নিত্য যে পথে যাই; সেই পথের ভ্রমন কাহিনী লিখতে গেলে আখ্যানখানি সাদা-মাটা হয়ে ধরা পড়াই স্বাভাবিক। এ ভ্রমন কহিনীতে নেই অভিনবত্বের বা আশ্চার্য হবার কোন বিষয়। তবুও লিখতে যখন বসেছি - শুরু করি। আমার ভ্রমন কাহিনীর শিরোনাম- এ জার্নি টু বাড়ী- বাড়ীর দিকে ভ্রমণ যাত্রা। আমি থাকি অর্থাৎ বসবাস করি উত্তর ঢাকায়- উত্তর খান নয়; ঢাকা শহরের সর্বশেষ উত্তরেও নয়- মীরপুর। আর জীবনের তাগিদে চাকুরী করতে গিয়ে কর্মস্থল হলো - দক্ষিন ঢাকায়- যাত্রাবাড়ী। মূল ঢাকা শহরের উত্তর দক্ষিন এভাবে চিহ্নিত করতে হলো- আমার এই দুই অবস্থানের দূরত্ব কমবেশি ২০ কিলোমিটার। বর্তমানের যান্ত্রিক শকটে পরিভ্রমন করলে এহেন দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য সর্বাদিক প্রয়োজন ৪০ কিলোমিটার গতিতে আধা ঘন্টা। কিন্তু আমার প্রতিদিন ব্যয় হয়ে গড়ে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা। কখনো কখনো তারচে’ অনেক বেশি। তখন ঘড়ির কাটার হিসাব আর মিলে না।
আজ ছয়টায় অফিসের ছুটির পর মাগরিব শেষ করে ‘শিকড় পরিবহন’ - ডাইরেক্ট যাত্রাবাড়ী টু মিরপুর- গেইট লক বাসে চড়ে বসি। বাসটির আকারে বুঝা যায় চেসিসখানি ছিল সাতাইশ সিটের কিন্তু মালিকের আগ্রহেই হোক আর বাসের বডি বিল্ডার ইঞ্জিনিয়ারের কৌশলেই হোক এখন তা ৪০ সিটের বাস। আবার বনেটের উপর আলগা একটি সিট ফেলে করা হয় ৪২ সিটের বাস। উঠেই প্রথমে লক্ষ্য করি কোন দু’টি সিটের মাঝে ফাঁক বেশি। নজরে যেটাকে মনে হলো কাঙ্খিত সিট - সেটাতে বসি। কিন্তু হায়! সামনের সিটের লোহার এ্যাঙ্গলের ঘর্ষণে হাটুর চামড়া ছিঁড়ে যাওয়ার অবস্থা, তবুও বসলাম।
’ডাইরেক্ট বাস’ সিট না ভরা পর্যন্ত ‘ডাইরেক্ট মিরেপুর . . . . . .’ করতে করতে শম্ভুক গতিতে চলছে। যে যেখানে ইশারা করছে বাসটি সেখান থামছে। যাত্রাবাড়ী হতে গুলিস্তান প্রায় দুই কিলোমিটার পথ চলতে গিয়ে এক ঘন্টার বেশি সময় নেই। এর মাঝে ডাইরেক্ট বাস ইনডাইরেক্ট বা লোকাল হয়ে পড়ে -মানুষ নামছে, উঠছে। আর আমি দেখি কন্ডাক্টরের চেহারাটা কেমন হাস্যোজ্জ্বল হয়ে উঠছে। যদিও অন্যান্য যাত্রীগণ তার চৌদ্দ গোষ্ঠীকে উদ্ধার করে গালাগাল করছে। সে নিরব, নিস্তদ্ধ, মৌণ। কোন কথার প্রতিবাদ নেই- বাচালতা নেই। বাম হাতে জড়িয়ে যাত্রীকে তুলছে আর মুখে বলছে- ‘উইঠেন না ভাই , সিট নাই।’ তার কর্মে এবং কথায় বিশাল বৈপরীত্য দেখে আমি মনে মনে ভীষন হাসছি।
