বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; দুপুর ০৩:০৪

একটি সরল মূল্যায়ন: কুরআন-সুন্নাহ থাকতে মাযহাব কেন

লিখেছেন এম এম নুর হোসাইন ২৯ জানুয়ারী ২০১২, সন্ধ্যা ০৭:০৮

মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী
আজ এই মুহূর্তে আপনি ইসলাম গ্রহণ করলেন কিংবা আপনি জন্মগতভাবেই মুসলিম, এ মুহূর্তে আপনি ইসলামের কোনো বিধান পালন করতে চান, তো আপনাকে আলেম-উলামা বা ইসলাম সম্পর্কে জানেন-এমন ব্যক্তির শরণাপন্ন হতে হবে। আমাদের এই ভূখন্ডে প্রথম দিকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তারা ঈমান শিখেছিলেন ইসলাম-প্রচারকদের কাছে। এরপর তাদের কাছেই নামায আদায় করতে শিখেছিলেন। আজ এবং অনাগত দিনেও পৃথিবীব্যাপী প্রতিটি নওমুসলিমই ঈমান, অযু-গোসল, হালাল-হারাম, সালাত-যাকাত, সিয়াম-হজ্ব ইত্যাদির প্রথম ধারণা লাভ করবেন তার ইসলাম গ্রহণের প্রথম মাধ্যম ব্যক্তিটির কাছ থেকে এবং বহু কিছু তিনি শিখে নিবেন মুসলিমসমাজের ধর্মীয় কার্যক্রম ও কালচার থেকে। এ বিষয়টি আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারব যদি কল্পনা করি সে সময়টির কথা, যখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এত উন্নত হয়নি। শিক্ষা-দীক্ষার হার ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। তথ্য ও যোগাযোগ মাধ্যম বলতে তেমন কিছুই ছিল না। ছিল না এত বই-পুস্তক, পত্রিকা ও প্রকাশনা। তখন ভাবের আদান-প্রদান ও যোগাযোগের একটিই উপায় ছিল। তা হল মৌখিক জ্ঞান বিনিময়ের পাশাপাশি বাস্তব অনুশীলন। অর্থাৎ হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া।
আজকের এই সময়টা নিয়েই ভাবুন। দেখবেন, বাংলাদেশের মুসলমানরা ইসলামী বিশ্বাস, চিন্তা-চেতনা, ইবাদত-বন্দেগী, সুন্নত-বিদআত, জায়েয-নাজায়েয, হালাল-হারাম প্রভৃতি যা কিছুই জানেন এর সিংহভাগই সমাজ, পরিবেশ, গৃহশিক্ষক, মসজিদের ইমাম, ওয়ায়েজ, মক্তবের উস্তাদ, মা-বাবা, দাদা-দাদী ইত্যাদি মানুষ থেকে শেখা। কেবল নিজের পড়াশোনা, প্রচারমাধ্যম বা অন্যান্য ব্যক্তিগত অনুসন্ধান থেকে ধর্মীয় জ্ঞান লাভ করেছেন এমন মানুষের সংখ্যা এ দেশে এখনও অনেক কম।
আমাদের সমাজের প্রকট বাস্তবতার আলোকেই বাঙ্গালী মুসলমানের প্রথম ইসলামী জ্ঞান অর্জনের এ ব্যবস্থাকে অবলম্বন করেই প্রবচন চালু হয়েছে-‘শুইন্যা মুসলমান।’ অর্থাৎ মূল উৎস ঘেঁটে, দেখে বা পড়ে নয়, শুনে শুনে যারা একটি বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে ধারণ করেছে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেই এ প্রবচনটি প্রয়োগ করে থাকেন গ্রাম-বাংলার মানুষ।
কেবল বই-পুস্তক পড়ে একটা কাজ শেখা আর একজন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে হাতে-কলমে শিক্ষালাভ করার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ আছে। কোনো খেলা, ব্যায়াম, সাইকেল বা গাড়ি চালনা কোনোটাই শুধু বই-পুস্তক পড়ে, মিডিয়ায় ছবি দেখে পূর্ণরূপে শিখে নেওয়া সহজ নয়। একজন উস্তাদের সাথে থেকে তার ইনস্ট্রাকশন মেনে বিষয়টি শিখলে এবং হাতে-কলমে অনুশীলন করলে পুঁথিগত জ্ঞান বা তাত্ত্বিক ব্যাকরণ ততটা না জানলেও কাঙ্খিত কার্যক্রমটুকু শিখে নেওয়া সম্ভব। পড়াশোনার বিষয়টি ব্যবহারিক পর্যায়ে থাকলেও কাজ বাধাগ্রস্ত হবে না। গভীর তত্ত্ব আলোচনা ও সামগ্রিক জ্ঞান অনুসন্ধান বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের জন্য জরুরি হলেও বিশ্বাস, দর্শন ও জীবনব্যবস্থার সাধারণ অনুসারীর প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ওই প্রশিক্ষক, গুরু, পীর, উস্তাদ, মুর্শিদ, আলেম, ইমাম বা প্রচারকের সান্নিধ্যই যথেষ্ট।
বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ও আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দ্বীন ইসলামের প্রচার তত্ত্বের চেয়ে ব্যবহারিক পর্যায়েই বেশি অগ্রসর হয়েছে। কেননা, পৃথিবীর সকল অঞ্চলের সকল যোগ্যতার মানুষকে তাওহীদ, রিসালত ও আখেরাতের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত জীবনব্যবস্থার দিকে দাওয়াত দিতে চাইলে কোনো কঠিন ও জটিল পন্থা অবলম্বন করা চলবে না। হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর সরল ও সনাতন পন্থায়ই তা করতে হবে।
হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে জীবনের প্রতিটি বিষয় হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়েছেন, কোনো বই-পুস্তক ধরিয়ে দিয়ে গবেষণা করে বুঝে নিতে বলেই দায়িত্ব শেষ করেননি। পৃথিবীর অপরাপর এলাকায় বসবাসরত সমকালীন মানুষ এবং পরবর্তী সকল যুগের অনাগত বিশ্বমানবমন্ডলীর কাছে নিজের দাওয়াত পৌঁছে দিতেও হযরত বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা, পান্ডুলিপি ইত্যাদির আশ্রয় নেননি। তিনি তাঁর সাহাবীগণকে দায়িত্ব দিয়েছেন বিশ্বময় ছড়িয়ে পড় এবং আমার আদর্শের একটি বাণী হলেও পূর্ব-পশ্চিমে বসবাসরত প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দাও।
হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন বলতেন, তোমরা আমাকে যেভাবে নামায পড়তে দেখ সেভাবে নামায পড়, সাহাবীরা যেমন নতুন কোনো মানুষকে অযু শেখানোর সময় তাদের সামনে বসে অযু করতেন এবং বলতেন, এই ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অযু। ইসলামের প্রতিটি বিধানই প্রাথমিকভাবে এর ধারক-বাহকদের মাধ্যমে ব্যবহারিক তথা প্রায়োগিকভাবেই বিস্তৃত ও প্রচলিত হয়েছে। আর ইসলামের সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব বা এর অন্তর্নিহিত শক্তিও এখানেই যে, এটি ধারণ বা পালন না করে বহন করা যায় না। আর একে ভালো না বেসে ধারণও করা যায় না। যারা একে ভালবাসেন ও নিজেরা ধারণ করেন, তারাই কেবল একে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারেন। এর আনুষ্ঠানিক প্রচারের তুলনায় এর ধারক ও সেবকদের আন্তরিকতা ও কল্যাণকামিতার মাধ্যমেই ইসলাম অধিক, ব্যাপক, গভীর আর টেকসই পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে। দেড় হাজার বছরের ইতিহাসই এর সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট।
এখন ইসলামের একজন অনুসারী হিসেবে আমি নিজেকে নিয়েই চিন্তা করি। ইসলামের একজন প্রচারক যখন আমার কাছে ইসলামের আদর্শ তুলে ধরবেন, সে সময়টা যদি হয় আরও ২, ৪, ৫, ৭ শ বছর আগের, তখন কি তার পক্ষে সম্ভব আমার হাতে এক কপি কুরআন বা সহীহ হাদীসের একটি পূর্ণাঙ্গ সংকলন তুলে দেওয়া? বাংলাভাষী হওয়ায় আমার পক্ষে কী আরবী ভাষায় তা পাঠ করাও সম্ভব? শুধু আরবী ভাষা বলেই কথা নয়, আমার পক্ষে কি তাত্ত্বিক এ দুটো উৎস-বিদ্যার বিষয়গত ভাব উদ্ধার করাও সম্ভব? এখানে আমার জ্ঞান-গরিমার পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক অবস্থা, বোধ-বিবেকের পরিমাণও একটি প্রশ্ন। এরপর বহু সাধনা করে কুরআন-সুন্নাহর ভান্ডার হাতে পেয়ে গবেষণা করে এর সারনির্যাস হাসিল করে নিজে ঈমান, আমল ও আখলাক চর্চা শুরু করতে আমার কত মাস, বছর বা যুগ লাগবে সেটাও কি কম বড় প্রশ্ন ? এতটা পরিশ্রম করে যদি ইসলাম পালন আমি শুরু করি, তাহলেও তো ভালো। কিন্তু এ কাজটুকু ক’জন মানুষের পক্ষে সহজ বা সম্ভব? তদুপরি প্রশ্ন দেখা দেবে যে, কুরআন-সুন্নাহ গবেষণা করে ঈমান-আমল, নামায-রোযা, হজ্ব-যাকাত, বিয়ে-শাদি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ঋণ-উৎপাদন, দান-খয়রাত, জীবন-মৃত্যু, জানাযা-উত্তরাধিকার ইত্যাদি শুরু করার আগ পর্যন্ত আমার মুসলমানিত্বের এ দীর্ঘ সময়ের নামায-বন্দেগী ও কাজকর্মের কী হবে?
আমার তো মনে হয়, কোনো ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীর ঈমান ও আমলের জন্য, ইসলামী জীবনবোধ ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য প্রথম দিনই কুরআন ও সুন্নাহ গবেষণা শুরু করার পদ্বতি ইসলামের স্বাভাবিক রীতি নয়। যদি এই না হবে তাহলে আমার সন্তানকে আমি ঈমান শেখাব কী করে? তাকে নামায, যিকর, সবর, শোকর, তাওয়াক্কুল ও আদব-আখলাক আমি কোন অধিকারে শিক্ষা দেব? যদি সে প্রশ্ন তোলে, আববু! তুমি আমাকে কুরআন ও সুন্নাহ শেখাও কেন? কুরআন-সুন্নাহ থেকে আমিই আমার জীবনবিধান খুঁজে নেব। তুমি এর মধ্যে এসো না। তুমি তোমার প্রায়োগিক আচরণ ও পর্যবেক্ষণ আমার ওপর চাপাতে চেষ্টা করো না। আমি তোমার বা তোমাদের মাযহাব মানি না। আমার দায়িত্ব তো কুরআন-সুন্নাহর ওপর আমল করা। অতএব কুরআন-সুন্নাহর ওপর দখল স্থাপন করার সময় আমাকে দাও। এরপরই আমি শরীয়তের ওপর আমল শুরু করব। পুত্রের এসব যুক্তির পর আমার বলার কি কিছু থাকবে?
পুত্রের এ বক্তব্য যে ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত সে ভিত্তিই আমাকে কথা বলার সুযোগ দেবে। কারণ মহান আল্লাহ তাঁর দ্বীনের প্রচার ও শিক্ষাকে যে সনাতন ও স্বাভাবিক পদ্ধতিতে প্রচলিত ও বিস্তৃত করেছেন, এর সম্পূর্ণ অনুরূপ হচ্ছে আমার এ উদ্যোগ।
আমার পুত্রকে ইসলামী জীবন-বিধান শিক্ষা দেওয়া আমার ওপর শরীয়তের নির্দেশ। আমি তাকে আল্লাহর পরিচয়, আল্লাহর শক্তি, প্রীতি, ভীতি ও ভালবাসা শেখাব। তাকে হযরত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহত্ত্ব, অবস্থান ও অপরিহার্যতা সম্পর্কে ধারণা দেব। তাকে নামায শেখাব। খাওয়া-পরা, ঘুম-বিশ্রাম, প্রস্রাব-পায়খানা, প্রবেশ-প্রস্থান, মসজিদে যাতায়াত, আযানের জবাব, হাঁটা-চলা, সালাম, মোসাফাহা ইত্যাদির ইসলামী নিয়ম শিক্ষা দেব। আমি নিজেও অযু-গোসল, রোযা-নামায, দাম্পত্য জীবন, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন, হজ্ব-কুরবানী প্রভৃতি যথাযথ নিয়মে পালন করব। অথচ আমি কুরআন বা হাদীস পড়ার বা বুঝার মতো যোগ্যতা রাখি না। জ্ঞানের এ দুই মহাসমুদ্র পাড়ি দিয়ে আমার দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান হস্তগত করে আমল করার মতো শিক্ষা, মেধা, মানসিক যোগ্যতা বা সামগ্রিক অবস্থা আমার নেই, এমতাবস্থায় আমার কী করণীয়?
আমার তো মনে হয়, এখানে আমার ও আমার পুত্রের একই ধরনের করণীয়, যা ইসলামের ১৫০ কোটি সমসাময়িক অনুসারীর প্রত্যেকেরই করণীয়। আর তা হল, কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমা-কিয়াস থেকে গৃহীত ইসলামী বিধিবিধানের প্রায়োগিক রূপ ফিকহের অনুসরণ। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমন বলেছেন, একজন ফকীহ শয়তানের মোকাবেলায় এক হাজার আবেদেরও চেয়েও শক্তিশালী। এর কারণ সম্ভবত এটিও যে, এক হাজার সাধারণ মুসলিমকে ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে সংশয় উদ্বেগ ও বিভ্রান্তিতে ফেলে দেওয়া শয়তানের জন্য যত না কঠিন একজনমাত্র শরীয়ত-বিশেষজ্ঞ ফকীহ আলেমকে বিভ্রান্ত করা এরচেয়ে বেশি কঠিন। কেননা, এই ব্যক্তির কাছে কুরআন ও সুন্নাহর শক্তিশালী সম্পদ রয়েছে। রয়েছে ইলমে দ্বীনের আরও বিস্তারিত ভান্ডার।
