গতকালের খবর, ভারত হঠাৎ তুলা রপ্তানী বন্ধ করে দিয়েছে, কোন কারণ তারা ব্যখ্যা করেনি। জানা থাকা দরকার, বাংলাদেশের মোট তুলার প্রায় ৬০ ভাগ আসে উজবেকিস্তান থেকে। ওখানকার তুলা অত্যন্ত উন্নত মানের। এছাড়াও কিছু আমদানী হয় মিশর থেকে। ওগুলোও বেশ উন্নত মানের। আর মোট তুলার ৪০ ভাগ আসে ভারত থেকে। তবে ভারতের তুলার দাম যেমন কম, মানও খারাপ। ভারতের তুলা মূলত উন্নত তুলার সাথে মিক্সার হিসেবে ব্যবহার করা হয় খরচ কমানোর জন্য।
ভারত তুলা রপ্তানি বন্ধ করায় বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলো বিপদে পড়ে গেল। এখন উজবেকিস্তান বা মিশর থেকে নতুন...
এ লেখা লিখতে গিয়ে মনে পড়ে যাচ্ছে হযরত আবু বকর রা. এর কথা। আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণার সাথে সাথে মোশরেকরা তার মুখমণ্ডলে কাঠের জুতো দিয়ে এমনভাবে মারে যে তাকে চেনাই কষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাঁর ওপর এমন অমানুষিক নির্যাতন চলার সময় তিনি নিরন্তর কেবল এ কথাই বলে যাচ্ছিলেন, "হে রব, তুমি কতইনা সহনশীল, তুমি কতই না ধৈর্যশীল, তুমি কতই না সহিষ্ণু।" তিনি অন্তর দিয়ে অনুভব করছিলেন, এই নির্যাতনের অন্তরালে আল্লাহর যে ধৈর্যশীলতা রয়েছে, তাও স্মরণ রাখা প্রয়োজন।
চলতে গিয়ে আমাদের বহু ক্ষেত্রেই সামষ্টিক পরিচয় দিতে হয়। কখোনো কোন পিতার সন্তান, কোন বিদ্যাপিঠের ছাত্র, অথবা কোন অফিসের কর্মকর্তা। এক্ষেত্রে আমরা সেই পরিচয়টিই আগে দেই যেটি আমার অধিকাংশ পরিচয় প্র্রকাশ করে এবং আমার মর্যাদাও তুলে ধরে। এক্ষেত্রে বিতর্ক ও প্রশ্ন ওঠে আমার কোন পরিচয়টি আগে বা সবার উর্ধ্বে?
আমি যেমন মুসলিম, তেমনি আমি বাংলাদেশী আবার বাঙ্গালীও। এক্ষেত্রে একটির সাথে আরেকটিকে সাংঘর্ষিক অবস্থানে না নিয়েও সবগুলো পরিচয়কে ব্যবহার করা সম্ভব।
আমরা যাকাত দেই উদ্বৃত্ত সম্পদের উপর বছর শেষে ২.৫ ভাগ। কিন্তু প্রতি মাস শেষে পাওয়া বেতনের উপর যাকাত দেয়ার মতামতও ইদানিং শোনা যাচ্ছে।
বিষয়টা এমন, কৃষকের ফসল একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি উৎপাদিত হলে পুরো ফসলের উপর যাকাত দিতে হয়। একে বলা হয় ওশর। এক্ষেত্রে ভোগ-ব্যবহার শেষে কতটুকু উদ্বৃত্ত থাকে তা হিসাব করা হয়না। তাহলে আমাদের বেতনের পুরো টাকার উপর যাকাত কেন নয়, সেখানে কেন ভোগ ব্যবহার শেষে যা উদ্বৃত্ত থাকে সেই সম্পদের হিসাব করা হয়?
...
জামায়াতের যে পরিমান লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে তাতে জামায়াত তার কারাগার শাখা ঘোষণা করতেই পারে। দলটির শত শত কর্মী এখন কারাগারে অবস্থান করছেন। আবার সেই অনুপাতে পর্যাপ্ত নেতৃবৃন্দকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে বেশ সমৃদ্ধ একটি কারাগার শাখা হয়ে গেল জামায়াতের।
জামায়াত তো রাজপথে আন্দোলন করার জন্য গঠিত হয়নি। জামায়াতের কাজ হলো আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পিত একদল লোক তৈরী করা এবং সেই লোকদের নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করে জনগণকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করা। রাজপথে আন্দোলন হচ্ছে সে...