সিট সব ভরে গেছে। মাত্র একটা সিট খালি আছে। সেটা আমি যে দুইজনের সিটে এতোক্ষণ বসে ছিলাম। কেনো যে এ খালি সিটটিতে কেউ এতোক্ষণ বসেনি, তা বুঝতে আমার দেরি হলো না। আমি বসার পর যেটুকু স্থান খালি ছিলো তাতে একটি পুতুল ছাড়া একজন মানূষ বসা অতীব কষ্টকর হবে। তাই হয়তো কেই বসেনি। একটা সিটের প্রতি বারবার কন্ডাক্টর মহাশয় তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে জনারন্যের প্রতি চেয়ে চেয়ে চিৎকার করে ডাকছে- ‘একজন মিরপুর . . . . . ’ । অন্যান্য যাত্রীরা তাগাদা দিচ্ছে বাস ছাড়ার জন্য কিন্তু আমাদের মিঃ চালক যেন বধির; সে চুক চুক করে ছোট ছোট টানে ফিল্টার টিপ বিড়ি ফুঁকছে। পরিশেষে একজন যাত্রিনী পাওয়া গেলো- মাশাল্লাহ! এই দুর্মূল্যের বাজারে অভাবের তাড়নায় মানুষ খাবার না পাওয়ার কারনে শুকিয়ে গেলেও তিনি শতেক কেজি ছাড়িয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ। গদাই লস্করী চালে বাসে উঠেই আমার সিটের পাশে এসে বললেন - ‘চেপে বসুন’। চাপার আর জায়গা নেই। যদি বাসের বডিখানি ইলাস্টিকের মতো একটু শক্তিকে বড়ো করা যেতো, তবেই আরেকটু স্থান বাড়িয়ে দিতে পারতাম। অগত্যা, আমি দাঁড়িয়ে গেলাম এবং বললাম ‘ আপনি বসুন।’ আমি দাঁড়িয়ে রইলাম, বাস চলতে শুরু করলো, জ্যাম। এতোক্ষণ পর যেন ড্রাইভারের হুঁস হলো এ বাসখানি মিরপুর যেতে হবে। তাই, যতো তাড়াতাড়ি মিরপুর যাওয়া যায়। একবার ডানে , একবার বাঁয়ে, একটু ফাঁকে পেলেই বাসের মাথা ঢুঁকিয়ে দিচ্ছে। , এতে গতির চেয়ে অগতি বৃদ্ধি পেয়ে দুর্গতি বাড়ছে।
আমার সহযাত্রিনী বসার পরে ঐ অবশিষ্ট স্থানে একটি পুতুলের বসার জায়গা হবে কিনা সন্দেহ। কন্ডাক্টর মহাশয় আমাকে বলছে-
- বসেন ছার।
- ঠিক আছে। আমি দাঁড়িয়ে যাবো।
- তা হলে এদিকে আসেন। দরজার কাছে দাঁড়ান।
আমি দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াই। বেশখানি আরামবোধ করছি। কিন্তু একটি সিটতো খালি যেতে পারেনা, এই চিন্তা করে কন্ডাক্টর প্রেস ক্লাবের সামনে এসে আবার ডাকতে শুরু করলোঃ ‘মিরপুর একজন চিকন মানুষ।’ সত্যিই একজন চিকন মানুষ বাসে উঠলো। লম্বায় সাতফুটের কাছাকাছি একজন যাত্রী চিৎকার করে বলছেন,
- এ ব্যাটা হারামজাদা, দাঁড়ায়ে পেসেঞ্জার নিস কিয়ারে?