কুরআন মজীদেও আল্লাহ তাআলা এ মর্মে বলেছেন, প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর মধ্য হতে একদল মানুষ যেন দ্বীনী ইলমের উপর ব্যুৎপত্তি অর্জন করে কারণ জনগোষ্ঠীর বাকি অংশটিকে তাদের শরীয়তের উপর পরিচালনা করতে হবে। এখানেও আমরা ফকীহ বা শরীয়তের আলেমের বিধিগত অস্তিত্ব এবং তাঁর কুরআনী দায়িত্ব উপলব্ধি করতে পারি।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মহামান্য সাহাবীগণের পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পর ইসলাম যখন আরব-উপদ্বীপ ছেড়ে একদিকে সাহারা গোবি ছুঁয়ে দূর অতলান্তিক স্পর্শ করছিল, অপরদিকে আসমুদ্র সাইবেরিয়া আর মহাচীনের প্রাচীর পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছিল তখনও কিন্তু পবিত্র কুরআন ব্যাপকভাবে হস্তলিখিত হয়ে এত বিপুল পরিমাণ অনুলিপি তৈরি হয়নি, যা প্রতিটি শিক্ষিত নও-মুসলিমের হাতে তুলে দেওয়া যায়। আর হাদীস শরীফ তো তখনও যাচাই বাছাইয়ের পর সংকলিত ও গ্রন্থবদ্ধ হয়েও শেষ হয়নি। তো ইসলামের এ অগ্রযাত্রা, ইসলামী শরীয়তের আলোয় প্লাবিত এ নতুন পৃথিবীর বুকে কাদের মাধ্যমে কুরআন-সুন্নাহর আলো প্রতিবিম্বিত হয়েছিল? এর ছোট এক টুকরো জবাবই ইসলামের ইতিহাসে সুরক্ষিত আছে, যা আমি এ লেখার শুরুতে নিবেদন করেছি। হাদীস শরীফে তো বলা হয়েছে, তোমাদের মাঝে দুটি বিষয় আমি রেখে গেলাম। যতদিন তোমরা এ দুটো আঁকড়ে রাখবে ততদিন পথচ্যুত হবে না। এক আল্লাহর কিতাব। দুই. আমার আদর্শ। এ মহা দিকনির্দেশনার আরও সুসংহত রূপ হচ্ছে হযরতের অপর বাণী, যেখানে মুসলিম জাতিকে সত্যপথের দিশা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘যে আদর্শের উপর আমি রয়েছি আর আমার সাহাবীগণ রয়েছেন।’ অন্যত্র বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য অবধারিত করছি আমার এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শের অনুসরণ।’
এখানে আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে, ইসলামী অগ্রযাত্রা ও ইসলামী জীবনসাধনার সঠিক দিকনির্দেশের জন্য কুরআন ও সুন্নাহকে মূল উৎস সাব্যস্ত করা হয়েছে। ইসলামী জীবনব্যবস্থার আদর্শ ও মাপকাঠিরূপে অভিহিত করা হয়েছে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সহচরবৃন্দের অনুসৃত পথ, যা প্রধানতই ব্যবহারিক ও সান্নিধ্যগত আদর্শ। বই-পুস্তক ও তত্ত্ব প্রধান নয়। যে জন্য সাহাবায়ে কেরামের মূল সময়কালের শেষ পর্যায়ে আমরা পবিত্র মদীনা মুনাওয়ারায় হযরত মালেক ইবনে আনাসকে রাহ. দেখতে পাই গোটা মুসলিমসমাজের লোকশিক্ষক ও দিকনির্দেশক হিসেবে। ইসলামের উপর আমল করার জন্য মদীনাবাসী তখন থেকেই কুরআন ও সুন্নাহ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে গবেষণা বা অনুসন্ধান শুরু না করে ফকীহ ও আলেম ইমাম মালেকের ফিকাহ বা মাযহাবের উপর, তার নির্বাচন ও পর্যবেক্ষণের উপর নিশ্চিন্তে নির্ভর করেছেন। এরও বহু আগে থেকে মক্কাবাসীরা নির্ভর করেছেন হযরত ইবনে আববাস রা.-এর উপর। এর কিছুদিন পর থেকে বৃহত্তর ইরাকবাসী ইমামে আজমের ফিকহের উপর। আর এটিই কুরআন ও সুন্নাহর বিধান। আল্লাহ তাআলা যেমন বলেছেন, তোমরা অনুসরণ কর আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের। আর অনুসরণ কর তোমাদের উলুল আমর বা শরীয়তী অথরিটির। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, পিতার সন্তুষ্টিতেই রয়েছে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি। তো আমার পুত্রকে দৈনন্দিন জীবনের যে শরীয়ত সম্পর্কিত শিক্ষা-দীক্ষা আমি দেব তা তৎক্ষণাৎ গ্রহণ করা ও তার উপর আমল করাও পুত্রের উপর শরীয়তেরই নির্দেশ। এখানে আমাদের মধ্যকার এ আদান-প্রদান কিছুতেই কুরআন-সুন্নাহ বিবর্জিত বা বিরোধী নয়।
মুসলিমজাতির হাতে তাদের শরীয়তের ব্যবহারিক রূপরেখা সমন্বিত ও সংকলিত আকারে তুলে দেওয়ার জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে যেসব সাহাবী, তাবেয়ী ও পরবর্তী যুগের ফকীহগণ কঠোর জ্ঞান-গবেষণা ও সাধনা করেছেন তাদের মর্যাদা বা গুরুত্ব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা এখানে সম্ভব নয়, একখানা উদ্ধৃতি উল্লেখ করাই বিষয়টির মাহাত্ম্য উপলব্ধি করার জন্য যথেষ্ট মনে হয়। হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন বিখ্যাত সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, রাতের কিছু সময় ইলম চর্চা করা রাতভর নফল ইবাদতের চেয়েও উত্তম।
কুরআন-সুন্নাহর ভেতর মানবজীবনের উদ্ভূত যে কোনো সমস্যার সমাধান পেয়ে গেলে এ থেকেই আমাদের তা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সমাধানে পৌঁছার জন্য নিজের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও বিবেচনার আশ্রয় নিতে হবে। এটি হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই আদর্শ। হযরত মুআয ইবনে জাবাল রা.কে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় তার মুখ থেকে এ কথা শুনতে পেয়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুশি হয়ে আল্লাহর শোকর গোযারি করেছিলেন।
ইসলাম পৃথিবীর সর্বকালের সকল মানুষের জন্য চিরস্থায়ী জীবনব্যবস্থারূপে কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস প্রভৃতির মূলনীতির ভিত্তিতে ফকীহ ও মুজতাহিদ সাহাবীগণের মাধ্যমে ব্যবহারিক বিধানরূপে, সমস্যার সমাধানরূপে, বিচারালয়ে ফয়সালারূপে জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে অতুলনীয় ব্যবস্থারূপে তার ব্যাপক আকার পরিগ্রহ করতে থাকে। ব্যবহারিক জীবনে ইসলামের নানা বিধানে কিছু বৈচিত্র ইসলামের বিশালত্ব ব্যাপ্তি ও কালজয়ী গুণেরই বহিঃপ্রকাশ। অসংখ্য বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের পর্যবেক্ষণে ছিল অনেক মতবৈচিত্র! এ ইসলামের এক স্বীকৃত রীতি। প্রায়োগিক বিধানের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ তথা বিস্তারিত ফিকহ রচনার সময়ও মুজতাহিদ আলেমগণের পর্যবেক্ষণ, উপলব্ধি ও নির্বাচনে এ ধরনের বৈচিত্র ফুটে ওঠে। শরীয়তে চিন্তার এ বৈচিত্রকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে মূল কথা হচ্ছে কুরআন মজীদ, সুন্নাহ, প্রথম যুগের প্রচলন, সাহাবীদের ঐকমত্য আর পূর্ববর্তী নজির অনুসরণ। এসব মূলনীতি বিশ্লেষণ করেই আপেক্ষিক বিষয়ের মধ্যে একটিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। আর এ ইজতিহাদী তত্ত্বের ভিত্তিতেই গড়ে ওঠেছে ইসলামের বহুমাযহাব সম্বলিত ব্যবহারিক ফিকহ।
কুরআন-সুন্নাহ ও এর প্রাসঙ্গিক সকল বিষয় যে সুযোগ্য ব্যক্তির নখদর্পণে, মুসলিম জাতির প্রয়োজনে তিনিই পারেন ইজতিহাদ করতে। কেননা, সাহাবায়ে কেরামের মতবৈচিত্রপূর্ণ কোনো বিষয় কিংবা সাহাবীদের যুগের পরবর্তী কোনো নতুন সমস্যার সমাধান নির্বাচন ও পর্যবেক্ষণ ছাড়া কার্যকর করা সম্ভব ছিল না। ফলে অসংখ্য মত ও মাযহাবের বৈচিত্র ছিল খুবই স্বাভাবিক, যার মধ্যে অপেক্ষাকৃত প্রসিদ্ধ চারটি মাযহাবের সাথে মুসলিম জনসাধারণ সমধিক পরিচিত। এসব মাযহাবের কোনোটিই কুরআন-সুন্নাহ বহির্ভূত নয় এবং কোনোটিই এমন নয়, যার অনুসরণ করলে আমরা কুরআন-সুন্নাহর অনুসারী বলে গণ্য হব না। এমনকি একটি মাযহাবের ইমাম অপর মাযহাবের ইমামের এলাকায় বেড়াতে গিয়ে তার ফিকহ অনুসারেই আমল করেছেন এমন উদাহরণও ইমামদের জীবনে দেখা যায়। যেন আমরা বুঝতে সক্ষম হই যে, মাযহাব কেবলই নির্বাচন ও পর্যবেক্ষণের বিষয়।
কুরআন-সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসের সমন্বয়ে প্রাপ্ত সিদ্ধান্তের বহুমাত্রিকতা থেকে একটি অবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়ার নাম তারজীহ। আর এ প্রাধান্যপ্রাপ্ত সমাধানগুলোই হচ্ছে মাযহাবের বৈচিত্রপূর্ণ অংশ। অতএব মাযহাব মানা আর কুরআন-সুন্নাহ মানার মধ্যে কোনোই ফারাক থাকার কথা নয়। তাছাড়া সাধারণ মুসলমানের পক্ষে কোনো আংশিক বা সামগ্রিক, প্রসিদ্ধ কিংবা অখ্যাত মাযহাব অনুসরণ ছাড়া শরীয়তের উপর আমল করাও প্রায় অসম্ভব।
কেননা, ইসলামের বিশালত্ব, চিরস্থায়িত্ব ও সর্বকালের সকল অঞ্চলের মানুষের উপযোগী ধর্ম ও জীবনব্যবস্থা হিসেবে এর ভেতরকার সবকিছুই পরম উদার ও বৈজ্ঞানিক। এতে অনেক সুযোগ, উদারতা ও বিস্তৃতি রয়েছে। জীবন ও জগতকে গতিশীল উপায়ে এগিয়ে নেওয়া ইসলামের প্রেরণা। সুতরাং এখানে প্রায় সব বিষয়েই অনেক এখতিয়ার, অনেক সহজতা। ইসলামের মূল ইবাদত নামাযের ভেতর যত বৈচিত্র ও সহজতা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন থেকে হাদীসের মারফত আমরা পাই, এর সবগুলোর উপরই আমাদের আমল করার বৈধতা ও যুক্তি রয়েছে। এতে একজন বিজ্ঞ মুজতাহিদ যখন একটি নামায পদ্ধতি আমাদের জন্য কুরআন-সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস-এর আলোকে নির্বাচন করবেন, তখন সেটাই এক এলাকার, এক সংস্কৃতির মানুষকে ধারণ করতে হবে। এ পদ্ধতির চর্চাই পরস্পরগতভাবে প্রজন্মান্তরে চলতে থাকবে। শুধু নামায নয়, যাকাত, হজ্ব, কুরবানী, পাক-নাপাক, হালাল-হারাম, জায়েয-নাজায়েযের প্রতি ক্ষেত্রেই এভাবে মাযহাবের প্রয়োজনীয়তা মুসলিমজাতি উপলব্ধি করবে। সর্বোপরি সকল মাযহাবের ইমামদের অভিন্ন একটি কৈফিয়ত ইসলামে রয়েছে যে, আমার নির্বাচিত মাসআলার বিপরীতে যদি আরও শক্তিশালী প্রমাণ খুঁজে পাও তাহলে আমার মাসআলা ত্যাগ কর। বিশুদ্ধ হাদীস যদি আমার সিলেকশনকে চ্যালেঞ্জ করে তাহলে আমার কথাকে ছুঁড়ে ফেলে দাও। এখানে অবশ্য একজন মুজতাহিদের নির্বাচনকে যাচাই করার জন্যও ন্যূনতম কিছু যোগ্যতার প্রয়োজন। সাধারণ একজন দর্শক, শ্রোতা বা পাঠকের পক্ষে এক্ষেত্রে নাক গলানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও অসঙ্গত।
যদি কোনো ব্যক্তি নিজেই শরীয়তের সকল শর্ত পূরণ করা একজন মুজতাহিদ হন তাহলে তিনি কোনো ইমামের মাযহাব অনুসরণ না করে নিজেই কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবনযাপন করতে পারেন। তবে কুরআন-হাদীসের অনেক শাস্ত্রবিদ মনীষীও এ ধরনের ঝুঁকি নিতে চাননি। কেননা, বিষয়টি শরীয়তের এক বা দুই শাস্ত্রের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, কুরআন ও হাদীস সংক্রান্ত সকল মৌলিক শাস্ত্রে গভীর বুৎপত্তির অধিকারী হয়ে নিজেকে নতুন পথের পন্থী দাবি করা চাট্টিখানি কথা নয়।
অতএব নির্দ্ধিধায় আমরা স্বীকৃত মাযহাবগুলোর উপর আমল করতে পারি। কর্মসূচিগত ও সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য যেকোনো একটি মাযহাবকে বেছে নেওয়া জরুরি। যেমন, একটি বহুতল ভবনে ওঠার জন্য যদি সিঁড়ি, এসকেলেটর, লিফট, ক্রেন, রশি প্রভৃতি উপায় থাকে তাহলে একই সঙ্গে একাধিক উপায় অবলম্বন করা শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ বলে বিবেচিত। একটি পন্থাই বেছে নিতে হবে আমাকে। তাছাড়া ধর্মীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে একটি পন্থা অনুসারে আমল করা এজন্যও কর্তব্য যে, ইবাদত বা আচরণে অস্থিরতা এর আবেদনকে বহুলাংশে ক্ষুণ্ণ করে থাকে।
অতএব স্বাভাবিকভাবেই আমরা এ সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, মাযহাব অনুসরণ করলে প্রকৃতপক্ষে আমি কুরআন-সুন্নাহই অনুসরণ করলাম। আমি তখন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত। আমি তখন আহলে কুরআন, আহলে হাদীস। আমিই তখন সালাফী বা পূর্ববর্তী মুরববীদের অনুসারী। কেননা, এসব পথের মূল প্রেরণা আর মাযহাব সংকলনের প্রেরণায় কোনোই বিরোধ নেই।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক বোধ ও উপলব্ধি দান করুন, আমীন।
http://www.alkawsar.com/article/338

