সভ্যতার শুরু থেকেই প্রত্যেক নাগরিকের শরীর , সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা বিধান করার জন্য সমাজ ও রাষ্ট্র দায়িত্ব পালন করে আসছে। পাঠান ও মোঘলদের আমলে নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে নগর কোতোয়ালদের উপর দায়িত্ব অর্পিত ছিল। ইংরেজ আমলে নিজেদের উপনিবেশিক স্বার্থে তারা পুলিশ বাহিনীকে একাধিকবার পূনর্গঠন করে। বাংলাদেশের বর্তমান পুলিশ বাহিনী বৃটিশ আমলের পুলিশ বাহিনীরই উত্তরসূরী। অপরাধ নিবারন ও এ সংক্রান্ত বিষয়ে গোয়েন্দাগিরি করার জন্য দক্ষ পুলিশ বাহিনী পূনর্গঠনের লক্ষে ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দের ২২ শে মার্চ তারিখে ‘পুলিশ আইন,১৮৬১’ (১৮৬১ সনের ৫ নংআইন) প্রবর্তন করা হয়। উক্ত আইনের ২৩ ধারা অনুসারে পুলিশ অফিসারের দায়িত্ব নিম্নরূপঃ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইন সম্মতভাবে...
জনগণ তাদের জীবনযাত্রা পদ্ধতি পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারণ করে নেয়। এজন্য তারা প্রণয়ন করে শাসনতন্ত্র বা সংবিধান। এরিষ্টটলের মতে ‘সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্র কর্তৃক পছন্দকৃত জীবন প্রণালী।’ লর্ড মেকলের এ প্রসঙ্গে বলেন ,‘যে সব বিধিবদ্ধ আইন ও নীতি রাষ্ট্রের শাসন পরিচালন পদ্ধতি নির্ধারণ করে , সে গুলোকে সমষ্টিগতভাবে শাসনতন্ত্র বা সংবিধান বলে। সরকারের রূপ কি হবে , বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতা কিভাবে বন্টন করা হবে , শাসক ও শাসিতের মধ্যে কি সম্পর্ক থাকবে-এসব ব্যাপারে রাষ্ট্রের যে সব মৌলিক নিয়ম কানুন থাকে সেই সমস্ত নিয়ম কানুনের সমষ্টিগত নামই হচ্ছে সংবিধান বা শাসনতন্ত্র।’ সেই সাথে তিনি আরও বলেন ‘ বিপ্লবের প্রধান কারণ হচ্ছে...
অবয়ব থাকলেই কেউ প্রকৃতপক্ষে মানুষ হয় না। মানুষ হতে হলে তাকে অর্জন করতে হয় সুশিক্ষা। তা মানুষ অর্জন করে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে। রুচিবোধ, নৈতিকতা, মানবিক আচরণ থেকেই একটি মানুষের মানবিক গুণাবলির মাত্রা নির্ধারিত হয়। শুধু উচ্চশিক্ষার সঙ্গে প্রয়োজন বিবেকবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষা। এর অন্যথা হলে শিক্ষিত মানুষও হয়ে যায় অমানুষ, ঘৃণিত পশুর চেয়েও অধম। জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, ‘দুর্জন জ্ঞানী হইলেও পরিত্যাজ্য।’ এ ধরনের এক অধম ও ঘৃণিত ব্যক্তির প্রসঙ্গেই ইকতেদার আহমেদ লিখেছেন ‘তুমি কেন এত ঘৃণিত’ নিবন্ধে। তা দৈনিক আমার দেশ-এ গত ২৭ মার্চ ছাপা হয়েছে। লেখক ইকতেদার আহমেদকে এই তথ্যসমৃদ্ধ নিবন্ধ লেখার জন্য মোবারকবাদ জানাই।...