- সিটের বেশি কোন যাত্রী নেই নাই।
আমাকে দেখিয়ে সে বলল- ওনিতো সিটে বসেন নাই। এ একটা বিষয় নিয়ে এ কথা সে কথায় তর্ক করতে করতে আমরা পৌঁছলাম শাহবাগ মোড়ের জ্যামের ভেতর।
নাদুস-নুদুস চেহারার একজন যুবক বাসে উঠলো। যাত্রীরা আবার চিৎকার করতে লাগলো। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগের যুবক বাসে উঠেই অতি বিনয়ের সাথে সকল যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বললেন-‘ মুসলমান ভাইদের প্রতি ’’আসসালামু আলাইকুম, হিন্দু ভাইদের প্রতি ’আদাপ’; অন্যান্য ধর্মের সকল ভাইদের প্রতি তাঁদের ধর্মমতে আমার অভিবাদন গ্রহন করুন। তার ব্যাগ হতে একটি প্যাকেট বের করে তাতে একটু টোকা দিয়ে বলতে লাগলো, ‘এই হলো আসল শ্রীপুরের বড়ি। যার গুনাগুনের কথা আপনারা আমার চেয়ে অনেক বেশি জানেন।’ তারপরও সে এ আশ্চার্য বড়ির যেসকল গুণাগুণের বর্ণনা দিলেন তাতে এইটুকু বুঝা গেল- শ্রীপুরের বড়ি হলো সর্বরোগ হরনকারী এক মহৌষধ। আর সবচেয়ে আশ্চর্য যে কাজটি করে, তা হলো আশি বছরের বুড়াকে পঁচিশ বছরের যুবকে পরিণত করে আর বুড়িকে কামনায় তৈরী করে ষোল বছরের যুবতীর ন্যায়। এ মহৌষধের অব্যর্থ গুণাগুণ। বিফলে মূল্য ফেরত। হাজার টাকার বাজি ধরে তার প্রাঞ্জল বক্তৃতা চলছে। একপাতার দশটি ট্যাবলেটের মূল্য একশত টাকা মাত্র। এক দাম, একদর।
গালভাঙ্গা, কাঁচাপাকা দাড়ি, অথবা মাথায় টাক এমন কিছিমের কিছু লোক হাত উঁচু করে ভ্রা্ম্যমান ডাক্তারের মনোযোগ আকর্ষন করে পকেট থেকে টাকা বের করে দিয়ে দ্রুত ট্যাবলেট গুলো প্যান্টের পকেটে পাচার করে দিলো। যেন সমাজ কর্তৃক নিষিদ্ধ কোন বস্তু লুকিয়ে রাখছে। কিন্তু একজনের ভ্যানিটি ব্যাগ হতে টাকা বের করে দেওয়ার সময় দেখি প্রায় সকল যাত্রীর চোখ বিস্ফারিত। তিনি হলেন আমার প্রথম সিটে উপর আসীন ভদ্রমহিলা।
ভ্রাম্যমান ডাক্তার নেমে যাওয়ার পর উঠলো একজন কিশোর। মিহি অথচ তীক্ষ্ণ আওয়াজে বলতে লাগলো- মচমচে পাপ্পন। ‘পপ কর্ন’ তার ভাষায় পাপ্পন আমি প্রায়ই বাড়ী আসার পথে কিনে খাই। কিন্তু আজ কিনলাম না। কারন, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাওয়া যাবে না। পপ কর্ন বিক্রেতা বাস থেকে নেমে যাওয়ার সাথে সাথে উঠে এলো একজন কিশোরীর কাঁধে হাত রেখে একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। সুরেলা কন্ঠে গানের করুণ সুবে বলতে লাগলো, ‘দ্বীনের নবী মোস্তফায়, রাস্তা দিয়া হাইট্টা যায়, হরিণ একটি বান্দা ছিলো গাছেরই তলায় গো . . . . . . . . . . . . .’’ আমি ভাবতে লাগলাম আরব দেশে কি তখন হরিণ ছিলো! কয়েকজন যাত্রী ভিক্ষুককে খুরচা টাকা দিল। আমি দেখলাম কেউ কেউ ক্যামন এক কামার্ত চোখে কিশোরীর স্ফীত বুকের দিকে লোল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এর মাঝে রাস্তার জ্যাম অনেকটা কেটে গেছে। বাস চলতে শুরু করলো।