এই পোস্টের তেমন কোন তাৎপর্য নেই, একান্তই ব্যক্তিগত খুটিনাটি।
জীবনে প্রথমবারের মত বিদেশ গেলাম গত অক্টোবরে। দেশটি মালয়েশিয়া। সবাই বিদেশে গেলে কত কিছু কিনে আনে, কিন্তু আমার পকেট ফাকা, বিমান ভাড়াতেই সঞ্চয় সব শেষ। বড় বড় শপিং মল যেমন মাইনস, সোগো- ইত্যাদিতে ঢুকি, এমাথা থেকে ওমাথা, নিচ তলা থেকে পাঁচতলা ঘুরে দেখি, অতপর খালি হাতে বের হই। হঠাৎ মনে পড়লো ইয়াসিন ভাইয়ের কথা। তার বাসায় আমরা কয়েকজন মাসে একবার বসার চেষ্টা করি, জ্ঞানের কথা, সমাজের কথা ইত্যাদি আলোচনা...
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে উৎসব। ঈদ করবো গ্রামে, সুতরাং সেখানে কি কি আনন্দ করা যায়? ভাবতে ভাবতে মনে হলো, শহরে বুদ্ধিমান ছেলেরা দেখি পটকা ফোটায়। অতএব পটকা ফোটানো যেতে পারে। কিন্তু সাহসে কুলাচ্ছেনা, মুরব্বীরা যদি রাগ করেন। ভাবতে ভাবতে এক বড় ভাইয়ের কাছে পরামর্শ চাইতেই তিনি একটি ‘সৎ পরামর্শ’ দিলেন। ইনজেকশন দেয়ার ডিস্টিল ওয়াটারের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বোতল চুলার মধ্যে দিলে কিছুক্ষণের মধ্যে বিস্ফোরিত হয়। শব্দ কম হয় আবার মানুষকে চমকে দেয়া যায়।
বিকেল বেলা ফার্মগেট আসা আর উম্মত্ত হালাকু খানের সামনে হাজির হওয়া একই কথা, বরং হালাকু খানকে মোকাবেলা করা বেধাহয় তুলনামূলক সহজ। কিন্তু ব্লগারদের ইফতার উপলক্ষ্যে সে ফর্মগেটেই আসতে হলো। এসেই পাওয়া গেল এতদিনের ভার্চুয়াল সঙ্গী এক ঝাক তরুন লেখকদের।
এদের ম্যধ্যে ব্লগার আতেল-এর কথা সবার আগে বলতে হয়। তিনি পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশিষ্ট ব্লগারকে দেখেই মনে হল, হ্যা তিনিই আতেল হবার যোগ্য। তাকে সবাই জোড়াজুড়ি চাপাচাপি করলেন স্বীকার করার জন্য যে তিনিই ব্লগার ফাজিল। কিন্তু তিনি স্বীকার...
