‘প্রেয়সী কে?’
এমনই এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলো
কোন এক মানুষ এক কবির প্রতি।
মৌন সাধক কবি প্রবর
আনত নয়নে তীব্র জ্যোতি মেখে
তির্যক দ্যুতির ফলায় বিদ্ধ করে
প্রশ্নকারীর অন্তরের অন্তর।
যেনো ঝড়োয়াল বায়ু তাড়িত মেঘ খন্ড
পরস্পর তীব্রাঘাতে আহত করে মৌনতার চাতাল;
নীরব নিস্তব্দ ক্ষণকাল,
পিনপতন নৈঃশব্দ চারিদিক,
রাত্রির গহীনতার স্তব্ধতা-
যেখানে রাতজাগা পাখি এবং ঝিঁ-ঝিঁ-র কান্নাবিহীন।
প্রেয়সী কে?
এ প্রশ্ন ঝংকৃত হচ্ছে আসমুদ্র হিমাচল,
ধ্বনী-প্রতিধ্বনীর পরস্পর তীব্রতায়
তৈরী করছে ভয়ংকর এক আবহ।
কবি শান্ত নিমিলিত নয়ন,
কম্পিত ওষ্ঠে তার শব্দের পস্রবন-
যেন নির্ঝরিণীর গা বেয়ে নেমে আসে
নির্ঝর ধারা তীব্র এক স্রোতবেগে-
‘প্রেয়সী এক নারী-
নারী- নদীর এক ছায়ার মতোন,
অথবা নারীই নদী।
তার অন্তরে থাকে মায়ের সুষমা মন্ডিত প্রেম;
দক্ষিণা-রূপ দানের প্রবল বাসনা,
প্রতিদানহীন চেতনার সৌরভ
আচ্ছন্ন করে প্রেমিক অন্তর;
এ প্রেম বিকশিত হয় ভগ্নীর সোহাগে
স্বার্থহীন, দ্বন্ধহীন বিমল আদরতায়।’
এ বলে কবি আবার নিমজ্জিত হলো
তার ভাবনার অতলে
নিশ্চল শব্দহীন জলে
নিস্তরঙ্গ চেতনার ভেতর বিন্যস্ততায়।