প্রথম যেদিন গুলুগুলু বাবুটা এসেছিলো পৃথিবীতে তখন কিরকম অদ্ভুত একটা আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠলো বাবা আর মায়ের মুখ। সন্তান জন্মের পর অন্যরকম যেন একটা পরিতৃপ্তি কাজ করে মানুষের অন্তরে। এবং সেই পরিতৃপ্তি খুব ধীরে মনের অজান্তে একটা বিশাল স্বপ্নে রূপান্তরিত হয়। ডালপালা গজিয়ে অনমনে এক মহিরূহ...
শোরগোল চলছে, হঠাত একজন পড়ে গেলো। সবাই ধরাধরি করে নিয়ে চললো। ওদিকে গরম জলে দাঁড়িয়ে থাকা দ্বায়। মস্তিষ্কের কোষে কোষে একটি মাটির ঘরের মাঝে বসবাস করা দারিদ্রের অলংকারে পূর্ণ একটি সংসার। এ অলংকার সৌন্দ্যর্যের নয়, এটা শেকল, লজ্জা, আর যন্ত্রণার আবাস।
বেসরকারী শিক্ষকদেরকে মানুষই মনে হয়নি, যে পুলিশের লাঠিতে আহত হলেন তার বাবার বয়সী বৃদ্ধ উস্তাদ তার কি বোধ বুদ্ধি কিছুই নাই? তাকে কেউ শেখায়নি শিক্ষককে সম্মান করতে? নাকি সে কোন রাজনৈতিক দলের বলেই তাকে রিক্রুট করা হয়েছে কোন...
মা নিয়ে কত গান কবিতা কত গল্প উপন্যাস, আর সেই সাথে কত চোখের পানি। আমরা সবই জানি, জানি এই মা না থাকলে আমাদের বড় হওয়া হতোনা। আজ ভোরে আম্মুর সাথে নিয়মিত কথা বলাবলির মতই বলছিলাম, ফাঁকে বললাম আম্মু জানেন? আজকে মা দিবস। আম্মু কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। মা’র আবার দিবস দরকার আছে? তিনি কি ভাবছেন? এই দিবসটি কি কারণে? তার কাজগুলোকে মূল্যায়ন করতে? নাকি তাকে ভালবাসতে? নাকি দোকানীদের পসরা করে সাজিয়ে রাখা কার্ড আর ফুলগুলো কিনে কর্পোরেট দুনিয়ার পকেট ভরতে? নাকি বিদেশী কোম্পানিগুলোর মাকে পুঁজি করে টিভিসিতে ইল্যুশন তৈরি করে নিজের পণ্যটার বিক্রি আরও একটু বৃদ্ধি করাই উদ্দ্যেশ্য?
...
দেশটায় একের পর এক অতিপ্রাকৃতিক দূর্ভোগ আসছেই। অতি প্রাকৃতিক এই জন্য যে প্রাকৃতিক দূর্যোগে কাউকে দোষ দেয়া যায়না, কিন্তু এইখানে দোষারোপ করার মত লোক লাইনে লাইনে একাউন্ট ভরছে দুট জিনিস দিয়ে। এক দেশের লোকের ঘৃণা ও বদ দোয়া, আর ২য়টি হচ্ছে কালো টাকা।
একজন মেহমান গিয়ে সারলো না, শুরু হয়েগেলো যতসব প্রলাপ। প্রতিহিংসা মানুষকে অন্ধ করে দেয় এই জিনিশটা আমাদের মহা জ্ঞানী আশরাফ( যার অর্থ চরম ভদ্র) সাহেব যেসব কথাবার্তা বললেন, তাতে আমাদের ঐ টিভিওয়ালা চায়ের দোকানদারও লজ্জা পেয়েছেন।
...
সেই ছোট্ট বেলায় অ আ ক খ পড়ার মাধ্যমে আমার পড়াশুনার শুরু। ক্লাসে জীবনেও ফার্ষ্ট হইনি। কিন্ডারগার্ডেনে দশের শেষ সিমানায়ই নিজের রোল নম্বর খুঁজে পেতাম বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্টে। পড়াশুনার ব্যপারে আব্বুর ঝাড়ি খুব একটা না খেলেও আম্মুর তালাশির ( শুপারি গাছের শরীর দিয়ে তৈরী ভাত নাড়ার যন্ত্র) ঝাল ঝাল স্পর্শ কম ছিলোনা জীবনে। আম্মু কিভাবে যেনো চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকাতেন, মুহুর্তেই মায়াময় সেই চেহারাটা বুকের ভেতর হীম ধরানো বাতাস বইয়ে দিতো। আমার কাছে খুব আশ্চার্য লাগে আমার ভিতু ভিতু গাবলু চেহারা দেখেও আম্মুর হাসি আসতোনা? আমি তো আজকাল বাচ্চাদের দেখলেই হাসি। অবশ্য পরে শুনেছি আম্মুর মায়া লাগলেও...
বাসে উঠতেই একটা গুমোট বাতাস নাকটাকে ধরে বাঁদুরের মত ঝুলে রইলো, যতই ঝেড়ে ফেলতে চাওয়া ততই যেন চোরাবালির মত ডুবে যাওয়া সেই গন্ধে। জানালার পাশের সিটগুলোর দিকে চোখ, ধুপ করে পিছনদিকের সাড়ির একটায় বসে পড়ি। বাইরের শহর দেখি, এই পড়ন্ত বিকেলে অনেকটাই বিষণ্ণ মনে দাঁড়িয়ে আছে নতুন হতে যাওয়া ফ্লাইওভারের মোটা মোটা কনক্রিটের থামগুলো। মটর বাইক চালানো ভদ্রলোক আর তার পেছনে বসা রমণী, পিক-আপ ভ্যনে পানির কন্টেইনারের উপর বসে ঘুমে ঢুলতে থাকা ছোকরা, আর আমাদের পিচ-ঢালা পথ।
সমাজব্যবস্থার শিরায় উপশিরায় কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার বসবাস। আমি নিজেও অনেকটাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক, কিন্তু এ সংক্রান্ত প্রশ্ন আমার পিছু ছাড়েনা। কেবল প্রশ্ন করে যাই, আমি কি আসলেই আমি? আর আমি আসলে কতটুকু আমি? কিংবা আমার কতটুকু আমি হওয়া উচিত?
...
যারা প্রবাসে আছেন- বুকের ভেতর কিরকম একটা চাপা কান্না সকল সময়েই বয়ে বেরান তারা। অথচ দেশের মানুষগুলোকে এতোটুকুও বুঝতে দেননা। ফোনে কন্ঠ থাকে উচ্চ হর্ষে পূর্ণ, কিন্তু লাইনটা কেটেই যে বাঁধ ভাঙ্গা কান্না সমগ্র জগৎটাকে এলোমেলো করে দেয় বিষন্ন প্রবাসের অস্থির দিনগুলো তা হয়তো ঐ অন্ধকার...