বিষয়শ্রেণী: বিবিধ
শেয়ার করুনঃ
২১৮ বার পঠিত, ১৭ টি মন্তব্য
৪ জনের পছন্দ
রেটিং দিতে লগইন করুন
পাঠকের মন্তব্য:
মন্তব্যের জবাব দিতে সমস্যা হলে এখানে ক্লিক করুন এবং নতুন পাতায় মন্তব্য লিখুন
628724
২৯ জানুয়ারী ২০১২; সন্ধ্যা ০৭:৫৯
হাবিবুল্লাহ লিখেছেন : পড়ে খুব ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
আলেমদের উনুস্বরণ ছাড়া ইসলাম মানা কোনো ভাবেই সমভব নয়। যে আলেম গণ সারা জীবন কোরান হাদিস এর গবেশনা করেছেন এবং তার আল্লাহ ভিতি আজকের যুগের আলেমদের চেয়ে অনেক অনেক বেশি ছিল যিনি কোরান হাদিস থেকেই মাসাআলা বয়ান করেছেন তাদের অনুস্বরণ করেই ইসলাম মানা যায়। কিন্তু আজকাল আহলে হাদিস এই আলেমদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কি বলতে চায় বুঝি না।
সিহীহ হাদিস কে জয়ীফ আর জয়ীফ হাদিসকে সিহীহ বলে এরা চোখ বন্ধ করেই।
আর আলেমদের অনুস্বরণ থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে সরাতে এরা মিথ্যার আশ্রয় নেয়।
আপনাকে আবারও ধন্যবাদ।
২৯ জানুয়ারী ২০১২; রাত ০৮:৫৪
620573

