সত্যের পথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে চাই। যা সত্য নির্ভয়ে তা বলে যেতে চাই। আসুন আমরা সত্য ও ন্যায়ের পথে আহবান করি। সকলের জন্য শুভ কামনা। কুরআন ও সহীহ হাদীছের আলোকে ইসলাম সম্পর্কে জানতে এবং ইসলাম সম্পর্কে আপনার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পেতে আমার নিজস্ব ওয়েব সাইট ভিজিট করুনঃ http://hadith.blog.com/
ক্রোধান্বিত হওয়ার সময় যা করণীয়ঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্রোধান্বিত ব্যক্তিকে ক্রোধের আগুন নির্ভাপন করার জন্য অযু করার আদেশ করেছেন। আর যদি ক্রোধান্বিত ব্যক্তি দাঁড়ানো অবস্থায় থাকে তাহলে তাকে বসার আদেশ দিয়েছেন। আর বসা থাকলে শয়ন করতে বলেছেন আর শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ক্রোধ ও লোভ (নারী, সম্পদ, নের্তৃত্ব ইত্যাদির প্রতি আসক্তি ও লোভ) যেহেতু মানুষের অন্তরে আগুনের জ্বলন্ত অঙ্গার তাই উপরোক্ত পদ্ধতিতে নিবারন করার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ
...
ওয়াসওয়াসা তথা শয়তানের কুমন্ত্রনার কবলে পতিত ব্যক্তি কিভাবে তা থেকে রেহাই পাবে? আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ বনী আদমের অন্তরে ফেরেশতার পক্ষ হতে ইলহাম হয়। শয়তানও বনী আদমের অন্তরে কুমন্ত্রনা ঢেলে দেয়। ফেরেশতা তার সাথে কল্যাণের ওয়াদা করে, সত্যের সত্যায়ন করে এবং অন্তরে ভাল কাজের বিনিময়ে ছাওয়াবের আশা-আকাঙ্খা জাগ্রত করে। শয়তানের কুমন্ত্রনা হচ্ছে অন্যায় কাজের ওয়াদা করা, সত্যকে অস্বীকার করা এবং কল্যাণ অর্জন তেকে নিরাশ করা। সুতরাং তোমরা যখন অন্তরে ফেরেশতার ইলহাম অনুভব কর তখন আল্লাহর প্রশংসা কর এবং আল্লাহর কাছে কল্যাণ...
স্বপ্নের বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, ভাল স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ হতে এবং অপছন্দনীয় স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ হতে। সুতরাং যে ব্যক্তি অপছন্দনীয় কোন স্বপ্ন দেখে সে যেন বাম দিকে থুথু ফেলে এবং শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে। তাহলে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর সে যেন সেই স্বপ্নের বিষয় কাউকে না বলে। আর যদি ভাল ও পছন্দনীয় স্বপ্ন দেখে সে যেন খুশী হয় এবং একান্ত প্রিয় ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে স্বপ্নের বিষয় না বলে।...
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সফরের আদবসমূহঃ সহী সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে তখন সে যেন কাজটি শুরু করার পূর্বে দু’রাকআত নামায পড়ে নেয়। এর মাধ্যমে তিনি জাহেলী যামানার অভ্যাসকে পরিবর্তন করে দিয়েছেন। অন্ধকার যুগের লোকেরা সফরে বের হওয়ার পূর্বে পাখি উড়িয়ে এবং তীরের মাধ্যমে ভাগ্য পরীক্ষা করত। এ রকমই মুশরিকরা লটারীর মাধ্যমে ভবিষ্যতের ঐ সমস্ত বিষয় জানতে চেষ্টা করে, যা তাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কাজটিকে ভাগ্য পরীক্ষা বলে...
কারও কাছে প্রবেশের পূর্বে অনুমতি প্রার্থনার ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেনঃ কারও বাড়িতে বা ঘরে বা প্রবেশের পূর্বে তিনবার অনুমতি প্রার্থনা করতে হবে। এভাবে অনুমতি চাওয়ার পর যদি বাড়ির মালিক অনুমতি দেয় তাহলে প্রবেশ করতে হবে। অন্যথায় ফেরত আসতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে আরও বর্ণিত হয়েছে যে,
إِنَّمَا جُعِلَ الاسْتِئْذَانُ مِنْ أَجْلِ الْبَصَرِ
...
ইহুদী-খৃষ্টানদেরকে সালাম দেয়ার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেনঃ
لاَ تَبْدَءُوهُمْ بِالسَّلاَمِ وَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فِى الطَّرِيقِ فَاضْطَرُّوهُمْ إِلَى أَضْيَقِ الطَّرِيقِ
তোমরা ইহুদী-খৃষ্টানদেরকে আগে সালাম দিওনা। আর তোমরা যখন তাদের সাথে রাস্তায় সাক্ষাৎ করবে তখন তাদেরকে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত রাস্তার দিকে যেতে বাধ্য কর। কিন্তু বলা হয় যে, এই হাদীছটি একটি বিশেষ ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।...
সালাম ও সালামের উত্তর প্রদানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত কেমন ছিল? সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
أفضل الإسلام أن تُطْعِمُ الطَّعَامَ وَتَقْرَأُ السَّلامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ
ইসলামের সর্বোত্তম বৈশিষ্ট হচ্ছে, খাদ্য প্রদান করা এবং পরিচিত-অপরিচিত সকলকে সালাম দেয়া। বুখারী ও মুসলিমে আরও বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
...
