বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর অনেক মেধাবী ছাত্র, ছাত্রী, শিক্ষক, চাকরিজীবী দেশ ছেড়ে চলে যায় উন্নত দেশে পড়াশোনা করতে বা চাকরী করতে । মেধার এই পাচার নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন, উদ্বিগ্ন হওয়ারই কথা, হওয়াই উচিত। মেধা পাচার বন্ধ করার জন্য আমাদের কার্যকর ব্যবস্থাও নেওয়াও উচিত।সাথে আমাদের আরেকটা বিষয় নিয়েও উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত । কিন্তু সে উদ্বেগ দেখা যায় না, সেটা নিয়ে কথাও শোনা যায় না। কারণ সেটা মনে হয় আমাদের নজরে পড়েনি এখনো। সেটা হচ্ছে মেধার অপচয়। আমরা মেধার পাচার নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন হলেও মেধার অপচয় সম্পর্কে একবারেই অসচেতন ।তাই এই নিয়ে কোথায়...
আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা যখন বিরোধী দলে থাকে , তখন সরকারের অনেক অপকর্ম নিয়ে বিদেশী রাজনৈতিক আর কূটনীতিকদের কাছে বিচার দেয়। আমাদের সাংবাদিকরাও এমন ভাবে প্রশ্ন করে , মনে হয় এরাই আমাদের বড় শুভাকাঙ্ক্ষী। এমনটা মনে হওয়ার কারণ, এসব শিক্ষিত লোকজন এমন ভাবে কথা বলে যেন আমাদের কাছে মনে হয়, এরা আমাদের (আমাদের দেশের লোকদের) চেয়েও আমাদের বড় শুভাকাঙ্ক্ষী। কারণ, এসব রাজনীতিবিদ আর কূটনীতিবিদরা কথা বলার সময় আমাদের স্বার্থ, আমাদের কিসে ভাল নিয়ে কথা বলে।
হে তরুণ, আগেই জেনেছ তুমি যদি নিজেকে বদলাতে চাও, মানে উন্নত করতে চাও, তাহলে তোমাকে শুরু করতে হবে নিজের চিন্তা চেতনা বদলানো দিয়ে, চিন্তা চেতনাকে উন্নত করার মাধ্যমে। আর চিন্তা চেতনা উন্নত করার একমাত্র না হলেও প্রধান উপায় পড়াশোনা করা, বই পড়া। তোমার স্মার্ট ফোন হতে পারে এই পড়া শোনার সবচেয়ে সহজ উপায়। কি না পড়তে পার তুমি স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে !!!!!!!!!!!!
পরিবর্তন আনতে হলে আমাদের প্রথম যে জিনিসটা জানতে হবে তা হল...
দিন কয়েক আগে এক প্রবাসী বাংলাদেশি তার বউ এর হাতের কবজি কাটার জন্য সুদূর দুবাই থেকে চলে এসেছে । হাতের কবজি কাটতে হবে কেন? বউ এর পড়াশোনা বন্ধ করতে হবে, তাই। পড়াশোনা বন্ধ করতে হবে কেন ? বউ বেশী পড়াশোনা করলে , স্বামীর চেয়ে শিক্ষিত হলে স্বামীকে পাত্তা দিবে না। আর মেয়েদের এত পড়াশোনার দরকার নাই। চিন্তা চেতনায় গরীব না হলে কি কেউ এরকম ভাবতে পারে ?
চিন্তার দৈন্য কতটা প্রকট হলে পড়াশোনা বন্ধ করার জন্য হাতের...
আমি যদি বলি, কেউ ডিজাইন করে নাই আর হাতে ধরে বানায়ও নাই, তারপরও একটা ইলেকট্রিক সার্কিট তৈরি হয়েছে বিভিন্ন জায়গা থেকে নাট বল্টু এসে,ইলেকট্রিক তার এসে। তারপর ঐ সার্কিটটা একটা ইলেকট্রিক বোর্ডে বসে কাজ করা শুরু করছে, তাহলে একজন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আমাকে কি বলবে ? সুস্থ ভাববে? না বলবে বোকা না পাগল, না মাথা খারাপ?
হে তরুণ কোনটা চাও? বাংলাদেশ বদলে যাক? না বাংলাদেশকে বদলে দিতে চাও?
বাংলাদেশ বদলে যাক। ইস কেউ এসে যদি বাংলাদেশ কে বদলে দিতে!!!!!!!!!!! এক জন মাহাথির এসে বাংলাদেশকে বদলে দিলে কতই না ভাল হত!!!!!!!!!! এমনই যদি হয় চাওয়া, তাহলে তো তোমার তেমন কিছু করার নাই।
মাহাথির আসবে কি আসবে না, আসলে কখন আসবে তা তো তোমার নিয়ন্ত্রনে নাই। তাই মাহাথিরের আগমনের আশায় বসে...
১। এরা প্রোএক্টিভ- মানে হচ্ছে নিজের জীবনে যা ঘটে তার জন্য নিজেকেই দায়ী মনে করে। অন্যকে দোষারোপ করে সান্তনা খোজে না। কেউ ল্যাং মেরে ফেলে দিলেও বলবে না, ও ল্যাং মেরে আমাকে ফেলে দিল। বলবে, আমি ওর ল্যাং খেয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না আমার দুর্বলতার জন্য। কারণ, কেউ ল্যাং মারবে কি মারবে সেটা সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সেটা তার নিয়ন্ত্রণে নাই। তবে চেষ্টা করলে সে যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তা হচ্ছে, ল্যাং খেয়েও সে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে কিনা।
উন্নত চিন্তা চেতনা, উন্নত শৃংখলা, ইনোভেশন- উন্নত বাংলাদেশ ।.................
উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞান এর চেয়ে বেশী কার্যকর আর কোন হাতিয়ার আছে বলে মনে করিনা। যদিও বিজ্ঞান উন্নয়ন এনে দেয়, কিন্তু সমাজে সুখে-শান্তিতে বাস করতে হলে, বিশ্বাস, ধর্মে বিশ্বাস জরুরী, কারন - "Society lives by faith, and develops by science.-Henri Frederic Amiel.অন্যদিকে, বিল গেটসের মত দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করি " We got to put lot's of money into changing the behaviour". বেশী টাকা বিনিয়োগ না করতে পারলেও আমাদের কে মানুষের আচরন বদলানোর জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তাহলেই আমরা বাংলাদেশকে বদলাতে পারব, মানে উন্নত করতে পারব।