এম এম নুর হোসাইন লিখেছেন : শুকরিয়া, জাযাকাল্লাহ।আহলে হদসে এর কান্দে শয়তান উঠছে।
628774
২৯ জানুয়ারী ২০১২; রাত ০৮:৩৭
ঘুম ভাঙাতে চাই লিখেছেন : আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুক। অসম্ভব সুন্দর একটি লেখা উপহার দিলেন। ঠিক যেন মনের কথাটা বললেন। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু আলেম যাদের মিডিয়ায় সবসময় দেখা যায় তারা মাযহাব নিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা প্রচার করছেন, মানুষকে মাযহাব বিদ্বেশি করে তোলার চেষ্টা করছেন। জানিনা তাদের লক্ষ্য কি তবে বিষয়টা খুব খারাপ লাগে। কিছুদিন আগে ইসলামিক টিভির একটি অনুষ্ঠাতে একজন আলেম তো রীতিমত খোলামেলাভাবে বলেই ফেললেন, মানুষ কখনোই ভুল মুক্ত হতে পারেনা তাই যেসব ইমামগণ ইসলামের বিভিন্ণ ব্যাপারে মতামত ব্যক্ত করেছেন তারাও ভুলের উর্দ্ধে নয় তাই আমাদের শুধুমাত্র কোরান-হাদিস অনুসরণ করা উচিত।
২৯ জানুয়ারী ২০১২; রাত ০৮:৫১
620565

এম এম নুর হোসাইন লিখেছেন : সংবাদ সম্মেলনে চরমোনাই পীর সাহেব : আহলে হাদিসের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার
ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, দলিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমে অঙ্গীকার করেও বাহাস অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে তথাকথিত আহলে হাদিসরা নিজেরাই স্বীকার করে নিল তাদের মতাদর্শ সঠিক নয়। তাই আহলে হাদিসের ভ্রান্ত মতবাদে যারা বিশ্বাসী তাদের উচিত তওবা করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসরণে ইসলামের সঠিক ধারায় ফিরে আসা। আহলে হাদিস নামধারী ইসলামের দুশমনদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী তথাকথিত আহলে হাদিসের মুখোশ উন্মোচনের লক্ষ্যে দেশের শীর্ষ ওলামাদের পক্ষ থেকে গতকাল কেরানীগঞ্জে আয়োজিত সমাবেশ-পরবর্তী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দলের অন্য নেতা ও আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, গত বছর ৩০ নভেম্বর এবং ১ ও ২ ডিসেম্বর রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থানাধীন আইন্তা ইউনিয়ন খেলার মাঠে ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে বিশাল ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকির অনুষ্ঠিত হয়। ওই ওয়াজ মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন নেতা মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করীম। মাহফিলে ওলামায়ে কেরামরা কোরআন-হাদিসের আলোকে যথাযথ বয়ান পেশ করেন। অন্যদিকে গত ৩ জানুয়ারি আইন্তা আহলে হাদিস মসজিদ প্রাঙ্গণে জমিয়তে আহলে হাদিসের ব্যানারে ইসলামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে আহলে হাদিসের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস আলী তার আলোচনায় মাযহাব মানাকে শিরক, চার মাযহাবের অনুসারীরা মুশরিক, কোরআন-সুন্নাহ অনুসৃত তাসাউফ ও পীর মুরিদকে শিরক ও বিদআত, তবলিগ জামায়াতকে মুশরিক ও পথভ্রষ্ট, আল্লাহ আল্লাহ্ জিকিরকে কুকুরের ঘেউ ঘেউ বলে আখ্যা দেয়াসহ নানান বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদ্যোগে গতকাল সকাল ১১টায় উভয় পক্ষ অর্থাত্ দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম ও কথিত আহলে হাদিসের মধ্যে ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে কেরানীগঞ্জ থানার আইন্তা খেলার মাঠে প্রকাশ্য বাহাস বা প্রমাণনির্ভর বিতর্কের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য সম্মেলন আহ্বান করা হয়। এ জন্য উভয়পক্ষের মধ্যে ১৫০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়।
সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী কথিত আহলে হাদিসের সঙ্গে বাহাসের জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও পীর মাশায়েখরা উপস্থিত হলেও আহলে হাদিসের লোকজন উপস্থিত না হয়ে টালবাহানা করতে থাকে। এমনকি তারা প্রশাসনের অনুমতি যাতে না পাওয়া যায় সে ব্যবস্থাও করে। ফলে সকাল ৮টা থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে থাকা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হাসনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা মাঠে সমবেত করে ওলামারা দীর্ঘসময় আহলে হাদিসের ফেতনা নিরসনে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সেখানে উপস্থিত ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম উত্তেজিত জনতাকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করেন এবং ঘোষণা করেন যে আহলে হাদিস নামের সংগঠনের কোনো লোক গতকাল বাহাসে উপস্থিত হয়নি।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2012/01/29/129177
628780
২৯ জানুয়ারী ২০১২; রাত ০৮:৪১
আজমল হাক(আজম) লিখেছেন : মাযহাবের অনেক কিতাবে দলিল হিসাবে দেখা যায় কুরআন, বুখারী, মুসলিম, মেশকাত, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইত্যাদি বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থের নাম উল্লেখ থাকে।আমার প্রশ্ন তাহলে ইমামগণ ঐ সমস্ত হাদিস গ্রন্থগুলো কি অনুসরন করেছেন?
২৯ জানুয়ারী ২০১২; রাত ০৮:৫০
620562