কন্ডাক্টর তার গেটের নিরাপত্তা ভার আমার উপর দিয়ে বললেন, ‘‘স্যার কেউ যেন উঠতে না পারে দেখবেন, আমি ভাড়াটা কাইট্টা আই।’’ ভাড়া আদায় করতে গিয়ে বাসের ভিতর আবার উষ্ণ কথা বার্তার শোরগোল, কিছু কিছু যাত্রীর কুৎসিত বাক্যবাণ। ভাড়া কাটা শেষ হবার পর কন্ডাক্টর আবার স্বস্থানে ফিরে এলো। তখন আমাদের নিয়ে চলা বাসটি ফার্মগেট। ফার্মগেটে মানুষের প্রচন্ড ভীড়। আমাদের বাস হতে একজন যাত্রী নামবে বিধায় বাসটি থামতেই প্রায় আট দশ জন মানুষ দৌঁড়ে এসে বাসে উঠে পড়লো। চিৎকার, চেঁচামেচি কেউ কারো কথা শুনছেন না। একজন যাত্রী নামার পর বাসটি চলতে শুরু করলো। আমি নেমে যাওয়া যাত্রীর সিটে বসার পর লক্ষ্য করি, প্রায় দশবারজন যাত্রী দাঁড়িয়ে আছেন। যাত্রীরা সবাই বয়সে তরুণ, তাই হয়তো সিটে বসা যাত্রীরা অন্যবারের মতো বেশি জোড়ালো প্রতিবাদ করতে সাহস করেনি। বাস চলতে শুরু করলো। আগারগাঁও আসার পর কয়েকজন যাত্রী নামলেন। তালতলা এসে আরো কয়েকজন নামলেন। যারা এতোক্ষন দাঁড়িয়ে ছিলো, তারা সবাই বসার জায়গা পেলো। বাসটি মিরপুর সেকশন-১২ এর দিকে এগুচ্ছে আর বাসটির পেট খালি হচ্ছে। শেষ স্টেশনে আমি যখন নামতে যাবো দেখি আমাকে ছাড়া বাসে আরো একজন আছেন, তিনি হলেন আমার সহযাত্রিনী।
সাড়ে ছয়টায় বাসে উঠেছিলাম এখন ঘড়িতে দেখি রাত সাড়ে দশটা বাজে। আমার সহযাত্রীনি দাঁড়িয়ে আছে, হয়তো রিক্সার অপেক্ষায়। আমি বিশ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা চার ঘন্টায় ভ্রমন করে ঘর্মসিক্ত ক্লান্ত শরীরে ধীরে ধীরে হাটতে শুরু করলাম বাসার (বাড়ি) উদ্দেশ্যে।
কবীর হুমায়ূন লিখেছেন : ভালো লাগার জন্য শিশির ভেজা ভোরকে অনেক ধন্যবাদ।
৬
478216
২০ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ০১:২৭
দিয়াশলাই লিখেছেন : শিরোনামে এভাবে বাংলায ইংরেজী মিশিয়ে আপনি বাংলাকে অপমানিত করছেন আল্ট্রা মর্ডানদের মত, এটা ঠিক করেন।
২০ অক্টোবর ২০১১; রাত ০৮:৪১
449807
কবীর হুমায়ূন লিখেছেন : বাংলা ভাষা দুর্বল নয়; পৃথিবীর সকল ভাষাকে আত্মীকরণের ক্ষমতা এ ভাষা ( আমাদের মাতৃভাষা) সংরক্ষণ করে। আমার লেখাখানি 'রম্য' ভ্রমন কাহিনী হিসেবে শিরোনামটি এ রকম হয়েছে।
১২ অক্টোবরের পোস্ট স্টিকি হল ২০ অক্টোবর।
মডুরা কি কাজ করে, না ঘুমায়?
২০ অক্টোবর ২০১১; রাত ০৮:৪৪
449812
কবীর হুমায়ূন লিখেছেন : আমার লেখা স্টিকি হয়েছে, ভালো লাগছে।
৮
478269
২০ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ০১:৫৬
রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী লিখেছেন : শ্রীপুরের বড়ি হলো সর্বরোগ হরনকারী এক মহৌষধ। আর সবচেয়ে আশ্চর্য যে কাজটি করে, তা হলো আশি বছরের বুড়াকে পঁচিশ বছরের যুবকে পরিণত করে আর বুড়িকে কামনায় তৈরী করে ষোল বছরের যুবতীর ন্যায়। আপনি খান নাই ? আহারে ঔষধ !
