বুধবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯; ৩০ মে ২০১২; দুপুর ০৩:৩৯

রুমানার কি কোন দোষ ছিল না? আসুন ঘটনাটি অন্য চোখে দেখি।

লিখেছেন হা...হা...হা... ২৪ জুন ২০১১, রাত ০৩:৩৬




এই রুমানাকে সাইদ বিয়ে করেছিল, তার সাথে বাসর হয়েছিল, যে চোখ, যে নাক হিংস্র ভাবে উপড়ে ফেলেছে সেই নাক, চোখে নিশ্চয় ভালবাসার অনেক চুম্বনও চিল। নিশ্চয় তাদের অনেক অনেক ভালবাসার স্মৃতি রয়েছে, তাদের ভালবাসার ফসল হিসেবে একটি ফুটফুটে সন্তানও রয়েছে। তারা দশটি বছর একই ছাদের নিছে বসবাস করেছেন। সাইদ যদি বর্বর আর পাষন্ডই হবে তবে এতদিন একসাথে বসবাস করা কি করে সম্ভব? রুমানা নিশ্চয় একজন বর্বব লোককে বিয়ে করেনি, তার সাথে বাসর করেননি, তার কাছ থেকে সন্তান নেননি, তার কাছ থেকে ভালবাসা, আদর-সোহাগ নেননি? যদি তাই হতো নিশ্চয় তারা এতদিন এক ছাদের নিচে থাকতে পারতেন না। তাহলে প্রশ্ন হলো সাইদ কখন বর্বর হলেন? সাইদ কখন পাষণ্ড হলেন?

সাইদ গ্রেফতার হওয়ার পর র্র্যাব কে স্ত্রীর উপর হামলার কারণ বলেছে। আসুন শুনি সাইদ কি বলে- ডিবি কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে রুমানা মনজুরকে নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন হাসান সাঈদ। তাঁর দাবি, রুমানা নিজেই তাঁর চোখ ও নাক ক্ষতবিক্ষত করেছেন। সাঈদ বলেন, রুমানা পড়াশোনার জন্য ২৭৩ দিন কানাডায় কাটিয়ে গত মাসের ১২ তারিখ দেশে ফেরেন। ওখানে থাকাকালে তারেক বিন নাভিদ নামের ইরানি এক যুবকের সঙ্গে রুমানার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলেও সাঈদ দাবি করেন। দাবির পক্ষে যুক্তি হিসেবে সাঈদ বলেন, রুমানা কানাডা গিয়ে তাঁর সঙ্গে খুব বেশি যোগাযোগ রাখতেন না। ফোনে যোগাযোগ হলেও বেশিক্ষণ কথা বলতে চাইতেন না। রুমানা মেয়ের সঙ্গেও সাঈদকে কথা বলতে দিতেন না বলে তিনি দাবি করেন। সাঈদ বলেন, দেশে ফেরার পর এ নিয়ে বেশ কয়েকবার বাগবিতণ্ডা হয় তাঁদের মধ্যে।
সাঈদের দাবি, রুমানা দেশে ফেরার পর বেলের শরবতের সঙ্গে ১১০টি ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ায়। এতে অসুস্থ হয়ে ল্যাবএইড হাসপাতাল চিকিৎসা নিতে হয় তাঁকে। এতে তাঁর দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। এখন তিনি মাত্র ৫ শতাংশ দেখতে পান।
ঘটনা সম্পর্কে সাঈদ দাবি করেন, ওই দিন সকালে রুমানার ফেইসবুক অ্যাকাউন্টের ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে ইরানি ওই যুবকের নাম ডিলিট করেন তিনি। এ নিয়ে তাঁদের দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এরপর কী হয়েছে, তা আর তিনি জানেন না।
সূত্রঃ কালেরকন্ঠ, ১৬ জুন ২০১১।

কিন্তু সাইদের এই কথাগুলো ''সুশীল সমাজের'' লোকেরা কানেই তুলতে নারাজ। তারা বলছে সাইদ মিথ্যা বলছে। সাইদ যদি মিথ্যা বলে তবে সত্য কোনটি? সাইদ কি এমনি এমনি এমনটি করেছে? তবে সে কি পাগল? তাহলে আমরা কেন একজন পাগলের বিচার চাইছি? তাহলে কি আমরাও সবাই পাগল হয়ে গেলাম?