এম এম নুর হোসাইন লিখেছেন : অবশ্যই।
২৯ জানুয়ারী ২০১২; রাত ০৮:৫২
620568

এম এম নুর হোসাইন লিখেছেন : সংবাদ সম্মেলনে চরমোনাই পীর সাহেব : আহলে হাদিসের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে
স্টাফ রিপোর্টার
ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, দলিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমে অঙ্গীকার করেও বাহাস অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে তথাকথিত আহলে হাদিসরা নিজেরাই স্বীকার করে নিল তাদের মতাদর্শ সঠিক নয়। তাই আহলে হাদিসের ভ্রান্ত মতবাদে যারা বিশ্বাসী তাদের উচিত তওবা করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসরণে ইসলামের সঠিক ধারায় ফিরে আসা। আহলে হাদিস নামধারী ইসলামের দুশমনদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী তথাকথিত আহলে হাদিসের মুখোশ উন্মোচনের লক্ষ্যে দেশের শীর্ষ ওলামাদের পক্ষ থেকে গতকাল কেরানীগঞ্জে আয়োজিত সমাবেশ-পরবর্তী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দলের অন্য নেতা ও আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, গত বছর ৩০ নভেম্বর এবং ১ ও ২ ডিসেম্বর রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থানাধীন আইন্তা ইউনিয়ন খেলার মাঠে ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে বিশাল ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকির অনুষ্ঠিত হয়। ওই ওয়াজ মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন নেতা মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করীম। মাহফিলে ওলামায়ে কেরামরা কোরআন-হাদিসের আলোকে যথাযথ বয়ান পেশ করেন। অন্যদিকে গত ৩ জানুয়ারি আইন্তা আহলে হাদিস মসজিদ প্রাঙ্গণে জমিয়তে আহলে হাদিসের ব্যানারে ইসলামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে আহলে হাদিসের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস আলী তার আলোচনায় মাযহাব মানাকে শিরক, চার মাযহাবের অনুসারীরা মুশরিক, কোরআন-সুন্নাহ অনুসৃত তাসাউফ ও পীর মুরিদকে শিরক ও বিদআত, তবলিগ জামায়াতকে মুশরিক ও পথভ্রষ্ট, আল্লাহ আল্লাহ্ জিকিরকে কুকুরের ঘেউ ঘেউ বলে আখ্যা দেয়াসহ নানান বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদ্যোগে গতকাল সকাল ১১টায় উভয় পক্ষ অর্থাত্ দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম ও কথিত আহলে হাদিসের মধ্যে ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে কেরানীগঞ্জ থানার আইন্তা খেলার মাঠে প্রকাশ্য বাহাস বা প্রমাণনির্ভর বিতর্কের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য সম্মেলন আহ্বান করা হয়। এ জন্য উভয়পক্ষের মধ্যে ১৫০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়।
সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী কথিত আহলে হাদিসের সঙ্গে বাহাসের জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও পীর মাশায়েখরা উপস্থিত হলেও আহলে হাদিসের লোকজন উপস্থিত না হয়ে টালবাহানা করতে থাকে। এমনকি তারা প্রশাসনের অনুমতি যাতে না পাওয়া যায় সে ব্যবস্থাও করে। ফলে সকাল ৮টা থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে থাকা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হাসনাবাদ মদিনাতুল উলুম মাদরাসা মাঠে সমবেত করে ওলামারা দীর্ঘসময় আহলে হাদিসের ফেতনা নিরসনে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সেখানে উপস্থিত ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম উত্তেজিত জনতাকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করেন এবং ঘোষণা করেন যে আহলে হাদিস নামের সংগঠনের কোনো লোক গতকাল বাহাসে উপস্থিত হয়নি।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2012/01/29/129177
628814
২৯ জানুয়ারী ২০১২; রাত ০৮:৫৯
বৃষ্টিস্নাত রাত লিখেছেন : অসম্ভব সুন্দর লেখা।
628899
২৯ জানুয়ারী ২০১২; রাত ০৯:৪৮
দেশ আমার মাটি আমার লিখেছেন : পড়ে খুব ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
629474
৩০ জানুয়ারী ২০১২; সকাল ০৮:৫০
আজমল হাক(আজম) লিখেছেন : ধন্যবাদ তাহলে মাযহাবের ইমামগণ কুরআন ও হাদিস গ্রন্থগুলো অনুসরন করেছেন।বর্তমানে জ্ঞানীদের প্রশ্ন করলে কুরআন হাদিসের দলিল না দিয়ে মাযহাবী কিতাবের দলিল দেয় কেন? কুরআন হাদিসের আলোকে জানাবেন উল্লেখ করলেও তা না করে তাদের লিখিত বইয়ের দলিল দেয়।নীচের লেখাগুলো দেখুন ইমামগন কি কি করতে বলেছেন-
• ১ ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘হাদীস যেটা সহীহ, সেটাই আমার মাযহাব’। (রাদ্দুল মুখতার ১/১৫৪; মুকাদ্দিমাতু উমদাতুর রিয়ায়াহ ১/১৪; হাশিয়াতু ইবনু আবেদীন ১/৬৩)
• ২ ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘আমি নিছক একজন মানুষ। ভুল করি, শুদ্ধও করি। তাই আমার মতামতকে যাচাই করে দেখে নিও। কুর’আন ও সুন্নাহর সাথে যতটুকু মিলে সেটুকু গ্রহণ করো, আর গড়মিল পেলে সেটুকু বাদ দিয়ে দিও’। (ইকাযুল হিমাম, পৃ ১০২)
• ৩ ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা আমার কোনো কথা হাদীসের সাথে গড়মিল দেখতে পাও, তাহলে তোমরা হাদীস অনুযায়ী আমল করো, আমার নিজের উক্তিকে দেয়ালে ছুড়ে ফেল’। (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ; ১/৩৫৭)
• ৪ ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘তুমি আমার মাযহাবের অন্ধ অনুকরণ করো না। মালেক,শাফেয়ী,আওযায়ী,সাওরী-তাঁদেরও না; বরং তাঁরা যেখান থেকে(সমাধান) নিয়েছেন তুমিও সেখান থেকেই নাও’। (ইবনুল কাইয়িম রচিত ‘ঈলামুল মুওয়াক্কেয়িন; ২/৩০২)

তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহীহ হাদীসকে প্রত্যাখান করবে, সে লোক ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত’। (ইবনুল জাওযী রচিত, আল মানাকির; ১৮২)
• ৫ আল্লামা ইবনে আবেদীন বলেন, ‘কোনো মাস’আলা সহীহ হাদীসের সাথে গড়মিল হলে ঐ হাদীসটিই আমল করবে। আর ঐ হাদীসই হবে তার মাযহাব। এরুপ আমল তাকে মাযহাব থেকে বের করে দেবে না। হানাফী হলে সে হানাফীই থেকে যাবে’। (রাদ্দুল মুখতার; ১/১৫৪)
• ৬ সুনানে আবি দাউদ গ্রন্থের সংকলক মুহাদ্দিস আবু দাউদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘এমন কোনো লোক নেই, যার সব কথাই গ্রহণযোগ্য; কেবল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া’। (মাসাইলে ইমাম আহমদ; ২৭৬)
উপরের কথাগুলো দ্বারা কি বুঝা যায় আপনার মতামত জানাবেন।
আমার কিছু প্রশ্ন আছে আপনি তথা আপনার জ্ঞানীদের নিকট থেকে কুরআন হাদিসের দলিল আকারে জানাতে পারবেন কি?
৩০ জানুয়ারী ২০১২; সকাল ১১:৩০
621435

এম এম নুর হোসাইন লিখেছেন : সুন্দর লিখেছেন। এগুলো আমাদেরই বক্তব্য।আমরা কোন ইমাম কে নবী বা সাহাবী মনে করিনা। তাদের ভূল হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আহলে হদসের লোকেরা যে বিষেদাগার করে তা কি ভূল সংশোধনের জন্য নাকি ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্ধ বৃদ্বির জন্য। আসরে ওদের মতলব ইসলাম নয়,বরং দালালি করা।এইজন্য বহসের আয়োজন করে আসেনা।কারন ওদের গোমর ফাস হয়ে যাবে।আরো দেখুন ওরা কোন ভন্ডের বিরোধিতা করেনা।বরং কুরআন হাদিস মোতাবেত যারা সহী ভাবে চলার চেষ্টা করে,শুধূ তাদের বিরুদ্বে ওদের আন্দোলন।আল্লাহ পাক ওদের ফিতানা থেকে মুসলিম উম্মাহ কে হিফাজাত করুন।
631044
৩১ জানুয়ারী ২০১২; সকাল ০৯:১৩
আজমল হাক(আজম) লিখেছেন : ধন্যবাদ এ কথা বলার জন্য। আমরা কোন ইমাম কে নবী বা সাহাবী মনে করিনা। তাদের ভূল হবে এটাই স্বাভাবিক।
তাহলে অনেকের মুখে একঘেয়েমীমুলক কথা আসে কিভাব, বলে যে কোন এক ইমামের মাযহাব মানতেই হবে।এক সঙ্গে কয়েকজনকে মানতে পারবেন না।এ ব্যপারে আপনি কি বলেন?
আমি বলি ইমাম আবু হানিফার একটা মতবাদ কুরআন হাদিসের দলিল পেলাম তা অনুসরন করলাম আরেকটার দলিল পেলাম না অনুসরন করলাম না।এভাবে সকল ইমামদের ক্ষেত্রে।
এভাবে করলে কি কেউ লা মাযহাবী হয়ে যায়?
আমার ৬ নং কমেন্টের জবাবে আপনি একটি দলের কথা লিখেছেন যা আমি আমার কমেন্টে ছিল না।
মুসলিম জাতিকে কি বিভিন্ন দলে ভাগ হওয়া বা কার আকিদা আমল দেখে অমুক দলের বলা যায়েজ কি?
অর্থাৎ যারা বলে আমি হানাফী,মালেকি,শাফী, হাম্বলি, আহলে হাদিস, সালাফী এরকম আর বিভিন্ন দল এরকম দলাদলি করা বা বলা কোথায় থেকে আমরা পেলাম?আমাদের মুল ধর্ম গ্রন্থে কোথাও কি এরকম দিক নির্দেশনা দেওয়া আছে।
আমার ৬ নং কমেন্টে আপনার থেকে কিছু জানতে চাই বলেছি এর কোন জবাব না দিয়ে দলের কথা বলেছেন।
আমার কাছে নামাজের নিয়ম কানুন নিয়ে কিছু প্রশ্ন আছে যা আমাদের হানাফী মাযহাবের নিয়মানুসারে কুরআন হাদিসের দলিল পাচ্ছিনা।
এ ব্যাপারে আমাকে কোন সহযোগিতা করতে পারবেন কি? জাযাকাল্লাহু খায়রান।
০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২; দুপুর ০২:৫২
631851