২০ অক্টোবর ২০১১; রাত ০৮:৪৮
449822
কবীর হুমায়ূন লিখেছেন : বাংলাদেশের সকল 'পাটোয়ারী'-দের বাড়ী চাঁদপুরের দিকে। নিশ্চয়ই আপনার বাড়ী ওদিকে।
'শ্রীপুরের বড়ি' চেখে দেখার সুযোগ হয় নি। একদিন হয়তো আমিও চুপি চুপি ক্রয় করবো।
৯
478395
২০ অক্টোবর ২০১১; দুপুর ০৩:৪১
এস, এম, ইমদাদুল ইসলাম লিখেছেন : ৯টায় অফিস । আমাদের অফিসার্স বাস ( বাসের গায়ে লেখা আছে গভঃ অফিসার্স পরিবহণ) সেই ব্রিটিশ আমলের "হিন্দুস্থান" গাড়িকে রং করে সাইন বোর্ড লাগিয়ে আমাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে । উত্তরা থেকে ৭টায় ছাড়ে। অফিসে পৌছুতে কোনদিন ৯টা বাজে কোনদিন ১০টা ছুই ছুই করে । ৫.২০ তে সচিবালয় থেকে ছাড়ে বাসায় আসতে রাত ৮টা বা ৮.৩০ । ৮ ঘন্টার চাকরী জীবণ + গড়ে ৬ ঘন্টা রাস্তায় । আপনার গল্প আর আমার গল্প - এ এক অন্য জীবণের গল্প । তবু কী যে মধু ঢাকায় ? কেন এ জীবণ ? কেন যে যা এলাকায় জীবণটা সুন্দর করে কাটানোর ব্যবস্থা করা যায় না ? আমার একটা প্ল্যান ছিল , সরকারের বিভিন্ন মহলে দিয়েছিলাম, তারা এটাকে বলেন, পাগোলের প্রলাপ ।
দেখুন আমার সে গল্পটা -
আহ ! কী বিড়ম্বনাময় জীবণ ! এদের এই বিড়ম্বনা নিয়ে কত শিরোনাম হয় ! সরকারের কত মাথা ব্যথা ! অথচ অধম মুচির কথাটা কেউ শোনেনা। তাই আবারো বলছি, এই মানুষগুলোই পারে সরকারকে দিয়ে আসল কাজটা করাতে যদি এদের এই ফিরে যাবার টিকেটের সাথে একটা করে নীচের লেখা স্টিকারটা দিয়ে দেয়া যায় যাতে তারা সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি বা জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে। আশা করি দেশ , জাতি উপকৃত হবে।
" এই ভোগান্তির সমাধানের সহজ পথ - পরিসংখ্যানের হিসেব নিয়ে দেখুন, যারা ঈদে ঘরে ফেরেন তাদের ৯০ % লোক ঢাকায় ফেরার আসলেই কোন দরকার হত না, যদি আমাদের দেশের সরকার একটু সদয় হয়ে সত্যিকার জনগনের সরকার হতেন। সত্যিই এটা সম্ভব, যদি সরকার এটাকে সম্ভব করতে চায়। কী ভাবে ?
প্রথম সূত্র- এমপি সাহেবদের অফিসটা ঢাকায় না হয়ে তার এলাকাতেই হতে হবে। কেবল মাত্র সংসদ অধিবেশন ছাড়া এবং জরুরী প্রয়োজনে স্বল্পকালীন ছুটি ( মাসে ১ বার অনুর্ধ ২ দিন ) অথবা চিকিসাজনিত কারণ ছাড়া তার কর্মস্থল তিনি ত্যাগ করতে পারবেন না। জনপ্রশাসন সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সচিবালয় যেতে হবে প্রত্যেক জেলায় আর বিচারালয় যেতে হবে প্রতিটা উপজেলায় ।
২য় সূত্র- এমন কতগুলো উন্নয়ন মূলক প্রজেক্ট সরকারকে সব উপজেলাতেই নিতে হবে যা গ্রামের জমিনে, নদীতে, খালে, বিলে সম্ভব। যার দায়িত্ব সরাসরি পালন করবেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। চ্যালেঞ্জ করে বলা যায় তা করা হলে দেশে কর্মহীন আর কোন গরীব মানুষ থাকা সম্ভব নয় ।"
সংক্ষিপ্ত ব্যখ্যা- যে অর্থ উপার্জনের জন্য এত কষ্ট করে এই সব খেটে খাওয়া মানুষরা এত আনন্দ নিয়ে বাড়ী ফেরেন আর জীবণের ঝুকি নিয়ে আবার এই দুর্বিসহ কষ্টের জীবণ ঢাকার রাস্তায় ফিরে আসেন, তার সহজ উপার্জনের ব্যবস্থা সরকার ইচ্ছে করলেই তারই বাসস্থলের কাছে করে দিতে পারেন। দরকার কেবল সদিচ্ছা। আর সত্যি কারের গ্রামের মানুষকে ভালবাসা । বিশদ ভাবনা চিন্তাশীলরা ভাবুন। সমাধান সহজ হবে।
উপসংহার -আসুন যারা কষ্ট করে এভাবে প্রতিবছর এরকম কষ্ট করছেন, জীবণের ঝুকি নিচ্ছেন, তারা সবাই একজোট হয়ে নিজের এলাকায় অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটিয়ে দেবার জন্য মানসিকভাবে তৈরী হন এবং সরকারকে বাধ্য করুন সে কাজে আপনাদেরকে সহযোগীতা করার জন্য । এধরনের বিড়ম্বনা থেকে মানুষ মুক্তি পাবে। দেশটা মালয়েশিয়ার চেয়ে উন্নত হবেই ।
আর. হক লিখেছেন : ঢাকার রাস্তায় যারা চলাচল করেন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হলো এই অবস্থা..... বাসে চলার সময় এই পরিস্থিতি উপভোগ করি আর মনে মনে প্রচন্ড বিরক্ত হয়.......... যদিও এখন আর বাসে উঠাই হয়না বলা চলে........... দুই চাক্কায় আমি সবার আগে......... সারা ঢাকা এখন আমার হাতের মুঠোয়............. আপনাকে ধন্যবাদ।
২০ অক্টোবর ২০১১; রাত ০৮:৫৭
449836
কবীর হুমায়ূন লিখেছেন : আপনার দুই চাক্কায় বিপদ সমূহ। আমাদের ড্রাইভার মহাশয়গণের লাইসেন্স নেই। তাই তারা চোখ বন্ধ করে গাড়ী চালান।
১২
478526
২০ অক্টোবর ২০১১; বিকেল ০৫:৫২
আবু জারীর লিখেছেন : আহারে! সহযাত্রীনি বেচারীকে একটু পৌছে দিলেইতো পারতেন। এত রাত্রে একাকিনী কোন দুষ্ট লোকের খপ্পরে পরে কিনা কে জানে? আপনার মায়া দয়া বলতে কি কিছু নাই?