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রুমানা বলেন- 'সেদিন আমি কম্পিউটারে কাজ করছিলাম। পাশেই বসে আমার মেয়েটি খেলছিল। হঠাৎ আমার স্বামী রুমের দরজা লাগিয়ে পেছন থেকে আমার মাথায় আঘাত করে। এরপর আমাকে টেনেহিঁচড়ে বিছানায় নিয়ে ফেলে। আঙুল দিয়ে খুবলে তুলে ফেলার চেষ্টা করে আমার দুই চোখ। প্রচণ্ড ব্যথায় আমি চিৎকার করতে থাকি। রক্তে ভেসে যায় চোখ-মুখ। এরপর আমি শুধু বুঝতে পারি আমার চোখ উপড়ে ফেলতে চাইছে।' সূত্র: কালেরকন্ঠ।

ঘটনা তো মিলে গেল, সাইদ অভিযোগ করেছেন যে রুমানা পড়াশোনার জন্য কানাডা গিয়ে এক ইরানি ছেলের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল, এবং সে ফেসবুকে সেই ইরানি ছেলের সাথে যোগযোগ করতো। রুমানা যখন প্রথম কানাডা যায় সাইদ বাধা দেয়নি। কিন্তু এই ঘটনা জানার পর রুমানা আবার কানাডা যেতে চাইলে বাধা দেয়। তার একটিই কারণ, সাইদের মনে রুমানাকে হারানোর ভয় কাজ করছিল। রুমানা এবার কানাডা গেলে হয়তো সাইদের কাছে আর ফিরে আসত না। তাই সে চায়নি রুমানা আবার কানাডায় যাক। কিন্তু আমাদের ''বিখ্যাত'' মিডিয়া এই ঘটনাকে অন্য রঙ দিয়েছে। তারা আমাদের বুঝাতে চাইল সাইদ তার বউকে বিদেশে পড়াশোনায় বাধা দিয়েছিল, আর এর প্রতিবাদ করাতে বউয়ের উপর এই হামলা। কিন্ত কেউ সেই সত্যটি বলল না যে সাইদ আসলে কেন বউকে বিদেশ যেতে দিতে চাইছিল না।

ঘটনার সময় রুমানা বলছে সে কম্পিউটারে কাজ করছিল। তারমানে সে হয়ত সেই সময় ফেসবুকে ইরানি ছেলেটির সাথে চুটিয়ে প্রেম করছিল। সাইদ তেমনিই বলেছে। এখন বলুন, আপনার প্রিয়তমা অন্যজনের সাথে চুটিয়ে প্রেম করছে সেটা আপনি দেখছেন, সেই সময় আপনি কি করবেন? নিশ্চয় বৌকে কোলে তুলে চুমু খাবেন না? আবার আমি বলছি না যে আপনি বৌয়ের চোখ তুলে নেবেন বা কামড়ে না ছিড়ে ফেলবেন। তবে তখন যে খুব খারাপ একটি কিছু ঘটবে এটাতো নিশ্চিত, নাকি? আপনি সুশীল হলে হয়তো বলবেন সাইদ স্ত্রীকে তালাক দিতে পারত। আমিও বলি স্ত্রীকে তালাক দিতে পারত। কিন্ত ঠিক সেই অবস্থায় কি আপনার মনে কাজী অফিস বা আইন আদালতের কথা মনে আসত? স্ত্রীকে তালাক দেয়ার জন্য উকিল বাড়ি ছুটতেন?

