ইসলাম শিক্ষার্জন তথা জ্ঞান চর্চাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তবে সে জ্ঞান চর্চা হতে হবে ধর্মীয় জ্ঞান অথবা মানব জাতির কল্যাণ করে এমন জ্ঞান।
শিক্ষার সংজ্ঞায় বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মত রয়েছে। কারো মতে শিক্ষার উদ্দেশ্য হলঃ আত্ম উপলদ্ধি। আবার কেউ বলেছেনঃ শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো মিথ্যার বিনাশ আর সত্যের আবিষ্কার। আবার কারো মতে শিক্ষার উদ্দেশ্য হলঃ সুন্দর বিশ্বাসযোগ্য ও পবিত্র জীবনের উপলব্ধি।
কেউ বলেছেনঃ শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো, চরিত্র গঠন, পরিপূর্ণ জীবনের জন্য প্রস্তুতি এবং ভালো দেহ ভালো মন গড়ে তোলা।
আর ইসলামী শিক্ষা বলতে আসলে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষাকেই বুঝানো হচ্ছে। বলাবাহুল্য যে, এ শিক্ষার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য দুনিয়া ও আখিরাতের সর্বেসর্বা আল্লাহর পরিচয় লাভ করা। আল্লাহর পরিচয় এবং তাঁর কাছে জবাবদিহিতার ভয় তথা তাকওয়াই পারে মানুষকে মানুষ বানাতে। একজন মুত্তাকী বা আল্লাহভীরু ব্যক্তি লোকসমাজে শিক্ষিত বা অশিক্ষিত যা বলেই গণ্য হোন না কেন, তাঁর হাতে কেউ অনিষ্টের শিকার হবে না। তিনি যেদিকেই যাবেন শুধু আলোই ছড়াবেন। তাঁর হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে পরিবেশ, প্রতিবেশি ও প্রাণীকুল- সবই নিরাপদ থাকবে।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছেঃ ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাযী খালাক। খালাকাল ইনসানা মিন আলাক। ইকরা ওয়া রাব্বুকাল আকরামুল্লাযী আ’ল্লামা বিলকালাম। আল্লামাল ইনসানা মা লাম ই’লাম। পড়, (হে নবী!) তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। জমাট বাঁধা রক্তের এক পিণ্ড হতে মানুষকে সৃষ্টি করছেন। পড়, আর তোমার রব বড়ই অনুগ্রহশীল। যিনি কলমের সাহায্যে জ্ঞান শিখিয়েছেন। মানুষকে এমন জ্ঞান দিয়েছেন যা সে জানত না। (সূরা আলাক : ১-৫)
নবী করীম (সা) বলেন, আমি মানুষের নৈতিক-গুণ মহাত্মকে পূর্ণতার স্তরে পৌঁছে দেয়ার জন্যই প্রেরিত হয়েছি। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক)
অন্য এক বর্ণনায় এসেছেঃ রাসুল সাঃ বলেনঃ প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর জন্য ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা ফরজ। (ইবনে মাযাহ) গতকালের মিলন মেলায় বিজ্ঞ ব্লগারগণ “জ্ঞানহীনে সৎ-আমল দ্বারা আল্লাহর কাছে জান্নাত চাওয়ার কৈফিয়ত কাজে আসবে না! ”সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা আলোচনা করেছেন। ফেনল
হাবীবুল্লাহ আল কাছেম
মুফতি আমিনুদ্দীন
ফারহাআঁখি
সাদিকরুবেল গত শনিবারের সোনার বাংলা ব্লগে মিলন মেলার আয়োজন ছিল বেশ জমজমাট। সমাচার লেখার সময় পর্যন্ত ৪৪৬ বার পঠিত ও মোট কমেন্ট সংখ্যা ২৭১ টি এবং ১৪ জনের পছন্দ। যারা অংশগ্রহণ করতে পারেননি তারা ইচ্ছে করলে একবার ঘুরে আসতে পারেন মিলন মেলা থেকে। http://www.sonarbangladesh.com/blog/mahmudiam/90959 উক্ত মিলন মেলায় সেরা কমেন্টদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এস বি ব্লগের অতি পরিচিত ব্লগার মুফতি আমিনুদ্দীন। যা ক্রমিক নাম্বার হিসাবে ছিল ৪১ নাম্বার কমেন্ট। আসুন! আমরা সেরা কমেন্টটি দেখে নিই। মুফতি আমিনুদ্দীন লিখেছেন : আমাদের দেশের প্রতিটি স্কুল-কলেজের দরজা বা দেয়ালে লিখে দেওয়া হয় : ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য মনুষ্যত্ব অর্জন’ এবং ‘শেখার জন্য এসো, সেবার জন্য বেরিয়ে যাও’।
শিক্ষার উদ্দেশ্য যদি মনুষ্যত্ব অর্জনই হয় তাহলে পশুত্ব ও পাশবিকতার এমন জয়জয়কার কেন চারদিকে?