মানুষ জন্ম গ্রহণ করে অবয়ব নিয়ে। বেড়ে উঠার সাথে সাথে সে শিখতে থাকে এই পৃথিবীতে কিভাবে চলতে হবে। এভাবেই সে অর্জন করতে থাকে জ্ঞান। চলল বলল পোষাক আষাক এ সব বিষয়েই সে শিক্ষা লাভ করে। পরিবার ও সমাজ থেকে শুরু হয় তার শিক্ষা জীবন। জীবন যাপন ও জীবিকা অর্জনের জন্যও তাকে শিক্ষা অর্জন করতে হয়। এ জন্য তাকে যেতে হয় শিক্ষা অঙ্গনে। তাই শিক্ষাঙ্গনকে বলা মানুষ গড়ার আঙিনা। শিক্ষাঙ্গনগুলো আবার স্তরে স্তরে বিন্যস্ত। প্রাথমিক বিদ্যালয় , মাধ্যমিক বিদ্যালয় , উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় , মহাবিদ্যলয় ও বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের দেশে মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য রয়েছে উচ্চবিদ্যালয় সমূহ। উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক ( পাস...
দ্বন্দ্ব বিরোধে পূর্ণ এ দুনিয়ায় শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে সংঘবদ্ধ মানুষ প্রণয়ন করেছে আইন। প্রতিষ্ঠিত করেছে আদালত। লক্ষ্য একটাই জালেমের কবল থেকে মজলুমের জীবন সম্পদ ও মর্যাদার হেফাজত করা। শান্তিপ্রিয় মানুষ সব সময়ই বিরোধ এড়িয়ে চলে। কিন্তু হলে কি হবে দুষ্ট প্রকৃতির মানুষেরা তো বসে থাকে না। দুষ্টবুদ্ধির বশবর্তী হয়ে তারা সাধারণ শান্তিপূর্ণ মানুষের সম্পদ ও সম্মান কেড়ে নিতে চায়। সেখান থেকেই উৎপত্তি হয় বিরোধের। এই বিরোধ যত দক্ষতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে নিষ্পত্তি করা যায় সমাজ ততই হয়ে ওঠে শান্তিপূর্ণ। সমাজ প্রগতির ধারায় দেখা গেছে যুগে যুগে নারী শিশু ও বৃদ্ধরাই নির্যাতিত হয়ে এসেছে। তাদের স্বার্থ হেফাজত করার জন্য আসমানী কেতাবগুলোর...
১৯৭৪ সালের ১৭ই মার্চ তারিখে এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সৃষ্টি হয় এক কালো অধ্যায়। আওয়ামী দুঃশাসন ও খুন গুমের বিরুদ্ধে জাতীয় সমাজতানত্রিক দলের (জাসদ) নিয়মতানত্রিক আন্দোলনে এদিন পুলিশ ও রক্ষীবাহিনী বৃষ্টির মতো গুলি চালিয়ে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করে। এতে জাসদ সভাপতি মেজর এম এ জলিল , সম্পাদক আ স ম আবদুর রব , যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ , মমতাজ বেগম সহ দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হয়। জাসদ নেতৃবৃন্দের মতে, পুলিশ ও রক্ষীবাহিনী নিহত অধিকাংশের লাশ গুম করে। মুজিব সরকারের অত্যাচার, নির্যাতন, খুন , গুম , নিপীড়ন ও সীমাহীন লুটপাটের প্রতিবাদে জাসদের উদ্যোগে এদিন ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে...
প্রতিটি মানুষেরই এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। মায়ের গর্ভে ভ্রূণ আকারে মানব শিশুর জন্মের সূচনালগ্ন থেকেই আইন তার নিরাপত্তা বিধান করেছে। খুনীকে ভোগ করতে হয় সর্বোচ্চ সাজা (capital punishment ) । তাই খুনীকে চিহ্নিত করার গুরুত্ব অপরিসীম। খুনের বিচার করতে গিয়ে নির্ধারণ করতে হয় লোকটি আসলেই খুন হয়েছে কিনা । খুন কখন হয়েছে , কিভাবে হয়েছে এসব প্রশ্নের নিষ্পত্তির পরই কে বা কারা কেন খুন করেছে তা সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ণয় করতে হয়। কোন ব্যক্তির উপরে রাগান্বিত হয়ে মানুষ যখন হিতাহিত জ্ঞানহারা হয়ে যায় এবং তার বিবেকবোধ মাত্রারিক্ত নিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে তখনই সে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রাণ-সংহার...