আমি সব শুনে এই সিদ্ধান্তে এসেছি যে, সাইদ পাগল নয়, সে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবেও স্ত্রীর উপর ঝাপিয়ে পড়েনি। এটা সাইদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ যা ঘটনা চক্রে এভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার এক পর্যায়ে এমন ঘটেছে।

আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, সাইদের মানুষিক অবস্থা যাই হোক না কেন, সে তার স্ত্রীর উপর যা করেছে তার বিচার অবশ্যই হতে হবে, তার শাস্তি অবশ্যই হতে হবে। তা না হলে রুমানার প্রতি অবিচার করা হবে। আবার রুমানা যা করেছে তারও বিচার হতে হবে, তার যদি অন্যকে ভাল লাগত তবে সে সাইদকে তালাক দিতে পারত। সাইদ যদি পাষণ্ড ও বর্বর হয় তবে তবে এতদিন নিশ্চয় তার সংসার করার কথা ছিল না, আর সাইদ যদি পাগল হয় তবে সাইদ এতদিনে নিশ্চয় পাগলা গারদে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেটা যেহেতু হয়নি তাহলে অবশ্যই ডালমে কুচ কালা হ্যায়। রুমান দুই নৌকায় পা দিয়েছিল। স্বামী হিসেবে সাইদ ছিল, আবার প্রেমিক হিসেবে সেই ইরানি যুবক ছিল। তার পরক্রিয়াই এই ঘটনার মূল কারণ। রুমানাকও ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য অবশ্যই বিচারের মুখোমখি হতে হবে। তা না হলে সাইদের প্রতি অবিচার করা হবে।

যদিও জানি বিচারের বানী নিরবে কাঁদে। রুমানা হয়তো বিচার পাবে কিন্তু সাইদ কখনই নয়।

আর কোন রুমানাকে যাতে স্বামীর এই বর্বরতার স্বীকার না হতে হয়।

আর কোন সাইদকে যাতে স্ত্রীর এমন প্রতারণার (পরক্রিয়াজনিত) স্বীকার না হতে হয়।


সাইদের জন্যও রইল শুভ কামনা। রুমানার জন্যও।

বিষয়শ্রেণী: বিবিধ
শেয়ার করুনঃ
২৯১৩ বার পঠিত, ১৭ টি মন্তব্য
১৮ জনের পছন্দ
রেটিং দিতে লগইন করুন
পাঠকের মন্তব্য:
মন্তব্যের জবাব দিতে সমস্যা হলে এখানে ক্লিক করুন এবং নতুন পাতায় মন্তব্য লিখুন
312347
২৪ জুন ২০১১; রাত ০৩:৫১
হাবিবুল্লাহ লিখেছেন : পড়ে খুব ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।পিলাচ
২৪ জুন ২০১১; রাত ০৩:৫৬
273997

হা...হা...হা... লিখেছেন : অনেক ধন্যবাদ
312348
২৪ জুন ২০১১; রাত ০৩:৫১
শরীফ মিরাজ লিখেছেন : সাইদের জন্যও রইল শুভ কামনা। রুমানার জন্যও।
২৪ জুন ২০১১; রাত ০৩:৫৬
273998

হা...হা...হা... লিখেছেন : অনেক ধন্যবাদ
312356
২৪ জুন ২০১১; রাত ০৪:৩১
কাউছারপুর১৩ লিখেছেন : যদি তারা শরীয়তী পরদা পালন করতো তা হলে এই অবস্হা হইতো না
312364
২৪ জুন ২০১১; রাত ০৪:৫৮
এস.এম.ফখরুদ্দীন লিখেছেন : আমাদের মিডিয়াগুলো নারী নির্যাতন বিষয়ে কোন খবর প্রকাশ করার সময় এমন টিই বেশির ভাগ সময় করে থাকে। সত্যিটা তার চেপে যায।প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতি ক্রিয়া আছে-বৈজ্ঞানিক এই তত্ব কথাকে তারা ভুলে যায়।এজন্য আমরাও বিভ্রান্তিতে পড়ি।ঘটনার গভীরে তাত্বিক বিশ্লেষনের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
312369
২৪ জুন ২০১১; সকাল ০৫:১৬
Alamgir1977 লিখেছেন : আমাদের দেশের সুশীল সমাজ এবং নারী নেত্রীরা শুধু এক পক্ষকেই দেখে তারা শুধু রুমানার কথাই বলে। সাইদের দোষ যদি ৬০% তবে রুমানার দোষ আছে ৪০% অবশ্যই দুজনারই বিচার হওয়া দরকার। লেখার জন্য ধন্যবাদ।পড়ে খুব ভালো লাগলো। ধন্যবাদ। পিলাচ
312429
২৪ জুন ২০১১; সকাল ০৭:৪৫
কানা-বাবা লিখেছেন : আপনার পোস্টটি দয়া করে আপনার স্ত্রীর এবং শশুড় বাড়ির লোকজনকে দেখান। আপনার চিন্তা ভাবনা তাদের জানা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
২৪ জুন ২০১১; সকাল ১০:১০
274092

