছে, সমস্ত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তারপরও এয়ার পোর্টে গিয়ে দেখতে পেলাম ঘটনা সত্যি, ফায়ার বিগ্রেডের আনাগোনা এবং আগুন আয়ত্বে আনার চেষ্টা চলেছে। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বাসায় ফিরে এলাম।
রাত ১০/১১টার দিকে এয়ার পোর্টে ফোন করে জানতে পারলাম আগুন...
গত তিনটি মাস ব্যবসায় বানিজ্য নিয়ে আবুধাবীতে বেশ ব্যস্ত ছিলাম। এরই মধ্যে দেখতে দেখতে দেশে আসার সময় হয়ে গেল। গতবার বেশ দাম দিয়ে টিকেট কিনতে হয়েছিল। এবার বুদ্ধি করে প্রায় মাস খানেক আগেই টিকেট কেটে রেখেছিলাম। ফলে প্রায় ৫০০ দিরহাম কমে, ১৫৭০ দিরহামে টিকেট পাওয়া গেল। আবুধাবী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের টার্মিনাল ২ থেকে রাত দুটার ফ্লাইট। আবুধাবী থেকে চট্টগ্রামের সরাসরি ফ্লাইট একমাত্র বিমানের। এখান থেকে অন্যকোন এয়ার লাইন্সের চট্টগ্রামে সরাসরি প্রবেশাধিকার নেই। তাই ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায়, বিমানেই চড়তে হয়। অন্যকোন ফ্লাইট থাকলে অবশ্য দেশ প্রেম আর বিমান প্রেমের উর্দ্ধে উঠে যাত্রী সেবার মান যে পরখ করে দেখা হতোনা,...
প্রাবস থেকে দেশে গিয়ে রিকসায় চড়ে কোথাও যাচ্ছিলাম। আমাদের রিকসাটির পেছনে একটি প্রাইভেট কার রাস্তা চেয়ে হর্ণ বাজাতেই আমাদের রিকসাওয়ালা ঐ গাড়ীর ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য...
মোসাফ্ফাহ্, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীর প্রধান শিল্প নগরী এটি। আবুধাবী সিটি থেকে প্রায় ৩০ কি.মি. দক্ষিণ পূর্বে এর অবস্থান। ব্যবসায় বানিজ্য এবং চাকুরীতে এখানে বাংলাদেশীদের অবস্থান চোখে পড়ার মতো।
...
এসবির যাত্রার প্রথম দিন থেকেই বগ্লগিং করতে করতে নিজের অজান্তেই এসবি পরিবারের একজন হয়ে গেছি। অনেকের সাথে ভাল বন্ধুত্ব হয়েছে এখানে। ইদানিং ব্যবসায়িক কাজে একটু বেশী ব্যস্ত থাকার কারনে ব্লগে অনিয়মিত হয়ে পড়েছি। মাঝে মধ্যে ব্লগ খুললেই দেখি অনেক বন্ধু অনিয়মিত হওয়ার কারণ জানতে চেয়ে বার্তা দিচ্ছেন।
এসবি ম্যাগাজিনেও প্রায় প্রতি সপ্তাহে একটি আর্টিক্যাল লেখা হতো আমার। বিগত প্রায় এক মাস যাবৎ ম্যাগাজিনেও লেখা হয়ে ওঠেনি। এটি ছিল ম্যাগাজিনের সর্বশেষ লেখা । এখানেও বেশ কয়েকজন পাঠক মেইল...
বন্ধুটি আর কেউ নয়, এসবি ব্লগের একজন প্রথম সারির ব্লগারচাটি গাঁ থেকে। আমাদের চক বাজার এলাকার ব্যবসায়ী হলেও এসবিতে ব্লগিং এর মাধ্যমেই পরিচয়। প্রবাস থেকে এসে তাঁর সাথে বেশ বন্ধুত্ব হয়ে গেল। স্বল্প সময়ের মধ্যে পারস্পরিক সুখ-দুঃখের অনেক কিছু জানা হয়েছে।
গত ২৬ অক্টোবর'১১, দুপুরের দিকে তাঁর ফোন পেলাম। তাঁকে একটু বিমর্ষ মনে হলো। জানালেন, তাঁকে পাঁচলাইশ থানার পুলিশ ধরে নিয়ে এসেছে। সংবাদটা শুনে মাথায় বাজ পড়ার মত অবস্থা হলো। তাঁর স্ত্রী মানসিক অসুস্থতায়...