প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের তালিকায় যতগুলো স্থান আছে তার মধ্যে শুধু সুন্দরবনই দেখার সুযোগ হয়েছে। বাকি স্থানগুলো দেখার সৌভাগ্য হয়নি। সুতরাং বাকিগুলোর চেয়ে সুন্দরবনই সেরা তা কি করে বুঝলাম? পৃথিবীর খুব কম লোকের পক্ষেই সবগুলো স্থান দেখার সুযোগ হয়েছে। তাহলে তারা ভোট দেবে কি করে? প্রতিটি স্থান সম্পর্কে আয়োজকদের পক্ষ থেকে তুলনামূলক কোন বিশ্লেষণ দেয়া আছে বলে আমার জানা নেই। অথবা যারা ক্যাম্পেইন করছেন, তাদের পক্ষ থেকেও সুন্দরবনের সেরা হওয়ার কারণ সম্পর্কে কোন তথ্য নেই। সুতরাং দেখা জিনিসের সাথে অদেখা জিনিসের তুলনা করে মতামত দেয়া কিভাবে সম্ভব, বুঝে আসছেনা।
গত রমজানে দুই মাস বিনা বিচারে কারাভোগের পর জাকির ভাই যখন কারাগারের প্রধান গেট থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বেড়িয়ে এসেছিলেন, বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরেছিলাম।
এর পর দিন গেল মাস গেল, মাঝে বেশ কিছুদিন কথা নেই। গত বুধবার জাকির ভাইয়ের ফোন পেলাম, ... ভাই কিছু টাকা ধার দিতে পারেন, কারাগারে থাকার কারণে পরীক্ষা দিতে পারিনাই, এবার ইমপ্রুভমেন্ট দেয়ার জন্য ফরম ফিলাপ করতে লাগবে। বললাম কত লাগবে? জাকির ভাই বললেন, 'আটশত টাকা'।
আয়নাল চৌকিদারকে বুদ্ধিমানই বলতে হবে। বেচারা সারা জীবন বিয়ে করেনি। কেননা সে জানতো, যে রাজনীতির পথে পা বাড়িয়েছে, তার ভবিষ্যত কখোনো শুভ হবেনা। তার পরিষ্কার বক্তব্য- খামোখা একটা মেয়েকে বিধবা বানাতে রাজি নই। আমার জীবন রাস্তাঘাটেই শেষ হবে। হয়েছেও তাই। অকস্মাত এক সকালে শোনা গেল নিজ বাড়িতে আয়নাল চৌকিদার ব্রাশফায়ারে খুন।
মাটির রাস্তার পাশে সদ্য জেগে ওঠা আয়নাল চৌকিদারের সুরম্য কবরের পাশ দিয়ে রিক্সায় করে যাচ্ছি আর ভাবছি। প্রতাপশালী আয়নাল আজ পথিকের নিরব চাহনীর বস্তু, জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন। সন্ধ্যার...
জনাব শাহ আব্দুল হান্নান পথশিশুদের কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে। তার আহ্বানের আগেও এ নিয়ে চিন্তা ছিল, আগ্রহ ছিল। তার আহ্বান সে ভাবনাকে কার্যে বাস্তবায়ন করার জন্য তাড়িত করছে।
আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। একজন প্রবাসী মাসে ২০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি সোনার বাংলাদেশ ব্লগের একজন ব্লগারও বটে। পরিকল্পনা বেশ কিছুদূর অগ্রসর হয়েছে। একটা পর্যায়ে এসে কিছুটা থমকে গিয়েছি।
যত বড় ঈমানদারই হই, জলকামান আর রায়ট কার দেখলে হার্টবিট আর স্বাভাবিক থাকেনা। ভয় কমাতে তাই সিদ্ধান্ত নিয়েই বেরুলাম, ছয় মাসের জন্য কারাগারে যাচ্ছি এবং তার আগে পুলিশের লাঠির বাড়ি তিনটা, পিঠে দুইটা, মাথায় একটা।
পল্টন এলাকায় এসে দেখি কৌশল পুরোপুরি সফল, জল কামান রায়ট কার এবং দাঙ্গা পুলিশ রেডি, অথচ আমার হার্টবিট স্বাভাবিক। কিসের ভয়, কমপক্ষে ছয়মাসের জেল খাটার জন্যই তো বেড়িয়েছি। পিটুনির ভয়? পিঠ আর মাথা তো রেডিই আছে।
...
আমাদের গ্রুপে মোট ১৩ জন, ঢুকে পড়লাম সুন্দরবনের ভেতরে। প্রতি গ্রুপে একজন শিক্ষক, বাকিরা ছাত্র। সামনে যখনই সরু পথের চিন্হ পেলাম, পরিহার করে অন্যদিকে চললাম। আমরা এমন কোন দিকে যাব, যেখানে কেউ যায়নি। কোনভাবে যদি বাঘের দেখা পাওয়া যায়, অন্তত দুএকটা হরিণ বা বানরের পাল!
হাঁটতে হাঁটতে বেশ ভেতরে ঢুকে পড়লাম, চারিদিকে নিস্তব্ধ নিরব। হঠাৎ দেখি বেশ অনেকখানি জায়গা নিয়ে বড় একটি গাছ। সম্ভবত আমরাই প্রথম সুন্দরবনের এত গভীরের এই গাছটি জয় করলাম। গাছের গায়ে নিজের নাম লিখতে কয়েকজন উৎসাহি এগিয়ে গেল। কিন্তু ভালো করে তাকিয়ে দেখি, গাছে এমন কোন...