অনেকদিন পরে আসলাম। ভাবলাম কিছু লিখবো। কিন্তু কি লিখবো চিন্তা করেই যাচ্ছি। চিন্তা মানুষকে অনেক দূর্বল করে ফেলে। অনেক কাজ আছে যেগুলোর চিন্তায় মানুষকে অতিষ্ট করে তোলে। তাই চিন্তা হলো মানুষের চির শত্রু । বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের।
সীমান্তে মানুষ মারা যাবে বিএফএফের হাতে। তাতে দেশের মানুষের কি? যেখানে সরকারেরই চিন্তার কিছু নেই! সীমান্তে যখন আছে তখন তাদের মারা যেতেই হবে। এতে চিন্তার কোন কারণ নেই। কেননা, এটা অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। এখনো হচ্ছে। সামনেও হবে। দেশের মানুষ বুঝতে পারেনা, যদি সরকার শুধু সীমান্ত নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তাহলে দেশের অন্য কাজ গুলো কে করবে? দেশের স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত ঘটবে। যা দেশের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। যা আমরা কেউ চাইনা।
ফেলানীরা মৃত অবস্থায় কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকবে। আমরা স্বাভাবিক ঘটনা বলে চুপ থাকবো। বিজিবি সদস্যকে নিয়ে গিয়ে,দেশের সাধারণ মানুষকে নিয়ে যাবে। নির্যাতন করে আহত বা মৃত অবস্থায় ফেরত দিবে। আমরা চুপ থাকবো। চিন্তা মুক্ত থাকবো। কারণ এসব স্বাভাবিক ঘটনা। এগুলোতো হরহামেশাই ঘটছে।
দেশে গুপ্ত হত্যা হবে। ছাত্রলীগ কর্মীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করবে। তাদের মারামারিতে সাধারণ ছাত্র মারা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা আতংকিত না হয়ে স্বাভাবিক ভাবে দিনযাপন করবো।
শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ হারিয়ে পথে বিক্ষোভ করবে। বাসায় আত্তহত্যা করবে। তবুও আমরা স্বাভাবিক থাকবো। বরং উল্টো তাদেরকে আমরা ফটকা বাজ বলে গালি দেবো। কেননা,শেয়ারের দাম প্রতিদিনই স্বাভাবিক ভাবেই অস্বাভাবিক হারে নামছে! তাহলে বিক্ষোভ করে দেশকে অস্থিতিশীল করে কি লাভ?
হত্যার আসামীরা জামিনে বের হয়ে আসবে। আমরা আতংকিত না হয়ে তাদেরকে স্বাগত জানাবো। আর বড় গলায় বলবো, আইনের সুশাসন হয়েছে । আইন শৃংখলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো।
কথায় আছে,কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। তাই ভারতের বন্ধুত্ব পাওয়ার জন্য আমরা আমাদের সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবন দিয়ে দিবো। দেশের ভাষা-সংস্কৃতি,সার্বভোমত্ব,সীমান্ত,রাস্তাঘাট,বন্দর সবকিছুই তাদের ব্যবহার করতে দিতে হবে। তাহলেই আমরা তাদের প্রকৃত বন্ধুত্ব পাবো বলে আশা করতে পারবো। তাদের সাথে গৃহিত সমস্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হতে পারে।
এজন্য আমাদের বোবা-কানা হয়ে থাকতে হবে। যাই ঘটুক না কেন? সব সময় চুপ করে থাকবো। আতংকিত হবোনা। চিন্তা মুক্ত থাকবো। সাপকে লম্বাও বলবোনা আবার ব্যাঙকে ছোটও বলবো না।
তাই আসুন,সবাই চিন্তামুক্ত,আতংকমুক্ত জীবন যাপন করি। সরকারকে তাদের নিজস্ব কাজ করতে দিই। তাহলেই দেশ সামনে এগিয়ে যাবে। তাই বলছি,চিন্তার কারণ নেই। সব ঠিক আছে।