২০ অক্টোবর ২০১১; রাত ০৮:৫৯
449840
কবীর হুমায়ূন লিখেছেন : এহেন অবস্থায় 'ইয়া নাফসি' করাই সঠিক বুদ্ধিমানের কর্ম। আমি সে-ই পথে পা বাড়িয়েছি। যুগ ভালো না রে ভাই................।
সুপ্তকান্না লিখেছেন : গুলিস্তান টু উত্তরা প্রায়ই যাওয়া পড়ে। আপনার বাস্তবধর্মী চিত্রগুলো আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। সত্যিই অনেক ভালো লিখেছেন।
আপনার জন্য শুভ কামনা।
তবে আপনার লেখার ভিতর অনেক বানান ভুল রয়েছে। হয়তো বেখেয়ালে হয়ে গেছে। তবে সেগুলো কারেকশন করে নিন। তাহলে আরও ভাল হবে।
‘পপ কর্ণ হবে না। হবে পপ কর্ন। বিদেশী শব্দে মুর্ধন্য হয় না।
এছাড়া আরো যে সকর শব্দে বাংলা বানান বিভ্রাট রয়েছে সেগুলোর কয়েকটি হচ্ছে :
এতোক্ষন, ঢুঁকিয়ে, এতোক্ষন, সহযাত্রীনি, পুতুলেরর, ওনিতো, গ্রহন।
আর স্টিকি করণের জন্য আপনাকে অভিনন্দন।
২১ অক্টোবর ২০১১; সকাল ০৯:০৮
450516
কবীর হুমায়ূন লিখেছেন : ঢাকা শহরের সকল রাস্তায়ই এরূপ অবস্থা। ধন্যবাদ, বানান বিভ্রাটকে সংশোধনের পরামর্শ তুলে ধরার জন্য।
১৯
479250
২১ অক্টোবর ২০১১; রাত ০২:০৭
fyjullah লিখেছেন : অসাধারণ
সত্যিই অনেক ভাআপনার জন্য শুভ কামনা। লো লিখেছেন।
এস, এম, ইমদাদুল ইসলাম লিখেছেন : কবীর হুমায়ূন , আপনার দেশ বলছেন কেন ? আপনি কোন দেশের নাগরিক ? মাহাথেরী মোহম্মাদের আশা করতে দোষ কোথায় ? আমার আপনার বা আগামী ১০০ থেকে ৫০০ বছরের পরের প্রজন্মের কোন সন্তান তো হতে পারে সে । আমরাই কি সব ? এদেশে কি কেবল আমরাই শেষ ? আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।
২৩ অক্টোবর ২০১১; রাত ০৯:১৬
454498
কবীর হুমায়ূন লিখেছেন : দুঃখবোধের চেতনায় উত্থিত কষ্টগুলো থেকে নিজেকে ফারাক করার জন্য সচেতনভাবে ''আপনার দেশের রাজনীতিতে..................'' ।
আমাদের রক্ত মজ্জায় লোভ আর অসততা মিশে গেছে। এর থেকে যেদিন জাতিগত ভাবে বের হয়ে আসতে পারবো, সেদিনই পৃথিবীর অন্য জাতির কাছে অণুকরণীয় হতে পারবো।