একবার আমার বোনের বাড়ীতে বেড়াতে গিয়ে তাদের পোষা পায়রাগুলো দেখে আমারও সখ হলো পায়রা পোষার। মিস্ত্রী দিয়ে একটা বাসা বানিয়ে এক জোড়া পায়রা দিয়ে শুরু করলাম।...
বল হয়, "প্রবাস মানে যন্ত্রনা, নয় ফুলের বিছানা।" তাই বলে প্রবাসে কোন সুখ নেই, আনন্দ নেই, তা মোটেই ঠিক নয়। প্রিয়জন থেকে দূরে থাকার হাজারো কষ্ট উপক্ষো করে প্রবাসীদেরকে হাসী আনন্দে উজ্জিবীত রাখার দু'টি ধর্মীয় অনুষ্ঠাণ হচ্ছে ঈদুল ফিৎর এবং ঈদুল আযহা। আমরা যারা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে প্রবাসী হয়ে আছি, তাদের তুলনায় অমুসলিম দেশের প্রবাসীরা একটু ভিন্ন অবস্থানে থাকলেও তারাও কোন না কোন উপায়ে নিজেদের মধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগা ভাগী করে থাকেন।
ছাত্র জীবনের ইতি টেনে দীর্ঘ প্রবাস জীবনে পদার্পনের কারণে নিজ দেশের আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা সমূহ ঘুরে দেখার ফুরসত হয়নি খুব একটা। যদিও বিদেশের অনেক কিছুই দেখা হয়েছে সপরিবারে। বাচ্চারা এখন দেশেই থাকে, আমি ২/৪ মাস প্রবাসে এবং ২/৪ মাস দেশে থাকি। প্রবাস থেকে দেশে ফেরার সময় প্রতিবারই মনে মনে পরিকল্পনা আঁটি এবার অন্তত কয়েকটি স্থান দেখে আসব। কিন্তু বাচ্চাদের স্কুল, কোচিং এবং আনুষাঙ্গিক অন্যান্য মস্যার কারণে সময় বের করা খুব একটা হয়ে ওঠে না। ঘরের পাশের ফ'য়স লেক, রাঙ্গামাটি এবং কক্সেস বাজারের বাহিরে যাওয়া হয়নি আর কোথাও।
একবার আবুধাবী থেকে সপরিবারে দেশে ফেরার সময় লাগেজ বেশী হয়ে যাওয়াতে কয়েকটি লাগেজ বুকিং দিয়েছিলাম। বুকিং করা মালগুলোর জন্য এয়ার পোর্ট থেকে একটি ফরম পূরণ করে একজন ডিউটি অফিসারের সাক্ষর নিতে হয়। আর এই কাজটি করতে গিয়ে পেসেঞ্জারের নিকট থেকে এই সেই বলে ভাল একটা আমাউন্ট হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ওরা। এর আগে আমাকে এভাবে দিতে হয়েছিল। এবারও লক্ষ্য করে দেখছি লোকদের নিকট থেকে দাবী করেই আদায় করা হচ্ছে।
আমি এবার তাদেরকে কিছু না দেয়ার কৌশল হিসাবে একটু ভাব...