মৃত্যুকে যারা তুচ্ছ করিল ভাষা বাঁচাবার তরে
আজিকে স্মরিও তারে .
যে রক্তের বানে ইতিহাস হলো লাল
মৃত্যুর বানে জীবন জাগে বিশাল
তাঁর আত্মার ঘরে ঘরে
আজিকে স্মরিও তাঁরে।
কোথায় বরকত কোথায় সালাম
...
আজকে ইলেকট্রনিক প্রচার মাধ্যমের গুনে বিচারপতি হাবিবুর রহমানের বক্তৃতা শোনার সুযোগ আমার হলো । তিনি বললেন আইন ও সংবিধান ইংরেজিতে কেন? বিগত ৪০ বৎসরের মধ্যে তিনি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টে বিচারপতির পদ অলংকৃত করেছেন। তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ছিলেন , আপীল বিভাগের বিচারপতি ছিলেন , প্রধান বিচারপতি ছিলেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। তার অনেক সুযোগ ছিল সুপ্রীম কোর্টে বাংলাভাষা চালু করার। তিনি তার বিচারিক ও দাপ্তরিক কাজগুলো বাংলাভাষায় করতে পারতেন। এটা করতে সাংবিধানিক বা আইনগত কোন বাধা ছিল না। তিনি সাংবিধান পদে অধিষ্ঠিত থেকেও সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রভাষা ব্যবহার করেন নাই।
...
মানব সৃষ্টির পর গৃথিবীতে তাদেরকে প্রেরণ করা হয়। প্রথম প্রজন্মের দুই পুত্র সন্তান বিবাহ সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধে লিপ্ত হয়। বিরোধ মিমাংসার জন্য কোরবানীসহ সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। পরিণতিতে এক ভাই অপর ভাইকে খুন করে। সকল আসমানী কিতাবের ভাষ্য এটাই। পবিত্র গ্রন্থ আল কোর-আনে বলা হয়েছে একজন ব্যক্তির জীবন যে রক্ষা করলো , সে যেন সারা পৃথিবীর মানুষের জীবন রক্ষা করলো ; আর একজন মানুষকে যে হত্যা করলো সে যেন সারা পৃথিবীর মানুষকে খুন করলো । খুনীর জন্য ইহকালে ও পরকালে রয়েছে কঠোর শাস্তি। তারপরও কিন্তু খুনের ঘটনা থেমে থাকে নাই। বিভিন্ন কারণে মানুষের হাতে মানুষ খুন হয়। বিরোধে...
কিছুক্ষণ আগে 'আর টি ভি' তে একটি আলাপ চারিতা অনুষ্ঠান শুনলাম। তাতে সাম্প্রতিক কালে সাংবাদিক দম্পতির খুনের বিষয়টিও স্থান পায় । শিশুটির বক্তব্যকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন ডঃ শাহ দীন মালিক। এক একটি মামলার 'মেরিট' ও 'মোটিভ' এক এক রকম। শিশুটি তার বাবা মায়ের খুনীর বর্ণনা দিয়েছে , ঘটনার সময় এই শিশুটি ছাড়া আর কেউ ছিল না । তদন্তের ক্ষেত্রে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এই বর্ণনা থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামীকে চিহ্নিত করার সূত্র পাবে। সেই সূত্র ধরে এগুলেই খুনের রহস্য উদ্ঘাটন সহজ হবে। তবে খুনি যদি প্রভাব ও অর্থশালী লোক হয় এবং এই খুনটা যদি সুপরিকল্পিত হয়...
অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে আজ লিখছি। কেন দেশে এভাবে একের পর এক প্রতিকারহীন খুন ও গুমের ঘটনা ঘটছে। লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরে চার জন খুন হবার দিনে পুলিশের আই জি এর পদমর্যাদা উন্নত করা হলো । পরদিনই রাজশাহীতে খুন হলো আরেকজন। এর পরপরই কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন ছাত্রকে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় , বাসের চালক সহকারী ও অন্যান্য যাত্রীরা তা বলেছে ।তারা দুজনেই ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাচ্ছিল । ঐ দুজন ছাত্রের কোন খোঁজ আজ পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই। এর কৈফিয়তও কেউ দেবার প্রয়োজন মনে করে নাই। আজ সাংবাদিক দম্পতি খুন হলেন নিজ বাসভবনে। আজকেই ঘোষণা করা হয়েছে পুলিশের সুযোগ সুবিধা...
কিছুদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বললেন বিরোধী দলীয় নেত্রীর কারণে ৫টা প্রাণ ঝরে গেছে। চাঁদপুর , লক্ষ্মীপুর ও রাজশাহীতে যারা নিহত হয়েছেন তাদের সবার দেহে যে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল তা এসেছিল পুলিশের দিক থেকে। এই গুলি কে নিক্ষেপ করেছিল ? পুলিশ যদি করে থাকে তাহলে জানতে চাই এই গুলি করার হুকুম তাদের কে দিয়েছিল ? পুলিশ যদি না করে থাকে তাহলে পুলিশের ভিতর থেকে যারা এই গুলি নিক্ষেপ করেছিল তারা কারা ? কোন দায় দায়িত্বই পুলিশ এড়াতে পারবে না। তাহলে এখানে বিরোধী দলীয় নেত্রীর ভূমিকা কোথায় ? তাহলে কি ধরে নেবো কোন দাবী জানাতে রাজপথে নামলেই কি পুলিশকে গুলি করার হুকুম দেওয়া...
সেকালে কবি আবদুল হাকিম চরম ক্ষুব্ধ হয়ে দৃঢ় কন্ঠে বলেছিলেন , ‘ যে জন বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী / সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় না জানি। / দেশী বিদ্যা ভাষা যার মনে না জুড়ায় / নিজ দেশ ত্যাগী কেন বিদেশ না যায় ? ’ আর এ যুগের পল্লীকবি জসিম উদ্দিন দুঃখ রাগ ক্ষোভে বেদনাভরা হৃদয়ে লিখিত গান সুললিতকন্ঠে গাইলেন কন্ঠশিল্পী আবদুল লতিফ , ‘ ... কইতো যাহা আমার দাদায় , কইছে তাহা আমার বাবায় / এখন কও দেখি ভাই মোর মুখে কি অন্য কথা শোভা পায় ? / ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হতে পায় / ওরা আমার মুখের...
পুলিশের মহাপরিচালকের পদের উন্নতিবিধান করা হয়েছে। যেদিন আই জি পি কে ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী , সেই দিনই পুলিশ লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরে পুলিশ শান্তিপূর্ণ মিছিলকারীদের উপর গুলি চালিয়েছে , মানুষ নিহত হয়েছে। পুলিশের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়া মানুষের প্রতি পুলিশ যে আচরণ করেছে , তা আমরা টিভিতে দেখেছি। মনে হয়েছে এই পুলিশদের মাঝে এতটুকু মানবিক মূল্যবোধ নাই । মনে হয়েছে এরা বাঙালাদেশের পুলিশ নয় , বর্বর কোন বাহিনীর সদস্য। জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রতিও এরা নির্দয় ব্যবহার করেছে। এভাবে জনমত যাচাই ব্যতিরেকে আই জি পদের উন্নয়ন করায় আইন সচিব ও সুপ্রীম কোর্টের রেজিষ্ট্রারের পদের মান আই জি পির থেকে নিচে...