এম এম নুর হোসাইন লিখেছেন : তাহলে অনেকের মুখে একঘেয়েমীমুলক কথা আসে কিভাব, বলে যে কোন এক ইমামের মাযহাব মানতেই হবে।এক সঙ্গে কয়েকজনকে মানতে পারবেন না।এ ব্যপারে আপনি কি বলেন?
এই জন্য এই লিংকটি দেখুন- http://www.alkawsar.com/article/87

*আমি বলি ইমাম আবু হানিফার একটা মতবাদ কুরআন হাদিসের দলিল পেলাম তা অনুসরন করলাম আরেকটার দলিল পেলাম না অনুসরন করলাম না।এভাবে সকল ইমামদের ক্ষেত্রে।
উঃ-আপনি কোন মতবাদ টা আপনি কুরআন হাদিসে পাননি ,জানালে খুশি হব?
*মুসলিম জাতিকে কি বিভিন্ন দলে ভাগ হওয়া বা কার আকিদা আমল দেখে অমুক দলের বলা যায়েজ কি?
উঃ আপনার জানা মতে পৃথিবীর কোথাও মাজহাব মানা নিয়ে দলা দলি হয়েছি কি? আমার জানা নাই।মাজহাব মানা আল্লাহর নির্দেশেরই নামান্তর।
হে ঈমানদার গন!তোমরা আল্লাহ ওতার রাসূলের অনুসরন কর এবং উলুল আমরদের অনুসরন কর। আল কুরআন
প্রত্যেক মাজহাব অনুসারিরা অন্য মাজহাব অনুসারিদেরকে মহব্বত করে। তাদের মধ্যে কোন বিদ্বেষ নাই।পরস্পর ভাই ভাইয়ের মত।
কিন্তু তথাকথিত আহলে হাদিসের ব্যাপার টা ব্যাতিক্রম! তারা মসজিদের নামদেয় আহলে হাদীস জামে মসজিদ।যেন ভিন্ন একটি কিছূ!যা সব মুসলমানের জন্য নয়!পৃথিবীর কোথায়ও মাজহাবিদের এইরকম মসজিদ আছে বলে আমার জানা নাই।অন্যদিকে তারা প্রচার করে মাযহাব মানাকে শিরক, চার মাযহাবের অনুসারীরা মুশরিক, কোরআন-সুন্নাহ অনুসৃত তাসাউফ ও পীর মুরিদকে শিরক ও বিদআত, তবলিগ জামায়াতকে মুশরিক ও পথভ্রষ্ট,দেওবন্দীরা মুশরিক, আল্লাহ আল্লাহ্ জিকিরকে কুকুরের ঘেউ ঘেউ (নাউজুবিল্লাহ) এ রকম মন্তব্য কোন মাজহাবী আলেমেরা তাদের ব্যাপারে বলছে বলে আমার জানা নাই।
সর্বোপরি কথা হল মাজহাবমানা মুসলিম উম্মাহকে বিভক্ত করে নাই,বরং যারা ইসলামের লেবাসে মাজহাব,দেওবন্দ,তাবলীগ ,পীর-মুরিদি ইত্যাদি নিয়ে অহেতুক ধ্রুমজ্বাল সৃস্টি করে ,তারাই বিভক্তি সৃস্টি করে।

