ট্রানজিটের পরিবর্তে ট্রানশিপমেন্ট বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ’র (আইসিসিবি) ত্রৈমাসিক বুলেটিনে এ কথা বলা হয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়েছে যে, প্রস্তাবিত ট্রানজিট পরিকল্পনায় ভারতের ট্রাকসমূহ এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে চলাচল করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশী পণ্যবাহী ট্রাকসমূহ ভারতীয় সীমানা পর্যন্ত যেতে পারবে। এটি একটা বৈষম্যমূলক সংযোগ পরিকল্পনা।
অপরদিকে ট্রান্সশিপমেন্টে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন মাত্রার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। বাড়বে ব্যবসায়ের সুযোগ ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বহুলাংশে কমে যাবে। অন্যথায় ট্রানজিটের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যাপক অর্থনৈতিক মুনাফা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হবে বলে তারা উল্লেখ করেছে।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, ট্রানজিট সুবিধার সপক্ষে বলা হয়, বাংলাদেশ ট্রানজিট ফি এবং অন্যান্য কার্যক্রম বাবদ বছরে শত শত মিলিয়ন ডলার উপার্জন করবে। কিন্তু ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ’র সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশ যদি ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেয় তাহলে ৩০ বছরে মাত্র ২৩০ কোটি মার্কিন ডলারের মতো আয় আশা করতে পারে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য যে বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে তার তুলনায় এটা একেবারেই নগণ্য।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ আরো বলছে, বাংলাদেশ বিশেষভাবে লাভবান হতে পারে যদি ট্রানশিপমেন্ট কাঠামোয় ভারতীয় পণ্য এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলাচলের জন্য বাংলাদেশী পরিবহন ব্যবহার করে। এতে করে একদিকে যেমন ভারতীয় মালামাল বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ পাবে এবং পরিবহন খরচের বিপুল সাশ্রয় হবে।
উল্লেখ্য ট্রানশিপমেন্ট ব্যবস্থায় ভারতীয়দের কোনো প্রকার ‘ট্রানজিট ফি’ দিতে হবে না।
আইসিসিবি বলেছে, বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতীয় মালামাল নিয়ে ভারতীয় কার্গো চলাচলের জন্য রাস্তা উপযোগী করার নিমিত্তে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে মাল্টি-বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে তা কোথা থেকে আসবে সেটিও স্পষ্ট নয়। বৈদেশিক ঋণ অথবা অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে এই বিনিয়োগ ফলপ্রসূ হবে বলে আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হয় না।
বাংলাদেশের সড়ক, রেল এবং বন্দরের মাধ্যমে ভারত তার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের রাজ্যগুলোর জন্য ট্রানজিট সুবিধা চেয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে নেপাল ও ভুটানের সংযোগ স্থাপনের জন্য ভারত রেল ও সড়ক যোগাযোগে সম্মত হয়েছে। যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, নেপাল এবং ভুটান থেকে ট্রানজিট ফি হিসেবে বাংলাদেশ ভালো রাজস্ব আদায় করতে পারবে। কিন্তু ভুটানের জিডিপি ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চেয়ে কম এবং নেপালের অর্থনীতিও খুব বেশি বড় নয়।
এছাড়া, এ দুটো দেশের অর্থনীতি অবিচ্ছেদ্যভাবে ভারতের অর্থনীতির সঙ্গে একীভূত হয়ে আছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নেপাল এবং ভুটান থেকে আশানুরূপ দ্রব্যাদি যাতায়াত করবে না বলে অনুমান করা যায়। কারণ এ দুটো দেশ খুব বেশি রফতানি দ্রব্যাদিও উৎপাদন করে না।
আইসিসিবি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যখন থেকে বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর সীমানার বাইরে বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছে, তখন থেকেই মালামাল পরিবহনে ট্রানশিপমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার শুরু হয়েছে। এ অবস্থায়, ট্রানশিপমেন্ট চুক্তি হলে ভারত কর্তৃক অনুরোধকৃত ট্রানজিট সুবিধার আশু সমাধান হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে।
বিমুগ্ধ রজনী লিখেছেন : ৭১ সালে এই দেশে কয়জন রাজাকার ছিল জানি না। তবে নিশ্চিতভাবে অনুমান করা যায় নব্য রাজাকারে দেশ এখন ছয়লাভ। আল্লাহ তুমি আমাদের মুক্তি কর।
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
২
466630
১২ অক্টোবর ২০১১; রাত ১২:৪৪
সবুজ অরণ্য লিখেছেন : ট্রানজিটের পক্ষে জনমত তৈরী করার জন্য সুশীল সমাজের প্রতিনিধি বাঘা-বাঘা(!!) ভারতীয় দালালদের বড় বড় গাল-গল্প ফাঁদার মৌসুম তাহলে এখনো শেষ হয় নাই !!!
ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারতের লাভসমূহ:
১) ট্রানজিটের জন্য সড়ক-রেলপথ-নৌপথ সংস্কারের নামে অবকাঠামো উন্নয়নের ধোঁয়া তুলে যে নির্মাণ-সামগ্রী, মালপত্র এবং ঠিকাদার-পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হবে তার সবকিছু ভারত থেকে ক্রয়-নিয়োগের শর্ত বেঁধে দিয়ে ঋণের পুরো টাকাটাই নিরাপদে ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া, সেই সাথে এরই মাধ্যমে ভারতের প্রাইভেট সেক্টরের প্রভূত লাভ করা এবং সেখান থেকে কর-ট্যাক্স আদায় করে ভারতের অর্থ-মন্ত্রনালয়ের আরো অনেক অর্থ সমাগম নিশ্চিত করা।
২) বাংলাদেশকে ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়ে সেই ঋণ বার্ষিক ১ দশমিক ৭৫ সুদ হারে পাই পাই করে পুরো ঋণের টাকা সমেত আদায় করে বিশাল আকারের অর্থনৈতিক মুনাফা অর্জন।
৩) ট্রানজিটের জন্য বাংলাদেশকে ন্যায্য ফি, শুল্ক, মাশুল, চার্জ প্রদান না করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে সহজে মালামাল পরিবহনের মাধমে পরিবহন ব্যয় অনেক অনেক গুন কমিয়ে আনা।
৪) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যসমূহ বা সেভেন-সিস্টার্সে চলমান বিচ্ছন্নতাবাদী বিদ্রোহ দমনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে সহজে ও স্বল্পতম সময়ের মধ্যে অস্ত্র ও সেনাবাহিনী পরিবহন করে সেখানে পৌঁছানোর ক্ষমতা অর্জন করা এবং বিদ্রোহ দমনে অনেকগুলো বাঁধা অতিক্রম করে কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। ভারত ট্রানজিটের ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের কথা মুখে বললেও সেটার মধ্যে যে প্রতারণা আছে তা পরিষ্কার হয়ে যায় যখন ট্রানজিটের শর্তের মধ্যে ভারত উল্লেখ করে "সিল-গালা করে দেয়া কোন কন্টেইনার বা কোন কিছু বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ সিল-গালা খুলে চেক করতে পারবে না এবং ভারত চাইলে তার মাল-পত্রের সাথে নিয়াপত্তারক্ষীও প্রেরণ করতে পারবে।"
৫) অরুনাচল প্রদেশ নিয়ে চীনের সাথে বিবাদমান সংঘর্ষের ক্ষেত্রে ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারত প্রতিরক্ষা জোরদার করতে সমর্থ হলো এবং বেইজিংকে দিল্লী এই বার্তা পৌঁছে দিলো যে চীনের বিরুদ্ধে সংঘাতে ভারত নিজের জন্য আঞ্চলিক মিত্র(বাংলাদেশ) যোগার করতে সমর্থ হয়েছে।
৬) ট্রানজিটের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সুসম্পর্কে নষ্ট করে ভারত বাংলাদেশের সামরিক নিরাপত্তাকে ধ্বংস করবে এবং দক্ষিন-এশিয়ায় সহজেই আঞ্চলিক প্রাধান্য বিস্তার করতে সমর্থ হবে।
ট্রানজিটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্ষতিসমূহ:
১) ৭ হাজার কোটি টাকা বার্ষিক ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদ হারে চাপিয়ে দেয়া বিশাল ঋণের বোঝা মাথায় নেয়া।
২) ন্যায্য ও উপযুক্ত ট্রানজিট ফি, শুল্ক, মাশুল, চার্জ আদায় করার ব্যাপারে ভারতকে সম্মত করতে না পেরে 'অবকাঠামো উন্নয়ন' এর নামে নেয়া বিশাল ঋণ পরিশোধ করার ক্ষেত্রে অপরিহার্য 'খাত সমূহ' কে শুরুতেই নষ্ট করে ফেলা।
৩) বিশাল ঋণের টাকা সুদ সমেত পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত খাত অনুপস্থিত থাকায় ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে দেশীয় অর্থনীতির উপর ভয়াবহ চাপ ও বিপর্যয় ডেকে আনা।
৪) বাংলাদেশের অনুন্নত ও দুর্বল পরিবহন অবকাঠামোর উপর দিয়ে ট্রানজিটের ভারী পরিবহনযানের অবাধ যাতায়তের মাধ্যমে পরিবহন কাঠামোর অপরিসীম ক্ষতি সাধন এবং এইসকল কাঠামোর স্থায়িত্ব অনেক গুনে কমিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও বেশী সমস্যাযুক্ত ও বিপদসংকুল করে তোলা।
৫) ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী রাজ্যসমূহের নিকট বিদ্রোহ-দমনের প্রশ্নে নিজেকে ভারতের মিত্র বলে পরিচয় করিয়ে দেয়া এবং এরই সংশ্লিষ্টতায় নিজেকে সেইসকল রাজ্যের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণমূলক হামলা ও আক্রমনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করানো।
৬) অরুনাচল প্রদেশ নিয়ে চীনের সাথে বিবাদমান সংঘর্ষে ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারতকে নতুন নতুন সব প্রতিরক্ষাগত মাত্রা উপহার দিয়ে চীনের বিরাগভাজন হওয়া এবং বাংলাদেশ-চীন গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সমূলে বিনষ্ট করা।
এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে যে সামরিক সম্পর্কটি বিদ্যমান আছে তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশ প্রচুর সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করে থাকে, বিভিন্ন সামরিক প্রকল্পে চীন বাংলাদেশের এক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং ২০০২ সালে সাক্ষরিত এক চুক্তি অনুযায়ী যেকোন যুদ্ধকালীন সময়ে চীনই বাংলাদেশের জন্য একমাত্র রক্ষাকবচ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে আছে।
বলাই বাহুল্য যে ট্রানজিটের মাধ্যমে বন্ধুত্বের লেবাস ধরা একটি নকল বন্ধু(!!) এর কারণে বাংলাদেশ তার সত্যিকারের প্রকৃত একজন বন্ধুকে হারাবে।