মনুষ্যত্বের এত অভাব কেন সর্বত্র?
সেবার জন্যই জন্য শিক্ষিত, সার্টিফিকেটপ্রাপ্তরা বেরিয়ে এসে থাকেন তাহলে কেন সমাজের প্রতিটি স্তরে মানুষ ঠকাবার হরেক আয়োজন?
নিরেট সেবাখাতগুলোতেও কেন সেবা হয়ে উঠছে সোনার হরিণ?
উপরোক্ত বাক্যদ্বয় সঠিক হলে শিক্ষিতের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনাচার না কমে শুধু বেড়েই চলেছে কেন?
সামাজিক নানা অপরাধ ক্রমশ বৃদ্ধিই পাচ্ছে কেন?
সভ্যতা যত ওপরে উঠছে ততধিক নিচে নামছে কেন মানুষ? আগে মানুষ অন্যায় করে নিজেকে অপরাধী ভাবত, অন্যায়কারীর প্রতি মানুষের সম্মান তলানিতে গিয়ে ঠেকত। কিন্তু এখন কেন তার উল্টো হচ্ছে? দেদারছে অপরাধ করছে আবার দিব্যি বুক ফুলিয়ে বেড়াচ্ছে অনাচারিরা। সৎ ও নিষ্ঠাবান লোকের প্রতি অবহেলা ও অনাদর প্রদর্শন করা হচ্ছে। পক্ষান্তরে অসৎ, প্রতারকদের সালাম ঠুকা হচ্ছে!
এটা কি ইসলামী শিক্ষা বিবর্জিত শিক্ষা ব্যাবস্থার কুফল নয়?
আগামী ৬/২/২০১২ সোমবার মিলন মেলা আয়োজন হবে ব্লগার সাদেক রুবেলের বাড়িতে। আপনারা সবাই আমন্ত্রিত। সময়ঃ বাংলাদেশে টাইম সন্ধ্যা ৭টা। মিলন মেলার সকল বন্ধুদেরকে আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আগামী মিলন মেলায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি আমি মিলন মেলা।
সাদিকরুবেল লিখেছেন : একজন মানুষের জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করার জন্য প্রয়োজন সুশিক্ষা। যে শিক্ষার আলোকে-ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পরিবার-সমাজ তথা দেশকে ভাল কিছু উপহার দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে প্রত্যেকেই। কিন্তু এ প্রকৃত শিক্ষা আমরা পাবো কোথায় থেকে? আমাদের দেশে কি এমন শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে যে, যা থেকে আমরা প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি? যে কোনো সমাজ সচেতন মানুষ এক বাক্যে স্বীকার করতে বাধ্য, আমাদের দেশে যে ভংগুর শিক্ষানীতির ছত্রছায়ায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণ করছে, তা কোনভাবেই প্রকৃত মানুষ সৃষ্টি করতে পারে না।
islamic news
বলা বাহুল্য যে, শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য হলো প্রকৃত মানুষ সৃষ্টি করা। কিন্তু খুব দুঃখের সঙ্গেই বলতে হয় যে, পৃথিবীব্যাপী শিক্ষার যদিও আশাতীত প্রসার লাভ ঘটেছে বলে অনেকে মনে করেন, কিন্তু আমি তা মানতে পারছি না। কারণ, প্রকৃত মানুষ কিংবা পূর্ণাঙ্গ মানুষ কোথাও তৈরী হচ্ছে বলে আমি মনে করি না। কেউ যদি মনে করেন, এটা আমার বাড়াবাড়ি কিংবা মনগড়া কথা, তাহলে আমার এ ব্যাপারে বলার কিছু নেই। তবে আমি এটা সরাসরি বলতে পারি, পৃথিবীর সর্বশীর্ষে সমাসীন পর্যন্ত শিক্ষা ও পান্ডিত্যের অধিকারী হয়ে যখন একজন মানুষ হয় লম্পট, চোর, বদমাইশ এবং অসভ্যতার কোনটাই তার মাঝে বাকি থাকে না, তখন নিশ্চয়ই তাকে মানুষ বলা যায় না; কোনভাবেই তাকে প্রকৃত শিক্ষিত বলে গণ্য করা যায় না। যদি কেউ একে শিক্ষিত বলে মনে করেন, আমি বলবো, তিনি শিক্ষা ও শিক্ষিতের প্রকৃত সংজ্ঞা জানেন না বলেই 'শিক্ষা ও শিক্ষিত' শব্দটিকে লেজেগোবরে করে ফেলছেন।