*আমার কাছে নামাজের নিয়ম কানুন নিয়ে কিছু প্রশ্ন আছে যা আমাদের হানাফী মাযহাবের নিয়মানুসারে কুরআন হাদিসের দলিল পাচ্ছিনা।
উঃ সময়ের স্বল্পতার কারনে দুঃখিত। তবে আপনি আপনার অবস্থান বলুন। দেখি আশে-পাশের কোন আলেম দ্বারা আপনার উপকার করতে পারি কিনা।
অনেক ধন্যবাদ
638011
০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২; রাত ০৮:২৬
আজমল হাক(আজম) লিখেছেন : আমার ৭ নং কমেন্টের জবাব জানাবেন।
640297
০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১২; বিকেল ০৪:০৯
আজমল হাক(আজম) লিখেছেন : (উঃ-আপনি কোন মতবাদ টা আপনি কুরআন হাদিসে পাননি ,জানালে খুশি হব?)
নীচের গুলো দেখুন তা সহিহ হাদিসের আলোকে কি না।
না হলে আপনার মাযহাবের কুরআন ও সহিহ হসদিসের পূর্নাঙ্গ দলিল উল্লেখ করে জানাবেন?
নামাযে সুরা ফাতেহা পড়ার নিয়ম
আউযুবিল্লাহ এভাবে পাঠ করবে আউযুবিল্লাহিস সামিয়িল আলিমিনাশ্ শায়তানির রাজিম মিন হামযিহী অয়া নাফখিহী অয়া নফসিহী (আবু দাউদ ১ম খন্ড ১১৩ পৃঃ; তিরমিযী ১ম খন্ড ৩৩ পৃঃ); প্রত্যেক বার সুরা ফাতেহার পূর্বে বিসমিল্লাহ পড়বে কারণ ওটা এর একটি আয়াত (দারা কুতনী, বুলগুল মারাম ২১ পৃঃ); আমি আপনাকে সাতটি বারবার প্রঠিতব্য আয়াত এবং মহান কোরআন দিয়েছি (হিজরঃ আয়াত-৮৭); সুরা ফাতেহার এক নাম নামায (মুসলিম ১ম খন্ড ১৬৯ পৃঃ); কির-আতুন অর্থঃ কোরআন আবৃত করা (মাওলানা মহিউদ্দিন খান সংকলিত আরবী বাংলা অভিধান আল কাউসার ৫০৩ পৃঃ); মাওঃ আশরাফ আলী থানভী (রাঃ)- কোরআন পাঠ করাকে কিরাত বলে (বেহেশতী জেওর ১৫০ পৃঃ); সুরা ফাতেহা কি কোরআনের অংশ?- কোন কিছু আরম্ভ করার নাম ফাতেহা । সুরা ফাতেহা কুরআনের মুখবন্ধ, উম্মুল কুরআন- কুরআনের মা । সুরা ফাতেহা কুরআনের অংশ নয় । কুরআন ৩০ পারায় সীমাবদ্ধ, প্রথম পারা আরম্ভ হলো আলিফ লাম মিম দিয়ে এবং শেষ পারার শেষ হলো মিনাল জিন্নাতে ওয়ান্নাস । সুরা ফাতেহা এর মধ্যে নেই । তাছাড়া মহান আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন- ওয়া লাকাল আতায়াইনাকা সাবআম মিনাল মাছানী ওয়াল কুরআনাল আযীম (হিজরঃ আয়াত ৮৭); অর্থ- হে রাসুল! আপনাকে এমন সাতটা আয়াত দান করেছি যা সব সময় পড়ার উপযোগী এবং আপনাকে দান করেছি মহান কুরআন । উদ্ধৃত আয়াতে আল্লাহ সাবা-মাছানী (সুরা ফাতেহা) এবং মহান কুরআনকে পৃথক বলেছেন । রাসুল (সঃ) উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) কে বললেন- তোমাকে এমন একটি সুরার কথা বলব যার মত সুরা তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে নেই । আমি জিজ্ঞাসা করলাম- হে রাসুল (সঃ)! সেই সুরাটি কি? তিনি (সঃ) বললেন- নামাযের প্রারম্ভে তোমরা কি পাঠ কর? আমি বললাম, আল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আ’লামিন । তিনি (সঃ) বললেন এই সুরা সেটি ।(বিস্তারিত তাফসির ইবনে কাসির ১ম খন্ড পৃঃ ৫৭ ও ৫৮); ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ও জানতেন, কুরআন এবং সুরা ফাতেহা এক নয় । যেহেতু তিনি বলেছেন, মুক্তাদীদের কিরআত পড়া জায়েয নেই । সুরা ফাতেহা পড়াও জায়েয নেই (মেশকাত ২য় খন্ড কিতাবুস সালাহ, মাদ্রাসার আলেম ক্লাশে পাঠ্য ৩য় সংস্করণ সেপ্টেম্বর ১৯৯৪ ইং ৩৩০ পৃঃ ইমামের পিছনে কিরআত পড়ার ব্যাপারে মতভেদ দ্রঃ); সাহাবায়ে কেরামগণ ইমামের পিছনে সুরা ফাতেহা পড়তেন (বায়হাকী ২য় খন্ড ১৭০ পৃঃ); ইমামের পিছনে সুরা ফাতেহা পড়বে । ইমাম দ্রুত পড়লে তার পরে পড়বে অথবা তার সাথে সাথে পড়বে । কোন অবস্থায় ছাড়বে না (আবু দাউদ ১ম খন্ড ১২১ পৃঃ); যে ব্যক্তি ইমামের পিছনে সুরা ফাতেহা পড়বে না তার নামায হবে না (কেতাবুল কেরাত বায়হাকী ৪৭ পৃঃ; আরবী বুখারী ১ম খন্ড ১০৪ পৃঃ; মুসলিম ১৬৯ পৃঃ; আবু দাউদ ১০১ পৃঃ; নাসাঈ ১৪৬ পৃঃ; ইবনু মাযাহ ৬১ পৃঃ; মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ৯৫ পৃঃ); উবাদাহ বিন সামিত (রাঃ) বলেন, আমরা ফজরের নামায রাসুল (সঃ) এর পিছনে পড়ছিলাম । অতঃপর রাসুল (সঃ) পড়লেন কিন্তু তাঁর কেরাত তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে যখন তিনি নামায থেকে ফারেগ হলেন তখন বললেন মনে হয় তোমরা ইমামের পিছনে কেরাত পড়েছ? তখন সবাই বললেন হ্যাঁ ইয়া রাসুলুল্লাহ(সঃ) । তখন রাসুল (সঃ) বললেন ইমামের পিছনে কিছুই পড়বে না সুরা ফাতেহা ব্যতীত । যে ব্যক্তি সুরা ফাতেহা পড়বে না তাঁর নামায হবে না (দেখুন, আবু দাউদ আরবী ১ম খন্ড ১১৯ পৃঃ; তিরমিযী ১ম খন্ড ৩৪/৪১ পৃঃ; দারা কুতনী আরবী ১ম খন্ড ১২১ পৃঃ; যুযউল কেরাত বুখারী ২৮ পৃঃ; সুনানে কুবরা ২য় খন্ড ১৬৫ পৃঃ; মুসতাদ্‌রাকে হাকেম ১ম খন্ড ২৩৮ পৃঃ; যুযউল কেরাত ১২, ২২ পৃঃ; কেতাবুল কেরাত ৪৪ পৃঃ); হযরত উবাদাহ বিন সামেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল (সঃ) আমাদের ঐ নামায পড়ালেন যে নামাযে কেরাত উচ্চ স্বরে পড়তে হয় । রাসুল (সঃ) বললেন যখন আমি জোরে কেরাত পড়ব তখন তোমাদের ভিতরে কেউ সুরা ফাতেহা ছাড়া কিছুই পড়বে না (নাসাঈ আরবী ১ম খন্ড ১১২ পৃঃ; কেতাবুল কেরাত বায়হাকী ৪৩ পৃঃ); হযরত উবাদা বিন সামেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসুল (সঃ) এর নিকট হতে শুনেছি, তিনি বলেছেন যে ব্যক্তি সুরা ফাতেহা পাঠ করল না তার নামাযই হয়নি । তা সে ব্যক্তি ইমাম হোক বা ইমাম ছাড়া অন্য কেউ হোক (কেতাবুল কেরাত বায়হাকী আরবী ৪১ পৃঃ); হযরত উবাদা (রাঃ) বলেন, রাসুল (সঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি ইমামের পিছনে নামায পড়ে সে যেন সুরা ফাতেহা পড়ে (জামেউস সাগির ৩য় খন্ড ৩৭০ পৃঃ); হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসুল (সঃ) বলেন যে ব্যক্তি নামায পড়বে আর তার ভিতরে সুরা ফাতেহা পড়বে না, তার নামায অসম্পূর্ণ অসম্পূর্ণ অসম্পূর্ণ । আবু হুরায়রাহ (রাঃ) কে বলা হল, আমরা ইমামের পিছনে থাকি তাওকি পড়া লাগবে? তিনি বললেন হ্যাঁ আস্তে আস্তে পড় । কেননা আমি রাসুল (সঃ) বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন আমি নামায (সুরা ফাতেহা) কে আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি (শেষ পর্যন্ত) (সহীহ মুসলিম ১ম খন্ড ১৭০, ১৮৯ পৃঃ; যুযউল কেরাত বুখারী ৩, ২৩, ২৮ পৃঃ; কেতাবুল কেরাত বায়হাকী ১৮, ১৯, ২৫, ২২-২৩ পৃঃ); হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন যে রাসুল (সঃ) নামায পড়িয়ে আমাদের দিকে ফিরে বললেন, তোমরা কি ইমামের পিছনে কিছু পড়? কিছু লোক বললেন আমরা পড়ি । আর কিছু লোক বললেন আমরা পড়ি না । রাসুল (সঃ) বললেন তোমরা সুরা ফাতেহা পড়বে (কেতাবুল কেরাত ৫১ পৃঃ); হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে রাসুল (সঃ) সাহাবায়ে কেরামদের নামায পড়ালেন । নামায শেষে সাহাবসদের দিকে ফিরলেন এবং বললেন যখন ইমাম কেরাত পড়ে তখন তোমরাও কি নামাযে কেরাত পড়? সাহাবারা চুপ থাকলেন । (এভাবে) তিন বার জিজ্ঞেস করলেন । তখন একজন অথবা তার বেশি লোক বললেন হ্যাঁ আমরা অবশ্যই পড়ি । রাসুল (সঃ) বললেন এরকম করবেনা । তোমাদের প্রত্যেকে শুধু সুরা ফাতেহা মনে মনে পড়বে (বায়হাকী ২য় খন্ড ১৬৬ পৃঃ; দারা কুতনী ১ম খন্ড ১৪৯ পৃঃ); হযরত আনাস (রাঃ) বলেন রাসুল (সঃ) বলেছেন, আমি যখন পড়ি তখন তোমরা কি আমার পিছনে কেরাত পড়? এরকম করবেনা । তোমাদের প্রত্যেকে সুরা ফাতেহা মনে মনে অর্থাৎ আস্তে পড় (কান্‌যুল উম্মাল হাশিয়া মুসনাদে আহমাদ ২য় খন্ড ১৮৬ পৃঃ); সুরা ফাতেহা ইমামের আগে, পরে, সাথে সব সময় পড়া যায় দেখুন (আবু দাউদ ১ম খন্ড ১২১ পৃঃ; বায়হাকী ২য় খন্ড ১৭১ পৃঃ); ইয়াযিদ বিন শারিক হযরত ওমর (রাঃ) এর নিকিট ইমামের পিছনে কেরাত পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন । ওমর (রাঃ) বললেন, সুরা ফাতেহা পড় । আমি বললাম যদি আপনি ইমাম হন? তিনি বললেন, যদিও আমি ইমাম হই । আমি বললাম যদি উচ্চ স্বরে পড়েন? তিনি বললেন যদিও আমি উচ্চ স্বরে পড়ি তখনও সুরা ফাতেহা পড় (আসারটি ইমাম বুখারী তার যুয্‌উল কেরাতে ১৫ পৃঃ এবং তারিখে কবিরের ২য় খন্ড ৩৪০ পৃঃ; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বার ১ম খন্ড ৩৭৩ পৃঃ; সুনানে দারা কুতনী ১ম খন্ড ৩১৭ পৃঃ; ইমাম বায়হাকী সুনানে কুব্‌রার ২য় খন্ড ১৬৭ পৃষ্টায় বর্ণিত হয়েছে); হাকাম এবং হাম্মাদ বলেন হযরত আলী (রাঃ) ইমামের পিছনে সুরা ফাতেহা পড়ার হুকুম দিতেন (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ১ম খন্ড ৩৭৩ পৃঃ); ইমাম শাফেঈ (রঃ) বলেন সুরা ফাতেহা প্রত্যেক রাকাতে পড়া ফরয । যদি কোন রাকাতে সুরা ফাতেহা পড়া নামাযী ছেড়ে দেয় তাহলে তার নামায বাতিল হবে । শায়খ আবু হামেদ আসফারইনী বলেন এই কথার উপর সমস্ত সাহাবাগণের ইজমা রয়েছে এবং হযরত আবু বকর (রাঃ) হযরত ওমর (রাঃ) হযরত আলী (রাঃ) হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) ও এই একই কথায় বলেছেন দেখুন (তাফসিরে কবীর ১ম খন্ড ২১৬ পৃঃ); ইমাম হাসান বসরী (রহঃ) বলতেন, প্রত্যেক নামাযের প্রত্যেক রাকাতে ইমামের পিছনে সুরা ফাতেহা আস্তে পড় (বায়হাকী ২য় খন্ড ১৭১ পৃঃ; ইবনে আবি শায়বা ১ম খন্ড ৩৭৩ পৃঃ); যখন ইমাম জোরে পড়তেন না তখন ইমাম ইবনে শিহাব ইমামের পিছনে সুরা পড়তেন (কেতাবুল কেরাত ১০০ পৃঃ); ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন- অসংখ্য তাবেঈন এবং তাবে তাবেঈন, যাদের গণনা করা সম্ভব নয়, তারা সবাই বলেন মুক্তাদি ইমামের পিছনে (সুরা ফাতেহা) যেন অবশ্যই পড়ে, যদিও ইমাম উচ্চ স্বরে কেরাত পড়ে (কেতাবুত কেরাত বায়হাকী ৭১ পৃঃ); ইমাম তিরমিযী বলেন- বহু আহলে ইলম সাহাবায়ে কেরাম তাবেঈন এবং তাদের পরবর্তী আহলে ইলম ইমামের পিছনে কেরাত পড়ার পক্ষপাতি (তিরমিযী ১ম খন্ড ৪২ পৃঃ);
হানাফী মাযহাবের দলিল
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ও ইমাম মুহাম্মাদের (রহঃ) এই মসলায় দুটি কওল রয়েছে । একটি হল, মুক্তাদির জন্য সুরা ফাতেহা পড়া না ওয়াজেব না সুন্নাত । আর এটা তাদের প্রথম সিদ্ধান্ত । ইমাম মোহাম্মদ তাঁর প্রথম লেখনীর ভিতরে ঐ উক্তিটি অর্থাৎ প্রথম মতটি তুলে ধরেছিলেন আর সেই লেখনী গুলি বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল । এইজন্য তাঁদের প্রথম সিদ্ধান্তটি বেশি প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছে । দ্বিতীয় সুদ্ধান্তটি হল, মুক্তাদির জন্য ইমামের পিছিনে সুরা ফাতেহা পড়া সর্তকতা মুলক ভাবে উত্তম দেখুন (গাইসুল গাম্মাম হাশিয়া ইমামুল কালাম ১৫৬ পৃঃ); বাদশা আলমগীরের ওস্তাদ মোল্লাজিওন (রহঃ) বলেন- সুফী কেরামদের জামাত এবং মাশায়েখে হানাফীয়াদের যদি দেখ তাহলে তোমরা জানতে পারবে এসব বুজুর্গানে দীন ইমামের পিছনে সুরা ফাতেহা পড়া মুক্তাদিদের জন্য ‘মুস্‌তাহসান’ উত্তম জানতেন (তাফসীরে আহমাদী ২৮১ পৃঃ) ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ও মোহাম্মাদ (রহঃ) এর নিকট ইমামের পিছনে সুরা ফাতেহা পড়ায় কোন অসুবিধা নাই (জামে রমুজ ১ম খন্ড ৭৬ পৃঃ; মিসখুল খেতাম ১ম খন্ড ২১৯ পৃঃ); ইমামের পিছনে সুরা ফাতেহা পড়া সতর্কতামুলক মুস্তাহসান বা উত্তম (হেদায়া ১ম খন্ড ১০১ পৃঃ); আমাদের অনেক ফুকাহায়ে হানাফী সকল নামাযে মুক্তাদির জন্য ইমামের পিছনে সুরা ফাতেহা পড়া মুস্‌তাহসান বা উত্তম জানতেন (উমদাতুল কারী শরাহ বুখারী ৩য় খন্ড ২৯ পৃঃ); যদি ইমাম জোরে পড়ে তাহলে মুক্তাদি ইমামের সাক্তার সময় পড়বে । আর যদি ইমাম আস্তে আস্তে পড়ে কেরাত পড়ে তাহলে মুক্তাদি যখন খুশি পড়বে তার ইচ্ছা । সুরা ফাতেহার ব্যাপারে এ পদ্ধতিটা অনুসরণ করা উচিত । যাতে ইমামের কেরাতের অসুবিধা না হয় । অর্থাৎ আস্তে আস্তে পড়বে আর ইমামের পিছনে পড়াটাই আমার কাছে উত্তম (হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা ২য় খন্ড ৯ পৃঃ); ইমামের সাক্তার সময় যদি সুরা ফাতেহা পড় তাহলে অসুবিধা নাই (সাবিলুর রশাদ ২০, ২১); মুক্তাদির জন্য সুরা ফাতেহা পড়া (মুবাহ্) বৈধ, অন্য কিছু নৈধ নয় (ফসলুল খেতাব ১১৮,২৭৮ পৃঃ); বাংলাদেশের শামসুল হক ফরিদপুরী (সদর সাহেব হুজুর রহঃ) তিনি বলেন- যদি কোন হানাফী মাযহাবের লোক জোরে আমিন বলে এবং ইমামের পিছনে সুরা ফাতেহা পড়ে তাহলে তার হানাফিয়াত টুটিয়া যাইবে না বরং আরও মজবুত হইবে (ওসিয়াতনামায় ৭ নং ওসিয়াত); কোন মারফু সহীহ হাদিসে ইমামের পিছনে সুরা ফাতেহা না পড়ার কথা বর্ণিত হয় নাই । আর এ সম্পর্কে উলামায়ে হানাফীগণ যত দলিল উল্লেখ করেন, তা হয় তার কোন ভিত্তি নেই, মনগড়া, আর না হয় সেটা সহিহ নয় (তালিকুল মুমাজ্জাদ ১০১ পৃঃ); ইমামের পিছনে সুরা ফাতেহা পড়ার আরও দলিল দেখুন (মিশকাত-মাওলানা নুর মোহাম্মাদ আযমী ২য় খন্ড হাঃ ৭৬৫, ৭৬৬, ৭৯৪; মিশকাত মাদ্রাসার পাঠ্য ২য় খন্ড হাঃ ৭৬৫, ৭৬৬, ৭৯৪; বাংলা অনুবাদ বুখারি মাওলানা আজীজুল হক ১ম খন্ড হাঃ ৪৪১; সহিহ আল বুখারি আঃ প্রঃ ১ম খন্ড হাঃ ৭১২; সহিহুল বুখারী তাঃ পাঃ ১ম খন্ড হাঃ ৭৫৬; বুলগুল মারাম ইবনু হাজার আসকালানী ১ম খন্ড হাঃ ২১৭; বুখারী শরীফ ইঃ ফাঃ ২য় খন্ড হাঃ ৭১৮; মুসলিম শরীফ ইঃ ফাঃ ২য় খন্ড হাঃ ৭৫৮, ৭৫৯, ৭৬০, ৭৬১; আবু দাউদ ইঃ ফাঃ ১ম খন্ড হাঃ ৮২১, ৮২২, ৮২৩, ৮২৪; তিরমিযী শরীফ ইঃ ফাঃ ১ম খন্ড হাঃ ২৪৭; ইবনে মাযাহ ইঃ ফাঃ ১ম খন্ড হাঃ ৮৩৭, ৮৩৮; মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ ইঃ ফাঃ হাঃ ১১৫; মুয়াত্তা ইমাম মালিক ইঃ ফাঃ ১ম খন্ড রেওয়ায়েত ২৩৫, ২৩৬; বেহেশতি জেওর ২য় খন্ড নামাযের ওয়াজিব মাসআলা ২ ও ৩; জামে তিরমিযী মাওলানা আব্দুন নুর সালাফী ১ম খন্ড হাঃ ২৯৮)