পানাহার গ্রহণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত কতিপয় আদবঃ তিনি যখন খাবারে হাত রাখতেন তখন বিসমিল্লাহ্ বলতেন। তিনি তা বলারও আদেশ দিতেন। বিসমিল্লাহ্ বলতে ভুলে গেলেঃ
بسم الله فِى أَوَّلِهِ أَوْ آخِرِهِ বিসমিল্লাহি ফী আওয়ালিহি ওয়া আখিরিহি বলতেন। “বিসমিল্লাহ বলে শুরু করছি এবং শেষেও আল্লাহর নাম উচ্চারণ করছি। এই হাদীছটি সহীহ। সুতরাং খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ্ বলা উচিত। যে ব্যক্তি পানাহার করার সময় বিসমিল্লাহ্ বলবে না শয়তান তার পানাহারে অংশীদার হবে। খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ্ ওয়াজিব হওয়ার হাদীছগুলো সহীহ এবং...
আযানের ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাতঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তারজীসহ এবং তারজী ছাড়া- এ দু’টি পদ্ধতিতেই আযান দেয়া সুন্নাত হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন।
অনুবাদকের সংযুক্তিঃ আযান দেয়ার সময় আশহাদু আল- লা-ইল্লাল্লাহ এবং আশহাদু আন্না মুহামাদার রাসূলুল্লাহু- এই বাক্য দু’টির প্রত্যেকটি প্রথমে ছোট আওয়াজে দুইবার করে মোট চারবার বলার পর পুনরায় আওয়াজ উঁচু করে চারবার উচ্চারণ করে আযান দেয়াকে...
যিকির তথা আল্লাহর স্মরণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর সুন্নাতঃ লোকদের মধ্যে আল্লাহর যিকির তিনিই সবচেয়ে বেশী করতেন। মূলতঃ তার সকল কথাই আল্লাহর যিকিরের অন্তর্ভূক্ত ছিল। উম্মাতের জন্য তাঁর আদেশ, নিষেধ, শরীয়ততের বিভিন্নি বিধান নির্ধারণ করা, আল্লাহর নাম ও সিফাত সম্পর্কে সংবাদ দেয়া, আল্লাহর হুকুম-আহকাম, আল্লাহর কর্মসমূহ সম্পর্কে সংবাদ দেয়া, সৎকর্মশীলদের জন্য আল্লাহর ওয়াদা এবং অপরাধীদের জন্য তাঁর শাস্তির ভীতি প্রদর্শনও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যিকিরের অন্তর্ভূক্ত। আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া জ্ঞাপন, আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা করা, তাঁর পবিত্রতার ঘোষণা দেয়া এবং তাঁর প্রশংসা করাও যিকির। তিনি যখন চুপ থাকতেন...
কথা-বার্তায় সংযত হওয়া এবং শব্দ নির্বাচন ও তা প্রয়োগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সতর্কতাঃ তিনি তাঁর ভাষণে সুন্দরতম শব্দ নির্বাচন করতেন এবং তাঁর উম্মাতের জন্যও তাই নির্বাচন করেছেন। অশ্লীল ও কঠোর শব্দ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তিনি কর্কশভাষী ছিলেন না, তিনি তা পছন্দও করতেন না, তিনি উঁচু আওয়াজে তথা চিল্লিয়ে ও কঠোর ভাষায় কথা বলতেন না। সম্মানী ব্যক্তি নয়- এমন ব্যক্তির জন্য তিনি উত্তম শব্দ ব্যবহার কারা অপছন্দ করতেন। আর সম্মানী ব্যক্তির ক্ষেত্রে অপছন্দনীয় শব্দ ব্যবহার করাও তিনি সমর্থন করতেন না।
...
নাম ও কুনীয়ত (উপনাম) রাখা সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত ঐ ব্যক্তির নাম যে নিজের নাম মালিকুল আমলাক তথা শাহানশাহ বা রাজাধিরাজ রাখল। কেননা আল্লাহই একমাত্র বাদশাহ। তিনি আরও বলেনঃ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অধিক প্রিয় নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রাহমান। সবচেয়ে অধিক সুন্দর নাম হচ্ছে, হারিছ ও হাম্মাম এবং মন্দ নাম হচ্ছে র্হাব (যুদ্ধ) ও র্মুরা (তিক্ত)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেনঃ তোমরা ছেলে সন্তানের নাম ইয়াসার, রাবাহ,...
হে আমার মেয়ে! আমি চল্লিশের জগৎ পার হয়ে পঞ্চাশের পথে পা রেখেছি। যৌবনকে বিদায় দিতে যাচ্ছি, সেও আমার কাছ থেকে বিদায় নিতে চায়। নতুন কোন স্বপ্ন এবং উচ্চ আকাঙ্খা আর নেই।
আমি অনেক দেশ ও শহর ভ্রমণ করেছি, বহু জাতির সাহচর্য লাভ করেছি এবং জীবন ও জগৎ সম্পর্কে অনেক ধারণা অর্জন করেছি।
আজ আমার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শুন! কথাগুলো সঠিক ও সুস্পষ্ট। এগুলো আমার বয়স ও অভিজ্ঞতার আলোকেই তোমাকে বলছি। আমি...