আমি আরো একটু গভীরে গিয়ে যদি বলি, যে প্রকৃত শিক্ষা তথা শিক্ষিত মানুষ দেশ তথা বিশ্বে খুঁজে পাওয়া বিরল, তাহলে নিশ্চয়ই পাঠকমহল আমাকে পাগলও বলতে পারেন। তবে যে যাই বলুক, আমার কথা হলো, আমরা প্রত্যেকেই মূর্খ্য কোনো না কোনো বিষয়ে। যা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। উদাহরণ স্বরূপ যদি বলি, তাহলে আবার আমার সে পুরোনো বাঁঁশিটির সুর শোনাতে হবে। যেমন-আমরা সকলেই জ্ঞান অন্বেষণ কালে জানবার জন্যই অধ্যায়ন করে থাকি। ভাল-মন্দও জানি পড়ার মাধ্যমে। কিন্তু পড়া যখন শেষ করি, তা কি আমাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে মেনে চলি? নিশ্চয়ই না। আর যদি মেনেই চলতাম, তাহলে কেনই বা মিথ্যার মতো জগন্য শব্দটি হতো আমাদের সঙ্গী? মানুষের অনিষ্ট কেনই বা হতো আমাদের দ্বারা? আর কেনোই বা সমগ্র বিশ্বব্যাপী নিজেদের আদিপত্য বিস্তারের অপপ্রয়াসে লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ মানুষকে নির্মমভাবে করা হতো হত্যা? এমনি করে অসংখ্য বিবেক বর্জিত, মানবতা বিরোধী, সুশিক্ষার পরিপন্থী জগন্যতম কর্মকান্ড বিশ্বের সর্বত্রই চলছে বিরামহীনভাবে তথাকথিত শিক্ষিত মানুষদের দ্বারা; বা চলমান শিক্ষার কারিকুলামে শিক্ষিত ব্যক্তি-গোষ্ঠী দ্বারা। যা কোনোভাবেই প্রকৃত শিক্ষা ও শিক্ষিত ব্যক্তি-গোষ্ঠীর পর্যায়ে পড়ে না।
আর এ কুশিক্ষা বা অশিক্ষার মোহে আমরা অন্ধ হওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ভাল মন্দ বাছবিচার করার ক্ষমতাও আমরা হারিয়ে ফেলেছি। প্রত্যেক মানুষ জন্ম লাভের পর পরিবেশ থেকেই ভাল-মন্দ বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করে। আস্তে আস্তে তার বয়স বাড়ার পাশাপাশি বিবেক-বুদ্ধি, প্রবৃত্তি তথা বোধশক্তি বৃদ্ধি পায় এটাই স্বাভাবিক। সে যে সমাজে বাস করে যেখানেই ভাল-মন্দ দৃশ্য দেখে, ভাল-মন্দ কথা বলতে শেখে, ভাল-মন্দ চিন্তা করে, ভাল-মন্দ কর্ম করতে শেখে। এমনি করে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ভাল-মন্দ তার মস্তীষ্কে ধারণ হতে থাকে। পাশাপাশি কুপ্রবৃত্তি ও সু-প্রবৃত্তি ভাল-মন্দ বিষয়গুলো ভাগাভাগি করে নেয়। যখন দেখা যায়, খারাপত্বের প্রভাবে কৃপ্রবৃত্তি চাঙ্গা হয়ে ওঠে, তখন সুপ্রবৃত্তি অবদমিত হয়ে পড়ে। যে কারণে ভালদৃশ্য, ভালচিন্তা, ভালকাজ ও ভালকথা শোনাতে তার ভাল লাগে না। মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ হয়ে সে তখন দিশেহারা হয়ে ওঠে। তার বিবেক তখন কখনো তন্দ্রাচ্ছন্ন আবার কখনো ঘুমিয়ে পড়ে এবং এমনও দেখা যায় অনেকের বিবেক অর্ধ্বমৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। আর যখন বিবেক সত্ত্বা পুরোপুরী বিনষ্ট হয়ে যায় তখন তার মৃত্যুই অনিবার্য।