(উঃ আপনার জানা মতে পৃথিবীর কোথাও মাজহাব মানা নিয়ে দলা দলি হয়েছি কি?)
আপনি নীচের পোষ্টটি অনুসন্ধান করে পড়ে দেখুন।
'মুসলিম মাযহাবগুলোর মধ্যে ঐক্য শক্তিশালী করা তেহরান সম্মেলনের উদ্দেশ্য'
লিখেছেন ফিকে স্বপ্ন ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২, সকাল ০৭:২১

(উঃ সময়ের স্বল্পতার কারনে দুঃখিত। তবে আপনি আপনার অবস্থান বলুন। দেখি আশে-পাশের কোন আলেম দ্বারা আপনার উপকার করতে পারি কিনা।)
আমার আসে পাশের আলেমদের সাথে আমার মত বিনিময় হয়েছে।আগেও বলেছি ফেকাহ শাস্ত্রের দলিল দেয় কুরআন হাদিসের দলিল উল্লেখ করে না।
আপনার আশে পাশের আলেমদের দ্বারা সমাধান দিতে পারেন কিনা দেখুন।
১০
640469
০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১২; বিকেল ০৫:৪৭
এম এম নুর হোসাইন লিখেছেন : লেখাগুলে স্পেস দিয়ে সুন্দর করে লিখুন। ইংশা আল্লাহ সময় সুযোগ মত সবগুলোর জবাব দেওয় হবে।
আপনি আশ পাশের কেমন আলেমের সাথে মত বিনিময় করেছেন আমার বুঝে আসে না।অনেক ধন্যবাদ
১১
643130
০৯ ফেব্রুয়ারী ২০১২; সকাল ০৯:৪৪
আজমল হাক(আজম) লিখেছেন : লেখা যত বড় ও স্পেস দিয়ে করা হলে ব্লগে পেষ্ট করে এরকম হয়।
আপনার কথা মত করতে হলে ২টা পদ্ধতি আছে
আপনার ইমেইল জানালে ফাইল করে পাঠাতে পারব।
অথবা আপনি লেখা গুলো কপি পরে বড় করে নিতে পারেন।
আপনার বুঝে আসুক বা না আসুক;
আপনি আমাকে বুঝাতে পারেন কিনা তাই দেখুন।
মন্তব্য লিখতে লগইন করুন
এম এম নুর হোসাইন
উহারা চাহুক দাসের জীবন, আমরা শহিদি র্দজা চাই। নিত্য মৃত্ব ভীত ওরা, মোরা মৃত্ব কোথায় খুজে বেড়াই। আপনিও আমাদের কাফেলা শরিক হোন।
 
লেখকের অন্যান্য লেখা