ইক্লিপ্স লিখেছেন : শ্বশুর বাড়ির লোক নয় ,ওনার মা বোন দেখালেই চলবে ।
312430
২৪ জুন ২০১১; সকাল ০৭:৪৫
আমরা যদি না জাগি মা লিখেছেন : সহমত। সুন্দর বিশ্লেষণ!!
312431
২৪ জুন ২০১১; সকাল ০৭:৪৭
ইঞ্জিনিয়ার হাবিব লিখেছেন : ব্লগে নারীবাদীদের দৌরাত্ব বেড়েছে ৩ টা মাইনাস!
পড়ে খুব ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
312479
২৪ জুন ২০১১; সকাল ০৯:৩২
জহিরুল ইসলাম তাহা লিখেছেন : রুমানার শাস্তি আর কি চাই !! সে'তো বেঁচেও মৃত ,রুমানার দোষ থাকলে তাকে অন্যভাবে শাস্তি দেয়া যেত,কিন্তু চোখ তুলে ফেলার অধিকার সাঈদের নাই, সাঈদের এমন শাস্তি হওয়া উছিৎ যাতে সে মানুষের সাথে আর মিশতে না পারে......
১০
312480
২৪ জুন ২০১১; সকাল ০৯:৩৩
দ্রাবীড় বাঙাল লিখেছেন : এ ধরনের আপত্যিকর পোষ্ট মুছে দেয়ার জন্য জনাব মডারেটারের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

রুমানার সাথে কারো পরকিয়া আছে কি নাই সেটা রুমানার ব্যাপার। আর তা সাইদ সাহেবের পছন্দ না হলে ওনার দরজা তো কেউ বন্ধ করে রাখেনি, বউকে ছেড়ে ভদ্র ভাবে চলে যাও। চোখ তুলে নেয়ার পারমিশন তোমাকে কে দিয়েছে??

এই জানোয়ারের ফাঁসি চাই।
১১
312503
২৪ জুন ২০১১; সকাল ১০:১২
ইক্লিপ্স লিখেছেন : সাইদ রুমানার যে বিচার করেছে তাতেও কি আপনাদের মন ভরেনি ।বলছেন সাইদ কখনো বিচার পাবে না !!!এক কাজ করুন রুমানা কে ফাঁসি তে ঝুলিয়ে দিন ।
১২
312508
২৪ জুন ২০১১; সকাল ১০:২০
নেটপোকা লিখেছেন : আইন আদালতের দরকার নাই। আমরাই বিচারক। আর হলুদ সাংবাদিকতায় ভরা পত্রিকায় যা লেখা হয়, তাই সাক্ষ্যপ্রমাণ। আর কোন কিছু দরকার নাই।
১৩
312936
২৪ জুন ২০১১; সন্ধ্যা ০৭:৪৪
মীর হেলাল উদ্দিন লিখেছেন : সুন্দর বিশ্লেষণ!সহমত।অনেক ধন্যবাদ
১৪
547628
০৬ ডিসেম্বর ২০১১; সকাল ১০:৩১
মুজাদ্দিদী সৈনিক লিখেছেন : মিডিয়ার মাথা মোটাদের ধারণা যে, পুরুষেরা নারীর শত্রু !!!
মন্তব্য লিখতে লগইন করুন
হা...হা...হা...
.........স্মৃতি বড় উচ্ছৃঙ্খল, দুহাজার বছরেও সব মনে রাখে ব্যাধের মতন জানে অরণ্যের আদ্যোপান্ত মূর্তি ও মর্মর । অথচ কাল বা পরশু কে ডেকে গোলাপ দিল কিছুতে বলবে না ।
 
লেখকের অন্যান্য লেখা