যা মানব জীবনের সুস্থ চিন্তা-চেতনা থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দেয়। এবং এক পর্য়ায়ে সে এই সুন্দর ধরণী থেকে বিদায় নেয় অনাকাঙিক্ষতভাবে। সমাজ ও জাতিকে ভাল কিছু উপহারের বদলে এমন কিছু ব্যধি ছড়িয়ে দিয়ে যায়, যা যুগ-শতাব্দী কিংবা হাজার বছর পর্যন্ত গড়ায়। আর তাহলো নিঃসন্দেহে কুশিক্ষা। আর এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সর্বাগ্রে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে সত্য ও সুন্দরের চাষাবাদ করতে হবে। প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করে প্রকৃত মানুষ হতে হবে। তবে এ কাজটি এতো সহজ নয়। যারা প্রকৃত মানুষ হওয়ার সংকল্প করবে তাদের সর্ব প্রথম নিজের কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে; খারাপত্বকে পরিহার করে ভালত্বের সন্নিবেশ ঘটাতে হবে মস্তীস্কের মধ্যে।
এটা অবশ্য হুট করে সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে অনুশীলনে রপ্ত হয়ে যাবে আপনাআপনিই। প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহেও যদি আমরা আমাদের মস্তীস্কে জমে থাকা খারাপত্বের দিকগুলোকে কিছু কিছু করে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করি এবং ভালত্বকে গ্রহণ করি তাহলে দেখা যাবে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের সুপ্রবৃত্তি তথা বিবেক নামের পাঠশালার দোর উন্মেচিত হবে। বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর ভয়ে সকল খারাপত্ব পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে। কুপ্রবৃত্তিরও প্রাণ যায় যায় অবস্থা হবে। আর তখনই আমরা যা পড়বো, যা জানবো তা আমাদের জীবনে যথাযথ প্রয়োগ করতে পারবো। এবং তখনই আমরা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবো। এর চেয়েও বড় কথা, সভ্য মানুষ হতে প্রয়োজন ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা। ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা যদি আমাদের মাঝে বিস্তার না ঘটে তাহলে কোনকালেই এ সকল সুস্থ চিন্তার বিকাশ ঘটবে না। আমরা পারবো না প্রকৃত আলোকিত মানুষ হতে। যে কারণে, একমাত্র ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থাই পারে আমাদের ব্যক্তি- পরিবার-জাতি- দেশ তথা বিশ্বকে সুস্থ ও সুন্দর জীবন-যাপনের পথ সুগম করতে।
২৭/২/২০১২ সোমবার -
আপনি ইচ্ছা করলে একদিন বেছে নিতে পারেন।