একজন নারী করো স্ত্রী, কারো মা, কারো বোন এবং কারো মেয়ে। সূতরাং তারা আমাদেরই নিকটাত্মীয় এবং আমাদের আপনজন। তাদের সুখে সুখী হওয়া এবং তাদের দুখে দুঃখী হওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সে হিসাবে নারী নির্যাতনের প্রতি সোচ্ছার হওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্বেরই অংশ। তবে আজকাল নারী নির্যাতনের প্রতি যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে পুরুষ নির্যাতন তথা নারী কর্তৃক পুরুষ নির্যাতনের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে অন্ধকারে থেকে যাচ্ছে। বিতর্কিত হওয়ার ভয়ে বিষটি এড়িয়ে যাওয়ার কারণে নারী কতৃক পুরুষ নির্যাতিত হতে পারেন, এমন ধারণাও অনেকের নেই। অথচ নারী কতৃক পুরুষরাও হচ্ছেন যথেষ্ট নির্যাতিত। আমি চেষ্টা করব কয়েকটি বাস্তব ঘটনার কিঞ্চিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুরুষ নির্যাতনের বিষয়টি তুলে ধরতে।...
একবার দুবাই এয়ার পোর্টে নতুন ভিষা হাতে নিয়ে একজন নবাগতকে খুঁজছেন এয়ার পোর্টের জনৈক কর্মচারী। লেইত, লেইত, মিস্টার লেইত বলে ডাকা ডাকি করছেন কিন্তু লেইত নামের কারো কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। আমি কৌতুহলি হয়ে ভিসাটি হাতে নিয়ে পড়ে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করাতে লোকটি আমাকে পড়তে দিলেন। ভিসার মধ্যে আরবীতে লেখা আছে نور حسين ليت (নূর হোসাইন লেইত)। তিনি নামের শেষ অংশটি ধরেই ডাকতেছিলেন, যেমনটি আমরা কারো নামের শেষে চৌধুরী/ভূঁইয়া ইত্যাদি থাকলে মিস্টার চৌধুরী বা মিস্টার ভূঁইয়া বলে ডেকে থাকি। আমি তাঁকে পরামর্শ দিলাম নামের পুরাটাই যেন ডাকা হয়। অতঃপর ডাকতে লাগলেন 'নূর হোসাইন লেইত' নামে। তারপরও...
ঈদের আনন্দের চাইতে ভালবাসার মূল্য কত বেশী তা প্রমাণ করে দিল আমার ছয় বছর বয়সী চোট্ট শিশুটি। আন্য আর দশজন শিশুর মত সেও সেই রমজানের শুরু থেকেই মহা খুশীর ঈদের প্রহর গুনতেছিল। কত প্লান প্রোগাম! নানু বাড়ী যাবে, দাদু বাড়ী যাবে, তার ছোট্ট বন্ধুটি আমাদের বাসায় আসবে, ঈদির টাকা দিয়ে অনেকগুলো গাড়ী কিনবে আরো কত কি।
ঈদ যখন ঘনিয়ে আসল ঠিক শেষ রোজার দিন সে হঠাৎ বলে বসল, 'ঈদ না আসলে ভাল হবে'। আমরাতো হতভম্ভ! বলেকি সে? পরিবারের সকল...
গল্পটি আমার নয়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমার এক প্রবাসী বন্ধুর, যিনি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে প্রথম শ্রেনীর প্রবাসী ব্যবসায়ী। একাউন্টিংএ অনার্স গ্রাজুয়েট বন্ধুটি লেখা লেখিতে অভ্যস্ত নয়। তাই আমাকে অনেক দিন থেকে অনুরোধ করে আসছেন, তাঁর জীবনের সত্য গল্পটি যেন একটি প্রবন্ধ আকারে লিখে প্রকাশ করি। আমি নিজেও লেখালেখির জগতে নবজাতক। তাই আরেকজনের লেখাটি কোন আঙ্গিকে উপস্থাপন করব সে দ্বিধা দন্ধে ভোগার কারণে আজ লিখব কাল লিখব করে অনেক দিন গা বাঁচিয়ে থাকার পর সম্প্রতি বন্ধুটি নাছোড় বান্দার মত চেপে ধরাতে শেষ পর্যন্ত কী-বোর্ডে হাত রাখতে হলো।
...